অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ১০
Sathi
“” বেশ অনেকক্ষণ চুমু দেওয়ার পর জেহেফিল থামে। সেতুর দিকে তাকিয়ে দেখে, ফণা তোলা সাপের মতো ফুঁসছে সে। রাগে তার চোখ দুটো লাল হয়ে আছে। সেতু রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে জেহেফিলের চুল মুঠো করে ধরে বলে।
__ চু*মু খাওয়ার খুব শখ, না?
” বলেই ইচ্ছামতো জেহেফিলের চুল টানতে শুরু করে। জেহেফিলের মাথায় ব্যথা চড়ে যায়, র*ক্ত যেন টগবগ করে উঠছে। গম্ভীর মুখে, নিচু গলায় হুমকি দেয়।
__ চুল ছাড়বে নাকি, ১০০টা চুমু খেয়ে বাসর শুরু করবো?
” তার ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে কথায় মুহূর্তেই সেতু চুল ছেড়ে দেয়। ছেড়ে দিয়ে আবার সাপের মতো ফুঁসতে থাকে। জেহেফিল হাই তুলতে তুলতে অলস ভঙ্গিতে বলে।
__ আমি তো কখনো বীন বাজাইনি। তাহলে আমার জীবনে এই সাপটা আসলো কিভাবে?
” নিজেকে সাপ সম্বোধন শুনে,সেতুর রাগ আরও বেড়ে যায়। রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে বলে।
__ আমি সা*প হলে আপনি বে*জি। ঠিক খাওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন।
__ আস্তাগফিরুল্লাহ। মেয়ে মানুষের মুখে এইসব খাওয়া-দাওয়ার কী শব্দ? এমনিতেই তোমাকে খাওয়ার আমার বড্ড লোভ।
__ জানেন না তো, লোভ করা ভালো না। লোভ করা পাপ।
” জ্ঞান দেওয়ার ভঙ্গিতে সেতু কথাটা বলে, মুখ কাচুমাচু করে তাকায়। জেহেফিল পা জোড়া পায়ের উপর পা রেখে ঠোঁ*ট বাঁকিয়ে বলে।
__ লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু, মৃত্যুতেই মিলাদ। মিলাদে মিষ্টি, আর মিষ্টিতে আমার লোভ।
__ মরে গেলে মিষ্টি কিভাবে খাবেন?
” সেতু কনফিউস হয়ে জিজ্ঞেস করতেই। জেহেফিল হেঁসে দেই।
__ আমি আমার কথা বলিনি। তোমার কথা বলছি। এই যে বার বার আমার চুমু খেতে চাও। এটা তো তোমার লোভ। আর তুমি তো জানো লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু, মৃত্যুতেই মিলাদ। মিলাদে মিষ্টি, আর মিষ্টিতে আমার লোভ।
“সেতু হা করে তাকিয়ে থাকে। বুঝে যায়, এই লোকের সাথে কথায় সে কোনোদিন পারবে না। বিরক্ত হয়ে বলে।
__ এমন করছেন কেন?
__ শাস্তি। আর জীবনে কখনো কাউকে চুজমু দিবে? একটা চুমু দিয়ে আমাকে নেশা ধরিয়ে দিয়েছো,এখন ভোগ করো সারাজীবন শাস্তি।
__ আমার ভুল হয়েছে, আমাকে ক্ষমা করুন।
” বলেই সেতু বেড থেকে উঠে যায়। জেহেফিল একবার তাকিয়ে হালকা হাসি দিয়ে বলে।
__ আমার মনটা কিন্তু ভীষণ বড়। তাই করে দিলাম ক্ষমা।
” তার কথায় সেতু মুখ বাঁকায়। বিরক্তি মুখে স্পষ্টভাবে বলে।
__ যাবেন কখন? আমি ঘুমাবো।
__ যাবো তো। আগে একটু শাশুড়ির হাতের রান্নাটা খেয়ে নেই। তোমার বাপের সাথেও কিছু কথা বলে আসি।
” বলেই জেহেফিল উঠে রুম থেকে বেরোতে গেলে সেতু তাড়াতাড়ি সামনে এসে দাঁড়ায়।
__ পা*গল নাকি আপনি? এইদিকে কোথায় যাচ্ছেন?
__ শ্বশুরের সাথে কথা বলতে।
” বলেই সেতুর গালে ফট করে একটা চু*মু দিয়ে দেয়। সেতু ছিটকে দূরে সরে যায়। সেই সুযোগে জেহেফিল বেরিয়ে যায় বাইরে।
” রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে অধিত বেডে বসে যায়। ঘরের পরিবেশ থমথমে, মারুফ চৌধুরী ছেলেকে শান্ত করার চেষ্টা করে বলে।
__ বিয়ে আজ হলেও দিতে হবে, কাল হলেও দিতে হবে। তাই হয় জেহেফিলের সাথেই দেই?
__ আর মেঘ? ও জানলে কী হবে, ভাবতে পারছ??
__ আমি সামলে নিবো।
” বলেই মারুফ চৌধুরী জেহেফিলকে কল করতে গেলে হঠাৎ দরজা খুলে যায়।
” দুইজনেই তাকিয়ে দেখে, জেহেফিল নিজেই এসে দাঁড়িয়েছে। এত রাতে তাকে দেখে দুজনেই অবাক।
__ তুমি এত রাতে এখানে কী করছো?
__ বউ দেখতে আসলাম।
” ঠান্ডা, নির্লিপ্ত গলায় বলে জেহেফিল। যেন এটা খুব স্বাভাবিক। রুমে ঢুকে সোফায় বসে পড়ে, পায়ের উপর পা তুলে। অধিতের শ*রীর রাগে জ্ব*লে ওঠে তা দেখে।কিছু বলতে গেলে মারুফ তাকে থামায়। কিন্তু অধিত থামেনা, ক্রব্দ হয়ে বলে।
__ সে কিন্তু এখনো তোমার বউ হয়নি। এত রাতে একটা মেয়ের বাড়িতে আসা শোভা পায় না। তোমার বাবা মা কি তোমাকে শেখায়নি?
__ ঠা*স!
” কিছু বোঝার আগেই জেহেফিল উঠে দাঁড়িয়ে এক ঘুষি মা*রে অধিতকে। সাথে সাথে নাক দিয়ে র*ক্ত ছিটকে ফ্লোরে পরে। জেহেফিলের চোখ রাগে জ্ব*লছে। ঘু*ষি মে*রে থেমে থাকেনা, কলার চেপে ধরে দাঁত চেপে বলে।
__ তোমার এই নোংরা মুখে আর একবার আমার মা-বাবার নাম নেবে না। না হলে কথা বলার জন্য এই মুখটাই থাকবে না।
” বলেই কলার ঝাঁকিয়ে ছেড়ে দেয়। অধিত র*ক্তচোখে তাকিয়ে থাকে। তাদের চিৎকার শুনে সেতু আর তার মা ছুটে আসে। কিন্তু জেহেফিল কাউকে পাত্তা না দিয়ে বলে।
__ কালকে আমার মা আসবে সেতুকে দেখতে। কোনো বাড়াবাড়ি চাই না। সাথেই বিয়ের তারিখ ঠিক করা হবে। তৈরি থাকবেন।
” যাওয়ার আগে সেতুর দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে।
__ রেডি থেকো, আমার বিবি হওয়ার জন্য।
” বলেই বেরিয়ে যায়। তার যাওয়ার সাথে সাথে অধিত রাগে সোফায় লা*থি মা*রে।
__ নির্লজ্জমি করার জন্য আর ছেলে পাওনি? একেই তোর চুমু দিতে হলো?
” সেতু ভয়ে মায়ের পিছনে লুকিয়ে যায়। তার শরীর কাঁপছে ভয়ে। সাথে ভাইয়ের এমন জঘণ্য ইঙ্গিতে খারাপ লাগে।
__ যা হওয়ার হয়েছে, বাদ দাও। রাগ কমাও। রাত হয়েছে, যার যার রুমে যাও।
” মিতা চৌধুরী দৃঢ় গলায় কথাটা বলে। সেতুকে ইশারা করে পাঠিয়ে দেয়। মাথা নাড়িয়ে সেতু তাই করে।
” সেতু করিডোর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে নিচে তাকিয়ে থেমে যায়। জেহেফিল এখনো নিচে দাঁড়িয়ে। ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসে।
__ কী করছেন আপনি এখনো?
” পিছন থেকে সেতুর আওয়াজ শুনে। জেহেফিল তাড়াতাড়ি হাতে থাকা ছবিটা মুচড়ে পকেটে ঢুকিয়ে ফেলে। নিজেকে স্বাভাবিক করে, মুচকি হেসে পিছন ফিরে বলে।
__ দেখছিলাম, দেয়ালে ফ্রেম আছে অথচ ছবি নেই। অদ্ভুত তো।
” তার এমন কথায় সেতু ভ্রু কুঁচকে পিছনে দেখে, অবাক হয়ে জাহ। সত্যিই ফ্রেম আছে, কিন্তু ছবি নেই। ভাবনার মাঝে জেহেফিল হ্যাস্কি স্বরে ডেকে উঠে।
__ এইদিকে আসো।
” তার এমন ভয়েস শুনে, সেতু একটু ভয় পায়। কাছে না গিয়ে বরণ দূরে সরে যায়।
__ কাছে আসতে বলেছি, দূরে যেতে বলিনি। আমার সামনে যেতে হলে কিন্তু তোমার জন্য ভালো হবে না।
” জেহেফিলের কথা শেষ হওয়ার আগেই সেতু তাড়াতাড়ী করে কাছে চলে আসে। তা দেখে জেহেফিল মুচকি হেসে মুখে চার-পাঁচটা চুমু দিয়ে দেয়।
__ ভীষণ চুমুর খিদে পেয়েছিল। উফ! এখন শান্তি লাগছে। চলো, আমাকে বাড়িয়ে দাও।
বলেই সেতুকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে, হাত ধরে টেনে নিয়ে যায়। এসেছিলো চোরের মতো, এখন বুক ফুলিয়ে বাড়ির জামাইয়ের মতো যাচ্ছে।
“গাড়ির কাছে এসে দুইজনে থামে। জেহেফিল গভীর ভাবে সেতুকে একবার পর্যবেক্ষণ করে বলে।
__ শুনো।
” হঠাৎ জেহেফিলের ডাকে অবাক হই। তবে সাভাবিক ভাবে ছোট করে জবাব দেই।
__ হুম।
__ আমার থেকে কখনো ছাড়া পাবে না। র*ক্ত কিন্তু সেই একই।
” কথাটা বলে গাড়িতে উঠে চলে যায় জেহেফিল। সেতু স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, কথার অর্থ তার মাথায় ঢোকে না। বেশ কিছুক্ষণ ভেবেও কিছু না পেয়ে বিরক্ত হয়ে সেতু বাসায় ফিরে আসে। মাথার ভেতর বারবার ঘুরতে থাকে সেই কথাটা, “র*ক্ত কিন্তু সেই একই” কিন্তু কোনোভাবেই অর্থ খুঁজে পায় না।
” সকাল ৯টা”
” জেহেফিল একটু আগেই ঘুম থেকে উঠেছে। পরনে এখনো গতকালের একই কাপড়। এলোমেলো চুল, চোখে অদ্ভুত ক্লান্তি, তবুও তার ভেতরে যেন অন্যরকম এক তীব্রতা লুকিয়ে আছে। বেডে শুয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ কী মনে করে পাশে তাকা আন্ডারপ্যান্টটা হাতে তুলে নেয়, যা কালকে নিয়ে এসেছিল সেতুর কাছ থেকে। সেটা ধীরে ধীরে মুখের কাছে নিয়ে আসে। কেন সে এই কাজটা করছে, সে নিজেও জানে না। হয়তো সেতুকে মিস করছে।
” নাকের কাছে নিয়ে আসতেই, সেখানে শুধু ঘামের গন্ধ, তবুও যেন অদ্ভুত এক তৃপ্তি অনুভব করছে সে। চোখ বন্ধ করে কয়েক মুহূর্ত সেই অনুভূতিটা উপভোগ করে।তারপর হঠাৎই হাত চলে যায় পকেটে। সাথে সাথে কিছু একটা বের করে।…….একটা ছবি।
অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ৯
” সেতুর ফ্যামিলি মেম্বারদের ছবি, যেটা সে গতরাতে নিয়ে এসেছে। ছবিটার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে জেহেফিল। ধীরে ধীরে তার চোখ-মুখ শক্ত হয়ে আসে, চোয়াল শক্ত হয়ে যায়। অতীতের কোনো দৃশ্য যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে তার। মুহূর্তে দৃষ্টিতে জমে ওঠে ঘৃ*ণা, রাগ, আর অদ্ভুত এক প্রতিশোধের আগুন। ছবিটার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে হঠাৎই থুথু ছুঁড়ে দেই। যা সোজা মারুফ চৌধুরীর মুখের উপর পড়ে।
