Home ৪ বছরের চুক্তির মা ৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪১

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪১

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪১
সারা চৌধুরী

-“পিচ্চি পাখি আমাজে বিশ্বাস করো তো তুমি..?
-“নিজের থেকেও বেশি..!
-“তাহলে শুনো..!
-“হুম বলেন…?
-“ওই যে সোফাই বসে আছে অর্ক ও আর কেও ও তোমার আপন ভাই পিচ্চি পাখি।
সারা ঘাড় কাত করে অর্ক কে দেখলো,, সোফাই অর্ক তার দিকে তাকিয়েই বসে আছে,,চোখে চোখ পড়তেই সারা চোখ নামিয়ে নেই।সারার কানে শুভ্রর বলা কথাটা বেজে চলেছে ও তোমার আপন ভাই পিচ্চি পাখি।সারা যেনো ট্রমার মধ্যে চলে যাচ্ছে।ট্রমা কাটাতে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে আস্তে করে বলে উঠে..

-“কি বলছেন আপনি এগুলা..?
-“সত্যি বলছি পিচ্চি পাখি ডি এম এ রিপোর্ট তো আর মিথ্যা কথা বলে না জান।এই দেখো।
শুভ্র সারাকে রিপোর্ট দেখাই। কিছু না বুজলেও পজেটিভ দেখে বুজে যায় সত্যি তবে মাথায় কিছু ঢুকছে না তার। অর্কের চোখে পানি চিকচিক করছে সারা বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ায় অর্ক ও উঠে দাঁড়ায় সোফা থেকে।সারার দৃষ্টি নিবদ্ধ অর্কের দিকে। ধীর পায়ে এগোতে থাকে অর্কের দিকে অর্কের ঠিক সামনে এসে সারা দাঁড়ায়।পা থেমে গেছে তার।মস্তিষ্ক শুন্য লাগছে সব এলোমেলো লাগছে।
সামনে থাকা অর্ক কে খুব আপন লাগছে হুট করে।অর্কের চোখে পানি টলমল করছে এতো বছর পর নিজের আদরের ছোট বোন খুজে পাওয়ার সুখের আনন্দে। শুভ্র সারার পাশে এসে দাঁড়িয়ে সারার ঘাড়ে হাত রেখে শান্ত কন্ঠে বলে…

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

-“পিচ্ছি পাখি এই অর্ক তোমার ভাই তোমার আপন ভাই।
সারা অর্ককে জড়িয়ে ধরে হামলে কেদে উঠে। সাথে অর্কের ও চোখের পানির বাধ ভাঙে। সারা কেনো কাদছে জানে না তবে তার খুব কান্না পাচ্ছে খুব কাদতে ইচ্ছা করছে তার। অর্ক ও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নিজের হারিয়ে যাওয়া কলিজার টুকরো বোনকে।শুভ্র চুপচাপ দেখছে তাদের কান্না।বেশ কিছুক্ষন পর শুভ্র ওয়াশরুমে ফ্রেশ হতে চলে গেলো। আজ এরা কাদুক ভাই বোন এর সম্পর্ক খুব কঠিন সম্পর্ক। প্রত্যেক ভাইয়ের কাছে তার বোন এক অমুল্য জিনিস সেখানে অর্ক এতো বছর ফিরে পেয়েছে।
অর্ক কান্নারত কন্ঠে সারাকে ধরে রেখেই বলে উঠে..

-“বনু তোরে খুব খুজেছি এই এগারো বছরে তোকে প্রতিটা দিন মনে করেছি। তোর অভাবে আমাদের পুরো পরিবার টা শেষ বনু। তোরে খুব খুজেছি।তুই কোথাই গিয়েছিলি পুচকি আমার।
অর্ক থামে সারার ও চোখের পানি ক্লান্ত হয়ে গেছে মেয়েটা হাস্কি উঠে গেছে।শুভ্র ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে সারাকে বিছানায় বসায় পাশে অর্ক বসেছে।সারা অর্কের ঘাড়ে মাথা রেখে বসে আছে।শুভ্র সেদিকে তাকিয়ে হাসে।ফাতিহাও যখন কোনো আবদার নিয়ে আসে যখন আম্মু বকে তখন ও ফাতিহা শুভ্রর ঘাড়ে মাথা দিয়ে বসে সব নালিশ করে। প্রত্যেক বোনের কাছে তার বড় ভাই তার জীবনের বট গাছের সমতুল্য যার ছায়ায় বোনের কখনো কষ্ট হয় না।

অর্ক বাড়িতে ফোন করে ইমারজেন্সি এখানে চলে আসতে বলে যদিও কেও আসতে চাইছিলো না। যখন অর্ক বিশেষ কোনো সারপ্রাইজ এর কথা বলেছে আর শুভ্র অনেক জোর করায় আসতে চলেছে।সারা ইতিমধ্যে তার বাড়ি সম্পর্কে সব শুনেছে।সারার আজ খুব খুশি লাগছে যদিও প্রকাশ করতে পারছে না হটাৎ এমন একটা পরিবার যখন নিজের পরিবার হয়ে যায় তার রিয়েকশন কেমন হওয়া উচিত সারার জানা নেই।

সারা হাসছে মনে মনে খুব হাসছে। শুভ্রকে জড়িয়ে ধরে অনেক গুলো চুমু খেতে।তবে লজ্জা করছে এগুলা ভেবেই।এতো বড় সারপ্রাইজ হয়ে যাবে আজ সে কল্পনাও করতে পারেনি।তবে তার মনে একটা কথা বেজে চলেছে “আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করে”কাল অসুস্থ হলো আর আজ সকাল থেকেই খুশি।সারার হৃদয় টা আজ পরিপূর্ণ লাগছে হৃদয় এর কোথাও একটা খালি ছিলো।যখন শুভ্র নামক মানুষ টা তাকে নিয়ে এসেছিলো তার মামার কাছ থেকে তখন এই শুন্যতা অনুভব করেছিলো আর আজ সেই শুন্যতা পুরন হয়ে গেছে।
অর্কর সারাকে ছেড়ে নিজের রুমে যেতে ইচ্ছা হচ্ছে না। খালি মনে হচ্ছে এটা হয়তো সপ্ন একটু পর ঘুম ভেঙে গিয়ে সব মিথ্যা হয়ে যাবে।তাই সারাকে ছাড়তে ইচ্ছা হচ্ছে না যদি ছেড়ে দিলেই হারিয়ে যায় তার বোন টা।কয়েকবার নিজের হাতে চিমটি মেটেছে এটা কোনো সপ্ন নাতো আর সপ্ন হলেও যেনো ঘুম না ভাঙে সে এই সপ্নের জগতে বাচতে চাই তার পরিবার তার বোনকে নিয়ে।

শুভ্রর আর সারার জোরাজোরিতে আর একটু পর ফারুক তালুকদার আর আনিস বাড়িতে আসবে বলে অর্ক বাধ্য হয়ে ফ্রেশ হতে গেলো নিজের রুমে। শুভ্র দরজা পর্যন্ত এগিয়ে গেলো অর্কের পিছন পিছন অর্ক দরহার বাইরে পা রাখতেই শুভ্র অর্কের কলার টেনে ধরে ফিশ ফিশ করে বলে উঠলো…
-” শালা বাবু মিষ্টি দাও নাই,,এবার মিষ্টি না পাওয়া অব্দি বোনের সাক্ষাৎ পাবে না,,আমি আবার দুলাভাই হিসেবে সেরা এখন লুমান্স করতে যাচ্ছি বার বার বোনু বনু করে এসে ডিস্টার্ব করবি না সিনেমার মতো।
শুভ্র কথাটা বলে হালকা ধাক্কা দিয়ে অর্ক কে দরজার বাইরে বের করে দিয়ে ঠাশ করে দরজা লাগিয়ে দিলো।এদিকে অর্ক বাইরে বেরিয়ে থ হয়ে গেছে।কি বললো কিছুই বুজলো না।তবে এটা বুজলো শুভ্র এবার তারে সারাদিন শালা শালা করে জালিয়ে মারবে। অর্ক নিজের রুমের দিকে হাটা শুরু করলো।শুভ্র বিছানার কাছে আসতেই সারা ছুটে গিয়ে শুভ্রকে জড়িয়ে ধরে খুব শক্ত করে৷ শুভ্র হাসে।সে জানতো এমনটাই হবে।এখন সে খুব সহজেই তার পিচ্চি পাখিকে পড়তে পারে।
শুভ্র সারার চুলে হাত বুলিয়ে দেই সারা চুপচাপ শুভ্রর বুকে লেপ্টে থাকে।সারা ধীর কন্ঠে বলে উঠে..

-“আপনি এতো কিছু কিভাবে জানলেন..?
-“কতো কোন কিছু বউ..?
শুভ্রর মুখে বউ কথাটা শুনে সারার বেশ লজ্জা লাগলো। মেয়েটার শুভ্রর সব কথাতেই যেনো লজ্জা লাগে।মাঝে মাঝে মনে হয় শুভ্র নামক মানুষ টাই তার কাছে লজ্জার বস্তা।শুধু লজ্জা পাই।সারা সাভাবিক কন্ঠে বলে উঠলো…
-“এইজে ভাইয়ার বিষয়ে আমার বিষয়ে।
-“একটা কথা বলি..?
-“হুম বলেন…!
-“সেদিন যখন নাজমুল হুদা বা তোমার ওই মামা বলেছিলো তারা তোমার কেও না। তখন এই শুভ্র প্রতিজ্ঞা করেছিলো তোমার পরিবার কে খুজে বের করবে আর আমি আমার প্রতিজ্ঞা রাখতে পেরেছি।

-“আমাকে বলেন নাই কেন..?
-“তোমারেও বলেছিলাম আমি কোনো একদিন সব দিবো তোমার পরিবার তোমাকে ফিরিয়ে দিবো তুমি ভুলে গিয়েছো হয়তো।
-“ভালোবাসি আপনাকে তালুকদার সাহেব..!
-“উহু একটু রোমান্টিক ভাবে বলো পিচ্চি পাখি।
সারা শুভ্রর বুক থেকে মাথা তুলে দূরে যেতে চাইলো তবে শুভ্র আকড়্ব ধরলো সারাকে।সারা ছোটাছুটি করতে চাইলো তবে এক চুল পরিমান শুভ্রর বাধন থেকে ছাড়া পেলো না।সারার ছটফট করা দেখে শুভ্র সারাকে বুকের সাথে একটু জোরে চেপে ধরলো দুজনের হৃতপিন্ড জেনো এক সাথে চলছে সারা শুভ্রর বুকের ধুকধুকানি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে।শুভ্র সারার ঘাড়ের উপর ঠোঁট ছোয়লো সাথে সাথে সারা কেপে উঠলো।
শুভ্র চোখে হাসলো তারপর সারার কানের কাছে ফিস ফিস করে বললো…

-“এই যে পিচ্চি পাখি আমিও ভালোবাসি।খুব ভালোবাসি। হৃদয়ের এক কোনে সুন্দর করে খোদায় হয়ে গেছে এই পিচ্চি পাখির নাম।জানো তুমি কাছে এলে এই হৃদয়ে শান্তির স্রোত বয়ে যায়।আমার রাগ দু:শ্চিন্তা নিমিষেই পানি হয়ে যায়।
এটুকে বলে শুভ্র থামে সারা চুপ করে শুনে যাচ্ছে প্রনয় পুরুষের বলা ধ্বনি। শুভ্র চোখে দুষ্ট হেসে ঠোঁট কামড়ালো নিজের নিজে তারপর সারার কানের পাতায় ঠোঁট ছুয়িয়ে বলে উঠে…

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪০

-“পিচ্চি পাখি তোমার সান্নিধ্যে এলে আমি টা এক অবাধ্য হৃদয়ানুভুতি তে ভুগি।অশান্ত হয়ে যায় আমার হৃতপিন্ড। খুব কাছে পেতে ইচ্ছা করে আমার।
শুভ্রর শেষ কথায় কেপে উঠে পিচ্চি সারা।ম্যাচিউর হয়ে উঠলেও দিন দিন এখন লজ্জা বেড়ে চলেছে তার খুব ভালোবাসে এই মানুষ টাকে।হটাৎ দরজায় কেও এসে নক করে। শুভ্র বিরক্ত হয়ে যায়।সারা দরজা খুলতে চাইলে শুভ্র বাধা দেই। সারাকে ছেড়ে আল মতো করে বিছানায় বসিয়ে এগিয়ে যায় দরজার পানে…..

৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪২