সে আমার বন্দিনী পর্ব ৯৯
তানিয়া হুসাইন
নিক মারা গেছে এই খবরটা শুনেই মাতেওর ঠোঁটের কোণে তৃপ্তির হাসি ফুটে ওঠে। চোখে-মুখে স্পষ্ট বিজয়ের ছাপ।
একটা কাঁটা তো সরেছে, এবার আরেকটার পালা।
পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা লুকা রাগে দাঁত চেপে ধরে। চোয়াল শক্ত হয়ে আছে তার। নিকের কথা উঠতেই চোখে জ্বলে ওঠে প্রতিহিংসার আগুনে।
নিককে আমি নিজের হাতে মারতে চেয়েছিলাম, গর্জে ওঠে সে। ও আমার ভাইকে মেরেছে। এত সহজ মৃ*ত্যু ওর প্রাপ্য ছিল না।
মাতেও হালকা হেসে মাথা নাড়ে,তারপর বলে,
ম্যাটিয়াসও ভীরের হাতেই মরেছে। আমাদের কাজটা বরং সহজ হয়ে গেল।নাহলে বেঁচে থাকলেও শেষ পর্যন্ত আমাদের হাতেই মরতে হতো ওকে।
লুকা ঠোঁট বাঁকিয়ে সম্মতি জানায়।ঠিক বলেছো।
তার কণ্ঠে ঝরে পড়ে ঘৃণা।
___শা*লা, বেশি উড়ছিল। নিজেকেই সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু ভাবতে শুরু করেছিল। মনে করেছে আমরা তার ইশায়ার চলবো।
কয়েক মুহূর্ত নীরব থেকে সে মুঠো শক্ত করে বলে,
___যাই হোক, ওর পরিণতি ও পেয়েছে। এখন শুধু ভীর বাকি। আর ওর শেষটা আমি নিজের হাতে করতে চাই।
মাতেও বুঝতে পারছে নিকের মৃ*ত্যুর পর ভীর আরো খেপে যাবে তাদের উপর,আরো হিংস্র হয়ে যাবে।তাই তাদেরকে এখন বুঝে শুনে এগোতে হবে।কোন ভুল করা যাবে না এটাই সুযোগ তাদের কাছে ভীরের নাম মুছে নিজেদের জায়গা করে নেওয়া এই অন্ধকার সাম্রাজ্যে।
ভীরের এই দুর্বলতার সুযোগটাই কাজে লাগাতে চাইল সে।মাতেওর পাশে ছিল তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত লোকেরা
রিকার্দো, সিলভিও, ড্যান্টে, আলভারো, রাউল, সের্জিও, ব্রুনো, মারকো আর হেক্টর।
অন্যদিকে লুকার লোকেরাও এসে যোগ দিয়েছে,
ভিনসেন্ট, কার্লোস, রেমন্ড, রাফায়েল, টমাস আর এস্তেবান।
মাতেও তাদের সবাইকে নির্দেশ দেয় সবাই এক জোটে ভীরের দিকে আক্রমন করতে।ভীরকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলতে।এই জায়গা থেকে এখন যেন কেউ বের হতে না পারে।
তারা ধীরে ধীরে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলতে শুরু করে ভীর ও তার অবশিষ্ট লোকদের।একটা অদৃশ্য ফাঁদের মতো সংকুচিত হতে থাকে বৃত্তটা।কিন্তু ভীর সেদিকে খেয়ালই করছে না।তার পৃথিবী নিকের সাথেই থেমে গেছে।তার চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠছে নিকের নিথর মুখ।তার বলা শেষ কথাগুলো।যন্ত্রনায় কাতর মুখ, ভেঙে আসা কন্ঠ।প্রতিটা শব্দ এখনও কানে বাজছে।আর সেগুলোই তাকে আরও উন্মত্ত করে তুলছে।হাতে থাকা অ*স্ত্র দিয়ে একের পর এক শত্রুকে আঘাত করছে সে।কেউ তার সামনে দাঁড়াতে পারছে না।একেকজনের বুক চিরে যাচ্ছে। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও রেহাই পাচ্ছে না,শরীর ছিন্নভিন্ন করে ফেলছে সে ভীর।তার সম্পূর্ণ আক্রোশ মিটাচ্ছে ওদের উপর।ভীর প্রতিটা আঘাতে নিজের বুকের ভেতরের যন্ত্রণাটা বের করে আনতে চাইছে।র*ক্ত ছিটকে পড়ছে চারদিকে।চিৎকারে ভারী হয়ে উঠছে বাতাস।ডিয়েগো দূর থেকে সব দেখছে সে ভীরের কাছে এগিয়েও যেতে পারছেনা তাকে ঘিরে ধরেছে অনেকে,সে তাদেরকে সামলাতে ব্যস্ত।পরিস্থিতি একেবারে তাদের হাতের বাইরে,তার বুক কেঁপে উঠছে বারবার। ভীরের সব লোকেদের ঘিরে ধরেছে মাতেও লুকার লোকেরা।
আর এদিকে ভীর উন্মাদ হয়ে ওঠেছে।ডিয়েগোর ভয় হচ্ছে ভীরকে নিয়ে।কারণ সে জানে ভীর এখন যুদ্ধ করছে না।সে শোকের মধ্যে ডুবে গিয়ে ধ্বংসের পথে হাঁটছে।ভীরকে এখান থেকে সে নিতেও পারছেনা সে যাবেনা।নিকোর এই পরিণতি তাকে একেবারে নাড়িয়ে দিয়েছে।
___এমন সময় একটা গুলির শব্দ চারদিকে প্রতিধ্বনিত হয়।পরের মুহূর্তেই ভীরের ডান হাতে ঝাঁকুনি খেয়ে সে পেছনে সরে যায়।গু*লিটা এসে লেগেছে তার হাতে।
রক্ত ছিটকে বেরিয়ে আসে।প্রচণ্ড আঘাতে তার হাত থেকে ব*ন্দুকটা ছিটকে পড়ে যায় নিচে।
ভীর দাঁতে দাঁত চেপে চোখ বন্ধ করে ফেলে এক মুহূর্তের জন্য।ব্যথায় তার মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে ওঠে।ঠিক তখনই ড্যান্টে এগিয়ে আসে।তার চোখে উন্মাদনা ভীরকে শেষ করার।
কিন্তু সে ভীর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না।এর আগেই
মোন্দেজা পরিস্থিতি বুঝে ফেলে। তাকে ঘিরে ধরা লোককে সরিয়ে নিজের হাতের ছু*রিটা ছুড়ে মারে।
ছু*রিটা বাতাস চিরে সোজা গিয়ে ড্যান্টের বুকে ঢুকে যায়।
ড্যান্টে বিস্ময়ে চোখ বড় বড় করে ফেলে।
এক সেকেন্ড পরই তার শরীর ধপ করে পড়ে যায় মাটিতে।
___বস!চিৎকার করে ওঠে ডিয়েগো।
কিন্তু আক্রমণ থামে না। আরেকজন শত্রু, রিকার্দো, পাশ থেকে ঝাঁপিয়ে আসে ভীরের দিকে।
তার হাতে ধারালো ব্লে*ড।
কিন্তু ভীর সে আঘাত করার আগেই নিজের হাতে থাকা ছু*রিটা ঢুকিয়ে দেয় রিকার্দোর পেটে।রিকার্দোর মুখ দিয়ে র*ক্ত বেরিয়ে আসে।সে কিছু বলতে চেয়েও পারে না।ধীরে ধীরে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
ভীরের হাত বেয়ে তখন রক্ত গড়িয়ে পড়ছে।গু*লির ক্ষত থেকে অবিরত রক্ত বের হচ্ছে।ব্যথায় তার চোয়াল শক্ত হয়ে গেছে।মুখের পেশিগুলো টান খেয়ে আছে।
তবুও সে থামছে না।নিজের শরীরের অস্তিত্বই ভুলে গেছে সে।
ঠিক তখনই ডিয়েগো দৌড়ে এসে তাকে ধরে ফেলে।
___বস! এইদিকে!
ভীর প্রথমে শুনতেই পায় না।
ডিয়েগো প্রায় জোর করেই তাকে টেনে একটা ভাঙা কংক্রিটের দেয়ালের আড়ালে নিয়ে আসে।
পরের মুহূর্তেই তাদের মাথার ওপর দিয়ে একের পর এক গুলি ছুটে যায়।
চারপাশে আবার শুরু হয় ভয়ংকর গো*লাগু*লি।
আড়াল থেকে পাল্টা গু*লি ছুড়তে থাকে এনরিকো, মোন্দেজা, রাফা, রোসাস লুইস সহ বাকিরা।
ভাঙা দেয়ালে গুলি লেগে কংক্রিটের টুকরো উড়তে থাকে।
ধোঁয়া আর বা*রুদের গন্ধে ভারী হয়ে ওঠে বাতাস।
মাতেও দূর থেকে দাঁড়িয়ে সব দেখছে।তাকে ঘিরে আছে তার লোকেরা।তারা শুধু দাঁড়িয়ে দেখছে রাজভীর আলভারেয এর ধ্বংস।তার যত্নে গড়ে ওঠা সাম্রাজ্যের ধস নেমেছে।
______ডিয়েগো ভাঙা দেয়ালের আড়ালে বসে দ্রুত একটা কাপড় ছিঁড়ে ভীরের হাতে শক্ত করে বেঁধে দেয়।র*ক্ত পরা থামাতে।
র*ক্ত থামানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু ক্ষতটা গভীর।
চারপাশে এখনও গু*লির শব্দ, বিস্ফোরণের শব্দ, আর্তনাদ।
তার মাঝেই ডিয়েগো কাঁপা গলায় বলে উঠে,
___বস, আপনাকে এখান থেকে চলে যেতে হবে।
ভীর কোনো উত্তর দেয় না।তার চোখ মুখ শক্ত সেখানে কোন অনুভুতি নেই।
ডিয়েগো দাঁত চেপে আবার বলে,
___আজ আমাদের নিজেদের মানুষই আমাদের এখানে এনে ধ্বংস করেছে। আমরা বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছি। না হলে নিক স্যারকে আমরা হারাতাম না বস।
তার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে।
কিন্তু এই প্রতিশোধ নিতে হলে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। এখান থেকে বের হতে হবে। এক পা পিছিয়ে যাওয়া মানে এই নয় যে আমরা ভয় পেয়ে গেছি।
ওরা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে আমাদের ফাঁদে ফেলেছে। আমাদের লোকদের বি*ষ দিয়ে মেরেছে, আমাদের শক্তি দুর্বল করেছে।,আমাদের অ*স্ত্র সরিয়েছে এখন যদি আপনি এখান থেকে না যান, তাহলে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে।
আমরা প্রতিশোধ নেব, বস। অবশ্যই নেব। কিন্তু আজ সময়টা আমাদের না।
ভীর চোখ বন্ধ করে দাঁত চেপে রয়,তার চোয়ালের পেশি ফুলে উঠেছে।
ঠিক তখনই মাতেওর লোক সের্জিও ভার্গাস আড়াল ভেঙে সামনে চলে আসে।হাতে স্বয়ংক্রিয় রা*ইফেল।
ভীরের দিকে তাক করেই সে ট্রিগারে চাপ দিতে যায়।
কিন্তু তার আগেই ভীর ঝাঁপিয়ে পড়ে তার উপর।
আহত শরীর নিয়েও এমন গতিতে এগোয় যে সের্জিও বুঝে উঠতে পারে না।
পরের মুহূর্তেই ভীরের ছুরির আঘাতে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
সের্জিওর হাত থেকে অ*স্ত্র নিয়ে নেয় ভীর।সবকিছু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে শেষ হয়ে যায়।লোকটাকে শেষ করে ভীর ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায়।তার চোখ দুটো অস্বাভাবিক শান্ত।
সেই শান্তির ভেতরেই সবচেয়ে ভয়ংকর ঝড় লুকিয়ে আছে।
___পিছু হটতে শিখিনি আমি, ডিয়েগো।নিজে একা এই জায়গা তৈরি করেছি। আমার পুরো সাম্রাজ্য আমার একার তৈরি। শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাব।
ভীর কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকে তারপর বলে,
__আমাকে বাঁচাতে নিক নিজের প্রাণ দিয়েছে। যাদের জন্য ওর প্রাণ গেছে… তাদের আমি নিঃশ্বাস নিতে দেব না।
ডিয়েগো কিছু বলতে যায়,
কিন্তু ভীর হাত তুলে তাকে থামিয়ে দেয়ম
___তুমি শুধু আমার একটা কাজ করবে।ইশায়াকে নিরাপদে রাখবে।
ভীরের গলা ভেঙে আসে।ওর ওপর যেন কারও ছায়াও না পড়ে।ভীর আবারো শক্ত গলায় বলে,
ওর ওপর যেন কারোর ছায়া ও না পরে। আমি থাকি আর না থাকি ও আমার।মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমার নামেই বাঁচবে ও।ওর ওপর যেন একটা আচও না আসে।
আজ যদি আমার কিছু হয়ে যায়, ওদেরকে সেইফ প্লেসে পাঠিয়ে দিবে।আমার সন্তান বড় না হওয়া পর্যন্ত সবকিছু তুমি সামলাবে।তারপর ওকে সব বুঝিয়ে দেবে।
ভীর আবারো একই কথা আওড়ায়। আমার পুরো পরিবারের দায়িত্ব আমি তোমার হাতে তুলে দিচ্ছি। আমার অবর্তমানে ওদের যেন কোন ক্ষতি না হয়। আমার এই কথাটা মনে রাখবে।এই পৃথিবীর বুকে ও যতদিন থাকবে, আমার হয়ে বাঁচবে।আমার ওয়াইফ আমার বাচ্চা ওদের যেন কোন ক্ষতি হয় না।
___ডিয়েগোর ভেতরটা শূন্য হয়ে যায়।
কিন্তু একজন বিশ্বস্ত সৈনিকের মতো মাথা নত করে সে সম্মতি জানায়।
ভীর আবার ব*ন্দুক তুলে নেয়।ডিয়েগো চেয়েও তাকে থামাতে পারে না।কারণ সে জানে ভীরের সিদ্ধান্ত বদলানো অসম্ভব।আহত শরীর নিয়েও ভীর সামনে এগিয়ে যায়।ঠিক তখনই তার সামনে পড়ে মাতেওর ছেলে আদ্রি মোরেত্তি। ওকে দেখেই ভীরের শরীরের র*ক্ত ছলকে ওঠে।
ভীর একে একে তার চারপাশে থাকা লোকদের শেষ করতে থাকে।আদ্রির বুক কেঁপে ওঠে,একে একে সবাইকে মা*রা যেতে দেখে।
সে পালাতে চায়,কিন্তু তার আগেই ধরে ফেলে ভী*র তাকে।তার চোখে মুখে হিংস্রতা।
দূর থেকে দৃশ্যটা দেখে মাতেওর মুখের রঙ বদলে যায়।
___আদ্রি।
চিৎকার করে ছেলের দিকে দৌড় লাগায় সে।
তার লোকেরাও ছুটে আসে। ঠিক সেই মুহূর্তে মার্কো পিছন থেকে ভীরের পিঠে ছু*ড়ি ঢুকিয়ে দেয়।থেমে যায় ভীরের পা।ভীর দাঁত খিচে পিঠ চেপে ধরে পিছনে ঘুরে হাতে থাকা ছু*ড়ি তার গলায় ঢুকিয়ে দেয়।
ভীরের হাতের মুঠো শক্ত হয়ে আসে।তার শরীর র*ক্তে ভিজে যাচ্ছে।
লুকা ভীরকে উদ্দেশ্য করে গু*লি ছুড়তে নিলে।
রাফা লুকাকে লক্ষ্য করে গু*লি ছুড়তে শুরু করে,লুকা সরে যায় সামনে থেকে।দ্রুত আড়ালে যায়,সে ও পাল্টা গু*লি ছুড়ে রাফার দিকে।
___ভীরের শরীর অবশ হয়ে আসে,
কিন্তু সে থামে না।তার চোখ শুধু আদ্রির দিকে।ওকে দেখেই তার নিকের কথা মনে পড়ছে বার বার।
বিড় বিড় করে নিক আওয়ার ভীর।
তার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আদ্রি লুটিয়ে পড়ে নিচে।
মাতেওর বুক ফেটে যায়।তার চিৎকার পুরো জায়গা কাঁপিয়ে তুলে।
ডিয়েগো, এনরিকো, রাফা একসাথে পাল্টা গু*লি ছুড়তে থাকে।ভীরের চারপাশের পথ পরিষ্কার করার চেষ্টা করে তারা।ডিয়েগো ভীরের দিকে এগিয়ে আসতেই ভীর হাত তুলে থামিয়ে দেয়
ঠোঁট নড়ে তার।
___না..
তারপর কষ্ট করে বলে,
___তুই যা।আমার বউ, আমার সন্তান…ওদের যেন কিছু না হয়, ডিয়েগো।এটা আমার আদেশ।
নিককে হারিয়েছি আমি…ওদের যেন কিছু না হয়।
ইশায়ার উপর যেন কোন আচ না পরে।
ডিয়েগো তবুও তাকে ধরে।কিন্তু ভীর শুধু মাথা নাড়ে।
___এখান থেকে আমার চলে যাওয়া সম্ভব না।ওদের টার্গেট আমি। ওরা চারদিক ঘিরে ফেলেছে।আমি এই দিক সামলাচ্ছি।এই সুযোগে তুই বেরিয়ে যা।
এরপর ভীর ডিয়েগোকে বিস্তারিত সব বলে দেয়।ইশায়াকে কোথায় পাঠাতে হবে।কার কাছে,
সব।শেষে বলে,
___আমার পর আমার সন্তানই হবে সব।এই সাম্রাজ্যের বাদশা।ওকে তার উপযুক্ত করে তুলবে।
ভীর লম্বা শ্বাস নিয়ে বলে,
___যা।
ডিয়েগো মাথা নাড়ে।
___না, বস।
তখন ভীর গর্জে ওঠে।
___যাও, ডিয়েগো।
আমি না থাকলেও আমার সন্তান থাকবে।ওকে ওর বাবার মতো বানাবে।নিক আর আমার দুইজনের শক্তি যেন ওর মধ্যে থাকে।অপ্রতিরোধ্য করে তুলবে ওকে।আমার আদর্শ দিয়ে।আর কিছু করার থাকে না ডিয়েগোর। এনরিকো সামনে এসে দাঁড়ায়।
ভীরের আদেশ তাদের মানতেই হবে।ভীর নিজের শরীরের সাথেই যুদ্ধ করে উঠে দাঁড়ায়।এক হাত প্রায় অচল।অন্য হাতে ছুরি।
সে পথের বাধাগুলো সরাতে থাকে।
একজন, দুজন, তিনজন ওদের বের হওয়ার জন্য বের করে দেয় রাস্তা।
ভীর আসতে আসতে একেবারে শেষ কিনারায় চলে আসে। সামনে থেকে ঘিরে ফেলে সবাই তাকে।পাহাড়ের কিনারায় দাঁড়িয়ে ভীর একা লড়াই করে যাচ্ছে।সামনে শত্রু।পেছনে গভীর খাদ।ফিরে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই।তবুও তার চোখে ভয় নেই।এক ফোঁটাও না।শুধু আগুন।ঠিক তখনই আরেকটা বু*লেট লাগে তার বুকে।
ভীর টলে ওঠে।তারপর আরও তার শরীরের শক্তি দ্রুত ফুরিয়ে আসতে থাকে।
দূরে দাঁড়িয়ে রাফা, রোসাস, এনরিকো কারও চোখ শুকনো নেই।তারা চাইলেও আর পৌঁছাতে পারছে না।
ভীর এক পা এগোয়।হঠাৎ হাঁটু ভেঙে আসে।সে মাটিতে নতজানু হয়ে পড়ে।
অন্ধকার সাম্রাজ্যের সেই সম্রাট…যার সামনে একসময় মাথা নত করত সবাই…আজ ভাগ্যের সামনে দাঁড়িয়ে আছে একা।কিন্তু সেখানেও সে হার মানে না।ভীর আবার ও উঠে দাঁড়ায়।রক্তাক্ত,ক্লান্ত।তবুও অটল।
লুকা সামনে এসে দাঁড়ায়।দুজনের চোখে চোখ পড়ে।
বহু বছরের শত্রুতা।অসংখ্য মৃ*ত্যুর হিসাব।সবকিছু জমা হয় সেই মূহুর্তে।
ভীর খালি হাতে লুকার দিকে এগিয়ে যায়, তার শরীর থেকে অনবরত রক্ত ঝরছে, প্রতিটা নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, তবুও তার চোখে পরাজয়ের কোনো ছাপ নেই।
সে এক পা তারপর টলতে থাকা পায়ে আরেক পা এগিয়ে আসে।লুকা পর্যন্ত পৌঁছাতে আর মাত্র কয়েক কদম বাকি।
ঠিক তখনই ঠাসসসসস আরেকটা গু*লির শব্দ পাহাড়ি উপত্যকায় প্রতিধ্বনিত হয়।গুলিটা এসে ভীরের বুকে বিধে।এক মুহূর্তের জন্য তার পুরো শরীরটা কেঁপে ওঠে।
পা দুটো টাল খেয়ে যায়।
চারপাশের সব শব্দ ধীরে ধীরে দূরে সরে যেতে থাকে।
সবকিছু অস্পষ্ট হয়ে যায়।ভীরের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ইশায়ার মুখ,কান্নাভেজা সেই মায়াবী মুখশ্রী তার হাসি।নিজের অনাগত সন্তান,মনে পড়ে নিকোর চেহারা,
একটা ক্ষীণ হাসি ফুটে ওঠে তার ঠোঁটের কোণে।
সে কথা দিয়েছিল…শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়বে।আর সে সেই কথা রেখেছে।
ভীরের শরীরটা পিছনের দিকে হেলে পড়তে থাকে। শেষবারের মতো আকাশের দিকে তাকায়।রক্তে ভিজে যাওয়া ঠোঁট নড়ে ওঠে।
মৃদু স্বরে যেন ফিসফিস করে বলে,
___ ইশায়া…
তারপর… মাটির নিচ থেকে পাথর গড়িয়ে পড়ে।
ভীরের পায়ের নিচের জমিটা ভেঙে যায়,পরে যায় সে নিচে, তার শরীর শূন্যে ভেসে ওঠে।
রাফার বুকফাটা চিৎকার বেরিয়ে আসে।
সময় থমকে যায়।সবাই অসহায় চোখে দেখতে থাকে।
রাজভীর আলভারেযের রক্তাক্ত দেহটা পাহাড়ের কিনারা ছেড়ে নিচের অতল গভীরতার দিকে পড়ে যাচ্ছে।মুহূর্তের মধ্যেই অন্ধকার খাদ তাকে গিলে ফেলে।
নিচে শুধু পাথরে আছড়ে পড়ার ভয়ংকর প্রতিধ্বনি শোনা যায়।তারপর ভয়ঙ্কর শ্বাসরুদ্ধকর এক নিস্তব্ধতা।
যেন পাহাড়, আকাশ, বাতাস সবকিছু একসাথে থেমে গেছে।অন্ধকার সাম্রাজ্যের সবচেয়ে ভয়ংকর নামটা অতল গভীরতার মধ্যে হারিয়ে গেছে।
____লুকা আর মাতেও উচ্চস্বরে হেসে ওঠে তাদের হাসিতে বিজয়ের উন্মাদনা।চারপাশে উল্লাস শুরু হয়।
অবশেষে তারা শেষ করেছে রাজভীর আলভারেযকে।
মাফিয়ার সাম্রাজ্যের সবচেয়ে ভয়ংকর নামকে।এখন আন্ডারওয়ার্ল্ডে শুধু তাদের হুকুম চলবে। মাতেও আর লুকা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে।তাদের চোখে ভবিষ্যতের স্বপ্ন,ক্ষমতা,সিংহাসন,শাসন।এখন আর কেউ নেই তাদের থামানোর। এখন তারাই হবে আন্ডারওয়ার্ল্ডের নতুন সম্রাট।নতুন বাদশাহ।
____কিন্তু কিছুক্ষন পর মাতেও মুখের সেই হাসি মিলিয়ে যায়। সে চোখে না দেখে কোনো কিছু বিশ্বাস করবে না।বিশেষ করে যখন বিষয়টা রাজভীর এর।
যে মানুষটা অসংখ্যবার মৃ*ত্যুকে ফাঁকি দিয়ে ফিরে এসেছে।
মাতেওর চোখ সরু হয়ে আসে।তারপর ঠান্ডা গলায় বলে,
___আমি কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না।
লুকা তার দিকে তাকায়।
মাতেও পাহাড়ের নিচের অন্ধকার খাদটার দিকে তাকিয়ে বলে,
___রাজভীর আলভারেযকে মৃ*ত বলার আগে আমি তার লা*শ দেখতে চাই।
তারপর নিজের লোকদের দিকে ঘুরে দাঁড়ায়।
___নিচে নাম,
পুরো জায়গা চষে ফেল।আমি নিশ্চিত হতে চাই ও সত্যিই ম*রেছে।
মাতেও এর লোকেরা ভয় পেয়ে যায়,এই গহীন জঙ্গলের ভিতরে যাওয়া মানে নিশ্চিত মৃ*ত্যু। কিন্তু তাদের কিছু করার থাকে না, এক মুহূর্তও দেরি না করে মাতেওর লোকেরা নিচে নামতে শুরু করে।শত শত টর্চলাইটের আলো রাতের অন্ধকার চিরে ছড়িয়ে পড়ে।জঙ্গল, পাথুরে ঢাল, গিরিখাত কিছুই বাদ যায় না।
ভীরের চিহ্ন খুঁজে বের করার জন্য তারা পুরো এলাকা তছনছ করতে শুরু করে।মাতেও আর লুকার আদেশে তাদের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো কালাব্রিয়া জুড়ে।
এদিকে ভীরের পতনের পর মাতেও আর লুকার লোকেরা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে ডিয়েগো, এনরিকো, রাফা, রোসাস, লুইস আর অবশিষ্ট যোদ্ধাদের।তাদের একটাই উদ্দেশ্য রাজভীরের পুরো অস্তিত্ব মিটিয়ে ফেলা।
সংখ্যার হিসেবে তারা অনেক পিছিয়ে।
কিন্তু ভীরের বাহিনী কখনও সংখ্যার উপর নির্ভর করেনি।তারা নির্ভর করেছে আনুগত্যের উপর।শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতার উপর।রাফা কাঁধে গু*লির ক্ষত নিয়েও লড়াই করে।এনরিকোর মুখ রক্তে ভেজা, তবুও সে একে একে মাতেও লোকেদের প্রহার করে।রোসাসের হাতে ছুরি, চোখে আগুন।
একজন পড়ে যাচ্ছে, আরেকজন তার জায়গা নিচ্ছে।
তারা জানে তাদেরকে নিজেদের বাঁচাতে হবে, কারণ তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনো রয়ে গেছে।
ম্যাম আর বসের বেইবি।ওদেরকে রক্ষা করতে হবে তাদের।
একটা ভাঙা পাথরের আড়ালে আশ্রয় নিয়ে ডিয়েগো কাঁপতে থাকা হাতে ফোন বের করে।
কয়েক সেকেন্ড পর যোগাযোগ স্থাপিত হয় প্যালেসের নিরাপত্তা কক্ষে।
ওপাশ থেকে কণ্ঠ ভেসে আসে।
___স্যার?
ডিয়েগো কয়েক মুহূর্ত চোখ বন্ধ করে।বুকের ভেতরটা শূন্য হয়ে যাচ্ছে।কি করে বলবে সে এই নির্মম সত্য।
তবুও সে নিজের কণ্ঠ শক্ত করে।
___শুনো… সময় নেই।
সবার কাছে খবর পৌঁছে দাও।
নিজেকে সামলিয়ে ডিয়েগো দাঁত চেপে বলে,
___প্যালেস খালি করতে হবে।এই মুহূর্তে।সবাই গুয়াদালাহারা ছেড়ে সিনালোয়া যাও দ্রুত।
ম্যামকে নিরাপদে বের করে আনো।যে করেই হোক।
___ম্যামকে সুরক্ষিত ভাবে নিয়ে যাব।
এটা বসের শেষ আদেশ।
ওপাশ থেকে থমথমে কণ্ঠে উত্তর আসে,
শেষ মানে কি হয়েছে বসের।ডিয়েগো চোখ বন্ধ করে এক মুহূর্ত মাথা নিচু করে রাখে।তারপর ঘটে যাওয়া সব কিছু জানায়।
___ডিয়েগো আবার অ*স্ত্র তুলে নেয়।কারণ শোক করার সময় এখন নেই।এনরিকো তার পাশে এসে দাঁড়ায়।রাফাও এসে যোগ দেয়।সব একজোট হয়।চোখে একই যন্ত্রণা।কিন্তু একই সংকল্পও।ভীরের আদেশ তাদের কাছে আইন।সেই আদেশ তারা ভাঙবে না।বস নেই..এই সত্যিটা মেনে নেওয়া অসম্ভব।তবুও তার শেষ কথাগুলো এখনও কানে বাজছে।
___ইশায়াকে নিরাপদে রাখবে…আমার সন্তানের যেন কিছু না হয়।
চারপাশে আবার গু*লির শব্দ শুরু হয়।মাতেওর লোকেরা আরও কাছে চলে এসেছে।অন্ধকারের ভেতর থেকে তাদের চিৎকার শোনা যাচ্ছে।কিন্তু ভীরের লোকেরাও হার মানে না।একেকজন জানে তাদের লড়াই করতে হবে,বাচতে হবে,ভীরের কথা বসের দেওয়া দায়িত্ব তাদেরকে পালন করতে হবে। আর সেই সেটাই তাদের আবার অ*স্ত্র তুলতে বাধ্য করে।র*ক্তাক্ত, ক্লান্ত, আহত শরীর নিয়েও তারা আবার ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রুদের দিকে।কারণ যুদ্ধটা আর শুধু একটা সাম্রাজ্যের জন্য নয়।এটা এখন একটা উত্তরাধিকার বাঁচানোর যুদ্ধ, ভবিষ্যৎ বাঁচানোর যুদ্ধ।
_____ইশায়ার ঘুম ভাঙার পর থেকেই বুকের ভেতরটা অদ্ভুত এক অস্থিরতায় কাঁপছে। অজানা কোনো ভয় তার হৃদয়ের চারপাশে জাল বুনে বসে আছে। এক মুহূর্তের জন্যও শান্তি পাচ্ছে না সে।বারবার সেই দুঃস্বপ্নটার কথা মনে পড়ছে। স্বপ্নের দৃশ্যগুলো এখনো চোখের সামনে ভেসে বেড়াচ্ছে। যতই সেগুলো ভুলে থাকার চেষ্টা করছে, ততই সেগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ফিরে আসছে।
তার কপাল বেয়ে ঘাম গড়িয়ে পড়ছে। হাতের তালু ভিজে উঠেছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, বুকের ভেতরটা অকারণে ধুকপুক করে উঠছে।
কাঁপা হাতে নিজের পেটের ওপর হাত রাখে ইশায়া।
তার অনাগত সন্তান…এই পৃথিবীতে যার অস্তিত্ব এখনো কেউ দেখেনি, অথচ সেই ছোট্ট প্রাণটার জন্যই আজ তার সমস্ত ভয়, সমস্ত দুশ্চিন্তা।
মাতৃত্বের অনুভূতি মানুষকে কতটা দুর্বল করে তোলে, আজ সেটা নতুন করে অনুভব করছে সে।
তার ভেতরটা বারবার কু গাইছে। মনে হচ্ছে কিছু একটা ঘটতে চলেছে। ভয়ংকর কিছু।
অদ্ভুত ব্যাপার এটাই ভীর যখন তার কাছে থাকে তার ভয় লাগেনা এতো।ভীরের উপস্থিতি তার চারপাশে এক অদৃশ্য দেয়াল তুলে দেয়। যত ঝড়ই আসুক, যত বিপদই সামনে দাঁড়াক, ভীর পাশে থাকলে ইশায়ার মনে হয় পৃথিবীর কোনো শক্তিই তাকে ছুঁতে পারবে না।
এই মুহূর্তে খুব করে ইচ্ছে করছে লোকটা ফিরে আসুক।
একবার শুধু দরজাটা খুলে ভেতরে ঢুকুক।
তারপর সেই পরিচিত গম্ভীর কণ্ঠে বলুক,
__কী হয়েছে? কোন সমস্যা।
ব্যস, তাতেই হয়তো তার সব ভয় দূর হয়ে যেত।
কিন্তু সে নেই আজ।ইশায়ার গলা শুকিয়ে আসে। পাশে রাখা টেবিল থেকে এক গ্লাস পানি তুলে নেয় ইশায়া। ধীরে ধীরে কয়েক ঢোক পানি পান করে। কিন্তু তাতেও বুকের অস্থিরতা একটুও কমে না।
ঠিক তখনই,
রুমের দরজাটা হঠাৎ করেই সজোরে খুলে যায়।
হন্তদন্ত হয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে এলেনা।
তাকে এমন অবস্থায় দেখে বিস্ময়ে স্থির হয়ে যায় ইশায়া।কিন্তু পরমুহূর্তেই তার সমস্ত বিস্ময় ভয়ংকর এক আশঙ্কায় বদলে যায়।
মারিয়ার চোখ ভেজা, লাল হয়ে আছে।
যে নারী সবসময় পাথরের মতো শক্ত থাকে, যার মুখে ভয় বা দুর্বলতার কোনো ছাপ দেখেনি সে কখনো,রোবটের মতো মানুষ তার চোখে স্পষ্ট অশ্রু ঝিলমিল করছে। দৃশ্যটা দেখেই ইশায়ার বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে ওঠে।হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে।অজানা এক আশঙ্কায়।
___ম্যাম, আমাদের এক্ষুনি বের হতে হবে।
তাড়াহুড়ো করে বলে ওঠে রানিয়া।
বাইরে জেট প্রস্তুত আছে। আর এক মুহূর্তও দেরি করা যাবে না। প্লিজ, দ্রুত উঠুন।
তার কথা শুনে ইশায়ার বুকের ধুকপুকানি আরও বেড়ে যায়।
পেটে হাত রেখে ধীরে ধীরে বিছানা থেকে নেমে আসে সে। দুর্বল পায়ে দাঁড়িয়ে মারিয়ার দিকে তাকায়।
তার কণ্ঠ কেঁপে ওঠে।
___কেন…কী হয়েছে?
ওদিকে কায়রা দ্রুত আলমারি খুলে ইশায়ার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিতে যায়।কিন্তু মারিয়া তাকে থামিয়ে দেয়।
না, কায়রা। এখন এসবের জন্য সময় নেই। জিনিসপত্র পরে দেখা যাবে। আমাদের হাতে খুব কম সময় আছে। যত দ্রুত সম্ভব এখান থেকে বের হতে হবে।
কথাগুলো শুনে ইশায়ার অস্বস্তি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।ইশায়া কিছুই বুঝতে পারছে না।
সে ধীরে ধীরে মারিয়ার কাছে এগিয়ে আসে।চোখ দুটো আতঙ্কে ভরে উঠেছে।
___কেন যেতে হবে।কী হয়েছে?
কিন্তু কেউ কোন উত্তর দেয় না।
ইশায়া রেগে যায় সবার চুপ থাকায়।সে চিৎকার করে বলে,
___তোমরা আমাকে কিছু বলছ না কেন?
উত্তেজনায় তার শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত হয়ে উঠেছে।
রুমজুড়ে কয়েক সেকেন্ডের জন্য নীরবতা নেমে আসে।
তারপর মারিয়া নিচের দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলে,
___ম্যাম… শত্রুরা যে কোনো সময় প্যালেসে আক্রমণ করতে পারে।
আমাদের যত দ্রুত সম্ভব এই জায়গা ছেড়ে যেতে হবে। আমরা সিনালোয়াতে যাচ্ছি।
কথাটা শুনেই ইশায়ার চোখ বড় হয়ে যায়।
___আক্রমণ?
সে অসহায়ের মতো চারপাশে তাকায়।
কেন আক্রমণ হবে?
উনি কোথায়?আমরা কেন চলে যাব?
প্রতিটি প্রশ্নের সঙ্গে তার কণ্ঠ আরও কাঁপতে থাকে।
বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডটা ধুকপুক করছে।
সে অনুভব করছে, ভয়ংকর কিছু একটা ঘটেছে।
কিন্তু কেউ সেটা মুখে বলছে না।
মারিয়া এলেনা আর নিজেকে সামলাতে পারে না।
চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে গালে।
কাঁপা হাতে সে সেই জল মুছে ফেলে।
তারপর ভাঙা গলায় বলে
___বস আর নেই, ম্যাম।
তাই এখানে আপনার থাকা নিরাপদ নয়।
মারিয়া এলেনার এই কথাটা বজ্রপাত হয়ে আঘাত করে ইশায়ার ওপর।
___বস নেই, ম্যাম।
শব্দগুলো তার কানে বারবার প্রতিধ্বনিত হতে থাকে।
বস নেই…বস নেই…বস নেই ম্যাম…
ইশায়া কয়েক কদম পিছিয়ে যায়।তার পায়ের নিচের মাটি সরে যাচ্ছে।শরীরটা হঠাৎ ভারী হয়ে ওঠে।সে পড়ে যেতে নিলে দ্রুত এগিয়ে এসে রানিয়া তাকে ধরে ফেলে।
___ম্যাম!
চারপাশের সব শব্দ দূরে সরে যেতে থাকে।তার কানে অদ্ভুত শোঁ শোঁ আওয়াজ হচ্ছে।মাথা ঘুরছে।চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে।মনে হচ্ছে রুমের দেয়ালগুলো ঘুরছে।
না…না…
এটা সত্যি হতে পারে না।কোনোভাবেই না।
রানিয়াকে সরিয়ে দেয় ইশায়া নিজের কাছ থেকে।কাঁপতে থাকা হাতে পাশের টেবিল আঁকড়ে ধরে নিজেকে সামলায় সে।তারপর মুখ তুলে তাকায় মারিয়ার দিকে।চোখে অবিশ্বাস,ভয়,আর একরাশ অসহায়তা।সে নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছে না।শুকিয়ে যাওয়া ঠোঁট নড়ে ওঠে।
সে আমার বন্দিনী পর্ব ৯৮
___কি… বললে তুমি?
এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে তার চোখ থেকে।
সে মাথা নাড়িয়ে আবার বলে,
___চুপ করে আছো কেনো।কী বলছো,উনি কোথায়?
কি হয়েছে উনার,কথা বলছ না কেন।
বলো কোথায় উনি।
