Home অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ৪

অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ৪

অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ৪
Sathi

__ আপনাদের এই ভার্সিটির ভিপি কে?
__ রওনক চৌধুরী।
“জেহেফিল টেবিলে আঙুল ঠুকতে ঠুকতে সামনে ঝুঁকে পড়ে।
__ তিনি ভার্সিটি + কলেজের আশেপাশে সব ভালোভাবে দেখাশোনা করছে তো? এতো এতো স্টুডেন্ট হঠাৎ গায়েব, তার ওপর বেশিরভাগ ড্রা*গ অ্যাডিক্ট। এইসব কি?
“রাগি স্বরে জেহেফিল কথাটা বলতেই প্রিন্সিপাল স্যার ঘামতে থাকেন। ঘরের ভেতর এসির ঠান্ডা হাওয়া বইছে, তবুও তাঁর কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছে। এটা নিয়ে তিনি নিজেও বিরক্ত, তবে এতো দূর গড়াবে ভাবতে পারেননি। কপালের ঘাম মুছতে মুছতে বলেন।

__ আমরা নিজেরাও বুঝতে পারছি না। সব পেরেন্ট অবজেকশন দিচ্ছে, তাদের ছেলে-মেয়ে ভার্সিটিতে এসে ড্রা*গ অ্যাডিক্ট হয়ে যাচ্ছে, গায়েব হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমি শিউর, এইসব ভার্সিটির ভেতরে হচ্ছে না। এখানে এমন কোনো পরিবেশ নেই।
__ ছাড়ুন আপনার ফা*লতু কথা। আপনি না জানলে কে জানবে? আমি কিছুই বুঝতে পারছি না, দাঁত কেলিয়ে এই কথাটা বলতে ল*জ্জা লাগছে না?
“জেহেফিলের ভেঙচি কাটা কথায় প্রিন্সিপাল অ*পমান*বোধ করে। তবুও কিছু বলে না, মাথা নিচু করে আছে। জেহেফিল একবার শান্ত দৃষ্টিতে তাকায়, যেন কিছু বলতে চাইছে, কিন্তু হঠাৎ শ*রী*রটা কেমন ঝিমঝিম করে ওঠে। ঠোঁ*ট বাঁকিয়ে আধা মজা, আধা সিরিয়াস স্বরে বলে।
__ শ*রীর*টা কেমন মেচমেচ করছে। একটু অর্ধেক বউ থেকে চু*মু খেয়ে শক্তি জোগাড় করে আসি, তারপর আপনার সাথে কোলাকুলি করবো।
“বলেই গটগট পায়ে বেরিয়ে যায় জেহেফিল। পেছনে রয়ে যায় অস্বস্তিতে ডুবে থাকা প্রিন্সিপাল।

“সেতু ক্লাস না করে ক্যাম্পাসে বসে আছে।এতক্ষণ সে বড়সড় একটা কাণ্ড করে ফেলেছে। গেটের কাছে রাখা জেহেফিলের গাড়িটা, এখন আর আগের মতো নেই। সারা গাড়িতে সেন্টারফুট, যা সেতু নিজে লাগিয়েছে!
“এমন একটা আকাম করে কেমন নায়িকার মতো ভাব নিয়ে বান্ধবীদের সাথে বসে আছে সে।
__ তোর একটুও ভয় করছে না, সেতু জান?
__ Why?
“ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে সামনের কাটা চুলগুলো ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে শিফার কথায় জবাব দেয় সেতু। তার এমন নির্লিপ্ত আচরণে তিন বান্ধবীই অবাক। তবে নতুন বান্ধবী এরিন একটু বেশি অবাক, মাত্র দুইদিন হলো ফ্রেন্ডশিপ করেছে। এই দুইদিনে যা দেখেছে সেতুর, তাতে অবাক না হয়ে উপায় নেই।
“মিতু মুখ গোমড়া করে বসে আছে। কিছুক্ষণ আগে বেধড়ক ফি*টিয়েছে সেতু তাকে। সেইদিনের বাজির জন্য জেহেফিলের সব রাগ মিতুর ওপর গিয়েছিল। মিতু পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে বলে।
__ যদি সে জানতে পারে, কী হবে জানিস? ঐদিন তো মানলাম আমার ভুলে হয়েছে, কিন্তু আজ তো তোর ভুলে শাস্তি পাবি।

__ চুপ কর শা*কচু*ন্নি। তোর ওই বাসি মুখ দিয়ে বাজে কথা বলবি না। কেমনে জানবে? সে জানে আমি ক্লাস করছি, তাহলে আমি কিভাবে এই কাজ করবো? খবরদার যদি তোরা বলেছিস, সব কটার ব্রেকআপ করিয়ে দিবো!
“থ্রেটটা দিয়ে সেতু বাকা হাসে। অলরেডি মিতুর ব্রেকআপ করিয়ে দিয়েছে। তাও কী এক বি**চ্ছিরি কাণ্ড করে, সে নাকি বিছানায় হিসু করে। যে তার সাথে ঘুমাবে তাকে রাতে গোসল করিয়ে দেবে। তার মা নাকি তাকে ফ্লোরে রাখে, বেড ভিজিয়ে ফেলে তাই। আর কত কী বলে ছেলেটার সাথে ব্রেকআপ করিয়ে দিয়েছে।
“মিতু ব্রেকআপের ভয় না পেলেও মা*রের ভয় পাচ্ছে। রাগি চোখে এরিনের দিকে তাকায়। সেইদিনের ডেয়ারটা ছিল এরিনের বুদ্ধিতে, তবে সেটা সেতু জানে না। এরিন বলতে নিষেধ করেছে, তার নাকি ভীষণ ভয় হয়। তাই দাঁত চেপে সত্যিটা লুকিয়ে রেখেছে মিতু। তার আফসোস, কত কষ্ট করে তিনদিন আগে মু*রগিটাকে পঠিয়েছিল, সেটাও জলে গেলো।

__ আচ্ছা, তুমি ট্র্যুরে যাবে?
“সারাদিনে প্রথমবারের মতো এরিনের কণ্ঠ শুনে সেতু মুখ তুলে তাকায়।
__ ওহহ, তুমি মুখ খুলেছো? আমি তো ভেবেছি তুমি কথা বলতে ভুলে গেছো।
__ আসলে ঐ একটু ভয় ছিলাম। বললে না তো, যাবে কিনা।
__অফকোর্স যাবো। ইভেন আমরা সবাই যাবো।
“সেতুর কথায় সবাই সম্মতি জানায়। এরিন মন দিয়ে কথা গুলো শুনে হালকা হাসে।

“জেহেফিল সোজা সেতুর ক্লাসে যায়। সেখানে না পেয়ে ক্যাম্পাসে আসতেই, চোখ যায় গেটের কাছে নিজের গাড়িটা দিকে, বিস্ময়ে চোখ কপালে উঠে যায়। চকচকে কালো গাড়িটার সারা গায়ে সেন্টারফুট।
“রাগে জেহেফিলের চোয়াল শক্ত হয়ে যায়। আশেপাশে তাকায়,কেউ নেই। তবে সে জানে, এই কাজ কে করতে পারে। আবারো ক্যাম্পাসে ঢোকার আগে গুনে দেখে, কতগুলো সেন্টারফুট লাগানো হয়েছে।সোজা হেঁটে সেতুর বন্ধুদের সামনে এসে দাঁড়ায়।
“সেতু অনেক আগেই জেহেফিলকে দেখে গাছের আড়ালে লুকিয়ে গেছে। জেহেফিল আশেপাশে তাকিয়ে হঠাৎ এরিনের দিকে কেমন করে যেন তাকায়।সবাই খেয়াল করলেও চুপ থাকে।

__ আমার চু*মুখোর বউ কোথায়?
__ জানি না ভাইয়া। এখানে ছিল, হঠাৎ চলে গেছে।
“মিতুর এমন ডাহা মিথ্যেতে জেহেফিল মুচকি হাসে।
__ তোমাকে উত্তমমাধ্যম একটু কম দিয়েছে। আর একটু বেশি দেওয়া উচিত ছিল। এরপরের বার থেকে আরো বেশি করে দিবে, তার অভ্যাস আমি করাবো।
“বলেই নিঃশব্দে একটা গাছের দিকে হাঁটা দেয়। সবাই অবাক। মিতু অ*পমা*নবোধ করে। কিন্তু আরও বেশি অবাক হয়, জেহেফিলকে সেতুর দিকে যেতে দেখে। তারা তো কিছু বলেনি, তাহলে সে বুঝলো কিভাবে?
__ হ্যালো, আমার অর্ধেক ফলটি মুরগি।
“পিছন থেকে জেহেফিলের এমন কথায় সেতুর অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। গাছের আড়াল থেকে ভয়ে ভয়ে পিছন ফিরে তাকায়। জেহেফিল ঠোঁ*ট কা*মড়ে, নির্লজ্জ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে।
__ অকাজ করে এমন লুকিয়ে থাকা তো তোমার সাথে মানায় না, চু*মুখোর বউ। ভেবেছিলাম একটা চু*মু খেয়ে চুমুর তৃষ্ণা মিটিয়ে চলে যাবো। কিন্তু তুমি তো তা হতে দিলে না। আমার গাড়িতে পুরো ১০২টা সেন্টারফুট লাগিয়েছো, এখন গুনে গুনে আমাকে ১০২টা চুমু দিবে।বলেই নিজের গাল এগিয়ে দেয় সে।
সেতু ছিটকে দূরে সরে যায়।

__ আমাকে কান ধরিয়েছেন, তার রেভেঞ্জ।এনিওয়ে, আপনাকে কে চুমু দেবে? আমি জীবনে ও না!
__ ওহহ, আগে বলবে না? তোমার মুখ ব্য*থা করবে এতো চু*মু দিলে। বড় অলস বউ তুমি! সামান্য চুমু দিতেও আলসেমি? বাদ দাও, আমি দিচ্ছি।
“বলেই একদম কাছে এসে সেতুকে নিজের দিকে টেনে নেয়। এতক্ষণ সেতু স্ট্রং থাকলেও হঠাৎ তার বু*কের ভেতর ধুকপুক শুরু হয়ে যায়। জেহেফিল ফিসফিস স্বরে বলে।
__ চুপচাপ দাঁড়াও। জায়গা ঠিক করতে দাও। আমি আবার এক জায়গায় দুইবার চু*মু দিতে পারবো না। প্রতিবার আলাদা জায়গায় চুমু দিতে হবে।
__ আপনার যত বড় মুখ, সারা শ*রীরে চু*মু দিলেও তো ১০২টা হবে না!
“মুখ ফসকে কথাটা বলে সেতু নিজের মুখ চেপে ধরে। জেহেফিল ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থাকে,কোনোভাবে কি তার মুখটা বোয়াল মাছের মুখের সাথে তুলনা করলো?
__ সেতু, তুমি এখানে কি করছো? এটা কে?

“হঠাৎ পিছন থেকে আপন কারো গলা ভেসে আসতেই জেহেফিল ভ্রু কুঁচকে পিছন ফিরে তাকায়। জেহেফিলকে দেখে পিছনে দাঁড়ানো দুইজন অবাক হয়ে যায়। জেহেফিল নিজেও হতবাক।
“সেতুও ভ্রু কুঁচকে তাকায়, তবে মনে মনে আদনান ভাইয়াকে ধন্যবাদ দেয়,এই বিপদজনক পরিস্থিতি থেকে বাঁচিয়ে দেওয়ার জন্য। পাশে দাঁড়ানো মেয়েটার দিকে চোখ পড়তেই সেতুর চোখ কুঁচকে যায়। কেমন পোশাক পরেছে! হাঁ*টুর উপর থেকে নিচ পুরোটা দেখা যাচ্ছে, গলা-কাঁ*ধ সব স্পষ্ট। কাপড়টা না পরলেও চলতো, এমনটাই মনে হয় সেতুর। কিন্তু এই মেয়ে আদনান ভাইয়ের সাথে কেন? তবে কি শিফার কপাল পু*ড়লো?
“গলা উঁচু করে পিছনে তাকাতেই দেখে শিফা দূর থেকে হেসে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে।সেতু বুঝে যায়, তাকে বাঁচানোর জন্যই আদনান ভাইকে পাঠিয়েছে শিফা। হঠাৎ দাঁড়িয়ে তাকা মেয়েটা ন্যাকা স্বরে বলে উঠে।

__ জেহেফিল বেবি, তুমি এই মেয়েটার সাথে এমন চিপকে কি করছিলে?
__ মানুষ চিপকে কি করে? আমিও তাই করছি, চিপকে ধরে কিসমিস খাচ্ছি।
“বলেই জেহেফিল ঠোঁ*ট বাঁকিয়ে আদনানের দিকে তাকায়, কিছু বলতে যাবে। তার আগেই মেয়েটা একদম জেহেফিলের গা ঘেঁষে দাঁড়ায়।
__ খবরদার। তোমার ওই ছুলা মুরগির পা গুলো আমার সাথে স্পর্শ করিয়েছো তো।
“এক লাফে জেহেফিল দূরে সরে গিয়ে কথাটা বলে ওঠে।চোখে মুখে বিরক্তি। সেতু ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে।জেহেফিল একবার সেতুর দিকে তাকিয়ে আবার মেয়েটার দিকে ফিরে বিরক্ত গলায় বলে।
__ আচ্ছা, তোমার বাসায় কি কাপড় নেই? এমন ছাগলের মতো চিকন চিকন ঠ্যাং দেখিয়ে হাঁটছো কেন? না থাকলে আমাকে বলো, গুলিস্তান থেকে মার্কেট করে দিচ্ছি।
“জেহেফিলের এমন কথায় সেতু মুখ টিপে হেসে ফেলে। মেয়েটা অপ*মানিত বোধ করে। মুখ লাল হয়ে যায়। এতক্ষণে আদনান মুখ খোলে।

অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ৩

__ জেহেফিল, তুই এখানে কি করছিস? সেতুর সাথে কি সম্পর্ক তোর?
__ কিছু না, ওই একটু লুতুপুতু করছিলাম। বিড়াল যেমন ইঁদুরকে দেখে লাফিয়ে খেতে যায়, আর সেটা দেখে ইঁদুর যেমন গর্তে লুকায়, তেমন সম্পর্ক আমাদের। আই মিন, ইঁ*দুর-বি*ড়ালের সম্পর্ক।
এইবার তুই বল, এখানে কি করছিস?
“এক লম্বা বক্তব্য দিয়ে জেহেফিল থামে।আদনান অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে। এই জেহেফিলকে সে চেনে না। একটা মেয়ের সাথে জেহেফিল তাও আবার মেয়েটাকে নিয়ে এমন মন্তব্য বিশ্বাস তো দূর হজম হচ্ছে না।

অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ৫