Home সে আমার বন্দিনী সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩
তানিয়া হুসাইন

ভীর জানত, তিজুয়ানা ও সিউদাদ জুয়ারেজ শুধু মেক্সিকোর দুটি শহর নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ড্রা*গ ও অ*স্ত্র পা*চারের প্রধান রুট। তাই এই দুই জায়গা দখল করলে সে পুরো সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
এজন্যই সে এই প্ল্যান বানায়।

ভীর প্রথমেই AFO-র দুর্বলতা বের করল। গ্যাংয়ের লিডারদের মধ্যে ফ্রান্সিসকো আরেয়ানো বেশি লোভী ছিল, তাই তাকে ঘুষ দিয়ে কিনে নেয়।
শহরের পুলিশদের বড় অংশকে টাকা দিয়ে নিজের দলে টানে। যারা রাজি হয়নি, তাদের বিরুদ্ধে ফেক কেস বানিয়ে চাকরি থেকে সরিয়ে দেয়।
প্রতিপক্ষের লিডারকে ফাঁদে ফেলা,
এক রাতে ফ্রান্সিসকোকে দিয়ে তারই বড় ভাই এদুয়ার্দো আরেয়ানোকে ধরিয়ে দেয়।
এদুয়ার্দো গ্রেফতার হলে, পুরো গ্যাং বিভক্ত হয়ে পড়ে।
ভীর তার কিলার স্কোয়াড লস সোমব্রাস পাঠিয়ে প্রতিপক্ষের শেষ শক্তিকে শেষ করে দেয়।
তিজুয়ানা এখন পুরোপুরি ভীরের দখলে!
ড্রা*গ পাচারের সীমান্ত ক্রসিং পয়েন্ট সে একাই নিয়ন্ত্রণ করছে।
এভাবেই তার তীক্ষ্ণ বুদ্ধির জোরে সে একে একে দুটো শহরেই নিজের নিয়ন্ত্রণ এনে ফেলে।
সেই রাতে সিউদাদ জুয়ারেজে ২০০টির ও বেশি খু*নের ঘটনা ঘটে, যেগুলোর পেছনে ভীরের হাত ছিলো।
সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, আর পুলিশ কিছুই করতে পারে না।
সবাই ওর কেনা।
এখন পুরো মেক্সিকো-আমেরিকা সীমান্তের সবচেয়ে বড় মাফিয়া ভীর আলভারেয ।

___তিজুয়ানা আর সিউদাদ জুয়ারেজ এখন পুরোপুরি ভীরের নিয়ন্ত্রণে। প্রতিদ্বন্দ্বীরা হয় মরে গেছে, নয়তো পালিয়েছে। শহরের প্রতিটি কর্নার, প্রতিটি গলি তার শাসনের ছায়ায় ঢাকা।
কিন্তু এই বিজয়ের পরও ভীরের চোখে কোনো উচ্ছ্বাস নেই। তার জন্য এটা নতুন কিছু না—শুধু আরেকটা শহর, আরেকটা দখল। ক্ষমতা তার কাছে নেশা নয়, বরং সে যা চায়, সেটার দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটা মাধ্যম।
তার ভেতরে কোনো অনুভূতি নেই। যদি থেকেও থাকে, সেগুলো সে অনেক আগেই হত্যা করেছে।

ভীরের বাবা রিকার্দো আলভারেয মারা গেছে, কিন্তু তার পরিবারের ছায়া এখনও রয়ে গেছে। সৎ মা ক্যাটালিনা এস্কালান্তে আর বোন ইসাবেলা এখন ভীরের সঙ্গে আছে।
ভীরের এসব কিছুতেই যায় আসে না।
সে কোনোদিন ক্যাটালিনাকে ‘মা’ বলে ডাকে নি। বরং নাম ধরে ডাকতে পছন্দ করে।
সিনালোয়ায় থাকার কথা থাকলেও ক্যাটালিনা নিজেই ভীরের সঙ্গে এসেছে। সে ভীরের হাতের নাগালে থাকতে চায়,
কারন ভীর ছাড়া তাদের আর কোন জায়গা নেই।
রিকার্দ এর স্ত্রী কন্যা হিসেবে ওরা সবার কাছে পরিচিত।
শত্রুত্বের রেশ ধরে ওদের ওপর প্রানঘাতি হামলা হবে জান বাঁচানোর জন্যই এখানে থাকা।
কারন ভীর থাকতে তাদের কিছু হবে না।
নিজের অবস্থান নিশ্চিত করাই তার উদ্দেশ্য।

কিন্তু ভীর জানে, এই নারী তার পাশে আছে সুবিধার জন্য, ভালোবাসার জন্য নয়।
ভীর ছোট থাকতে রিকার্দো বিয়ে করে এই মহিলাকে, কখনো এই মহিলা তার সাথে সুন্দর সম্পর্ক স্থাপন করার চেষ্টা করেনি।
আর এখন ভীরের কাউকেই প্রয়োজন নেই।
______ রাজভীর আলভারেয এমন এক পুরুষ যার সৌন্দর্য বিপদজনক ও অবিস্মরণীয়।
তার চেহারার প্রতিটি রেখায় রাজত্বের ছাপ স্পষ্ট।
গভীর শীতল সমুদ্রের মতো চোখ,
কারোর দিকে তাকালে মনে হয় সে তাদের আত্মার ভিতর পর্যন্ত দেখে ফেলেছে।
গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যাম বর্ণের, ভয়ংকর একই সঙ্গে মোহময়।
হালকা দাড়ি যা তাকে আরও ড্যামনিং ও সেডাক্টিভ করে তোলে।
ভীর ঠান্ডা পানিতে শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে আসে।
গাঢ় কালো চুলগুলো ব্র‍্যাকব্রাশড করে।
পারফিউম স্প্রে করে ব্ল্যাক শার্ট, লেদারের জ্যাকেট আর প্যান্ট পরে।
হাতে একটা রোলেক্সের ঘড়ি।
আর কোমরের পাশে একটা Beretta 9 2 Fs রাখে।
গাঢ় পারফিউমের সুবাস ছড়িয়ে পড়ে।
দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় তার পায়ের শব্দ পর্যন্ত ভয় ধরিয়ে দেয় যেন।

___ভীরের গন্তব্য নিউইয়র্ক।
সেখানে ইতালিয়ান মাফিয়া আর রাশিয়ান গ্যাংদের সঙ্গে নতুন ড্রা*গ এর ডিল করা।
___ভীর বেরোচ্ছিল। বাড়ির মেইন দরজার কাছে পৌঁছাতেই পেছন থেকে ঠান্ডা এক কণ্ঠ শুনল—
তুমি কোথায় যাচ্ছ, ভীর?”
ভীর থেমে গেল।
ধীরে ধীরে ঘুরল, চোখের ভেতর বরফের মতো ঠান্ডা দৃষ্টি।
ক্যাটালিনা এস্কালান্তে তার দিকে তাকিয়ে আছে, মুখে সেই একই কৃত্রিম হাসি।
“কোন মিশনে যাচ্ছ?”
ভীরের ঠোঁটে হালকা এক হাসির আভাস এল, কিন্তু সেটা ছিল নিষ্ঠুরতার চেয়েও ভয়ংকর।
সে ধীর গলায় বলল—
“তোমার কি মনে হয়, আমি তোমাকে এসব বলব? তুমি কে আমার ‘কিছু’?”
ক্যাটালিনা সামান্য বিরক্ত হলো, কিন্তু নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,
“তুমি এখন মেক্সিকোর সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি। তোমার নিরাপত্তা আমারও চিন্তার বিষয়।”
ভীর এক পা এগিয়ে এল। তার চোখের দৃষ্টি এতটাই শীতল যে ক্যাটালিনা এক সেকেন্ডের জন্য শ্বাস নিতে ভুলে গেল।

“ক্যাটালিনা,তোমাকে একটা জিনিস মনে করিয়ে দিই—আমার ব্যক্তিগত কাজে নাক গলানোর চেষ্টা করো না। আমি তোমাকে এইখানে থাকতে দিয়েছি, এর বেশি কিছু না। আমার ধৈর্য খুব সীমিত, সেটা নিয়ে পরীক্ষা নিও না।”
তার কণ্ঠে ছিল এমন এক হুমকি, যেটা বুঝিয়ে দিল—ক্যাটালিনা যদি আরও একবার সীমা অতিক্রম করে, তবে পরিণতি ভয়ংকর হবে।
ক্যাটালিনা কিছু বলার জন্য মুখ খুলল, কিন্তু ভীর তার দিকে তাকিয়েই বলল,
“এবং একটা কথা, আমাকে আর কখনও এইভাবে থামানোর চেষ্টা কোরো না।”
এই বলে সে এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করেই গাড়িতে উঠে দরজা বন্ধ করে দিল।
ক্যাটালিনা দাঁড়িয়ে রইল, এক মুহূর্তের জন্য তার মুখে শংকা ছড়িয়ে পড়ল। সে জানে, ভীর কেবল ভয় দেখায় না, প্রয়োজনে সত্যিই শেষ করে দেয়।

সকালবেলা। হালকা রোদে পুরো ক্যাম্পাস উজ্জ্বল হয়ে আছে। গাছের পাতায় বাতাসের দোলাচলে এক ধরনের প্রশান্তি ছড়িয়ে পড়েছে।
ইশায়া রাস্তার পাশের ক্যাফেতে বসে আছে। তার সামনে এক কাপ কফি,
পাশে তার দুই বান্ধবী—অরিণা ও মেহনাজ।
___তোর কি মনে হয়! আমাদের একাউন্টিং প্রফেসর স্যার আসলেই এলিয়েন?” মেহনাজ হাসতে হাসতে বলল।
__অরিণা এক চুমুক কফি খেয়ে বলল,
দেখ তার চেহারা কেমন! চোখ দুটো তো এলিয়েনের মতো বড় বড়!
ইশায়া খিলখিল করে হেসে উঠল,
আরে না! স্যার একটু অন্যরকম, কিন্তু এলিয়েন বলাটা বাড়াবাড়ি হয়ে গেল!”
___মেহনাজ হেসে বলে,

কিন্তু তার প্রশ্নগুলো তো এলিয়েন লেভেলের মতো কঠিন।
তাদের হাসাহাসি ক্যাফের অন্যান্য টেবিলেও ছড়িয়ে পড়ল।
ক্লাসের টাইম হয়ে যাওয়ায় ওরা বিল মিটিয়ে চলে যায় ক্যাফে থেকে।
ক্লাসরুমে…
ক্লাসের মাঝে, প্রফেসর কিছু একটা বোঝাচ্ছেন, কিন্তু ইশায়া মনে মনে অন্য জগতে হারিয়ে গেছে। জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে সে।
বাতাসে উড়তে থাকা ফুলের পাপড়ির মতোই তার জীবন ছিল হালকা, চিন্তামুক্ত।
কখনো সে রাস্তার পাশের ছোট্ট ফুল বিক্রেতার কাছ থেকে ফুল কিনে এনে মাকে উপহার দেয়।
কখনো রাস্তায় কুকুর ছানা দেখে থেমে যায়, তার মাথায় হাত বুলিয়ে হাসে।
পশু-পাখির প্রতি তার আলাদা টান।
তার খুব কষ্ট হয় যদি কেউ এগুলোকে মারে।

___কখনো বান্ধবীদের সঙ্গে কলেজ শেষ করে লং ড্রাইভে বেরিয়ে পড়ে।
ফুচকা খেতে যায়।
কখনো বা মুভি দেখতে যায়।
বেশিরভাগ সময় তার সাথে সাফা থাকে।
সাফা ও এই কলেজেই পড়ে।
সে অনার্স থার্ড ইয়ারের স্টুডেন্ট ।
ইশায়ার জীবন ছিল সহজ, সরল, রঙিন।
___একটা ক্লাস করে ইশায়া অরিণা ও মেহনাজ বেরিয়ে পরে তাদের ভালো লাগছিল না আজ ক্লাস করতে।
তাই তারা ঠিক করেছে আজ হাটবে মেঘলা আকাশ।
ঠান্ডা পরিবেশ চারিদিকে বাতাস দিচ্ছে ওদের ভালো লাগছে এরকম রাস্তায় হাত ধরে হাঁটতে।
ইশায়ার খুব ভালো লাগে প্রকৃতির সাথে মিশে থাকতে।
____এর মাঝে অরিণা বলল,
একবার আমরা কলেজ থেকে পালিয়ে সিনেমা দেখতে গেছিলাম,মনে আছে?
____মেহনাজ হেসে বলল, “হ্যাঁ! আর ইশায়া ভয়ে কাঁপছিল! যদি ধরা পড়ে যাই!”
“ধরা পড়লে যা হতো, ইশায়া নিশ্চয়ই কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকত, আর আমরাও!”
ওই দিনের কথা মনে পড়তেই সবাই হাসিতে ফেটে পড়লো।
____ইশায়ার দিনগুলো এভাবেই হাসি-খুশি কাটছিলো।
____এর মাঝে রহমান বাড়িতে আরেকটা খুশির সংবাদ হলো জান্নাত প্রেগন্যান্ট।
তার বড় দাদাভাই বাবা হতে চলেছে আর সে ফুফি।
এ নিয়ে ইশায়ার খুশির শেষ নেই।

____এদিকে সময় যাচ্ছে।
আর যত দিন যাচ্ছে রাজভীর আলভারেয এর সাম্রাজ্যে বাড়ছে,
তার প্রতিপত্তি ছড়িয়ে পড়ছে মেক্সিকোর প্রতিটি শহরে।
ভীর আলভারেয মেক্সিকোর ৩২ টি রাজ্যের মধ্যে ৩০টি রাজ্যের নিয়ন্ত্রন নিয়ে নিয়েছে।
তার মাফিয়া সাম্রাজ্য এতটাই শক্তিশালী যে,
এখন পুরো দেশটাই কার্যত তার শাসনের অধীনে।
___তার পরবর্তী টার্গেট আন্তর্জাতিক লেভেলে প্রধান প্রভাব বিস্তার করা।
_____ভীর এখন চাচ্ছে
বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার হয়ে তার ড্রা*গ ও অ*স্ত্র চোরাচালানের নতুন রুট তৈরি করতে।
__এটা নিয়েই আজ তাদের মাফিয়া বৈঠক বসেছে।
রাত গভীর, রাজভীর আলভারেয তার ব্যক্তিগত অফিসে বসে আছে। সামনে একটা ম্যাপ—বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা স্পষ্ট চিহ্নিত করা।
নিকো কর্টেজ সোফায় হেলান দিয়ে বসা হাতে সিগারেট।
এক মুহূর্ত চুপ থেকে বলে উঠল,

“ভাই, বাংলাদেশ শুনেছি দারুণ জায়গা… আর ওখানকার মেয়েরা? দেখার মতো সুন্দর! একবার গেলে হয়তো একটু টে…
নিকোর কথার মাঝেই রাজভীর টেবিলে শক্ত একটা থাবা বসাল।
তার চোখ জ্বলে উঠল, কটমট করে তাকিয়ে গর্জে উঠল,
আমরা কাজের জন্য যাচ্ছি, অন্য কিছু নয়! মাথায় ঢোকাও, নিকো!”
নিকো আর কিছু বলে না।
রাজভীরের ধৈর্য হারানোর কোনো ইচ্ছে নেই।

রাজভীর চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পাশের দরজার দিকে তাকাল।
“ডিয়েগো!
তার ব্যক্তিগত অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিয়েগো সালগাদো সাথে সাথে ঘরে ঢুকল,
“জি, বস?”
“বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নাও। প্রাইভেট জেট রেডি করো, নতুন পরিচয় তৈরি করো, সব তথ্য আমার হাতে তুলে দাও।
___কখন রওনা হবো বস? ডিয়েগো জিজ্ঞেস করে।
রাজভীর একটু চুপ থেকে ফাইলের দিকে তাকিয়ে বলল,
তিন দিনের মধ্যে… আমরা বাংলাদেশে যাচ্ছি!

সন্ধ্যার সময় রহমান পরিবারে একটা ছোট্ট পারিবারিক আয়োজন চলছে। বসার ঘরে সবাই একসাথে বসেছে, চা-নাশতা করছে
____আদ্রিয়ান মাস্টার্স এর পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করে আবার আইএলটিএসের ও একজন ইন্সট্রাক্টর।
মাস শেষে সে ভালই ইনকাম করে।
আর ওদের যেহেতু একটা সম্পর্ক আছে তাই ফ্যামিলি থেকে চাচ্ছে বিয়ে দিয়ে দিতে।
__সাফা একটু লজ্জা লজ্জা মুখ করে বসে আছে, আর তার পাশে আদ্রিয়ান হাসিমুখে চা চুমুক দিচ্ছে।
“আচ্ছা, আদ্রিয়ান, তোর কী মত? আমাদের সাফা কিন্তু সব দিক দিয়ে পারফেক্ট!”—সাফার মা হেসে বললেন।
আদ্রিয়ান হাসে।
তারা যে তার সাথে মজা নিচ্ছে সেটা সে ভালো করেই বুঝতেছে।
___সাফা একটু লজ্জা পেয়ে মেঝের দিকে তাকিয়ে রইল, আর সবাই হেসে উঠল।
____ইশায়া পুরো আয়োজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খুশি।
“সাফা আপু, তোমার বিয়ে হলে কিন্তু আমি ফুল গার্লস পার্টি করব!”
এত উচ্ছ্বাস কেন।
তোর ও কি বিয়ে করার শখ জাগলো নাকি আবার ,
সাফা ঠোঁট উল্টে বলল।
___আরে না! আমি তো শুধু চাই তুমি দারুণ একটা ফেয়ারি টেল লাইফ পাও ইশায়া মজা করে বলল।
এই হাসি, এই আনন্দ ভরপুর একটা সময়।
___সাফার ফোনে মেসেজ ভেসে উঠল,
ছাদে আসো, কথা আছে। ____আদ্রিয়ানের মেসেজ।

___সাফা একটু থমকে গেল, তারপর পাশে বসা ইশায়ার দিকে তাকাল।
“ইশু, প্লিজ একটু সামলাতে পারবি? আদ্রিয়ান আমাকে ছাদে ডাকছে…
___ইশায়া সাথে সাথে খোচা দিল,
উফফ! হবু ভাবী তো এখনই একদম জামাইয়ের কন্ট্রোলে! কী রোমান্স, কী রোমান্স!
__সাফা লজ্জায় একটা কুশন ছুড়ে মারল ইশায়ার দিকে,
চুপ কর! কেউ শুনে ফেলবে!
সাফা ধীরে ধীরে ছাদে উঠল। সেখানে আদ্রিয়ান এক কোণায় দাঁড়িয়ে আছে, পকেটে হাত ঢুকিয়ে, আকাশের দিকে তাকিয়ে।
সাফার আসার শব্দে সে ঘুরে তাকাল, মৃদু একটা হাসি দিল।
তুমি এত রাতে এখানে ডাকলে কেন
– সাফা আস্তে বলল।
____আদ্রিয়ান একটা গভীর শ্বাস নিয়ে বলল, তোমার সাথে একটু নিরিবিলি কথা বলতে চাইছিলাম।
সে ধীরে ধীরে এগিয়ে এল, সাফার একদম কাছে।

___এই মুহূর্তটা আমার কাছে সবচেয়ে স্পেশাল।
আমাদের সম্পর্কটা এত সহজে সবাই মেনে নিলো, আর কয়দিন পর তুমি আমার হয়ে যাবে
আদ্রিয়ানের কণ্ঠটা ছিল গভীর, আন্তরিক।
সাফার হৃদয় একটু জোরে ধক করে উঠল।
____আদ্রিয়ান হেসে বলল,

সে আমার বন্দিনী পর্ব ২

আমি জানি না, আমরা একসাথে থাকলে আমার জীবন কতটা বদলাবে… কিন্তু একটাই জিনিস জানি, তুমি থাকলে সেটা সুন্দর হবে।
সাফা নিচের দিকে তাকাল, লজ্জায় তার গাল লাল হয়ে উঠেছে।
আদ্রিয়ান আস্তে করে তার চিবুক ছুঁয়ে দিল, তুমি লজ্জা পাচ্ছো কেন?
সাফা কিছু বলল না, শুধু মৃদু একটা হাসি দিল।
আদ্রিয়ান বুকে জড়িয়ে নেয় সাফাকে।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৪