Home অকস্মাৎ প্রণয় অকস্মাৎ প্রণয় পর্ব ৯+১০

অকস্মাৎ প্রণয় পর্ব ৯+১০

অকস্মাৎ প্রণয় পর্ব ৯+১০
সিনথিয়া ইসলাম সীমা

অম্বর জুড়ে রাজত্ব চলছে মেঘ-মালা দের। প্রকৃতির ফুরফুরে বাতাসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন আকারে ভাসছে তারা। গাছে গাছে ফুটে আছে বাহারি রকমের ফুল যা জানান দিচ্ছে ধরণীতে শীতের আগমন ঘটতে যাচ্ছে। গাড়ির জানালা দিয়ে মুগ্ধ নয়নে তা দেখছে হীরা। পাশে বসে অনিল চুপচাপ ড্রাইভ করছে। আর মাঝে মাঝে হীরার কান্ড কারখানা লক্ষ্য করছে। আজ হীরাকে নিজের সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে সে। গতকাল ভয়ে যা অবস্থা হয়েছিল এই মেয়ের! এর পরেও তাকে বাসায় একা রেখে যাওয়ার মতো ভূল আর করলো না সে। যদিও হীরা রাজি হচ্ছিলো না। বলছিলো, ” আপনি সেখানে রুগী দেখবেন আমি গিয়ে কী করবো?” জবাবে অনিল বলেছিলো, ” তুমি আমার পার্সোনাল রুমে বসে থাকবে ঐখানে কেউ যাবে না।” তারপর হীরাও আর কিছু বলেনি অনিলের কথা মতোই চলে এসেছে। পরনে তার কালোর মধ্যে সাদা প্রিন্ট করা একটা লং গ্রাউন্ড সাথে হিজাব। পিচ্ছি একটা মেয়ে মনে হচ্ছে তাকে। শাড়ি পরলে তাও একটু বড়ো সরোই মনে হয় তবে এইগুলো পড়লে একদম ষোড়শীই মনে হয়।

হসপিটালে নিজ কেবিনে বসে রুগী ভিজিট করছে অনিল। পাশের রুম অর্থাৎ তার প্রাইভেট রুম, যেখানে সে নামাজ আদায় করে বা নিজের সকল ব্যাক্তিগত জিনিস পত্র রাখে সেই রুমে হীরা বসে আছে। বসে বসে ফোন স্ক্রোল করছে সে। তাই আর তেমন বোরিং লাগছে না। কিছুক্ষণ বাদেই খাবার হাতে সেখানে উপস্থিত হলো অনিল। তাকে দেখা মাত্রই ফোন রেখে তার দিকে মনোনিবেশ করলো হীরা। নুডুলস, বার্গার আর বিরিয়ানি এনে হীরার সামনে রেখে অনিল বললো,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

” খেয়ে নেও, আমার একটা ক্লাস নিতে যেতে হবে। না আসা অব্দি এখানেই বসে থাকবে। বেশি না ৪০ মিনিটের মধ্যেই এসে পরবো আমি। ”
তার কথায় ঘাড় কাত করে সম্মতি জানালো হীরা। সম্মতি পেয়ে অনিল যেতে নিবে তখনই সে পিছন থেকে বলে উঠলো,
” আপনি খাবেন না? ”
” আমার খাওয়া নিয়ে তোমায় ভাবতে হবে না এর আগেও বলেছি। ”
বলেই চলে গেলো সে। হীরা চোখ ছোটো ছোটো করে তার যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইলো। ” এই লোক এমন কেণ? একটা প্রশ্নের উত্তর দিলে যেন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে তার, আজব লোক! ” বলেই খাওয়ায় মনোনিবেশ করলো সে।

” তুমি কি জানো, তুমি মিথ্যা বললে তোমার এই চেহারায় তা স্পষ্ট ভেসে ওঠে। ”
ড্রাইভ করা অবস্থায়ই হীরার উদ্দেশ্যে কথাটা বললো অনিল। তার কথা শুনে জানালার বাইরের অন্ধকারাচ্ছন্ন প্রকৃতি থেকে নজর সরিয়ে এইবার অনিলের দিকে তাকালো হীরা। তার কথার মর্মার্থ বুঝতে পেরে হীরা মাথা নিচু করে বললো,
” আসলে আমি চপস্টিক দিয়ে কখনো খাবার খায়নি তাই এসব দিয়ে খেতে পারিনা। ”
” হুঁম বুঝতে পেরেছিলাম। ”
” আপনি কীভাবে বুঝতে পেরেছিলেন? ”
” মানুষ যাকে বুঝতে চেষ্টা করে তার প্রত্যেকটা না বলা কথাও তার চোখ দেখে বলে দিতে পারে। হয়তো আমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে ”
” তাহলে আমি কেন আপনাকে বুঝতে পারি না। ”
” আমার চোখের ভাষা বুঝার ক্ষমতা এখনো হয়নি তোমার। আর নাতো আমি নিজেকে তেমন ভাবে উপস্থাপন করি।

তার কথায় আর কিছুই বলতে পারলো না হীরা। এই লোককে বুঝা আসলেই তার ক্ষমতার বাইরে। সে আবারও জানালার বাইরে নজর তাক করলো। আর ভাবতে লাগলো কিছুক্ষণ আগের ঘটনা,
সে অনিলের প্রাইভেট রুমে বসে ছিলো। সহসা ভিতরে প্রবেশ করলো অনিল সহ একটি মেয়ে আর একটি ছেলে। ছেলেটি অনিলের ফ্রেন্ড নিলয় আর মেয়েটি তার স্ত্রী নীলা। একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করেছে তারা। দুজন মিলে দিব্যি সুখেই সংসার করছে এখন। অনিলের বিয়ের কথা শুনে হীরার সাথে সাক্ষাত করতে এসেছে তারা।মেয়েটি হীরাকে দেখা মাত্রই তার নিকট এক প্রকার দৌঁড়ে গেলো। গিয়েই হীরার কপোল দ্বয় টেনে দিয়ে বললো,

” আরে অনিল ভাই এতো পুরোই পিচ্ছি, এত্তো কিউট বেবি ডল টাকে কোথায় পেলেন আপনি ! ”
মেয়েটির কথায় ড্যাবড্যাব করে তার দিকে তাকিয়ে রইল হীরা। সে কিছুই বুঝতে পারছে না উনারা কারা আর তাকেই বা এইগুলা কী নামে সম্বোধন করছে। অনিলের দিকে প্রশ্নসূচক দৃস্টিতে তাকালো সে। তার প্রশ্নসূচক চাহনি লক্ষ্য করে নিলয় বললো,
” আরে পিচ্ছি আমি হলাম তোমার বুড়ো জামাইয়ের লেংটা কালের বন্ধু আর এইটা হলো আমার একমাত্র গুণধর বউ। ”

তার কথায় না চাইতেও হেসে দিলো হীরা। “বুড়ো জামাই” শব্দটা খুব হাস্যকর লাগলো তার কাছে। এই লোককেও কেউ বুড়ো বলতে পারে, ভাবা যায়? তার সাথে হাসতে লাগলো নীলাও। তাদের এভাবে হাসতে দেখে চোখ ছোটো ছোটো হীরার উদ্দেশ্যে অনিল বললো,
” এই মেয়ে হাসছো কেন তুমি? ”
” বুড়ো জামাই কথাটা….. ”

আর বলতে পারলো না হীরা। হাসতে হাসতে মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না তার। তাকে এভাবে হাসতে দেখে অনিলের বুকে কিছুটা প্রশান্তি অনুভব হলো। কতদিন পর এভাবে হাসছে মেয়েটা। আর কিছু বললো না সে, হাসতে দিলো হীরাকে। এভাবেই আরো কিছুক্ষণ কথা বলে তারা চললো রেস্টুরেন্ট এর উদ্দেশ্যে। তবে সেখানে গিয়ে খেতে চাইলো না হীরা। নীলা ও নিলয় অনেক রিকোয়েস্ট করেও তাকে খেতে রাজী করাতে পারলো না। কিন্তু অনিল? সে কী না খাইয়ে ছাড়বে এই মেয়েকে। তাকে কোনো কথা বলতে না দিয়েই তার মুখে চপস্টিক সহকারে নুডুলস পুরে দিল সে। নুডুলস থেকে শুরু করে তারা যা যা খেয়েছে একে একে সবকিছুই একটু একটু খাওয়ালো হীরাকে। হীরাও অনিলের ধমকের ভয়ে চুপচাপ খেয়ে নিল। তাদের কান্ড দেখে হাসলো নীলা ও নিলয়। আর রেস্টুরেন্ট এর বাকিরা তো মুগ্ধ নয়নে শুধু তাদেরকেই দেখছিলো। আসলে হীরা চপস্টিক দিয়ে খেতে পারে না তাই সে খেতে নিষেধ করছিলো। বলছিলো পেটে ক্ষুধা নেই। দুপুরের খাবার ঐ এখনো পেটে রয়ে গেছে তার। দুপুরে ঐখানে পাইভেট রুম হওয়ায় হাত দিয়েই খেয়েছে সে। তবে এখানে তো আর তা সম্ভব নয়। তাই মিথ্যার আশ্রয় নিতে চাইছিলো সে। তবে পারলো আর কই!

আর তার এই মিথ্যাটার কথাই অনিল এখন বললো। আচ্ছা অনিল কীভাবে এতোটা বোঝে তাকে? সে তো অনিলকে বুঝতে গেলেই উচ্চতর গণিতের এক একটা অধ্যায় মনে হয়। এখনি যেনো বুঝে আবার কিছুক্ষণ পরেই বুঝতে পারে না। দিন দিন পাশে থাকা এই লোকটা তার প্রতিটা বৈশিষ্ট্য দিয়ে মুগ্ধ করে তুলছে হীরাকে। জড়িয়ে নিচ্ছে এক নিষিদ্ধ জালে।

আজ শুক্রবার, নাজিয়া বেগমরা বাসায় ফিরছেন আজ। আর সেই খুশিতেই ফুরফুরে মনে তাদের জন্য বাহারি রকমের রান্না করছে হীরা। এ কদিন বাড়িটা বড্ডো ফাঁকা ফাঁকা লেগেছে তার কাছে। সবাই যখন একসাথে থাকতো হাসি ঠাট্টার মধ্য দিয়েই দিনটা শেষ হয়ে যেতো নিমিষে। আর সবার অনুপস্থিতিতে দুটো দিন যেনো কাটতেই চায়নি। অনিল আজ বাসায়, ঘুমাচ্ছে সে। আজ সে ঘুমিয়েই দিন পার করবে। সন্ধ্যার দিকে শুধু একটু বের হবে। গতো দিনগুলোতে অনিলের সব কার্যক্রম মুখস্থ হয়ে গেছে হীরার।

আনিকার রূমের মিররের সামনে দাঁড়িয়ে শাড়ি পরছে হীরা। পরছে বললে ভূল হবে তাকে জোর করে পরাচ্ছে আনিকা। বাসায় এসেই খাওয়া দাওয়া করে দুজনে আড্ডা দিতে বসেছিলো। তখনই হীরার হাতে নতুন ফোন দেখে সে বায়না ধরলো দুজন শাড়ি পরে ছবি তুলবে। এমন নয় যে তার কাছে ভালো ফোন নেই, তাকেও অনিল আইফোন কিনে দিয়েছে। তবে নতুন ফোনে ছবি তোলার ফিলিংস ঐ আলাদা। হীরা প্রথমে রাজি হচ্ছিল না, সে এইসব ছবি টবি তুলতে পছন্দ করে না। বলেছিল আনিকা শাড়ি পরতে সে ছবি তুলে দেবে। তবে আনিকা নাছোড়বান্দা তাকে রাজি করিয়েই ছাড়লো। পাশেই আনিকা সেজে সুজে রেডি হয়ে আছে। হীরার শাড়ি পরা হতেই তাকে সাজাতে ব্যাস্ত হলো সে। টুকটাক সাজিয়ে দুজনে রওনা হলো ছাদের উদ্দেশ্যে। ছাদে এসে ইচ্ছে মতো ছবি তুললো আনিকা। হীরা বেশি ছবি তুলে নি সে শুধু কয়েকটা তুলেছে। ছবি তোলা শেষ হতেই দুজন মিলে ছবিগুলো দেখতে লাগলো। সহসা আনিকার এক বান্ধবীর মেসেজের নোটিফিকেশন এলো। মেসেজে টা দেখতেই কিছু একটা মনে পরল আনিকার। কপাল চাপড়ে বললো,

” আরে হীরা তোমাকে তো একটা কথা বলাই হলো না। ”
” কী? ”
” রবিবারে আমাদের কলেজ থেকে শিক্ষা সফরে যাচ্ছে সাথে তোমাদের স্কুল থেকেও, সবাই একসাথেই যাবে। ”
” কোথায় যাব? ”
” সেন্টমার্টিন দ্বীপ , ভাইয়াকে বলো না আমরা দুজনে একসাথে যাবো। আগে তো আমি একা ছিলাম বলে দিতো না এইবার তো তুমিও আছো আশা করি দিবে। বলে দেখো না। ”

নিঃসংকোচ আবদার আনিকার। তবে হীরার অবস্থা বেগতিক। হীরা কী করে বলবে এই কথা! সে তো কথা বলতেই ভয় পায় অনিলের সাথে। আর তাদের সম্পর্ক ও এতটা গভীর নয় যে , যা ইচ্ছে তাই আবদার করতে পারবে। তার ভাবনার মাঝেই আবারও আনিকা তাকে তাগাদা দিয়ে বললো,
” যাও না হীরা, আজকেই বলে ফেলো ভাইয়াকে নয়তো পরে আর বলতে পারবে না, ভাইয়া ব্যাস্ত হয়ে যাবে। ”
বলেই হীরাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই তার হাত ধরে তাকে নিচে নিয়ে যেতে লাগলো আনিকা। এইদিকে হীরা কিছু বলতেও পারছে না , কী করে বলবে যে তাদের সম্পর্ক আর দশটা সম্পর্কের মতো নয়। তার ও ইচ্ছা আছে শিক্ষা সফরে যাওয়ার, সেও এর আগে কখনো যেতে পারেনি। কিন্তু সে তো অনিলকে বলতেই পারবে না।

শাওয়ার নিয়ে মাত্র ওয়াশরুম থেকে বের হলো অনিল। চুল মুছতে মুছতেই যেতে নিচ্ছিলো দরজার দিক। অকস্মাৎ কোথা থেকে যেন ছুটে আসলো হীরা, এসেই তার শক্তপোক্ত বুকে ধাক্কা খেয়ে ব্যালেন্স সামলাতে না পেরে পরে যেতে নিলে খপ করে ধরে ফেললো সে। এইদিকে হীরা যখন বুঝলো সে পরে যাচ্ছে। চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে ফেললো সে। চোখ বন্ধ অবস্থাতেই বলে উঠলো,
” ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাহি রাজিউন ”
হীরার কাণ্ডে সবে তাকে একটা রাম ধমক দিতে নিচ্ছিলো অনিল। তবে হীরার মুখে এমন কথা শুনে হাসি পেলো তার। বললো,

” মরো নি এখনো তুমি ”
তার কথায় পিট পিট করে চোখ খুলে তাকালো হীরা। তারপর আতঙ্কিত চাহনি নিক্ষেপ করে বোকার মতো বললো,
” তাহলে? কোথায় আছি আমি? ”
” মরনের মাঝপথে আছো। চাইলে পুরোপুরি সেখানে পাঠিয়ে দিতে পারি। ”
” নাহ্ , প্লিজ এমনটা করবেন না। আমি এতো শীঘ্রই মরতে চাই না, আমার এখনো অনেক স্বপ্ন পূরণ হয়নি। ”

হীরার এমন বাচ্চাসুলোভ আর মায়াভরা আবদারে তার উপর পূর্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো অনিল। পিংক কালারের একটা জর্জেট শাড়ি সাথে হাতে পরেছে কালো চুড়ি, চোঁখে হালকা কাজল আর আইলাইনার, ঠোঁটে লাগিয়েছে হালকা গোলাপি রঙের লিপস্টিক- আর এতেই ওর মায়াভরা চেহারা অনিলের জন্য হয়ে উঠেছে তাকে ঘায়েল করার অস্ত্র। সাথে সাথেই হীরাকে টান দিয়ে সোজা করে দাঁড় করালো। অনিলের বুকে এসে ঠেকলো তার পুরো শরীর। হীরার এসবে খেয়াল নেই সে আছে তার চিন্তার জগতে।

সহসা গালে ঠান্ডা কিছু লাগায় চিন্তা জগৎ থেকে বেরিয়ে আসলো সে। খেয়াল করলো অনিলের ভেজা চুল থেকে তার উপর পানি পরেছে। খালি শরীর অনিলের, শুধু একটা প্যান্ট পরে আছে। সদ্য শাওয়ার নেওয়ায় বুকের লোমগুলো এখনো পানির ফোঁটা বিদ্যমান। এমন অবস্থাতেই হীরার কোমড়ের বাকা খাঁজে হাত রেখে তাকে নিজের সাথে আটকে রেখেছে সে। এই প্রথম তারা দুজন এতোটা কাছকাছি এসেছে। নিজের অবস্থান লক্ষ্য করতেই কেঁপে উঠলো হীরার অন্তরাত্মা। সাথে সাথেই হেঁচকি উঠে গেলো তার। হীরার এমন অবস্থা দেখে হীরাকে তৎক্ষণাৎ ছেড়ে দিলো অনিল। ছাড়া পেয়েও হীরার অবস্থা বেগতিক পুরো শরীর কাঁপছে তার, হৃদস্পন্দন বেড়ে গেছে দ্বিগুণ। তাকে স্বাভাবিক করার জন্য অনিল এইবার বললো,

” এভাবে তাড়াহুড়া করে রুমে ঢুকছিলে কেন? ”
” ম…মনে নেই ”
কিছুক্ষন ভেবে চিন্তে আমতা আমতা করে জবাব দিলো হীরা। তার কথায় অনিল কপাল কুঁচকে বললো,
” মনে নাহয় নেই, ব্রেনে আছে কী? ”

অকস্মাৎ প্রণয় পর্ব ৭+৮

এইবার অসহায় লুক নিয়ে দুই দিকে মাথা নাড়ালো হীরা যার অর্থ ব্রেনেও নেই। আসলে সে যে একটা উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে এসেছিলো ঐটাই ভূলে বসেছে সে। একটু আগেই তো মরার রাস্তা থেকে ঘুরে আসলো সে, কীভাবেই বা মনে থাকবে? যদিও এখান থেকে পরলে মনে হয় না মরতো সে, বেশি হলে মাথা ফাটতো আর কী। তবে এই লোকের এমন রুপ দেখে মনে হচ্ছে সত্যিই এইবার মরে যাবে সে। হার্ট যে গতিতে বিট করছে মনে হয় বেরিয়েই আসবে। তার ভাবনার মাঝেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে রুম ত্যাগ করলো অনিল। নিচে নামলো খাওয়ার উদ্দেশ্যে। যাওযার সময় ঠোঁট টা যেনো একটু প্রসারিত হলো তার, হাসলো কী?

অকস্মাৎ প্রণয় পর্ব ১১+১২