Home অকস্মাৎ প্রণয় অকস্মাৎ প্রণয় পর্ব ১১+১২

অকস্মাৎ প্রণয় পর্ব ১১+১২

অকস্মাৎ প্রণয় পর্ব ১১+১২
সিনথিয়া ইসলাম সীমা

গোধূলি বেলা ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে আছে হীরা, আনিকা ও নাজিয়া বেগম। কথা বলছে শিক্ষা সফরে যাওয়ার ব্যাপারে, অনিলকে কীভাবে রাজি করানো যায় এটা নিয়েই ভাবছেন তারা। তাদের কথার মাঝেই গাড়ির চাবি হাতে নিচে নামছিলো অনিল। তাদেরকে ক্রস করে যেতে নিবে তখনই নাজিয়া বেগম থামিয়ে দিলেন তাকে। বললেন,

“ অনিল তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে বস এখানে ”
“ কী বলবে তাড়াতাড়ি বলো। ”
বলেই তাদের অপজিট সাইটের সোফাটায় বসলো সে। সে বসতেই নাজিয়া বেগম এতক্ষণের সাজিয়ে রাখা কথাগুলো বলা শুরু করলেন,
“ রবিবারে আনিকার ও হীরাদের স্কুল থেকে শিক্ষা সফরে যাচ্ছে, স্কুল কলেজ এক সাথেই নিচ্ছে। তো বলছিলাম, আগে তো আনিকা একা ছিলো বলে যেতে দিস নি এইবার তো হীরাও আছে দুজনে যাক নাহয়। ”

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

এতক্ষন যাবৎ মায়ের সবগুলো কথা মনোযোগ সহকারে শুনছিল অনিল। তার কথা শেষ হতেই অনিল বললো,
“ তুমি বলতে চাইছো হীরা আছে বিদায় আমি ওকে যেতে দিবো? হীরা থাকবে ওর সাথে এজ আ গার্ডিয়ান? ”
“ নাহ তা বলিনি। আমি বুঝাতে চেয়েছি ওরা দুজনে একসাথে গেলে তো তেমন সমস্যা হবে না। ”
“ শুনো আম্মু , আমি কখনোই এইসব রিস্কি ব্যাপারে রাজি হবো না তুমি আগেই জানো। আর ওঁ তো একটু খানি পথ চলতে গেলেই অগণিত হোচট খায় ওঁ যাবে শিক্ষা সফরে লাইক সিরিয়াসলি! ”

শেষ কথাটা হীরাকে উদ্দেশ্য করে বললো সে। তার কথায় চোখ ছোটো ছোটো করে তার দিকে তাকালো হীরা। কী রকম ইবলিশ লোক একটা ভাবা যায়! একদিন একটা হোচট খেতে দেখেই আজীবন এইটার খোটা দিতে হবে নাকি! আজব! আসলে কিছুদিন আগে অনিল হীরাকে নিয়ে আসতে স্কুলে গিয়েছিলো। আর সেদিনই আসতে সময় হীরা একটা হোচট খেয়েছিলো গাড়ির থেকে সেটা লক্ষ্য করেছিলো অনিল। আর সেটাই আজকেও মনে রেখেছে এই লোক। তার ভাবনার মাঝেই বেরিয়ে গেলো অনিল। নাজিয়া বেগমও আর কিছু বলতে পারলেন না। কিছু বলেও লাভ নেই তার ছেলে একবার যেহেতু বলেছে যেতে দিবেনা তার মানে শত বার বললেও তার মত পাল্টানো সম্ভব নয়। তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেয়ে আর ছেলে বউয়ের দিক তাকালেন। আনিকার মুখে আঁধার নেমে এলো, হীরার ও কিছুটা মন খারাপ হলো তবে তা প্রকাশ করলো না। হীরার দ্বারা কিছু সম্ভব না হওয়ায় দুজনে মিলে এই প্ল্যান করেছিলো। কিন্তু এটাও কাজ হলো না।

সন্ধ্যার পরে চুপচাপ মন খারাপ করে ঘরে বসে আছে আনিকা। সাথে বসে আছে হীরাও বিভিন্ন ভাবে আনিকার মন ভালো করার চেষ্টা করছে। সহসা নিচ থেকে অনিলের ডাক ভেসে আসলো। আনিকার নাম ধরে ডাকছে সে। আনিকা সাড়া দিলো না ডাকের। তার জানা আছে অনিলের কারবার, এখন এসে সবসময়ের মতো বলবে, “ চল ভাইয়া তোকে নিয়ে ঘুরতে যাব। ” প্রতিবারই এমন করে, এইবার যাই হয়ে যাক যাবে না সে। এই ঘুরায় কোনো মজা আছে? চুপ চাপ যাও আর আসো কোনো মজা নেই আনন্দ নেই একা একা বোরিং! তার ভাবনার মাঝেই গলা খাঁকারি দিয়ে রুমে প্রবেশ করলো অনিল। সে এসে আনিকার সামনে দাঁড়াতেই হীরা চলে যেতে উদ্যত হলো। ভাবলো তাদের ভাই বোনদের মাঝে সে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে আটকে দিলো অনিল। সে পা বাড়াতেই তার হাত টা খপ করে ধরে জায়গায় বসিয়ে দিলো । কপাল কুঁচকে ভ্রুদ্বয় নাচালো- যার অর্থ, “ কী সমস্যা? ” তার কথায় কিছু বললো না হীরা শুধু দুই দিকে মাথা নাড়িয়ে বুঝালো, “কিছুনা” তারপর চুপচাপ জায়গায় বসে রইলো। এইবার অনিল মাথা নিচু করে বসে থাকা বোনের উদ্দেশ্যে বললো,

“ কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা ভাইয়াকে বল সেখানেই নিয়ে যাবো ”
“ কোথাও যাবো না আমি। ”
মাথা নিচু করেই জবাব দিলো আনিকা। অনিল জানে তার বোন কে কীভাবে রাজি করানো যাবে সে বললো,
“ মনে হয় ওঁর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছে নেই তোর। তাই তো মানা করছিস, আগে তো ঠিক ঐ যেতি ”
“ আগে আমি একা বলে তুমি যেতে দিতে না তাই তেমন খারাপ লাগে নি আর এইবার তো হীরাও আছে যেতে দিলে কী হতো? ”

“ ঐ টপিক বাদ দিয়ে তুই আমার সাথে যাবি কী না বল? ”
“ যাবো ”
বলেই উঠে দাঁড়ালো সে। চলে গেলো রেডি হতে। সে যেতেই মুচকি হাসলো অনিল, হাসলো হীরাও। তারপর অনিল হীরার উদ্দেশ্যে বললো,
“ তুমিও গিয়ে রেডি হয়ে নাও ”
বলতে বলতেই রূম থেকে বেরিয়ে গেলো অনিল। সাথে চলে গেলো হীরাও।

অনেকক্ষণ যাবৎ হীরাকে নিচে নামতে না দেখে তাকে ডাকার উদ্দেশ্যে রুমে প্রবেশ করতে নিচ্ছিলো অনিল। দরজার সামনে এসেই পা জোড়া থেমে গেল তার। ভিতর থেকে ভেসে আসছে হীরার কান্নার শব্দ সাথে শুনা যাচ্ছে অস্পষ্ট স্বরে বলা কিছু কথা,

“ আই মিস ইউ ভাইয়া। আই বেডলি মিস ইউ। আমাকে ক্ষমা করে দিও, আমি তোমার ভালো
-বাসার মর্যাদা দিতে পারি নি। আমি সব দিক দিয়েই ব্যর্থ রয়ে গেলাম। সবাইকে ঠকিয়েছে আমি, কারো ভালোবাসার মর্যাদা দিতে পারি নি। তাই তো সৃষ্টিকর্তা আমাকে আমার পাপের শাস্তি দিয়ে দিলেন। ”
বলতে বলতেই আবারো ডুকরে কেঁদে উঠলো সে। বাইরে থেকে হীরার এমন আর্তনাদ শুনে স্তব্ধ হয়ে গেলো অনিল। বুকটা খানিক জ্বালা করে উঠলো তার। হঠাৎ কী হলো মেয়েটার? এভাবে কাঁদছে কেনো? আর নিজের ভাইয়াকেই বা এতটা মিস করছে কেন? ভিতরে প্রবেশ করতে নিয়েও থেমে গেলো সে। ভাবলো সে গেলে এখন হীরা অসস্তিতে পরে যাবে। তাই আর ভিতরে ঢুকলো না সে। নিচে এসে আনিকাকে বললো হীরাকে নিয়ে আসতে।

আনিকা রুমে ঢুকার আগেই নিজেকে স্বাভাবিক করে নিলো হীরা। আনিকা বাইরে থেকেই ডাকতে ডাকতে আসছিলো। এসেই দেখলো হীরা হাত, মুখ ধুয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়েছে মাত্র। তা দেখে সে হীরাকে তাগাদা দিতে লাগলো তাড়াতাড়ি রেডি হওয়ার জন্য। সাথে নিজেও হেল্প করতে লাগলো। কিছুক্ষনের মধ্যেই হীরাকে নিয়ে নিচে আসলো আনিকা। তারা আসতেই সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো অনিল। আড়চোখে একবার দেখে নিলো হীরাকে। খয়েরি রঙের একটা টপস এর সাথে হিজাব পরেছে, কালো হিজাবের মধ্যে ছোট্ট গোলগাল মুখটা ফোটে আছে পদ্মের মতো। কান্নার দরুন চোখ, মুখ খানিক টা লাল হয়ে আছে এখনো। এ যেনো এক নতুন সৌন্দর্য প্রতিফলিত হচ্ছে তার। কী স্নিগ্ধ এই চেহারা! নিমিষেই নিজেকে হারিয়ে ফেলা যায় এই স্নিগ্ধতায়।

চাঁদ হীন আকাশ, চতুর্দিকে আঁধারে আচ্ছন্ন হওয়ার কথা থাকলেও সোডিয়ামের আলোতে ঝলঝল করছে চারিপাশ। রাস্তা দিয়ে ছুটছে বিভিন্ন রকমের যানবাহন। সেইগুলোর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে হীরা। মনে পড়ছে নিজের জীবনের কিছু সুন্দর মুহূর্তের কথা। কী সুন্দর ছিলো তার জীবনটা! সকাল, সন্ধ্যা নিজের চঞ্চলতার জন্য বকা খেয়ে অভিযোগ করতো ভাইয়ার কাছে। তার একটাই ভাইয়া, বড্ডো ভালোবাসতো তাকে। যেকোনো আবদার করলেই তা পূরণ করতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়তো। বলতো কী চাই আমার হীরামনির? সবাই তাকে হীরা ডাকলেও তার ভাইয়া তাকে অধিক ভালোবেসে হীরামনি ডাকতো, কী মিষ্টি সেই ডাক! আজ বহুদিন শোনা হয়না তা। আচ্ছা তার ভাইয়া যখন জানতে পেরেছে তার আদরের বোনটা তাকে ধোঁকা দিয়ে চলে এসেছে তখন তার কেমন লেগেছিলো? হয়তো বিশ্বাসই করতে পারেনি বারবার হয়তো বলেছে- না আমার হীরামনি কখনোই এসব করতে পারে না, আমার বোনের কাউকে পছন্দ থাকলে নিশ্চই আমাকে বলতো। সে তো বলতে চেয়েছিল তবে তার মা যে তাকে বলতে দেয়নি। ভেবেই দীর্ঘশ্বাস ফেললো সে। চোখ বেয়ে ঝরে পরলো অশ্রুকনারা। সহসা কাঁধে কারো স্পর্শ পেয়ে চোখ মুছে ঘুরে তাকালো সে। সে তাকাতেই আনিকা নরম স্বরে জিজ্ঞাস করলো,

“ তোমার কী কোনো কারণে মন খারাপ হীরা? আমার কোনো কথায় কষ্ট পেয়েছ ? ”
তার কথায় তাকে একটা মিষ্টি হাসি উপহার দিলো হীরা। বললো,
“ আরে নাহ , এমনেই ভালো লাগছিলো না। ”
“ ওহ্, চিন্তা করো না আর কিছুক্ষনের মধ্যেই পৌঁছে যাবো দেখবে সেখানে যেতেই মন ভালো হয়ে যাবে তোমার। ”
তার কথায় মুচকি হেসে আবারো বাইরে তাকালো হীরা। ড্রাইভিং করার মাঝেই তাদের সব কথা স্পষ্ট শুনলো অনিল। লক্ষ করলো হীরার উদাসীনতা। তবে কিছুই বললো না।

কিছুক্ষনের মধ্যেই কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছে গেলো আনিকারা। অনিল গাড়ি থামানো মাত্রই আনিকা হীরার হাত ধরে নেমে পরলো। গাড়ি থেকে নামতেই বিস্মিত নয়নে চারপাশে নজর বুলালো হীরা। বড়ো সর একটা পার্কের সামনে দাঁড়িয়ে আছে তারা। পার্কের বাইরের দিকটায় বেশ কজন বেলুন বিক্রেতা বেলুন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, বেলুনের গায়ে আঁকা রয়েছে বিভিন্ন ধরনের নকশা, সাথে আলো ঝলছে তাদের গায়ে, যা আলোকিত করছে তাদের চারপাশের পরিবেশকে, কী আকর্ষনীয় লাগছে সেগুলো দেখতে, এই বেলুন গুলো ভীষন প্রিয় হীরার, রীলস এ দেখেছিলো সে নাম ও জানে- “ঝিলমিল বেলুন”। তার দৃষ্টি নজরে পড়লো অনিলের। সে আনিকা কে ইশারা করলো হীরাকে নিয়ে ভিতরে ঢুকতে সে আসছে।

ভাইয়ের ইশারা বুঝতে পেরে আনিকা হীরাকে নিয়ে ভিতরে চললো। পার্কের ভিতরে ঢুকতে আরেক দফা অবাক হলো হীরা। বাইরের থেকেও ভিতরটা বেশি মনোমুগ্ধকর, চারপাশে বিভিন্ন আর্টিফিসিয়াল ফুল গাছ, তাতে লাগানো রঙ বেরঙের মরিচ বাতি, ফুল গাছগুলোর মাঝখানে মানুষের আনাগুনার জন্য রাখা হয়েছে সরু রাস্তা। সেখানে হাঁটছে অনেকগুলো কপোত কপোতী। অদূরে দেখা যাচ্ছে বেশ কটা বসার বেঞ্চ। হেঁটে ক্লান্ত হয়ে গেলে সেখানে বসে হয়তো বিশ্রাম করে মানুষ। বেঞ্চ গুলো ও খুব সুন্দর করে সাজানো। এইসব দেখতে দেখতেই একটা ফাঁকা জায়গায় গিয়ে দাঁড়ালো তারা। কিয়ৎক্ষণ বাদে সহসা কানের কাছে কারো তপ্ত নিশ্বাস পড়তেই কেঁপে উঠলো হীরা। তৎক্ষণাৎ ঘুরে তাকালো যাবে তখনই বারি খেলো অনিলের শক্তপোক্ত পুরুষালী দেহের সাথে। মাথা উপরে তোলে চকিত চাইলো অনিলের মুখ পানে। সে তাকাতেই অনিল ইশারা করলো সামনে ঘুরতে। তার কথা মতো তাই করলো হীরা। হীরা ঘুরতেই তার চোখজোড়া নিজের পুরুষালী হাত দিয়ে ঢেকে দিলো সে। অন্যহাতে হীরার তুলতুলে নরম হাতটা নিয়ে সেখানে কিছু ধরিয়ে দিয়ে কানের কাছে ফিসফিস করে বললো,

“ তোমার জীবনের প্রতিটা দুঃখ এদের সাথে উড়িয়ে দেও, ছেড়ে দেও এদের মুক্ত আকাশের পানে। ”
বলেই নিজের হাত টা হীরার চোখ থেকে সরিয়ে নিলো সে। হাত সরাতেই হীরা দেখতে পেলো একটা আস্ত ঝিলমিল বেলুনের গুচ্ছ তার হাতে ধরিয়ে দিয়েছে অনিল। সে অবাক নয়নে ঘুরে তাকাতে নিলেই অনিল তাকে আটকে দিয়ে বললো,
“ আমি চলে যাচ্ছি না। তোমার সাথেই থাকছি আমরণ, আজীবন। আমার দিকে তাকাতে হবে না যা বলেছি তা করো। ”
তার কথায় আর কিছু বলতে পারলো না হীরা। হাত টা উপরে তোলে বেলুনের গুচ্ছ টা ছেড়ে দিলো আকাশপানে। ছেড়ে হাতটা নিচে নামাতে নিবে তখনই আরেকটা বেলুনের গুচ্ছ তার হাতে ধরিয়ে দিল অনিল। পূর্বের ন্যায়ই কানের কাছে মুখ এনে বললো,

“ তোমার জীবনের প্রতিটা যন্ত্রণাদায়ক অতীততের নামে উড়িয়ে দেও এদের, চলতে দাও নিজ ইচ্ছে মতো ”
অনিলের কথা মতোই সেটাও ছেড়ে দিল হীরা। পরপর পার্কের বাইরে থাকা সকল বেলুন বিক্রেতাদের থেকে এক একটা বেলুনের গুচ্ছ নিয়ে হীরার হাতে ধরিয়ে একই কাজ করলো অনিল। প্রতিবার আওড়ালো নতুন নতুন বাক্য। অতঃপর শেষ বেলুনের গুচ্ছ টা হীরার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো,

“ তোমার জীবনের প্রতিটা সুখ হিসেবে এদের রেখে দেও একান্ত নিজের করে। আলোকিত করে রাখো সর্বদা ”
আকাশে উড়া প্রতিটা বেলুন গুচ্ছর দিকে তাকিয়ে ছিলো হীরা। সত্যিই যেনো মনে হচ্ছে তার জীবন থেকে সব দুঃখ গুলো উড়িয়ে দিলো। প্রথমে এতগুলো বেলুন আকাশে উড়িয়ে দিতে খারাপ লাগছিলো তার। কিন্তু এখন অনেক হালকা লাগছে নিজেকে। বুক ভরে শ্বাস টেনে নিলো সে। এতক্ষণের মলিন মুখটায় ফোটে উঠলো এক চিলতে স্নিগ্ধ হাসির রেখা। যা মুগ্ধ নয়নে দেখলো অনিল। স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো সে নিজেও। এইবার হীরা ঘুরে তাকালো অনিলের দিকে। বড্ডো বেশিই মুগ্ধ হচ্ছে সামনে থাকা এই পুরুষটির দিকে। মন চাইছে জড়িয়ে ধরে বলতে,

“ আপনি এতো ভালো কেন ডাক্তার সাহেব ” কিন্তু পারলো না সে। অনিলের দিকে অনিমেষ চেয়ে বললো,
“ আপনি আমার জন্য এতোগুলো টাকা নষ্ট করলেন কেন ডাক্তার সাহেব? ”
“ টাকা খরচ করে যদি এতো সুন্দর মিষ্টি হাসি দেখতে পাওয়া যায় তাহলে রোজ রোজ এমন টাকা খরচ করলেও মন্দ হয়না ”
মনে মনে বললো অনিল। তবে সামনা সামনি বললো,
“ মন চাইলো তাই করলাম। ”
“ আপনি এতো ভালো কেন ডাক্তার সাহেব? ”
অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রশ্নটা করেই ফেললো হীরা। বড্ডো সুখ সুখ লাগছে তার। এতো সুখ কী সে পাবে ভেবেছিলো? সুখে তার চোখ দিয়ে পানি এসে গেল। এইদিকে হীরার চোখে আবারও পানি দেখে অনিল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,

“ এই জন্যই বলি পরো না কিশোরীদের ফাঁদে,
ওঁদের কান্ডকারখানা বুঝা বড়ই মুশকিল, ওঁরা এখনি হাসে আবার এখনই কাঁদে ”
তার কথায় হেসে ফেললো হীরা। বললো,
“ দোয়া করি আপনার মতো আদর্শ পূরুষগুলো প্রতিটা কিশোরী মেয়েদের ফাঁদে পরুক গুছিয়ে দিক তাদের অগুছালো জীবনটাকে। আর হ্যাঁ কিশোরী মেয়েদের ফাঁদে পরা কিন্তু অতটাও মন্দ নয় তারা তাদের প্রিয় মানুষের সকল কথা শুনে চলে। ”

অকস্মাৎ প্রণয় পর্ব ৯+১০

শেষ কথাটি বলে অমায়িক হাসলো হীরা। হাসলো অনিল ও। তাদের দুজনের হাসিতে মুগ্ধ হলো পারপাশের সকলে। আনিকা এই দৃশ্য টাকে স্মৃতি করে রাখার জন্য দূর থেকে ক্যামেরায় বন্দি করে নিলো তা। ছবিটা দেখে হাসলো গৌরবের হাসি। তার ভীষন গর্ব হচ্ছে তার ভাইকে দেখে। কতো সুন্দর করে হীরার মন ভালো করে দিলো। তার ও ভীষন খারাপ লাগছিলো হীরার উদাসীনতা দেখে। এখন হীরার মুখে হাসি দেখে প্রশান্তি অনুভব হচ্ছে। মেয়েটা বড্ডো মায়াবী, মায়াভরা ঐ মুখটায় উদাসীনতা একদমই বেমানান। এভাবেই হাসি খুশী থাকুক চিরকাল তারা- এটাই চাওয়া আনিকার।

অকস্মাৎ প্রণয় পর্ব ১৩+১৪