Home অবাধ্য হৃদয় অবাধ্য হৃদয় পর্ব ২

অবাধ্য হৃদয় পর্ব ২

অবাধ্য হৃদয় পর্ব ২
নুরিয়া ইসলাম

ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া,
ইনায়া আজ খুব সকালেই নির্জন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে, চারপাশে মানুষের সাড়া নেই বললেই চলে। নিঃশব্দ পথ ধরে, সে একা একা হাঁটতে হাঁটতে লাইব্রেরির দিকে এগিয়ে যায়-বই পড়ার ইচ্ছেই তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু নিঃসঙ্গতা তার কাছে ধীরে ধীরে বোরিং লাগছে।
সে লাইব্রেরির দরজা খুলে সামনে তাকাতেই,
তার চোখে ধরা পড়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য-
লাইব্রেরির নীরবতায় এক ছেলে গভীর ঘনিষ্ঠতায়, একটি মেয়ের ঠোঁটে ঠোঁট রেখে চুমু খাচ্ছে।
ইনায়া বিস্ময়ে থমকে গিয়ে,মনের গভীর থেকে উচ্চারণ করে-

“আস্তাগফিরুল্লাহ! এইখানে কী হচ্ছে এইসব?”
তার কথা শুনে মেয়েটি ছেলেটিকে ধাক্কাতে থাকে,
কিন্তু ছেলেটির মধ্যে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই বরং সে বিরক্ত হয়ে, আরও আগ্রাসী হয়ে মেয়েটিকে চুমু খেতে থাকে, কোনো বাধা যেন তাকে স্পর্শ করে না।
ইনায়া ছেলেটির এই কান্ড দেখে চেঁচিয়ে ওঠে,
“আপনার কোনো লজ্জা নেই? এখানে সবাই পড়তে আসে, আর আপনি এইসব বাজে কাজ করছেন!ছাড়েন বলছি মেয়েটাকে, দেখতে পারছেন না মেয়েটি শ্বাস নিতে পারছে না।”
ইনায়ার চিৎকার শুনে ছেলেটি এবার কিস্ ব্রেক করে ইনায়ার দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,
” আউট! ইউ স্টুপিড গার্ল। তুমি কী দেখতে পারছো না, এখানে আমরা কিছু প্রাইভেট কাজ করছি।এ্যান্ড লিসেন, ইফ ইউ হ্যাভ অ্যা প্রবলেম, কল দ্য ডিন। গট ইট!”

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“কথাটি বলেই ছেলেটি চেঁচিয়ে বলে ওঠে, আউট!”
ইনায়া আর এক মুহূর্তও সেইখানে দাঁড়ায় না-আর এইসব দেখার পর, তার দাঁড়ানোর প্রশ্নই উঠে না।
বাইরে বেরিয়ে আসে সে, নিঃশব্দ ক্যাম্পাসে তার নিঃশ্বাসে মিশে থাকে অজানা অস্বস্তি আর কিছু লজ্জাকর মুহুর্ত। সে মনে মনে তাদের দুইজনকে গালি দিতে দিতে সেইখান থেকে চলে যায়।
এইদিকে, কয়েক মুহূর্ত পর ছেলেটি লাইব্রেরির দরজা খুলে বাইরে এসে ইনায়াকে খুঁজতে শুরু করে- কিন্তু সে ইনায়াকে খুঁজে পাই না এতে সে ভীষণ রেগে যায়।সে রেগে দাঁতে দাঁত পিষে বলে উঠে,
“ফা*কিং গার্ল, ইউ থিংক ইউ ক্যান এস্কেপ মে? জাস্ট ওয়েট টিল আই গেট মাই হ্যান্ডস অন ইউ। ”
(স্টুপিড গার্ল, পালিয়ে গেছে।কী ভেবেছে,পালিয়ে এই অ্যারিক অ্যাসফোর্ডের কাছ থেকে বেঁচে যাবে?
রং বেবিগার্ল, ঘুরেফিরে সেই আমার কাছেই আসা লাগবে।)

ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির সেই সুবিশাল, আধুনিক ক্লাসরুমটি হলো একেকটা বৈচিত্র্যময় চরিত্রের মিলনস্থল। উচ্চতর প্রযুক্তিতে সজ্জিত সেই রুমে, ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের মধ্যে মেতে উঠেছিল নানা আলাপচারিতায়। কেউ কেউ হাসছে, কেউ গ্যাজেট নিয়ে ব্যস্ত, কেউবা টিকটকের ট্রেন্ড নিয়ে আলোচনা করছে। আর ক্লাসরুমের একেবারে পেছনের সারিতে বসে আছে এরিক—তীক্ষ্ণ চোখে সবকিছু পরখ করছে, যার দিকে এক ঝলক তাকাতেই মেয়েরা স্বপ্নে হারিয়ে যায়। তার মুখে চিরন্তন বিদ্রুপের ছাপ, যা দেখে মনে হয়, এই দুনিয়ার সব কিছুকে এক হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।

ঠিক সেই সময় ক্লাসরুমের দরজা খুলে গেল ধীরে ধীরে। ধূসর আলো আর সবার কৌতূহলী চোখের মাঝখানে ভিতর দিয়ে ঢুকে পড়লো এক কোমল মুখের মেয়ে ইনায়া। ইনায়াকে দেখে মনে হচ্ছে, সে একটু নার্ভাস আসলে সে চিন্তিত যদি অলিভিয়া আর তার বন্ধুরা মিলে তাকে বুলি করে। না সে আর ভাবতে চাইল না, যা হবার দেখা যাবে। সে আল্লাহর নাম নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সহিত এগিয়ে গেল।মাথায় সুশৃঙ্খলভাবে জড়ানো হিজাব, পরনে ঢিলেঢালা পোশাক, যেন আধুনিকতার মাঝেও নিজের পরিচয় আঁকড়ে ধরা এক মৌন প্রতিবাদ।
কিন্তু সবার দৃষ্টি যেন একসাথে ছুটে গেল তার দিকে।ইনায়াকে দেখে একটা মেয়ে ব্যাঙ্গাত্বক ভঙ্গিতে বলে উঠলো, Hey,Look guys, Who finally Showed up!
আরেকটা ছেলে সেই মেয়েটার তালে তাল মিলিয়ে বলে উঠলো,

“এই পুরোনো যুগের মডেলটা কোথা থেকে এলো রে!”
ছেলেটির কথার মাঝেই হাসিতে ফেটে পড়লো গোটা ক্লাস। কেউ চোখ চড়কগাছ করে তাকালো, কেউ ফিসফিস করে বলাবলি করতে লাগল,
“হিজাব পরে ক্লাসে এসেছে? কী ভয়ংকর পুরোনো চিন্তা – ভাবনা!”
আরেকটা মেয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলে উঠে,
“ইউনিফর্ম কি এটা এখন থেকে? কেউ যেন বলে দেয় ক্লাসে ফ্যাশনের মানে কী!”
ইনায়া সেসব উপেক্ষা করে ধীর পায়ে এগিয়ে গেল সামনের দিকে। প্রতিটি পায়ে ছিল আত্মবিশ্বাসের শব্দহীন পদচিহ্ন। কিন্তু সামনে এগোতেই তার পথ রোধ করে কেউ ইচ্ছে করে পা বাড়িয়ে দিল। মুহূর্তের ভেতর ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গেল সে সোজা এরিকের পায়ের কাছে। তার বই, খাতা, কলম সব ছিটকে ছড়িয়ে পড়ল মেঝেতে।
হাসির রোল উঠলো আবার। এবার যেন আগের চেয়েও আরও জোরে সবাই হাসতে লাগলো।
এরিক এবার মুখ তুলে তাকালো। তার চোখে বিদ্রুপ, ঠোঁটে বাঁকা হাসি স্পষ্ট ফুটে রয়েছে ।সে ইনায়াকে উদ্দেশ্য করে বললো,

“এই যে! মাদার টেরেসা ভার্সন টু! কোন কনভেন্ট থেকে এসে পড়লে এখানে? নাকি রোড ভুল করে চার্চ থেকে ক্লাসরুমে চলে এসেছো? দুনিয়াটা এগিয়ে গেছে, কিন্তু তুমি এখনও টাইম মেশিনে আছো মনে হচ্ছে!”
তার প্রতিটি কথায় ক্লাসের অন্যরা আরও বেশি করে হাসতে লাগলো।
পেছন থেকে একটা ছেলে গলা ছেড়ে বলে উঠল, “ভুল বলছেন ভাই, ওতো খ্রিষ্টান নই, মুসলিম! আমাদের শেষ করতে হয়তো ওকে কেউ পাঠিয়েছে। আমি বলি কী, ভালো করে খুঁজে দেখুন এই জুব্বার নিচে বোম নিয়ে এসেছে কিনা!

এরিক ছেলেটির কথা শুনে ইনায়াকে একবার পা থেকে মাথা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে, এরিককের পাশ থেকে আরেকজন ছেলে রসিকতার সহিত বলে ওঠে ,
আরে না! ও তো ‘শান্তির বার্তা’ নিয়ে এসেছে, বুঝলে না? এই জামা-কাপড়ের নিচে কিছু না থাকলে কী হবে, মাথার ভেতরে একখান পুরো ফতোয়ার বই বসানো! সাবধানে থাকতে হবে, নয়তো কালকেই আমাদের সবার ‘হেদায়েত’ শুরু হয়ে যাবে!”
এরিক ছেলেটির কথায় সম্মতি জানিয়ে ইনায়ার দিকে ঘুরে বাঁকা হেসে বলল,

“So, মিস মডেস্টি! Look around — we’re in a classroom, not some medieval costume party! এই গরমে তুমি কীভাবে বেঁচে আছো সেইটাই আমি বুঝতে পারছি না ! Honestly, তোমার এই ফ্যাশন-স্টাইলটা দেখে আমারই ঘাম ঝরতে শুরু করে দিচ্ছে!”
এরিকের মন্তব্যে দ্বিতীয়বারের মতো পুরো ক্লাস হেসে উঠল। কিন্তু এবার আর ইনায়ার পক্ষে চুপচাপ দাঁড়িয়ে এই অপমান সহ্য করা সম্ভব হলো না। তারা সীমা ছাড়িয়ে গেছে। একজন মানুষের মর্যাদা ও মূল্যবোধকে শুধু তার পোশাক দিয়ে বিচার করার অধিকার এদের নেই।
ইনায়া এগিয়ে এসে এরিকের চোখে চোখ রেখে দৃঢ় কণ্ঠে বলল,

“মিস্টার, আপনি যেই হোন না কেন, আমার পোশাক নিয়ে মন্তব্য করার কোনো অধিকার আপনার নেই। একজন মানুষের মূল্যবোধ বা আত্মমর্যাদা তার পোশাক দিয়ে বিচার করা যায় না। যদি আমার পোশাকে আপনার সমস্যা হয়ে থাকে, তাহলে সেটা আমার নয়;আপনার দৃষ্টিভঙ্গির সমস্যা।
কারও শরীর বা পোশাক দেখে কটাক্ষ করা শুধু অসভ্যতা নয়, বরং তা আপনার মানসিকতার প্রকৃত প্রতিচ্ছবি।আপনার এতটা অস্বস্তি আসলে পোশাক নিয়ে নয় বরং আপনি আপনার চোখের ক্ষুধা মেটাতে না পেরে নিজেই অস্বস্তিতে আছেন।একটা কথা মনে রাখবেন—পোশাক নয়, দৃষ্টিভঙ্গিই একজন মানুষের পরিচয় দেয়। আর আপনার দৃষ্টিভঙ্গি আপনার চরিত্রকে যথেষ্ট স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।”
ইনায়ার কথা শুনে এরিক রাগে গর্জে উঠল,

“এই মেয়ে, মুখ সামলে কথা বলো! বুঝেছো? নিজের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছো তুমি। আর যদি আমিও সীমা ছাড়িয়ে যাই, তাহলে তোমায় দাঁড়িয়ে থাকার অবস্থায়ও রাখব না!”
ইনায়ার এরিকের কথা শুনে গা ঘিন ঘিন করে ওঠে,সে তেড়ে গিয়ে এরিকের মুখের সামনে আঙুল তুলে বলে,
“আমি সীমা পেরোইনি, বরং আপনি বহু আগেই পেরিয়ে গেছেন নিজের নিচু মানসিকতার সীমা। আপনি ভাবছেন, আমি ভয় পেয়ে চুপ করে থাকব? ভুল ভেবেছেন। আমার পর্দা আমার অহংকার, সেটা অপমান করার আগে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে শিখুন!”

আর হ্যাঁ, ইসলাম আমাকে এই পোশাকে রানির মতো মর্যাদা দিয়েছে। তাই পরবর্তীতে আমার পোশাক নিয়ে আর কোনো রকম কুরুচিকর মন্তব্য যেন আপনার মুখে না শুনি!”
এই কথা বলেই ইনায়া নিজের জায়গায় ফিরে যাওয়ার জন্য পেছন ফিরে হাঁটা শুরু করে। কিন্তু হঠাৎ এরিক তাকে থামাতে গিয়ে ইনায়ার হিজাবে টান মারে।

এরিকের এমন অশোভন আচরণে ইনায়া মুহূর্তেই সবার সামনে চরম অপমানিত বোধ করে।
তবে সে চুপ করে না থেকে সাহসিকতার সঙ্গে সোজা হয়ে এরিকের সামনে দাঁড়িয়ে যায়।
তারপর কোনো দ্বিধা না করে ঠাস করে এরিকের গালে একটা চড় বসিয়ে দেয়।
ইনায়া আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়ায়নি। চুপচাপ ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল। হয়তো সে যদি একবারও পিছন ফিরে তাকাত, তাহলে দেখতে পেত;এরিকের গালে চড়টমারাটা কী ভীষণ ভুল ছিল তার।
এরিকের হাত রাগে মুষ্টিবদ্ধ হয়ে উঠল, যেন তার নিঃশব্দ ক্রোধ মুহূর্তেই এক ভয়াল ঝড়ের আকার ধারণ করবে।

বেভারলি হিলস নিজেই এক স্বপ্নময় শহর। প্রশস্ত, পরিষ্কার রাস্তা, রোলস রয়েস বা ল্যাম্বোর্গিনির মতো বিলাসবহুল গাড়ির গর্জন, চারপাশে প্রসাধনসজ্জায় রুচিশীল সব ভিলা ও বাংলো। এখানকার প্রতিটি কোণ যেন একেকটি সিনেমার দৃশ্যের মতো নীরব, এলিট, অথচ স্বপ্নময়।
পাম গাছের সারি, গোলাপি আকাশের সূর্যাস্ত, আর চারদিকে পাহাড়ের আলতো সবুজাভ রেখা বেভারলি হিলসকে করে তুলেছে প্রকৃতি আর আধুনিক বিলাসের অপূর্ব মিশেল।
“এরিকের সানরাইজ ম্যানশনটি বেভারলি হিলসের এক উঁচু পাহাড়ি চূড়ায় অবস্থিত, যেখানে সকালের রোদ ঝিলমিল করে পড়ে চকচকে সাদা মার্বেল কাঠামোর ওপর।
এরিকের রোলস-রয়েস, বিশাল ফটকের মধ্য দিয়ে ঢুকলেই চোখে পড়ে মনোরম সবুজ লনে ছাওয়া রাস্তা, যার দুই পাশে লেবু, জলপাই ও পামগাছ সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে। বাড়ির সামনে একটি ঝর্ণাধারা গড়িয়ে পড়ছে মার্বেল পাথরের ফোয়ারায়।

তিনতলা বিশাল এই ম্যানশনে রয়েছে কাঁচের দেয়াল, যা দিয়ে পাহাড়, আকাশ আর লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের আলোঝলমলে রাত দেখা যায়। অভ্যন্তরে আছে লাইব্রেরি, হোম থিয়েটার, সুইমিং পুল আর আধুনিক প্রযুক্তিতে গড়া একটি সুরক্ষিত আন্ডারগ্রাউন্ড গ্যারেজ।
এরিক রোলস-রয়েসের দরজায় ধাক্কা মেরে বেরিয়ে এল, চোখে তার আগুন জ্বলছে । সে দ্রুত পা ফেলে জিম রুমের দিকে এগিয়ে গেল-এ মুহূর্তে তার রাগের আগুন থামাতে দরকার কেবল শক্ত একটা পাঞ্চিং ব্যাগ, যেন সে মুঠির ঘায়ে সব ক্ষোভ ঝেড়ে ফেলে শান্তি খুঁজে পায়।
মেডরা তার পিছু পিছু আসতে নিলে এরিক রেগে বলে উঠলো,
“Don’t f*c*king bother me.”
এরিকের রাগী মুখ দেখে মেডরা ভয়ে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইলো-এই বিশাল ম্যানশনের প্রতিটা মানুষ জানে, এরিকের রাগ মানে ঝড়ের আগমনী সংকেত।

তার উপস্থিতিতেই যেন বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, কেউই সাহস পায় না তার সামনে শব্দ করার-সবাই চুপচাপ, আতঙ্কে গুটিয়ে থাকে, কারণ একবার এরিকের রাগের আগুন জ্বলে উঠলে, পুরো বাড়িটাই থমথমে হয়ে যায়।
এরিক জিম রুমের দরজাটা প্রচণ্ড শব্দে বন্ধ করল, পা টিপে টিপে এগিয়ে গেল পাঞ্চিং ব্যাগের দিকে। হাতের ঘড়িটা মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলে, শার্টটা ছিঁড়ে খুলে ফেলল-তারপর খালি হাতে পাঞ্চিং ব্যাগে একের পর এক ঘুষি মারতে লাগল, যেন প্রতিটা ঘায়ে ইনায়ার সেই থাপ্পড়ের দৃশ্যটা আরও জ্বলন্ত হয়ে উঠছে চোখে, রাগের আগুনে নিজেকে পুড়িয়ে দিচ্ছে।
এরিকের মুষ্টি যখন আরেকটা আঘাতের জন্য পাঞ্চিং ব্যাগের দিকে ওঠে, ঠিক তখনই অলিভিয়া তার হাত চেপে ধরে ফিসফিসিয়ে বলে,

“বেইবি, তুমি কী করছো? ওই সামান্য মেয়েটার জন্য নিজেকে এভাবে কষ্ট দিচ্ছো কেন?”
অলিভিয়ার কথাগুলোতে ঘরের ভারী, উত্তপ্ত বাতাসে এক ঝলক শীতলতার স্পর্শ এনে দিল। এরিকের রাগ, যেন একটা জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ড, সামান্য হলেও ঠান্ডা হলো। তার কপালের রেখাগুলো কিছুটা শিথিল হলো, চোখের কোণে জমে থাকা ক্রোধ একটু যেন পাতলা হলো। ইউ আর রাইট অলিভিয়া আমি কেন শুধু শুধু নিজেকে কষ্ট দিচ্ছি।
আমি তো তাকে কষ্ট দিব যে আমার গায়ে হাত তোলার সাহস দেখিয়েছে। আজ পর্যন্ত কেউ এই এরিক অ্যাসফোর্ডের গায়ে হাত তুলা তো দূরের কথা চোখে চোখ রেখে কোনদিন কথা বলে নি। আর ওই মেয়ের এতো সাহস,

“I’ll make her life hell, I swear.”
অলিভিয়া এরিকের দিকে এগিয়ে এসে নিজের এক হাত এরিকের গালে স্পর্শ করে বলল,
“We’ll make her life hell.
“তুমি শুধু দেখতে থাকো বেইবি, আমি ওই মেয়ের কী হাল করি?অলিভিয়ার কথাগুলো শুনে এরিক পাগলের মতো হাসতে হাসতে সোফায় গিয়ে বসলো এবং অলিভিয়াকে ইশারা করে বললো,
“কাম ডার্লিং সিট অন মাই ল্যাপ। ”
অলিভিয়া এরিকের কাছাকাছি আসতেই, এরিক অলিভিয়াকে কোলে বসিয়ে, তার কোমরে হাত রেখে কাছে টেনে নেয়।

অবাধ্য হৃদয় পর্ব ১

তারপর ধীরে ধীরে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয় অলিভিয়ার গোলাপি ঠোঁটে-প্রথমে নরম, তারপর গভীর, যেন সময় থেমে যায়, নিঃশ্বাস গুলিয়ে আসে, চারপাশের সব শব্দ মিলিয়ে যায় শুধু হৃদস্পন্দনের গুঞ্জনে।
অলিভিয়ার আঙুল চুলে জড়িয়ে যায়, চোখ দুটো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে আসে, ঠোঁটের উষ্ণতায় দুজনেই হারিয়ে যায় এক অদ্ভুত মুগ্ধতায়।

অবাধ্য হৃদয় পর্ব ৩