Home ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫১ (২)

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫১ (২)

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫১ (২)
রুপান্জলি

গভীর ঘুমে থাকা অর্পনা অনুভব করলো তাকে কেউ জড়িয়ে ধরছে,, ধীরে ধীরে কোলে তুলে নিচ্ছে,, অর্পনা জানে এটা কে। অন্য দিন গুলোতে প্রশ্রয় দিলেও আজ সে প্রশ্রয় দিবেনা। এই লোক তখন ওকে পাত্তা দেয়নি তাইনা? এখন সেও দিবেনা,, দিবেইনা। মনে মনে নিজেকে শক্ত করে চোখ মেলে তাকানোর চেষ্টা করলো তবে গভীর ঘুমের কারনে তা হয়ে উঠছে না। অর্পনা অনুভব করলো দ্বীপ ওকে কোথাও একটা নিয়ে যাচ্ছে,, কিন্তু কোথায়? জানা নেই,, তবে গায়ে হালকা বাতাসের আস্তরণ পরতেই আপনা আপনি অর্পনা চোখের পর্দা উন্মুক্ত হলো। সে দ্বীপের দিকে তাকিয়ে ঘুমঘুম কন্ঠে সুধালো — আমায় কোলে নিয়েছেন কেনো? নামান বলছি নয়তো আপনার হাত ভে,,

,,, কথা শেষ না করেই আবারও ঘুমে তলিয়ে গেলো,, চোখ মুখ গম্ভীর করে অর্পনার ঘুমন্ত মুখশ্রীতে তাকিয়ে রইলো দ্বীপ,, মুখে ডাকলো না বরং হালকা করে ঝাকি দিলো,, ধরফরিয়ে উঠলো অর্পনা,, সম্পূর্ণ হুস আসতেই নাক মুখ কুচকে দ্বীপের থেকে ছাড়া পেতে চাইলে দ্বীপ ফ্যাসফ্যাসে কন্ঠে বললো — এই!! লাফালাফি করবে না একদম, আকাশে তাকাও।
,,, অর্পনা ভ্রু কুচকে আকাশের দিকে তাকালো,, সাথে সাথে একটা বিকট শব্দ হলো,, সেই শব্দের সাথে সাথে আকাশে আলো জ্বলে সুনিপুণ ভঙ্গিতে ঘরির কাটা ভেসে উঠলো,, 10,9,8,7,6,5,4,3,2,1,0,,,,
Happy birthday My Blood Valora “” “”Happy birthday My litte piyasa “” Happy birthday My life line””

,,,অর্পনা অবাক চোখে সেদিকে তাকিয়ে রইলো,, আজ তার জন্মদিন,, এটা এই লোক জানে? কিভাবে জানলো? ওহ!! উনি তো তার সবকিছুই জানে,, আগে থেকেই খোজ নিয়ে রেখেছেন কিনা? জানবেই তো। ভেবেই মনে মনে বিরক্ত হতে চাইলো তবে পারলো না। এতো সুন্দর সারপ্রাইজ পেয়ে রাগ অভিমান সব হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো। সে অবাক চোখে প্রতিটি লেখা পর্যবেক্ষণ করছে। অর্পনার অবাকতার মাঝে দ্বীপ মুখ নামিয়ে ওর কানের কাছে ফিসফিস করে বললো — হেপ্পি বার্থডে ওয়্যাফি!!
,,, অর্পনা মুচকি হাসলো,, দ্বীপের গলা জড়িয়ে সেও দ্বীপের কানে কানে ফিসফিস করে বললো — হেপ্পি বার্থডে হাসবেন্ড!!
,,, এই পর্যায়ে দ্বীপ নিজেও অবাক হলো — তুমি কি করে জানলে আজ আমার জন্মদিন?
— অর্পনা দ্বীপের গলায় মুখ গুজে ঘুমু ঘুমু কন্ঠে সুধালো — ডায়েরিতে লেখা ছিলো তো,, মার্চের ৩ তারিখে আপনার আর বিহান ভাইয়ার জন্মদিন। তখন আমি বেশ অবাক হয়েছিলাম। আপনারা যেদিন এসেছিলেন আমিও তার ৯ বছর পর সেদিনি এসেছিলাম। হাও কো-ইন্সিডেন্ট ব্রো।

,,, আমি তোমার ব্রো?
,,, না না, আপনি আমার হাসবেন্ড।
,,, দ্বীপের গম্ভীর মুখে হালকা হাসি ফুটলো। বর্তমানে আকাশ বেশ পরিস্কার। পূর্নিমা চলার দরুন চাঁদের অবস্থান একদম মাথার উপরে,, সেই চাঁদের আলোয় অর্পনার ঘুমন্ত ত্যালত্যালে মুখটা বড্ড মোহনীয় ঠেকছে,, দ্বীপ অত্যন্ত মধুর স্বরে ডাকলো — এই ময়না!!
,,, এরুপ ডাকে অর্পনার বুকটা কেমন করে উঠলো, সে অবলীলায় উত্তর করলো — হু?
,,, তুই খুব খারাপ, আমায় খুব কষ্ট দিস।
,,, আপনিও খারাপ।
,,, তাহলে খারাপ মানুষের গলায় মুখ গুজেছিস কেনো?
,,, অর্পনা মুখ গুজে রেখেই বললো– আপনি খারাপ মানুষকে কোলে নিয়েছেন কেনো?

,,, দ্বীপ শক্তপোক্ত একটা ঢোক গিললো,, অর্পনার এই হুটহাট মুখ গুজে রাখাটা তাকে বড্ড জ্বালায়। মন জুড়ে উল্টো পাল্টা নিষিদ্ধ অনুভূতিরা হানা দেয়। মানুষ বহুক্ষন ধরে নেশা করলে কন্ঠ যতটা মাদকীয় হয়,, তার থেকেও অধীক মাদকিয় স্বরে আরজি জানালো দ্বীপ — তকে খুব আদর করতে ইচ্ছা করছে,, একটু আদর করলে রাগ করবি?
,,, অর্পনা কিছু বললো না বরং দ্বীপকে অবাক করে দিয়ে ওর গলা থেকে মুখ তুলে হুট করেই দ্বীপের উষ্ঠ যুগল দখল করে নিলো। আকষ্মিক কান্ডে একটু অবাক হয়েছে দ্বীপ, তবে সাথে সাথেই নিজেকে সামলে নিয়েছে। সে অর্পনাকে নিয়ে বারান্দায় রাখা ছোট কাউচটার উপর বসে পরলো, চাদের আলো সরাসরি তাদের উপর পরছে,, দ্বীপ কঠোর হলো,, সময় নিয়ে অর্পনার উষ্ঠে তীব্র ভাবে অধীকার ফলালো। অর্পনার অভিব্যাক্তিও সেইম ছিলো। দুজন ডেস্পারেট পারশন একসাথে হলে যতোটা ধ্বংস যোগ্য সাধিত হয় ততটাই ঘটলো কয়েক মিনিট যাবত। একটা সময় দুজনেই সরে এলো,, দুজনার নিশ্বাস গভীর,, দুজনের চোখেই মাদকতা,, দ্বীপ ফের আবদার জানালো — এগেইন প্লিজ!!
,,, বলতে বলতে নিজ উদ্যমেই আবারও অর্পনার উষ্ট দখল করে নিলো, এই পর্যায়ে দুজন আরও বেখেয়ালি হলো,, একদম মাত্রার বাহিরে। দ্বীপের হাতের অবাধ্য বিচরণ টের পেলো রমনি, গোঙিয়ে উঠলো,, তবে বাধা দিলো না। সে বাধা না দিলেও বাধা দেওয়ার জন্য তৎক্ষনাৎ ফোনে মেসেজের টোন বেজে উঠলো। এই টোন টুকুতে কিছু একটা ছিলো যার ফলে দ্বীপ সাথে সাথে অর্পনাকে মুক্ত করে দিতে বাধ্য হলো। বিহান মেসেজ দিয়েছে,, দ্বীপ ঠোঁট নাড়িয়ে দুটো বাজে গালি ছুড়লো। ছেলেটা মেসেজ দেওয়ার আর সময় পেলো না? দ্বীপের কান্ডে বোধহয় অসন্তুষ্ট হয়েছে অর্পনা, মুখ গোমরা করে বসে রইলো,, বিষয়টা বুঝতে পেরে দ্বীপ অর্পনার নাকে চুমু খেয়ে বললো — আবার আদর করবো এখন চলো তোমায় কিছু দেখাই।

,,, এই পর্যায়ে কিছুটা লজ্জা পেলো অর্পনা,, সে কি এজন্য রাগ করেছে নাকি? সে তো দ্বীপের মুখে বাজে গালি শুনে মুখ ফুলিয়েছিলো। অর্পনাকে লজ্জা পেতো দেখলে সত্যি ই অবাক হয় দ্বীপ,, এই মেয়েটার সাথে লজ্জা শব্দটা যায়না,, কেমন যেনো খাপ ছাড়া মনে হয়। এইতো কিছুক্ষণ আগেও তা প্রমান হলো। অর্পনার সাথে লজ্জা জিনিসটা খাপ খায়না বলেই হয়তো ওকে লজ্জা পেলে দারুন লাগে,, হুটহাট তো এই রুপের দর্শন মিলেনা তাইনা? অর্পনা উৎসুক হয়ে দ্বীপের দিকে তাকিয়ে,, উনি কি দেখাবেন ওকে? অর্পনার উৎসুকতার ভীর কমিয়ে দ্বীপ ওকে আবারও কোলে তুলে নিয়ে উঠে দাড়ালো,, বিচের দিকে ইশারা করে বললো — স্ট্রিট সামনে তাকাও।
,,, অর্পনা সোজা বরাবর সামনে তাকালো,, সাথে সাথে বিচের মধ্যেখানে আলো জ্বলে উঠলো,, আলোর জ্বলকানির সাথে সাথে ভেসে এলো অনেক গুলো স্বর — Happy Birthday The Hurd couple,,
,,,অর্পনা এবার অবাকের চরম সীমানায়,, তার চার মূর্তি দাড়িয়ে আছে। তার থেকে কিছুটা দূরে,, ঐতো বিচের পারেই। সাথে বিহান, পরশী। ওকে জন্মদিনের সুভেচ্ছা জানিয়ে অরুন আর পল্লব বিহানের সাথে মোলাকাত করলো। নিশ্চই জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে? ওখানকার জায়গাটা খুব সুন্দর করে সাজানো,, লাইটিং আর রং বেরঙের বেলুনে জ্বল জ্বল করছে প্লেসটা। অর্পনা উত্তেজনায় লাফিয়ে উঠলো, আবদার জানালো — চলুন না, ওখানে যাই,, আমি ওদের কাছে যাবো।
,,,দ্বীপ এর আগে কখনোই মেয়েটাকে এতো খুশি দেখেনি,, তার খুব ভালো লাগছে। ইচ্ছা করছে প্রতিদিন অর্পনার জন্মদিন আসুক আর সে এভাবেই একটার পর একটা সারপ্রাইজ দেওয়ার সুযোগ পাক।আর অর্পনা সারা জীবন এভাবেই হাসতে থাকুক,, দ্বীপ ঠোঁটে ক্ষীণ হাসি ফুটিয়ে বললো — এত্তো সুন্দর একটা প্লেইসে এভাবে যাবে,, এই শার্ট আর জিন্স পরে?

,,, অর্পনা কাধ উচালো মানে তাহলে কি পরে যাবে? দ্বীপ কিছু বললো না, অর্পনাকে নিয়ে রুমে চলে গেলো,, ওকে বিছানায় বসিয়ে আলমারি থেকে একটা শপিং ব্যাগ বের করে এগিয়ে দিলো,, অর্পনা নিলো সেটা, খুলে দেখলো,, খোলার পর আরও অবাক হয়েছে মেয়েটা। এটা একটা রেড কালারের প্রিন্সেস গাউন,, যেটা সে কিছুদিন আগেই ইন্সটাতে দেখেছিলো। দেখার সাথে সাথেই ইগনর করে দিয়েছিলো কারন তার সাথে এসব যায়না। যখন অর্পনার মাম্মা অর্পনার সাথে থাকতো তখন প্রতি বছর সে এরকম গাউন পরে, প্রিন্সেস সেজে কেক কাটতো। তারপর যখন মাম্মা নিজের দুনিয়া খুজে নিলো অর্পনাও হাড়িয়ে গেলো ঘোর আমানিশায়,, তার জীবনটা তলিয়ে গেলো তীব্র অন্ধকারে। সেই অন্ধকার থেকে আর ফিরা হলো না। অর্পনা গাউনটা ছুড়ে মারলো,, সাথে সাথে সেটা ক্যাচ নিয়ে নিলো দ্বীপ,, অর্পনা ফুসে উঠে বললো — আপনাকে সাহস দিয়েছে কে এটা আনার? আমি এসব পরবো না,, ভালোয় ভালোয় এটা সরান নয়তো এটাতে আগুন জ্বালিয়ে দিবো।।
,,, দ্বীপ এবার নিজের গম্ভীর রুপে ফিরে এলো,, সে জানে এই মেয়েকে বর্তমানে আদরে মানানো যাবে না। আদর দিলে আরও জেদ করবে,, বেকে বসবে। সুতরাং সে কিছুটা ধমকের স্বরেই বললো — তুমি এটাই পরবে আর এখোনি পরবে। তোমার অতিতে কি হয়েছে আমি জানতে চাইনা ভেলোরা, এখন তুমি বর্তমানে আছো,, আমার কাছে আছো,, সুতরাং তুমি সেটাই করবে যেটা আমি বলবো। নরম আচরন করছি বলে ভেবোনা দ্বীপ মির্জা স্বভাবতই এমন,, আমার স্বভাব সম্পর্কে নিশ্চয়ই ধারনা আছে তোমার? দুই মিনিটে ড্রেস চেন্জ করে নাও,, আমি বারান্দায় দাড়াচ্ছি।

,,, বলেই ড্রেসটা দিয়ে হনহন করে বারান্দায় চলে গেলো, অর্পনা অনেকটা সময় চুপচাপ বসে রইলো। অনেক কল্পনা ঝল্পনার পর ঠিক করলো সে ড্রেসটস পরবে। লোকটা তার জন্য এতোকিছু করছে আর সে সামান্য এই কথাটুকু রাখতে পারবে না? ওহুম,, রাখা উচিৎ। কেউ কোনোকিছু দিলে সেটা ফিরিয়ে দিতে নেই, আর সেটা যদি হয় আপন মানুষের এফোর্ট তাহলে তাতে শায় দেওয়াটা আবশ্যক,, নয়তো সেই এফোর্ট টুকুর মূল্য থাকলো কই? অগত্যাই ড্রেসটা পরে নিলো। ড্রেস পরার সময় উকি ঝুঁকি দিয়ে দেখলো দ্বীপ ভুলক্রমেও এদিকে তাকায় কিনা। নাহ!! তার হাসবেন্ড বড্ড ভদ্রলোক,, একবারও এদিকে তাকায়নি। অর্পনা দ্বীপের দিকে একটা উরন্ত চুমু প্রোভাইট করে নিচু স্বরে বললো — শেষ,, ভীতরে আসুন।

,,, রুমে এলো দ্বীপ,, অধ্ব প্রান্ত অর্পনা জামানকে দেখে এক প্রকার থমকে গেলো সে। দ্বীপের মনে হলো তার সামনে ফেইরি ট্যালেস এর সেই লম্বা চুলের রুপানজেল দাড়িয়ে আছে। এই পর্যায়ে দ্বীপের মনে এক অদ্ভুত ইচ্ছা জাগলো,, সে তার ভেলোরাকে খুব দ্রুতই রুপান্জেলের বেশে দেখেতে চায়। তার জন্য হয়তো অনেক এসোসোরিজের প্রয়োজন,, ঐট্স ওকে!! সেসব খুব দ্রুতই কালেক্ট করে নিবে সে। দ্বীপকে এভাবে মুগ্ধতা নিয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে অর্পনা ভ্রু নাচিয়ে বললো– খুব সুন্দর লাগছে?
,,,, দ্বীপ অর্পনার কাছাকাছি এসে এলোমেলো চুলগুলো আঙুল দ্বারা আচরে দিলো,, কটা চুল সামনে এনে কপালের ছোট ছোট চুল গুলো ঠিক করতে করতে বললো– তুমি যদি বিশ্বাস করো তবে বলতে পারি,, তোমায় সেই কল্প-কুমারীর মতো লাগছে,, যাকে আমি রোজ কল্পনায় সাজাই। তোমায় দেখে মনে হচ্ছে তুমি গল্পের জগত থেকে বেড়িয়ে আসা কোনো রাজ্যের রাজকন্যা যাকে ছোয়ার যোগ্যতা আমার নেই। তোমায় এতোটাই সুন্দর লাগছে যে,, আমি বাক হাড়াচ্ছি,, কথা গুলিয়ে ফেলছি,, নিজেকে বড্ড অসহায় ফিল হচ্ছে ভেলোরা। তুমি আমায় এতোটা দূর্বল না করলেও পারতে।

,,, দ্বীপের এই সরল স্বীকারোক্তি গুলো অর্পনার ভালো লাগছে, আবার অর্পনার এই প্রশ্রয় দেওয়াটুকু ও দ্বীপের ভালে লাগছে। আজ মনে হচ্ছে তারা সত্যি সত্যি ই স্বামী স্ত্রী,, এতোদিন নিজেদের স্রেফ প্রতিদ্বন্দ্বী মনে হয়েছিলো। অর্পনা দ্বীপের বুকে অঙুল দিয়ে গুল গুল ঘর আকতে আকতে বললো–
,,, আমার পুরুষটা ধীরে ধীরে প্রেমিক পুরুষ হয়ে যাচ্ছে না?
,,, যাচ্ছে বুঝি?
,,, যাচ্ছে তো,, একদমি প্রেমিক প্রেমিক হয়ে যাচ্ছে।
,,, তাহলে তুমি আমার প্রেমিকা হওনা!!
,,, তবে যে আপনায় প্রেমিকের ন্যায় আমার পিছু পিছু ঘুরতে হবে জনাব।
,,, ঘুরলে পাত্তা পাবো তো?
,,, প্রেমিকরা হুট হাট পাত্তা পায়না জনাব,, তাদের বহু কষরত করে, বারংবার ব্যার্থ হয়ে, ব্যার্থতা সহ্য করে, প্রেমিকার মন যোগাতে হয়। তারপর যদি প্রেমিকার মন গলে,, একটু দয়া হয়,, তখনি প্রেমিক পুরুষরা পাত্তা পায়। ভালোবাসাটা হুটহাট হলেও প্রেম কিন্তু হুটহাট হয়ে যায়না। প্রেম হচ্ছে সাধনা যার মূল মন্ত হচ্ছে ভালোবাসা। ভালোবাসা ছাড়া প্রেম হয়না,, প্রেম ছাড়া ভালোবাসা পূর্নতা পায়না।
,,, অর্পনার দীর্ঘ কথায় ওর নাক টেনে দিলো দ্বীপ, বললো — আমার বউটা প্রেম বিশারদ হয়ে যাচ্ছে না?
,,, যাচ্ছে বুঝি?
,,, যাচ্ছে তো,,

,,, অর্পনা আর দ্বীপ লাইটিং এড়িয়াতে পা রাখতেই চার মূর্তি দৌড়ে এলো,, অরুন আগে ভাগে এসে অর্পনার মাথায় চাটি মেরে বললো — হেপি পয়দা ডে বান্ধরি।
,,, ইরা পল্লবের পায়ে লাথ মেরে দূরে সরিয়ে অর্পনাকে ঝাপটে ধরে বললো — হেপি বার্থডে সোনা,,
,, রাত্রি এসে দুজনকে একসাথে জড়িয়ে ধরে বললো — তুই আজ জন্ম না নিলে আমরা তকে কোথায় পেতাম বল?
,,, পল্লব দুহাতে রাত্রি আর ইরার চুল টেনে ধরে বললো — এই সর শাঁকচুন্নির ছানাপোনারা,, বান্ধবী!! তুই আর তর জামাই তো ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করে ফেললি রে,, একই দিনে দুজানর বার্থডে,, বাহ বাহ!! সাথে তর দেবরের ও। তরা তো ট্রিপল এওয়্যার্ড ডিসার্ভ করিস। এই সবাই হাত তালি দাও। ( রাত্রির চুল টেনে) হাত তালি দে,,
,,, রাত্রি চুলের ব্যাথায় ঠোট উল্টে আছতে করে হাত তালি দিলো,, সাথে সাথে সবার হাত তালির জোয়ারে মুখরিত হলো চারিপাশ। অর্পনার আজ বেশ সুখ সুখ লাগছে,, এতোটা খুশি সে কখনোই হয়নি,, সেদিন রাইডিং এর থেকেও কয়েকগুণ আনন্দ লাগছে আজ। সে আড় চোখে দ্বীপের দিকে তাকালো,, লোকটা তার দিকেই তাকিয়ে। পরশী এতোক্ষণ বিহানের সাথে টাকা পয়শা নিয়ে ঝামেলা করছিলো,, অর্পনাকে ফ্রী হতে দেখে সে ছুট্টে এসে ওর গলা জড়িয়ে ধরে গালে চুমু খেয়ে বললো– আমার কিউট ভাবিটা,, আমার মনাটা,,আমার সোনাটা,, তোমাকে কত্তো কিউট লাগছে।
অর্পনা পারশীকে জড়িয়ে ধরে বললো — তোমাকেও খুব কিউট লাগছে ননদিনী,, একদম প্রিটি লিটল বেবি লাগছে।

,,, পড়শী আড় চোখে পল্লবের দিকে তাকালো,, পল্লব ইরার সাথে ফোনে কি যেনো দেখছে,, সে অর্পনার কানে কানে ফিসফিস করে বললো — তাহলে তোমার বন্ধু কেনো আমায় দেখছে না? দেখতে দেখতে উল্টে পরছে না কেনো?
,,, অর্পনা মলিন হাসলো,, পরশীর মাথায় হাত বুলিয়ে বললো — পুরুষ কখনো সৌন্দর্য দেখে উল্টে পরেনা ননদিনী,, পুরুষ মায়ায় পরে উল্টে পাল্টে মচকে যায়। আমার বন্ধুকে আগে মায়ায় বাধতে হবে,, তারপর না উল্টে পাল্টে যাওয়া।
,,, পরশী জ্ঞানীদের মতো মাথা ঝাকালো,, আজ থেকে তার নতুন মিশন শুরু,, পল্লবকে জ্বালানো,, জ্বালাতে জ্বালাতে মায়ায় ফালানো। পরশী অর্পনার গলা ছেড়ে ওর হাত ধরে বললো — চলো ভাবি, বাজি ফাটাবো। বাজি ফাটাতে অনেক মজা। চলো, চলো!!

,,, বলতে বলতে ওকে টেনে অরুন, ইরা, রাত আর পল্লবের কাছে নিয়ে যেতে লাগলো,, অর্পনা মানা করলো না। আজ তার মানা করতে ইচ্ছাই করছে না,, আজ সে খুব খুশি। অরুন অনেকগুলো বাজি একত্র করে জ্বালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে,, এগুলো আতশ বাজি, বারুদে আগুন ছুলেই তীব্র শব্দ তুলে আকাশে উড়ে এদিক ওদিক ছড়িয়ে যায়। এই সবগুলো একসাথে ফাটালে নিশ্চই মারাত্মক হাড়ে শব্দ হবে? বুঝতে পেরে পরশি অর্পনার বাহু খুব শক্ত করে ধরলো,, ইরা এসবে অভ্যস্ত,, তাদের ক্রিসমাসে ওরা অনেক অনেক বাজি ফাটায়। এখানে সে যতোখানি শান্ত বাড়িতে তার থেকেও বেশি অশান্ত,, এখানে সবাই ওকে ধৈর্যশীল আর ঠান্ডা মস্তিষ্কের অধীকারি মনে করে অথচ বাস্তব রুমজাহিন ইরাদ আলাদা। তাই সে গাট হয়ে দাড়িয়ে অরুনের কার্যকলাপ দেখছে। রাত্রি ভয়ে দুহাতে মুখ ঢেকে আঙুলের ফাক দিয়ে অরুনের দিকে তাকিয়ে আছে,, যখনি অরুন আগুন ধরাবে তখনি সে দুহাতে মুখ ঢেকে মাটিতে বসে পরবে। রাত্রিকে এভাবে মুখ ঢেকে রাখতে দেখে পল্লব ফ্যাসফ্যাসে গলায় বললো — এইযে ড্রামা কুইনের ড্রামা শুরু হয়ে গিয়েছে,, এভাবে ভয় পেলে তর মায়ের কোলে গিয়ে বসে থাক। ভীতুর ডিম!!

,,, রাত্রি মুখ বাকালো,, পল্লবের বাহুতে ঘুসি মেরে আবারও মুখ ঢেকে বললো — তর কি আলুর চপের বাচ্চা, জিলাপির প্যাচ, বাঙ্গির নাতি, শরবতের চিনি।
,,, পরশী এতোক্ষণে অর্পনার হাত ছেড়ে দিয়েছে,, পল্লবের কথায় বুঝলো পল্লব ভীতুদের পছন্দ করেনা তাই নিজেকে খুব সাহসী প্রমান করার চেষ্টা করলো। ইরা চোখে মুখে সিরিয়াসন্যাস বজায় রেখে রাত্রিকে বললো — রাত!! তুই মনে হয় ইদানিং বেশি বেশি টিকটক দেখিস।
,,, কেনো কেনো? এমনটা কেনো বললি? (রাত্রি)
,,, ইরা ঠোঁট টিপে হেসে বললো — এইযে টিকটকারদের মতো রমজান স্পেশাল হালাল গালি ছুড়ছিস যে।
,,, ইরার কথায় খিক খিক করে হেসে দিলো অরুন আর পল্লব,, সাথে ইরা আর পরশীও হাসলো কিন্তু অর্পনার ঠোটে হাসি নেই। তার মন আপাতত এদিকে নেই,, সে বার বার ফোন দেখছে। কারন, তার পাপ্পা তাকে এখনো কল দেয়নি,, একটা মেসেজ ও দেয়নি,, পাপ্পা কি ভুলে গিয়েছে আজ তার বার্থডে? পাপ্পা তো আগে কখনো এমন করেনি,, আগে তো দূরে থাকলেও ঠিক বারোটার সময় কল দিয়ে উইস করতো। অর্পনার চোখ জ্বালা করে উঠলো,, বিন্দু বিন্দু জল জমা হলো চোখে। পাপ্পাটা দিনদিন বাজে হয়ে যাচ্ছে,, সে শ্বশুর বাড়ি আছে বলে হয়তো তাকে ভুলেই গিয়েছে। সবার সাথে সাথে অরুনকে হাসতে দেখে ব্যাথিত হলো রাত্রি,, অরুনটা তো তার ভালোবাসা লাগে,, তাহলে ওর অপমানে হাসছে কেনো? সে অগত্যাই অরুনের উদ্দেশ্যে আবেগি স্বরে বললো — অরুন!! তুই ও ওদের পক্ষে? যা আজ থেকে ব্রেক আপ।

,,, অরুন আতকে উঠলো, এক হাতে লাইটার রেখে অন্য হাত বুকের বাম পাশে রেখে ঘষতে ঘষতে বললো — এসব বলেনা প্রিয়া, বুকে ব্যাথা হয়তো।
,,, রাত্রি মুখ বাকালো,, তারমানে ব্রেক আপ হয়েছে মানে হয়েছেই। অরুন পাত্তা দিলোনা, একটু পর দুটো চুমু দিয়ে রাগ ভাঙিয়ে নিবে,, রাত তো তারই,, কেউ তো আর নিয়ে নিচ্ছেনা তাইনা? ইরা আর পরশী বাজি ফাটানোর জন্য তাড়া দিলো। অরুন লাইটার জ্বালিয়ে বাজির শুতোয় আগুন ধরাতেই সব গুলো একসাথে শো শো শব্দ করে আকাশে উড়ে গিয়ে ঠাস ঠাস শব্দে পরিবেশ চনমনো হয়ে উঠলো। পরশী নিজেকে সাহসী দেখাতে চাইলেও একসাথে এতোগুলা শব্দ সহ্য করতে না পেরে অর্পনাকে ঝাপটে ধরলো। দূর থেকে বিরক্ত হলো দ্বীপ,, এই মেয়েটা হুট হাট তার বউকে জড়িয়ে ধরে, বাসায় নিয়ে ভালো মতো একটা শিক্ষা দিতে হবে। রাত্রি মনে মনে ভেবেছিলো শব্দ হওয়ার সাথে দুহাতে মুখ ঢেকে বসে পরবে কিন্তু ভাবনা মাফিক কিছুই হলো না,, সে ভুল করে তীব্র ভয়ে তার চরম শত্রু পল্লবের বাহু চেপে ধরে তাতে মুখ গুজে দিলো। চমকে উঠলো পল্লব,, রাতের ধরে রাখা হাতটা শিথিল হয়ে এলো,, তাতে কোনো বল পেলোনা পল্লব। সে একবার রাতের খিচিয়ে রাখা মুখটার দিকে তাকিয়ে আবার অরুনের দিকে তাকালো। অরুন আকাশের দিকে তাকিয়ে,, এদিকে তাকানোর আগেই তাড়াহুড়ো করে রাত্রির হাত থেকে বাহু ছাড়িয়ে নিলো পল্লব। দ্রুত কদমে অরুনের কাছে এগিয়ে গিয়ে ওর কাধে হাত রেখে পেচিয়ে ধরে বললো– এটা কি হলো ভাই? শব্দই হলো না,, জমলো ব্যাপারটা? আজ আমাদের মোস্ট আন-ফেভারিট কাপলের জন্মদিন। আমাদের উচিৎ বোমা মেরে অর্পনা আর অর্পনার জামাইয়ের খোরমা উড়িয়ে দেওয়া। ধূর জমলো না,,

,,,পল্লবের কন্ঠে আফসোস,, অরুন পল্লবের পেটে কনুই দিয়ে গুতো মেরে বললো — এটা আন-ফেভারিট না ওটা ডিজ-লাইক্ড হবে।
,,, পল্লব ধুমধাম মারলো অরুনকে অরুন ও মারলো। দুজন মারামারিতে মেতেছে অথচ কেউ ওদের পাত্তা দিচ্ছেনা। এই দুটো হাসতে হাসতে মারামারি করে আবার হাসে।
,,, সবাইকে নিজেদের মধ্যে আনন্দ করতে দেখে বিহান এগিয়ে এসে দ্বীপকে জড়িয়ে ধরলো,, বললো — আরও এক বছর বউয়ের জ্বালাতন সহ্য করার জন্য অগ্রীম সুভেচ্ছা। হেপি বার্থডে ভাই!!
,,, দ্বীপ ও জড়িয়ে ধরলো বিহানকে, মোলাকাত করে বললো — হেপি বার্থডে!!
পরপরি বিহানকে ছেড়ে দিলো। বিহান মুখ তুলে তাকাতেই তার কপালে তিনটে ভাজ পরলো। সে দ্বীপের সামনে পিছনে ঘুরে ঘুরে উকি ঝুঁকি মেরে কি যেনো পর্যবেক্ষণ করছে,, চোখে মুখে সন্দেহ সন্দেহ ভাব। একবার মুখের দিকে তাকাচ্ছে আরেকবার গলার দিকে,, বিহানের কান্ডে ভ্রু কুচকালো দ্বীপ!! ফ্যাসফ্যাসে গলায় সুধালো — কি?
,,, বিহান চোখ ছোট ছোট করে বললো — ভাই!! তুই কেমন গ্লো করছিস,, কি হয়েছে রে? ঠোঁট টা ফুলো ফুলো লাগছেনা? গলায় ও কিসব যেনো,,, ভাই তর বউ কি তকে চুমু টুমু খেয়েছে নাকি? প্লিজ হ্যা বলিস না,, আমি হার্ট এটাক করে ফেলবো। বিশ্বাস কর তর বউয়ের সাথে এসব যায় না,, তার মতো নিরামিষ অন্তত চুমু খেতে পারেনা।
,,,দ্বীপের ঠোঁটে মৃধু হাসির রেখা ফুটলো,, সে দূরে বাজি ফাটাতে থাকা অর্পনার দিকে তাকিয়ে বিরবির করলো — সি ইস টুটাল্লি ডেসপারেট। লাইক,, মাই টাইপ।

,,, কি বললি? বুঝতে পারিনি।
,,, বলেছি, ড্রামা না করে উনাকে কল দে,, জিজ্ঞেস কর আর কতদূর আছেন।
,,, তর বউয়ের খুশির জন্য কবে না জানি আমার জানটাই কুরবান যায়,, তীব্র সন্দেহে ভুগছি ভাই।
,,, বউ চাইলে আমি নিজের জানটাই কুরবান করে দিবো সেখানে তুই জিনিসটা আহামরি কিছু না।
,,, দ্বীপের কথায় ব্যাথিত হলো বিহান,, কাদো কাদো মুখ করে দ্বীপের কাধ জড়িয়ে বললো — এটা বলতে পারলি জোহান? আমি না তর ভাই? বউয়ের জন্য ভাইকে মেরে ফেলবি?
,,, দ্বীপ বিহানের হাতের দিকে তাকিয়ে বিরক্তিকর কন্ঠে বললো –আমি আগে ভাবতাম, পরশীটা কার মতো হয়েছে,, এখন তকে দেখার পর উত্তরটা মিললো।
,,, বিহান হাসলো, আরও শক্ত করে দ্বীপের কাধ পেচিয়ে ধরলো,, তখনি দ্বীপের ফোনে টুং করে মেসেজ আসার শব্দ হলো। দ্বীপ মেসেজটা পরে গম্ভীর স্বরে অর্পনাকে ডাকলো — ভেলোরা!!

,,, অর্পনা ফোনের দিকে তাকিয়ে ছিলো,, হঠাৎ অতি পরিচিত ভারি, গম্ভীর স্বরে নিজের নাম শুনে লোকটার দিকে তাকালো। দ্বীপ ঠোঁটে মৃধু হাসি ফুটিয়ে বিহানকে নিয়ে সরে গেলো। দ্বীপ আর বিহান সরে যেতেই অর্পনার চক্ষু শীতল হয়ে এলো,, মলিন মুখোবীবর উজ্জ্বল হয়ে এলো, চোখে জমা পানিটুকু বাধ ভাঙা ঢেউয়ের ন্যায় গড়িয়ে পরলো। অর্পনার পাপ্পা আসছে,, ঐতো অন্ধকারের পথ মারিয়ে তাদের দিকেই এগিয়ে আসছে,, অর্পনা স্থির থাকতে পারলো না। পাপ্পার দিকে ছুটে গেলো,, মেয়েকে আসতে দেখে ঠোঁট প্রসারিত করে হাসলেন আরসাদ জামান,, উনার হাতে মাঝারি সাইজের তিনটে ফুলের তোড়া,, মেয়েকে আগলে নিতে দুই হাত দুদিকে ছড়িয়ে দিলেন,, অর্পনা ছুট্টে গিয়ে পাপ্পার গলা জড়িয়ে ধরলো,, আরসাদ জামান মেয়েকে দুহাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে উপরে তুলে নিয়ে ঘুরতে লাগলেন,, অর্পনার পা এখন মাটি থেকে অনেকটা উপরে। অর্পনার মনে হচ্ছে সে পাখি হয়ে গিয়েছে,, আর পাপ্পা হচ্ছে তার আকাশ,, তার পিছনে উড়তে থাকা দুটো ডানা। ব্লাক স্যুট পরিহিত এক বাবার কোলে রেড গাউন পরা রমনি,, তাকে দূর থেকে দেখতে একটু ও রমনি লাগছে না। মনে হচ্ছে ৩-৪ বছরের এক বাচ্চাকে কোলে নিয়ে ঘুরছে তার বাবা। সবাই মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো,, কারোর যেনো পলক পরছেনা। ঘুরতে ঘুরতে অর্পনার যখন মাথা ঘুরে উঠলো সাথে সাথে পাপ্পার গলায় মুখ গুজে দিলো,, ততক্ষনে দ্বীপ ওদের কাছে পৌছে গিয়েছে,, সে এগিয়ে গিয়ে আরশাদ জামানের থেকে ফুলের তোড়া তিনটে নিয়ে নিলো। হাত খালি হতেই মেয়েকে দুহাতে ঝাপটে ধরলেন আরশাদ জামান,, নরম স্বরে বললেন — Happy Birthday My Princess,, My Buddy,, Many Many returns of the day My champ

,,, অর্পনার চোখ থেকে দু ফোটা পানি গড়ালো,, অভিযোগের স্বরে বললো — ইউ আর সু বেড পাপ্পা, আই হেইট ইউ,, হেইট ইউ স্যু মাচ বাডি।
,,, আরশাদ জামান মেয়েকে পায়ের উপর দাড় করিয়ে দিলেন,, অর্পনার পায়ে পেন্সিল হিল যা বর্তমানে আরশাদ জামানের আঙুলের উপর অবস্থান করছে যদিও উনার পায়ে ব্লাক স্যুজ রয়েছে তবুও পায়ে ব্যাথা হওয়ার কথা কিন্তু কোনো কালেই এই ব্যাথাকে পরোয়া করেন না তিনি। বরং যতবার মেয়েটা বরবরতা করেছে ততোবার প্রশ্রয় দিয়েছেন,, এক মুহুর্তের জন্য ও ওকে সুধরাতে বলেননি। উনার মতে উনার মেয়ে যেমন তেমনি হিরার ক্ষনি,, এর থেকে ভালো হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আরশাদ জামান মেয়ের কপালে, চোখে মুখে চুমু খেয়ে বললেন — লাভ ইউ টু মাম্মা,, আমার বাচ্চা!! আমার ছোট্ট বাচ্চা।
,,, পাপ্পার আদরে সত্যি সত্যি ই বাচ্চা হয়ে উঠলো অর্পনা,, আবেগি কন্ঠে সুধালো — আমি ভেবেছিলাম তুমি আমার বার্থডের কথা ভুলে গিয়েছো পাপ্পা, আমায় উইস করবে না। তুমি উইস না করলে আমি বড্ড আঘাত পেতাম,, তোমার সাথে একটু ও কথা বলতাম না।

,,, একটু ও না?
,,, একটু ও না।
,,, এইটুকুনি ও না? ( বৃদ্ধাঙ্গুল আর তর্জনী আঙুল মিলিয়ে)
,,, ওহু,, নিক পরিমান ও না। আমি খুব অভিমান করতাম।
,,, আচ্ছা আর অভিমান করতে হবেনা,, পাপ্পা চলে এসেছি না? এখন আমরা কেক কাটবো,, চলো।
,,, অর্পনা দুদিকে মাথা নাড়িয়ে না বুঝালো মানে সে আপাতত সরতে চায়না,, আরও ক্ষানিকটা সময় বাবার বুকে থাকতে চায়। মেয়ের বাচ্চামিতে হাসলেন আরশাদ জামান। পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে দ্বীপের দিকে তাকালেন। দ্বীপের চোখ মুখ শক্ত,, নজরে হিংসা,, আরশাদ জামান নাক কুচকালেন। এই ছেলের জন্য কি তিনি একটু মেয়েটাকে আদর ও করতে পারবে না? আজব তো। অর্পনা কি শুধু এই ছেলের? উনার মেয়ে না? শ্বশুরকে নাক কুচকাতে দেখে দ্বীপ চোখ রাঙালো,, এই শ্বশুরের থেকেই বউটা নাক কুচকানো শিখেছে। যেমন বাপ তেমনি মেয়েটাকেও খিটখিটে বানিয়েছে। নেহাতি শ্বশুরটা বউয়ের বাপ নয়তো অনেক আগেই উনার অহংকার করা জবটা খেয়ে দিতো। তখন “”মেয়েকে নিয়ে যাবো,, আমার মেয়েকে রাজকন্যা করে রাখার ক্ষমতা রয়েছে আমার”” এরকম হুমকি দেওয়া গুচে যেতো। আরশাদ জামান যেনো চোখের দিকে তাকিয়েই দ্বীপের মনের ভাবনাটা ধরে নিয়েছে,, মনে মনে হাসলেন তিনি। অর্পনাকে সরিয়ে দ্বীপের থেকে ফুলের বুকেটা নিয়ে অর্পনার হাতে ধরিয়ে দিলো,, অর্পনা সেটা নিয়ে দৌড়ে বন্ধুদের কাছে চলে গেলো। অর্পনা যেতেই দ্বীপের থেকে অন্য বুকে দুটো ও নিয়ে নিলেন আরশাদ জামান। পরপর একটি বুকে দ্বীপের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন — আমার মেয়েকে খুশি রাখার জন্য দীর্ঘজিবী হও,, আর কাদালে ব্যাপারটা আমি বুঝে নিবো। নাও “” হেপি বার্থডে “”

,,, দ্বীপ ফুলের বুকেটা নিলো না,, মুখে অনিহা ফুটিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বললো — আমি এসব পছন্দ করিনা!!
,,, আরশাদ জামান মেয়ের জামাইয়ের ডান হাত শক্ত করে ধরে তাতে ফুলের বুকেটা রেখে শক্ত কন্ঠে বললেন– শুনো ছেলে,, এতো ভাব ধরো না,, তোমায় কিন্তু আমি এখনো জামাই বলে মেনে নেইনি,, এরকম ভাব ধরলে ভবিষ্যতে মানবো কিনা সন্দেহ।

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫১

,,, দ্বীপ কপাল ভাজ করে নাক কুচকালো,, নাক কুচকাতে গিয়ে খেয়াল করলো সেও বউ আর শ্বশুরের সাথে মিশতে মিশতে নাক কুচকানো শিখে গিয়েছে। মনে মনে তীব্র বিরক্ত হলো দ্বীপ,, তার জীবনটা ধীরে ধীরে রসাতলে যাচ্ছে। যার মূল হুতা এই শ্বশুরটা,, রিডিকিউলাস শ্বশুর!!

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫১ (৩)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here