Home হাওয়াই মিঠাই হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৩৮

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৩৮

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৩৮
তামান্না ইসলাম শিমলা

“বই খাতা কি ঘরে সাজিয়ে রাখার জন্য কিনে দিয়েছি? মেডিকেলে চান্স না পেলে বাপের বাড়ি দিয়ে আসব।”
তেহরাবের রাগান্বিত কন্ঠস্বরকে উপেক্ষা করে তনয়া বিছানায় এসে শুয়ে পরল, কাঁথা মুড়ি দিতেই তেহরাব ধমকে উঠে।
“তনয়া কথা কানে যাচ্ছে না? আমার হাত দুটো কিন্তু পুরোপুরি ভালো, মার খাওয়ার আগে পড়তে বস।”
তনয়া তেহরাবের দিকে তাকিয়ে মুখ ভেঙায়,
“আপনিও ঘুমান তো, আমার ঘুম পাচ্ছে।”
” তুই এতটা ভাঁওতাবাজি কবে থেকে শুরু করলি তনয়া? আগে তো এমন ছিলি না, তোর তো পড়াশোনা ছাড়া আর কোনো ধ্যানজ্ঞানই ছিল না।”
তনয়া চোখ বন্ধ রেখেই বলে,

“তখন তো আর বিবাহিত ছিলাম না, তাই ভাঁওতাবাজি করতে পারিনি।”
তেহরাব আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে থাকে, এই মেয়ে একটুও ভয় পাচ্ছে না তাকে?
“তুই আমাকে ভয় পাশ না? এত পরিবর্তন? ”
তনয়া এবার চোখ খুলে, চোখ মুখ কুঁচকে বলে,
“আমি আপনাকে ভয় পেতে যাব কোন দুঃখে, আপনার উচিত আমাকে ভয় পাওয়া।”
তেহরাব কপাল কুঁচকায়,
” কি বললি তুই?”
তনয়া মুখ ভেঙিয়ে বলে,
“এখন থেকে আমার কথা মতো চলবেন বুঝলেন? ঘুমান এখন, আমার ঘুম পাচ্ছে।”
তেহরাব হতভম্ব, হঠাৎ কি হলো এই মেয়ের?
“তুই ঠিক আছিস? জ্বর টর আসেনি তো?”
তেহরাব তনয়ার কপালে হাত দেয়, না শরীর ঠিক আছে। তাহলে এই মেয়ের মতিভ্রম হলো কি করে?
“তনয়া শেষ বারের মতো বলছি, সিরিয়াসলি তোকে মেডিকেলে চান্স পেতেই হবে। নাটক কম করে উঠ এবং পড়তে বস, নাও ফাস্ট।”
তেহরাবের গম্ভীর কন্ঠ, এবার আর শুয়ে থাকতে পারল না তনয়া। তারই ভুল হয়েছে মেডিকেলে পড়ার কথা বলে, ঠোঁট উল্টে তেহরাবের দিকে তাকাতেই তেহরাব দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“তোর সপ্ন তুই পূরণ কর, আমি চাই না আমাদের বৈবাহিক সম্পর্কের নাম ধরে কেউ বলুক তোর সপ্ন নষ্ট হয়েছে।”
তনয়া মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে, এত পাওয়া তো তার সহ্য হচ্ছে না। একটু কম ভালোবাসলে কি ক্ষতি হয়? একটু কম গুরুত্ব দিলে কিইবা হয়? এই ভালোবাসা যদি কোনোদিন কমে যায় তখন তো বাঁচতে পারবে না, ভয় হয় তনয়ার।

সময়!
সময় কখনো থেমে থাকে না, দেখতে দেখতে আজ তেহরাব তনয়ার বৈবাহিক সম্পর্কের চার মাস।
আজ রেজাল্ট দিয়েছে এইচএসসি পরিক্ষার, তবে নেট ডাউন হয়ে আছে।
ড্রয়িং রুমে ল্যাপটপ নিয়ে বসে এ নিয়ে চারবার চেষ্টা করল তেহরাব, তার পেছনে দাঁড়িয়ে নখ কামড়াচ্ছে তনয়া। বুকের ভেতরটা ধুকধুক করছে, রেজাল্ট কেমন হবে? ভালো নাকি খারাপ?
সাথে বসে আছে ইরা ও তাসলিমা, সবাই খুব উৎসুক ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে ল্যাপটপের স্ক্রিনে।
“ধ্যাত ছাতা, নেটওয়ার্ক ডাউন৷”
তেহরাবের বিরক্তিকর কন্ঠ, তনয়ার তো কান্না পাচ্ছে। তার সাথেই কেন এমন হচ্ছে?
তেহরাব আবারো চেষ্টা করল, এবার লোডিং হচ্ছে। অবশেষে কাজ করেছে। এক পলক স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তেহরাব তাকাল তনয়ার দিকে, তনয়া ভরকে গেল। তেহরাব নিঃশ্বাস ফেলল,
“এ প্লাস পেয়েছিস।”
তনয়া কিরূপ প্রতিক্রিয়া করবে নিজেও বুঝতে পারছে না, কান্নাও পাচ্ছে খুশিও লাগছে।
ইরা উঠে গিয়ে তনয়াকে জড়িয়ে ধরল,

“ভাই তুমি তো ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট, আমি তো মতেমতে পাস করা ছাত্রী।!”
তনয়া মুচকি হাসে, তাসলিমা তনয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলে,
“যাক ছেলে আর ছেলের বউ দুটোই পড়াশোনায় ভালো, এবার পড়াশোনা আবার শুরু কর।”
তনয়া উপর নিচ মাথা নাড়ে, তাকায় তেহরাবের দিকে। তেহরাব চোখের ইশারায় তনয়াকে আস্বস্ত করে,
“আচ্ছা আমি তোদের বাবাকে মিষ্টি আনতে বলি গিয়ে, আর তনু তুই তোর মা বাবাকে কল করে রেজাল্টের খবর জানা।”
তেহরাব ল্যাপটপ বন্ধ করে উঠে দাঁড়াল, পা বাড়াল উপরের দিকে। যেতে যেতে বলল,
“তনয়া ঘরে আয়।”
ইরা তনয়াকে চোখ টিপে বলল,
“এই সুযোগে বাবার বাড়ি গিয়ে থেকে আসো যাও।”
তনয়া এবারও কিছু বলল না,স্মিত হেসে পা বাড়াল নিজেও।
ঘরে এসে তেহরাবকে হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে থাকতে দেখে তনয়া এগিয়ে গেল বিছানার কাছে, তেহরাব হাতে ইশারায় তনয়াকেও শুতে বলল।
তনয়া বসল তেহরাবের পাশে, তেহরাব তনয়ার কোলে মাথা রাখলো।

“না গেলে হয় না?”
তনয়া তেহরাবের চুলে হাত বুলিয়ে দেয়, তনয়া স্মিত হেসে জবাব দিল,
“এই দুমাসে আমাকে একটা দিনও থাকতে দেননি, আমারও তো মা বাবার সাথে সময় কাটাতে ইচ্ছে করে।”
তেহরাব চোখ তুলে তাকাল,
“তুই ও বাড়ি থাকলে আমি একা কি করে থাকবো?”
তনয়া ভ্রু কুঁচকাল,
“ এই এক কথা বলে বলে এই দুটো মাস থাকতে দেননি। দিন গিয়ে দিন আসা, আমার বুঝি থাকতে ইচ্ছে করে না?”
তেহরাব ঠোঁট উল্টায়,
“আমারো যে তোকে ছাড়তে ইচ্ছে করে না, ইচ্ছে করে বুকে জড়িয়ে রাখি। মিশিয়ে রাখি নিজের মাঝে, শূন্য শূন্য লাগে।”
তনয়া মৃদু হেসে তেহরাবের কপাল থেকে চুল সড়িয়ে আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়ায়,
“তিনটে দিনেরই তো ব্যপার, নিয়ে চলুন না।”
“গেলেই খুশি?”
তনয়া উপর নিচ মাথা নাড়ে, তেহরাব চোখ বন্ধ করে জড়িয়ে ধরে,
“কাল যাবো, এখন আমাকে একটা কবিতা শোনা।”
তনয়া ভ্রু কুঁচকায়, সে কবিতা শোনাবে?
“আমি পারি না, ছাড়ুন এখন। আম্মু আব্বুকে কল করে জানাতে হবে।”
তেহরাব দীর্ঘশ্বাস ফেলল,
“এমন কেন করিস? কাল তো চলেই যাবি এখন একটু কাছে থাক।”
অসহায় মুখ করে কথাটা বলে তেহরাব, তনয়া হাসবে নাকি কাঁদবে? যেন সারাজীবনের জন্য চলে যাচ্ছে, এমন ভাবে বলছে।

“আমি কি একদম চলে যাচ্ছি? আপনি এমন ভাবে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করা বন্ধ করবেন কবে?”
তেহরাব তনয়ার হাত টেনে নুজের কাছে আনে, হিসহিসিয়ে বলে,
“সেদিন যেদিন পৃথিবী থেকে মুছে যাবে তেহরাবের নাম।”
“ইশ চুপ থাকুনতো, আমি যাচ্ছি।”
তনয়া চলে যায়, বাবাকে কল করে রেজাল্টের কথা বলে। শফিক মহা খুশি, হবেই বা না কেন? তার মেয়ে তার মুখ উজ্জ্বল করেছে।

“তো এখন কি করবো? “
“আমি জানি না, এত কিছুর পরেও মিজু শাস্তি পাবে না? আর মাহিম?”
ইউসুফ দীর্ঘশ্বাস ফেলল, কাগজপত্র সব ঠিকঠাক করতে করতে বলল,
“জানি না, টাকার কাছে সব বিক্রি হয়ে যাচ্ছে, মামলা কোর্ট অব্দি পৌঁছানোর আগেই সব ক্লোসড!”
তেহরাবের রাগ হলো, টাটা? মাত্র কাগজের টুকরো, এগুলো মানুষের জীবনের থেকেও বেশি দামি?
“ আমি কিচ্ছু জানি না, মিজু সহ ওর গোটা দলবলকে জেলের ভাত খাওয়াতেই হবে। এত পাপা করেও পার পাবে? ইহ জনমে না হোক পরজনমে ঠিকি সব কিছুর শাস্তি পাবে, আর তনয়ার সাথে যা হয়েছে এর শাস্তি তো আমি দিয়েছিই।”
ইউসুফ তেহরাবের দিকে তাকায়, গম্ভীর অথচ শান্ত কন্ঠে বলে,
“এখন এসব নিয়ে কথা বলে লাভ নেই, দু মাসেও কিচ্ছুটি করতে পারলাম না। ফাহিমের বাবাও হাল ছেড়ে দিয়েছেন, তার উপর উপরমহল থেকে নিষেধাজ্ঞা।”
তেহরাব চোখ বন্ধ করে সোফায় হেলান দেয়, এসব মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। এভাবে একটা রাষ্ট্র কীভাবে চলতে পারে? আসামী মরা বুক ফুলিয়ে চলবে, আর সাধারণ মানুষ ঘাপটি মেরে?

কিচেন রুমে বসে পিঠা বানাচ্ছে তনয়া, তাসলিম ও ইরা। মাংসপিঠা ও পাটিসাপটা, কালকে ইরা ও তনয়ার বাড়িতে পাঠানো হবে এসব।
“ বানানো শেষ।”
তনয়ার কথা শুনে তাসলিমা চোখ তুলে তনয়ার দিকে তাকায়, তাসলিমা পিঠা ভাজছে। ইরাও উঠে দাঁড়াল,
“আমি ঘরে গেলাম, সাহিলকে কল করতে হবে।”
ইরা আর দাঁড়াল না, চলে গেল। তাসলিমা তনয়াকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“প্লেটে করে পিঠা নিয়ে তোর আব্বা ও তেহরাবকে দিয়ে আয়, কি যে ধ্যানে বসেছে।”
তনয়া মৃদু হেসে মাথা নেড়ে প্লেটে করে পিঠা নিয়ে উপরের দিকে পা বাড়ায়।

আধার নেমেছে ধরনীতে, হালকা মৃদু বাতাস। চারদিকে জোছনা, বারান্দায় বসে আছে তনয়া, তার পাশে তেহরাব।
“কি নিয়ে এত চিন্তিত? “
তেহরাবের প্রশ্নে তনয়া তার দিকে তাকায়,, মাথা নেড়ে বলে,
“কিছু না।”
তেহরাব কপাল কুঁচকাল, লুকোচুরি তার পছন্দ না। গম্ভীর ভাবে বলল,
“আমি আগেই বলেছি আমাকে কিছু লুকোবি না, কি হয়েছে বল!”
তনয়া তেহরাবের চোখের দিকে তাকাল, চোখ টলমল করছে তনয়ার। তেহরাব চমকাল, কি হলো হঠাৎ? কাঁদছে কেন মেয়েটা? তনয়াকে একহাতে জড়িয়ে গালে হাত রাখল,
“কি হয়েছে জান? কাঁদছিস কেন?”
তনয়া এক দৃষ্টিতে তেহরাবের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে,
“ আমি কিছু জানতে চাই, বলবেন?”
তেহরাব একটু আশ্চর্য হয়, তনয়া হঠাৎ এভাবে কথা বলছে।
“হুম বলব, কি হয়েছে বল?”
তনয়া নিজেকে স্বাভাবিক করে বলল,

“মিজু কেন আপনাকে মারতে চেয়েছিল? মিথ্যা বলবেন না, আমি সত্যিটা জানতে চাই। আর মা…
তনয়া চোখ বন্ধ করে নেয়, কথা আঁটকে আসছে গলায়। বড় করে শ্বাস নিয়ে আবার বলল,
“ম… মাহিম ভাইকে আপনি আঁটকে কেন রেখছিলেন? আমি আজ শুনেছি আপনি বাবার সাথে এসব নিয়ে কথা বলছিলেন, কি হয়েছে বলুন না।”
তেহরাবকে গম্ভীর দেখাল, তেহরাব তনয়াকে ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। , কিছুটা রাগ নিয়েই বলল,
“তুই লুকিয়ে লুকিয়ে এসব শুনেছিস কেন?”
তনয়া নিজেও উঠে দাঁড়াল, তেহরাবের হাত ধরে নিজের দিকে ঘোরালো,
“আমি সত্যিটা জানতে চাই, বলুন কি এমন হয়েছিল? আপনি নিশ্চয় এটাও জানেন আমা ধর্ষক আর কেউ নয় বরং ওই মাহিম!”

তনয়ার উচ্চ শব্দ তেহরাব আরো রেগে যায়, তনয়ার হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয়,
“জাস্ট স্টপ, আমি এসব শুনতে চাইছি না, আর না এসব নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি। ঘরে চল, ঘুম পাচ্ছে।”
তেহরাব যেতে নেয়,তবে তার আগেই তনয়া তেহরাবের হাত দরে ফেলে।
“আপনি যদি আমাকে না বলেন তবে আমি আর কোনো দিনও আপনার কাছে আসব না, আমি জানি এসবের পেছনে কোনো না কোনো ভাবে আমি জড়িত। কেন লুকাচ্ছেন? বলুন না।”
তেহরাব অগ্নিদৃষ্টি মতে তনয়ার দিকে তাকায়, তনয়ার হাত টেনে নিজের সামনে দাঁড় করায়। তনয়ার গাল চেপে ধরে বাঁকা হেসে হিসহিসিয়ে বলে,
“ওয়াউ, তুই আমাকে ভয় দেখাচ্ছিস? তুই আসবি না আমার কাছে? তুই আসবি না মানে? তুই কখনো যেতেই পারবি না, এই তেহরাব তোকে যেতেই দেবে না।”
তনয়া তেহরাবকে ধাক্কা দেয়,

“ কেন বলছেন না সত্যিটা? বলুন কেন মিজু আপনাকে মারতে চেয়েছিল? এর কারন কি আমি? বলুন।”
তেহরাবের মেজাজ খারাপ হচ্ছে, এখন কথা বাড়লে সে নিজের রাগটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না, তাই তেহরাব চলে গেল ঘরে। তনয়াও পিছু পিছু আসল,
“আপনি যদি না বলেন তাহলে আমি সত্যি চলে যাব, কোথায় যাব জানি না। আমি অনেক দূরে চলে যাব, আমি চাই না আমার জন্য আপনি বিপদে পরেন।”
তেহরাব তনয়ার গাল চেপে ধরে, রাগে গজগজ করতে করতে বলে,
“মেরে কেটে রেখে দেব, আমাকে ছেড়ে যাওয়ার ভয় দেখাস? একদম টুকরো টুকরো করে ফেলব।”
তনয়া ব্যথা পাচ্ছে, তবে এই মূহুর্তে তা প্রদর্শন করতে চাইছে না।
“ কেন এমন করছেন? আমি জানতে চাই সবটা, প্লিজ বলুন না।”
তেহরাব কিছু না বলে তনয়াকে ছেড়ে বিছানায় বসলো, পানির গ্লাসটা হাতে নিয়ে ঢকঢক করে শেষ করল। মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে তাকে, তনয়া তেহরাবের মুখোমুখি এসে দাঁড়াল।
“কেন কিছু বলছেন না? এখন তো আপনিই লুকাচ্ছেন আমার কাছে।”
তেহরাব তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল তনয়ার চোখের দিকে, তনয়া বুকের ভেতর অস্থিরতা কাজ করছে।

“সব কিছু জেনে তোর কাজ নেই, এখন খেয়ে দেয়ে ঘুমা। কাল বাড়ি নিয়ে যাব, আর একটা কথা জিজ্ঞেস করবি না।”
তেহরাবের শীতল গম্ভীর কন্ঠ, তনয়ার এবার নিজেরও রাগ হচ্ছে। বিষয়টা তাকে নিয়ে, অথচ তাকেই লুকোনো হচ্ছে?
“আপনি বলবেন না?”
তেহরাব শুধু এক পলক তাকালো তনয়ার দিকে, তনয়ার ঠোঁট কাঁপছে। হয়তো এখুনি কেঁদে ফেলবে,
“সত্যি চলে যাব বলে দিচ্ছি।”
তেহরাবের একই দৃষ্টি এখনো, তনয়া এবার সত্যি কেঁদে ফেললম চোখ বেয়ে গড়িয়ে পরল পানি দ্বিতীয় দফায়।
“কেন এমন করছেন? আমি এসব আর নিতে পারছি না, সবটা বলে দিলেই তো হয়। নিজেকে দোষী মনে হয়।”
এবারও কোনো প্রতিক্রিয়া করলো না তেহরাব, হাত মুষ্টিবদ্ধ করে বসে রইলো।
“আমি এবার সত্যি চ…

বাকিটা বলার আগেই তেহরাব গম্ভীর কন্ঠে দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠল,
“চলে যাবি তাইতো? যা যেখানে খুশি যা,যাহ বের হ।”
তনয়া কেঁপে উঠে তেহরাবের ধমকে, চোখ ছোটছোট করে তাকিয়ে থাকে।
“কি হলো দাঁড়িয়ে আছিস কেন? আমি বলবো না কিছুই, খুশি? এবার যা, আমিও দেখি তুই কত দূর যেতে পারিস।”
তনয়া ঠোঁট উল্টে আবারো শব্দ করে কেঁদে উঠে, একপা একপা করে পেছাতে পেছাতে বলে,
“হ্যাঁ চলেই যাব, থাকব না আমি। অনেক দূরে চলে যাব, খুঁজেই পাবেন না, বলতে হবে না আপনাকে। কিচ্ছুটি বলতে হবে না।”

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৩৭

তনয়া এবার সত্যি কাঁদতে কাঁদতে রুমের বাইরে চলে গেল, তেহরাব দাঁতে দাঁত চেপে তাকিয়ে রইল যাওয়ার পথে। ধপ করে শুয়ো পরল বিছানায়, চোখ জোড়া বন্ধ করে বিড়বিড় করল,
“কিছু জিনিস অজানায় সুন্দর, কেন জানতে চাইছিস? সত্যিটা জানলে তুই ভাববি আমি করুনা করছি, কিন্তু আসলে তা কিছুই নয়। আমি তোকে ভালোবাসি তনয়া!”

হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৩৯