Home অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ৮

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ৮

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ৮
শ্রাবণী ইয়াসমিন

সেদিনের পর দু’দিন কেটে গিয়েছে। এই দুই দিনে আনায়া বারবার চেষ্টা করেছে জেভিয়ারের থেকে একটু দূরে থাকতে। তবে, দূরত্ব বজায় রাখলেও জেভিয়ারের অদ্ভুত পরিবর্তনটা তার চোখ এড়ায়নি।
আরো সংযত, আরো নরম,কোনো কটাক্ষ নেই, চোখে হিংস্রতা নেই, বরং ভেতরে যেন একধরনের মায়া জমে উঠেছে।
এই মানুষটা কি সত্যিই বদলে যাচ্ছে?
নাকি এটা শুধুই ছলনা?
আনায়ার ভিতরেই জন্ম নিচ্ছে আরও একটি অজানা অনুভব। অদ্ভুত এক আকর্ষণ, যা সে স্বীকার করতে চায় না। তবু অস্বীকারও করতে পারছে না।
জেভিয়ার আজ একটু তাড়াহুড়োর ভঙ্গিতে দরজার সামনে এসে দাঁড়ায়। কালো শার্ট, হালকা ভেজা চুল, চোখে ক্লান্তির ছাপ যেন বেশ কিছুদিন সে নির্ঘুম কাটাচ্ছে।

— আজ একটু বাহিরে যেতে হবে আমায় ফিরতে রাত হবে। তার কণ্ঠ নিচু, কিন্তু জোরালো।
— বাড়ি থেকে একা বের হবে না ভুলেও। আমি অবশ্য সব ব্যবস্থা করেই রেখে যাবো সেই সবের, তাও তোমাকে বলে যাচ্ছি। একা থাকতে পারবে না?
আনায়া কোনো কথা না বলে শুধু মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়।
জেভিয়ার আনায়ার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে চুপচাপ গাড়ির চাবি নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।
জেভিয়ার বেরিয়ে যাওয়ার কিছু সময় পর আনায়া ধীরে ধীরে নিচে নামে। বাড়ির করিডোরে নীরবতা যেন জমে আছে।
আনায়া ঘুরে ঘুরে পুরো বাড়িটা দেখতে থাকে আগে কখনো ভালো করে দেখা হয়নি পুরো বাড়িটা।
হঠাৎ আনায়া দেখতে দেখতে দোতলার সিড়ির দিকে এগিয়ে যায়।
আর খেয়াল করে সিড়ির পেছনের দিকে কিছু ফটো ফ্রেম রাখা। আনায়া বুঝতে পারে না এই অন্ধকার জায়গায় সিড়ির নিচে ছবি কে রাখে। সে কৌতুহলবসত এগিয়ে যায়।
সেই দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছবিগুলো সবগুলোই পুরোনো, বিবর্ণ, জীর্ণ। তবে একটি ছবি অন্য সবার থেকে আলাদা। ছবিটা একটু বাঁকা, দেয়ালের টেক্সচারটাও একটু উঁচুনিচু। আনায়ার সন্দেহ জাগে।
সে হাত বাড়িয়ে ছবিটা হায়ে তুলে নিতেই একটা ক্ষীণ শব্দ হয়।
হঠাৎ পেছনের দেয়ালে জ্বলে ওঠে এক স্ক্রিন—

ENTER PASSCODE
আনায়ার চোখ বড় বড় হয়ে যায়। সে কিছুটা সময় স্থির দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর ধীরে ধীরে আন্দাজে কিছু কোড টাইপ করে—
0000
0210
1010
Invalid. Try again.
আবার
Invalid. Try again.
বারবার চেষ্টা করেও কিছুই হয় না।
আনায়া জানে এই দেওয়ালের পেছনে কিছু একটা লুকিয়ে আছে।
হয়ত কোনো অজানা সত্য?
বা বড় কোনো রহস্য?

আনায়ার পুরোনো আশ্রয়স্থল “ইলামঞ্জ” নানু আপার সেই
দোতলা বাড়িটির সামনে দাঁড়িয়ে আছে সাড়ি সাড়ি করে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়ি।
বাড়ির মূল ফটকে বিশাল তালা ঝুলছে। ভিতরে কোনো সাড়া নেই।
গেইটের সামনে গাড়িতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভিক্টর ক্রুজ। চোয়াল শক্ত, চোখ দিয়ে যেন আগুন ঝড়ছে তার। এক চাহনীতেই যেন সব ভস্ব করে দেওয়ার ক্ষমতা তার মাঝে আছে।
গোপন সূত্রে সে খবর পেয়েছিলো আনায়া তার নানু আপার দেওয়া বাড়িতে এসে উঠেছে। তাই ভিক্টর নিজে এসেছে আজ। তবে এসেই বাড়ির মূল ফটকে তালা ঝুলতে দেখে তার মাথায় যেন রক্তঃক্ষরণ হয়ে যায়। সে চেয়েও নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।
একজন গার্ড ভিক্টরের দিকে এগিয়ে আসে কিছু বলতে।
সাথে সাথে একটা গুলি সরাসরি তার বুকে।
সে পড়ে যায় নিঃশব্দে। চারপাশে যেন হিম নেমে আসে।
ভিক্টরের চোখ আগুনে জ্বলছে।
সে গর্জে ওঠে—
— জেভিয়ার! জেভিয়ার! জেভিয়ার!
তুই ভাবিস তুই আমাকে ঠেকাতে পারবি?তুই আনায়াকে আমার থেকে লুকিয়ে রাখবি? আমি তোকে খুঁজে পাবোই। আর যেদিন পাবো, তোকে জ্যান্ত মাটির নিচে পুঁতে রাখবো। আর তোর আনায়া কে তোর সামনে থেকে তুলে আনব।

রাত অনেকটা পেরিয়ে গেছে।
আনায়া তখনও জেগে। জেভিয়ারের অনুপস্থিতিতে পুরো বাড়িটা যেন আরও ভারী হয়ে উঠেছে। ভেতরে ভেতরে অদ্ভুত এক অস্থিরতা জমে ছিল তার।
ঠিক তখনই দরজার লক ঘোরার শব্দ হয়। আনায়া দ্রুত সোফার পাশ থেকে উঠে দাঁড়ায়।
জেভিয়ার ঘরে প্রবেশ করে, ধীর পায়ে। কালো শার্টটা এখন কিছুটা কুঁচকে গেছে, চুলগুলো আগের থেকেও বেশি এলোমেলো। চোখের নিচে গাঢ় কালি, ক্লান্তি যেন তার চোখে মুখে ছাপ ফেলে দিয়েছে।
জেভিয়ার আনায়ার দিকে ওক পলক তাকিয়ে কোনো কথা না বলে সে জুতা খুলে ধীরে ধীরে সোজা চলে যায় রুমের দিকে।
আনায়ার গলায় একটাও শব্দ ওঠে না। তবুও তার বুকের ভেতরে মোচড় দিয়ে ওঠে কিছু।

— এত ক্লান্ত দেখাচ্ছে কেন? ওর কী হয়েছে? কোথায় ছিল? ঠিকঠাক খেয়েছে তো?
সে চুপচাপ রান্নাঘরের দিকে এগোয়।
রেফ্রিজারেটর খুলে কিছু হালকা খাবার বের করে। নিজে গরম করে একটা ছোট টেবিলে সাজিয়ে রাখে যত্ন করে। গ্লাসে পানি, পাশে ছোটো টিস্যু, এমনকি এক কোণে রাখা ছোট ক্যান্ডেলটাও জ্বালিয়ে রাখে অকারণেই।
হঠাৎ পেছন থেকে জেভিয়ারের কণ্ঠ শুনতে পায়—
— তুমি খাবার টেবিল সাজাচ্ছো কেন, লাভ বার্ড ?
কণ্ঠটা ধীর, গভীর। তাতে রাগ নেই। বরং একরাশ অবাক ভাব।
আনায়া ধীরে মুখ ঘোরায়। জেভিয়ার তখনও ভেজা চুলে, রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসেছে। কিন্তু চোখে সেই চিরচেনা নিষ্ঠুরতা নেই। শুধু একটা স্থির, নিঃশব্দ দৃষ্টি।
— তোমাকে অনেক ক্লান্ত দেখাচ্ছিলো তাই ভাবলাম আমিই করি।
আনায়া নিঃশব্দে বলে।
জেভিয়ার টেবিলের কাছে এসে দাঁড়ায়। কিছুক্ষণ চুপচাপ খাবারের দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর মুখে কোনো ভাব প্রকাশ না করে চেয়ার টেনে বসে পড়ে।
হঠাৎ কিছু একটা যেন ভাবে।

— লাভ বার্ড?
সে নিচু স্বরে ডাকে।
আনায়া ভীতু কণ্ঠে সাড়া দেয়, হ্যাঁ?
জেভিয়ার হাত বাড়িয়ে তাকে নিজের কাছে টেনে নেয়। এবং এক মুহূর্তে তাকে নিজের হাঁটুর ওপর বসিয়ে নেয়।
আনায়া স্তব্ধ।
— আমি আজ তোমার হাত থেকে খেতে চাই।
তার গলা নরম, গম্ভীর।
একেবারে বিপরীত এক জেভিয়ার যেন।
আনায়া ধীরে ধীরে তার হাতে খাবার তুলে দেয়। জেভিয়ার তার চোখে চোখ রেখে সেই খাবার মুখে নেয়, যেন প্রতিটি কণায় আনায়াকে খুঁজছে।
আনায়া বোঝে না, কিন্তু অনুভব করে—
এই মানুষটা ধীরে ধীরে তার ভেতরের দেয়ালগুলো নামিয়ে নিচ্ছে নাকি শুধু আরও গভীর এক ধোঁকার খেলায় টেনে নিচ্ছে তাকে?

আনায়া নরমভাবে বসে আছে জেভিয়ারের হাঁটুর ওপর।
তার শরীর জেভিয়ারের বুকের খুব কাছাকাছি।
চারপাশে শুধু একটা নিঃশব্দ, কিন্তু ভিতরে ভিতরে উত্তপ্ত বাতাস।
খুব কাছ থেকে শোনা যাচ্ছে জেভিয়ারের অনিয়মিত বেগে ছুটে চলা নিঃশ্বাস—
ক্লান্ত, ভারী, তবু ভেতরে চাপা আগুন।
জেভিয়ারের চোখ দুটো তখন স্থিরভাবে আনায়ার মুখে আটকানো।
এক ধরনের তৃষ্ণা,এক ধরনের মালিকানার ঘোষণা যেন ধীরে ধীরে তার চোখ দিয়ে ঢুকে যাচ্ছে আনায়ার রক্তে।
হঠাৎ, তার বাঁ হাতটা ধীরে ধীরে উঠে আসে আনায়ার কোমরের দিকে।
প্রথমে হালকা ভাবে ধরলেও, তারপর শক্ত করে চেপে ধরে নিজের আরও কাছে টেনে আনে ।
আনায়ার দম বন্ধ হয়ে আসে। একটা ঘাম চিকচিক করে ওঠে কপালে। মাথার ভেতরে যেন বাজ পড়ছে, আর শরীরটা জেগে উঠেছে প্রতিটি রন্ধ্রে।

— লাভ বার্ড, তুমি জানো না, আমি নিজেকে কতবার কন্ট্রোল করেছি। কিন্তু এখন আর পারছি না আমি।
জেভিয়ারের কণ্ঠে সেই মুহূর্তে এক অপার্থিব তৃষ্ণা।
আনায়া চোখ বড় করে তাকিয়ে থাকে তার দিকে, মনে হচ্ছিল চারপাশে সবকিছু থেমে গেছে,
শুধু সেই হাতটা, সেই দৃষ্টি, আর ঠোঁটের কাছে এগিয়ে আসা নিঃশ্বাসটা ছাড়া।
জেভিয়ার তার ঠোঁট আনায়ার ঘাড়ের ঠিক নিচে নামিয়ে আনে। প্রথমে এক সেকেন্ড থেমে থাকে, তারপর খুব ধীরে, নিঃশব্দে নিজের ঠোঁট ছুঁয়ে দেয়।
আনায়ার বুকের ভেতর গতি পায় হৃদস্পন্দন।
সে কাঁপা কাঁপা হাতে জেভিয়ারের বুক স্পর্শ করে ফেলে।
নিজেও জানে না কেন। আনায়ার স্পর্শে জেভিয়ার কে যেন আরও তৃষ্ণার্ত করে দিচ্ছে।
জেভিয়ার একের পর এক চুমু দিতে থাকে ঘাড়, গলার পাশে, কাঁধে। প্রতিটা যেন গভীর থেকে গভীরে পৌঁছানো এক রাক্ষুসে আকাঙ্ক্ষার মতো।
জেভিয়ার এবার আনায়ার চিবুক ধরে মুখটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেয়। আনায়ার চোখে অপ্রস্তুত ভয়,
তবু ভিতরে কোথাও চিরন্তন এক তৃষ্ণা।

— এতদিন ধরে নিজেকে আটকে রেখেছি। এখন আর পারছি না, লাভ বার্ড ।
জেভিয়ারের গলা যেন আগুনে পুড়তে পুড়তে ফেটে যাচ্ছে।
পরের মুহূর্তেই জেভিয়ার আনায়ার কাপাকাপা ওষ্ঠ জোড়া নিজের দখলে নিয়ে নেয়। প্রথমে সেইটা ধীরে থাকলেও তারপর সেটা রূপ নেয় চাওয়া-পাওয়ার এক নিঃশব্দ যুদ্ধের মধ্যে।
আনায়ার হাত কাঁপছে, সে নিজের অজান্তেই জেভিয়ারের ঘাড়ে হাত রাখে, তার শার্ট আঁকড়ে ধরে।
জেভিয়ারের আঙুল শক্ত হয় কোমরে, আরেকটু টেনে আনে তাকে নিজের শরীরে তাদের মাঝে আর কোনো ফাঁকা জায়গা নেই।
চুমুর মাঝেই আনায়ার ঠোঁট থেকে একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। তার চোখ এখন বন্ধ, মুখে অদ্ভুত নরম একটা আর্তি।

— জেভিয়ার!
সে ফিসফিস করে।
কিন্তু ঠিক তখনই,
একটা অদৃশ্য দেয়াল যেন ভেঙে পড়ে ভিতরে।
জেভিয়ার হঠাৎ করেই সরে আসে। ঠোঁট আলাদা করে নেয়। হাত নামিয়ে নেয় কোমর থেকে।
আনায়া থেমে যায়।বুকের ভেতর কাঁপন, ঠোঁট কাঁপছে।
সে জেভিয়ারের দিকে তাকায়, ভ্রু কুঁচকে ওঠে।
জেভিয়ার চোখ নামিয়ে কথা বলে না কিছুক্ষণ। তার নিঃশ্বাস ভারী, যেন হাজার শব্দ আটকে আছে একা।
— সরি লাভ বার্ড। আমি ঠিক করিনি এটা।আমি এটা করতে চাইনি। তার গলার স্বর ঘোলা।
জেভিয়ারের আচমকা সরে আসা যেন এক ঝটকায় সবকিছু থামিয়ে দেয়। আনায়া স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে কিছু মুহূর্ত। তার ঠোঁট কাঁপছে নিঃশ্বাস এলোমেলো চোখ ভেজা।একটা অসমাপ্তির তীব্র জ্বালা তাকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলছে ভেতরে।
জেভিয়ার ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। তার মুখটা কঠিন, অথচ ঠান্ডা। আরো যেন দূরত্ব তৈরি করে নিচ্ছে ইচ্ছা করেই।
আনায়া দাঁড়িয়ে যায় তাড়াহুড়ো করে।
তার চোখে এখন বিরক্তি, অভিমান আর একধরনের আকুলতা মিশে গেছে।

— জেভিয়ার… প্লিজ।
আনায়ার কণ্ঠ ভাঙা, কিন্তু গলায় স্পষ্ট আকুতি।
সে জেভিয়ারের হাত চেপে ধরে। চোখে চোখ রাখে
— আমি… আমি চাই না তুমি দূরে সরে যাও। আমি চাই না এইসব অনুভূতি শুধু আমিই বই।
জেভিয়ার থেমে যায়। তার চোখ স্থির আনায়ার মুখে।
তার ঠোঁটে তখনো কোনো হাসি নেই কিন্তু চোখের কোণায় অদ্ভুত এক ছায়া খেলে যাচ্ছে।
আনায়া আবার বলে, গলা কাঁপছে—
— আমি… আমি তোমাকে নিজের করে পেতে চাই জেভিয়ার।
জেভিয়ারের চোখ এবার ভেতর পর্যন্ত গিলে ফেলে আনায়াকে। সেই চেনা আগুন, সেই অধিকারবোধ আবার জ্বলে ওঠে।
কিন্তু এবার সে হঠাৎ মুখটা নিচু করে, ভেতরে ভেতরে এক অদৃশ্য সয়তানি হাসি ফুটে ওঠে ঠোঁটের কোনায়।
সে সফল হয়েছে। এইটাই তো সে চেয়েছে, তার লাভ বার্ড নিজে এসে তার কাছে ধরা দিবে।
জেভিয়ার আনায়ার দিকে তাকিয়ে তার কিছুটা কাছে এসে বলে,

— তুমি কি শিওর লাভ বার্ড? ভেবে বলছো তো?
আমি কিন্তু আদুরে টাইপ রোম্যান্সে তৃপ্তি পাই না। যে রোম্যান্সে তোমার ভাঙা গলার চিৎকার এই চার দেয়ালে বারি খেয়ে আমার কানে এসে লাগবে আমি সেই রোম্যান্সে ফীল পাবো।
আনায়া কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। তার ভেতরে যেন ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ভয় আর আকর্ষণের মাঝের দেয়ালটা ধীরে ধীরে গলে যাচ্ছে।
তার ঠোঁট কেপে ওঠে। অবশেষে খুব নিচু গলায়, ভাঙা কণ্ঠে বলে—
— আমি…আমি প্রস্তুত জেভিয়ার।
এই লাইনটা যেন বাতাসে কাঁপে।
জেভিয়ারের ভেতরে কোথায় যেন আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে।
সে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে,তার মুখ একেবারে আনায়ার মুখের সামনে শ্বাস আর শ্বাস মিশে যায়।

— একবার আমি তোমায় ছুঁয়ে দিলে তুমি অন্যসব পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ হয়ে যাবে লাভ বার্ড । তোমার গন্ধে, তোমার স্পর্শে, তোমার ত্বকে শুধু আমার ছাপ থাকবে।
সে আনায়ার গালে আঙুল বুলিয়ে চলে যায় কানের পেছন দিয়ে—
— আমার খাঁচায় তুমি নিজেই বন্দী হতে চাইছো, তাই তো?
আনায়ার গলা শুকিয়ে আসে, কিন্তু সে সরে না। তার চোখে এখন ভয় নেই আছে কেমন এক গভীর তৃষ্ণা, যার নাম সে জানে না, কিন্তু অনুভব করে প্রতিটি শিরায়।
তার আঙুল আনায়ার গলার কাছ দিয়ে নামতে থাকে
কিন্তু ছোঁয় না, শুধু অনুভূতির অস্তিত্বটা জমিয়ে তোলে বাতাসে।

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ৭

— এখনো সময় আছে, লাভ বার্ড। পেছনে ফিরবে? নাকি নিজেই নিজেকে আমার হাতে তুলে দেবে?
তার ঠোঁট আনায়ার কানের পাশে, নিঃশ্বাস গরম হয়ে লাগে গালে।
আনায়া এবার চোখ বন্ধ করে, ধীরে মাথা নাড়ে।
সে ফিরে যাবে না। সে পালাবে না। সে এবার জেনে বুঝে জেভিয়ারের হতে চায়………..

অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা পর্ব ৯