Home ৪ বছরের চুক্তির মা ৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪০

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪০

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪০
সারা চৌধুরী

-“তালুকদার বাড়ির প্রিন্সেস বলে কি খুব সাহস তোমার,, কোথাকার রানী কোথাকার ঝি হয়ে জাই বলা জায় না সাবধান..একেবারে শেষ করে দিবো..তোরে তো
রিহানের চোখ মুখ লাল থেকে হটাৎ সাভাবিক হয়ে যায়।কথা সম্পুর্ন শেষ করার আগেই মাথা ঘোরার ভান ধরে ঠাশ করে রিহান মাটিতে লুটিয়ে পড়ে,, রিহানে আচমকা পড়ে যেতে দেখে ফাতিহা ভয় পায় প্রচন্ড,, রিহানের এতক্ষণ এর রাগী রুপের কথা ভুলে যায় মুহুর্তেই সাথে সাথে ফাতিহা মাটিতে বসে রিহানের মুখে চড় দিয়ে দিয়ে ডাকতে থাকে।

-“এই রিহান..এই আপনার কি হলো উঠছেন না কেন।
রিহানের কোনো সাড়া শব্দ নেই।ফাতিহার ভয়ে গলা শুকিয়ে গেছে হলো টা কি হটাৎ এমন পড়ে গেলো কেন।এদিকে সুঠাম দেহি রিহানকে তুলতেও পারছে না ফাতিহা। চারিদিকের রাস্তা পুরো ফাকা।মানুষ জন গাড়ি কোনী কিছুই নেই ফাতিহার নিজেকে খুব একা লাগছে।কাদতে ইচ্ছা করছে খুব তার।ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে কয়েকবার রিহানের মুখে কয়েকবার পানির ছিটা মারে।
এবার রিহান পিটপিট করে চোখ খোলে তবে এমন ভাব করে যেনো সে কিছুই জানেনা।চালাক ফাতিহা হটাৎ বোকা হয়ে যায়।রিহানের নাটক একটু ও ধরতে পারে না সে।রিহানকে উঠে বসাই।তারপর কয়েক ঢোক পানি খাওয়ানোর পর। ফাতিহা কাদো কাদো কন্ঠে জিজ্ঞাসা করে…

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

-”ক কি হয়েছিলো আপনার হটাৎ পড়ে গেলেন যে…?
রিহান মায়াবী ছলছল দৃষ্টিতে ফাতিহার দিকে তাকালো,, ফাতিহার ফর্সা গাল টিপে ধরার দরুন লাল হয়ে গেছে,,রিহান আলতো করে ফাতিহার চোখের পানি মুছে দিয়ে করুন কন্ঠে বললো..
-“সকাল থেকে খাওয়া হয়নি,,ব্রেনে অনেক টেনশন ব্যাবসা শেষ হয়ে যাচ্ছে এসব টেনশন।মাফ করে দাও প্লিজ আমি ভুল করে রেগে গিয়েছি৷ প্লিজ মাফ করে দাও বলেই রিহান হাত নামিয়ে ফাতিহার পায়ের দিকে নিয়ে যেতে চাই।
ফাতিহা তাড়াতাড়ি সরে গিয়ে বলে..
-“এ কি করছেন আমি জানি আপনি অন্য কোনো কারনে আমার উপর হটাৎ রেগে গেছেন আমি কিছু মনে করিনি।
-“সত্যি তো..?
-“হুম..!

ফাতিহা ধরে রিহানকে উঠে দাড় করায়।ফাতিহা রিহান কে বাইকে যেতে দিচ্ছিলো না তবে রিহান বলে আগের চেয়ে ভালো লাগছে আর বাইক টাই বা কে নিয়ে যাবে সেজন্য ধিরে ধীরে বাড়ি ফিরবে,, এদিকে ফাতিহা অল্প একটু যেতে চাইলে রিহান আটকিয়ে দিয়ে বলে বাড়ি যাও আজ আঙ্কেল রা বাসাই আসবে।
ফাতিহা ঘাড় নাড়ে রিহান ফাতিহার সাথে মেইন রাস্তা অব্দি অসুস্থ ভঙিতে হেটে আসে যেনো ফাতিহা তাকে অসুস্থ মনে করে।মেন রাস্তার কাছে এসে রিক্সাই উঠে ফাতিহা হাত নেড়ে বাই বলে,, রিহান ও বাই বলে একটা ফ্লাইং কিচ দেই।তার অসুস্থ ভাব নিয়েই বাইকে নশে যেনো ফাতিহা তাকে অসুস্থ মনে করে।ফাতিহার রিক্সশা চোখের সামনে থেকে মিলিয়ে যেতেই রিহান অন্য দিকে যেতে থাকে বাইক নিয়ে।উদ্দেশ্য বন্ধুদের সাথে দেখা করা অনেক দিন দেখা হয়নি।
রিহান বাইক চালাতে চালাতে বাম হাত দিয়ে শার্টের কলার থেকে সানগ্লাস নিয়ে চোখে দিলো তারপর সয়তানি একটা হাসি ঠোঁটে চেপে রেখে বিড়বিড় করে বললো..

-“তালুকদার বাড়ির মেয়ে ফাতিহা তালুকদার তুমি বড়ই বোকা জান।আমি তো আর একটু হলেই ভুল করে ফেলছিলাম।এখন যদি তোমারে কিডন্যাপ করতাম তবে আমার বোন তোমার ভাইয়ের সম্পত্তির মালিক হতে পারতো না।আর ওই বাচ্চাটাকেও পেতাম না।তোমাদের বাড়ির আজ কোনো বিচার বসতো না সবাই তোমারে খুজতো তবে আমি তো বলদ না তোমাকে আমি হাত ছাড়া করবো না তোমার মতো পাখি বিদেশে কড়া দামে বিক্রি করা হাত আমার।তালুকদার বাড়ির প্রথম শিকার ফসকালেও তুমাকে ফসকাতে পারবো না।বলেই রিহান একটু দুষ্টু হাসি হাসে তার পর সামনে তাকিয়ে মন দিয়ে বাইক চালাতে থাকে।
এদিকে ফাতিহার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে টপ টপ করে বড়ই আফসোস লাগছে।যাকে নিজের হৃদয়ে প্রথম জায়গা দিলো সেই বেইমান।অতীত যেনেও যাকেও ভালোবাসলো সে কিনা বেইমান বের হলো।দুধ কলা দিয়ে কাল সাপ পোশার মতো হলো না বেপারটাহ।ফাতিহা হাসলো মুখে হাসি টা খুব মানাই তার ভাই বলেছে মানে সত্যিই।ফাতিহা ক্রুড় হাসলো তারপর নিজের মনে মনে বললো..

-“রিহান মোল্লা তোর গুষ্টি ঝোল্লায় ভরা না অব্দি আমি ফাতিহা তালুকদার হার মানবো না।নিজেকে বড্ড চালাক মনে করেন তাই না।তবে এবার হবে চালাকে চালাকে সাপে নেউলে খেলা।আমি প্রস্তুত শুধু আপনার উদ্দেশ্য জানা বাকি।
আসলে ফাতিহা মেয়েটা ছোট থেকেই চালাক।আমাদের সমাজেও কিছু মেয়ে আছে যারা মানুষের চোখ ভাব গতি দেখলেই বুজে যাই মানুষ টা কেমন প্রকৃতির। আর তাদের বড় কোনো চালাকিও ধরা পড়ে খুব সহজেই।আর ফাতিহাও এমন শ্রেনির একটা মেয়ে।

রিকশা এসে থামলো তালুকদার বাড়ির সামনে ফাতিহা ভাড়া মিটিয়ে ঢুকে গেলো বাড়ির ভিতরে।
আনিশা সেই কখন পড়ে এসেছে।একবার উকি মেরে শ্রাবন কে দেখে এসেছে।মন বলছে শ্রাবন অসুস্থ তাই মনের জালা দূর করতে উকি দিয়েছে তখন শ্রাবন ঘুমাচ্ছিলো।ইদানীং আনিশা একটু বেশিই দুর্বল হয়ে উঠছে শ্রাবন এর প্রতি।নিজের থেকে বছরের বড় ছেলেটাকেও তার খুব ভালো লাগে।নিজের করে পেতে ইচ্ছা করে। স্কুলে অনেক প্রোপোজাল পেয়েছে আনিশা তবে মন তো তার শ্রাবন ভাই এর কাছে পড়ে আছে সেই শৈশব থেকে যখন থেকে সে প্রেম বুজেছে। উজ্জল শ্যামবর্নের শ্রাবন কে তার কাছে অন্য রকম লাগে।যেনো শ্রাবন এর মতো সুন্দর কোনো পুরুষ ই নেই।
আনিশা সাদের কোনে দাঁড়িয়ে এসব ভাবনায় ব্যাস্ত ঠিক তখনই অন্তু ছুটে এসে হাফাতে হাফাতে বললো…

-“আপি আম্মু এখনই ডাকছে এই কড়া রোদে সাদে দাড়ানোর জন্য তোমার পিঠে ঢোল বাজাবে।
-“কিহ..?
-“তাড়াতাড়ি এসো আমি গেলাম।
কথাটি বলেই ছুটে নিচে চলে গেলো অন্তু এদিকে আনিশা কিছু বুজে উঠতে পারলো না এই ছেলেটা রোবট এর মতো বক বক করে ভলে যায়।আর কোনো উপাই না পেয়ে মার খাওয়ার হাত থেকে বাচতে সাদের গেট লাগিয়ে নিচে নামতে শুরু করলো সিড়ি বেয়ে।

শুভ্র রুমে এসে দেখে সারা বিছানায় সুয়ে সুয়ে মোবাইল দেখছে।শুভ্রর পিছু পিছু অর্ক ও রুমে ঢুকেছে।শুভ্র আর অর্ক কে রুমে দেখে সারা উঠে বসলো সাথে সাথে মাথার উড়না ঠিক করলো।শুভ্র সারার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো সে জানে তার পিচ্চি পাখি তার অবাধ্য হৃদয়ানুভুতি বুজে। সেজন্য অল্প সল্প অভিমান মনে উকি দিচ্ছে।শুভ্র অর্ক কে সোফাই বসতে বলে আর সে বিছানার কাছে এগিয়ে গিয়ে সারার উদ্দেশ্যে বলে…
-“পিচ্চি পাখি একটা সারপ্রাইজ আছে..!
সারা কোনো প্রতিউত্তর করলো না তার একটু একটু রাগ আর একটা পাহাড় সমান অভিমান কেনো সেটা সারা জানে না।মেয়েদের বিনা কারনেই রাগ অভিমান হয় আর এটা পুরুষ মানুষের বুজা উচিত।শুভ্র ও বুজলো তার পিচ্চি পাখির অভিমান তবুও আর একবার শান্ত কন্ঠে বললো..

-“আমি কিন্তু সত্যি বলছি এখোন সময় আছে বলো জানতে চাও তোমার সারপ্রাইজ কি..?
সারার কৌতুহলী ছোট্ট মন নাড়া দিয়ে উঠলে সাথে সাথে মাথা নাড়িয়ে হ্যা বুঝালো।দূর থেকে অর্ক সারার এমন মাথা নাড়ানো দেখে হাসলো।তার খুব ভালো লাগছে সে তার বোনকে ফিরে পেলো। এখন তার আম্মুও সুস্থ হয়ে উঠবে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে।
শুভ্র সারার দিকে তাকালো তার পর অর্কের দিকে তাকালো,,শুভ্র সারার পাশে বসে সারার মুখ আজলে ধরে বললো…

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৩৯

-“আমি জানি বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে তবে এটা তোমার জন্য অনেক বেশি খুশির খবর।তুমি তোমার পরিবার কে পেয়েছো নিজের হারিয়ে জাওয়া পরিবার কে..!
সারা ভ্রু কুচকে শুভ্রর হাত ছাড়িয়ে বললো…
-“মানেহ কি উলটা পালটা বকছেন আমার হারানো পরিবার ফিরে পাইছেন মানে..?
শুভ্র সারার দুই হাত নিজের দুই হাতের মুঠোই এনে শান্ত কন্ঠে বললো…

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪১