হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৪
সিনথিয়া ইসলাম সীমা
একটা চায়ের দোকানে আড্ডা জমেছে এলাকার সকল যুবক দলের। সন্ধ্যা বেলায় এমন আড্ডা তাদের নিত্যদিনের রুটিং। আর সেই আড্ডার প্রাণকেন্দ্র হলো কৃশান। কারণ খাওয়া দাওয়ার যত খরচ সব তার পকেট থেকেই হাওয়া হয়। বন্ধুদের মধ্যে তার কাছেই সবসময় টাকা থাকে।
” কিরে তোর মুখের অবস্থা কুকুরের পার্সোনাল জায়গার মতো কেন হইয়া রইছে? ”
টেবিলে এসে বসতে না বসতেই রবির গোমড়া মুখের দিক তাকিয়ে মজা লুফে নিলো কৃশান। তার কথায় সব ছেলেরা হো হো করে হেসে উঠল। একত্রে বলল,
“ ওঁর নাকি আবার ব্রেকআপ হইছে! ”
“ রেজাউলের লাফাঙ্গা পোলার আর ব্রেকআপ! ত্রিশ দিনে ষাট বার শুধু ব্রেকআপই হয় তার। আবার একটু পরেই বাবু, সোনা।”
কৃশানের কথায় আরেকদফা হাসির রোল পড়লো সবার মাঝে। এর মাঝেই দোকানদার এসে গরম গরম চা সমেত বিস্কুট ধরিয়ে দিলেন সবার হাতে। রবি অসহায় স্বরে বলল,
“ আমার খারাপ সময়ে তোরা মজা নিতাছিস! ”
“ তোর যেদিন সত্যিই খারাপ সময় আসবো মানে তোর দিলবার তোরে ছাইড়া যাইব সেদিন আমি কৃশান বড়ো এক খানা মাহফিলের আয়োজন করমু। সেদিন আর মজা নিমু না শিউর! ”
“ দেখিস, তুই মাইয়্যা মানুষ নিয়া এমন করস না? আমি বদদোয়া দিলাম; আমাদের দলের সবার আগে তোর বিয়া হইবো। আর হইবো তো হইবো এমন মেয়ের সাথে হইবো তোর বিন্দাস লাইফ ড্রেনের পানিতে ডুবে মরবো। ”
রবির এহেন কথায় খুক খুক করে কেশে উঠল কৃশান। চোখ গরম করে বলল,
“ রেজাউলের ছাও, আজকে তুই খতম। ”
বলেই তার দিকে তেড়ে গেলো সে। তা দেখে রবি গলা উঁচিয়ে বলল,
“ তুই যদি খালি আমারে মারিস…”
“ মারলে কী করবি তুই? ”
রবির বাহুতে এক ধাক্কা মেরে বলল কৃশান। ঘাবড়ালো না রবি। আগের মতোই বলল,
“ যদি মারস। তাহলে…”
“ তাহলে…?
“ তাহলে…”
“ বল তাহলে কী করবি তুই? ”
পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতে দেখে সকলে সতর্ক চিত্তে দাঁড়িয়ে পড়লো। রবির উদ্দেশ্যে কড়া কিছু বলতে নিবে এর আগেই তার কথায় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো সকলে। সে মুখটা কাঁদো কাঁদো করে কৃশানের উদ্দেশ্যে বলল,
“ তাহলে আমি কানমু দেখিস! ”
চোখের পলক ফেলতে যেন ভুলে বসেছে একেক জন। প্রত্যেকের এমন সিরিয়াস চেহারা দেখে ফিক করে হেসে উঠল রবি। তা দেখে সকলে একসাথে হেসে উঠলো। বলল,
“ আব হোগা, মওয়ত কা নাঙ্গা নাচ ”
বলতে দেরি অথচ কৃশানের পা থেকে জুতো খুলে রবিকে দৌঁড় লাগাতে দেরি নেই। রবিই বা কম কিসে সেও এক ভোঁ দৌঁড় দিলো। আর তাদের পিছন পিছন ছুটলো সকলে।
খাবার টেবিলে বসে হুমায়রার নাম নিয়ে ডেকে যাচ্ছেন একের পর এক জন। ইয়াসমিন বেগম ভাবছেন সকালে তার বড়ো জা এর বলা কথায় হয়তো কষ্ট পেয়ে খাবার খাচ্ছে না হুমায়রা। অথচ হুমায়রা এতক্ষন সেখানেই ছিলো। তাদেরকে পইপই করে বুঝিয়ে বলেছে সে এ বিষয়ে মোটেও রাগ করেনি। এমনকি এসব বিষয় তার মাথা তেই নেই। কিন্তু কে শুনে কার কথা। অগ্যতা বাধ্য হয়ে এবার আবারও ড্রয়িং রুমে এলো হুমায়রা। বাড়ির কর্তারা খেয়ে চলে গেছেন খানেক আগেই। ড্রয়িং রুম জুড়ে এখন শুধু কর্তিদের আনাগোনা। হুমায়রাকে নামতে দেখে নাজমিন বেগম এগিয়ে এলেন। তখন স্বামী আর দেবরের উপস্থিতি তে তিনি কিছু বলতেই পারেন নি।
“ আম্মু, তুমি আমার কথায় কষ্ট পেয়েছো বুঝি? তোমার মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী তাও খাবারের…”
তার উদ্বিগ্ন স্বর মাঝপথেই থেমে গেলো হুমায়রার শান্ত কণ্ঠে,
“ বড়ো আম্মু, দয়া করে এভাবে বলবেন না। আপনার কোনো কথায় আমি ব্যাথিত হয়নি। বরং আমি নিজ ইচ্ছেতেই আজকে খেতে চাচ্ছি না। ”
“ তাই বলে পুরোটা দিন না খেয়ে থাকবে তুমি? এই বদ ইচ্ছে জাগলে স্বামীর মতো আমার থেকে শুধু বকাই শুনবে বলে দিলাম। ”
ইয়াসমিন বেগমের কথার পৃষ্ঠে এবার ইকরা উত্তর দিলো,
“ তোমার বউমা মনে করছে সে না খেয়ে থাকলে তোমার গুণধর ছেলে তার টানে বাসায় ফিরে খাবে। ”
“ কৃশান জানে তুমি খাওনি? ”
সন্দিহান কণ্ঠে জানতে চাইলেন নাজমিন বেগম। ছোটো করে উত্তর দিলো হুমায়রা,
“ জ্বি, দুপুরে জিজ্ঞেস করেছিলো। ”
তার কথায় দুই জা এর মুখে আশার আলো ফুটলো। ভাবলেন এইবার হয়তো মানুষ হবে তাদের ছেলে। কিন্তু পরক্ষনেই কিছু একটা ভেবে খুশিতে ঝলঝল করা মুখটা নিভে গেলো ইয়াসমিন বেগমের। মন খারাপ করে বললেন,
“ কিন্তু কৃশান তো অনেক রাত করে বাড়ি ফেরে। তাও সুস্থ অবস্থায় না। তখন এসব মনে থাকবে ওঁর? ”
“ সমস্যা নেই আম্মু, একদিন চেষ্টা করে দেখি। আল্লাহ যা চাইবেন তাই হবে। ”
আর কথা বাড়ালেন না কেউই। সবাইকে বুঝাতে সক্ষম হতেই নিজের রুমে চলে গেলো হুমায়রা। মিঠুকে কোলে নিয়ে নিজের মতো সময় কাটাতে লাগলো। আর অপেক্ষা করতে লাগলো কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তের।
“ কিরে তুই খাচ্ছিস না কেন? ”
রেস্টুরেন্টে বসে খেতে খেতে সামনে থাকা কৃশানের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়লো সাইফুল। তার কথায় সকলের দৃষ্টি এবার নিক্ষেপ হলো কৃশানের উপর। রবি প্রশ্নসূচক চাহনি নিক্ষেপ করে বলল,
“ আসলেই তো, তখনো তুই চা, বিস্কিট যেমনের টা তেমনভাবেই ফেলে এসে পড়লি। খাচ্ছিস না কেন? ”
বন্ধুদের এমন ঘেরাও করা প্রশ্নের কোনো উত্তর খুঁজে পেলো না কৃশান। পরিস্থিতি সামলাতে বলল,
“ খাচ্ছি খাচ্ছি। ”
বলেই সামনে থাকা নিজের সবচেয়ে পছন্দের বার্গারটা হাতে নিলো। কামড় বসাতে যাবে ওমনিই বরাবরের মতো হুমায়রার না খাওয়া শুকনো মুখটা ভেসে উঠলো। কী মায়া ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো তখন। সেই দৃষ্টির অতলে ছিলো হাজারো আবদার। তার মলিন মুখটা মনে পরতেই গলা দিয়ে খাবার নামাতে সক্ষম হলো না ছেলেটা। রাগে এক প্রকার ছুঁড়ে মারলো হাতের খাবারটা। মুখ ফসকে বলে বসলো,
“ এই নারী জাতি মানেই প্যারা। ”
অকস্মাৎ কৃশানের এহেন কান্ডে হকচকিত হলো প্রত্যেকে। খাওয়া বাদ দিয়ে তার রাগান্বিত মুখের দিক চাইতেই কপালে ভাঁজ পরল। প্রত্যেকেই যেন বাক হারিয়েছে। কিছুক্ষণ থ হয়ে থেকে ফের সকলে একসাথে বলল,
“ নারী! ”
নিজের বলা কথায় নিজেই থতমত খেয়ে গেছে কৃশান। রাগের মাথায় কোথায় কী বলে ফেলেছে- ভাবলেই নিজেকে আছাড় মারতে ইচ্ছে করছে। তার ভাবনার মাঝেই রবি সন্দিহান কণ্ঠে বলল,
“ এখানে নারী জাতি পাইলি কোথায় তুই! ”
“ আরে, আশেপাশের মেয়েগুলোর কথা বলছি। দেখ কীভাবে তাকিয়ে আছে। এভাবে তাকিয়ে থাকলে কী খাওয়া যায়। ”
তৎক্ষনাৎ মনে যা আসলো তাই বলে দিলো। এখন পরিবেশ স্বাভাবিক করতে পারলেই চলে। তার কথায় প্রত্যেকে আশেপাশে নজর বুলিয়ে দেখলো। আসলেই বেশ কিছু মেয়ে কৃশানের দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। কিন্তু এসব তো সাধারণ ব্যাপার। যেখানেই যায় সেখানেই মেয়েরা কৃশানের দিকে ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে থাকে। যেন তার চেয়ে সুন্দর ছেলে আর নেই। অথচ তাদের দলের সবচেয়ে ফরসা হলো রবি। কৃশান রবির থেকে ফরসার দিক দিয়ে দমে থাকলেও ফেইস কাটিং তার আকর্ষণীয়। যার দরুণ কোথায় গেলে সাদা চামড়ার রবির থেকে শ্যামবর্ণের খাপছাড়া কৃশানই মেয়েদের নজর কাড়ে বেশি। কিন্তু সে এসবে লাপাত্তা, কে কোথায় তার দিকে তাকিয়ে আছে এসব দেখার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই তার। তাহলে আজকে হঠাৎ কী হলো? এই রেস্টুরেন্টে তো প্রায় প্রতিদিনই আসা হয় তাদের। কই কখনো কৃশান এমন আচরন করে নি। সকলের চোখে মুখে সন্দেহের ছাপ। সবার দৃষ্টি উপেক্ষা করে কৃশান বসা থেকে উঠতে উঠতে জানান দিলো,
“ আমি বাসায় যাচ্ছি। ”
ছোটো খাটো একটা বিজলি পড়লো বোধ হয় টেবিলটায়। রবি ঘড়ি হাতড়িয়ে দেখলো মাত্র দশটা বাজে! এতো তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরার কথা বলছে স্বয়ং কৃশান মির্জা! যে কিনা রাত একটা- দুইটার আগে বাড়ি ফেরার নামই নেয় না! সে যেতে নিতেই সম্বিৎ ফিরলো সবার। খাওয়া ছেড়ে দাঁড়িয়ে বলল,
“ ভাই তোর হয়েছে কী? আমাদের মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে সব। তুই এতো তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যাবি! ”
“ ভালো লাগছে না আজকে। ”
সকল উৎসুক জনতাদের পাশ কাটিয়ে যেতে যেতে ঘাড় না ঘুরিয়েই উত্তর করলো কৃশান। বলার মতো আর কিছু খুঁজে পেলো না তারা। শুধু তার যাওয়ার পানে তাকিয়ে চাপা গুঞ্জন চালালো।
নিরিবিলি রজনী, অর্ধচন্দ্রের ম্লান আলোয় হালকা আলোকিত হয়ে আছে রাস্তা ঘাট। চাঁদের রূপালী আলো কেন্দ্র করে বাড়ির গেটের সামনে এসে পৌঁছালো কৃশান। শব্দহীন পায়ে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলো। মির্জা ভবন তখন রূপ নিয়েছে ঘুমন্তপুরিতে। বাড়ির প্রতিটি কানায় কানায় ঘুমের রেশ অস্টেপৃষ্ঠে রয়েছে। ধীর পায়ে নিজের রুমে যেতে নিয়েও ইকরার রুমের সামনে এসে থামলো কৃশান। কিছু একটা ভেবে দরজায় হালকা করে করাঘাত করলো। বার কয়েক করাঘাতের পর ঘুম ঘুম চোখে এসে দরজা খুলে দিলো ইকরা। কৃশানকে দেখে ভরকে গেলো ওমনিই। এমন সময় তাকে মোটেও আশা করে নি মেয়েটা। ভেবেছিলো হয়তো হুমায়রা ডেকেছে। কপাল কুঁচকে বলল,
“ তুমি! ”
“ তোর বান্ধবী খেয়েছে? ”
কৃশানের ভনিতাহিন স্বাভাবিক কন্ঠ শুনে আকাশ থেকে পড়লো মেয়েটা। ঘুম ছুটে গেলো পুরোপুরি। চোখ, মুখ কচলে জিজ্ঞেস করলো,
“ আমি কী স্বপ্ন দেখছি! ”
বিরক্ত হলো সামনের ব্যাক্তি। ধমকে বলল,
“ থাপ্পড় খেতে না চাইলে যা জিজ্ঞেস করেছি তার উত্তর দে। ”
“ না, খায়নি। ”
মনে মনে ভেংচি কেটে উত্তর করলো ইকরা। সে বলতে দেরি অথচ কৃশানের স্থান ত্যাগ করতে দেরি নেই। ধুপধাপ পায়ে রুমে চলে গেলো সে।
অভ্যাস মোতাবেক বিছানার এক কোনায় গুটিশুটি মেরে শুয়ে আছে হুমায়রা। কৃশান এসে ঘুমন্ত হুমায়রাকে পর্যবেক্ষণ করলো কিছু পল। ডাকতে গিয়েও থেমে গেলো। বারান্দায় গিয়ে মিঠুকে নিয়ে এসে ধপ করে হুমায়রার গায়ে ফেলে দিলো। শরীরে কিছুর উপস্থিতি টের পেতেই কাঁচা ঘুমটা ভেঙে গেলো হুমায়রার। সুরসুরি পেয়ে এক লাফে শুয়া থেকে উঠে বসলো মেয়েটা। ভয়ে গলা শুকিয়ে কাট। বিছানায় মিঠুকে দেখে কিছুটা ধাতস্থ হতে নিবে এর আগেই পাশে দীর্ঘ দেহি কৃশানকে দেখে আঁতকে উঠলো। কিছু বলতে নিবে এর আগেই কৃশানের গম্ভীর স্বর ভেসে আসলো,
“ রান্নাঘরে আয়। ”
তার কথা বুঝে এলো না হুমায়রার। বলল,
“ রান্নাঘরে! ”
“ মার খেতে না চাইলে। মুখ বন্ধ রেখে যা বলছি তা কর। ”
বলেই গটগট করে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে লাগলো সে। হুমায়রাও বিস্ময় ভাব ফেলে ভয়ে ভয়ে তার পিছন পিছন পা চালালো। একেবারে রান্নাঘরের সামনে এসে পা থামলো কৃশানের। পিছন ফিরে হুমায়রার উদ্দেশ্যে আদেশ ছুড়লো,
“ প্লেটে খাবার নে। ”
মনের ভিতর হাজারো প্রশ্ন ঘুরঘুর করলেও তা মুখে আনতে সক্ষম হলো না মেয়েটা। স্বামীর কথা মতো সাথে সাথে গিয়ে প্লেটে ভাত বেড়ে নিলো।
“ এবার খাওয়া শুরু কর। ”
“ এখন খা…”
“ খেতে বলেছি তোকে! ”
কৃশানের রাম ধমকে কথার মাঝ পথেই কথা থেমে গেলো মেয়েটার। চুপচাপ টেবিলে বসে খাবার মুখে পুরতে লাগলো। কথা বাড়ানোর সাহস পেলো না। দু লোকমা খেয়ে কৃশানের দিক চেয়ে নরম কণ্ঠে সুধালো,
“ আপনি খাবেন না? ”
“ খেয়ে এসেছি আমি। আমাকে নিয়ে তোর চিন্তা করতে হবে না। এখন থেকে নিজের খাবার নিজে নিয়ে খেয়ে ফেলবি। কারো কথা কানে নিবি না। ”
কোনো উত্তর করলো না হুমায়রা। কৃশান হয়তো ভাবছে তাকে খেতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু সে তো ইচ্ছে করেই খায়নি। তাকে নিরুত্তর দেখে তার ভাবনার মাঝেই আবারও ধমকে উঠল কৃশান,
হৃদয় রাঙানো প্রেম পর্ব ৩
“ কী বলেছি আমি! ”
“ জ্বি, আচ্ছা। ”
ফটাফট উত্তর করলো হুমায়রা। উত্তর পেয়ে আর দাঁড়ালো না সে। বড়ো বড়ো পা ফেলে নিজের রুমে চলে গেলো। সে যেতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো মেয়েটা।
