৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪৪ (২)
রুপান্জলি
অধ্বপ্রান্ত জ্বলে যাওয়া একটি পোড়া বাড়িতে অবস্থান করছে দুইজন,, একজন নির্লিপ্ত আর অন্যজনের চোখ ভরা জিজ্ঞাসা। বাড়িটির প্রতিটি দেওয়াল পুড়ে কালচে হয়ে গিয়েছে। আশঙ্কা করা যায় এই বাড়িটি মাটির তৈরি। মাটি দ্বারা তৈরি করার পর হয়তো বাড়িটি তপ্ত আগুন দ্বারা ইটের ভাটার ন্যায় জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ইটের মতো শক্ত বানানো হয়েছে। অর্পনা এদিক ওদিক তাকিয়ে তার অবস্থান করা পুরো রুমটা দেখলো,, এই রুমটাতেও লাল টিমটিমে বাতি জ্বালানো,, যার পাওয়ার একদমই কম, দেখে মনে হচ্ছে সৌর বিদ্যুৎ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সে যেই জায়গাটাতে বসে আছে, এখানে দুটো চেয়ার, একটাতে সে বসে আছে আরেকটা কিছুটা দূরে রাখা। দেওয়ালের একপাশে একটা কাঠের পুরোনো চৌকি আর বেতের সোফা যা ময়লার আস্তরণ পরে ফ্যাকাসে হয়ে গিয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে বহুদিন এই সোফায় কেউ বসে না। একপাশের মেঝেতে দুটো জংধরা রামদা, একটা কাটারি, আর দুটো করাত। কিছুটা দূরে দাঁড় করানো চারটে সাবলও দেখা যাচ্ছে। অর্পনা হাঁসফাঁস করে উঠলো,, দূর থেকে এখনো ঐ পাঁচ জন লোকের গোঙানোর স্বর শোনা যাচ্ছে। তার কাছে জায়গাটা খুবই ভয়ঙ্কর লাগছে। এত এত ঘটনার পর অর্পনার জায়গায় অন্য পাঁচটা সাধারণ মেয়ে থাকলে বোধহয় এতক্ষণে আরও কয়েকবার জ্ঞান হারাতো,, তবে অর্পনা যথেষ্ট স্ট্রং। সে এবার সোজা নজর তাক করলো সামনে দণ্ডায়মান দাঁড়িয়ে থাকা লোকটার দিকে,, চোখে চোখ রেখে বললো—
— আপনি চোখ দ্বারা মানুষকে হিপনোটাইজ করতে পারেন?
,,, ভ্রু উঁচিয়ে তাকালো দ্বীপ,, তীরের ডগার ন্যায় তীক্ষ্ণ ভ্রুযুগল বেঁকে আসতেই কেঁপে উঠলো অর্পনার বুক। পুরুষ মানুষ এত সুন্দর হয় কী করে? এই লাল টিমটিমে আলোয় দ্বীপের ফর্সা মুখ, ধূসর চোখ, চোঙা নাক, ধারালো চোয়াল চকচক করছে। চুলগুলো ভেজা, সেখান থেকে টপ টপ করে পানির ফোঁটা পড়ে গায়ের শার্টটা হালকা পাতলা ভিজে যাচ্ছে। অর্পনা জানে না দ্বীপ কখন গোসল করেছে কিংবা এই অন্ধকারে গোসলই বা করলো কোথায়? শুধু এটুকু জানে,, লোকটাকে লাল আলোয় বড্ড স্নিগ্ধ মায়াবান লাগছে। অর্পনা দৃষ্টি বদলালো,, মুগ্ধতা ছাপিয়ে চোখে কঠিনতা প্রকাশ করার চেষ্টা চালালো। দ্বীপ দেখলো সেই প্রচেষ্টা, চোখে হেসে সুধালো — পারি বুঝি?
,,, অর্পনাও হাসলো,, পাতলা ঠোঁটে সেই হাসি দ্বীপের নিকট বড্ড আকর্ষণীয় লাগলো। ইচ্ছে করলো মেয়েটা সবসময় এভাবেই হাসুক আর সেই হাসিতে দ্বীপের হৃদয় থমকে যাক। দ্বীপের বুকের বামপাশটা অচল ঠেকলো,, সময় নিয়ে নিশ্বাস ত্যাগ করে আবারও গ্রহণ করলো। অর্পনা তাচ্ছিল্য ভরা কণ্ঠে বললো– আপনি বড্ড ছলনা জানেন দ্বীপ। মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে আমায় হিপনোটাইজ করে দিলেন? হাউ ট্যালেন্টেড পারসন।
,,, দ্বীপ ঠোঁট নাড়ালো — বোকা তুমি,,
দুজনার দৃষ্টি তখনো দুজনাতে আবদ্ধ,, সেভাবেই কথা বলছে দুজন। অর্পনা কাঠের চেয়ারে বসা আর দ্বীপ তার থেকে কিছুটা দূরে দেয়ালে হেলান দিয়ে বুকে হাত ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে আছে। অর্পনা বললো– আপনি বড্ড জটিল দ্বীপ,, আমার ভাবনার চেয়েও অধিক জটিল। এতোটা অচেনা হবেন ভাবিনি। এটা কোথায় আমি জানিনা তবে এটা যে একান্তই আপনার সেটা বুঝতে বেগ পোহাতে হলো না। কি করেন এখানে? খু*ন টুন করেন নাকি? পারু যে বলতো আপনারা দিন দুপুরে মানুষ গুম করে দেন,, ওটা সত্যি ছিলো?
,,, দ্বীপ ফের হাসলো,, এক হাতে ভেজা চুল নাড়াচাড়া করতে করতে বাকা চোখে অর্পনার দিকে তাকিয়ে বললো — আই হেইট ইউর আই কিউ। এতো বুদ্ধিমান হওয়া ঠিক না।
— দ্বীপের চাহনিতে আবারও খেই হারালো অর্পনা। দৃষ্টি এদিক ওদিক ঘুরিয়ে বললো– এরা এখানে কেনো? আপনি ওদের কোথায় পেলেন? ওদের কি হয়েছে? সানের উপর এতো র*ক্ত কেনো? কি করেছেন ওদের সাথে? মেরেছেন?
,,,, ওদের থে*রাপি দেওয়া হয়েছে।
,,,, পিছন থেকে হঠাৎ পরিচিত কণ্ঠ ভেসে আসতেই সেদিকে তাকালো অর্পনা। বিহান এগিয়ে এসে অর্পনার পাশাপাশি দাঁড়ালো। বিহানকে দেখে একটু ও অবাক হলো না সে,, দ্বীপ যেখানে থাকবে বিহান সেখানেই থাকবে এটাই স্বাভাবিক। বরং জ্ঞান ফিরার পর বিহানকে দেখতে না পেয়ে অবাক হয়েছিলো সে। বিহানের চোখ মুখ শান্ত,, দ্বীপের চেয়েও অধিক নিরুত্তাপ সে, যেনো এখানে কিছুই হয়নি। এসবে তারা অভ্যস্ত। অর্পনার ভয় হচ্ছে,, দ্বীপ আর বিহানের এই অস্বাভাবিক শান্ত ভাব তার ভিতরটাকে কাঁপিয়ে তুলছে। তার মনে হচ্ছে সামনে দাঁড়ানো দুজন ব্যক্তি তার খুব অচেনা এবং ভয়ঙ্কর। যারা ঠান্ডা মাথায় সব করতে পারে,, এভরিথিং। অর্পনা একবার দ্বীপকে দেখে নিয়ে বিহানের দিকে তাকিয়ে কাঁপা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো—
,,,, থে*রাপি দেওয়া হয়েছে ম,মানে? কিসের থেরাপি? কি বলছেন এসব?
,,, বিহান উত্তর করলো না, এই ঘরটার বাম পাশের দেওয়ালের কোণা বরাবর তাকিয়ে রইলো, ওখানে 32 mm সাইজের লম্বা লম্বা রড ফেলে রাখা যার সবগুলোই রক্তাক্ত আর তার পাশে অনেকগুলো ডিমের খোসা ছড়িয়ে আছে। অর্পনা তখনো বিহানের দিকে তাকিয়ে,, বিহান ওইদিকে ইশারা করলো। ওর ইশারা পেয়ে কোণা বরাবর তাকাতেই আত্মা ছলকে উঠলো অর্পনার। কিছু একটা অনুধাবন করতেই মাথা ঘুরে উঠলো, গলার মধ্যভাগে বমি এসে ঠেকলো। অর্পনা চেয়ার ছেড়ে উঠে কিছুটা দূরে গিয়ে ওয়াক, ওয়াক করে বমি করার চেষ্টা করতেই এগিয়ে গেলো দ্বীপ। অর্পনাকে ধরতে গেলে ও কয়েক পা পিছিয়ে গেলো পরপর মায়ার সম্পর্ক তৈরি হওয়া দুটো মানুষের দিকে ঘৃণা ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। ওদের মুখের দিকে তাকাতেও তার কেমন ঘৃণা হচ্ছে,, চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো। তার কেনো যেনো বিশ্বাস হচ্ছেনা এরা এরকম কিছু করতে পারে। বিশেষ করে বিহান। বিহান ভাই তো বড্ড সরল সাদা সিধা মানুষ,, উনি কি করে এমন কিছু করতে পারে? 32 mm রড,, এটা দিয়ে,, ছিহ!! ভাবতে গিয়ে আবারও বমি গেলো অর্পনার। ডিম দিয়ে কি করেছেন? এটাও কি? এজন্যই কি ওভাবে সান রক্তে ঝপঝপা হয়ে ছিলো? অর্পনা দুজনার উদ্দেশ্যে ঘৃণা ভরা কণ্ঠে বললো — মানুষ হয়েও অমানুষের মতো কাজ? ছিহ!! আল্লাহ তদের কোনোদিন মাফ করবে না,, জাহান্নামে যাবি দুজন।
,,, দ্বীপ ভ্রু গুটালো, বিহান চোখে হাসলো। অর্পনার মনে হচ্ছে সে দুজন পাষণ্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। যাদের হৃদয়ে বিন্দু পরিমাণ মায়ার ছিটেফোটাও নেই। দ্বীপের নিরুত্তাপ ভাবগুলো তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। রাগ সামলাতে না পেরে তেড়ে এসে দ্বীপের কলার চেপে ধরলো অর্পনা,, হিসহিসিয়ে বললো– এই দ্বীপ মির্জা!! মানুষ তুই? এসব কি? কেনো? আমি বিচার চেয়েছি? কাউকে বলেছি আমার বিচার চাই? আর বিচার যদি করারই হতো তাহলে মেরে ফেলতি। কিন্তু এগুলা কি? এতো নিষ্ঠুর মানুষ কি করে হতে পারে? এটা আমি কাকে বিয়ে করলাম খোদা? অমানুষের বাচ্চা। তকে দেখতেও আমার ঘৃণা লাগছে, বিশ্বাস কর।
,,, অর্পনার গালাগালিতে রেগে গেলো দ্বীপ, হুস হারিয়ে এক হাতে চুল খামচে ধরে অন্য হাতে মুখ চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বললো — এই চুপ!! তুই তুকারি করবিনা, মুখ ভেঙে ফেলবো একদম। বেয়াদবের বাচ্চা!! তর কি? তর জ্বলে কেন? তর বাপ লাগে? তর বাপেদের জন্য এখন মায়া হচ্ছে তর? তর বাপেরা যখন তকে আম্মা ডেকে ছিড়ে খুরে শেষ করে দিলো,, তখন? আমার লাগে না? আমার নিষ্পাপ ফুলের কোমল পাপড়িগুলো যখন এরা একটু একটু করে ঝরিয়ে দিলো,, তখন? খুব মজা না? খুব? বাট আমার তো মজা লাগলো না। যখন থেকে জানতে পেরেছি তখন থেকে আমার কলিজাটা ছিঁড়ে যাচ্ছিলো। কলিজা ছিঁড়ার যন্ত্রণা বুঝিস তুই? কু*ত্তার বাচ্চা, পটর পটর করবিনা একদম। যেই কাজের জন্য এনেছি চুপচাপ সেটা করবি নয়তো তকেও এখানে পুতে রেখে যাবো। তর মতো একজন জীবনে না থাকলে সর্বোচ্চ প্রাণ হারাবো, এর বাইরে কিছুই আসবে যাবেনা।
,,, চুলের ব্যথায় কাতর অর্পনা, তবে সেই কাতরতা প্রকাশ করলো না। চোখে কঠিনতা ফুটিয়ে বললো– কি কাজ? কি করাবেন আমাকে দিয়ে? কি কারণে সকাল থেকে এতো নাটক করে যাচ্ছেন? কখনো সুন্দর বন আবার কখনো পোড়া বাড়ি, কি চাই আপনার?
,,, আমার কলি*জা চাই,, ওদের কলি*জা হাতে নিয়ে ওজন করতে চাই,, দেখতে চাই কতো বড়ো কলি*জা থাকলে আমার ফুল ছোঁয়ার সাহস করা যায়।
,,,, আমি তখন আপনার ফুল ছিলাম না।
,,, এখন তো!! এখন তো তুই আমার আর জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমারই থাকবি। তাই আমি আমার জিনিস নিয়ে কোনো আপস করবো না। অতীত কিংবা ভবিষ্যতে, যারা যারা তর কষ্টের কারণ হবে সবাইকে জাস্ট মাছের মতো পিছ পিছ করে কেটে নদীতে ভাসিয়ে দিবো,, নাথিং এল্স!!
,,, যা খুশি করুন কিন্তু আমায় টানছেন কেনো? আমাকে এখানে এনেছেন কি দরকারে? আর, আর এটা কোথায়? এটা কি সুন্দর বনের ভিতরের কোনো জায়গা? এই জন্যই কি বাঘের গর্জনের শব্দ শোনা যায় মাঝে মাঝে?
,,, অর্পনার সব কথা কানে নিলো না দ্বীপ,, ওর সব কথার উত্তর দিতে বাধ্য নয় সে। দিবেও না,, কিছু কিছু ক্ষেত্রে উত্তর দেওয়া নিষেধ,, এসব উহ্য থাকাই বেটার। সব কথা ছাপিয়ে দ্বীপ উত্তর করলো– আমি চাই, তুই নিজের সাথে হওয়া অন্যায়ের শাস্তি নিজের হাতে দে।
,,, আমাকে আপনার মতো অমানুষ মনে করেছেন? হয়তো কোনোদিন ওদেরকে ক্ষমা করতে পারবো না তাই বলে খুন করবো? মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে আপনার?
,,, মানুষ হয়ে অমানুষের সাথে সংসার করা যায়না জান। হয় তুই অমানুষ হবি নয়তো আমি মানুষ হবো। তবে আমার কাছে মানুষ হওয়ার অপশন নেই,, কারণ যেই দেশের আইনে ন্যায় থাকেনা,, সেই দেশে ন্যায় পেতে হলে মানুষকে অমানুষে পরিণত হতে হয়। আর যে একবার অমানুষে পরিণত হয় তাকে শত চেষ্টা করেও মানুষ বানানো যায়না।
দ্বীপের কথাগুলো সঠিক হলেও অর্পনার কাছে বিষাক্ত ঠেকলো। সে যতদিন বাঁচবে ততদিন সাধারণ ভাবে বাঁচতে চেয়েছিলো কিন্তু এই দ্বীপ মির্জা তার মন মতো কিছুই হতে দিচ্ছে না। উল্টো নিজের ইশারায় তাকে চালানোর চেষ্টা করছে। অর্পনা সোজা সাপ্টা উত্তর করলো — তাহলে ছেড়ে দিন,, এই মুহূর্তে তালাক দিয়ে দিন। আপনার সাথে সংসার করার সামান্য পরিমাণ ইচ্ছা নেই আমার। ছলনাকারী, প্রতারক।
,,, বার বার তালাক শব্দটা শুনতে শুনতে বিরক্ত দ্বীপ,, তবুও কৈফিয়ত দেওয়ার মতো করে বললো– তর জ্ঞান না ফিরলে আমায় এতো ছলনা করতে হতো না। সোজা এখানেই চলে আসতাম কিন্তু হেলিকপ্টার থেকে নামতেই তর জ্ঞান ফিরে এলো। তর নার্ভ সিস্টেম, ব্রেইন, আই কিউ এতো শার্প কেনো বলতো? মেয়ে মানুষের এতো সচল হওয়া উচিত না, কিছুটা দমে থাকতে হয়।
,,, অর্পনার চোখ জোড়া ছলছল করে উঠলো,, ওর চুলে ধরে রাখা দ্বীপের হাতটার দিকে তাকিয়ে বললো– হুম, মেয়েদের তো পায়ের তলায় পিষে রাখা উচিত, এভাবে চুলে ধরে মারা উচিত। যেটা এই মুহূর্তে আপনি করে যাচ্ছেন।
,,, অর্পনার কণ্ঠে তীব্র অভিমান, এই অভিমানী স্বর দ্বীপকে বড্ড জ্বালালো। বুকের ভিতর কোদাল চালালো যেনো, সহসা শক্ত হাতটা নরম হলো। চুলের সাথে সাথে অর্পনাকেও নিজের থেকে সরিয়ে দিলো দ্বীপ। নিজের উপর নিজেরই রাগ হচ্ছে,, সে কেনো রাগের সময় নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারে না? আঘাতের ঘা সারাতে এনে নিজেই আঘাত করলো? স্যাঁতসেঁতে পোড়া দেওয়ালে কয়েকটা পাঞ্চ মারলো,, বিহান এগিয়ে গেলো না। হাসবেন্ড-ওয়াইফের মাঝে তার ঢোকাটা অসভ্যতা সুলভ তাই চেয়ার টেনে চেয়ারের উপর বসলো। হাতে আঘাত করেও শান্তি পেলো না দ্বীপ,, এভাবে শান্তি পাবে না সে,, যতক্ষণ না অর্পনা নিজের হাতে ওদের শাস্তি দেবে ততক্ষণ ওর মনের জ্বলনটা কমবে না। অগত্যা কথা বাড়ালো না, অর্পনার হাতটা শক্ত করে ধরে ওকে টানতে টানতে ওই রুমে নিয়ে যেতে লাগলো। অর্পনা যখন বুঝলো ওকে আবারও ওই রুমে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তৎক্ষণাৎ ডুকরে উঠলো। অনুনয়-বিনয় করলো যেনো তাকে ওখানে নিয়ে যাওয়া না হয়। হাত ছাড়াতে চাইলো কিন্তু দ্বীপ ছাড়লো না,, টানতে টানতে ধাক্কা দিয়ে ফেললো সেই পাঁচ জনের সামনে,, সাথে সাথে চমকে উঠলো দুজন লোক,, দুদিকে মাথা নাড়াতে নাড়াতে ওম ওম শব্দ করতে লাগলো। বাকি তিন জনের জ্ঞান নেই,, দ্বীপের করা টর্চার আর অতিরিক্ত ব্লাড লস হওয়ার কারণে মরার মতো পড়ে আছে। বিহান ভিতরে এসে সেখানে থাকা দুজন গার্ডকে ইশারায় চলে যেতে বললো। সাথে সাথে বেরিয়ে গেলো দুজন। অর্পনা তাকালো না, মাথা তুলতে ইচ্ছা করছে না,, মাথা তুলে তাকালেই যে তার সাড়ে চার বছর আগের সেই বাজে স্মৃতিগুলো মনে পড়ে যাবে। অর্পনাকে মাথা নিচু করে চোখ বুজে রাখতে দেখে দ্বীপের রাগ আকাশচুম্বী হলো। সে অর্পনার পাশাপাশি রক্তে ভেজা মেঝেতে বসে ওর মুখটা দু-হাতের আজলায় নিয়ে ফ্যাসফ্যসে গলায় বললো — বেয়াদবের বাচ্চা, মুখ নামিয়ে রেখেছিস কেনো? তাক এদের দিকে,, দেখ, এরাই তকে সেদিন মলেস্ট করেছিলো না? শিওর কর,, এরাই তো? (মুখ ঘুরিয়ে) এই তিনজন ছিলো না ওই রাতে? কিছুদিন আগে এই লোকটাই তো তকে বাসে গালাগালি করেছিলো, আর ওইটাকে দেখ,, তর উড়না টেনেছিলো না? লুক ভেলোরা। কু*ত্তার বাচ্চা তরে দেখতে কইলাম না? আমার জবান খারাপ করিস না অর্পনা,, আমি কিন্তু তর বাপের মতো ভালো মানুষ না।
,,, বাস আর উড়না টানার কথা শুনে তড়াক করে চোখ মেলে তাকালো অর্পনা। দেখতে গেলো সত্যি সেই দুটো লোক। ওদের মুখের দিকে তাকিয়ে থরথর করে কেঁপে উঠলো অর্পনা। মুখ থেকে স্রোতের ন্যায় রক্তপাত হচ্ছে যেনো কিছুক্ষণ আগেই তাদের সাথে অসভ্য কিছু হয়ে গিয়েছে। অর্পনা খেয়াল করলো লোকগুলোর ঠোঁট নেই,, কেটে ফেলা হয়েছে। পায়ের তলায় অনেকগুলো দাঁত আর তিনটে কাটা জিহ্বা পড়ে আছে। এগুলো কিসের দাঁত? কার জিহ্বা? পশুর? নাকি মানুষের? লোকগুলোর মুখের দিকে তাকিয়ে আবারও কিছু একটা ঠাওর করে নিলো। এবার আর বমি আটকাতে পারলো না অর্পনা, ঝরঝর করে বমি করে দিলো। রাত থেকে এখনো পর্যন্ত কিছু না খাওয়ার দরুন মুখ থেকে টক পানি ব্যতীত কিছুই বের হলো না। অর্পনা জানে না সে কতক্ষণ যাবৎ এখানে আছে আর এখন কয়টা বাজে। তবে তার খুব খিদে পেয়েছে,, খিদে পেটে বমি করতে গিয়ে তার যেনো আত্মা বেরিয়ে যাচ্ছে। অর্পনাকে বমি করতে দেখে নরম হলো দ্বীপ,, ওকে টেনে বুকের সাথে মাথাটা চেপে ধরতেই আবারও বমি করে দিলো অর্পনা। বমির পানিতে দ্বীপের শার্ট ভিজে গেলো,, সাথে সাথে বমির উদ্ভট গন্ধও নাকে ঠেকলো। এতে একটুখানিও নাক সিটকালো না দ্বীপ, উল্টো অর্পনার মুখটা দুহাতের আজলায় নিলো।
হাত দিয়ে মুখ মুছিয়ে দিতে দিতে কপালে চুমু খেলো। বমি করতে করতে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে অর্পনার। দ্বীপ সন্তর্পণে আঁকড়ে ধরলো অর্পনার ওষ্ঠ,, অনেকটা সময় এভাবেই কাটলো। অর্পনা নড়াচড়া করছে না,, তার দেহে যেনো প্রাণ নেই। সময় পেরোতেই এতদিনে তৈরি করা শক্ত আবরণ বিচ্ছিন্ন হয়ে ঝরে পড়লো,, বাচ্চাদের মতো ফুঁপাচ্ছে মেয়েটা। দ্বীপ ছেড়ে দিলো ওকে,, খরখরে হাতে পুরো মুখশ্রী মুছে দিতে দিতে বললো —– দেখ, আমার দিকে তাকা,, তর সম্পূর্ণ মনোযোগ আমার মাঝে রাখ। এরা কারা? তুই চিনিস না এদের? এরা কি মানুষ? মায়া দেখাচ্ছিস কেনো? তুই তো এতটা নড়বড়ে নয়। ওরা তকে ছিড়ে খুরে শেষ করে দেওয়ার বেলায় মায়া করেছিলো? তুই অনুরোধ করিসনি? তকে একপল ছাড় দিয়েছিলো ওরা? আমি তো দেখিনি কিন্তু তুই তো নিজের হাল দেখেছিলি। কাতর ছিলি, ঘরের এক কোণায় পড়েছিলি,, তর পাপ্পাকেও ভয় পেতি। সেই দিনগুলোতে আমি ছিলাম না কিন্তু আজ আছি। আমি দ্বীপ মির্জা তকে কথা দিচ্ছি এখানে যা হবে,, তুই যা যা করবি তার জন্য এক পল আঁচড়ও তর জীবনে আসতে দিবো না। কেউ জানবে না কিছু,, তর হাসবেন্ড তকে সব বিপদ, সব কুলষতা থেকে রক্ষা করবে। আজকের পর গতদিনের মতোই পবিত্র সত্তা হয়ে বাঁচবি তুই,, যত বাধা, যত বিপত্তি, কলঙ্ক, পাপ সবকিছুর ভার আমি নিবো। তুই শুধু নিজেকে হালকা কর। এরকম সুযোগ আর কখনো পাবি না অর্পনা,, এরা বেশিক্ষণ বাঁচবেও না। বেঁচে থাকতে থাকতে মনে জমে থাকা সব ভয়, সংকোচ, ঘৃণা উগরে দে।
,,, বলতে বলতে “১১” `ইঞ্চির একটা এক্স এগিয়ে দিলো যার মাথায় “ZDP-189” ইস্পাতের একটি ৪ ইঞ্চি সাইজের হেড রয়েছে। এক্সটির হাতল পর্যন্ত ইস্পাত দ্বারা নির্মিত যার নিচের দিকে খুবই সূক্ষ্ম আকারে লেখা “Hitachi”। অর্পনা দেখলো সেটা,, ধীরে ধীরে তার রাগ বাড়লো,, চোখের সামনে ভেসে উঠলো সেদিন রাতে তার সাথে ঘটা প্রতিটি চিত্র। যখন সে প্রচণ্ড রকমের অসহায় ছিলো আর এই লোকগুলো তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়েছিলো। তখন সে অসহায় থাকলেও এখন তো অসহায় নয়,, এখন তার সাথে তার স্বামী আছে। তাহলে এখন কেনো চুপ থাকবে সে? পাপীরা কি তার জন্য মায়া করেছিলো? তাহলে সে কেনো মায়া করবে? অর্পনাকে রাগতে দেখে মনে মনে বিজয়ী হাসলো দ্বীপ। তার চাল কার্যকর হতে যাচ্ছে,, এবার বোধহয় তার বুকের জ্বলনটা কমে আসবে। তবে দ্বীপের বুক ভরা খুশিকে এক লহমায় ভেঙে দিতে ফুঁপিয়ে উঠলো অর্পনা। কাঁদতে কাঁদতে অনুনয় করে বললো–
,,, আপনি আমার সাথে এমন করছেন কেনো দ্বীপ? প্রথমে আমায় হিপনোটাইজড করলেন এখন আমার ব্রেইনকে ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করছেন। আপনি কি চাইছেন? আমিও খু*ন করি? তারপর আপনাদের মতো খুনি হই? অমানুষ হই? আমার ন্যায় লাগবে না। আমি আমার অতীত থেকে মুক্তি চাই না। আমি এভাবেই বেশ আছি।
,,, অর্পনার কথায় দ্বীপের মাথায় রাগ তিরবিরিয়ে উঠলো যেনো। সে হুট করে আবারও রাগের বসে অর্পনার চুল খামচে ধরলো,, তীব্র রাগে কাঁপতে কাঁপতে বললো– এই ওরা যখন তকে খুন করেছিলো, তখন? খুন হোসনি তুই? মরিসনি? তাহলে এখন ওদের মারতে সমস্যা কোথায়? নাকি মারতে জানিস না তুই? আমার সামনেই তোমার যত রাগ, যত হম্বিতম্বি। তোমার বাপেদের বেলায় সব মাফ? বেয়াদব নারী একটা!! যদি তকে ছাড়া বাঁচতে পারতাম না? তাহলে খোদার কসম,, সবার আগে তকে টুকরো টুকরো করতাম আমি।
,,, দ্বীপের আবারও চুলে ধরা বড্ড কষ্ট দিলো অর্পনাকে। সব ছাড়িয়ে মনে পড়ে গেলো সেই ১০ দিনের কথা যখন দ্বীপ ওর দিকে ফিরেও তাকায়নি,, ভার্সিটিতে বলা সেই জাস্ট মেইড কথাটা। অর্পনার চক্ষুকোটর ভরে উঠলো,, সে মায়া মায়া চোখে দ্বীপের দিকে তাকিয়ে থেকেই অভিযোগ করলো — মরেছি তো, বার বার মরেছি। এই যে অর্পনা, এখানে কোনো প্রাণ নেই, কোনো উচ্ছ্বাস নেই। সেদিক থেকে দেখতে গেলে আপনিও খুনি। অর্পনার স্ত্রীসত্তাকে খুন করেছেন আপনি। ওরা শাস্তি পেলে আপনিও শাস্তি পাবেন। ওদের কলিজা কাটলে আপনারটাও কাটবো,, দিবেন? ন্যায় হলে সবার সাথে হোক। আপনি স্বামী বলে ছাড়া পাবেন কেনো?
,,, হরিণী চোখ জোড়ার সেই কাতরতা ভেঙে দিলো দ্বীপকে,, সহসা রাগ ভুলে কপালে কপাল ঠেকিয়ে ফিসফিস করে বললো— কম শাস্তি দিচ্ছিস? শাস্তি পাচ্ছি না? তর আমার দূরত্বের চেয়েও বড় কোনো শাস্তি হতে পারে? আমি আমার আগের ভেলোরাকে হারিয়েছি, যে আমায় ভালোবাসতো, আমাতে মিশে থাকতো, যার সবটা জুড়ে আমি ছিলাম, যার মূল্যবান সময়টুকু একান্ত আমার নামে ছিলো। আমি যে তর অভাবে তরপাই, তুই সেটা বুঝিস? বুঝবি কি করে? তর তো আমাকে নয় বরং ভালোবাসা লাগবে। কিন্তু তুই পাবি না,, তকে এই জন্মে,,
,,, দ্বীপের মুখের কথা কেড়ে নিলো অর্পনা — ভালোবাসবেন না তাই তো? লাগবে না!! আপনি কিংবা আপনার ভালোবাসা কোনোটারই প্রয়োজন নেই আমার। আর না এসব সো-কল্ড অতীত থেকে মুক্তি চাই। আমার অস্বস্তি হচ্ছে,, আমায় বাড়ি দিয়ে আসুন,, আমি আর এক মুহূর্ত আপনার কাছে থাকবো না, আমি আমার পাপ্পার কাছে যেতে চাই।
,,, অর্পনার কণ্ঠের অভিমানটা ধরতে পারলো না দ্বীপ। বরাবরই তার মাথা এত পরিমাণ গরম থাকে যে, সহজেই বাহ্যিক হুঁশজ্ঞান হারিয়ে ফেলে,, যার বহিঃপ্রকাশস্বরূপ চেঁচিয়ে উঠলো দ্বীপ — মুক্তি লাগবে কেনো? তর তো আরও ভালো লেগেছিলো,, খুব এনজয় করেছিলি সেদিন। যখন তিনটে কাপুরুষ তর নারীসত্তাকে টেনে হিচড়ে রাস্তায় নামিয়ে এনেছিলো,, একটার পর একটা আঘাত করেছিলো,, তকে মাঝরাস্তায় বিবস্ত্র করেছিলো তখন তর খুব ভালো লেগেছিলো। এখন কোথায় তর আত্মসম্মান? সবসময় যেই ইগো নিয়ে বড়াই করিস তার কোনো ভ্যালু আছে? শেমলেস মেয়ে, আমার ভাবতেও অবাক লাগে তর মতো মেয়েকে বিয়ে করেছি আমি। কেনো এসেছিলি আমার জীবনে? তকে চেয়েছিলাম আমি? এসে থেকে জীবনটা ধ্বংস করে দিয়েছিস। ভিতুর বাচ্চা!! তদের মতো ভিতুদের এভাবেই ছিড়ে খুরে রাস্তায় ফেলে দেওয়া উচিত। তরা তো নিজেরাই নিজেদেরকে সম্মান করতে জানিস না। আবার অন্যরা কিভাবে সম্মান করবে? আজ মনুষ্যত্ব দেখিয়ে এদের ছেড়ে দেই? কাল আবারও গভীর রাতে কোনো কিশোরীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ুক। বিশ্বাস কর তকে নিয়ে আমার কোনোদিন আফসোস ছিলো না। আমার কাছে আজও তুই ততোধিক পবিত্র যতটা সদ্য জন্ম নেওয়া শিশু থাকে। কিন্তু তুই আমার মনের মতো না,, কোনোদিন হতেও পারবি না। সর!! কুত্তার বাচ্চা।
,,, ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিতেই তৎক্ষণাৎ তাজা রক্ত ছিটকে পড়লো দ্বীপের চোখে মুখে,, রক্তের স্বাদ যেনো আরও উন্মাদ করে দিলো অর্পনাকে। যার বুকে কুঠার চালিয়েছিলো তার বুকে এলোপাথাড়ি হাড়ে কুঠার চালাতে লাগলো। বুকের প্রতিটি হাড় মর মর করে ভাঙছে। লোকটা প্রায় অর্ধমৃত ছিলো,, জিহ্বা আর দাঁত না থাকায় গলা ফুঁড়ে গর গর শব্দ ব্যতীত কিছুই উচ্চারিত হলো না। গত এগারো দিনের নির্মম টর্চারের কারণে কোমর থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত অবশ হয়ে আছে। যার ফলে প্রাণ ত্যাগ করার সময় পা দুটো চলাচল করতে পারলো না। হাত বাঁধা থাকার ফলে হাত দুটো মুচড়ে উঠলো। লোকটার এই মরণচিৎকার আত্মতৃপ্তি দিচ্ছে অর্পনাকে। সে মনে জমে থাকা রাগ, ক্ষোভ মেটাতে একজনের পর একজনকে বিশ্রামহীন কোপাতে লাগলো। দ্বীপের ঠোঁটে বিজয়ের হাসি,, সে তো তার বউকে এমন রূপেই দেখতে চেয়েছিলো। চার বছর আগে যাদের স্পর্শে অর্পনা কলঙ্কিত হয়েছিলো আজ তাদের রক্তে গোসল করে সেই কলঙ্ক ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছে। দ্বীপ অন্যায়ের বদলে ক্ষমা করতে শেখেনি,, ওসব ভালো মানুষের কাজ। ভালো মানুষরা শুধুই হারায়,, নিজেদের বিলিয়ে দেয়। আর যারা অমানুষ,, তারা নিজেদেরটা আদায় করে নিতে জানে,, একদিনের জন্য হলেও নিজেকে রাজা মনে হয়,, সবকিছুর ঊর্ধ্বে নিজের স্বার্থ। যে আমায় আঘাত করলো তাকে ফিরতি আঘাত নয় বরং সে যেনো আর কাউকে কখনো আঘাত করতে না পারে সেই ব্যবস্থা করে দিতে হয়। যে টক্সিক সে সারাজীবন টক্সিকই থাকবে। যে একটা খুন করতে পারবে সে আরও দশটা খু*ন অবলীলায় করে ফেলবে। তাই প্রথম ভুলের পরেই তাকে শেষ করে দাও,, তাহলে বাকি দশটা ভুল স্বচক্ষে দেখতে হবে না। দ্বীপ তার রক্তে ভেজা অর্ধাঙ্গিনীর দিকে তাকিয়ে রইলো,, এই রুমে হরিণীকে আরও সুন্দর লাগছে। আরও একবার ফেঁসে গেলো দ্বীপ,, সেকেন্ডের গতিতে রক্তে রাঙা বধূর প্রেমে পড়ে গেলো। সে ঠোঁট নাড়িয়ে উৎসাহ দিলো — গোপন থে*তলে দাও।
৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪৪
,,, স্বামীর উৎসাহ পেয়ে মরন খেলায় মেতে উঠলো অর্পনা,, কুঠারের হাতল দিয়ে বারি মারলো রে*পিস্টের গোপন জায়গায়। ঘুড়িয়ে পেচিয়ে থে*তলে দিলো জায়গাটা। পরবর্তীতে আবারও কো*প বসালো মন মতো জায়গায়। প্রতিটি কো*পের সাথে সাথে ঝড়ে পরলো তার মনে জমে থাকা ভয়, শংকোচ, সকল অপূর্নতা। শরীরে যেন দানবীয় শক্তি আর সামর্থ্য ভর করেছে যার সবটাই স্বামীর দেওয়া প্রস্রয় থেকে পাওয়া। বিহান কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে বুকে হাত বেধে দুই হাসবেন্ড ওয়াইফের কার্যক্রম দেখতে লাগলো। অর্পনার মারার স্কিল দেখে তার মনে পরে গেলো ঘন্টা দেরেক আগের কথা যখন দ্বীপ ঠান্ডা মাথায় পাঁচ জনকে টর্চার করেছিলো। এতোটা ঠান্ডা মাথায় কাউকে,,
