হাওয়াই মিঠাই পর্ব ১০
তামান্না ইসলাম শিমলা
গন্ডগোল বিষয়টা ছোট থেকেই অপছন্দনীয় তনয়ার কাছে, তবুও প্রীতির জোরাজোরিতে সেখানেই আসতে হল।
এদিক ওদিক উঁকি দিয়ে ফাঁকা জায়গা পেয়ে দাঁড়াল, সামনে ঘটমান বিষয়টি থেকে সবাই রীতিমতো অবাক। কারন সবার সামনে একটি মেয়ে সাহিল স্যারকে কলার ধরে নানা রকম কথা বলছে, তনয়া পা থেকে মাথা পর্যন্ত মেয়েটিকে পর্যবেক্ষণ করল। পরনে টি শার্ট আর ব্যাগি জিন্স। এই মেয়ে এই গ্রামের নয়, শহরের মেয়ে হবে হয়ত। এই গ্রাম্য এলাকায় কোনো মেয়ে এমন পোশাক আশাক পরে না, পরার সুযোগটাও নেই।
“কি ভেবেছিস আমার কানে কিছুই যাবে না? স্যার হয়ে ছাত্রীকে বিয়ে করতে যাস?”
মেয়েটি সাহিলের কলার ধরে দাঁতে দাঁত চেপে কথা গুলো বলছে, আশেপাশে এত লোকজন তবুও তার হুঁশ নেই। সাহিল সবার দিকে করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে মেয়েটির দিকে তাকায়, মৃদু ও শান্ত কন্ঠে বলে,
“ইরা প্লিজ বাইরে গিয়ে কথা বলি চল, এখানে সিন ক্রিয়েট করো না!।”
“বাইরে? হ্যাঁ যাব তো, তঁর মা আমাকে মানবে না তাই না? দাঁড়া আজকেই আমি তঁকে বিয়ে করব, দেখি না মেনে যায় কোথায়।”
কে শুনে কার কথা? ইরা নামক মেয়েটি রীতিমতো চেঁচিয়ে যাচ্ছে, তা দেখে সবাই হতবাক। কারন সাহিল স্যার প্রচুর রাগী একজন স্যার, আর তার সাথে কিনা একটি মেয়ে এভাবে কথা বলছে? আর সাহিল স্যার এতটক শান্ত! বিষয়টা সত্যি আশ্চর্যজনক।
হটাৎ ইরার চোখ পরে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মেয়ের দিকে, গোল গোল চোখ করে তাদের দিকেই তাকিয়ে আছে। ইরার চিনতে বেশ অসুবিধা লাগল না, ফট করে মাথা আরো গরম হলো ইরার। সাহিলকে ছেড়ে ইরা দ্রুত সামনে গিয়ে দাঁড়াল মেয়েটির,
“নির্লজ্জ মেয়ে, লজ্জা করল না স্যারকে বিয়ে করার সপ্ন দেখতে?”
ইরার অচানক সামনে এসে এহেম কথা শুনে হকচকিয়ে গেল তনয়া, এসব কি বলছে সে?
সাহিল দ্রুত ইরার হাত ধরে কিছুটা পিছিয়ে আনে, এই মেয়েকে দিয়ে তার ভরসা নেই। না জেনে শুনে হাইপার হয়ে যাতা করছে, ইরা অগ্নিদৃষ্টি নিয়ে সাহিলের দিকে তাকায়। সাহিল পরে গেছে ফেসাদে, কঁন মেয়ের পাল্লাই যে পরেছিল, সাহিল অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে ইরাকে শান্ত হতে বলে। ইরা কিছু সময় সাহিলের দিকে তাকিয়ে থাকে, কিছু সময় অতিবাহিত হয়। অতৎপর অধরে ফুটে উঠে কিঞ্চিৎ ফিচেল হাসি, তনয়া ও সাহিলের হাত খপ করে ধরে ফেলে। দুজনেই আশ্চর্য হয়ে তাকায় ইরার দিকে, তনয়ার তো গলা শুকিয়ে আসছে।
ইরা সকলের মধ্য থেকে টানতে টানতে দুজনকে গেটের বাইরে নিয়ে আসে, তনয়ার পিছু পিছু প্রীতিও বাইরে আসে। প্রীতি কিছুতেই তনয়াকে একা ছাড়বে না!
গেটের বাইরে এসে একটি অটোতে উঠে বসল ইরা, সাথে তনয়া আর সাহিলকেও বসাল।
“কি করছেন? আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?”
তনয়ার কথায় ইরা কোনো জবাব দেয় না, তাই সাহিল বলে,
“ইরা ওকে কেন এখানে নিয়ে আসলে? কি করতে চাচ্ছ তুমি?”
ইরা সাহিলের দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,
“বিয়ে!”
“মানে?”
ইরা আর কিছু বলে না, প্রীতিকে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ইরা বলে,
“এই মেয়ে তুমিও উঠে পরো।”
প্রীতিকে বলতে দেরী, তৎক্ষনাৎ তনয়ার পাশে বসে পরল। তনয়া ভয় পাচ্ছে, এ কোন ঝামেলায় ফেসে গেল সে?
তনয়া কাঁদো কাঁদো কন্ঠে ইরাকে বলে,
“আপু কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? আমাকে যেতে দিন!”
ইরা তনয়ার কথার বিন্দু পরিমান পাত্তা না দিয়ে অটোওয়ালাকে গাড়ি স্টার্ট দিতে বলে।
“কোথায় যায়বেন আপা?”
ইরা গম্ভীর কন্ঠে জবাব দেয়,
“কাজী অফিস!”
ইরার কথা শুনে উপস্থিত সবাই হতভম্ব হয়ে যায়, এই মেয়ে কি পাগল? অতঃপর গাড়ি চলতে থাকে তাদের গন্তব্যে!
“ইরা পাগল হয়ে গিয়েছ তুমি? এভাবে বিয়ে হয় না।”
ইরা বিরক্তিকর কন্ঠে বলে,
“জামাই আছে, বউ আছে, সাথে দুজন সাক্ষীও আছে, আর কি চায় তোমার?”
সাহিল কপালে হাত দিয়ে বলে,
“ মা বাবাকে না জানিয়ে বিয়ে করা ঠিক হবে না।”
ইরা হাসে,
“না জানিয়ে বিয়ে করব তোমাকে কে বলেছে? তোমার মা বাবাকে ভিডিও কলে রেখে বিয়ে করব, কিন্তু বিয়ে তো আজকেই হবে পিও। তোমার নাটক দেখার সময় নেই!”
সাহিল হতবাক, এই মেয়ে যখন বলেছে আজ বিয়ে তার মানে বিয়েটা করেই ছাড়বে।
কিছু সময়ের মাঝে তারা পৌঁছে যায় কাজী অফিসে, সবাই ভেতরে যায়। এদিকে তনয়ার যায় যায় অবস্থা, বুকের ভেতর ধুকধুক করছে তার।
ইরা সাহিলে ফোন থেকে তার মাকে ভিডিও কল করে, কয়েকবার রিং হওয়ার পর রিসিভ করে সে। ইরা মুচকি হেসে সালাম দেয়,
“ আসসালামুয়ালাইকুম মামি ডার্লিং, আমি আপনার কিছু সময় পর হতে যাওয়া ছেলের বউ।”
নিজের ছেলের ফোন থেকে অন্য মেয়েকে দেখে প্রথমেি অবাক হয়েছিল সাহিলের মা, তারপর এমন কথা। তিনি হা করে তাকিয়ে আছে স্ক্রিনের দিকে, ইরা ফোন নিয়ে সাহিলকে দেখিয়ে বলে,
“হেই মামি ডার্লিং আমি আর আপনার একমাত্র ছেলে বিয়ে করতে এসেছি, এই দেখুন আপনার ছেলে, এইযে কাজী।”
“এই মেয়ে তুমি কি বলছ এসব? ওই সাহিল কীরে এসব কি?”
সাহিলকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ইরা বলে,
“আরে মামি ডার্লিং তোমাকে তো সাক্ষীই দেখায়নি, এই দেখ সাক্ষী।”
ইরা ক্যামেরাই তনয়াকে দেখায়, তনয়াকে চিনতে সময় লাগল না মহিলার, এই মেয়েকেই তো কিছুদিন আগে দেখতে গিয়েছিল তারা।
অতৎপর ক্যামেরা নিজের দিকে ঘুরিয়ে ইরা বলে,
“এবার আমাকে দেখুন, সুন্দর না? হতেই হবে সুন্দর, মিসেস সাহিল বলে কথা। লাইনেই থাকবেন মামি ডার্লিং, এখনই আমাদের বিয়ে হবে।”
বলেই ফোনটা টেবিলের উপর রাখল, এদিকে সাহিল মাথা নিচু করে বসে আছে। এই মেয়ে তার কথা না শুনেই এমন একটা কাজ করে বসছে, ওদিকে সাহিলে মা বার বার সাহিলকে ডেকে যাচ্ছে।
সব কিছু উপেক্ষা করে কাজী সাহেব বিয়ে পরানো শুরু করে, সাক্ষী হিসেবে তনয়া আর প্রীতি সাইন করে। অতঃপর সম্পন্ন হয় তাদের বিয়ে, তনয়া এখনো ভয়ে কাঁপছে, কি থেকে কি হয়ে গেল? চেনে না জানে না অথচ তার বিয়ের সাক্ষী হয়ে গেল সে!
বিয়ে পরানোর মাঝখানেই সাহিলের মা কল কেটে দিয়েছিল, সাহিল জানে আজ বাড়িতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। এক দিকে তার মা আরেক দিকে তার সদ্য বিয়ে করা বউ, সাহিলের ভাবতেই মাথা ঘুরছে। আগে যদি জানত এই ভোলাভালা মেয়ে এমন ডেঞ্জারাস তাহলে নিজে থেকে কখনোই পঠাতো না, নেহাতই ভালোবেসে ফেলেছ। কিন্তু এখন তো তার ভাবনা অন্য দিকে, তার মাও তো একই রকম। এক বনে কি দুই রাজা থাকতে পারে??
”নিচে চল।”
ইরার কথায় ভাবনা ভাঙে সাহিলের, সে তাকায় ইরার দিকে। ইরা চোখের ইশারায় নিচে যেতে বলে নিজও পা বাড়াল সে দিকে, অগত্যা সাহিলো চলে গেল। রয়ে গেল তনয়া আর প্রীতি, এতক্ষণে যেন তারা হাঁপ ছেড়ে বাঁচল। ইরা নামক মেয়েটা সত্যি ডেঞ্জারাস,
“এখন কই যাবি?”
প্রীতির কথায় তনয়া তার দিকে তাকায়, মৃদু দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
“কলেজ গিয়ে আর লাভ নেই, ঢুকতে দেবে না।”
“তাহলে? বাড়ি যাবি? কি বলবি?”
তনয়া কিছু একটা ভেবে তারপর বলে,
“ বলব শরীর খারাপ লাগছিল।”
প্রীতিও এতেই সায় জানাই, দুজনেই বের হয় অফিস থেকে। সিঁড়ির কাছে আসতেই তনয়া চোখ বড় বড় হয়ে যায়, কারনটা হলো নিচে পিছন ঘুরে দাঁড়িয়ে আছে তেহরাব আর তাদের পাশে ইরা আর সাহিল। বিষয়টা মাথায় ধরছে না তার, এই লোক এখানে কি করছে??
“তুমি মেম্বারের মেয়ে? তুমি না বলেছিলে তোমার বাবা ব্যবসায়ী?”
সাহিলের প্রশ্নে ইরা কিছু বলার আগেই তেহরাব বলে,
“কেন? বললে বিয়ে করতে না বুঝি?”
সাহিল হতভম্ব, মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে সব।
অবশ্য অবাক হয়েও লাভ নেই, দুই ভাই বোন একই কোয়ালিটির।
“তেমন কিছু না, ইরা তুমি ভুল ভাবছিলে। আমি কিন্তু ওই মেয়েকে বিয়ে করতে চাইনি, মা বাবা শুধু দেখতে নিয়ে গিয়েছিল তাও জোর করে। বিয়ের কথা তো এগোইনি, তোমার ভা…
সাহিলকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তেহরাব তাকে জড়িয়ে ধরে। কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে,
“এত কথা বলা ভালো না মাস্টার ?”
অতঃপর মাথা উচু করে মুচকি হেসে বলে,
“ সুখে সংসার করো মাস্টার, আমার বোনকে সামলে রেখ!”
ইরা বলে,
“ ও আমাকে সামলাবে? হুহ, ওকেই আমার সামলাতে হবে!”
“বিয়ের আগেই বলতি আমিই সব ব্যবস্থা করতাম, বিয়ে করে ফোন করে আর লাভ কি। যা এখন বাড়ি যা!”
সাহিল বেশ অবাক হল, সব সময় দেখে এসেছে বোনের প্রেমে সবচেয়ে বেশি বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় তার ভাইয়েরা। আর এদিকে তেহরাব কিনা বলছে সে ব্যবস্থা করে দিত!!
সাহিলের ভাবনায় পানি ঢেলে ইরা তার বাহু জড়িয়ে ধরে, তার দিকে তাকিয়ে বলে,
“চলুন আমার স্বামী, মামি ডার্লিংকে তো গিয়ে মানাতে হবে!”
সাহিল দীর্ঘশ্বাস ফেলল, বাসাই আজ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লাগবে।
“আচ্ছা যা তবে, মা বাবাকে আমি সামলে নেব, বিকেলে বাড়ি ফিরে আসিস।”
ইরা নিজের ভাইকে জড়িয়ে ধরে, অতঃপর চলে যায় নিজের শশুড় বাড়ির উদ্দেশ্যে।
এতটা সময় উপর থেকে সবটা ভালো মতোই শুনছিল তনয়া আর প্রীতি, সব কিছু তাদের মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছিল। তনয়া মনে মনে বিড়বিড় করে,
“ভাই বোন দুটোই পাগল, আইশ।”
“কিরে আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবি, চল যাই।”
তনয়া চোখ বন্ধ করে বড় করে শ্বাস নেই, অতঃপর নেমে আসে। কিন্তু সে চাইছে না তেহরাবের সামনে পরতে, গতরাতের পর থেকে এই লোকটার সামনে যেতে তার অস্বস্থি লাগছে।
আর তেহরাব? সেতো সেখানেই পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে আছে, ফোনে কথা বলছে কারো সাথে।
এই সুযোগে লুকিয়ে লুকিয়ে যেতে নেই তনয়া, তবে কথায় আছে না সেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়। ঠিক তেমনটাই হলো তনয়ার সাথে, ধরাম করে উষ্ঠা খেয়ে পরে গেল।
তনায়া মুখ থুবরে পরে গেলো মাটিতে, তা দেখে প্রীতি উচ্চশব্দে হেঁসে উঠলো। তনায়া রক্তচক্ষূ নিয়ে ওর দিকে তাকাতেই প্রীতি মুখ চেপে ধরে হাসতে লাগলো।
এদিকে কিছু পরার শব্দ পেয়ে তেহরাব পেছনে তাকায, আর পেছনে তাকাতেই মাটিতে বসে থাকা তনয়াকে দেখে মুখ হা হয়ে যায় তার। তনয়ার চোখে তেহরাবের চোখ পরতেই তনয়া চোখ সড়িয়ে নেই, কি জ্বালা যন্ত্রণা!
“তুই এখানে কি করছিস?”
তেহরাবের উচ্চশব্দে ধমকে চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে নিল তনয়া, এতক্ষণে প্রীতির হাসিও গায়েব। তেহরাবযে তনয়াকে ভালোবাসে করে সেটা সেও জানে, আর কতটা পসেসিভ তাও জানা।
“আসলে ভাইয়া আপনার বোনই আমাদের এখানে নিয়ে এসেছিল সাক্ষী বানানোর জন্য।”
তেহরাব ভ্রু কুঁচকাল, তাহলে ইরা এদের কথায় বলেছিল।
তেহরাব হাত বাড়িয়ে দেয় তনয়ার দিকে, গম্ভীর গলায় বলে,
“হাত ধরে উঠে দাঁড়া, দেখে শুনে হাঁটতে পারিস না?”
তনয়া হাত দেয় না, তাকাইও না তেহরাবের দিকে।
নিজেই উঠার চেষ্টা করতে গেলে কোমরে ব্যথা অনুভব করে, কোমরে হাত দিয়ে আর্তনাদ করতেই তেহরাব নিজে থেকে ওর কাছে এসে ওকে তুলে দাঁড় করায়। সবাই তনয়ার দিকে তাকিয়ে মিটমিট করে হাসছে, সেটা দেখে তেহরাব দুষ্টু হাসে,তনয়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে,
“এভাবে মাটিতে পরে কোমর না ভেঙে আমাকে ভালোবেসেও কোমর ভাঙতে পারিস। এতে অন্তত লোকজন হাসবে না।
তনায়ার কিছুসময় লাগলো ওর কথাটা বুঝতে, কথার মানে বুঝতে পেরেই তরাক করে দূরে সরে গেলো তেহরাবের কাছ থেকে। তারপর মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নাক ছিটকে বিড়বিড় করে বলে,
“অসভ্য লোক একটা, এতটা নির্লজ্জ কি করে হতে পারে একটা মানুষ?”
তেহরাব দুষ্টু হাসে, নিজের চুল গুলো পেছনের দিকে ঠেলে দিয়ে বলে,
“নির্লজ্জ না হলে আমার আর তোর শশুড় শাশুড়ী নানা নানি, দাদা দাদি হবে কি করে?”
তনয়া দাঁতে দাঁত চেপে তেহরাবের দিকে তাকায়, তেহরাব ঠোঁট কামরে হাসছে। মুহুর্তেই কিছু একটা ভেবে চোখ মুখ কুঁচকে বিড়বিড় করে উঠে তনয়া,
হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৯
“ অসভ্য লোক!”
বলেই প্রীতির হাত ধরে খুড়োতে খুড়োতে চলে যায় তনয়া, তেহরাবের কানে ভেসে আসে নুপুরের ক্ষীণ আওয়াজ। সে তাকায় তার এলোকেশীর পায়ের দিকে, হাসি ফুটে উঠে তার অধরে। মেয়েটা তার দেওয়া নুপুর পরেছে, এই সামান্য বিষয়টা যে এই পাগল, অসভ্য, নির্লজ্জ তেহরাবকে আনন্দ দিচ্ছে এক আকাশসম!!
