হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৩
তামান্না ইসলাম শিমলা
আছরের আজান দিয়েছে মাত্র। ভারী মেজাজ নিয়ে বাইক থেকে নেমে বাড়িতে ঢুকল তেহরাব। ড্রয়িংরুমে ইউসুফ আর কিছু রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে বৈঠক বসেছে, তেহরাব পাশ কাটিয়ে উপরে চলে যায়। সেই দিকে আঁড় চোখে একবার তাকিয়ে ইউসুফ বিরক্তিকর শ্বাস ছেড়ে নিজের আলোচনায় মনোযোগ দেয়।
নিজের ঘরে এসে শব্দ করে দরজা লাগিয়ে দিল তেহরাব, মাথা কাজ করছে না তার। ঘাড়ের রগ গুলো ফুলে উঠেছে, মেয়েটা কেন তাকে বুঝার চেষ্টা করছে না! ফুল স্পিডে ফ্যান দিয়ে উপরের দিকে মুখ করে হাত পা ছড়িয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল সে। আপাতত ভেতরে জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি শান্ত করতে হবে।
চোখ বন্ধ করে শুয়ে রইল বেশ কয়েক মিনিট। দরজায় খটখট আওয়াজ পেয়ে চোখ খুলল তেহরাব। মাথাটা যন্ত্রণা করছে তার, আঙুল দিয়ে কপাল চেপে ধরে দরজার কাছে এগিয়ে গেল। দরজা খুলতেই বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা তাসলিমা বিরক্তিকর কন্ঠে বলে উঠল,
“ আজ কী কুকাম করে আসছিস? যা তোর বাবা ডাকছে!”
তেহরাব দাঁড়িয়ে রইল। আপাতত সে নিজেই ভাবছে আজ সে কী করেছে। নাহ আজতো কোনো অকাম কুকাম করেনি।
“ কিরে।”
তেহরাবের চেহারায় ফুটে উঠল একরাশ বিরক্তি। কন্ঠেও প্রকাশ পেল কিছুটা,
“তোমার স্বামীকে তুমি জিজ্ঞেস করো গিয়ে কী করেছি। আমার মাথা ধরেছে, মেজাজ এমনিতেই গরম।”
তাসলিমা গটগট করে চলে যেতে যেতে বলল,
“ তোর বাপ তোকে ডাকছে, আমাকে না!”
তেহরাবের মেজাজ আরো খারাপ হলো। সেও গটগট করে নিচে আসলো। ইউসুফ এখনো সোফায় বসে আছে। বাকি লোকজন বোধহয় বিদায় নিয়েছে!
“ ডাকছিলে কেন?”
প্রশ্ন করতে করতে মুখোমুখি গা ছেড়ে বসল তেহরাব। ইউসুফ চেহারার কঠিনতা বজায় রেখে গম্ভীর গলায় বলে,
“ রফিককে নাকি তুমি শাসিয়েছো? কেন?”
“শা*লাকে শাসিয়েছি এটা বলতে পারল, কেন শাসিয়েছি তা বলতে পারল না!”
তেহরাবের গা ছাড়া ভাব ও কথায় ইউসুফ বিরক্ত হলো। সাথে কিঞ্চিৎ রাগ নিয়ে বলল,,
“ এসব কী ধরনের ভাষা তেহরাব? নিজের বাবার সামনে বসে এসব কেমন আচরণ।”
তেহরাব সোজা হয়ে বসল। এবার তার মুখশ্রীও গম্ভীর ও কঠিন হলো,
“ আনোয়ার দাদার পেনসনের টাকার ভাগে নিশ্চয় তার দুটো ছেলের সমান অধিকার আছে?”
ইউসুফ মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল,
“ হ্যাঁ!”
তেহরাবের ইচ্ছে করল দু চারটা গালি ছুঁড়তে রফিকের উদ্দেশ্য। তবে এই মুহূর্তে বাবার সামনে এসব বলা যাবে না।
“ মাস্টার কাকাকে রফিক এক টাকাও দেয়নি। এর আগেও জমি জমার দিক দিয়ে ঠকিয়ে দিয়েছে। তাই রফিককে শাসিয়েছি, এক সপ্তাহের মধ্যে টাকা না দিলে ব্যাটার হাত পা ভেঙে নদীর পাড়ে ফেলে আসব।”
ইউসুফ ছেলের এহেন কথায় মাথা নেড়ে আড়ালে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে। শান্ত গলায় বলে,
“ তুমি ঠান্ডা মাথায় সব সমাধান করতে পারোনা? সামনের বছর তুমি আমার অবস্থানে থেকে রাজনীতিতে নামবে, নিজের ব্যক্তিত্বকে এভাবে নামতে দিলে তোমার মনে হয় তুমি জিততে পারবে?”
তেহরাব আচমকা হেসে উঠে। ইউসুফ ভ্রু কুঁচকায়!
তেহরাব হাসতে হাসতে বলে,
“ তোমার মনে হয় আমি রাজনীতিতে নামব? কখনই না, এত চাপ কে নেয় ভাই?”
ইউসুফ হতভম্ব। ছেলে কিনা বাবাকে ভাই বলছে!
“ তেহরাব আমি তোমার বাবা হয়, কীসের ভাই বলছো? মাথা ঠিক আছে তো তোমার? “
মাথা? আসলেই তার মাথা ঠিক নেই, মন মস্তিষ্ক জুড়ে শুধু তনয়া ঘুরছে, আর ওর বলা কথাগুলো!
তেহরাব উঠে দাঁড়াল, ইউসুফের দিকে তাকিয়ে বলল,
“ আগামীকাল মাস্টার্সের রেজাল্ট দেবে। তারপর তোমার চালের মিল ও হাই স্কুলের সব দায়িত্ব আমার। তবু ভুলেও রাজনীতিতে যেতে বলবে না।”
“ যাকে এতদিন বলে কয়ে একদিন মিলে পাঠাতে পারলনা সে কিনা নিজেই দায়িত্ব নিতে চাচ্ছে। এতো ভুতের মুখে রাম নাম!”
তাসলিমা চা এনে ইউসুফকে দিতে দিতে কিছুটা ঠেস মেরেই কথাটা বলল। তেহরাব শয়তানি হাসি দিয়ে উত্তর দিল,
“ কাজ না করলে তোমার কোন বিয়াই তার মেয়ে দিবে আমাকে?”
ইউসুফ সবেই চা টা মুখে দিয়েছিল। তেহরাবের কথা শুনে ভিষম খেল সে। তাসলিমা ইউসুফের পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে,
“ আরে আস্তে ধীরে খাও!”
তেহরাব টি টেবিলের উপর থেকে পেপার ওয়েটটা হাতে নিয়ে গোল গোল ঘোরাতে লাগল।
“ বয়স হয়েছে আমার, তারাতাড়ি বিয়ে দাও। দেরি করলে তোমাদের লস, নাতি নাতনির মুখ দেখতে দেরি হবে। আমার কী?”
তেহরাব শিষ বাজাতে বাজাতে উপরে চলে গেল। তাসলিমা তেহরাবের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করল,
“ যেমন বাপ তেমন বেটা, বিয়ে করার কত তারা!সব গুলোই নির্লজ্জ! “
“ কিছু বললে?”
ইউসুফের দিকে তাকিয়ে তাসলিমা মুখ ভেঙিয়ে যেতে যেতে বলে,
“ বললাম চা গিলে এবার গোসলে যাও। পিশাচ কোথাকার দুদিন ধরে গোসল করে না। তোমার শরীরের গন্ধ পাবলিকের নাকে গেলে তারা আর তোমাকে ভোট দেবে না!”
তানিয়া আর সালমা মিলে রান্নাঘরের রান্নাঘরে পিঠে বানাচ্ছে, শফিক বাজারে গিয়েছে আড্ডা দিতে।
সালমার ডাকে ঘর থেকে রান্নাঘরে ছুটে আসে তনয়া,সালমা মুচকি হেসে তনয়াকে বসতে বলে। এমনিতেই মন ভালো নেই, এখানে বসে থাকলে আরো তাদের বড়দের কথা শুনে বোর হতে হবে!
অগত্যা ফুপির কথা রাখতে রান্নাঘরের টুলে বসল তনয়া, পাটিসাপটা পিঠা বানানো হচ্ছে।
“ তানিয়া একটা প্লেট দেতো। ”
তানিয়া কাজের ফাকে মুচকি হেসে প্লেট সালমার দিকে এগিয়ে দিল। সালমা প্লেটে কয়েক পিস পিঠা দিয়ে তনয়ার হাতে দিল, তনয়া কপাল মৃদু ভাজ করে তাকাল,
“ তানহার গোসল হলে দুজনে মিলে খাবি, দিন দিন শুকিয়ে শুটকি মাছের মতো হয়ে যাচ্ছিস দুজনেই।!”
সালমার কথা শুনে তনয়া হাসল, অতঃপর প্লেট নিয়ে চলে গেল নিজের ঘরে। তানিয়া মুখ ছোট করে সালমার দিকে তাকায়,
“ বলুন তো আপা কী করি? মেয়ে তো আমার কোনো দিক দিয়ে কম না মাশাল্লাহ! কিন্তু কোনো সম্মন্ধই রাজি হয় না, সবাই নিজ ইচ্ছাতেই তো দেখতে আসে তারপর না করে দেয়।”
সালমা পায়েসের পাতিলে নাড়া দিতে দিতে বলে,
“ বিয়ে দেওয়ার তাড়া লেগেছে কেন এত তোদের? সামনে এইসএসসি পরিক্ষা মেয়েটার, আমার মেয়েটাকে বেশি মনে হলে দিয়ে দে আমাকে!”
তানিয়া কড়াই থেকে পিঠা নামিয়ে মৃদু হেসে বলে,
“ ওইরকম কিছু না আপা, আমরাও চাই মেয়েটা লেখাপড়া করুক। কিন্তু গ্রামের লোকজনদের তো চিনেনই কেমন, এদের যন্ত্রণায় কি আর কিছু করা যায়!”
সালমা তানিয়ার কাঁধে হাত রাখে, মৃদু নিঃশ্বাস ছেড়ে বলে,
“ পরিক্ষা শেষ হোক তারপর এসব নিয়ে ভাবা যাবে, বিয়ে নিয়ে কথা তুলিস না এতে পড়াশোনাটা খারাপ হবে। তনয়ার জন্য যা করার আমি করব!”
তানিয়া শস্তির নিঃশ্বাস ফেলে,ননাস ভাবির সম্পর্ক নাকি দা আর বটি! কই তাদের মধ্যে তো এমন সম্পর্ক না, উল্টো সালমাকে বড় বোনের মতো দেখে এসেছে তানিয়া আর সালমাও তাকে ছোট বোনের মতো। তানিয়া যেকোনো কাজ করার আগে নিজের বোনদের না বলে সালমাকে বলে, ভালো মন্দ সব!
রফিকের সাথে তেমন ভালো সম্পর্ক নেই সালমার, মূলত বাড়ির বড় মেয়ে সে, ভালোবাসা যেমন, রাগ জিদটাও তেমন! রফিকের বউয়ের সাথে কিছু একটা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছিল আর ব্যাস সেদিনের পর থেকে ভুলেও ও বাড়ি মুখো হয় না। রফিক সফিক দুজনেই বোন ভক্ত, রফিক কত জোর করেছে ক্ষমা চেয়েছে তবে সালমার ভ্রুক্ষেপ হয়নি। তার জেদে সে অটল!
পড়ার টেবিলের উপর পিঠার প্লেট রেখে বই নিয়ে বসে আছে তনয়া, তানহা গোসল শেষে মাথায় গামছা পেঁচিয়ে ঘরে আসল। তনয়া বইয়ের দিকে তাকিয়েই তানহাকে উদ্দেশ্য করে বলে,
“ প্লেট নে, পিঠা খা!”
তানহা হাসি হাসি মুখ করে টেবিলের কাছে আসে, একটা পিঠা হাতে নিয়ে মুখে দিয়ে বলে,
“ এই শিহাব্বারে আমার দেখলেই রাগ হয়, আর আম্মু এমন খুশি হয় যেন মেয়ের জামাই!”
তনয়া বই থেকে মাথা উঠিয়ে তানহার দিকে তাকাল, ঠান্ডা গলায় জিজ্ঞেস করল,
“ শিহাব ভাই তোকে কী করেছে যে তাকে দেখলে তোর রাগ হয়?”
তানহা আপনা-আপনি মুখ ভেঙিয়ে বিরক্তিকর কন্ঠে বলে,
“এত ভদ্র শান্ত শিষ্ট ছেলে আমার পছন্দ না, পুরাই খ্যাত লাগে!”
তনয়া কপাল কুঁচকে তানহার মাথায় চাটি মারে,
“ কথা বাদ দিয়ে পরতে বস নিব্বি। তোর তো পছন্দ হবে গুন্ডা মাস্তান ছাপড়ি ছেলেদের।”
তানহা শয়তানি মার্কা হাসি দিয়ে ভাব নিয়ে বলে,
“ ভুল বললি বেহেনা, ছাপড়ু টাপরু কিছু না। আই ওয়ান্ট হ্যান্ডসাম রেড ফ্লাগ ম্যান লাইক তেহরাব ভাই!”
তনয়া ফট করে তানহার দিকে তাকিয়ে উঠে দাঁড়াল, ভ্রু জোড়া কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
“ কী বললি.?”
তানহা সাথে সাথে পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে জ্বিভে কামর দেয়, ভুলে বেড়িয়ে গেছে মুখ থেকে! তানহা আরেকটা পিঠা নিয়ে বোকা বোকা হেসে বলে,
“ কিছু না কিছু না, তুই পড়, তোর না পরীক্ষা। আমি মারিয়ার সাথে দেখা করে আসি, কিছু নোট নিতে হবে!”
তনয়াকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তানহা বেড়িয়ে গেল, তনয়া হতভম্বের ন্যায় তাকিয়ে রইল তানহার যাওয়ার দিকে। তানহা কি তেহরাবের কথা বলল নাকি সেই ভুল শুনল এই নিয়ে দ্বিধায় আছে তনয়া, হয়ত ভুলই শুনেছে।!
মানুষটা যা সব করে বেড়াচ্ছে সব কিছুতেই তেহরাবকে দোখতো পাই তনয়া, লোকটা কি বুঝে না তার এই পাগলামো, ভালোবাসার উক্তি তনয়াকে দূর্বল করে তুলছে। যন্ত্রণা দিচ্ছে তনয়াকে, মন ও মস্তিষ্কের লড়াই তাকে ভালো থাকতে দিচ্ছে না।!
মাথার চুল চেপে বসে পরে চেয়ারে, ফোনটা হাতে নেই।আননোন নাম্বার থেকে বাইশ বার মিসডকল, হকচকিয়ে গেল তনয়া, তনয়া জানে এটা নিশ্চয় তেহরাবের নতুন নাম্বার, এই নিয়ে চারটা নাম্বার ব্লক করেছে, এই নিয়ে পাঁচবার নতুন সিম দিয়ে কল করছে। এসব যদি তানিয়ার চোখে পরে সে নিশ্চয় ভুল বুঝবে, সব থেকে বড় কথা কষ্ট পাবে!
ভাবনার মাঝপথে বেঘাত ঘটিয়ে রিং বেজে উঠল ফোনের, সেই আননোন নাম্বার! কি করবে বুঝতে পারছে না, কল কেটে যাওয়ার সাথে সাথে টুং করে মেসেজ আসল,
“ শেষ বার কল করছি, এবার না ধরলে তোদের বাড়ি চলে আসব। ”
মেসেজটা পড়তেই শুকনো ঢোক গিলল তনয়া। তাকাল দরজার বাইরে। আপাতত কেউ নেই, ওমনি রিং বেজে উঠল। কাঁপা কাঁপা হাতে কল রিসিভ করে কানে ধরল তনয়া, সাথে সাথে ভারী গলার ধমক এসে পরল তার কানে।
“ তেইশটা কল মিসড গেল কেন? ইগনোর করছিস আমাকে?”
তনয়া বারবার দরজার দিকে তাকাচ্ছে, তাািয়ে ভীত কন্ঠে জবাব দিল,
“ আমি পড়ছিলাম, ফোন ছিল না কাছে!”
তেহরাব শান্ত হয়, তনয়ার নরম কন্ঠস্বর তার তীব্র মাত্রার উত্তেজনা এক নিমিষে মিলিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
“খুব শীঘ্রই আমার নামের বেনারসি শাড়িতে লাল টুকটুকে বউ সাজিয়ে বাড়ি নিয়ে আসব তোকে জান!”
“ আপনার নামে বেনারসি আমার গায়ে উঠবে না তেহরাব ভাই, ভুলে যান আমায়!”
তনয়ার শান্ত গলার কথায় কোন অসহায়ত্ব লুকিয়ে আছে তাকি তেহরাব বুঝল? সেও মৃদু হেসে জবাব দিল,
“ তোর শরীরে আমার আমি ব্যতিত কারো নামের বেনারসি উঠবে না এলোকেশী! যদি উঠে তবে সেদিন আমার শরীরে উঠবে কাফনের কাপড়!”
তনয়ার বুকের ভেতর অজানা ব্যাথায় মোচড় দিয়ে উঠল, অস্পষ্ট স্বরে বলে আওড়াল,
“ তেহরাব ভাই!”
তেহরাব শব্দ করেই হাসল,
“ ভয় পাচ্ছিস? কেন? তুই তো আমাকে ভালোবাসিস না, তাহলে আমার শরীরে কাফনের কাপড় উঠুক আর যা-ই উঠুক তোর কী?”
তনয়ার চোখ ছলছল করে উঠল, চিৎকার করে এখন বলতে ইচ্ছে করছে তার, “ আমার অনেক কিছু তেহরাব ভাই, আমার অনেক কিছু, আমিও যে আপনাকে ভালোবাসি!”
মনের কথা আর মুখে আনল না তনয়া, কান্না চেপে স্বাভাবিক কন্ঠে তেহরাবকে বলে,
“ একটা সামান্য মেয়ের জন্য শরীরে কাফনের কাপড় উঠাতে চান? জীবনের মূল্য এত ঠুনকো?”
তেহরাবের গলা নেমে আসল, হিমশীতল কন্ঠে বলে,
“ তুই ছাড়া আমার জীবনের মূল্য শূন্য।”
“শূন্যও কিন্তু একটা অংক, যার মান অসীম।”
তনয়ার নীরব কন্ঠে তেহরাব আবারো হাসল, ইচ্ছে করছে এখনি তার এলোকেশীর কাছে চলে যেতে!
হাওয়াই মিঠাই পর্ব ২
“ আমি অংক, বিজ্ঞান, সাহিত্যের ভাষা বুঝি না, আমি শুধু একটি কথাই বুঝি, মানি, জানি, সেটা হলো তুই ছাড়া তেহরাব সরকার নিঃস্ব!”
তনয়া সাথে সাথে কল কেটে দিল, লোকটা কেন বুঝে না তার যন্ত্রণা হয়। এসব কথা শুনলে সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, নিজের দূর্বল চিত্ত খাঁচা ভেঙে উড়ে যেতে চায় তেহরাব নামক আকাশে!কিন্তু সে তো ঘরকুনো এক মেয়ে!
