Home অপেক্ষা সিজন ২ অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৬৩

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৬৩

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৬৩
Maha Aarat

আজকে আব্বুর বাসায় ইফতারের ইনভাইটেশন তাদের।সকাল থেকেই আইরার এক্সাইটমেন্টে লক্ষ্য করছেন মাহের।খুশিতে বাকবাকুম করছে সে।একটু পরপর আব্বুর সাথে কথা বলছে।’এই তো একটু পর একটু পরই চলে আসব আব্বু’ অথচ এই ‘একটু পর’ টা হচ্ছে সন্ধ্যার আগ মুহুর্ত।মাহের বিকেলে এসে তাকে নিয়ে যাবেন।আর সে বোধহয় এখনি রেডি হতে চললো।

মাহেরকে খুশিমতো বিদায় দিয়ে বারবার সে মনে করিয়ে দিলো,তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে।কোনোভাবেই দেরী যেন না হয়।মাহেরও সম্মতিসূচক মাথা নাড়িয়ে বেরিয়ে যেতে মুচকি হাসলো আইরা।গতরাতের সুন্দর মুহুর্তটা মনে পড়ছে তাঁর।
যেনো অবেলায় ঝরে গিয়েছে মলিন কিছু বিষাদ।

ফ্লাশব্যাক…..
ইট পাথরের এই শহরে,রোজ কত যে হৃদয় পুড়ে,
নতুন গিটুর দূ:খগুলো,পুরনো সব ছুড়ে ফেলে,
তবুও যে অভাব না কাটে
নতুন ঝুলির দূ:খ ফোঁটে
রোজ বিকালে ঝুলোয় ভরে,
মাঝ হৃদয়ের নদে ফেলে
আমি সন্ন্যাসী নই,নদের মাঝি
তার দেখা না পাই,হেসেই বাঁচি
ভ্রমরফুলের চন্দ্রহাঁটে
কিনতে বড় পয়সা লাগে
মাঝির ওতো নেই যে কড়ি,
বিকির মতোন নেই যে তরী
সুখের মূল্য বড়োই চড়া
কিনবি কিরে আনবি তোরা…?

নাহ।আর গাইবে না সে।কবিতা বানানোর মতো ওতো ব্রেইন নেই তাঁর।কিন্তু মাঝে মাঝে এই স্বভাব টা তাকে তৃপ্তি দেয়।দূদিন হলো আকাশে চাঁদ নেই।ঘোর অমাবস্যায় ছেঁয়ে আছে চারপাশ।আবহাওয়া উষ্ণ তবুও এই দখিনা বাতাসের ঝাপটা শরীরে শিহরণ তোলার মতো।এক হাতে রেলিং এ রেখে অন্যহাতে আনমনে হিজাবের কোণ আঙ্গুলে পেঁচাচ্ছে সে।সাহরির এখনো ঘন্টাদেড়েক বাকি।এই সময়টুকু এই মনোরম বাতাসে খুব কাটিয়ে নেওয়া যাবে।শহরে বিদ্যুৎ নেই সন্ধ্যে থেকে।আগে এনাউন্স না করায় ফোনের চার্জও শেষ।রুমের বাইরে প্রদীপ জ্বেলে বেলকনিতে সে।জামকালো আকাশটা চোখের দৃষ্টিতে না ধরলেও এর বিশালতা ঠিকই অনুভব করা যাচ্ছে।
এতক্ষণ দাঁড়িয়ে একটু একঘেয়েমি লাগছে তার।পা আলতো করে এগিয়ে সোফার কর্ণারটা পেতে গিয়ে অদ্ভুত কিছুর স্পর্শ পেলো সে।যতক্ষণে মাথায় আসলো তার পিছনে কে দাঁড়িয়ে ভাবতেই চিৎকার দিয়েই বসলো।তাৎক্ষণিক ফ্ল্যাশের আলোয় দেখলো এটা তার চেনা তবু অচেনা মুখ।নিজের সমস্ত ভয়,শিহরণ আতঙ্ক খুব জোর নিজের আয়ত্তে এনে চুপ হয়ে গেলো সে।কিন্তু হার্ট তখনো জোরে বিট করছে।
ফ্ল্যাশ অফ করে বললেন, ‘ইট পাথরের এই শহরে ,রোজ কত যে হৃদয় পুড়ে’ এর পরের লাইন?’
আইরা স্তম্ভিত হলো।লোকটা তার আবোলতাবোল বকবকানি শুনেই ফেলেছেন।মাথা নিচু করে বলল, ‘ভুলে গিয়েছি।’

‘মন খারাপ?’
আইরা জবাব দেয় না।মাহেরের লম্বা দীর্ঘশ্বাসের আওয়াজ পাওয়া গেল অন্ধকারে।
‘কথা বলবে না?’
তাও কোনো উত্তর আসে না তার।খানিক সময় পেরোয়।সামনের দেওয়ালে পড়া ছায়াটা আস্তে আস্তে অদৃশ্য হতে হতে বুঝলো লোকটা চলে গিয়েছেন।বুকভরে শ্বাস ফেললো সে।আবারও মগ্ন হলো প্রকৃতিতে বুকে ব্যথা লুকাতে।
রোযা মাস নিজের গ্রামের বাড়িতে কাটানোর শখ থাকতেই পারে খালার।তাই রোজার প্রথম সপ্তাতেই তিনি চলে গিয়েছেন।এরপর থেকে কিচেনটা সামলাতে হয় আইরার নিজ হাতেই।সাহরির সময় বাকি,তবুও সাহরি টা রেডি করে ফেলেছে সে।কারন সুবহ সাদিকের পূর্বক্ষণের বারাকাহপূর্ণ সময়ে রবের সাথে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলাপ আছে তার।
জেগে থাকার বেশীরভাগ সময়ই গেস্টরুমে কাটায় সে।মাহের নিজের রুমেই থাকেন বেশীরভাগ।খাবার খাওয়ার জন্য নক করতে এসেই অর্ধেক কথায় আটকালো সে।
উনার একহাতে লাইটার ,আরেকহাতে সিগারেট।সিগারেটে আগুন ফুঁকবেন এমন সময়ই সে একেবারে সামনাসামনি চলে আসতেই বিব্রতবোধ করছিলেন মাহের।
আইরার ভেতরের কান্নাটা ঠেলেঠুলে বেরিয়ে আসতে চাইলেও নিজেকে সামলে নিয়ে খুব স্বাভাবিকভাবে বলল , ‘আপনার কাজ শেষে খেয়ে নিবেন।’
চুপচাপ একা এসে টেবিলে বসলো সে।এই রাগ,অভিমান,জেদ কেন আসছে তার সঠিক ব্যাখ্যা নেই তার কাছে।দূ মুঠো খেতে পারলেই রুমে যাবে সে।একমাত্র রব্বের সান্নিধ্যই এই অশান্ত হৃদয়ে শান্তি আসতে পারে।
খাবার সার্ভ করার মুহুর্তেই মাহের বেরিয়ে আসলেন।সোজা তার উদ্দেশ্যে হেঁটে সামনাসামনি এসে বললেন ,

‘খাইনি।’
‘মানাও করিনি।’-তাচ্ছিল্যের উত্তর তার।
মাহের হঠাৎ’ই পেছনে থেকে তাকে আগলে নিলেন দূই হাতে।অপরাধী সুরে বললেন, আমি সত্যি এই কয়দিন খাইনি।এখনও খেতে চাইতাম না কিন্তু…তুমি আমাকে বাধ্য করছো।’
আইরা ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতে চাইলো অথচ শক্তবাঁধনে আঁটসাঁট সে।মাহের বুঝলেন তার চোখে প্রশ্ন।
‘তুমি আমাকে ব্যথা দিচ্ছো, ইগনোর করছো তাই ওটা প্রয়োজন ছিলো আমার।’
‘আমার কিছু ভাবায়ও আপনাকে?’-আইরার দূর্বল কন্ঠস্বর।
মাহের বুঝলেন একটু ক্ষনের মাঝে সে কেঁদে দিবে।হলোও তাই।ক্ষনিকের নীরবতা তার চোখে অথৈ জল নামিয়ে আনলো।মাহের সামনে ঘুরিয়ে দেখলেন,অশ্রুতে টলোমলো নিঁখুত মায়াবী চোখ।
তাকে আপোষে বুকে বেঁধে নিলেন।অসহায় কন্ঠে বললেন , ‘আমি খুব করে চাই,আমাদের সম্পর্কটা ঠিক হয়ে যাক ,কিন্তু কেনজানি বারবার এলোমেলো হয়ে যায়। বারবার বাঁধা চলে আসে।আর লাস্ট টাইম ওই ঘটনার জন্য আমি অনুতপ্ত।’
তাঁর কাঁপুনি ছাড়া কোনো উত্তরই নেই।তার চিবুক তুলে বললেন , ‘সরী।এক্সট্রিমলি সরি,বেবিগার্ল।’
মাহেরের চমৎকার সম্বোধন মুচকি হাসলো সে।এই এক শব্দেই যেনো তার এতোদিনের রাগ,অভিমান,জেদ,দূ:খ নিভে গেলো।মেয়েরা এই এতোটুকুনই চায়।তাদের মন ভালো হওয়ার জন্য অপর পাশের ব্যক্তির একটু মনোযোগই যথেষ্ট।এরপর খাবার টেবিলে মাহের তাঁর রান্নার প্রশংসা করতে ভুলেননি।এবং ফজরের সালাত টা তাদের একসাথে আদায় করার তৃপ্তি টা সেরার সেরা ছিলো।
বর্তমান~

অফিসরুমে নিজ কক্ষে প্রবেশ করেই ভদ্রলোককে দেখে চমকালেন না আরহাম।বাসায় থাকতেই উনাকে এ সম্পর্কে অবগত করা হয়েছে।সালাম দিয়ে ঢুকতে ঢুকতে এসিস্ট্যান্টকে ইশারায় বেরিয়ে যেতে বললেন।হাসিমুখে কথা বলাও একপ্রকার সাদাকাহ।আরহাম সেই সাদাকাহ পূর্ণ করতে কার্পন্য করলেন না।আরহাম খুব ভালো করেই জানেন,ভদ্রলোকের এখানে আসার কারনটা ভিন্ন।তবুও হাসিমুখে কুশল বিনিময় করলেন।
আয়বীর সাহেব ঘামছেন।বাইরের তপ্ত খা খা রোদ থেকে আসলে ঘেমে একাকার হয়ে যাওয়ার অবস্থা টা ব্যতিক্রম না হলেও এখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের নিচে থেকেও ঘামা অবশ্যই ব্যতিক্রম।তিনি কীভাবে শুরু করবেন।পুত্র’সম এই ছেলেকে কীভাবে এরকম কোনো ছেলেমানুষী আবদার করবেন তিনি।তাঁর চোখেমুখে কত বিনয়,কতো অমায়িক ব্যবহার।এরকম চমৎকার একটা মানুষের কাছে এমন আবদার মানে নিশ্চিত প্রত্যাখান।
আরহাম উনার নাভাসনেস বুঝে সহজ হতে সাহায্য করতে বললেন , ‘জ্বি বলুন।কি সাহায্য করতে পারি?’
‘ব্ বলছিলাম আমার ছেলে সায়হান।তাঁর টিসি দেওয়া হয়েছে এখান থেকে।ঠিক আছে ,কিন্তু অন্যত্র কোথাও আমি তাকে জয়েন করাতে পারছি না।’

‘আচ্ছা।’-আরহামের নিশ্চল উত্তর।
‘তুমি আমার ছেলের মতোই।আর আহনাফও আমার কাছের বন্ধু।আমি লজ্জ্বিত আমার মেয়ের ছেলেমানুষীর জন্য।আমি আমার ছেলের জন্য অনুরোধ করছি,তাকে আবার জয়েন করিয়ে নিলে কৃতজ্ঞ থাকবো।
আরহাম তাজওয়ার চতুর লোক।এই সামান্য আবদার করাতে লোকটার এতো নত হওয়ার কিছু না।নিশ্চয়ই উনার কন্যা উনার গলায় ছুরি চালিয়ে এমন অনুরোধ করতে পাঠিয়েছেন ,এক্ষেত্রে খুব একটা সন্দেহ নেই।কিন্তু আরহাম যথেষ্ট বিরক্ত পূর্বের ঘটনায়।
আরহামও প্রত্যুত্তর করলেন না।উনার নীরবতা যেনো বিনাবার্তায় ‘না বোধক উত্তরে’ জোর দিচ্ছে।আয়বীর সাহেব বুঝতে পারলেন,আরহামের এমন আচরনের কারন।
কিছুক্ষণ পিনপতন নীরবতা।ভদ্রলোকের দৃষ্টি গিয়ে স্থির হলো আরহামের শুভ্র আঙ্গুলে।যেখানে অনামিকা আর মধ্যমা জুড়ে আছে দূটো রিং।স্বীকার করতে হবে ,সে একজন সুদর্শন সুপুরুষ।মেয়ের পছন্দ ঠিক,কিন্তু ভুল মানুষের ক্ষেত্রে।

আজকে বাসায় মেহমান আসবে,এজন্য ইফতারের তোড়জোড় থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু না।সকাল থেকে একাজ ওকাজ সামলে নিচ্ছে হাফসা।আজকে সার্ভেন্ট চারজনই কিচেনে থাকায় খুব বেশী অসুবিধা হচ্ছে না।আম্মুও হাতে হাত লাগিয়ে কাজ গুছিয়ে নিচ্ছেন।মাইমুনাও সাহায্য করতে জোর করছিলেন।হাফসা মানা করায় তিনি অভিমানী সুরে বললেন , ‘তুমি কি আমাকে তোমাদের থেকে আলাদা করে দিচ্ছো?’
হাফসা ঠোঁট উল্টে তাকালো।না সে মোটেই এরকম ভাবছে না।
ছোলার খোসা ছাড়ানোর কাজে সাহায্য করছেন মাইমুনা।এমন সময় আরহামের টেক্সট আসে, ‘কি করছেন?’
মাইমুনা উত্তর দিলে আরহাম সরাসরি জিজ্ঞেস করলেন , ‘উমায়ের কিচেনে?কাজ করছেন?’
‘জ্বি।’
এরপর আরহামের কোনো উত্তর আসে নি আর।

‘আপনি আমাকে ছেলের মতো বলছেন,তাই ছেলের মতোই আবদার করছি আপনাকে।কিছু কথা বলতেই হচ্ছে।আব্বুর মুখে আপনার কথা শুনেছি।আপনার প্রতি শ্রদ্ধায় আমার একটুও খাদ নেই।কিন্তু বিগত ঘটনার কোনোটাই আমি সহজভাবে নিতে পারি নি,পারছি না।আমি একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ।ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কাউকে বলতে আমি পছন্দ করছি না তাও বলছি আমার দূজন আহলিয়া আছেন।আপনি হয়তো জেনে থাকবেন।আমি তাদের নিয়ে আলহামদুলিল্লাহ সবচেয়ে সুখী ,স্যাটিসফাইড।অন্য নারী নিয়ে চিন্তার কোনো প্রশ্নই উঠে না আর।আপনি আপনার মেয়েকে বুঝান।এই প্রতিষ্ঠান জ্ঞানের রিযিক।আমি চাইবো না এখান থেকে কেউ অহেতুক ফিরে যাক।কিন্তু আপনার বাচ্চার ক্ষেত্রে আমি অপারগ ছিলাম।আপনার অনুরোধ ফিরিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে আমার হচ্ছে না,কিন্তু আশা রাখবো আমাকে পুনরায় যাতে কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে না হয়,আঙ্কেল।’

আরহামের ইশারা এবার বেশ স্পষ্ট হলো আয়বীর সাহেবের কাছে।তিনি যা ধারণা করেছিলেন সেটাই।লজ্জ্বায়,অস্বস্তিতে থমথমে হওয়া কন্ঠস্বর যেনো খানিকটা কেঁপে উঠলো।অপারগ হয়ে বললেন, ‘কোনো মা-বাবা’ই সন্তানের ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।আমার মেয়ের ক্ষেত্রে যতোটা স্ট্রিক্ট হওয়া উচিত,আমি তার থেকে বেশি হয়েছি।কিন্তু তবুও তাঁর থেকে তোমার মনোযোগ সরাতে পারছি না।’
‘এসব সবটাই আবেগ।ভুল জিনিসের ওপর।উনাকে সময় দিন আর সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করুন।হালাল সম্পর্ক হৃদয়ের ওষুধ।সুপাত্র পেলে উনার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবুন।’
‘সুপাত্র আমি হাতে পেয়ে বসে আছি,কিন্তু সে মানতে নারাজ।’
আরহাম দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।এসব আলোচনা এখন বিরক্ত লাগছে উনার।হাতঘড়িতে সময় দেখতে দেখতে বললেন , ‘দ্বীনি তালিমে নিয়ে যান বেশি বেশি।হারাম-হালাল ইস্যুগুলোর লেকচারে মনোযোগী করুন।সম্ভব হলে পরিবেশ পাল্টান।সঠিক হেদায়েতের দোয়া করুন।’
ভদ্রলোক সম্মত হয়ে বিদায় নিতেই চেয়ারে মাথা এলিয়ে দিলেন আরহাম।মনে পড়লো,উমায়ের এর কাছ থেকে খুব তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে আসছিলেন।তাকে একটা বার্তা পাঠিয়ে নিজের কাজে মনোযোগী হলেন এবার।

ইফতারের ঠিক পূর্বক্ষণ।হয়তো মিনিট দশেক সময় হাতে ,ঠিক এই মুহুর্ত ড্রয়িং রুমে আরহামের সাথে প্রবেশ করলেন মাহের।উনার ভয়ার্ত চোখে আতঙ্ক লেপ্টানো।ঠিক সময় বুঝে ফোনের চার্জ শেষ হওয়া আর অসময়ে জরুরী মিটিং এ জয়েন হওয়ার দিনটা বোধহয় আজকেই।বাসা থেকে আইরাকে পিক করা তো দূর,একটা টেক্সট করেও জানাতে পারেননি আজকের অপারগতার কথা।ড্রয়িংরুমে সবাই উপস্থিত।মাহের আড়চোখে আইরার দিকে দৃষ্টি ফেললেন।চোখমুখ ফুলিয়ে বোম হয়ে বসে আছে সে।ভাইকে ফোন করে আইরা বলেছিল তাকে বাসায় নিয়ে আসতে।আরহাম এসে জানতে পারলেন,মাহের এখনো বাসায় পৌঁছাননি সাথে ফোনও অফ।তাই একেবারে হসপিটাল থেকে পিক করে নিয়ে আসতে আসতে বেশ দেরী হলো।
পথিমধ্যে মাহের উনার হঠাৎ বিরক্তিকর মিটিং পড়ার বিষয়টা আরহামকে অবগত করলেন।সাথে এটাও করলেন,উনার বোন নিশ্চয়ই পারমাণবিক বোম হয়ে বসে আছে।ঘটনা শুনে আরহাম নিজেও শঙ্কিত।কারণ শুধুমাত্র প্রিয়জনদের বেলায় রেগে গেলে,উনার বোন(আইরা) কিছু করতে পারে না পারে,কেঁদেকেটে একাকার হয়ে যাবে।তাই উমায়েরকে টেক্সট দিয়ে রেখেছিলেন যাতে আইরাকে যেন ব্যস্ত রাখে সে।

এ মুহুর্তে আরহাম উমায়েরকে ইশারা করলেন আইরার পাশ থেকে উঠে আসতে।মাহের গিয়ে সেখানে বসলে আইরা যেনো আরও চুপ হয়ে যায়।মাহের বুঝতে পারছেন,আজকে উনার কুরবানী হয়ে যাবে।
ইফতার সম্পূর্ণ করে মসজিদ থেকে মাহের রুমে আসতে দেখলেন আইরা নেই।আরহাম কেবল উপরে যাচ্ছিলেন এরই মধ্যে আইরাকে নজরে পড়লো মাইমুনার রুমে সে।আরহাম সেদিকে এগিয়ে গিয়ে গলাকেশে বললেন, ‘মাইমুনার সাথে কথা আছে।তুমি রুমে যাও।’
ভাইয়ের দিকে গোলগাল চোখে নিষ্পলক দৃষ্টিতে তাকালো সে।ইতোপূর্বে আরহাম এর আগে কখনো এমন করেননি।সে মাইমুনার সাথে দেখলে তিনি নিজেই চলে যেতেন অথচ!
পা চালিয়ে চলে আসার আগে আরহাম আরেকবার চোখমুখ খিঁচে আদেশের সুরে বললেন , ‘তোমার রুমে যেও।সবাই’ই এ টাইমে রেস্ট নিচ্ছে।’
তার হাঁটার গতি দ্রুত হলো আরও।আগুনে ঘী ঢালার মতো কথা বলে আরহাম নিজেও অনুতপ্ত।মনে মনে বললেন , ‘সরি,বোন আমার।’

আইরা রুমে এসেছে কিছুক্ষণ হলো।নতমুখে বসে আছে সে।আর মাহের ঠিক তার সামনে উবু হয়ে বসে একহাতে কান ধরেছেন।বারবার সরি বলেও কোনো রেসপন্স পাচ্ছেন না দেখে এবার পুরো বিষয়টা এক্সপ্লেইন করার উদ্দেশ্যে বলতে শুরু করলেন , ‘মিথ্যে কোনো এক্সপ্লানেশন দিবো না,কার্নেশান।একটাবার ভাবো মাত্র গত রাতে ঠিক হওয়া আমাদের সম্পর্ক এর পরদিন নষ্ট হয়ে যাবে ,জেনেশুনে এমন কিছু কীভাবে করবো আমি।ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড মি।কোনো নোটিশ ছাড়াই মিটিং পরে গিয়েছিল আর ফোনের চার্জ যে শেষ হয়েছে খেয়াল ছিল না আমার।’
আইরা কৈফিয়ত চাওয়ার ভঙ্গিতে প্রশ্ন করলো, ‘চার্জে দিয়ে জানাতে পারতেন?’
‘মিটিং এ জয়েন হয়েছিলাম।ভেবেছিলাম মিটিং শেষ হলেই সময় নিবো না আর।সোজা বাসায় চলে আসব তাই।কিন্তু মিটিং এত লেট হবে জানতাম না,।কনফারেন্স রুমে কনটাক্টের সুযোগ ছিলো না।’
আইরাখানিক সময় নিলো অতপর উত্তর দিলো, ‘ঠিক আছে।’

‘কীভাবে বুঝবো ঠিক আছো?’
আইরা পাল্টা প্রশ্ন ছুড়লো,
‘কীভাবে বুঝাবো ঠিক আছি?
মাহের বিপাকে পড়ে গেলেন।পরক্ষনেই বললেন , ‘গত রাতের মতো খুশি খুশি থাকো,তাহলেই বুঝবো ঠিক আছো।’
আইরা আর উত্তর দিলোই না।তার রাগ ভেঙেছে কি না বুঝতে পারছেন না মাহের।খানিকটা প্রিপেয়ার হয়ে বললেন , ‘প্লিজ স্মাইল।আই লাইক ইউর প্রিটি স্মাইল।’
আইরা হাসলো।এই যে লোকটা রাগ ভাঙ্গাতে না পারলেও রাগ ভাঙ্গানোর চেষ্টা করছেন এটা তার ভালো লাগছে।উনি এরকম হলেও চলবে।সম্পর্ক টা না হয় এভাবেই থাকুক।অল্পতেই সুখ খুঁজে নিবে সে।
মাহের এবার নিশ্চিন্ত হলেন।মনে মনে আরহামের উদ্দেশ্যে থ্যাংকস জানিয়ে মুখে আইরার উদ্দেশ্যে বললেন , ‘এখন ঠিক আছে।’

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৬২

ঘুমানোর সময় মাহের তাকে ইশারা করে বললেন , ‘এখানে এসে ঘুমাও।’
‘আপনার তো হাত ব্যথা করবে।’
‘বুকে বলেছি।এখানে ঘুমালে ব্যথা করবে না।’
আইরা চমৎকৃত হলো।চমৎকার হেসে বলল, ‘শিওর?’
‘শিওর!’

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৬৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here