Home অপেক্ষা সিজন ২ অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৭৪

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৭৪

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৭৪
Maha Aarat

সকালের আলো ফুটেছে ঘন্টাখানিক হয়েছে।ড্রয়িং রুমে সবার উপস্থিতি।আরহাম সোফায় বসে খুব মনোযোগ দিয়ে একটা মেইল চেক করছেন,আহনাফ তাজওয়ার নিউজপেপার হাতে চোখ গেঁথে রয়েছেন সেদিকে।হাফসা একপাশে ব্রেডে জেলি লাগাতে ব্যস্ত,মাইমুনা অন্যপাশের সোফায় বসে বাদাম ছিলে খাচ্ছেন।এরইমধ্যে আম্মু চা,কফির ট্রে হাতে আসলেন।আরহামের জন্য কেবল কফি বরাদ্দ। চায়ের ট্রে আসতেই সবাই নড়েচড়ে বসলো।সকালে আলসি শরীরের ভাবটুকু চাঙ্গা হওয়ার জন্য চায়ের বিকল্প কিছু নেই।সবাই নিজের হাতের কাজ মুহুর্তেই ফেলে রাখতেই মনে হলো যেন এই চায়ের জন্যই মনে হয় এতক্ষণের অপেক্ষা।আরহাম খেয়াল করলেন ,আম্মু সবার হাতে হাতে চায়ের কাপ তুলে দিলেও আব্বুর কাপটা ট্রেতেই রেখে দিলেন।তার চেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার ,আম্মু চায়ের কাপ রাখামাত্রই ভদ্রলোক নি:শব্দে চুপচাপ উঠে গেলেন।সবার আড়ালে আম্মুর মলিন চেহারা বা আব্বুর ভারী মুখ যেনো আরহামকে কিছু একটা বুঝিয়ে দিয়ে গেলো।কেউ বুঝলো না,এই ঠান্ডা পরিবেশে কারো কারো হৃদয় পুড়ে ছাই উড়ছে,অদৃশ্যে জ্বলে উঠা সেই ভয়াবহ আগুন শুধু দুইজনাতেই সীমাবদ্ধ।

প্রকৃতিতে রাত নেমেছে অনেক আগেই।চাঁদের আলো জানালার ফাঁক দিয়ে বিছানায় পড়ছে নিঃশব্দে।বাতাসে বকুল ফুলের ঘ্রাণ, যেন দুনিয়ার সকল ভার মুছে দিতে চায়।ঘরের ভেতর নিস্তব্ধতা, অথচ তাতে এক ধরনের আত্মার শব্দ লুকিয়ে—যা শুধু ভালোবাসায় আর ইবাদতে বোঝা যায়।
আরহাম দরজায় নক করতেই দরজা খুললেন আম্মু।আরহাম বিব্রতবোধ করলেন উনি ভেবেছিলেন আম্মু হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছেন।খানিক ইতস্ততা করে জিজ্ঞেস করলেন , “সরি আম্মু!’
‘কেন এসেছো?কোনো দরকার?’
আরহাম বোকাভঙ্গিতে মাথা চুলকাতে চুলকাতে নিচু হয়ে জবাব দিলেন , ‘জ্বি না।’চলে যেতে গিয়েও পরক্ষণেই আবার ফিরে এসে আমতাআমতা করে জিজ্ঞেস করলেন , “উমায়ের ঘুমিয়ে গিয়েছেন?”
“দেখো গিয়ে।”
আম্মু আরহামকে সাইড দিতেই তিনি চটপট ঢুকে গেলেন।দু’কদম এগিয়েই পেছন ফিরে দেখলেন আম্মু দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে।এই সুযোগে হাফসার কাছে এসেই,

‘উমায়ের শুনছেন?”
‘হু?’
‘আপনি এখানে কেন?আমার কাছে আসলেন না?’
‘আপনি তো আপনার লাইব্রেরিতে পড়ছিলেন দেখছিলাম।’
‘তবুও।আমি অপেক্ষা করছিলাম।’
‘কেন এসেছেন?’
আরহাম দরজার দিকে সতর্কদৃষ্টি ফেলে ঠোঁট মিশিয়ে নিলেন কপালে।পেটে হাতের নরম স্পর্শ রেখে বললেন , ‘আমি আপনাদের মিস করছি।আপনি উঠে আসুন।আমি আপনার সাথে থাকবো।’

‘আসব না।’
‘কেন?’
‘আম্মুর সাথে ঘুমিয়েছি এখন কীভাবে আসবো?’
‘হেঁটে হেঁটে?বা আমি কি কোলে করে নিব?’
‘আপনি পাগল?আমি আসব না।আম্মুকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন।কেমন দেখাচ্ছে বিষয়টা।কমনসেন্স নেই।’
‘আমার মানুষ নিয়ে ঘুমাচ্ছেন আর আমি কথা বলার জন্য একটু সময় চেয়ে নিতে পারবো না?’
হাফসা নিশ্চল তাকিয়ে থাকে।এই মানুষটার সাথে সে কখনোই পারে না,পারবেও না তার দৃঢ়বিশ্বাস।হার মানা সুরে সে বলল, ‘জ্বি পারেন।এখন যান,প্লিজ।’
‘গিভ মি এ্যা সুইট,দেন আই উইল গো!’
আরহাম গাল এগিয়ে দিলেন।অথচ এক মিনিট পার হওয়ার পরও কোনো স্পর্শ পড়লো না দেখে উঠে আসলেন।অমনি কপালে উষ্ণ হাতের স্পর্শ পড়লো।মুখ এগিয়ে নিয়ে গালের খোঁচা খোঁচা ছোট্ট দাঁড়ির ভাঁজে এক টুকরো নরম স্পর্শ পড়তেই আরহাম মুচকি হাসেন।কেবল তার গালে হাত রেখে বললেন , ‘এর উত্তর কাল দিচ্ছি।’
আরহাম বেরিয়ে যেতেই হাফসা মুচকি হাসলো।তার ভেতরজুড়ে প্রশান্তির ফোয়ারা ছুটলো।জাওজ এর মাঝে আল্লাহ এতো সুকুন রেখেছেন,যে তার হৃদয়ের সব দূ:খ কেবল এক ছোঁয়াতেই উবে যায়!

আরহাম জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।সাদা পাঞ্জাবি, শুভ্র গালে খোঁচা দাঁড়ির রেখা,চিবুকে চিন্তার গভীর ছাপ। মাইমুনা মাথায় হালকা ওড়না টেনে, উনার দিকে এগিয়ে এলেন।
“আপনি কী ভাবছেন?”
আরহাম তাকালেন মাইমুনার দিকে।সেই চিরচেনা কোমল মুখ।তার প্রশ্নে হালকা হাসলেন।
“ভাবছিলাম আল্লাহ কিভাবে আমাদের চলার পথ গুছিয়ে দেন… এমনকি যখন আমরা ভীষণ কষ্টে থাকি তখনও। আপনি কি জানেন?আমি ভয় পেয়েছিলাম।আমি যখন উমায়েরাকে নিকাহ করলাম, আমার মনে হয়েছিল আপনি হয়তো ভেঙে পড়বেন।”
মাইমুনা একটু থেমে, নরম কণ্ঠে বললেন:

“ভুল ভাবেননি। আমি ব্যথা পেয়েছিলাম,খুব ব্যথা। কিন্তু আমি আল্লাহর জন্য… আপনার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। সম্মতি দিয়েছি, কারণ আমি জানি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা সূরা বাক্বারায় বলেছেন,
“তোমরা কোনো বিষয় অপছন্দ করো, অথচ সেটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর; আবার কোনো বিষয় পছন্দ করো, অথচ সেটাই তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আল্লাহ জানেন, অথচ তোমরা জানো না।”
(সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২১৬)
আরহাম বিস্ময়ে তাকালেন স্ত্রীর দিকে।
“সুবহানাল্লাহ। আপনি কীভাবে এতটা তাওয়াক্কুল শিখলেন, মাইমুনা?”
“আল্লাহ নিজেই শিখিয়ে দেন, যদি কেউ শিখতে চায়।”
একটা দীর্ঘ নীরবতা।তবুও, সেখানে কোনো অস্বস্তি নেই। বরং, এমন নিস্তব্ধতা যেন দুটি হৃদয়কে আরো কাছে নিয়ে আসে।
কিছুক্ষণ পর, আরহাম প্রস্তাব করলেন,
“আজ রাতে… একসাথে সুরা আর-রাহমান পড়া যায়?”
মাইমুনা হালকা হাসলেন।চোখে শান্তির দীপ্তি।
“আপনি পড়ুন, আমি শুনি।তারপর আমি পড়বো,আপনি শুনবেন।”
আরহাম বসে পড়লেন জায়নামাজে।পাশে বসে মাইমুনার হাত নিজের পাঁচ আঙ্গুলের ভাঁজে মিশিয়ে নিলেন নিঃশব্দে।অতপর
আরহামের কণ্ঠে ধীরে ধীরে ভেসে এলো:
الرَّحْمَـٰنُ
عَلَّمَ الْقُرْآنَ
خَلَقَ الْإِنسَانَ
عَلَّمَهُ الْبَيَانَ
তারপর যখন তিনি পৌঁছান আয়াতে:
فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
“তবুও তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নিয়ামত অস্বীকার করবে?”
মাইমুনার চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।আরহামের গলাও কেঁপে ওঠে। বারবার পড়েন আয়াতটি।বারবার থেমে যান, কাঁপা কণ্ঠে বলেন—
– “কোনো নিয়ামত অস্বীকার করি না, হে আল্লাহ… কিছুই না।”
তারা এগোতে থাকেন।জান্নাতের বর্ণনায় আরহামের কণ্ঠ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে:
فِيهِمَا عَيْنَانِ تَجْرِيَانِ
“সেখানে থাকবে দুই প্রবাহিত ঝরনা।”
فِيهِمَا مِن كُلِّ فَاكِهَةٍ زَوْجَانِ
“সেখানে থাকবে প্রত্যেক প্রকার ফলমূল, যুগল আকারে।”
মাইমুনা মুগ্ধ হয়ে শুনেন,যেনো জান্নাতের দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন তারা দু’জন। আর যখন জাহান্নামের বর্ণনা আসে, তখন আরহাম থেমে যান।গলা ভারী হয়ে আসে‏– “আল্লাহ, আপনি আমাদের রক্ষা করুন সেই আগুন থেকে… আমাদের, আমাদের অনাগত সন্তানদের, আমাদের প্রিয়জনদের।”

মাইমুনা নিঃশব্দে ফুঁপিয়ে কাঁদেন।আরহাম তার হাত ধরে রাখেন দৃঢ়ভাবে।
তারপর দুজনে খেজুর খান।কিছুটা পানি পান করে হালকা সাহরি করে নেন।কোনো বিলাসিতা নেই—শুধু আখলাক, সংযম আর নেক নিয়্যত।আরহাম নরম স্বরে বলেন:
“আল্লাহর খুশির জন্য সংযম করি আজ,হাবীবতাহ (প্রিয়তমা /প্রিয় নারী)?”
মাইমুনা চমৎকার হেসে মাথা নাড়েন।– “হ্যাঁ, শুধু আল্লাহর খুশির জন্য।এরপর তারা দাঁড়িয়ে যান কিয়ামে। নিস্তব্ধ ঘরে নফল নামাজে দাঁড়িয়ে, সেজদায় পড়ে যায় দুইটি হৃদয়—একই রাহে, একই যাত্রায়।
রাতের শেষ প্রহরে, নামাজ শেষে আরহাম মাইমুনার পাশে ফিরে আসেন। হঠাৎ, খুব গোপনে, মাইমুনার চিবুক ছুঁয়ে ঠোঁট রাখেন তার গালে।মাইমুনা লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলেন, ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলেন।আরহাম তার পাশে এসে বসে পড়েন।
“আপনার লাজুক চেহারার চেয়ে চমৎকার কোনো সৌন্দর্য নেই,বোধহয়।সো,আই ওয়ান্না সী!আমি আপনাকে আমার কাছে চাই,হানি।আমার হৃদয়ের ঠিক এক ইঞ্চি কাছে।”
মাইমুনা যেনো গলে যান এই মায়াবী শব্দে।উভয়ের উষ্ণ আলিঙ্গন হয়,কিন্তু সেই আলিঙ্গন শুধু শরীরের নয়—বিশ্বাসের, সম্মানের, ভালোবাসার, তাকওয়ার।
রাতের নিঃশব্দতা বাড়ার সাথে সাথে তারা একসাথে ঘুমিয়ে পড়েন।আরহাম মাইমুনার কোলে মাথা রাখেন।মাইমুনা দেখলেন , এ যেন সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া এক পবিত্র শিশুর
মতো কোমল চেহারা।
মাইমুনা তাকিয়ে থাকেন উনার দিকে।
কালো পাপড়ির নিচে দুটি শান্তচোখ, যেন সৃষ্টিকর্তার রহমত দিয়ে আঁকা।
লাল ঠোঁট, গালের খোঁচা দাঁড়ি।
তিনি আস্তে আস্তে উনার লম্বা দাঁড়িতে আঙুল চালিয়ে বেণী পাকান।কপালে চুমু খান।একগুচ্ছ ছোট ফুল এনে দাঁড়িতে গুঁজে দেন।মাইমুনার মনে হয়, যেন উনার স্বামী আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিশেষ উপহার, যিনি তাকে জান্নাতের পথে হাঁটিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন!
ঘরের বাইরে ভোরের আজান শোনা যাচ্ছে।
দূরে গাছে বসে থাকা একটি পাখি ডেকে ওঠে।
প্রকৃতি যেন সাক্ষী এই রাতে—যেখানে ভালোবাসা ছিল, ক্ষমা ছিল, কান্না ছিল, দোয়া ছিল।
এ এক রাত—যা প্রমাণ করে, সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো শরীর দিয়ে নয়, আত্মা দিয়ে গড়ে ওঠে। আর যখন সেই আত্মায় আল্লাহ থাকেন, তখন সে ভালোবাসা হয়ে ওঠে জান্নাতের সুবাসে ভরা!

সময় থেমে থাকে না।দেড় মাস যেনো চোখের পলকেই হারিয়েছে।সময়,সে যেন এক নীরব, ধীর অথচ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ স্রোতের মতো—যে এগিয়েই চলে। সকালকে বিকেল বানিয়ে, বিকেলকে গড়িয়ে সন্ধ্যায় নিয়ে যায়, তারপর রাতের আঁধারে হারিয়ে দেয় সমস্ত চেনা মুখচ্ছবি। একদিন যা ছিল চিরচেনা, আজ তা অপরিচিত; একসময় যা ছিল প্রাণের কাছাকাছি, আজ তা বহু দূরে।প্রকৃতি তার নিজস্ব ছন্দে রূপ হারাচ্ছে, আবার নতুন রূপে আবির্ভূত হচ্ছে।
ফুল ঝরে পড়ছে, নতুন কুঁড়ি গজাচ্ছে। নদীর তীরে যে কাদা ছিল, আজ সেখানে শুকনো ধুলো। পাখির কূজন হারিয়ে গিয়েছে দূর কোনো প্রান্তরে। গাছেরা আপন মনে পাতাঝরার গান গাইছে, আবার কিছুদিন পরেই তারা নতুন পাতায় ঢেকে দেবে আকাশ।
এ এক অদ্ভুত চক্র।
সময় যেন এক শিল্পী—যে তার তুলির আঁচড়ে রোজ রোজ পাল্টে দিচ্ছে জীবনের ক্যানভাস। কিছু হারিয়ে যাচ্ছে, কিছু থেকে যাচ্ছে, আর কিছু আসছে—এই চলমানতার মাঝেই জীবনের সত্য লুকিয়ে।
বিকেলের আলো ঝিমিয়ে পড়েছে।জানালার ওপাশে শেষরোদে ধুলোমাখা গাছগুলো চুপচাপ দাঁড়িয়ে।ঘরের মধ্যে শুধু দুটো নিঃশব্দ হৃদয়ের হাহাকার। ইমান আদওয়ার সঙ্গে কথা বলার শেষ সুযোগ চান।দুজনেই জানে—আজকের এই কথাগুলো হয়তো শেষ…আজ তারা মুখোমুখি—শেষবারের মতো।

ইমান অনেকক্ষণ চুপ ছিলেন।অনেক কথা জমিয়ে এনেছিলেন তিনি।অথচ মুখোমুখি হয়ে সব কথাই যেনো হারিয়ে ফেলেছেন।নিজেকে খুব অসহায় লাগছে উনার।বারেবার প্রথ্যাখিত হয়েও কেউ কি আবারও আসে?যেখানে সে জানেই,এবারও প্রত্যাখান সুনিশ্চিত।তবুও মিথ্যে আশা…
নিজেকে প্রস্তুত করে একসময় দুঃখমাখা কণ্ঠে মুখ খুললেন ইমান,
“আদওয়া… আমি জানি তোমার মনে অনেক অভিমান জমে আছে।তবুও… আজ যদি তুমি একটু শুনতে, হয়তো আমার মনের বোঝা কিছুটা হালকা হতো।”
আদওয়া ঠোঁট শক্ত করে উত্তর দেয়,
“শোনার সময় আমি অনেক আগেই পার করে এসেছি।আমি কান পেতে থেকেছি… বহু রাত, বহু দিন,মিথ্যে আশা নিয়ে বেঁচেছি।আপনি তখন নীরব ছিলেন।আজ কেন কথা বলতে এলেন?”
“আমি তো জানতাম না সত্যিটা,সেদিন আমি কেনো এতো কঠিন হয়ে গিয়েছিলাম,আজ পর্যন্ত সে উত্তর আমার কাছে নেই।”

“আপনি মিথ্যে ওই সত্যিটা বিশ্বাস করেছেন।অথচ ছোট্ট আদওয়া তখন চেয়েছিলো আপনি একটাবার বলবেন—‘আদওয়া, আমি তোমার পাশে আছি’। আপনি বলেননি। বরং যখন আমি সবচেয়ে অসহায় ছিলাম, তখন আপনার চোখে আমি প্রথমবার ঘৃণা দেখেছি।”
“আমি কিছু না জেনে না বুঝে চুপ ছিলাম… তুমি যদি জানতে এখন প্রতিদিন আমি সেই চুপ থাকার শাস্তি পাচ্ছি।”
আদওয়া ব্যঙ্গভরা হাসি নিয়ে বলে, “আমি কখনোই চাইনি আপনি আমাকে পৃথিবীর মতো ভালোবাসেন।
আমি শুধু চেয়েছিলাম, আপনি আমায় একবার—শুধু একবার—বিশ্বাস করবেন।যখন সবাই আমার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল, আমি চেয়েছিলাম আপনি পাশে থাকুন।
আপনি যদি সেদিন বলতেন, ‘আমি জানি আদওয়া মিথ্যে বলছে না’—তাহলেই আমি হাজার অপমান সয়ে যেতাম।
কিন্তু না… আপনি তো সবার আগে আমায় সন্দেহ করলেন।”
“আমি ভুল বুঝেছিলাম।”
“ভুল বুঝেছেন সত্যি টা না জেনেই।আর আমি?আমার কেমন লেগেছিল। আমি তো ভরসা হারিয়েছিলাম।
আপনি ছিলেন আমার একমাত্র আশ্রয়, আর আপনিই প্রথম বিশ্বাসঘাতক হলেন।আমি অন্য সবার সন্দেহ সহ্য করেছিলাম এই ভেবে যে আপনি অন্তত পাশে থাকবেন।
কিন্তু আপনিই পেছনে হেঁটে গেলেন।বিশ্বাস করুন,আপনার চোখে প্রথম যেদিন সেই অবিশ্বাস দেখেছি—সেদিনই আমি মরে গিয়েছিলাম।”

“আমাকে ক্ষমা করো ,প্লিজ!” ইমানের ভেজা কন্ঠ।
“আপনি যখন চুপ ছিলেন,আমি তখন হাজার বার আমি প্রার্থনা করেছিলাম, ‘আল্লাহ,আর কেউ না বলুক,যেন ইমান ভাই অন্তত একবার বলেন—আমি আদওয়াকে বিশ্বাস করি।’ আপনি বলেননি।এখন আপনি যাই বলুন,তাতে আমার কিছু যায় আসে না।আপনার দয়া, অনুশোচনা, এমনকি ভালোবাসাও আমি ফিরিয়ে দিচ্ছি।
আপনি আমার কাছে এখন শুধু একটুকরো ভাঙা আয়না যে আমাকে নিজের অপমানিত চেহারা বারবার দেখায়।”
“আমি তো স্বীকার করছি,তোমার সাথে যা হয়েছে অন্যায় করেছি।মানুষ ভুল করেও তো ক্ষমা পায়।আমাকে কি কোনোভাবেই ক্ষমা করে দেওয়া যায় না , আদওয়া?
-ইমানের কাতর কণ্ঠ!
“ক্ষমা পায়,হয়তো দামী কিছু হারানোর বিনিময়ে।আপনি না হয় আমাকে হারিয়েছেন।”
“আমি জানিনা,আমি শুধু তোমাকে চাই! আমি অনেকবার ফিরে এসেছি, অনেকবার চেয়েছি তুমি আমাকে ক্ষমা করো।আমাকে একটাবার সুযোগ দাও।”
ইমান ভাই অস্থির হয়ে গেলেন।উনার চোখে কান্নার ঢেউ।
“আপনি এখনো বুঝতে পারছেন না। আমার ভালোবাসায় আপনি আর নেই। আপনি অনেক আগেই মরে গেছেন—আমার অনুভবে, আমার কল্পনায়।”

ইমান থমকে গেলেন।যদিও এটা জানা কথাই,তবুও তার মুখ থেকে শুনতেই ভেতরটা আরও একবার চুরমার হয়ে গেলো।তিনি কঠিনভাবে চেয়ে থাকলেন,কিন্তু মুখে নীরবতা।শব্দহীন একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে।
“আমি উনাকে ভালোবাসি। হ্যাঁ, আরহামকে।আমার পাগলামি, আমার অভিমান, আমার সমস্ত আবেগের কেন্দ্রে উনি।উনি কারো স্বামী—জানি।
তবুও… আমি প্রতিটি রাতে উনার ছবি কল্পনায় গাঁথি,
আমার দোয়ায় শুধু উনার নাম আসে।আমার অনুভূতি যত যাই হোক,উনি ব্যতীত কাউকে নিয়ে না,আর হবেও না।”
চোখেমুখে রাগ আর বিরক্তির ঝড় বয়ে যাচ্ছিল আদওয়ার।
“আপনি বারবার এসে আমাকে দুর্বল করার চেষ্টা করেন।আমাকে টেনে নিয়ে যান সেই অতীতে, যেটা আমি ভুলতে চাই।

আপনি কেন বুঝেন না?আমি আপনাকে ঘৃণা করি।
আপনাকে দেখলেই মনে পড়ে, আপনি সেই ভুল বোঝার কারণ, যার জন্য আমি আজ এতটা তিক্ত।
আমার ভরসা,বিশ্বাস, ভালোবাসা এই শব্দগুলো সেদিনই উঠে গিয়েছিলো যেদিন আপনার চোখে আমার জন্য ঘৃণা দেখেছি।আই রিপিট,ওটা ঘৃণা ছিল,তীব্র ঘৃণা ,করুণা হলেও মানা যেতো।
ইমান মাথা নিচু করলেন।ঠোঁট ফাঁকা নড়ে উঠল, কিন্তু শব্দ বেরোল না।
আদওয়া এবার শক্ত অথচ বসে যাওয়া কণ্ঠে বলল,
“আপনি দয়া করে আমাকে মুক্তি দিন।আমি আপনাকে চাই না।আমার জীবনে আপনি এক বিভ্রান্তি। আর দয়া করে, আমাকে আর কখনো ভালোবাসবেন না।আপনার মুখে আমি এই শব্দটা ঘৃণা করি।”
এবার ইমান পিছিয়ে এলেন।নিঃশ্বাস ফেলে মাথা নিচু করলেন।
উনার চোখে জল জমে উঠলেও, উনি কিছু বললেন না।
শুধু মনে মনে বললেন,
“আল্লাহ, তাকে যেই দাও, সুখ দিও।সে যদি আমার কপালে না থাকে, আমি তাকেই দোয়া করে যাবো… আমরণ।”

ইয়া মাহবুব,(মাহবুব অর্থ প্রিয়)
আজ যখন এই চিঠিটি লিখছি, তখন হৃদয় ভারাক্রান্ত। বহু বছর ধরে যে নিঃশব্দ অশান্তি আমাদের মধ্যে ছিল, সেই সব কথা আজ একত্রিত হয়ে এই চিঠির মাধ্যমে আপনার কাছে পৌঁছাচ্ছে।আপনার প্রতি আমার এতটুকু ক্ষোভ নেই, শুধু একটা গভীর দুঃখ বয়ে বেড়াচ্ছি।আপনি জানেন না কতটা একা ছিলাম আমি, যখন আপনি প্রবাসে ছিলেন।আমাদের সম্পর্কটা তখন শুধুমাত্র দায়িত্বে আবদ্ধ ছিল, ভালোবাসা ছিল না।কখনো তো মনে হয়নি, আমি একজন নারী হিসেবে আপনার পাশে আছি।
তবে আজও আমি জানি, আপনি যখন দেশে ফিরেছিলেন, তখন আপনার ভেতরে কতটা ক্লান্তি, একাকীত্ব, এবং যন্ত্রণা ছিল—সেসময় আমি আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী হতে পারিনি।আমি যদি বুঝতাম, তাহলে হয়তো আমি আপনাকে আরও কাছ থেকে সাহায্য করতাম।কিন্তু যখন আপনার অবহেলা অনুভব করতাম,তখন আমার ভেতরেও অনেক কিছু জমে থাকতো, যা আমি কখনোই আপনার কাছে প্রকাশ করতে পারিনি।
আপনি জানেন,আমি আপনার জন্য কতটা ত্যাগ করেছি। আপনার পরিবারকে গড়ে তুলতে আমার নিরলস পরিশ্রম ছিল।কিন্তু আপনি কখনোই জানাতে চাননি,যে আপনি আমাদের পাশে থাকতে চান।আপনি বলুন, ‘আমি বিদেশে ছিলাম, তোমাদের পাশে থাকার সময় পাইনি,’ কিন্তু আপনার অভাবটা আমি প্রতিদিন অনুভব করেছি। আমরা একে অপরকে পুরোপুরি জানতেই পারলাম না, মাহবুব।
তবে, আজ আমি একটাই কথা বলতে চাই।আপনি যেরকম ছিলেন, বা যা কিছু আমার কাছে ছিল, তার সবকিছু আমি এখনো ভালোবাসি। যদি আপনি কখনো আমার পাশে থাকতে চান,তবে আমি অপেক্ষা করতে রাজি।আমি জানি, সময় ফিরিয়ে আনতে পারব না, কিন্তু একে অপরকে ভালোভাবে বোঝার সুযোগ তো এখনো আছে।

আপনার একসময়কার প্রিয়,
আফসানা
চিঠিটা এ নিয়ে বেশ ক’বার পড়লেন আহনাফ তাজওয়ার।সেদিনের পর যেনো এক অদৃশ্য দূরত্ব বেড়েই চলছে তাদের।এদিকে প্রবাসে ফিরে যাওয়ার সময়টাও যেনো দ্রুত আসছে।সেদিন চায়ের কাপ অগ্রাহ্য করে রুমে আসার কিছুক্ষণ পরই আরহাম এসেছিল।সে আরও আলোচনার মধ্যদিয়ে বন্ধুর মতো প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেবল জানতে চেয়েছে,আম্মুর মন খারাপ আর আপনার মলিন চেহারা আমি কোনোভাবে নিতে পারছি না আব্বু।আমি জানিনা আপনাদের মধ্যে কি হয়েছে।আমি কেবল আমার হাসিখুশি পরিবারটা আবারও চাই।
আহনাফ তাজওয়ার একপর্যায়ে কিছু বিষয় আরহামের সাথে আলোচনা করলো,আরহাম কিছুই বলেননি,কেবল মনোযোগ সহকারে নীরবে সব শুনে গিয়েছিলেন।এরপরে একদিন হুট করে বললেন,আফসানার সাথে সে কথা বলেছে।আর তারপর আজকে আফসানার এআহনাফ তাজওয়ার খুব ভোরে যখন ঘুম ছেড়ে উঠেছিলেন ,দেখলেন দরজার কোনে পড়ে আছে খাম।খুলে দেখতেই বেরিয়ে এলো এক কাঁটা; যেই কাঁটায় ডুবতে গিয়ে আহনাফ তাজওয়ারের ভেতরটা যেনো ঝলসে যাচ্ছে বারবার।

ঘরটা ভরে উঠেছিল এক স্নিগ্ধ প্রশান্তিতে।জানালার পাশে বসে মাইমুনা তিলাওয়াত করছিলেন, কোরআনের আয়াতগুলো তার ঠোঁট থেকে বের হচ্ছিল ধীরে ধীরে, গভীর ভাবনায় মোড়ানো সুরে।পাশে হাফসা বসে ছিলো অনুবাদের দায়িত্ব নিয়ে—প্রতিটি আয়াতের বাংলা অর্থ সাবধানে পড়ছিলো,যেনো শব্দে কোনো অসম্পূর্ণতা না থাকে, যেনো বুঝে-বুঝে হৃদয়ে বেজে ওঠে আল্লাহর বাণী।
“আর তোমার প্রভুর প্রতি তাওয়াক্কুল করো, নিশ্চয় তিনি যথেষ্ট রক্ষক।”
— মাইমুনা আয়াতটি তিলাওয়াত করে থামলেন।
চোখে একটু অশ্রুজল এসে গেল উনার।
“এই আয়াতটা…” তিনি কাঁপা কণ্ঠে বললেন,
“যখন আমি প্যারালাইজড হয়ে গিয়েছিলাম,একদম ভেঙে পড়েছিলাম,তখন আমি শুধু এইটুকু বলতাম—‘হে আল্লাহ, তুমি যথেষ্ট। তুমি আছো।’ এই আয়াত আমার জীবনের রগে রক্তের মতো ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।”
হাফসা হাত বাড়িয়ে তাঁর হাত ধরলো।
“আপনি আল্লাহর কাছে ফিরে গিয়ে নিজের ভিতরকে ঠিক করেছেন আপু আর তাইতো আপনি আজ এত স্ট্রং।আপু,আপনি জানেন, আমি প্রতিদিন আপনার কাছ থেকে নতুন কিছু শিখি।”
মাইমুনা হেসে ফেললেন।

“তোমাকে শিখানো নয় হাফসা, এটা আমাদের একসাথে পথ চলা।তুমি আমার আয়না।”
দুজনের চোখে এক প্রশান্ত ভালোবাসার আভা।একজন অন্যজনকে আঁকড়ে ধরেছেন ভালোবাসা, ইমান, মমতার বাঁধনে।
সন্ধ্যায় তারা একসাথে বসলেন মেহেদি দিতে।হাফসার হাতে সুন্দর করে মেহেদি এঁকে দিচ্ছিলেন মাইমুনা, আর হাফসা তাঁর চুল বেনী করে দিচ্ছিলেন সযত্নে।কখনো দুজনেই হাসছিলেন, কখনো চুপচাপ, বিনিময় করছিলেন অমৃত অনুভবের মুহূর্ত।
এই পাতাটা আমি গোলাপের মতো করলাম,” মাইমুনা বললেন হেসে।
তুমি এমনিতেই গোলাপ—এইটা শুধু বাহানা।”
হাফসা হেসে বলল, “আপু, আমিগোলাপ হলে আপনি হচ্ছেন সেই বাগানের সূর্য। আমার ভেতরের সব ফুল আপনি ফোটান। আপনি আছেন বলেই আমি এত সাহস পাই।”
“তাই?তবে মনে রেখো তোমার বাচ্চা যদি আমাকে মা না বলে আর কিছু ডাকে ,তাহলে আমি তোমাদের সাথে কথাই বলবো না।’
হাফসা হেসে জবাব দেয়, ‘এই যে শুনছে!আমার মনে হয়,সেটা সে ওখান থেকেই শিখে আসবে।’
“তাই যেনো হয়।”

মাইমুনা মেহেদী আঁকতে ব্যস্ত।হাফসার খুব মন খারাপ হয়ে গেলো হঠাৎ। সে মুখে দুনিয়ার সব আঁধার জড়ো করে বলল, ‘কতদিন হলে বাড়ি থেকে বেরোই না।এক জায়গায় থাকতে থাকতে একঘেয়েমি লাগছে।”
মাইমুনাও থেমে থেমে বললেন , “ঠিক বলেছো।শাহ আমাদের কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাননা।যাওয়ার কথা বললেই বলেন,বাইরে যাওয়ার দরকার নেই।আজ আসলে আমরা কথা বলবো না,ঠিকাছে?বুঝিয়ে বুঝিয়ে ইগনোর করবে ,কেমন?”
হাফসা অভিজ্ঞভঙ্গিতে মাথা নেড়ে সম্মত হয়।তাদের মুখের ভাবখানা এমন যেনো যেন দুই সৈনিক যুদ্ধের ছক কষছে— আরহামকে জব্দ করার মুখ্যম ফাঁদ পেতে রেখেছে।এবার আর পায় কে তাদের।
এসব গোপন আলাপ আলোচনার মধ্যেই আম্মু দরজায় নক করলেন ট্রে হাতে, যার উপর ছিল দুই কাপ দুধ, খেজুর আর মিষ্টান্ন।
“কি করা হচ্ছে?” তিনি মায়ামাখা কণ্ঠে বললেন।
“এইযে কন্যাকে সাজাই,আম্মু।” মাইমুনা হেসে বললেন।
“বেশ তো।ভালো পাত্র পেলেই বিয়ে দিয়ে দিতে হবে।”-আম্মুও রসিকতা করলেন।
হাফসা গাল ফুলালো।মাইমুনা আম্মুর জবাব দিলেন , “আর আপনার ছেলে বাসায় এসে দেখবেন উনার বাচ্চাসমেত বউকে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে ,তখন বাড়িঘরে আগুন জ্বালিয়ে দিবেন।”
তিনজনই হেসে উঠলো।যেনো কোনো চমৎকার জোকস।
আম্মু আবেগপ্রবণ হয়ে বললেন , “তোমরা একসাথে থাকো, একে অপরের ঢাল হও।তোমরা সবাই যেনো মিলেমিশে ,সুখে আল্লাহর পথে থাকো,এটাই আমার দোয়া।”
তিনি দূজনের কপালে চুমু এঁকে দোয়া করে দিলেন।এ যেনো এক স্তব্ধকরা মুহূর্ত!যে মুহূর্তের অনুভূতি প্রকাশের কোনো ভাষা নেই,আছে কেবল নীরব প্রশান্তি।

বিকেলটা খুব শান্ত ছিল—অস্বাভাবিক শান্ত বলা যায়। জানালার পর্দা নেমে আসা হাওয়ায় দুলছিল ধীরে ধীরে। আকাশে হালকা মেঘ জমেছে, যেন রোদ আর ছায়ার লুকোচুরি খেলায় লিপ্ত কোন অনন্ত মায়া।
হাফসা বারান্দায় বসে ছিল।তার চোখে তখন গভীর নিরবতা, মুখে প্রশান্তির ছায়া।পাঁচ মাসের গর্ভাবস্থা তাকে একটু ভারী করে তুলেছে, কিন্তু তার কণ্ঠে বা আচরণে একটুও বিরক্তি নেই।
সে বেলকনির একটা ছোট ছাদবাগানে তাকিয়ে ছিল, যেখানে অল্প কয়েকটা তুলসী আর লাল গোলাপ ফুটেছে। মাঝে মাঝে গুনগুন করে সুর তুলছিল একটা দূরের কোকিল।
সেই মুহূর্তে—একটা নরম শব্দ হল। কিছু যেন নিচে পড়ল।
হাফসা দাঁড়িয়ে গিয়ে দেখতে চাইল—ছোট টুলের পাশে রাখা ফুলদানিটা পড়ে গেছে।হাত একটু নিচে নামালেই আনা যাবে ফুলদানিটা তুলতে গিয়ে সে হালকা নিচু হল। আর ঠিক তখনই…
পা পিছলে গেল।
দুপুরের হালকা বৃষ্টির তাগিদে মেঝেটা অল্প ভেজা ছিল, হয়তো কারো খেয়ালই হয়নি।
ধপাস!
একটা থমথমে শব্দ, আর তারপর নিস্তব্ধতা।

— “হাফসা?”
ড্রয়িং রুম থেকে মাইমুনা ছুটে এলেন হুইলচেয়ারের চাকা দ্রুত ঘোরাতে ঘোরাতে।বেলকনিতে এসে দেখলেন,হাফসা মেঝেতে, শরীরটা বাঁকা হয়ে পড়ে আছে, হাতে আঁচড়,ফুলদানির কাঁচের টুকরোগুলো চারিদিকে ছড়ানো।হাফসার গালে ফুটছে তাজা রক্ত।মাইমুনা যেনো জ্ঞান হারাবেন এমন কাঁপাকাঁপির মধ্যেও ভেতর থেকে তুমুল শব্দ টেনে জিজ্ঞেস করলেন ,

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৭৩

— “হাফসা, শুনতে পাচ্ছো?”
কোনো উত্তর নেই।
মাইমুনার চিৎকারে ঘরের সবাই ছুটে আসে।মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে একটা সুন্দর বিকাল মুহুর্তেই বিষাদে রূপ নেয়!

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৭৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here