Home অবেলায় ফোঁটা পুষ্প অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১২

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১২

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১২
রুপা

ইভানের মুখে পুষ্পর মনোমুগ্ধকর প্রশংসা শুনে আর্যর চোয়াল শক্ত হয়ে গেল, কপালের শিরা ফুলে উঠেছে ইতিমধ্যে। চোখ দিয়ে যেন আগুনের ফুলকি বের হচ্ছে! হঠাৎ ইভানের দৃষ্টি আর্যর ওপর পড়তেই আঁতকে উঠল সে। আর্য তার দিকে তীক্ষ্ণ, ধারালো দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। যেন চোখ দিয়েই গিলে খাবে, সেটা দেখে ইভান মনে মনে আল্লাহর নাম জপতে শুরু করল। সে ভাবল—সে তো আর্যর রেগে যাওয়ার মতো কিছু বলেনি! এক মিনিট! নাকি বউয়ের চেয়ে বোনকে সুন্দর বলেছি, এই জন্য রেগে গেছে? ইভান এবার মুখ ফুটে বলল—

– “ভাই, রাগ করছিস কেন? তোর বউয়ের চেয়ে বোনকে সুন্দর বলেছি তাই? আচ্ছা ঠিক আছে, তোর বউ তোর বোনের চেয়েও সুন্দর! তবে যা-ই বলিস, তোর বোন কিন্তু মাশাআল্লাহ!”
– “গেট আউট!”
গম্ভীর মুখে আর্যর এরূপ কথা শুনে ইভান বুঝতে পারল না কাকে বেরিয়ে যেতে বলছে। সে আশেপাশে তাকিয়ে দেখল কেউ তো নেই!
– “তুই কি আমাকে বলছিস?”
আর্য এবার তীক্ষ্ণ ছুরির মতো দৃষ্টি নিক্ষেপ করল ইভানের চোখে। তারপর অত্যন্ত গম্ভীর গলায় বলল—
– “হ্যাঁ, তোকেই বলছি। বেরিয়ে যা এই বাড়ি থেকে, এই মুহূর্তে!”
আর্যর কথা শুনে ইভান যেন আকাশ থেকে পড়ল। সে এবার নাটকীয়ভাবে বলল—
– “তুই বন্ধু নাকি শত্রু রে? বাড়িতে এসেছি আর তুই একটু খাতিরদারি না করে বেরিয়ে যেতে বলছিস? হে আল্লাহ, এ তুমি কেমন বন্ধু জোটালে আমার কপালে!”
ইভানের নাটকীয় কথায়ও আর্যর মধ্যে কোনো ভাবান্তর দেখা গেল না। সে একইভাবে গম্ভীর মুখে, চোয়াল শক্ত করে তাকিয়ে রইল ইভানের দিকে। সেটা দেখে ইভান এবার বলল—

– “আচ্ছা রাগ করিস না, আমি তোর বউয়ের ব্যাপারে আর কিছু বলব না।”
আর্য কিছু বলবে, তার আগেই জেনিফার সরকার খেতে ডাকলেন আর্য আর ইভানকে। কাজের মেয়েকে পাঠালেন সিমরানকে ডাকতে। দুপুরের খাবারের সময় বাড়ির সবাই যে যার কর্মস্থলে থাকে, সে কারণে বেশিরভাগ দিন একসাথে খাওয়া হয়ে ওঠে না। সিমরান এসে দেখল ইভান আর্যর পাশের চেয়ারে বসে আছে। সেটা দেখে সিমরান ইভানের সামনের চেয়ারে বসে পড়ল। একবার চোখ তুলে তাকাল, আবার নামিয়ে নিল। সে বুঝতে পেরেছে, সে লোকটাকে ভালোবেসে ফেলেছে! তাই তো রাতে ঘুমাতে গেলেও তার লোকটার কথা মনে পড়ে, পড়তে গেলেও লোকটার কথা মনে পড়ে। সব জায়গায় লোকটাকে সবসময় মনে পড়ে, চোখের সামনে ভেসে ওঠে লোকটার চেহারাটা।
জেনিফার সরকার পুষ্পকেও জোর করে খেতে বসিয়ে দিলেন সিমরানের পাশের চেয়ারে। তারপরে নিজে চারজনকে পরিবেশন করতে লাগলেন। পুষ্প মাথা নিচু করে খাওয়া শুরু করল, সে কারো দিকে তাকাচ্ছে না। আর সিমরান খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে চোখ তুলে ইভানকে দেখছে। কিন্তু ইভানের সেদিকে খেয়াল নেই; সে তো সিমরানের পাশে বসা পুষ্পকে দেখায় ব্যস্ত! আর্য একপলক সামনের চেয়ারে বসা পুষ্পর দিকে তাকিয়ে খাওয়ায় মন দিল।

খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আর্য আর ইভান ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে কাজ নিয়ে কথা বলতে শুরু করে। সিমরান পুষ্পকে সাথে নিয়ে অন্য আরেকটা সোফায় বসল। সে মূলত ইভানকে দেখার জন্যই নিজের সাথে পুষ্পকে নিয়ে বসেছে।
পুষ্পকে দেখা মাত্রই ইভান তার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল—
– “আচ্ছা পুষ্প, তুমি কিছু মনে না করলে একটা কথা জিজ্ঞেস করি?”
হঠাৎ ইভানের কথা শুনে পুষ্পর মনে পড়ে গেল আর্যর বলা সেই কথাটা—‘ইভানের থেকে দূরে থাকবে’। পুষ্প ভীত চোখে একবার আর্যর দিকে তাকিয়ে দেখল আর্য যেন কিছুই শোনেনি, নিস্পৃহভাবে ফোন স্ক্রল করছে। এদিকে পুষ্পকে চুপ করে থাকতে দেখে সিমরান বলল—
– “আরে সমস্যা নেই ইভান ভাই, আপনি জিজ্ঞেস করুন! পুষ্পরাণী উত্তর দেবে।”
সিমরানের কথায় ইভান হেসে জিজ্ঞেস করল—

– “তুমি কি এখানে বেড়াতে এসেছ? মানে কয়দিন থাকবে?”
কথাটা শুনে পুষ্পর মনে পড়ে গেল রাতে বলা শেহনাজ সরকারের কথাগুলো। সে আনমনে জবাব দিল—
– “হুম, বেড়াতে এসেছি ভাইয়া। ফুফুমণি যতদিন চাইবেন ততদিন থাকব। তারপর ফুফুমণি যেদিন চলে যেতে বলবেন, সেদিন একেবারে চলে যাব!”
কথাটা শুনে আর্যর হাত থেমে গেল এক মুহূর্তের জন্য। তার মানে মেয়েটা আম্মুর বলা কথাগুলো নিয়ে ভাবছে! কোথাও যেন একটা সূক্ষ্ম ব্যথা অনুভূত হলো আর্যর মনে পুষ্পর কথাটা শুনে। তবে সেটাকে পাত্তা না দিয়ে সে আবার ফোন স্ক্রল করতে করতে ভাবল—সে তো এটাই চেয়েছে! যাক, মেয়েটা আম্মুর কথাগুলো নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে।
ইভান আরও টুকটাক কথা বলল সিমরান আর পুষ্পর সাথে। একসময় ইভান হেসে বলল—

– “পুষ্প, তোমাকে কিন্তু খুব মানিয়েছে গোলাপি রঙে!”
ব্যাস! ইভানের এই একটা কথাই যথেষ্ট ছিল এতক্ষণ ধরে শান্ত হয়ে বসে থাকা আর্যকে অশান্ত করতে। সে সোফা থেকে উঠে গিয়ে ইভানের কলার ধরে দাঁড় করিয়ে দিল, তারপর প্রায় বগলদাবা করে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে গেল!
পার্কিং এরিয়ায় এসে দাঁতে দাঁত চেপে হিসহিসিয়ে বলল—
– “আজকের পর থেকে তোর এই বাড়িতে আসা বন্ধ! যা, এখন আমার সাথে দেখা করার হলে অফিসে আসবি!”
আর্যর কথা শুনে ইভান যেন আকাশ থেকে পড়ল। সে এবার আর্যর দিকে তাকিয়ে বলল—
– “এই, তোর সমস্যাটা কী রে? এরকম আজব বিহেভ করছিস কেন? যখনই আমি তোর বোনকে নিয়ে একটা কথা বলি, অমনি চেতে উঠিস! সমস্যাটা কী তোর? মাথাটা কি একেবারে গেছে, নাকি মেয়াদোত্তীর্ণ গাঁ*জা খেয়েছিস?”
ইভানের মুখে আবার ‘বোন’ শব্দটা শুনে আর্য এবার ধমকে উঠল—

– “শাট আপ! ওই মেয়েকে নিয়ে আমার সামনে আর একটা কথাও বলবি না। ওই মেয়েকে আমার বোন বলবি না, কতবার বলেছি তোকে?”
– “আচ্ছা ভুল হয়ে গেছে, তোর বোন বলব না। পুষ্পকে…”
– “ওর নামও নিবি না তোর মুখে!” বলেই গটগট পায়ে আবার বাড়ির ভেতরে ঢুকে গেল আর্য।
এদিকে আর্যর অদ্ভুত ব্যবহার দেখে ইভানের মাথায় কিছুই ঢুকছে না। সে আর্যকে চেনে; আর্য মেয়েদের ঘৃণা করে অতীতের সেই ঘটনার জন্য। কিন্তু আর্যর আজকের এই ব্যবহার—এটা কোনোভাবেই মেলাতে পারছে না ইভান। আর্যকে বড্ড অশান্ত, অস্থির লেগেছে তার কাছে। আর্য যেন কী করছে, কী বলছে—কিছুই সে নিজেও বুঝতে পারছে না! কিন্তু যেটাই হোক, তার সমস্যা কী পুষ্পকে নিয়ে? পুষ্প নামটা মুখে নেওয়ার আগেই ধমকে উঠছে! বন্ধু যদি এরকম করে, তাহলে বন্ধুর বোনকে পটাবে কী করে? তাকেও কি আর্যর মতো নারী-বিদ্বেষী করে রাখতে চাইছে তার বন্ধু?
“হে আল্লাহ, এরকম করো না! আমার বন্ধুর মনে একটু তার বউয়ের প্রতি ভালোবাসা ঢেলে দাও, যাতে সে তার বউকে চোখে হারায়! তাহলে আমার ভালোবাসার রাস্তায় আর বাধা হবে না বন্ধু।” ইভান বেশ করুণ কণ্ঠে আর্তি জানাল আল্লাহর দরবারে।
সে আর কিছু না ভেবে বাইকে উঠে বসলো। আর্য এভাবে বের করে দেওয়ায় সে মোটেও রাগ করেনি; কারণ সে জানে আর্য কোনো কারণে ডিস্টার্বড হয়ে আছে, কী করছে নিজেও জানে না। তাই হয়তো এরকম ব্যবহার করছে। নিজে ঠিক হলে আবার নিজেই কল করে সরি বলবে। সে হাসি মুখেই বেরিয়ে গেল।

আর্য রুমে এসে পায়চারি করছে, রাগে মাথায় যেন আগুন জ্বলছে তার! কানে বাজছে বারবার ইভানের মুখ থেকে বেরোনো সেই মনমুগ্ধকর প্রশংসাগুলো—
– “গোলাপি রঙের জামায় আরেকটা জীবন্ত গোলাপের মতো লাগছে! গোলাপি রঙে তোমাকে খুব মানিয়েছে!”
আর্যর যেন দমবন্ধকর অস্বস্তি হচ্ছে। সে দুহাতে নিজের চুল খামচে ধরল। সে ওই মেয়েকে নিয়ে ভাবতে চায় না, তবুও কেন মন-মস্তিষ্ক থেকে বের করতে পারছে না? যে যা-ই বলুক, ওই মেয়েকে নিয়ে তার কী? সে তো ওই মেয়েকে দুই চোখে সহ্য করতে পারে না!
আর্য সোফায় দপ করে বসে চোখ বন্ধ করে মাথাটা পেছনে এলিয়ে দিল। চোখ বন্ধ করার সাথে সাথেই চোখের সামনে ভেসে উঠল একটা গোলগাল ফর্সা মুখ, গোলাপি রঙের ওড়না জড়ানো! সাথে সাথে আর্য চোখ খুলে ফেলে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। আবারও অস্থির হয়ে রুমে পায়চারি করতে করতে দাঁতে দাঁত চেপে ফিসফিস করে বলতে লাগল—

– “ব্লাডি পিঙ্ক! সব ওই গোলাপি রঙের জন্য হয়েছে!”
সে এবার রুমের চারপাশে চোখ বুলিয়ে দেখল আলমারির একপাশে রাখা পুষ্পর জামাকাপড়ের ব্যাগটা। সে এগিয়ে গিয়ে একে একে পুষ্পর সব কাপড় বের করল। গোলাপি রঙের জামাগুলো আলাদা করে নিয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিল। তারপর একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল সেদিকে। আগুনের ধোঁয়ায় রুম পুরো ঘোলাটে হয়ে গেছে, এতেও আর্যর মধ্যে কোনো হেলদোল নেই।
পুষ্প সিমরানের রুম থেকে বেরিয়ে এদিকেই আসছিল। রুম থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে তাড়াতাড়ি রুমে এসে দেখে ডাস্টবিনে আগুন জ্বলছে, আর সেদিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আর্য। সে কী করবে বুঝতে পারল না—কী পুড়ছে এভাবে? হঠাৎ পুষ্পর দৃষ্টি আটকায় ডাস্টবিনে আধপোড়া একটা কাপড়ের অংশে। সেটা দেখে পুষ্পর চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ল এক ফোঁটা তপ্ত অশ্রু!
সে এবার দৌড়ে গিয়ে কাপড়টা ডাস্টবিন থেকে টেনে বের করল এবং নিজের খালি হাতেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে লাগল। এতে তার হাত পুড়ে যাচ্ছে, তবুও সে প্রাণপণ চেষ্টা করছে আগুনটা নেভাতে! হঠাৎ পুষ্প এরকম কাণ্ড ঘটিয়ে বসবে, সেটা আর্যর ধারণার বাইরে ছিল। সে-ও এবার উদ্বিগ্ন হয়ে এগিয়ে গিয়ে পুষ্পকে টেনে সরাতে চাইল, কিন্তু পুষ্প কাপড়টা ছেড়ে উঠতে নারাজ! আর্য এবার ধমকে উঠল—

– “স্টুপিড! সমস্যা কী তোমার? এভাবে হাত পোড়াচ্ছ কেন?”
পুষ্পর সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। সে কাপড়ের টুকরোটা থেকে কোনোমতে আগুনটা নিভিয়ে হাতে নিল। তার হাতও বেশ অনেকটা পুড়ে গেছে। সে আধপোড়া কাপড়ের টুকরোটার দিকে তাকিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। এদিকে পুষ্পকে ওভাবে কাঁদতে দেখে আর্যর কেমন যেন অস্থির লাগতে শুরু করে। সে পুষ্পকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে, কণ্ঠটা কিছুটা নামিয়ে যথাসম্ভব নরম করার চেষ্টা করে বলল—
– “এই মেয়ে, কী হয়েছে? এভাবে কাঁদছ কেন?”
আর্যর নরম কণ্ঠ শুনে আজকে পুষ্পর মধ্যে কোনো ভাবান্তর দেখা গেল না। সে আজকে প্রথমবারের মতো একদম নিশ্চল, শীতল কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল—

– “ওড়নাটা কেন পুড়িয়েছেন, সরকার সাহেব?”
পুষ্পর এরকম যান্ত্রিক কণ্ঠ শুনে থমকে গেল আর্য। আজকে পুষ্পর কণ্ঠে কোনো ভীত কম্পন ছিল না, আড়ষ্ট ভাব ছিল না; যেটাতে বেশ অবাক হয় আর্য। এর মধ্যেই আবারও শোনা গেল পুষ্পর ঠান্ডা কণ্ঠস্বর—
– “কেন পুড়ালেন, সরকার সাহেব?”
আর্য কী জবাব দেবে বুঝতে পারল না। আসলেই সে কেন পুড়িয়েছে, তার জবাব সে এখন নিজেই খুঁজে পাচ্ছে না! তখন রাগের মাথায় মনে হয়েছিল এই গোলাপি রঙের জন্য সব হয়েছে, তাই পুড়িয়েছে। কিন্তু রাগটা কেন হলো? নিজেই কোনো উত্তর পেল না আর্য।
আর্যকে চুপ করে থাকতে দেখে পুষ্প আর কিছু বলল না। আধপোড়া কাপড়টা বুকে জড়িয়ে নিয়ে সে ওয়াশরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল। দরজায় হেলান দিয়ে সে ডুকরে কেঁদে উঠল। আওয়াজ বের হওয়ার ভয়ে মুখে হাত চেপে ধরল। আধপোড়া ওড়নাটার দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলতে লাগল—

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১১

– “তোমার শেষ ওড়নাটাও আমি সামলে রাখতে পারলাম না, আম্মু! তোমার একটা জিনিসও মামি আমাকে নিতে দেয়নি, এই শেষ ওড়নাটা ছিল আমার কাছে; যেটাতে তোমার শরীরের মা মা ঘ্রাণ টা ছিল। সেটাও সরকার সাহেব পুড়িয়ে ফেললেন! কেন এরকম করছেন উনি আমার সাথে? আমি তো ওনার থেকে দূরেই ছিলাম, তাহলে কেন উনি তোমার ওড়নাটা পুড়ালেন? এখন আমার কষ্ট হলে তোমার ঘ্রাণ কীভাবে নেব? আমার এখন খুব কষ্ট হচ্ছে, আম্মু! আমাকে তোমার কাছে নিয়ে যাও না, আম্মু! আমি থাকতে চাই না এখানে… আমাকে নিয়ে যেতে বলো আল্লাহকে তোমার কাছে…।”

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here