Home সে আমার বন্দিনী সে আমার বন্দিনী পর্ব ১

সে আমার বন্দিনী পর্ব ১

সে আমার বন্দিনী পর্ব ১
তানিয়া হুসাইন

মেক্সিকোর, গুয়াদালাহারার রাত ছিলো রহস্যময়,নীরবতার চাদরে ঢাকা।
বিশাল জানালার বাইরে চাঁদের আলো পড়ছিল, ঠান্ডা বাতাসে পর্দা গুলো ধীরে ধীরে নড়ছে।
মেক্সিকো, কলম্বিয়া,পানামা,হন্ডুরাস এই শহরগুলো তার নিয়ন্ত্রনে।
এখানকার বাদশাহ সে।
রাজভীর আলভারেয কাল তার একটা মিশনে যাবে।
সেটার-ই প্রস্তুতি চলছে।
তাদের পছন্দেরও প্রয়োজনীয় অ*স্ত্রগুলো, বু*লেটপ্রুফ জ্যাকেট, সব আবারো ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেয় প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহ করে।
একে একে সব গার্ডরা মিশনের জন্য প্রস্তুত হতে শুরু করে।
এই গোপন মিশনটি শুরু হওয়ার আগে ভীর আর নিকো নিজেদের মনোযোগ পুরোপুরি মিশনের মধ্যে কেন্দ্রীভূত করে।
ভীর জানে এই মিশন কেবল তার জন্য নয় পুরো মেক্সিকান গ্যাংয়ের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

___ভীর উঠে দাঁড়ায়
নিকো, সান্তিয়াগো, এনরিকো কে করে বলে বাকি কাজ তোমরা গুছিয়ে নাও আমি আসছি।
___নিকো ভীরের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে,
রাজভীর একজন কঠোর হিংস্র, নিষ্ঠুর গ্যাং লিডার হিসেবে পরিচিত,
মেক্সিকোর গুয়াদালাহারার মাফিয়া।
সে ব্যাক্তি ইশায়ার জন্য কেমন আচরন করছে।
তার চোখে এক ধরনের উদ্বেগ, যা আগে কখনো দেখেনি নিকো।
নিকো নিজের হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ফেলে।
সে কখনো লক্ষ্য চ্যুত হতে চায় না।
কারন তার কাছে মেয়ে মানে হলো ছলনা। মেয়ে হল শুধু ভো*গের বিষয়বস্তু।
এগুলো জাস্ট ইউজ এন্ড থ্র এর জন্য ব্যবহৃত।।
কিন্তু ভীরকে সে কিছু বলতে পারবে না।
তা হলে তাদের সম্পর্কটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আজ ভীরের জন্য-ই সে এই অবস্থায় আছে।

___রাত্রি নিস্তব্ধ ও ধীরে ধীরে জমে থাকা মেঘের মতো রাজভীরের রুমে এক অদ্ভুত নীরবতা বিরাজ করছিল।
ইশায়াকে সব-সময় নজরদারির জন্য রাখা পাঁচজন মহিলা গার্ড,নিরব ও সতর্ক ভাবে রুমের চারপাশে অবস্থান করছে।
এরা সব সময় ছায়ার মত ইশায়ার পাশে থাকে।
__ভীরের আশার উদ্দেশ্য হলো ইশায়াকে দেখা।
সে বাহিরে ছিলো শুনেছে ইশায়ার অসুস্থতার কথা,
আবার ও কাল চলে যাবে।
তার থাকা হয় না তেমন ব্যস্ততায়।
দরজার কাছে পৌঁছানোর সাথে সাথে,
ভীরের ধীর পদক্ষেপ ঘরের পরিবেশে এক নতুন রকমের উত্তেজনায় ভরে উঠলো।
ভীর রুমের দরজা খোলে,
রুমের মাঝখানে নরম আলোয় ধোয়াটে হয়ে থাকা বিছানায় ইশায়া শুয়ে ছিলো।
ইশায়া জ্বরের কারনে একটু দুর্বল।
জ্বর আগের তুলনায় একটু কমে গেলেও দুর্বলতা যায়নি।
শুয়ে ছিলো সে, ভীরের আগমন বুঝে তৎক্ষণাৎ চোখ চেপে বন্ধ করে নেয়।
এই লোকের সম্মুখীন হতে চায় না সে।
___ভীর যখন রুমে প্রবেশ করে,

তখন প্রতিটি কাজে নিয়োজিত মহিলা তাদের দায়িত্বের সঠিক পালন নিশ্চিত করতে একে একে রুম থেকে বাইরে চলে গেলেন, শুধু একজন থাকলো,
তাদের আচরণ ছিল এক ধরনের সংক্ষিপ্ত,কিন্তু যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শনের মতো।
_রুমের এক কোণে একজন মহিলা গার্ড মারিয়া এলেনা ভীরের দিকে মুখ করে শান্ত কন্ঠে বললো,
_Jefe, la senora no ha comido nada,
(বস,ম্যাম কিছু খান নি,)
যেমনটা আজকে রাতের রুটিনের অংশ ছিল।
_ভীর ধীর কন্ঠে কিন্তু দৃঢ় স্বরে বলল,
“বাহিরে যাও”।
গার্ড বিনা বাক্যে মাথা ঝুকিয়ে আদেশ পালন করল,
দ্রুত রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
__ভীর ইশায়ার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়,কপালে হাত রাখে,

শরীরের তাপমাত্রা বোঝার পরই তার চোয়াল শক্ত হয়ে যায়,তার হাতের আঙ্গুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ হয়ে ওঠে।
যদি অন্য কেউ অসুস্থ হতো, সে একবারো ফিরেও তাকাতোনা, কিন্তু এটা ইশায়া…
রাগ তার গলার স্বরেও ফুটে ওঠে,
তবে সেটাতে বরফের মত ঠান্ডা নিয়ন্ত্রণ থাকে,
__খাওনি কেনো
তার কণ্ঠস্বর নিম্ন, গভীর কিন্তু প্রচন্ড চাপা রাগে ঠাসা।
__ইশায়া চোখ বন্ধ রেখেই শুনতে পায়, কিন্তু উত্তর দেয় না।
তার নীরবতা ভীরকে আরো ক্ষুব্ধ করে তোলে।
সে তখনই দরজার দিকে তাকিয়ে গার্ডদের উদ্দেশ্যে গর্জে ওঠে,
“তোমরা পাঁচজন কী করছিলে? যদি ওর কোনো ক্ষতি হয়, তাহলে কেউ বেঁচে থাকবে না মনে রেখো”
তার হিংস্র রাগে গার্ডরা ভয়ে নড়েচড়ে ওঠে, কিন্তু মাথা নিচু করে থাকে।
ক্ষমা চায়।
এবং জানায় তারা অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু কিছুতেই ইশায়াকে কিছু খাওয়াতে পারে নি।
___এরপর ভীর আবার ইশায়ার দিকে তাকায়। তার চোখে রাগ থাকলেও, ভেতরে একরকম অস্থিরতা কাজ করছে। সে ঠান্ডা গলায় বলে,
তুমি জানো আমি পছন্দ করি না যখন তুমি নিজের যত্ন নাও না। আমার সহ্য হয় না, ইশায়া।
কেনো বারবার অবাধ্য হও আমার।
তার কণ্ঠে হুমকির ছায়া স্পষ্ট,
–ইশায়া তখনও চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে, যেন কিছুই শুনতে পায়নি।
ভীর গভীর শ্বাস নেয়, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। সে জানে, তার রাগের ভয়ানক দিকটা এখানে প্রকাশ করা যাবে না।
এখন সে অসুস্থ,
তাই সে হাত বাড়িয়ে ইশায়ার গালের পাশে আলতো ছোঁয়া দেয়, তারপর ঠাণ্ডা গলায় বলে,
চোখ খুলো, ইশায়া। এখনই।
তবে সে জানে, ইশায়া সহজে তার আদেশ মানবে না। আর এটাই তাকে আরও বেশি অধৈর্য করে তুলছে…

__ইশায়ার মুখের দিকে তাকিয়ে তার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। মেয়েটার গাল লালচে, নিঃশ্বাস ধীর, জ্বরের কারণে হয়তো দুর্বল হয়ে গেছে, কিন্তু তবুও সে ভীরকে পাত্তা দিচ্ছে না?
ভীর ঠাণ্ডা গলায় বলল, আবারো বলছি চোখ খোলো, ইশায়া।
এবার খানিকটা জোরেই বলে ভীর কথাটা।
কোনো সাড়া নেই, ইশায়ার।
ভীরের ধৈর্য ধীরে ধীরে ছিঁড়ে যাচ্ছিল।
সে এবার আরও কঠিন কণ্ঠে বলল,
আমি ১ থেকে ৩ পর্যন্ত কাউন্ট করব এরপরও যদি তুমি চোখ না খুলো তারপর কি হবে সেটা তুমি ভালো করেই জানো।
___তুমি শুনতে পাচ্ছো, আমি জানি।
এক… দুই…
ইশায়া চোখ বন্ধ রেখেই শ্বাস নিল, কিন্তু নড়ল না।
ভীর এবার আর সহ্য করতে পারল না।
এক ঝটকায় সে বিছানার পাশে বসে সামনে ঝুঁকল, তার হাত বাড়িয়ে ইশায়ার চিবুক ধরে টান দিল, “তিন!”
ইশায়ার চোখ ধক করে খুলে গেল।
তার চোখে ভয় জ্বলজ্বল করছিল, কিন্তু সে মুখ শক্ত করে রাখল। ভীরের চোখদুটো শিকারির মতো, গভীর, রাগী আর ভয়ঙ্কর।

তুমি কি আমার আদেশ অমান্য করছিলে?ভীর ধীর অথচ হুমকির স্বরে বলল।
ইশায়া কিছু বলল না, কিন্তু গলার নিচ দিয়ে একটা ছোট নিঃশ্বাস বেরিয়ে এলো।
হাত বুলালো ভীর ইশায়ার গলায়।
তার আঙুল ঘুরাঘুরি করছে ইশায়ার শ্বাসনালীতে।
তুমি অসুস্থ, আর তবুও জেদ ধরে আছো? সে ক্ষীপ্ত গলায় বলল।
ইশায়া এবার আস্তে করে বলল, আমি ঘুমোচ্ছিলাম…
ভীর হেসে ফেলল,
কিন্তু সেই হাসিতে ভয় লুকিয়ে ছিল।
ঘুমোচ্ছিলে? আমি যদি তোমাকে ছুয়ে না দিতাম, তাহলে কি তুমি আরও একঘণ্টা আমার সাথে এই নাটক চালিয়ে যেতে?
ইশায়া এবার চোখ সরিয়ে নিল, কিছু বলল না।
ভীর গভীর শ্বাস নিয়ে নিজেকে সামলে নিল। সে ধীরে ধীরে বলল, তুমি জানো না, ইশায়া, আমি কী করতে পারি যখন আমার রাগ ওঠে। কিন্তু ভাগ্য ভালো, আমি তোমার ওপর সেটা এখন দেখাতে চাই না। এখন চুপচাপ কিছু খাও। নাহলে আমি নিজের হাতে খাওয়াবো, তখন কিন্তু পরিস্থিতি তোমার জন্য আরও কঠিন হবে।
তার চোখে কোনো মজা ছিল না। এটা একটা আদেশ। আর ইশায়া জানত, সে যদি ভীরের কথা না মানে, তাহলে সে সত্যিই নিজের মতো করে তার কথা মানিয়ে নেবে যার পরিণতি সে কল্পনাও করতে চায় না…

___ইশায়া স্যুপের বাটি হাতে তুলে নেয়, কিন্তু তার চোখে এক ধরনের অসহায়তা । শরীরটা দুর্বল হয়ে পড়েছে, মাথা ঘুরছে, আর খাওয়ার কোনো ইচ্ছাই নেই।
সে স্যুপের দিকে তাকিয়ে একটু গলা খাঁকারি দিয়ে বলে,
আমি… পারছি না।”
পারবে খাও,
আর যদি মনে করো যে তুমি খেতে পারবে না, তাহলে আমি তোমার জন্য অন্য কিছুর ব্যবস্থা করব।
তুমি কি চাইছো তোমার ওই পাঁচজন গার্ড শাস্তি পাক।
ভীরের গলায় এমন একটি সুর ছিল যে ইশায়া আর কোনো প্রতিবাদ করতে পারেনি। সে শুধু কিছুক্ষণের জন্য মাথা ঝুঁকিয়ে রেখে ধীরে ধীরে স্যুপে চামচ ডুবিয়ে মুখে তুলতে শুরু করল।

চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়বার আগেই মুছে নেয় নাক টানে।
ভীর তার সামনে দাঁড়িয়ে রইল, তার চোখের দৃষ্টি এক মুহূর্তের জন্য ও সরে না। যতক্ষণ না ইশায়া পুরোটা খাচ্ছে, ভীর তাকেকোনো ছাড় দিবে না। তার শাসন ছিল স্পষ্ট ইশায়া যতটা অসুস্থই হোক না কেন, তার আদেশ মেনে চলতেই হবে।
তাকে সুস্থ থাকতে হবে, এই মেয়ে অসুস্থ হলে তার ভালো লাগেনা।

রাত গভীর।
গুয়াদালাহারার আকাশে চাঁদের আলো ম্লান।
___আলিশান কালো রেশমের বিছানায় খালি গায়ে শুয়ে আছে রাজভীর আলভারেয!
তার শরীরের প্রতিটি মাংস পেশি যেন মার্বেলের মতো শক্ত,গাঁয়ের প্রতিটি কাটিং তীক্ষ্ণ।
ছায়ার খেলায় আরো রহস্যময়।
__তার বুকের বা পাশে গভীর ক্ষত চিহ্ন।
ডান কাধ থেকে নেমে আসা কালো ড্রাগন ট্যাটু।
যা তার অন্ধকার সাম্রাজ্যের প্রতীক।
সিল্কের চাদর জড়িয়ে আছে শরীরে, যা তার শক্তপোক্ত অ্যাবসের এর কিছু অংশ ঢেকে রেখেছে।
___আঙ্গুলের মাঝখানে ছোট একটা ডায়মন্ডের রিং।
তার মায়ের শেষ স্মৃতি।
__ভীর চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে।
কিন্তু ঘুমিয়ে নেই। সে কখনো পুরোপুরি বিশ্রাম নেয় না।

__ সে এই সাম্রাজ্যের রাজা।
মাফিয়া জগতে ঢোকার পর ভীর প্রথমে সিনালোয়া দখলে নেয়, এবং তার সাম্রাজ্যকে গুয়াদালাহারা পর্যন্ত প্রসারিত করে।
বর্তমানে এই দুই শহর তার দখলে।
এই দুই শহরের সবকিছু তার নিয়ন্ত্রণে চলে।
তবুও এই শহরে তার শত্রুয়ে ভরা।
কিন্তু রাজভীর কখনো শিকারে পরিণত হয় না।
সে শুধু শিকার করে।
আর নিজের অধিকার কায়েম করে।
তার পাশেই টেবিলের উপর রাখা একটি লোডেড পিস্তল!
যা সব সময় প্রস্তুত।
___হঠাৎ ভীরের ফোন বেজে ওঠে।
রাজভীর চোখ মেলে তাকায়,
তার গভীর হিংস্র চোখে নিষ্ঠুরতা ফুটে ওঠে।
অন্ধকারে তার গাঢ় হিংস্র চোখ দুটো বিদ্যুৎ এর মত ঝলসে উঠলো।
___ফোনটা ধরলো।
“বলো”।
তার কন্ঠ গভীর ঠান্ডা এবং নিঃসংকোচ।

___ফোনের ওপাশে কয়েক সেকেন্ডের নিঃশব্দতা…
তারপর এক তীক্ষ্ণ কণ্ঠস্বর!
বস শত্রুরা আমাদের এলাকা দখল করতে চাইছে।
___ভীরের ঠোঁটের কোনে এক নির্মম হাসি ফুটে উঠলো,
সবাইকে প্রস্তুত হতে বলো,
বলে ভীর ফোন রেখে দেয়।
তারপর ধীরে ধীরে উঠে বসে।
তার মসৃণ পাথরের মতো শক্ত বুকের ওপর লালচে দাগ- পুরনো যুদ্ধের চিহ্ন।
___কালো একটা শার্ট গায়ে জড়িয়ে চুল গুলো ঠিক করে নেয়।
____৫ মিনিটের মধ্যেই তার বডিগার্ড উপস্থিত।
বিশেষ অস্ত্র ও বুলেটপ্রুফ লেদারের জ্যাকেট প্রস্তুত।
প্রাইভেট জেট তৈরি মুহূর্তের মধ্যে -ই সব প্রস্তুতি নেওয়া শেষ।

____রাত ৩:৪৫!
গুয়াদালাহারার নিষিদ্ধ এলাকা।
চারিদিক নিস্তব্ধ। কিন্তু বাতাস ভারী _বারুদের গন্ধ,আতঙ্ক আর মৃত্যুর পূর্বাভাস।
__কালো গাড়ির বহর এসে থামলো একটা পরিত্যক্ত এলাকায়।
শত্রুরাও প্রস্তুত ছিল।
অস্ত্র হাতে একদল ভয়ংকর মাফিয়া দাঁড়িয়ে, চোখে হিংস্রতা।
___আজকের রাত শুধু এক পক্ষের বিজয়ের আনবে।
আর অন্য পক্ষ মাটিতে লাশ হয়ে শুয়ে থাকবে।
এটাই নিয়ম যে হেরে যাবে সে মরে যাবে।
যে জিতবে ক্ষমতা তার রাজত্ব তার।
____গার্ডদের পিছনে ফেলে ভীর এগিয়ে এলো।
“তো তোমরা চেয়েছিলে আমার এলাকা দখল করতে,”
চোখের দৃষ্টি হিংস্র, গলার স্বর ঠান্ডা কিন্তু এতটাই ভয়ানক যে,
শত্রুরা মুহূর্তেই ঢোক গিলল।
শত্রুপক্ষের নেতা এগিয়ে এসে বলে,
___গুয়াদালাহারা এখন আমাদের!
তোমার সময় শেষ আলভারেয।
আজ থেকে এই সাম্রাজ্য আমার।

একটা সিগারেট ধরায় আলভারেয,
ধোঁয়া উড়ছে ঠান্ডা বাতাসে, তার চোখে কোনো ভয় নেই চিন্তার লেশ মাত্র নেই, যেন এই রাতের ভয়ংকর পরিণতি সে আগে থেকেই জানে।
___ভীর হেসে ওঠে ওর কথা শুনে।
এক ঝটকায় সে তার কোট খুলে ফেলল।
তার শক্তপোক্ত কাধের ওপর আঁকা ড্রাগন ট্যাটু ঝলসে উঠলো।
আগুনের মত জ্বলজ্বল করছে তার চোখ।
তীক্ষ্ণকণ্ঠে বলে,
___আজ রাতেই দেখা যাবে, কার সময় শেষ।
___উপরে হেলিকপ্টার উড়ছে তার মধ্যে থেকে গু*লি ছোড়া শুরু।
বিপক্ষ দল ঘাবড়ে যায়।
___শত্রুপক্ষ আগে থেকেই তৈরি ছিল। তারা চেয়েছিল ট্রাপে ফেলতে আলভারেয কে।
কিন্তু এখন বিপদে পড়ে গেছে কারন ওরা জেনে যায় সবকিছু।
রাতের আঁধারে সবার অজান্তে আক্রমণ করতে চেয়েছিলো।
কিন্তু ভীরের কানে আগেই সবকিছু চলে যায়।
শত্রুপক্ষ ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়,
প্রত্যেকের হাতে স্বয়ংক্রিয় ব*ন্দুক রাই*ফেল।
___ওদের বস চিৎকার করে বলল এদের সবাইকে শেষ করে দাও।
গু*লির বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। চারপাশ কেঁপে উঠল গু*লির শব্দে।
ভীর নড়লো না।
সিগারেট ফেলে দিল। পা দিয়ে মাড়িয়ে নিভিয়ে দিল আগুনটা ।

___ভীরকে আঘাত করতে এলো এক ব্যক্তি।
রাজভীর এক ঝটকায় ডান দিকে সরে গিয়ে,
দুই জনের মাথা বরাবর লক্ষ্য করে গু*লি চালালো।
লুটিয়ে পড়ল মাটিতে ওদের নিস্তেজ শরীরটা।
ভীরের গার্ডরা সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়লো ওদেরকে পালাক্রমে আক্রমণ করতে শুরু করল।
লা*শের বহর বিছিয়ে যাচ্ছে মাটিতে।
__আরেকজন ছু*রি হাতে ঝাঁপিয়ে পড়লো ভীরের দিকে।
রাজভীর তার কব্জি ধরে এক মোচড়ে ছু*রি কেড়ে নিল,
এবং সেই ছুরি দিয়েই তার গ*লা কেটে দিল।
ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসলো।
র*ক্তের ছিটা এসে পড়লো ভীরের চোখে-মুখে
ভীর একহাত দিয়ে মুছে নিলো।
র*ক্তের খেলা তার। র*ক্তে দেখে অভ্যস্ত সে ছোট থেকে।
র*ক্ত দিয়ে গোসল করে প্রতিনিয়ত।

___ভীর তার দুহাতে পি*স্তল নিয়ে অনবরত গু*লি করতে থাকে।
__একের পর এক ধ্বংস।
শত্রুপক্ষের একজন পেছন থেকে তার মাথায় আঘাত করতে চাইলে ভীর ঝুকে যায়,
পরমুহূর্তেই তার কপাল বরাবর সুট করে দেয়।
___ভীরের গার্ডরা ও একে একে সবাইকে শেষ করে ফেলল।
রাজভীর একাই একশ।
___শত্রুপক্ষের নেতা মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে আছে,
ভীর তার সামনে চেয়ারে বসা।
শত্রুপক্ষের নেতা ভীরের পায়ে ধরে ক্ষমা চায় ওকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ।
___ভীর বাঁকা হাসি দিয়ে বলে,
ঠিক আছে যা চলে যা।
___লোকটা হাসি মুখে ওঠে দাঁড়ায়।
প্রাণে বাচার একটা সুযোগ পেয়েছে।
___কিন্তু নিকো ধারালো ছু*ড়ি দিয়ে মুহূর্তেই শত্রুর ধর থেকে মাথা আলাদা করে দেয়।
নিকোর কাছে কোন ভুলের মাফ নেই।

___ভীর নিজেও ছাড়তো না।
ও তো শত্রুর এই আতঙ্ক ভয়ের মজা নিচ্ছিল।
যখন পালিয়ে যাওয়ার জন্য দৌড়ানো শুরু করতো তখনই শুট করত।
তারপর আর কি।
গুয়াদালাহারার রাতের রাজা আবারো বিজয়ী।
কালো গাড়ির দরজা খুলে গেল।
ভীর উঠে দাঁড়ায় এগিয়ে যায় তার উদ্দেশ্যে।
___আজ রাতেও গুয়াদালাহারার রাস্তায় রক্ত ঝড়লো,
আবারো নতুন ইতিহাস লেখা হলো।
রাজভীর আলভারেয (কিং অফ শ্যাডো) এর নামে।

নিকো রামিরেজ রাজভীর এর ছায়াসঙ্গী।
রাজভীর যেখানে যায় নিকো তার ছায়ার মত তার পাশে থাকে।
নিকো হিংস্র,বেপরোয়া আর ঠান্ডা মাথার খুনি।
___নিকো এক সময় ভীরের প্রাণ বাঁচিয়েছিল।
তখন থেকে ভীর নিকোকে তার সাথে রাখে।
__দুজন একসাথে থাকলে মাফিয়া জগতের ঝড় ওঠে রক্ত ঝরে।
___নিকো তার আন্ডারে কাজ করে এমন না।
নিকোর আলাদা বিজনেস আলাদা সবকিছু আছে।
ভীর করে দিয়েছে তাকে সবকিছু।
ভীর ওর কাছে কৃতজ্ঞ ও যদি সেদিন না থাকতো তাহলে হয়তো রাজভীর নামের কেউ এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকত না, আর না রাজ করতো এই সাম্রাজ্যে।
এজন্যই সে নিকোকে এতটা ক্ষমতা দিয়েছে।

___নিকোর সব থেকে খারাপ দিক হলো মেয়েদের ইউজ করা।
সে হাজারো মেয়ের সংস্পর্শে থাকে।
অনেককে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঠকায়।
নিজের কার্য হাসিল হয়ে গেলে ও আর ওদের দিকে ফিরেও তাকায় না।
যদি কেউ তার কথা না মানে তাহলে তাকে ধ্বংস করে ফেলে।
___নিকো শুধু মাত্র নিজের উদ্দেশ্যে পূরণের জন্য বেঁচে থাকে।
যেখানে কোন দয়া সহানুভূতি বা নৈতিকতা নেই।
____এখন আসা যাক রাজভীর আলভারেয এর কাছে।
রাজভীর মেক্সিকোর গুয়াদালাহারার মাফিয়া।
গুয়াদালাহারা হচ্ছে মেক্সিকোর জালিস্কো শহরের রাজধানী, এবং দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর।
এটি মেক্সিকোর একটি ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
গুয়াদালাহারা মেক্সিকোর পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত,এবং এটি মেক্সিকো সিটির পর দ্বিতীয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শহর।

__২৯ বছরেরই তার অর্জনের শেষ নেই।
রাজভীরের উপস্থিতি মানেই ভয়।
আতঙ্ক ও শক্তির অবিরাম প্রবাহ।
তার নাম সোনা মাত্রই মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা থেকে শুরু করে পৃথিবীর অন্য সব জায়গার অপরাধ সাম্রাজ্য কাঁপতে থাকে।
সে শুধু শক্তিশালী নয় একেবারে নিষ্ঠুর , এমন একজন ব্যক্তি যার সামনে যেকোনো শত্রু বা বাধা পরাস্ত হতে বাধ্য।
তার হাতে বিশ্বস্ত গার্ড, এক্সপার্ট স্নাই*পার এবং মারাত্মক অয়া*সাসিন বাহিনী থাকে যারা তার অন্যান্য কাজ করে।
রাজভীরের ক্ষমতার রাজত্বের কোনো সীমা নেই।
রাজভীরের চরিত্রের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তার হিংস্রতার প্রতি তার অঙ্গীকার।
তার কাছে প্রতিটি যুদ্ধ, প্রতিটি সংঘর্ষ হল শত্রুদের উপর নিজের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
তার ধ্বংসাত্মক শক্তি এবং মানসিক নিষ্ঠুরতা তাকে আরো ভয়ঙ্কর করে তোলে।
রাজভীররের প্রতিপত্তি মেক্সিকো থেকে শুরু করে বিশ্বের প্রতিটি দেশে বিস্তৃত।
তার বিশ্বস্ত গার্ড বাহিনী, অত্যাধুনিক অ*স্ত্র ও প্রযুক্তি তাকে একধাপ এগিয়ে রাখে।
এটা তার শাসন তার নির্দেশনা।
_____ছয় ফুট এক ইঞ্চি উচ্চতার।
ফুল মাসকুলার ও ফিট বডি।
চওড়া কাধ যা তাকে আরো আলফা মাফিয়া লুক দেয়।
পেশী বহুল বাইসেপ,
সিক্স প্যাক অ্যাবস।
ভয়ংকর এই মাফিয়া আজ পর্যন্ত যে জিনিসে চোখ গেছে সেটাই সে হাসিল করে ছেড়েছে।
তার এই কিলার লুক-ই তার হিংস্রত্বের প্রকাশ ঘটায়।

_____আদনান রহমান একজন সরকারি কর্মকর্তা।
তার স্ত্রীর নাম সায়মা রহমান।
তিনি একজন গৃহিণী।
তার কাজ পুরো পরিবারের দেখাশুনা করা।সবাইকে এক সুতোয় গেথে রাখা।
আদনান সাহেবের তিন ছেলে মেয়ে।
দুইটা ছেলে একটা মেয়ে।
বড় ছেলের নাম আবির রহমান।
সে একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে জব করে।
এইতো ছয় মাস আগে তার বিয়ে হল।
বৌমার নাম জান্নাত।
আদনান রহমানের ছোট ছেলে মাস্টার্স করছে।
তার নাম আদ্রিয়ান রহমান।
আর তার একমাত্র আদরের মেয়ে, সবার ছোট “ইশায়া জারিন রহমান”।
সে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে।
এই তো কিছুদিন আগে ফার্স্ট ইয়ারের এক্সাম শেষ হয়েছে।
রেজাল্ট এখনো দেয়নি কিন্তু ইশায়া বরাবর-ই ভালো স্টুডেন্ট।
ক্লাস টপার সে।

___হাসিখুশি পরিবার তার।
আল্লাহ এর রহমতে খুবই সুখে দিন পার করছে।
ইশায়া বাবা-মা দুই ভাইয়ের চোখের মনি।
বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে।
আর দুই ভাইয়ের আদরের ছোট বোন।
___ইশায়া রহমান!
বয়স ১৭।
ভয়,কোমলতা আর মোহনীয় সৌন্দর্যের এক অসাধারণ মিশ্রণ।
ইশায়ার এই নিরীহ কোমল আর রহস্যময় ব্যক্তিত্ব তাকে সবার থেকে আলাদা করে তোলে।
___ইশায়ার চোখের মনিগুলো ঘোলাটে, অদ্ভুত সুন্দর লাগে তার চোখের দিকে তাকাতে।
__তার গাঢ় কালো চুল,কোমর ছাড়িয়ে নেমে এসেছে।
হালকা ঢেউ খেলানো ঘন চুল।
তার ঠোঁটের সাথে লাগোয়া তিলটা সবচেয়ে আকর্ষণীয়।
এটা তার মুখের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে তুলে।
ওর মুখের দিকে তাকালে সবার আগেই নজরে যায় এই কালো কুচকুচে তিলটায়।

___আর বৈশিষ্ট্য হল,
খুবই সংবেদনশীল,ছোটখাটো বিষয়ে মিইয়ে যায়।
বাইরের মানুষের সাথে মিশতে চায় না।
শুধু কাছের মানুষগুলোর সাথে স্বাভাবিকভাবে কথা বলে।
ইশায়ার শুধু দুইটাই বেস্ট ফ্রেন্ড আছে।
অরিণা হোসাইন,আর
মেহনাজ তাসফিয়া।
ওদের সাথে ইশায়ার ছোট থেকে বন্ধুত্ব।
একসাথে পড়ালেখা করেছে এক স্কুলে এখন এক কলেজে।
____আর তার আরো একজন খুব কাছের মানুষ আছে।
তার নাম সাফা আহমেদ।
সে সম্পর্কে তার ফুফাতো বোন।
বয়সে তার থেকে অনেক বড় হলেও তার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ইশায়ার।

___আবার সাফার সাথে তার ছোট দাদাভাই আদ্রিয়ানের প্রেমের সম্পর্ক।
এজন্যই তাদের বন্ডিংটা অন্যরকম।
ওদের সম্পর্কের কথা দুই পরিবারই জানে।
এখন শুধু ছোট দাদা ভাই পড়ালেখা শেষ করে একটা ভালো কাজে জয়েন করলেই ওদের পারিবারিকভাবে বিয়েটা হয়ে যাবে।
___খুব-ই গোছানো জীবন ওদের।
সুন্দর স্বাভাবিক প্রাণোচ্ছল।
এই সুন্দর পরিবারে যে একটা কালো ছায়া ঘেরাও করবে সেটা তারা দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করেনি।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ২