Home অকস্মাৎ প্রণয় অকস্মাৎ প্রণয় পর্ব ৭+৮

অকস্মাৎ প্রণয় পর্ব ৭+৮

অকস্মাৎ প্রণয় পর্ব ৭+৮
সিনথিয়া ইসলাম সীমা

দেখতে দেখতে কেটে গেলো সপ্তাহ খানেক। এই সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই হীরার জীবনের অনেককিছুই পাল্টে গেছে। এখন তার আর আগের মতো অসস্তি লাগে না এখানে থাকতে বরং একটা ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছে বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষের সাথে। বাদ পড়েনি অনিলও তার সাথেও সম্পর্ক এখন অনেকটা স্বাভাবিক। তারা দুজন এখন একই বিছানায় থাকে তবে নির্দিষ্ট দুরত্ব বজায় রেখে। হীরাই বলেছিলো অনিলকে বিছনায় থাকতে। চারিদিকে আযানের ধ্বনিতে ঘুম ভাঙ্গলো হীরার। চোখ খুলতেই নজর গেলো অনিলের দিকে, উবড় হয়ে শুয়ে আছে সে। আবছা আলোয় দেখতে বেশ স্নিগ্ধ লাগছে লোকটাকে। আজকাল এই পূরুষ টিকে বড্ডো ভালো লাগে তার। উপরে শক্ত শক্ত কথা বললেও প্রতিটা কথার ভিতরে যত্ন খুঁজে পায় সে। অথচ এই মানুষটাকেই আগে কতো খারাপ ভাবতো সে। ভেবেই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো সে। তারপর বিছানা ছেড়ে ফ্রেশ হতে চলে গেলো সে।

ফ্রেশ হয়ে নামাজ আদায় করে নিচে নামলো হীরা। তাকে দেখেই তড়িঘড়ি করে তার কাছে এলেন নাজিয়া বেগম। বললেন,
“এতক্ষণ তোর অপেক্ষাতেই ছিলাম।”
“কেন আম্মু কিছু হয়েছে”
“আমি, তোর আব্বু ও আনিকা আমাদের বাড়িতে যাচ্ছি আমার ভাইয়ের শরীর টা ভালো না বুঝলি তাই দেখতে যাবো। তুই একটু এইদিক টা সামলে নিস।”
তার কথায় বরাবরের মতোই হীরা জবাব দিলো,
“আচ্ছা। আপনি চিন্তা করবেন না আম্মু আমি সামলে নিব।”

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

এতক্ষনে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন তিনি। তার ছেলে তো কোনো জায়গায়ই যায় না তাই তিনি কোথাও গেলে হামেশা ছেলের জন্য চিন্তায় মরেন। এইবার আর কোনো চিন্তা নেই তার একমাত্র ছেলের বউটা যে আছে। তিনি ভেবে পান না এতো মিষ্টি একটা মেয়ে তার ছেলে কোথায় পেলেন। একবার তার সামনেই অনিলের বাবা অনিলকে জিজ্ঞেস করেছিল এই কথাটা। উত্তরে তার ছেলে বলেছিলো, “তুমি যেখান থেকে আমার আম্মুকে এনেছো আমিও সেখান থেকেই এনেছি” সেদিনের পরে আর কেউই কিছু বলেন নি এই ব্যাপারে। যেখান থেকেই আনুক তার ছেলে যে এমন একটা মেয়ে তার ঘরে এনেছে এতেই তিনি খুশি।

ড্রয়িং রুমে একা বসে আছে হীরা। কিছুক্ষন আগেই নাজিয়া বেগমরা চলে গেছেন। আর অনিলের ছোটো চাচা তো তাদের বিয়ের পরদিনই পারিবারিক অফিসের কাজে বরিশাল চলে গেছেন। তার বিয়ের ৩ বছরের মাথায়ই তার স্ত্রী মারা গেছেন তারপর তিনি আর বিয়ে করেন নি। এখন তিনি একাকিত্ব কেই সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তাই তিনি বেশিরভাগ সময়ই বাড়ির বাইরে থাকেন। তার দরুণ এখন পুরো বাড়িতে সে আর অনিল আছে। কিছুক্ষনের মধ্যেই অনিল ঘুম থেকে উঠে পরবে। তাই তাড়াতাড়ি করে নাস্তা রেডি করতে হবে তার। ভেবেই তড়িঘড়ি করে রান্নাঘরে ঢুকে পড়লো সে।

কালো একটা থ্রি কোয়ার্টার গেঞ্জি পরে হাত দিয়ে চুল ঝাড়তে ঝাড়তে নিচে নামছিল অনিল। সহসা রান্নাঘরের দিকে চোখ পড়তেই পা জোড়া থেমে গেলো তার- হীরা একদম পাকা গিন্নির মতো কোমড়ে শাড়ির আঁচল গুঁজে রুটি বেলছে। পেটের অনেকাংশ দৃশ্যমান হয়ে আছে। যা নজরে আসতেই হিম হয়ে গেলো সে। টেনে হেঁচড়ে সেখান থেকে নজড় সরিয়ে রান্নাঘরের দিকে হাঁটা ধরলো সে। রুটি বেলার মাঝেই হঠাৎ মনে পড়ল সে লবন দেয়নি। তাই লবনের কৌটা নেওয়ার জন্য পা উঁচু করে হাত বাড়ালো। তবে নাগাল পেলো না। তখনি তার হাতের পাশ দিয়ে আরেকটা হাত এসে কৌটাটা নিয়ে নিলো। তৎক্ষনাৎ পিছে ঘুরে তাকালো হীরা। পিছনে ফিরতেই অনিলের শরীরের সাথে শরীর লেগে গেলো তার,কেঁপে উঠলো সে। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে অনিলের দিক তাকিয়ে বললো,

“আ..আপনি কখন এলেন?”
“এখনই, আম্মু কই?”
“আম্মু নানা বাড়িতে গেছে। মামার শরীর ভালো না।”
“কখন গেলো?”
“কিছুক্ষন আগেই”
“ওহ, কবে আসবে জানিয়ে গেছে?”
” মামার অবস্থা ভালো দেখলে কালকেই এসে যাবে।”
আর কিছু বললো না অনিল। খাবার টেবিলে গিয়ে বসলো সে। অতঃপর কিয়ৎক্ষণ পরেই রুটি বানিয়ে নিয়ে এলো হীরা। খেয়ে হসপিটালের উদ্দেশ্যে রওনা হলো সে। যাওয়ার সময় হীরাকে বললো,
“সাবধানে থেকো। আমি ইনশাআল্লাহ তাড়াতাড়ি করে চলে আসবো।”
তার কথায় ঘাড় কাত করে সম্মতি জানালো হীরা। তারপর দরজা লাগিয়ে ঘরে চলে গেলো সে। গিয়ে পড়তে বসলো সে।

রাত প্রায় ১১ টার কাছাকাছি অনিল এসে কলিং বেল চাপলো বাড়ির। সাথে সাথেই দরজা খুলে গেলো। যেনো এতক্ষন যাবৎ এরই অপেক্ষায় ছিলো দরজার ওপাশের রমণীটি। দরজা খোলে সম্মুখে কাঙ্ক্ষিত মুখটি দেখতেই তার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লো হীরা। কেঁদে দিলো ঝরঝর করে। আসলে রাত হতেই এতো বড় বাড়িতে একা থাকায় ভয় করছিলো হীরার। রাত যতো বেশি হতে থাকলো ততোই ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে যাচ্ছিলো মেয়েটা। তার কাছে ফোনও ছিলো না যে অনিলকে কল করবে। এক পর্যায়ে কেঁদে কেঁদে অবস্থা নাজেহাল হয়ে গেছে তার, বরফের ন্যায় ঠান্ডা হয়ে গেছে পুরো শরীর। এইদিকে নিজের শরীরে অকস্মাৎ এমন ঠান্ডা স্পর্শে আৎকে উঠলো অনিল। হীরাকে নিজের সাথে আগলে নেওয়ার সাহস টুকুও পাচ্ছে না সে। দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগছে সে ভাবছে তার কী হীরাকে ধরা উচিত হবে? হীরাতো ভয়ের বশে থেকেই তাকে জড়িয়ে ধরেছে নাহলে তো হীরাও কখনো তাকে এভাবে ধরতো না। অবশেষে তার ভাবনার মাঝেই কিছুটা স্থির হলো হীরা। তাকে স্থির হতে দেখে তার উদ্দেশ্যে অনিল বললো,

” আই এম সরি হীরা, আমি আসলে একটা কাজ করতে গিয়ে লেট করে ফেলেছি। আই এম এক্সট্রিমলি সরি। ”
অনিলের কথা কর্ণপাত হতেই যেনো হুশ ফিরল হীরার। তৎক্ষনাৎ ছেড়ে দিলো অনিলকে। অনিলকে যে সে এভাবে ধরে রেখেছিল তা ভাবতেই এতক্ষণের ভয়ার্ত মুখটায় অপ্রস্তুত ভাব ফুটে উঠল যা, নজরে এড়ালো না অনিলের। সে এইবার হীরার সামনে গিয়ে একটা বক্স দিলো। বললো,
” এটা তোমার। ”
বক্সটা হাতে নিয়ে সেটা আনবক্সিং করতেই দেখতে পেলো “SAMSUNG GALAXY S24 ULTRA” । যা দেখতেই অনিলের দিকে চমকে তাকালো সে। বললো,

” এতো দামি মোবাইল কেন আনতে গেলেন! ”
তার কথায় বিড়বিড় করে অনিল বললো,
” এই ফোনের দাম চুকাতে তো আমার এক মাসের মাইনে ও লাগবে না। অথচ এই ফোন আনতে গিয়ে যে অমূল্য অশ্রুকণা ঝরেছে তার দাম চুকাইবার সাধ্য যে আমার এই জনমও হবে না। ”
আসলে অনিল সন্ধ্যার দিকেই হসপিটাল থেকে বের হয়ে পড়েছিলো। কিন্তু এই ফোন আনতে গিয়েই তার এতো সময় লেগে গেলো। সে অনেকদিন আগে থেকেই ভাবছিলো হীরাকে একটা মোবাইল কিনে দিবে। তবে সময়ের জন্য মার্কেটে যেতে পারেনি। আজকে সময় পেয়ে চলে গেছিলো। আর সেখানেই এতো লেট হয়ে গেলো তার।

ধরণীতে সবে রবির দেখা মিলেছে মাত্র। নিত্যদিনের মতোই সে তার নিজস্ব আলো দিয়ে জানান দিচ্ছে রজনীর সমাপ্তি ঘটিয়ে দিনের সূচনা ঘটাতে জেগে উঠেছে সে। সাথে জাগিয়ে তুলছে ধরণীতে থাকা প্রতিটি জীবকে। সূর্যের এই তীক্ষ্ণ রশ্মি জানালার কাঁচ ভেদ করে চোখে এসে পরলো অনিলের। সাথে সাথেই ঘুম চটে গেলো তার। চোখ খোলে তাকালো অমনি। চোখ খুলতেই নজরে পড়লো এক নিষ্পাপ রমনীর মুখ। সেখানে রাজত্ব চলছে চুলেদের। তারা সূর্যের আলোর সাথে তাল মিলিয়ে ক্ষণে ক্ষণে আছড়ে পড়ছে রমনীর মুখে। যার দরুণ রমনীর ঘন কালো ভ্রুদ্বয় কুঁচকে যাচ্ছে বারংবার। এসব দেখতে দেখতে অজান্তেই হেসে ফেললো অনিল। কী নিষ্পাপ লাগছে মেয়েটাকে। আচ্ছা রনি কী করে পারলো এই মেয়েটাকে ঠকাতে? রুহ কাঁপলো না তার? কাঁপবে কী করে সেতো এর আগেও অনেক কেই ঠকিয়েছে। তাই তো সে হীরাকে মানা করেছিলো এসব থেকে দূরে থাকতে। ভাবলো সেই দিনের কথা। একদিন অনিল ও রনি এক সাথেই বসেছিলো তখনি হীরার কল এলো। পরপর অনেকগুলো কল আসার পরেও যখন রনি কলগুলো ধরলো না তখন সে জিজ্ঞেস করেছিলো কল ধরে না কেন? উত্তরে রনি বলেছিলো,

” আরে ভাই ও একদম অবুঝ একটা রোম্যান্টিক কথা বললেও ভালো করে উত্তর দিতে পারে না বোর লাগে আমার এখন ওর সাথে কথা বলতে ”
তার কথায় অনিল বলেছিলো,
” মেয়েটা অনেক সরল আর বয়সও কম তাই না ই বুঝতে পারে আর তুই তো যথেষ্ট বড়ো তাও তো তুই মেয়েটাকে ঠকাচ্ছিস “।

” আরে ভাই এখনই তো এসব করমু বিয়ের পর তো বউ বাচ্চা নিয়াই থাকতে হইবো। এখনই মজা নেওয়ার সময়। তোরে বইলা লাভ নাই তুই তো আজ অব্দি একটা প্রেমই করলি না তুই বুঝবি না এসব। ”
কথাটা শুনা মাত্রই সভাবসুলোভ কিঞ্চিৎ হাসলো অনিল বললো,
” আমার কাছে ভালোবাসা এক পবিত্র অনুভূতি যা আমি কোনো অপবিত্র জায়গায় প্রকাশ করবো না। তা শুধু আমার ভাগ্যে লিখা সেই পবিত্র নারীর প্রাপ্য। ”

” ভাই তোরে স্বামী হিসেবে যেই মেয়ে পাইবো সেই মাইয়া হইবো দুনিয়ার সবচেয়ে ভাগ্যবতী কনফার্ম ”
বলেই চলে গিয়েছিল রনি। অনিল ও চলে গিয়েছিলো বাড়ির উদ্দেশ্যে। সেদিন রাতেই সহসা হীরা তাকে কল করেছিলো। অনেকক্ষণ ভেবে চিন্তে অবশেষে সে কল ধরেছিলো। কল ধরতেই হীরা রনির কথা জানতে চাইলে বড্ডো রাগ হলো অনিলের। এই মেয়ে এতটা বোকা কেন? রনি এভাবে ইগনোর করার পরেও রণির কেন কল ধরছে না তা জানার জন্য তাকে কল করেছে! নিজের রাগকে সংযত করে সে বলেছিল,
” শুনো মেয়ে এসব প্রেম, ভালোবাসা বাদ দিয়ে ভালো করে পড়াশোনা করো ”
তার কথায় সেদিন তাকে ভূল বুঝেছিল হীরা। তার কথাটা মানলে হয়তো মেয়েটাকে এভাবে কাঁদতে হতো না আর। আর নাতো এতটা নির্মম ভাবে ঠকতে হতো।ভেবেই দীর্ঘশ্বাস ফেললো সে। তারপর হীরার ঐ মায়াভরা বদন খানির দিক তাকিয়ে বললো,

” আজ এই মিষ্টিময় সকালের প্রটিতা আলোক রশ্মিকে সাক্ষী রেখে আমি কথা দিলাম- যতটা যত্ন করলে একটা নেতিয়ে পরা ফুলও সতেজ হয়ে উঠে ততটা যত্নে আমি আগলে রাখবো তোমায়, যতটা ভালোবাসলে একটা মানুষ নিজেকেই অন্যের মাঝে হারিয়ে ফেলতে পারে ততটাই ভালোবাসায় আমি মুড়িয়ে রাখবো তোমায়, আজ থেকে তুমি এই অনিল এহসানের একান্ত “রুগী সাহেবা”
বলেই শুয়া থেকে উঠে ফ্রেশ হতে চলে গেল সে।

ফোনের বাজখাঁই শব্দে ঘুম উড়ে গেলো হীরার। তড়িঘড়ি করে পাশ থেকে ফোনটা নিয়ে দেখলো নাজিয়া বেগমের কল। সাথে সাথেই রিসিভ করল সে। কল রিসিভ করতেই নাজিয়া বেগমএক দমে বলে উঠলেন,
” অনিল আমরা আজকে আসতে পারবো না। ইনশাআল্লাহ কালকে আসবো। আর হীরার কাছে ফোনটা দে ওর সাথে কথা আছে। ”
তার কথায় হীরা বললো,
” আম্মু আমিই হীরা। ”
আসলে অনিলের দুটো সিম ছিলো। তার থেকে একটা গতকাল হীরার মোবাইলে পুরে দিয়েছে। যার দরুণ নাজিয়া বেগম ভেবেছিলেন অনিল কল ধরেছে। হীরার কন্ঠ শুনে খুশিতে গদগদ হয়ে নাজিয়া বেগম বললেন,

” আমার মেয়েটার জন্যই তো অপেক্ষা করছিলাম। আগে বলবি না এটা তুই! শুন আজকে আম্মু আসতে পারবো না তুই একটু কষ্ট করে সামলে নে আজকের দিনটা ”
তার কথায় তাকে আশ্বস্ত করে হীরা বললো,
” সমস্যা নেই আম্মু। আপনি বলে দিন আজকে কী রাঁধতে হবে।”
শুনে সন্তুষ্ট হলেন নাজিয়া বেগম তারপর হীরাকে সব কিছু বুঝিয়ে দিয়ে কল রাখলেন।

রান্নাঘরে হীরা ও নিজের জন্য নাস্তা প্রস্তুত করছিলো অনিল। সহসা দৌড়ানোর শব্দ পেয়ে হকচকিত হয়ে পিছনে তাকালো সে। দেখলো হীরা এক প্রকার ছুটে নিচে আসছে। তৎক্ষনাৎ ধমকে উঠল সে। বললো,
” এভাবে দৌড়াচ্ছ কেন হীরা। পরে হাত-পা ভাঙার পণ করেছো নাকি!”
অনিলের ধমকে কিছুটা স্থির হলো হীরা। আসলে নাজিয়া বেগমের সাথে কথা বলে যখন দেখলো অনিল রুমে নেই আবার সময়ও অনেক হয়ে গেছে। তখনই তার মাথায় এলো- উনি চলে গেলেন না তো? ভেবেই তড়িঘড়ি করে নিচে নামছিলো সে। এখন অনিলকে দেখে একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো সে। ধীর পায়ে অনিলের কাছে গিয়ে তাকে নাস্তা বানাতে দেখে চমকে গেলো। বললো,

” ইয়া আল্লাহ, আপনি রাঁধতেও পারেন! কীভাবে শিখলেন? ”
” অনেক আগেই শিখেছি। ছোটবেলা আম্মু অসুস্থ থাকলে আমি আর আব্বু দুজন মিলে রান্না করতাম। তখন থেকেই পাড়ি টুকটাক। ”
স্বাভাবিক ভাবেই বললো অনিল। তার উত্তরে কিছুক্ষণ মুগ্ধ হয়ে তার দিকে তাকিয়ে হীরা বললো,
” বলতেই হবে আপনি মায়ের আদর্শ ছেলে। ”
” এতো কথা না বলে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসো তাড়াতাড়ি ”

অকস্মাৎ প্রণয় পর্ব ৫+৬

অনিলের কথায় মুখটা চুপসে গেল হীরার। এতো সুন্দর প্রশংসা করলো সে, আর এই লোককে দেখো তাকে পাত্তা তো দূরে থাক একটু নরম গলায় ও কথা বললো না। ভাবতে ভাবতেই হাঁটা ধরলো রুমের উদ্দ্যেশ্যে। তার যাওয়ার পানে তাকিয়ে অনিল বিড়বিড় করে বললো,
” আদর্শ ছেলে তো সেই কবেই হয়ে গেছি এখন শুধু আদর্শ স্বামী হওয়া বাকি। সেটা হতে পারলেই এই জীবন স্বার্থক।

অকস্মাৎ প্রণয় পর্ব ৯+১০