অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৭০
Maha Aarat
সকাল~
রায়ান ওজু করে কুরআন হাতে নিয়ে বসেছেন।আজকে যেহেতু বাসায়,তাই কুরআন পড়তে বাঁধাও নেই।
ঘরের কোণে শান্ত সকাল।অথচ রান্নাঘর থেকে এশার পায়ের শব্দ—একটু বেশি জোরে হাঁটা মানে, আজকে কোনো একটা কারনে তার মন ভালো নেই!
রায়ান চোখ তুলে বললেন , ‘আজকে রুটি গোল হয়নি, না কি আমি দেরি করে ঘুম থেকে উঠেছি?’
এশা পালটা উত্তর দিলো, ‘আজকের রাগটা রুটির গোল না হওয়া নয়।আপনি ফজরের নামাজে আমাকে ডাকেননি।’
রায়ান হঠাৎ থমকে বললেন , ‘তুমি তো কাল রাতে বলেছিলে, ‘আজকে আমি উঠে যাবো, আপনি টেনশন নিবেন না!’
‘হুম, কিন্তু আপনি ডাকলে আমি ভাবতাম আপনি যত্নশীল। আর আপনি ডাকেননি বলে ভাবলাম—আল্লাহই আমাকে ডাকবেন!’
রায়ান হালকা হাসি চেপে বললেন , ‘এইটুকু রাগ করলে কিয়ামতের দিনে কী হবে? আমি তো স্বামী, ফেরেশতা না!’
‘কিন্তু আপনি তো আমার ক্বওয়াম, আপনি তো আমার দায়িত্বশীল পুরুষ।’
রায়ান মুচকি হেসে এবার বললেন , ‘আচ্ছা ঠিক আছে। আজকে দোহার নামাজ একসাথে পড়বো। আমি ইমাম হবো, তুমি মু’তামিয়া।’
এশা চোখ ছোট করে জবাব দিল, ‘ঠিক আছে। তবে আপনি যদি ভুল করেন, আমি ঠিক করে দিবো—শুধু সালাম ফিরিয়ে নয়, হালকা চোখ রাঙিয়ে!’
‘আল্লাহর কিতাবের আলোয় বসে আছি আর তুমি চোখ রাঙাও, সেটা তো ইবন আব্বাসের ব্যাখ্যায় ছিল না!’
এশা চোখ রাঙ্গালোই!
আমার দিকে তাকিয়ে আছো কেন?পড়া কি আমার মুখে?’
আইরার উদ্দেশ্যে ধমক দিয়ে কথাগুলো বলে উঠতেই হালকা কেঁপে উঠে সে।কি বেহায়ার মতো লোকটাকে দেখছিলো সে।ধমক খেয়ে তবুও বলেলা, ‘আপনার হাতে একটা চুমু খাই,প্লিজ স্যার।’
মাহের কঠিনস্বরে বললেন, ‘এবারের পরিক্ষা যদি ভালো না হয়,তোমার সাথে কোনো কথা নেই আমার।চুপচাপ পড়ো,বইয়ে মনোযোগ দাও,আমার দিকে নয়।’
আইরা মুখ গোমড়া করে বইয়ে তাকালো।পড়াশোনা কি তার ভালো লাগে?বিয়ে করেই পড়াশোনা থেকে বাঁচা যায় এমন একটা চিন্তাভাবনা থেকেই তো সে এই ছোট বয়সে বিয়ের জন্য রাজি হয় নইলে কি সুন্দর শৈশব আর আরাম আয়েস ছেড়ে সংসারী হতো সে?
আর পছন্দও হলো ঠিক এমন টাইপের গম্ভীর,নিরামিষ ঢ়েড়ষ একটা মানুষকে।মনে মনে খুব করে নিজের দূ:খ বিলীন করছিলো সে।কিছুক্ষণ পর তিনি একমগ কফি নিয়ে আসলেন।তার দিকে এগিয়ে দিতেই সে ঝটপট উঠে বসলো।দেখলো,এটা কফি নয়,হরলিক্স।চোখমুখ কুঁচকে সেটা সরিয়ে বলল, ‘আমি কি এখনো ছোট,স্যার।হরলিক্স তো ছোটরা খায়,বড়’ মানুষ হরলিক্স খাবে কেন?’
‘তুমি কোনদিক দিয়ে বড়?’
‘স্যার আমি ছোট হলে তো সবাই আমাকে কোলে নিতো,খেলনা কিনে দিতো,আমাকে নিয়ে খেলতো,পড়াশোনার কোনো চাপ’ই থাকতো না,বলুন আমার সাথে তো এসব হচ্ছে না।আমি বড় না?’
‘তোমার মস্তিষ্কের পরিপূর্ণ বিকাশ এখনো হয়নি।সেটা অর্ধেকে এসে আটকে আছে।’
নীরব অপমান গায়ে মেখেও মাখলো না সে।বলল, ‘এখন একমগ লিকুইড খাচ্ছি ,পরের বেলা এক মগ হরলিক্স দিবেন,লিকুইড করে না।নয়তো খাবো না।’
মাহের নিজের কাজে মনোযোগী হলেন।সে কিছুক্ষণ বিড়বিড় করে বলল, ‘স্যার আমি বিছানায় বসে পড়ি?টেবিলে বসতে বসতে কোমরে ব্যথা হয়ে গেছে।’
‘হোউক।’
‘এত কঠিন কেন আপনি,স্যার?’
তার বিড়বিড়িয়ে বলা কথা উনি বোধহয় শুনে নিলেন।চোখে চোখ রাখার আগেই সে বইয়ে চোখ রাখলো।
আবারো কিছুক্ষণ পড়াশোনার অভিনয় করে আবার মুখ তুললো আইরা।
‘স্যার, আপনি জানেন? আমি খুবই গরিব।আমার ব্রেন গরিব।’
মাহের মুখ না তুলে বললেন, ‘তোমার ব্রেন না, তোমার অজুহাত গরিব। আর কিছু?’
‘আছে! আমি তো প্রতিদিন ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইলড হই।’
‘কে করে?’
‘আপনিই তো স্যার! আপনি যখন বলেন ‘ভালো না করলে কথা বলবো না’, তখন আমি ঘুমাতে পারি না। ওটাই তো ব্ল্যাকমেইল।’
মাহের এবার একটু হেসে ফেললেন, মুখ লুকিয়ে বললেন, ‘তোমার ড্রামাটিক দক্ষতা দেখে তো মনে হয় ফার্স্ট হবার আগে তুমি একটা জাতীয় পুরস্কার পেয়ে যাবে।’
আইরা খুশি হয়ে বলল, ‘আচ্ছা স্যার, আপনি কি আমার চোখের পাতা গুনতে পারবেন?’
‘মানে?’
‘একটা করে গুনে বলেন তো, আমার কতগুলো চোখের পাতা আছে। কেউ কখনও বলেনি আমার চোখের পাতা গুনে দিবে… আপনি বলেন না?’
‘তোমার পাঠ্যবইয়ের পাতাগুলো গুনে দাও, চোখের পাতা পরে গুনবো।’
আবার বইয়ে মুখ দিল আইরা। মিনিটখানেক পর বলল—
‘স্যার, আপনি আমাকে ইচ্ছা করে কষ্ট দেন, তাই না?’
‘হুম।’
‘আপনার মনের ভেতরে একটা বরফের পাহাড় আছে।’
‘তুমি বরং ওই বরফটা গলানোর জন্য তাপশক্তির সূত্র মুখস্থ করো।’
‘স্যার, আপনি তো একেবারে ‘নিউটন পদ্ধতিতে’ কথা বলছেন।’
‘মানে?’
‘নিজে টানেন না, আমাকেই আপেল হয়ে মাথা থেকে পড়তে হয়।’
মাহের এবার চোখ বন্ধ করে মাথা ঠেকালেন চেয়ারে। কপালের শিরা যেন হালকা নাচছে—বলার মতোই একটুখানি রাগ, আর অনেকখানি অসহায়তা।
আইরা আস্তে বলল, ‘স্যার, আরেকটা প্রশ্ন?’
‘না।প্লিজ।’
‘প্লিজ স্যার বলতেই হবে।’
‘বলো।’
‘স্যার, আমি যদি পড়তে না চাই, তাহলে কী করবেন?’
‘তোমাকে গণিত দিয়ে ছেঁকে ছেঁকে পড়াবো।’
‘ওমা, আপনি তো একেবারে ম্যাথ-টর্চারিস্ট!’
‘আর তুমি ‘ইমোশনাল জেল’ থেকে পালিয়ে আসা আসামী।’
আইরা দুষ্টু একটা হাসি দিল।
‘স্যার, আপনি জানেন, আপনি না একদম ‘কাঠের পুতুল’ টাইপ। চা খাওয়ালে গলেন না, গল্প করলেও না। শুধু পড়ালেখা পড়ালেখা! জীবনটাকে একটুও সিনেম্যাটিক করেন না কেন?’
‘কারণ এটা সিনেমা না, তোমার পরীক্ষা সামনে।’
‘উহু! আমার জীবন নাটক, আর আপনি হচ্ছেন সেই কঠিন চরিত্র, যাকে শেষ দৃশ্যেও নায়ক বানানো যায় না!’
কালো জুব্বা, হাফহাতা কোট, আর পায়ে কালো বেল্টের জুতোতে শুভ্র পা’খানা যেন দূর থেকেই আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।গাঢ় রোদ্দুরে দাঁড়িয়ে,গা হেলানো গাড়ির দরজায় আরহাম।হাতে ফোন, তবু স্পষ্ট বোঝা যায়, মনোযোগটা ফোনে নেই।চিন্তার মেঘে ঢাকা চোখজোড়া কেবল আকাশের দিকে ছুঁয়ে আছে।
হাফসা দোতলার বারান্দা থেকে নীরবে তাকিয়ে ছিলো উনার দিকে।লোকটার চেহারাটা এখনো সেই আগের মতোই, তবে চোখে ক্লান্তি।একরাশ বোবা অভিমান যেন ঘিরে রেখেছে তাঁকে।তাঁর কপালের রেখাগুলো যেন বলে দিচ্ছে—সবটা আমি বোঝার চেষ্টা করেছি, কিন্তু কেউ আমায় বোঝেনি। হাফসার ভাবনামতে, উনি হয়তো ভাবছেন,এমন একটা ইন্সিডেন্টের পরের পরিবেশ টা কেমন হবে।এ কয়েকদিন কর্মস্থল থেকে দূরে থাকলেও আজ হাজিরা দিতে হচ্ছে।
হাফসার ভেতরটা ভার হয়ে আসছে।একটা ব্যর্থতা, একটা অনুশোচনা জমাট বাঁধছে বুকের ভেতর।উনার চিন্তামাখা মুখ আর সরল চেহারাতে মনে হয় দুনিয়ার সব শান্তি মিশে আছে।যে কিনা চোখের সুকুন,মনের সুকুন,হৃদয়ের সুকুন,তার বুকেই ব্যথার পাথর।হাফসা বুঝতে পারছে কিন্তু কিছু করতে পারছে না।লোকটার মলিন মুখ সে বেশ কিছুক্ষণ থেকে পর্যবেক্ষণ করছিলো।তাঁর দমবন্ধ হয়ে আসছে,অসহনীয় কোনো অনুভূতি সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে।তাঁর বারবার মনে হচ্ছে,যে।করেই হোক,উনার মুখে একটু হাসি দেখা চাই।উনাকে একটু আলোকিত,প্রাণবন্ত,হাসিখুশি,দেখা চাই।
চুপিচুপি সিঁড়ি বেয়ে নামতে থাকলো সে।তার মনে হতে থাকলো সকালের দৃশ্য…
ফ্ল্যাশব্যাক :
ফজরের পরক্ষণ।আরহাম মুখে হাত ঢেকে শুয়ে আছেন নিজের রুমে।ঘরের ভেতর অন্ধকার, কেবল জানালার ফাঁক দিয়ে আসা আলোয় মুখটা দেখা যাচ্ছে।হাফসা গুটিগুটি পায়ে কাছে আসলো।তাঁর একবার মনে হলো,বিরক্ত করার প্রয়োজন নেই,ফিরে যাই।আরেকবার মনে হলো,ক্ষমা টা চেয়ে নিই।
ধীরে ধীরে কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে নরম গলায় বললো,
“শুনছেন? আপনি কি ঘুমিয়ে?”
আরহাম ঘুমঘুম চোখ ছেড়ে সরু দৃষ্টিতে তাকালেন।চোখে ক্লান্তির ছায়া, কিন্তু কণ্ঠে কোনো তিরস্কার নেই।
‘জ্বি না।’
হাফসার চোখে অনুনয়।আরহাম তাকে পাশে বসার কথা বলতেই এককোনায় বসে পড়ে সে।
‘আপনি ঘুমোচ্ছিলেন এসে বিরক্ত করলাম।’
‘জেগেই ছিলাম।বলুন।’
হাফসার চোখে অপরাধবোধ,মুখে জড়তা,কন্ঠে কম্পন।
আরহাম তাকে হুট করে এমন চুপ হতে দেখে চোখে গভীরদৃষ্টি রেখে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন , ‘এনি প্রবলেম?উমায়ের?কিছু হয়েছে?ঠিক আছেন?’
হাফসা দ্রুত মাথা নাড়লো।সে তো লোকটাকে দূরে ছুড়ে দিয়েছে,আর তিনি উনার কেয়ারে ঠিকই অটল।
‘আপনি,আপনারা সুস্থ আছেন?শরীর সুস্থ আছে আপনার?উমায়ের,এখন আপনি একা না,আল্লাহর ওয়াস্তে আপনার কোনো বিষয় আমার কাছে লুকাবেন না।’
‘ঠিক আছি।’
আরহাম প্রকাশ না করলেও বুঝা গেলো উনার চেহারা থেকে ভারী কোনো দূ:শ্চিন্তা সরে গেলো।হাফসাকে এরকম অপ্রস্তুত দেখে এবার নরম কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কিছু বলবেন?’
‘ক্ ক্ষমা করে দিন।’
‘হুয়াই?’-ভ্রু কুঁচকালেন তিনি।
‘আমি ভুল করেছি।বুঝতে পারি নি আপনাকে আঘাত করছি এ কয়টা দিন।আমি শুধু দূর থেকে দেখেছি,আপনার ব্যথা,মলিনতা।আপনি অনেক হার্ট হয়েছেন,সেটা আমি ফিরিয়ে নিতে পারবো না,হয়তো।কিন্তু আমার অনুশোচনা হচ্ছে।’
‘কোনো অভিযোগ নেই আমার।’
‘আপনি হার্ট হয়েছেন।’
আরহাম দৃষ্টি সরিয়ে ফেললেন,মাথা নিচু করে অনুভূতিহীন স্বরে উত্তর দিলেন , ‘হয়েছি।’
কি সুন্দর স্বীকারোক্তি।এই স্বীকারোক্তিতে যেন বুকটা খাঁচা ভেঙে চিৎকার করে কেঁদে উঠলো হাফসার।
এই মানুষটা তো সবসময় আমার ভালোটা চেয়েছে। অথচ আমি তাকে বুঝিনি। আমি তাকে একা করে দিয়েছি।” হৃদয়টা যেনো দূ ভাগ হয়ে এলো হাফসার।কতো নিকৃষ্ট স্ত্রী সে!
একটা অস্বস্তিকর নীরবতা।কারো মুখে কথা নেই,আই কন্টাক্ট নেই।এ কয়দিনের অবহেলায় আরহাম নিজেই যেনো নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন,হাফসা বেশ টের পাচ্ছে।
সে চলে আসতে চাইলো,কিন্তু মন বলছিলো আরেকটুক্ষণ থাকতে।ভেতরে জমে থাকা হাঁসফাঁস অনুভূতি মুক্ত করে এক শক্ত আলিঙ্গন জড়িয়ে নিতে।কিন্তু কোনো এক জড়তা থেকে পিছিয়ে এলো সে।নীরবতা কাটাতে বলল, ‘চা খাবেন?’
‘না।’
‘কফি।’
‘এখন কিছু খাবো না।আপনি রেস্ট করুন।’
হাফসা চুপচাপ চলে গেলো। আরহাম জানালার দিকে তাকিয়ে রইলেন। ভিতরে কোথাও যেন শূন্যতা বাজছে।
“কিছু একটা নেই। খুব প্রয়োজনীয় কিছু, যেটা এখন নেই।”
বর্তমান~
আরহাম গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে। ঘড়ির কাঁটা যেন থেমে গেছে। পেছন থেকে ধীর পায়ে এসে দাঁড়ালো হাফসা।
আর অপেক্ষা নয়।
হাফসা দেরি করেনি।হঠাৎই আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরলো আরহামকে।শক্ত করে, কাঁপতে কাঁপতে।
আরহামের গা-জুড়ে কেবল নিঃশ্বাসের কম্পন, কাঁধে ভিজে যাচ্ছে তাঁর চোখের পানি।
তাঁর প্রিয়তমের এমন মলিনতা আর বেশীক্ষণ সে হজম করতে পারেনি।উনার দৃষ্টি তার দিকে পড়তে না পড়তেই সে চট করে শক্ত আলিঙ্গনে বেঁধে নিয়েছিল।তাঁর ফুপানোর আওয়াজ আরহামের না শোনার কথা নয়।তবুও তিনি ধরছেন না।সেকেন্ড জমে মিনিট পেরোয়।তিনি ধরলেনই না। শেষ মুহূর্তে হাফসা একটু সরে আসতেই, হালকা টান দিয়ে বুকের মধ্যে গেঁথে নিলেন তাঁকে।
‘আপনাকে একটুও মানাচ্ছে না মলিনতায়।আপনি আমার আগের মানুষটা হোন,প্রানোচ্ছল,হাসিখুশি,প্রানবন্ত।আমার অশান্তি লাগছে,ইয়া ক্বালবি।’
‘আমার ভালো লাগছিলো উমায়ের? চোখের সামনে আপনি যখন অবহেলা করছিলেন, আপনি যখন বদলে যাচ্ছিলেন—আমি চুপ করে কেবল দেখছিলাম।”
আরহামের কন্ঠে দূর্বলতা,ভীষণ দূর্বলতা।সেই কণ্ঠে একরাশ কান্না লুকানো। চোখের কোণ চিকচিক করে উঠছে।
হাফসা নীরব হয়ে পড়ে রইলো আরহামের বুকে।
‘আমি ভুল করেছি,মানছি।কিন্তু আপনাদের বললে আপনারা হার্ট হতেন,দূশ্চিন্তা করতেন আমি এটা চাইছিলাম না।ব্যাপারটা এতোদূর গড়াবে, আমার ধারনায়ই ছিলো না।’
‘ভাইয়া প্রুফসহ পাবলিক করেছেন যে এটা এ আই দিয়ে তৈরী।আপনি দুশ্চিন্তা করবেন না আর।আমি,আমরা তো জানি আপনি পবিত্র ,সম্মানীয়।’
সকালের পর থেকে দিনভর মিষ্টি ঝগড়া চলেছে।
রায়ান গাল ফুলিয়ে সারা দুপুর কথা বলেন নি।
সন্ধ্যায় এশা চায়ের কাপ নিয়ে এলো।
‘চা খাবেন?না অভিমানে চায়ের কাপও খারাপ লাগবে?’
‘আমি তো ভেবেছিলাম তুমি আজ আর আমার সাথে কথা বলবে না।’
‘আপনার অভিমান দেখি নরম চপের মতো, একটু ভাজলেই ফেঁসে যায়।’
রায়ান কাপে চুমুক দিয়ে বললেন, ‘আর তোমার রাগ একদম গরম সিঙ্গারা। মুখে তুললেই জ্বলে যায়, কিন্তু না খেয়ে থাকতে পারি না।’
এশা চোখমুখ কুঁচকে তাকালো।রায়ান আবারও বললেন ,
‘তোমার রাগ যদি সুন্নাহর মতো হতো, মানে একদম মৃদু ও শীতল, তাহলে আমি প্রতিদিন ইফতার করতাম।’
‘মানে?’
‘রাগ হলে তুমি চুপ করে উজু করতে, দু’ রাকাত নফল নামাজ পড়তে। তারপর আসতে, বলতে—‘চলো, একসাথে রোযা রাখি। কারণ আমাদের ভালোবাসা আল্লাহর জন্য।’
এশা হাসতে হাসতে বলল,
‘আপনি তো আজকাল হাদীস দিয়েই আমাকে হ্যান্ডেল করেন।’
‘কারণ আমার সবচেয়ে বড় সুন্নাহ তুমি, যাকে ভালোবাসা আর দায়িত্বে আঁকড়ে ধরতে হয়।’
অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৬৯
এশা এবার মাথা নিচু করে ফেললো। চোখে একটু পানি।
রায়ান এবার আস্তে করে তার হাতটা ধরলেন।
‘চলো, নতুন করে ভালোবাসি আজ থেকে। ঝগড়াগুলোও জমা করে রাখবো। বিয়ের অ্যালবামের পাশে একটা ‘অভিমান অ্যালবাম’ রাখবো!’
