Home অপেক্ষা সিজন ২ অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ১৯

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ১৯

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ১৯
Maha Aarat

আম্মুর পিছুপিছু কিচেনে এটা সেটা হেল্প করতে গিয়ে শেষ পর্যায়ে ঝাড়ি খেয়ে বসেছে টেবিলে।ঘড়িতে সকাল সাড়ে সাতটা তখন।সিঁড়ি বেয়ে আরহামকে নামতে দেখেই চট করে কিচেনের ভেতর ঢুকে যায় সে।আরহাম সেটা বুঝতে পারলেও কোনো কথা বললেন না।নাস্তা খাবার সময় মুখোমুখি বসলে আম্মু তাকে বললেন, একসাথে বসতে লজ্জ্বা পাচ্ছো?’
লজ্জ্বা তো সে পাচ্ছেই।আম্মুকে আরও মশলা ঢালতে হলো?মাথা নাড়িয়ে না বলে আরহামের পাশের চেয়ারটায় এসে বসে।কিন্তু তাঁর খাওয়া হবে না।লোকটার সাথে থাকলে তাঁর অস্বস্তি হয়।সেটা অন্য রকম একটা অনুভূতি।লজ্জ্বা নয়,জড়তা নয়,কেমন যেনো একটা বেপরোয়া অনুভূতি।

ব্রেডে জেলি লাগাতে লাগাতে সে আড়চোখে টেবিলে গুটিয়ে রাখা আরহামের বা হাতে নজর দিলো।আচ্ছা,যতবার এই আংটি টার দিকে লোকটার নজর যায় তখনই কি উনার আমার কথা মনে হয়?মনে হয় উনার আরেকটা দায়িত্বের কথা?পরক্ষণেই নিজের মনকে নিজেই বুঝায় সে, উহু উহু উনার এত অবসর নেই।
সকালবেলা আম্মুর খাবার খুবই অল্পকিছু।আইরা অসুস্থ বলে তাকে ডাকা হলো না।সীমিত পরিমাণ খাবার খেয়ে আম্মু রুমে চলে গেলেন মেডিসিন নিতে।
সেই কখন থেকে এক টুকরো ব্রেড চিবোচ্ছে সে।আরহাম তাকে অন্যান্য খাবারগুলো এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘খাবার কি ভালো লাগছে না?’
হাফসা দ্রুত মাথা ঝাঁকায়।আম্মুর রুমের দিকে একবার উঁকি দিয়ে মাংসের টুকরো রুটি দিয়ে পেঁচিয়ে ওর মুখের সামনে ধরলে হকচকিয়ে যায় হাফসা।জড়তা কাটিয়ে উনার মনোযোগ নিজের থেকে সরাতে চটপট সেটা খেতে গিয়ে জোরে কামড় বসিয়ে দিতেই আরহাম আউচ’ শব্দে আর্তনাদ করে উঠেন।হাফসা ভয়ে কেঁপে উঠলো তৎক্ষনাৎ।তাঁর চোখের এলোমেলো দৃষ্টি বুঝিয়ে দিচ্ছে এটা ইচ্ছাকৃত নয়।আরহাম সামলে হালকা হেসে বললেন, ‘ইটস ওকে।’

খাবার শেষে হাফসা কেবলই আইরার রুমে গিয়েছিলো তাঁর জ্বরের মাএা মাপতে।গতদিন থেকে কমেছে,তবে পুরোপুরি সারেনি।থার্মোমিটার হাতে নিবে তখনই নক হয় দরজায়।
আম্মু ভেবে তৎক্ষনাৎ তাকায় সে।কিন্তু আরহামকে দেখতে পায়।
‘একটু রুমে আসুন।’
বলে তিনি উত্তরের অপেক্ষা না করে চলে গেলে দ্বিধায় পড়ে গেলো সে।রুমে তো সে যাবে,কথাও শুনবে।প্রয়োজনও শুনবে কিন্তু সেখানে গেলে তাঁর হার্ট জোরে বিট করবে।নিজেকে পাগল পাগল লাগবে।মস্তিষ্কে জং ধরে যাবে আরো কত কি….
ভাবতে ভাবতে হাফসা স্বাভাবিক হয়ে গেলো আরহামের রুমে।নক করতেই তিনি আশ্চর্য্য হয়ে বললেন, ‘হাজব্যান্ডের ঘরে ডুকতে নক করা লাগে?’
‘হাজব্যান্ড’ শব্দটা কর্ণে পৌঁছতেই লজ্জ্বা পাচ্ছিলো সে।লোকটার স্বাভাবিক সবকিছুও তাকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।নিজেকে মনে মনে ঝাড়ি দিয়ে বুঝায়।রুমে ডুকতেই আরহাম তাকে বিছানায় বসার ইশারা করে বললেন, ‘আমার সামনে এতো কাঁচুমাচু হয়ে থাকেন কেন?আর কারো সামনে তো এমন আটসাট হয়ে থাকেন না।আমি কি বাইরের কেউ?’

হাফসা উত্তর টা ভেবে নিচ্ছে।ভয়ে,জড়তায়, নার্ভাসনেসে চোখের পলকটা উঠানামা করছে বারবার।আরহাম সেটা লক্ষ্য করে এগিয়ে এসে তাকে অবাক করে দিয়ে চোখের পাপড়িতে আলতো চুমু আঁকেন।অতপর আবারো স্বাভাবিক হয়ে বলতে লাগলেন, ‘আমার কন্ঠ শুনে,বা আমার পাশে থাকলে আপনি লজ্জ্বায় লাল হয়ে যান।যখন এভাবে একটা-দূইটা চুমু দিব তখন কি করবেন?’
নাহ,মেয়েটা আর তাকাচ্ছে না।উমায়ের এর এভাবে লজ্জ্বাবতীর মতো নেতিয়ে যাওয়া আরহাম বেশ ইনজয় করছেন।লজ্জ্বা পেলে শুভ্র গালখানা চট করে লাল হয়ে যায়।সেকেন্ডের গতিতে রং বদলায়।খুব সহজেই বুঝা যায় তাঁর লাজুকতা।

‘উমায়ের!তাকান!’
ঠোঁট কামড়ে হেসে গম্ভীর স্বরে কথাটা বলতেই হাফসা ভয় পেয়ে তাকালো তৎক্ষনাৎ।আরহাম এবার শব্দ করে হেসে ফেললেন।হাফসা ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে থাকলো তখনও।শার্ট ছাড়া কখনও টি শার্ট অর পলো শার্ট পড়তে দেখেনি লোকটাকে।তীব্র গরমেও শার্ট,ঠান্ডা আবহাওয়ায়ও শার্ট।এই যেমন মেয়েদের মতো মুখে হাত দিয়ে হাসছেন হাফসা লুকিয়ে লুকিয়ে উনাকে দেখার লোভ থেকে চোখ সামলাতে পারছে না।এমনকি লাজুকতায়ও ভাটা পড়েছে তাঁর।

হাসি থামিয়ে এবার বেশ সিরিয়াস হলেন আরহাম।স্বাভাবিক হয়ে গম্ভীর স্বরে বললেন, ‘আজকে মাইমুনা আসবেন।উমায়ের,আমি কখনো ভুলে যাব না আমার চাঁদ দূটো।তেমনি আপনিও ভুলে যাবেন না আপনি আমার ওয়াহিদার সাথে আমাকে ভাগ করে নিচ্ছেন।আমার ওয়াইফদের যেকোনো ভালো গুণই আমার পছন্দের।আমি জানি,আমাকে মাইমুনার সাথে দেখলে আপনি কষ্ট পাবেন,তেমনি আপনার সাথে আমাকে দেখলে মাইমুনাও।জেলাসির জন্য বা কোনো রাগের জন্য কখনোই সীমার বাইরে যাবেন না।আমি জানি,মাসনা হওয়ার মতো কষ্টদায়ক একটা সিদ্ধান্ত আপনি নিয়েছেন কারন সেখানে হাজব্যান্ড শুধু আপনার একার না,এ বিষয়টা কষ্টের।তেমনি মাইমুনাও জানবে,আমি আর তাঁর জন্য একার না।আমি ঠিক জানিনা,তবে আমার মনে হচ্ছে এক্ষেএে আপনার থেকে উনার কষ্ট বেশী হবে কারন আমি উনার প্রাক্তন,বর্তমানও।আর আমি আপনার জন্য শুধুই বর্তমান, এখনো।সো,উনি কষ্ট পাবে বা উনার মনে আঘাত লাগবে এমন কিছু করবেন না আশা করি।মেয়েরা এই একটা জিনিসে কাউকে ভাগ দিতে চান না,প্রিয় মানুষের বেলায়।মাইমুনা সেটা দিয়েছেন, তাঁর কষ্টটা আমি নিজেও অনুভব করতে পারবো না তেমনি আপনিও মাসনা হওয়ার মতো কষ্টে ইউজড টু হয়ে যাবেন প্রতিনিয়ত।

হাজব্যান্ড-ওয়াইফ সম্পর্কে আপনার সাথে যেমন আমার পবিএ সম্পর্ক ,তেমনি মাইমুনাও আপনার বোনের মতো।ওই সম্পর্কে কোনো খাদ না থাকুক।আমার কথায় হার্ট হবেন না,কথাগুলো বলা উচিত হলো।’
কথাগুলো বলে আরহাম এ প্রসঙ্গের সমাপ্তি টানলেন।
হাফসা শুধু মাথা নাড়ায়।আরহাম লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে জুব্বা আর শেমাক হাতে নিতে নিতে তাঁর উদ্দেশ্যে বললেন, ‘এটা কিন্তু আপনার রুম।আমি এখানে থাকি,কিন্তু আপনি আসেন না।ভয়টা কাটলে এ রুমে আসবেন।বিয়ের কয়েকদিন হয়ে যাচ্ছে, আমরা আলাদা থাকছি।অন্যদের মনে একটু হলেও প্রশ্ন থাকবে।বুঝতে পেরেছেন?’

হাফসা নিচুমুখে মাথা নাড়ালো।আরহাম তাঁকে দেখে আর কথা বাড়ালেন না।উনার কাছাকাছি থাকলেই যে,তিনি কেমন এলোমেলো হয়ে যান এটা আরহাম বুঝতে পারেন।
‘আর কিছু বলবো না।’
বলে আরহাম ব্যস্ত হয়ে পড়লেন উনার নিজকাজে।হাফসা দরজা পর্যন্ত গিয়েও আটক গেলো।একবার জিজ্ঞেস করা উচিত তাঁর।তাকে আবার ফিরতে দেখে আরহাম জিজ্ঞাসাদৃষ্টিতে তাকালেন।হাফসার ইশারা বুঝে কথা বোঝা কষ্টসাধ্য হলেও বুঝতে পেরে আরহাম উত্তর দিলেন, ‘কে বললো আপনাকে?’
ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগার কথা আরহাম কাউকে বলতে মানা করছিলেন আইরাকে ।কিন্তু আইরা তো বলে ফেলেছে।হাফসাও জেনে নিয়েছে।
আরহাম শুধু উত্তর দিলেন, ‘আল্লাহ’স উইস।ক্ষতি হয়েছে ঠিক তবে সময়ের সাথে ঠিক হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ।’

দূপুরে শাওয়ার সেরে সোফায় বসে কিন্ডারজয় খাচ্ছিলো সে।আর ফ্রী পাওয়া গিফটগুলো সেন্টার টেবিলে সাজিয়ে রাখছিলো।সুপারম্যানটাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে কিছুক্ষণ দেখে গাড়ির ছোট্ট সিটে বসিয়ে দিলো।অতপর গাড়িকে পেছন থেকে স্প্রিংয়ে টান দিতেই সেটা সামনে ছুটে গেলো।কিন্তু সেন্টার টেবিলের সীমানা পার হতেই সুপারম্যান সহ গাড়িটা উল্টে পড়ে গেলো মেঝেতে।আইরা ব্যস্ত হয়ে সেটা ঠিক করে সব গিফটগুলো নিয়ে মেঝেতে বসলো।তারপর সুপারম্যান টা আবার ঠিকটাক করে গাড়ি ছুটালো।আম্মু তাঁর বাচ্চামো দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হলেও বললেন, ‘তোমাকে যে বিয়ে করবে তাকে তোমার বায়োডাটা সহ তোমার বাচ্চামো ডাটাও দিতে হবে।তারপর সবকিছু জেনে বুঝে,সে যদি বিয়ে করতে চায় তবে ঠিক আছে।আর আম্মু হয়ে আমি যদি এসব লুকাই তবে তোমার বরের প্রতি অন্যায় হয়ে যাবে।’

‘হু।’
‘আইরা,বি ম্যাচিয়ুর।হাফসাকে দেখো।তাঁর বয়সের সাথেও তো তোমার তেমন পার্থক্য নেই।সে তো এমন বাচ্চামো করে না।’
ভাবি’পুর সাথে তাঁর কম্পেয়ার করায় খানিকটা রেগে উঠলো সে।কোথায় ভাবি’পু,আর কোথায় সে।এমন ধৈর্য্যশীল, নাজুক, ভালো মেয়ের সাথে তাঁর তুলনা করলে হবে?যেখানে বিয়ের আসরে বসে,আরিফ ছেলেটা চট করে বলে ফেললো, ‘ভাইয়া আপনার বোনকে আমি বিয়ে করতে পারবো না’ এবং ভাবি’পুও আপত্তি করলো না।কিন্তু সে হলে তো ঘুষি মেরে নাক ফাটিয়ে দিত।বিয়ে করতো না এমন ভীতুকে,কিন্তু ইচ্ছেমতো কেলাতো তাকে।তেমনি ভাবি’পুর চাচ্চুও তাঁর সাথে যত অন্যায় করেছে এ জায়গায় সে হলে ওই লোককে উচিতশিক্ষা দিতো।আবার,ভয়ে সে এতোদিন বরের থেকে দূরেও থাকতো না ভাবি’পুর মতো।অন্তত বইয়ের বা কিন্ডারজয়ের আবদারের জন্য হলেও যেচে গিয়ে বরের সাথে কথা বলতো।
‘ওহহ আম্মু।কিন্ডারজয় একটা ডিলিসিয়াস চকলেট।এটা খাওয়া মানেই কি বাচ্চামি?’
‘সেটা না।কিন্তু এসব নখের সমান গাড়িঘোড়া নিয়ে খেলা বাচ্চামি নয়?’
‘তাহলে কী করবো আমি?’

‘অবসর সময় তিলাওয়াত করবে।রান্নার কাজে সাহায্য করবে,সবার সাথে সময় কাটাবে।’
‘ভাবি তো বাসায় নেই।আর ভাবি’পুকে তো তুমিই নিয়ে যাও তোমার সাথে গল্প করার জন্য।আমি কার সাথে গল্প করবো?’
‘আচ্ছা দেখছি বিষয়টা।’
‘যেমন?’
‘তোমার বিয়ে নিয়ে বলবো আরহামকে।’
আম্মুর হঠাৎ এমন কথায় সে ভেতরে ভেতরে লজ্জ্বায় লুটোপুটি খেলেও বাইরে খানিক রাগ দেখিয়ে বলল, ‘এই একটা জিনিস-ই চাও।আমাকে বাসা থেকে কীভাবে বের করা।’
‘বছরে বছরে ডাব্বা মারছো সেমিস্টারে।তোমাকে রেখে আর কী হবে?’
‘খোঁটা দিবে না।আমাদের সবার ব্রেইনের পাওয়ার নির্দিষ্ট করা থাকে।ওসব আমি বুঝি না, পারি না দেট মিনস ওগুলোর চাপ নেওয়ার মতো আমার মস্তিষ্ক উপযোগী নয়।’
‘অন্যরা কি পড়ে না?’
‘পড়াশোনা আমাকে দিয়ে হবে না অনেক আগেই বলেছি।আমাকে বিদায় করতে চাইলে আব্বুর কাছে পাঠিয়ে দাও।আমি সেখানে বেশ থাকবো।’
‘আচ্ছা যাও।’

‘আপনি আমার আম্মুই না।আম্মু হলে এভাবে ভাইয়াকে আর আমাকে আলাদা করে দেখতেন না।’
কথাগুলো বলতে বলতে খেলনাপাতি কোলে নিয়ে সে ঘরে চলে গেলো।আম্মু মুচকি হাসলেন।উনার বাচ্চা মেয়েটা ক্ষেপে গিয়েছে।রুমে উঠার আগে ঘাড় ঘুরিয়ে আম্মুর দিকে একবার তাকালো সে।আম্মু যে মাঝেমধ্যে তাকে ইচ্ছে করে রাগান,এটা সে বেশ বুঝতে পারে।তবুও রেগে যায় সে।আইরা বলে এ বাসায় আম্মু আর ভাইয়া তাঁর পর।তবে জ্বরে কাতর হয়ে পড়ে থাকা গোটা রাতটা তো আম্মুই পাশে ছিলেন, তেমন রাত বিরেতে আরহামও তাঁর অসুস্থতার খোঁজ নিয়েছেন।আম্মুকে লুকিয়ে এত জ্বরের মধ্যে এত আবদারের পর সকালবেলা নরমাল আইসক্রিম খেতে দিয়েছেন।মা-ভাইয়ের এমন অপ্রকাশিত কেয়ারিং গুলো তো সে বুঝতে পারে।তবুও সময়মতো তাঁর রাগটা উঠবেই!

বিকেলে মাইমুনা আপু এসেছেন।তখন আসরের ওয়াক্ত চলছে।হাফসা ভেবেছিলো নামাজ থেকে উঠেই দেখা করবে গিয়ে।কিন্তু কাউচের পিঠে হেলান দিয়ে ছোট্ট দোয়াগুলো পড়তে পড়তে কখন ঘুমিয়ে গিয়েছিলো টেরই পায়নি।ঘুম ভাঙ্গে সন্ধ্যার আযানের শব্দে।আইরা এসে বলে যায়,মাইমুনা তাকে ডেকেছেন।মাগরিবের নামাজ শেষ করে মাইমুনার ঘরে গেলো সে।
সালাম বিনিময় হতেই মাইমুনা তাঁর তুলতুলে গাল টেনে আদূরে সরে বললেন, ‘এতক্ষণে আসলে!’
নামাজ পড়ার সময় ঘুমিয়ে যাওয়ার কথা বললে মাইমুনা বললেন, ‘তোমাকে খুব মিস করছিলাম।দাদূ অসুস্থ থাকায় যেতে হয়েছিলো।যাই হোক,কেমন লাগছে এখানে?’
হাফসা সম্মতি দিতেই তিনি অকপটে জিজ্ঞেস করেন, ‘আমাকে মিস করোনি?’
হাফসা দ্রুত মাথা নাড়ায়।মাইমুনা হেসে ফেললেন।কন্ঠ খাদে নামিয়ে বললেন, ‘তুমি না কি শাহ’কে ভয় পাও?কেন বলোতো?এমনকি এখনো দূরে দূরে থাকো।’
মাইমুনার কথার পিঠে হাফসা কোনো উত্তর খুঁজে পাচ্ছিলো না।আপু যে সরাসরি এই প্রশ্নে তাকে কাবু করবেন,বুঝতে পারেনি সে।
ওর গুটিয়ে যাওয়া দেখে মাইমুনা আশ্বস্ত করে বললেন, ‘আরে নার্ভাস ফিল করো না।আমি বুঝতে পারছি।তুমি কিছু কঠিন সিচুয়েশন ফেইস করে এসেছো সুতরাং তোমার একটু সময় লাগবে নিজেকে ঠিক করতে।ইটস ওকে।আ’ইম যাস্ট কিডিং।’

রাতে বাসায় ফিরে হাফসার সাথে আর দেখা হলো না আরহামের।মাইমুনার সাথে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে ডিনারে গেলে তখন দেখা হলো।একবার তাকিয়েই নিজের দৃষ্টিকে দমিয়ে নিলেন তিনি।
ডিনারে দূজনকে পাশাপাশি বসতে বললেন আম্মু।হাফসা বিষয়টা স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার চেষ্টা করছিলো অথচ তাঁর খামখেয়ালিতে আহত হলেন আরহাম যখন অপেক্ষা করার পরও সে রুমে আসলো না।আরহাম পানি খাওয়ার অজুহাতে যতক্ষণে নিচে নামলেন হাফসা ততক্ষণে আইরার সাথে ঘুমে টাল।
মাইমুনার রুমে গিয়ে দেখলেন, সে এখনো জেগে।তাঁর মেডিসিন গুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিলো সে।আরহাম গিয়ে সবগুলো সরিয়ে লাইট অফ করে ঘুমোতে বললেন।তাকে কাছে টেনে দোয়া পড়ে ফুঁ দিয়ে বললেন, ‘এখন আর কোনো কাজ না হানি।ঘুম পেয়েছে।’
‘হাফসার সাথে থাকা উচিত ছিলো।’
‘কোনো কথা না।’

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ১৮

মাইমুনাও চুপ হয়ে গেলো।সে অনুভব করছিলো আরহামের উষ্ণ আলিঙ্গন।মাইমুনা তাঁর মনকে বুঝিয়ে নিয়েছে, তাঁর শাহ এখন আর তাঁর ব্যক্তিগত না।তবুও একটু খারাপ লাগা থেকেই যায়।আরহামের বুকে মাথা রেখে বন্ধন আরেকটু দৃঢ় করলো সে।গত কয়েকদিনে এই মানসিক শান্তিটার যে বড্ড অভাববোধ করছিলো!

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ২০