সে আমার বন্দিনী পর্ব ২
তানিয়া হুসাইন
নতুন ভোরের নরম আলো জানালার ফাক গলিয়ে ঘরে ঢুকছে,সোনালী রোদের কোমল স্পর্শ গালে লাগতেই ইশায়ার ঘুম ভেঙে যায়।
ইশায়া চোখ মেলে চারপাশ দেখে, বিছানার নরম চাদরের উষ্ণতা তখনো শরীরে লেগে আছে।
হাত বাড়িয়ে মোবাইলে সময় দেখে নেয় তারপর আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ায়।
___আজ কলেজে যায়নি কালকে একটা এসাইনমেন্ট আছে, রাত জেগে সেটাই করছিল এজন্য ঘুম ভাঙেনি সকালে।
_____সকালের আটটার দিকে, পুরো পরিবার নাস্তার জন্য নিচে নেমেছে।
আদনান সাহেব গিয়ে তার চেয়ারে বসলেন।
আজকে স্পেশাল নাস্তা সবার জন্য।
এটা কাল রাতে ইশায়া বলে দিয়েছিলো সকালে যেনো এটাই রান্না হয়।
রান্নাঘর থেকে ভুনা খিচুড়ি , ভাজা ডিম ওয়ালা ইলিশ মাছ, ডিম ভুনা এনে টেবিলে সাজাচ্ছেন সায়মা রহমান ইশায়ার মা আর জান্নাত ইশায়ার বড় ভাইয়ের বউ।
আবির আর আদ্রিয়ান ও নেমে আসে নিচে।
আবির একেবারে রেডি হয়ে-ই নামে তার অফিসে যেতে হবে।
___আদনান সাহেব বললেন,
যাবেনে,ও তো মিস দেয় না তেমন।
আর আমার মেয়ে ব্রাইট স্টুডেন্ট তোমার ছেলের মতো ফাঁকিবাজ না,
আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলেন,
ওকে নিয়ে এতো চিন্তা করতে হবে না।
ভালো লাগেনি যায় নি শেষ।
__সায়মা বেগমা দাঁত কটমট করে বলে হ্যাঁ মেয়ে তোমার ছেলে আমার।
যেটা ভালো সেটা তোমার, ছেলেকে কি আমি বাবার বাড়ি থেকে সাথে করে নিয়ে এসেছিলাম নাকি।
যেমন বাপ ঠিক তার তেমন ছেলে।
___সায়মা বেগমকে রেগে যেতে দেখে আদনান সাহেব থেমে যান।
বউ তার রেগে গেলে বিপদ, ছেলে মেয়ে সামনে আছে
মান সম্মান আর কিছু থাকবে না।
___আদনান সাহেবকে চুপ মেরে যেতে দেখে,
সায়মা বেগম জান্নাত কে উদ্দেশ্য করে বলেন,
যাও তা বৌমা ইশায়াটাকে ডেকে আনো তো একটু।
___জান্নাত যাবে এমন সময় দেখতে পায় ইশায়া নেমে আসছে।
তাই জান্নাত তার জায়গায় গিয়ে বসে পরে।
জান্নাত তার পাশে বসায় আবির সাইড থেকে টেবিলের নিচে জান্নাত এর হাত ঝাপটে ধরে।
জান্নাত মুচকি হাসে আবিরের দিকে তাকিয়ে।
___ইশায়া চোখ ডলতে ডলতে বাবার পাশে গিয়ে বসে।
আদনান সাহেব মেয়েকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
__কি মা রাতে ঘুম হয় নি।
___না বাবা!
একটা অ্যাসাইনমেন্ট আছে ওইটা কালকের মধ্যে জমা দিতে হবে, ওটাই করতে বিজি এজন্য ঘুম হয়নি।
বাবা-মেয়ের মধ্যে পড়াশোনা নিয়ে কিছু কথা চলে।
___ ইশায়ার মা”
সায়মা বেগম পুরো খুশি মনে মেয়ের প্লেটে খাবার নিলেন।
ইশায়ার চেয়ারের পাশে দাঁড়িয়ে বড় বড় লোকমা করে খাবার তুলে দিচ্ছেন মুখে,
যেন ইশায়া নিজের হাতে খেতে পারেনা।
___মেয়েটা তার খুবই নাজুক।
অসুস্থ হয়ে পড়ে কয়েকদিন পর পর।
ঠিকমতো কিছু খেতেই চায় না,
তাইতো মেয়ে যা খেতে চায় বা মেয়ের পছন্দের জিনিস সব সময় রেডি করে রাখেন তিনি।
মেয়েকে নিজের হাতে খাইয়ে দিলে যেন তিনি শান্তি পান।
তার খুব আহ্লাদের মেয়ে।
অবশ্য মায়ের থেকে বাবার বেশি আদুরে সে।
___মেয়েটাকে তো ছোট থাকতে-ই হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি।
ভাগ্যের জোরে ফিরে পেয়েছিলেন।
সেই থেকে ইশায়াকে নিয়ে ওরা খুব বেশি সেনসিটিভ।
আর ইশায়া ও পরিবারের মানুষ ছাড়া কারো সাথে মিশতে চায় না।
___এদিকে, আদ্রিয়ান তার ঠাট্টার স্বরে বলে,
“দেখ এত বড় দামরি মেয়ে এখনো নিজের হাতে খেতে পারে না!”
___এই কথা শুনে আবির আর জান্নাত একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসতে লাগলো।
__জান্নাত বলে,
হুম ও তো এখনো বাচ্চা।
__আবির ও খোচাচ্ছে ইশায়াকে।
____ওরা ইশায়াকে খেপানোর জন্য মূলত কথাগুলো বলছিল।
ইশায়া উঠে চলে যায় তার বাবার কাছে,
চোখের ইশারায় বোঝায় ভাইদের কিছু বলতে
আদনান সাহেব কণ্ঠে একটু জোড় টেনে বলেন,
__কেনো ওর পিছনে লাগছো।
চুপচাপ খাও।
___ইশায়া অভিমানি গলায় বলে,
বাবা, আমি নিজে নিজে খেতে পারি! কেন সবাই আমাকে এইভাবে খেপাচ্ছে?
আদানান চোখে একটু আদরের ঝলক নিয়ে দুই ভাইকে তীরের মত দেখলেন এবং বললেন,
এইসব ঠাট্টা ছেড়ে দাও, তোমরা দুই ভাই!
একদম আমার মা এর সাথে লাগতে আসবেনা।
নাস্তার টেবিলে একদিকে সায়মার মমতা, অন্যদিকে বাবার আদেশ আর ভাইদের ঠাট্টার মিশেলে একটা উষ্ণ, রসাত্মক পরিবেশ তৈরি হয়,
ইশায়া খুশি বাবা তার সাইড টেনে ভাইদের বকে দেওয়ায়।
সুন্দর হাসি খুশি একটা পরিবার, যার চোখের মনি ইশায়া।
___ইশায়া তার এই ছোট্ট জীবনে খুব বেশি খুশি। তার চাওয়ার মতো আর কিছুই নেই, সে যা চায় তা বলার আগেই পেয়ে যায়।
মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা,
যেখানে মৃত্যু একমাত্র সত্য,
সিনালোয়া আর গুয়াদালাহারা দুটো শহর-ভীর এর নিয়ন্ত্রনে।
যেখানে বিশ্বাসঘাতকতা নিত্য দিনের খেলা।
এখানের মাফিয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাধর,
এখানে রক্তের দামে চুক্তি হয়।
আর এই শহরের সবচেয়ে ভয়ংকর মানুষ, ” ভীর আলভারেয”।
কেউ তার দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস করে না, আর না কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলার ক্ষমতা রাখে।
কারণ যারা রেখেছে, তারা এখন মৃত।
____ভীরের বাবা রিকার্দো আলভারেয ছিলেন সিনালোয়া কার্টেল এর শক্তিশালী মাফিয়া।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিনালোয়া শহর নিয়ন্ত্রণ করেছেন।
___তবে ভীর শুধু বাবার ছায়ায় বড় হয়নি,
সে নিজেই ভয়ঙ্কর ঠান্ডা মাথার কিলার,
এবং একে নিখুঁত স্ট্র্যাটেজিস্ট।
মাফিয়া জগতে ঢোকার পর ভীর ধীরে ধীরে সিনালোয়া পুরোপুরি দখলে নিয়ে নেয় এবং তার সাম্রাজ্য কে গুয়াদালাহারা পর্যন্ত প্রসারিত করে।
সে তার বাবার থেকেও বেশি ক্ষমতাধর হয়ে ওঠে।
___এবং তার স্বপ্ন সে এক দিন পুরো পৃথিবীতে রাজ করবে।
ভীরের জীবন ভালোবাসাহীন, অনুভূতিহীন।
সে শুধু আগুনের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা এক শাসক।
সে জানে,ভালোবাসা দুর্বলতা আর দুর্বলতা মৃত্যুর সমান।
____ অন্ধকার সাম্রাজ্যের অধিপতি ভীর ভয়ংকরতম নাম, এমন এক ব্যক্তি যার কাছে ক্ষমতা, প্রতিশোধ, আর রক্তের গল্প লেখা আছে। সে এমন এক রাজা, যার কোনো হৃদয়ের টান নেই, কোনো দুর্বলতা নেই।
___কিন্তু এক রাতেই সব বদলে যায়।
রক্তে লেখা প্রতিশোধ।
ভীরের বাবা, একজন কিংবদন্তি মাফিয়া লিডার রিকার্দ আলভারেজ। প্রতিদ্বন্দ্বী মাফিয়া গ্রুপের টার্গেটে মারা যান।
তারা ভেবেছিল, এই এক হত্যাই আলভারেয সাম্রাজ্যের পতনের শুরু হবে। কিন্তু তারা ভুল করেছিল। ভীর প্রতিশোধের জন্য উঠে পড়ে লেগেছিল। সে একে একে সব শত্রুদের শেষ করে, তাদের পুরো গ্যাং ধ্বংস করে দেয়। আগুনে পুড়িয়ে, গু*লিতে ঝাঁঝরা করে, কে*টে টুকরো টুকরো করে তাদের শরীরের সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ —যেভাবেই হোক, সে প্রতিশোধ নিয়েছে। তার হাতের র*ক্ত ধোয়ার জন্য কোনো পবিত্রতা নেই, শুধু আছে ক্ষমতা।
____ভীর একাকী রাজা, অন্ধকারের সম্রাট
যার নাম শুনলে পুরো মাফিয়া সাম্রাজ্য কাপে।
___ভীরের জীবনে কোন দুর্বলতা নেই, মাকে তো জন্মের পরে হারিয়েছে আর বাবা তাকেও হারিয়েছে বড় হওয়ার পরে।
বাবার হাত ধরেই তার এই সাম্রাজ্যে আশা।
আর বাবার হ*ত্যার বদলা নিয়েই এই দুনিয়ায় পা রাখা।
____ভীরের চারপাশে মানুষ আছে, কিন্তু তারা সবাই স্বার্থপর। তার সৎ মা আর সৎ বোন তার পাশে আছে, কিন্তু কারণ একটাই—অর্থ ও বিলাসিতা। তারা চায় তার বিশাল সাম্রাজ্য, তার সম্পদ, তার ক্ষমতা। তারা চায় ভীরের মনে জায়গা করতে, কিন্তু ভীর জানে তাদের মুখোশের আড়ালে কী লুকিয়ে আছে। তবুও সে এসব নিয়ে একদমই মাথা ঘামায় না। ওদের তার জীবনে কোনো মূল্য নেই, আর ওর জীবনে যে মূল্যহীন, তাকে সে গুরুত্ব দেয় না।
___ওরা ওর বাবার দায়িত্ব যার কারনে ওদেরকে রেখেছে সে।
অন্য দেশে পাঠিয়ে দিতে চেয়েছিলে কিন্তু তারা যায় নি।
ওরা ভীরের এই আলিশান বাড়ি, এই সম্রাজ্য রাজত্ব ছেড়ে যেতে চায় না।
আদ্রিয়ান অনেক কষ্টে ইশায়াকে ম্যানেজ করে রেস্টুরেন্টে নিয়ে আসে। সাফার সঙ্গে দেখা করার জন্য।
সাফার কথা শুনে ইশায়া আর না করে নি।
রাজি হয়ে যায় যাওয়ার জন্য।
সাফার সাথে দেখা হওয়ার ইশায়া একটু স্বস্তি অনুভব করে।
সাফাকে দেখেই ইশায়া দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে,
কেমন আছো আপু+ভাবী?
___আলহামদুলিল্লাহ ভালো।
তুই কেমন আছিস।
___এইতো ভালো,
উৎফুল্ল হয়ে জবাব দেয় ইশায়া।
আজ আমাদের সাথে বাড়ি যাবে কিন্তু।
___সাফা বলে,
না অন্যদিন আজ হবে না।
___ইশায়া মানে না।
আদ্রিয়ান ও সায় দেয় ইশায়ার কথায়।
দু’জন গল্প করতে করতে নিজেদের মধ্যে মিশে যায়।
কিছুক্ষণ পর আদ্রিয়ান ফোন আসায় সে একটু বাইরে যায়।
__সাফা তখন ইশায়ার জন্য ফ্রাইড চিকেন অর্ডার করতে যায়।
ইশায়ার খুব পছন্দ এটা।
ইশায়া তখন একা। এ সময় পাশের টেবিলে বসা কয়েকটা ছেলে ইশায়ার দিকে কটাক্ষপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বাজে মন্তব্য করতে শুরু করে।
হেইইই মিষ্টি মেয়ে, একটু আমাদের দিকেও তাকাও না, ডার্লিং!
তোমার নাম্বার টা দাও।
ইশায়ার শুনে ছেলে গুলোর কথা, সে দেখেও না দেখার ভান করে,
ঝামেলা হওয়ার ভয়ে।
কিন্ত ছেলে গুলো থামার বদলে ইশায়াকে কিছু বলতে না দেখে আরো আস্কারা পেয়ে যায়,
__ ওরা নানান ধরনের কথা বলতে শুরু করে।
বাজে অফার দেয়।
ঠিক তখনই আচমকা সাফা এসে একটা জোরে চড় বসিয়ে দেয় ছেলেটার গালে!
সাফা গর্জে উঠে বলে,
নিজের বোন থাকলে কি ওদের সঙ্গে এমন করতে? একবার পুলিশ ডাকলে এমন শিক্ষা হবে যে সারাজীবন কোনো মেয়ের দিকে তাকানোর সাহস পাবে না!”
চারপাশে সবাই ওদের দিকে তাকাতে শুরু করে।
ছেলেগুলো এক মুহূর্তের জন্য থ হয়ে যায়।
ওরা ভাবেনি এরকম কিছু হবে।
গালে হাত দিয়ে দাড়িয়ে আছে সে।
ঠিক তখনই দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আদ্রিয়ান গম্ভীর মুখে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করে। সে ধীর পায়ে এগিয়ে এসে ওদের দিকে কড়া দৃষ্টিতে তাকায়।
আদ্রিয়ান হুমকিসূচক কণ্ঠে বলে,
__থাপড়ে গালের দাত ফেলো দেবো বে*য়াদ্দপ ছেলে।
একটার কলার ধরে বলে,
মেয়েদের সাথে অ*সভ্যতা করা একেবারে বেরিয়ে যাবে বুঝেছো।
এমন সময় রেস্টুরেন্ট এর ম্যানেজার চলে আসে,
ছেলেগুলো একে অপরের দিকে তাকিয়ে দ্রুত উঠে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
ম্যানেজার সরি বলে ওদের,
এমন অপ্রীতিকর সিচুয়েশনের জন্য।
___সাফা তখনও গরম মেজাজে, ইশায়ার হাত শক্ত করে ধরে আছে।
আদ্রিয়ান ইশায়ার কাঁধে হাত রেখে শান্ত করার চেষ্টা করে।
আদ্রিয়ান:
চলো এখানে আর থাকা ঠিক হবে না।
সাফা কিছুক্ষণ চুপ থেকে মাথা নাড়ে।
এরপর আদ্রিয়ান ওদের দু’জনকে নিয়ে দ্রুত রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে যায়।
গাড়িতে ওঠার পরও ইশায়া কিছুটা ভয় আর লজ্জায় চুপচাপ বসে থাকে,তার অসস্তি লাগছে ।
কেন সবসময় তাকেই এরকম পরিস্থিতির মাঝে পরতে হয়, ভেবে পায় না সে।
___বাড়ির সামনে পৌঁছানোর পর…
আদ্রিয়ান সাফার দিকে তাকিয়ে বলে,
___হ্যালো ম্যাডাম রাগ করেছেন।
সাফা তখনও রাগী গলায় বলে,
“এদের উচিত শিক্ষা দেওয়া দরকার ছিলো।”
তুমি পুলিশে ফোন দিলে না কেনো।
আদ্রিয়ান হালকা হাসে,
পুলিশ কল করলে ঝামেলা হতো বেবি।
ইশু জড়িয়ে যেতো।
ওদের আমি দেখো নেবো পরে এমনিতেই।
___ ইশায়া তখন ধীর গতিতে গাড়ি থেকে নেমে ভিতরে চলে যায়।
___সায়মা রহমান সাফাকে দেখেই এগিয়ে গেলেন,
কিরে এখন তো ভুলেই গেলি
আসিস-ই না আমার বাসায়।
মামির কথা মনেই পরে না তাইনা।
এখন-ই এই অবস্থা বিয়ের পর কি করবি।
নাকি আমার ছেলেকে নিয়ে আলাদা খাবি।
___আদ্রিয়ান মাথা চুলকে ওদের সামনে থেকে চলে যায় নিজের রুমের উদ্দেশ্যে,
__সাফা কিছু বলে না,
যবে থেকে তাদের সম্পর্কের কথাটা জানা জানি হয়েছে তবে থেকেই সাফার এখানে আসতে একটু লজ্জা করে।
___সায়মা বেগম সাফার লাল হয়ে যাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,
আর লজ্জা পেতে হবে না,
চল আজকে থাকবি আমার বাসায়,
তোর মাকে ফোন দিয়ে বলবো আমি।
____সাফা আজ থাকবে এই শুনে ইশায়ার মন খারাপ উধাও।
সে খুব খুশি একটু আগে কি হয়েছে সেটা তো ভুলেই গেছে।
ইশায়া এমন-ই সে সবার সাথে মিশে না কিন্তু কাছের মানুষগুলোর জন্য পাগল।
আর সবাই একসাথে হলে তো আর কিছুই লাগে না তার।
সে তো এখন বসে বসে রাতের প্ল্যান করছে ছোট দাদা ভাইয়ের রুমে বসে।
আবির কে ও ফোন দিয়ে তাড়াতাড়ি আসতে বলেছে।
___আর এদিকে দুই লাভ বার্ডস একজন আরেকজনের মুখের দিকে তাকিয়ে ইশারায় কথা বলছে,
আর মুচকি মুচকি হাসছে।
ইশায়ার কাজে তাদের ধ্যান নেই।
তারা তাদের নিজেদেকে নিয়ে ব্যস্ত।
রুমের মাঝখানে একটি দীর্ঘ গ্লাস এর টেবিল,
যেখানে একটি সুসজ্জিত মানচিত্রের উপর তিজুয়ানা এবং জুয়েয়ারাজ কার্টেলের অবস্থা চিহ্নিত করা।
ভীর এর নেক্সট টার্গেট।
টেবিলের চারপাশে সান্তিয়াগো, এনরিকো, ভীর এর দুই বডিগার্ড।
ডিয়েগো আর নিকো বসে আছে।
ভীর পায়ের উপর পা তুলে সামনে বসা।
ভীরের পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিয়েগো সালগাদো।
ডিয়েগো শুধু একজন অ্যাসিস্ট্যান্টই নয়, বরং তার ছায়ার মতো বিশ্বস্ত একজন ব্যক্তি। সে ভীরের যাবতীয় কাজ সামলায়—ব্যবসায়িক কাগজপত্র, মিটিং শিডিউল, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ মাফিয়া কার্যক্রমের নজরদারি সবই সে দেখাশোনা করে। তবে তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো ভীরের পরিকল্পনাগুলো নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করতে সাহায্য করা।
ডিয়েগোর হাতে সবসময় একটি ট্যাব থাকে, যেখানে ভীরের প্রতিটি পরিকল্পনার তথ্য, কার্টেলগুলোর বর্তমান অবস্থা, ট্রাফিকিং নেটওয়ার্ক, এবং প্রতিপক্ষের গতিবিধি সংরক্ষিত থাকে। মিটিংয়ের সময় সে ভীরকে প্রয়োজনীয় সব তথ্য সরবরাহ করে, যাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও সহজ হয়।
_______ভীর এবং তার বিশ্বস্ত সহযোগীরা জানে, তাদের পরবর্তী লক্ষ্য হলো তিজুয়ানা এবং জুয়েয়ারাজ কার্টেল—মেক্সিকোর অন্যতম শক্তিশালী মাফিয়া গোষ্ঠী। এই কার্টেলগুলোর দখল নেওয়া, সেগুলোর উপর নিজের আধিপত্য স্থাপন করা, এবং পুরানো শত্রুদের শেষ করে একেবারে মেক্সিকোর পুরো মাফিয়া বিশ্বে নিজেদের শক্তি প্রতিষ্ঠা করা, তাদের প্রধান উদ্দেশ্য।
—
ভীর আলভারেজ, তার ভয়ঙ্কর দৃঢ়তায়, সকলের দিকে তাকিয়ে বলল, “তিজুয়ানা এবং জুয়েয়ারাজ আমাদের পরবর্তী শিকার। তারা এই মেক্সিকোর মাফিয়া জগতে বড় খেলোয়াড়। কিন্তু তারা জানে না, তাদের জায়গা এখন আমাদের দখলে আসতে যাচ্ছে।
তাদের মাথায় এতদিন একটাই ধারণা ছিল—আমরা কখনোই তাদের ক্ষতি করতে পারব না। কিন্তু আজকে, আমাদের পরিকল্পনা তাদের জন্য একেবারে হিমশীতল হয়ে উঠবে। আমরা তাদের দখল করে, সেখানে আমাদের শক্তি, সম্পদ, এবং প্রভাব বিস্তার করব।”
নিকো রামিরেজ, ভীরের বিশ্বস্ত সহযোগী, আরও কিছুটা সংকটগ্রস্ত গলায় বলল, “তবে আমাদের দুইটা বড় বাধা আছে—তাদের নেতাদের শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা, এবং আমাদের ভেতরে কিছু বিশ্বাসঘাতকতা আছে। আমরা যদি ভুল করি, তাহলে পুরো পরিকল্পনা উলটে যেতে পারে।”
ভীর নির্বিকারভাবে ভাবে বলে,
আমি জানি, নিকো কিন্তু এখন আমাদের সাম্রাজ্যকে বিস্তৃত করার সময়।
আমরা তাদের শক্তি ভেঙে দিয়ে, পুরো তিজুয়ানা এবং জুয়েয়ারাজ কার্টেলকে আমাদের আওতায় আনব। আমাদের অস্তিত্ব এখন কেবল একটাই ভয় ও ত্রাস তৈরি করা।
আর যারা আমাদের পথরোধ করতে চায় তাদের কবর পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে।
বাকিদের ব্যবস্থা পরে করা যাবে।
এনরিকো মেন্দোজা বলে,
তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভাঙা আমাদের জন্য একেবারে গুরুত্বপূর্ণ। তবে যদি আমাদের ফাঁদে ফেলে, তাদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করা যায়, তবে তাদের দখলে নেওয়া সহজ হবে। আমি একে একে তাদের নেতাদের, সহায়কদের, সুরক্ষাবাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করে দেব।
এনরিকোর কথা বলার সময় তার চোখে আগ্নেয়গিরির মতো তেজ ছিল, যেন প্রত্যেকটি বাক্য তার জন্য এক যুদ্ধে যাওয়ার সঙ্কেত ছিল।
সান্তিয়াগো রোসাস ধীরে ধীরে প্রাঞ্জলভাবে বলে,
বস এই পরিকল্পনা যদি সফল হয়, তবে আমাদের প্রথম কাজ হবে ওই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করা। আমরা তাদের অস্তিত্বকে মুছে ফেলব, আর তারপর আমাদের নিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সেখানে গড়ে তুলব। এমনকি, তাদের মানুষদের দিয়ে যদি আমাদের পরিকল্পনা কার্যকর হয়, তাও করব। তাদের নির্ভরযোগ্য স*ন্ত্রাসীরা আমাদের হয়ে কাজ করবে।”
ভীর গম্ভীর কিন্তু স্থির কন্ঠে বলে,
___ঠিক। আমাদের লক্ষ্য শুধু দখল নয়, তাদের মধ্যে এমন এক ভয় সৃষ্টি করা, যে তারা আমাদের কাছে আসতে বাধ্য হবে। আমি চাই, ওরা জানুক—যে আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, তার জীবনের পরিণতি কি হতে পারে। তিজুয়ানা এবং জুয়েয়ারাজ এখন তাদের—কিন্তু সময় সাপেক্ষে এটা আমাদের হাতে চলে আসবে।
_____ভীরের কথায়, সবার মধ্যে এক অদৃশ্য শক্তি জেগে ওঠে। ওরা শুধু সেই দুই কার্টেল নয়, পুরো মেক্সিকো মাফিয়া জগতকে নিজেদের আওতায় আনতে চায়।
ভীর উৎসাহীভাবে বলে,
সে আমার বন্দিনী পর্ব ১
আমরা যদি পুরো দেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, তখন মেক্সিকোর সীমানা ছাড়িয়ে, পৃথিবীজুড়ে আমাদের নামে কাঁপবে মানুষ।
আমি হবো পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মাফিয়া।”
রুমের প্রতিটি মানুষ ভীরের কথায় খুশি হলো। তারা জানে, একবার এই পরিকল্পনা সফল হলে, তাদের কপালে শুধু ক্ষমতা আর দাপট—আর কিছুই নয়।
