আকাশপ্রিয়া পর্ব ৩৪ (২)
দুর এ দিলশাদ্ দুআা
রাতুল বাঁকা হাসলো।রিয়ানকে দেখে নিলো একবার।রিয়ান ও চোখমুখ লাল করে তাকিয়ে আছে আকাশের প্রস্থান এর দিকে।
“প্রিয়া আকাশের গার্লফ্রেন্ড…আকাশের বেবিগার্ল… “
“ইনফ্যাক্ট আমাদেরও। “ হেসে বললো রাকা।
প্রিয়া নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করতে গেলে শক্তপোক্ত হাতের থাবা পরলো দরজাটায়।বন্ধ তো করতে পারলই না আরও উল্টো হেচকা টানে নিজে সরে দাড়ালো।আকাশ দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলো।প্রিয়ার চোখেমুখে রাজ্যের অন্ধকার। রাগে লাল হয়ে যাওয়া মুখটার দিকে তাকানো যাচ্ছে না।ঘনঘন নাকের পাটা ফুলাচ্ছে।আকাশের হাসি পেলো।ধীরেসুস্থে দরজা আটকে এগিয়ে এলো প্রেয়সীর দিকে।প্রিয়া মুখ বাকালো।তাড়াহুড়ো করে এগিয়ে এলো আকাশের দিকে।দু হাতে সকল শক্তি প্রয়োগ করে ঠেললো বেড়িয়ে যেতে।আকাশকে একচুলও নড়াতে চড়াতে পারলো না।মেজাজ এমনিই খারাপ,খাম্বার মতো লোকটাকে সরাতে না পেরে আরও খারাপ হলো।তেতে উঠলো।
“খাম্বার মতো দাড়িয়ে আছেন কেনো।বের হন জলদি।”
আকাশ পেটের হাসি আটকে রেখে গম্ভীর মুখে আরও দু পা এগিয়ে এলো।
“কে খাম্বা!আমার মতো হ্যান্ডসাম একটা আলফা মেল কে তোমার খাম্বা বলতে একবারও মুখে বাধলো না?”
প্রিয়া ভেংচি কাটলে।আলফা মেল!এহ্। অসহ্য লাগছে আকাশের মুখটাকে তার।পুরুষ মানুষ কেনো এতো সুদর্শন,ড্যাশিং হবে!এটা কেমন যুক্তি!তাদের পিছনে এতো লম্বা মেয়েদের লাইনের মানে কি!
“আপনি বের হন।আমার আপনাকে দেখে রাগ হচ্ছে।”
আকাশ অবাক চোখে তাকালো।
“আমি কি করলাম টা কি এখানে!আমি তো কিছু বুঝতেই পারছি না।”
“অবুঝ বাচ্চাদের মতো করবেন না।মেয়েরা গায়ে পরলে,জড়িয়ে ধরলে খুব ভাল্লাগে না?”
আকাশ বুঝতে পারছে প্রেয়সীর অভিমান,রাগের কারণ।তবে আগেই সেটা প্রকাশ করে মজা টা নষ্ট করতে চাইলো না।যে মেয়ে তার সামনে কথা বলতেই লজ্জায় মিয়িয়ে যায়,নজর মেলানো তো দূরে থাক।সে মেয়ে রেগে গিয়ে কি সুন্দর চোখে চোখ রেখে ঝগড়া করছে।নিজেকে বিবাহিত বিবাহিত মনে হচ্ছে।
হাসি চেপে না বোঝার মতো করে বললো,”কি যা তা বলছো।বুঝতে পারছি না তো।”
প্রিয়া দু কদম এগিয়ে এলো আকাশের দিকে।মেয়েটা আকাশের বুক বরাবর।কথা বলতে গেলে ঘাড় উচিয়ে বলতে হয়।করলোও তাই।কোমড়ে দু হাত রেখে গিন্নির মতো দাড়ালো আকাশের সামনে।
“আপনি আবার নাটক করছেন?”
“নাটক কেথায় করলাম?”
আকাশের নির্বিকার ভাবে রেগে উঠছে প্রিয়া।দাঁতে দাঁত চাপলো।মুখ ফুলালো।
“ওই মেয়েটার সাথে আপনি অমন গদগদ হয়ে কি কথা বলছিলেন?”
আকাশ এবার হেসে ফেললো,মাথা নিচু করলে।হাস্কিস্বরে বললো,”আর ইউ জেলাস?”
প্রিয়া এলোমেলো দৃষ্টি ফেললো এদিকসেদিক। আকাশের এহেন কন্ঠে সে কথার খেই হারায় বরাবর।মিনমিন করে বললো,”নো।”
“মনে তো হচ্ছে। “
“মোটেও না।”
আকাশ সোজা হলো।স্থির দৃষ্টি রাখলো প্রিয়ার ওপর।”তাহলে ওভাবে চলে এলে কেনো পার্টি থেকে?”
প্রিয়া একটু পিছোলো।স্বভাবসুলভ ঠোট কামড়ালো নিজের।ধীর গলায় বললো,”আমার ইচ্ছে। “
এই মেয়েটার কিছু কিছু কার্যকলাপে আকাশ বরাবরই ঘায়েল হয়।শক্তপোক্ত চরিত্র নড়েচড়ে ওঠে।তার মধ্যে একটি হলো যখন প্রিয়া এমন ভয় পেয়ে নিজের ঠোঁট কামড়ায় বারংবার। এইযে এখন যেমন কামড়াচ্ছে।তার বুকের ভিতরটা উথাল-পাতাল করে।গলা শুকিয়ে আসে।আকাশ নিজের গলা খানিকটা ভাড়ি করার চেষ্টা করলো,
”ঠোট কামড়াবে না আমার সামনে।আমার তো অন্য কিছু করতে ইচ্ছে হচ্ছে। “
প্রিয়া একরাশ লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে আছে।আকাশের এহেন কথায় আরও গুটিয়ে যায় মেয়েটা।ওড়নার কোনা দু হাতে খামচে ধরে থাকে।মাথা নামিয়ে ধীর গলায় বলে,
”সরুন ঘুমাবো।রুমে যান।”
“লেটস স্লিপ টুগেদার। “
আকাশের মাতাল করা কন্ঠে এমন কথায় ভয়াবহ চমকে গেলো প্রিয়া।দু হাতে ঠেলতে লাগলো বাইরে বের করতে।এক ইঞ্চিও নড়াতে চড়াতে সক্ষম হলো না।
চোখ রাঙালো,লজ্জায় মুখ তুলতে পারছে না।তেতে উঠলো একপ্রকার, “অসভ্য লোক।অবিবাহিত মেয়ের রুমে এসে অসভ্যতামি।”
“অসভ্যতামি করে ফেলি তাহলে?বাকিটা পরে দেখে নেবো?”
প্রিয়া এবার সত্যিই ভয় পাচ্ছে।আকাশের চোখমুখ অন্য রকম লাগছে।নিজের রাগ তো উবে গেছে সেই কখন।এই লোকের এহেন কার্যকলাপে সে যে রেগে ছিলো এখন তো সেটাই ভুলতে বসেছে।এলোমেলো দৃষ্টি চোরের মতো লুকাতে চাইলো।
“আমি কিন্তু চেঁচাবো? “
আকাশ বাঁকা হাসলো।নিজের আঙুল ঠেকালো প্রিয়ার নরম ঠোটের ওপর।মাথা নোয়ালো।দুজনের মুখ ছুইছই।অন্য হাতে শাড়ির অংশ ভেদ করে হাত গলিয়ে দিলো প্রিয়ার উন্মুক্ত লতানো কোমড়ে।আকাশের ঠান্ডা হাতের স্পর্শে আগুনের দহন হচ্ছে প্রিয়ার সর্বাঙ্গে।কেপে উঠলো ভয়াবহ।আকাশ কোমড়ে শক্ত করে চেপে ঠেলে পিছিয়ে গেলো প্রিয়াকে নিয়ে।প্রিয়ার নরম শরীর গিয়ে ঠেকলো বিছানার হেডবোর্ডে।
আকাশ এবার দ্বিগুণ হাস্কিস্বরে বললো,”হুশশশ ডোন্ট টক।এখন তুমি চেঁচাবে। কিন্তু সেটা আমার আদরে।লেট মি লাভ ইউ পাখি অ্যান্ড লেট মি মেক ইউ ক্রাই।”
এতক্ষণ সেরকম ভয় না করলেও এখন বলতে গেলে ভয় চেপে ধরেছে প্রিয়াকে। ঘরের মধ্যে দুজনের নিঃশ্বাস এর শব্দ আর ঘড়ির টিকটিক ছাড়া এই মূহুর্তে আর কেনো শব্দ আসছে না।বুকের ভিতরটা দ্রিমদ্রিম করছে।প্রিয়ার অবশ্য এই মূহুর্তে সব ছাপিয়ে নিজের বুকের ওই হাতুড়ি পেটানো শব্দই বেশি কানে বাজছে।আকাশ নিজের মুখ এগিয়ে আনতেই কারোর একজনের ফোনটা শব্দ করে বেজে উঠলো।স্তব্ধ ঘরে দারুণ জোরে শোনালো সে শব্দ।আকাশ প্রিয়াকে ছেড়ে নিজের পকেট হাতড়ালো।রিংটন টা তারই।প্রিয়া এই সুযোগ এর সঠিক ব্যবহার করলো বোধহয়।ঝটপট সরে দাড়ালো সেখান থেকে।দেয়াল থেকে দূরে যাওয়া উচিত। এ লোক কিছু হলেই তাকেই দেয়ালে পিষে মেরে ফেলতে চায়।
আকাশ ফোন টা বের করে নজর বোলায়।অফিসের আরজেন্ট কল।না হলে এই সময় মোটেই ধরতো না।এক নজর প্রিয়ার ওপর দিয়ো ঘুরে গিয়ে দাড়ালো জানালার কাছে।কথা বলছে মনোযোগ দিয়ে।প্রিয়া এদিকসেদিক তাকালো।ছুটে বেড়িয়ে যাবে?লোকটা একবার ধরলে ক্ষত না করে ছাড়বে না।অজান্তেই হাত চলে গেলো নিজের ওষ্ঠের ওপর।যেখান টায় আসার দিন রাতের আকাশের সযত্নে করা ক্ষত এখনো রয়েছে।পানি খেতে গেলে এখনো জ্বালা করে।একদিনেই লোকটার আদরের গভীরতায় ভয় পেয়ে গেছে মেয়েটা।প্রিয়া গুটিগুটি পায়ে দরজার দিকে পা বাড়াতেই সামনে এসে দাড়ালো আকাশ।ভ্রু নাচালো।
“কোথায় যাচ্ছো?”
প্রিয়া তোতলালো।”কো..কো..কোত্থাও না তো।”
“পিছিয়ে যাচ্ছো কেনো?”
প্রিয়া ঢোক গিললো।পা স্থির হলো।রোবটের মতো দাড়িয়ে রইলো।আকাশ মুখে বিরাজ করা হাসি মোটেও দৃশ্যমান করলো না।দু হাত বুকের ওপর আড়াআড়ি ভাবে ভাজ করলো।দু চোখের মাঝখানে সরু ভাজ পরলো।
“তুমি কি আমাকে ভয় পাচ্ছো?”
আকাশ একপা একপা করে আবার তার দিকে এগিয়ে আসছে।
“আপনি এগোচ্ছেন ক্যা..ক্যানো?”
আকাশের মুখে কপট চিন্তার ভাজ পরলো।খানিক অবাক হওয়ার ভান করে বললো,”এগোবো না?দুজনেই যদি পিছিয়ে যাই কাজ টা করবো কি করে?”
আকাশের অন্য রকম দৃষ্টি, নেশা মাখানো কন্ঠ প্রিয়ার মাথা শূন্য হয়ে আসছে।
“ক.।ক..কি কাজ করবেন?”
আকাশ খেয়াল করলো ভয়ে গুটিয়ে যাওয়া প্রেয়সী কে।মেয়েটা দারুণ ভয় পাচ্ছে।চোখমুখ কেমন লাল হয়ে গেছে।লজ্জায় এদিকসেদিক এলোমেলো দৃষ্টি লুকাতে ব্যাস্ত।দু হাতে চেপে ধরে আছে শাড়ির অংশ।আকাশ পুরো নারীদেহ পরখ করলো একবার।জরজেট শাড়ি ভেদ করে ধবধবে ফর্শা বাকানো কোমড় স্পষ্ট দৃশ্যমান। রুমে এসি অন করা,মেয়েটা তাও ঘামছে।সামনের চুলগুলো ভিজে গেছে ঘামে।এক কালার ব্লাউজ ও ভিজে উঠেছে।বুকের বা পাশে হাত দিলো।ঝড় উঠেছে প্রেয়সীর এ আবেদনময়ী রুপে তার বুকের ভিতরটায়।পলকহীন তাকিয়ে রইলো সুশ্রী মুখশ্রীর দিকে।তিরতির করে কাপতে থাকা পাতলা লাল টকটকে ঠোঁট, চোখের পাপড়ি সব পরখ করলো গভীর মন দিয়ে।নরম গলায় বললো,”তোতলাচ্ছো কেনো?”
“কই না তো।”
“ভয় পাচ্ছো আমাকে?”
“নাহ।”
“তাহলে কাছে এসো।চোখটা বন্ধ করো।”
প্রিয়ার চোখ রসগোল্লার মতো বড় বড় হয়ে গেলো।মুখে রাজ্যের কৌতুহল, ভয়,লজ্জা একাকার মিলেমিশে। অবাক হওয়ার চূড়ান্তে।অস্ফুটস্বরে উচ্চারন করলো,”হ্যা?”
আকাশ কপট হতাশ হলো।দু দিকে হতাশায় মাথা নাড়লো।গম্ভীর গলায় বললো,”আমি বললাম চোখ বন্ধ করতে,তুমি উল্টো চোখ বড় বড় করে ফেললে?”
প্রিয়ার মাথায় উল্টোপাল্টা ধারনা এসে হানা দিচ্ছে।শব্দ করে কেঁদে ফেললো এবার।নাকের পাটা রক্তিম হয়ে গেছে,ফুলেফেঁপে উঠছে।গাল দুটো তো কখন থেকেই টমেটোর রঙ্গ ধারন করে আছে।একপ্রকার ফুপিয়ে ফুপিয়েই বললে,”আমি আর রাগ করবো না সত্যি! দরজা টা খুলে দিন।রুমে যান।সবাই একরুমে দেখলে অন্য কিছু ভাববে।”
আকাশ বাঁকা হাসলো এবার।ফিসফিস করে বললো,”কি অন্য কিছু?কোনটার কথা বলছো?”
“রুমে যান প্লিজ।”
আকাশ দু দিকে মাথা নেড়ে সে প্রস্তাব নাকচ করলো।
“উহু আগে যেটা বললাম সেটা করো।কাছে এসো।তারপর যা করার করবো।”
“দেখুন ঠোঁটের কাটা টা এখনো কিন্তু সারেনি।আবার কামড়া…”
মুখ ফসকে কি বলতে যাচ্ছিলো সে।ইশশশ লজ্জা।দাঁতে জিব কাটলো।শুধরে নিয়ে জলদি বললো,”মানে আর কিছু করবেন না প্লিজ।আজকে অন্তত।”
আকাশ এবার সত্যিই হতাশ হলো।মেয়েটা বেশি বোঝে।কেউ এক লাইন বেশি বুঝলে মানানো যায়।কিন্তু পুরো একপাতা বেশি বুঝে বসে থাকলে সে কি করতে পারে।এই মূহুর্তে সে নিজের মনের ওপর এক ট্রাক পাথর চাপা দিয়ে কনট্রোল এ আছে।এখন যা করছে শুধুমাত্র মেয়েটাকে বিরক্ত করতে।এর বেশি কিছু করলে সে নিজেই নিজেকে সামলাতে পারবে না।আর এই নিষিদ্ধ কাজগুলো সে জেনে-বুঝে রোজ করতে চায়না।মুখের বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট।
“ক বললে ক টাই বোঝা উচিত। মেয়ে মানুষ জাত টাই বেশি বোঝে।ক কে কাতার বানাতে দু সেকেন্ড ভাবে না।ডাকলাম নরমালি কাছে,সে কামড়াকামড়ি তে চলে গেছে।কপাল সবই কপাল।”
আকাশ ঘুরে গিয়ে পা ছড়িয়ে বিছানায় বসলে।প্রিয়া এবার আরও লজ্জা পেলো।সে সত্যি বেশি বোঝে।আগেই মুখ ফসকে এসব বলার মানে কি ছিলো। আকাশ না জানি তাকে কি ভাবছে।এ মেয়ের মাথায় সবসময় এসবই ঘোরে।নিজের কার্যকলাপে সত্যি হতাশ সে।পর মূহুর্তে নিজেকে শান্তনা দিয়ে ফেললো।তার দোষ কোথায়।এতরাতে কোনো পুরুষ মানুষ যদি তার প্রেমিকার ঘরে এরকম প্রেমিক প্রেমিক আচরন শুরু করে কোন প্রেমিকা ক কে কতার ভাববে না!
“ওখানে ঠায় না দাড়িয়ে থেকে চেঞ্জ করে ফেলো আর নিচে না গেলে। অস্থির লাগছে আমার।”
আকাশের গম্ভীর কন্ঠে হুশ ফিরলো প্রিয়ার।কপাল কোচকালো।শাড়ি পরে আছে সে,তার ওপর গরমও তো নয়!আকাশের অস্থির লাগছে কেনো।
“শাড়ি পরে আছি আমি।অস্থির লাগে আপনার!”
আকাশ ঘাড় বাকিয়ে পিছনে তাকালো।মেয়েটা ঠায় ওখানেই দাড়িয়ে আছে।
“এদিকে এসো।কিছু করবোনা।”
প্রিয়া লজ্জা পেলো,সাথে রাগও হলো।এ কি ধরনের কথাবার্তার ছিড়ি।কিছু করবনা মানে কি!করবে না তো মুখে বলার কি আছে।সে কি বোঝাতে চাইছে?সে কিছু করবে সেই আশায় প্রিয়া বসে আছে!হাহ্।মুখ বাঁকালো প্রিয়া।গটগট করে এগিয়ে এসে দাড়ালো আকাশের সামনে।
আকাশ দু হাত বিছানায় ভর দিয়ে আধশোয়া হয়ে বসেছে।এক কনুই এ ভর দিয়ে অন্য হাতে ব্ল্যাক শার্টের ওপরের দুই বোতাম খুলে ফেললো।অসহ্য গরম লাগছে।ঘামছে রীতিমতো। এতক্ষণ মেয়েটাকে বিরক্ত করার নিয়তে শুরু করলেও এখন শরীর নিয়ন্ত্রণ এর বাইরে গেছে।কেমন একটা লাগছে। এ ঘরে এখন দুজনের থাকা একদম নিরাপদ নয়।অথচ এক বিন্দু ও ইচ্ছে করছে না চলে যেতে।দু চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস নিলো।
প্রিয়ার মুখে চিন্তা খেলা করছে।আকাশ অস্বাভাবিক ঘেমে গেছে।কালো শার্টটা শরীরে লেপটে গিয়েছে।দু দুটো বেতাম খোলায় লোমহীন আকর্ষণীয় বুকটা তার চোখের সামনে।কপাল বেয়ে ঘাম গড়িয়ে পরছে।নিখোঁজ হচ্ছে সেই শার্টের ভিতরে।জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলায় অ্যাডমস অ্যাপেল খানা ওঠা নামা করছে।প্রিয়া ঢোক গিললো।বুকটা ঝাঝরা হয়ে যাচ্ছে।ও-ই অ্যাডামস অ্যাপেল টা ছুয়ে দিলে আকাশ কি রেগে যাবে!আকাশ চোখ খুলছে না।নিজেকে খুব করে ধাতস্থ করতে চাইছে,খুব জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। প্রিয়া এ যাত্রায় আর চুপ থাকতে পারলো না।হুড়মুড়িয়ে বিছানায় এসে বসলো আকাশকে ঘেষে।মুখে চিন্তার ভিড়।উদদিগ্ন গলায় জিজ্ঞেস করলে,”কি হয়েছে আপনার?হ্যা?এমন করছেন কেনো?”
আকাশ কিচ্ছু বললো না।হাতের ভর ছেড়ে দিলো।সটানে শব্দ করে পড়লো বিছানায়।প্রিয়া আরও হতচকিত হলো।আকাশের শরীর খারাপের ভয়ে তার বুকটা দুমড়েমুচড়ে উঠলো। এগিয়ে এলো আকাশের মাথার দিকে।নিচু হয়ে দ্রুত হাতে নিজে শাড়ির আচলে আলতো হাতে ঘাম মুছতে চাইলো।আকাশ হাত ধরে ফেললো।দু দিকে মাথা নেড়ে নিষেধ করলো।
“কি হয়েছে বলবেন তে।পানি দেবো?কি লাগবে বলুন না।শরীর খারাপ লাগছে।কোথায় কষ্ট হচ্ছে? “
প্রিয়ার ভয়ার্ত কন্ঠে চোখ মেললো আকাশ।প্রিয়া তার ওপর ঝুঁকে আছে।চোখমুখ চিন্তায় শুকিয়ে উঠেছে।কোথায় কষ্ট হচ্ছে কি করে বলবে সে।প্রিয়া বিছানায় শাড়ির আচল কাধের ওপর তুলে দিয়ে বসেছে।ফল সরুপ বা পাশটার অনেক কিছুরই মাপ করা যাচ্ছে।আর ধনুকের মতো বাকানো কোমড়টা তো নগ্ন অবস্থায় বেড়িয়েই আছে।মেদহীন তবুও ঝুকে বসায় হালকা ভাজ পরেছে সেখানটায়।আকাশের এখন খুন হতে ইচ্ছে হচ্ছে। ধৈর্য নামক বস্তু টি খাচা ছেড়ে পালিয়ে যেতে যুদ্ধ ঘোষনা করেছে।সত্যি এ সময়ে ওর ঘরে আসা উচিত হয়নি।একদম হয়নি।
“শাড়ি টা পালটাচ্ছো না কেনো তুমি?”
“আপনার শরীর খারাপ আর আপনি পরে আছেেন আমার শাড়ি নিয়ে!আজব মানুষ আপনি।”
“নির্বোধ। “
“আমি নির্বোধ? আমি?হুম?”
আকাশ অসহায় তাকিয়ে রয় অবুঝ প্রেয়সীর আবেদনময়ী রুপের দিকে।আকাশের জবাব না পেয়ে একই স্বরে শুধায় প্রিয়া,”বলুন না কি হয়েছে। পানি খাবেন?ভালো লাগবে কিন্তু। দেবো?”
“উহু।অন্য কিছু মন চাইছে।”
“বলতেই তো বলছি।বলছেন না কেনো।আমি এনে দিচ্ছি।”
আকাশ ঘোরলাগা চোখে দেখে মেয়েটার আদুরে মুখটা,মন দিয়ে শোনে তার আদুরে কথাগুলো।হালকা হাসে।দীর্ঘশ্বাস ফেলে হুট করে উঠে বসে।বিছানা ছেড়ে নেমে দাড়ায়।পিছনে আর তাকায় না।সাহস হয়না।
“শাড়ি পাল্টে নাও জলদি।শুয়ে পরো”
আকাশ দরজার দিকে পা বাড়াতেই।বিছানা থেকে দ্রুত নেমে আসে প্রিয়া।স্পষ্ট বুঝতে পারছে মানুষ টার শরীর খারাপ লাগছে এই অবস্থায় আবার কোথায় যাচ্ছে।হাত টেনে ধরলো আকাশের।আকাশ চোখমুখ খিঁচে বন্ধ করে ফেললো।মেয়েটার থেকে এখন পালিয়ে যেতে পারলে বাঁচে, বোকা মেয়েটা সেটা বুঝলে তবে তো!এই মূহুর্তে প্রিয়ার নরম হাতের স্বাভাবিক স্পর্শও ইলেকট্রনিক শক দিলো যেনো।
“শরীর খারাপ লাগছে আপনার।রীতিমতো ঘামছেন।শ্বাস নিতে পারছেন না।কোথায় যাচ্ছেন এ শরীর নিয়ে।বসুন বলছি।আমাকে বলুন কি দরকার এনে দিচ্ছি আমি।”
আকাশ ধীরে সু্স্থে ঘুরলো।অসহায় দৃষ্টি বোলালো বোকাসোকা প্রেয়সীর দিকে।মেয়েটা খুব চঞ্চল। অথচ দারুণ বোকা।ছেলেমানুষ এখনো।কোনটা প্রেমের অসুখ আর কোনটা কি এখনো ধরতে পারে না।প্রিয়া এখনো ছোট্ট হাতটা দিয়ে শক্ত করে ধরে আছে আকাশের কবজি।
“আমার ওষুধ টা এ ঘরেই আছে।”
“তাহলে বোকার মতো চলে যাচ্ছিলেন কেনো?কোথায় রেখেছেন। বলুন। “
বলেই এদিকওদিক খুঁজতে লাগলো।শান্ত হাসলো আকাশ।অন্য হাতে আলতো করে ধরলো প্রিয়া ডান হাত খানা।টেনে আনলো নিজের দিকে।প্রিয়া চমকে তাকালো।
“ওষুধ টা নিলে এ যাত্রায় হয়তো ভালো হবে খানিকটা,বুকের ব্যাথা টা কমবে।না নিলে সারারাত ব্যাথা করবে,জ্বালা করবে গোটা শরীর,ঘুম হবে না।”
“তাহলে ওষুধ টা তো নিতেই হবে।বলছেন না কেনো কোথায় ওটা।এনে দেই আমি।”.
আকাশ শব্দ করে হাসলো।প্রিয়া মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখলো সে হাসি।আকাশের এমন হাসি সে খুব কালে ভদ্রে দেখেছে।কি যে সুদর্শন লাগে লোকটাকে।
“ সত্যি দেবে।”
প্রিয়া সজেরে মাথা ওপর নিচ করে।
“কিন্তু সেটা নিষিদ্ধ যে।সময় অসময় নেওয়া উচিত নয়।একদম উচিত নয়।অন্যায়।”
প্রিয়ার চোখ বড় বড় হয়ে যায়।হা হয়ে যায় মুখ।কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করে।
“আ.আ..আপনি ড্রাগ নেন?”
প্রিয়ার এহেন বোকা কথায় এবার হাসির বাধ ভাঙলো আকাশের।শব্দ করে হেসেই যাচ্ছে।প্রিয়া হাসির মাথামুন্ডু বুঝলো না।জোরে জোরে ঝাকালো আকাশের দু হাত।
“বলুন না।হাসছেন কেনো? ড্রাগ নেন?”
আকাশ কোনো মতে হাসি থামালো।আঙুলে কপাল চাপলো।
“কেনো মনে হলো আমি ড্রাগ অ্যাডিক্ট?”
প্রিয়া ঠোট উল্টালো।বড় মানুষ এর মতো করে বললো,”বা রে..নিষিদ্ধ, অন্যায়।না নিলে ঘুম হয় না।হাবিজাবি। এগুলো তো ড্রাগ অ্যাডিক্ট এর কথা।”
“ড্রাগই।ঠিকই বলেছো।আমার পারসোনাল ড্রাগ ওটা।”
প্রিয়া অবাকের চূড়ান্তে।কাঁদো কাঁদো হয়ে গেলো সুশ্রী মুখখানা।
“আপনি এ কথা আমাকে আগে বলেননি কেনো?”
“তাহলে ভালোবাসতে না?”
টপটপ করে পানি গড়িয়ে পরলো প্রিয়ার চোখ থেকে।যেখানে সিগারেটই সে দু চোক্ষে দেখতে পারে না সেখানে ভালোবাসার পুরুষের এমন এক নিষিদ্ধ অ্যাডিকশন।দুঃখে মরে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে তার।
“আপনি ছেড়ে দেবেন এসব।”
আকাশ নিঃশব্দ,লুকিয়ে হাসলো।মেয়েটা সত্যিই ড্রাগের কথাই ভেবেছে।এখনও বোঝেনি আকাশ কি বোঝাতে চাইছে।মুখটা ফোলা ফোলা।হাত বাড়িয়ে ডান হাতের আঙুল উল্টো করে ছোয়ালো প্রিয়া রক্তিম গালে।আকাশের হাতের পরশে চোখ বুঝলো প্রিয়া।আকাশ নরম গলায় বললো
,”সম্ভব নয় তো।বাচবোনা।”
প্রিয়া ফট করে তাকালো।আহত হলো যেনো।তার থেকে ড্রাগ বেশি গুরত্বপূর্ণ? যে তার কথাতেও ছাড়তে পারবে না।গাল ফুলিয়ে বললো,”ছাড়তে হবে।”
“সম্ভব নয়।আর এই মূহুর্তে আমার ড্রাগ লাগবে।রাইট নাও।আমি আর সহ্য করতে পারছি না।”.
“ আমি কিন্তু…
প্রিয়ার কথা শেষ হয় না।একজোরা ভেজা ঠোঁট দখল করে নেয় তার ওষ্ঠজোড়া।চেপে ধরে রাখে।শব্দ করে চুমু খেয়ে সাথে সাথেই ছেড়ে দেয়।প্রিয়া হতভম্ব হয়ে গেছে।
“এটা আমার ড্রাগ।পারসোনাল ড্রাগ।নিষিদ্ধ, বিয়ে ছাড়া অন্যায়।অথচ বেহায়া মন মানতে চায়না।পাগলামি করে।এই ড্রাগের টেস্ট নিতে না পারলে মরেই যেতাম হয়তো আজকে।”
প্রিয়া লজ্জা,হতভম্বতা কাটিয়ে এক হাতে চেপে ধরে আকাশের মুখ।
“চুপ।মরে যাবেন মানে কি।এসব কথা আমার সমানে,অগোচরে কখনো উচ্চারণ করবেন না।কখনো না।”
“এই ড্রাগ টা কি নিষিদ্ধ করে দেবে আমার জন্য? “
প্রিয়া লজ্জা পেলো।বুকটার ভিতর এলোপাতাড়ি কেউ হাতুড়ি পেটাচ্ছে।মাথা নোয়ালো।আঙুল খোটাচ্ছে মেঝেতে।আকাশ হাসলো।কোমড়ে হাত দিয়ে টেনে আনলো নিজের দিকে।মাথা নামিয়ে শব্দ করে চুমু খেলো প্রিয়ার ঘাড়ের উন্মুক্ত অংশে।প্রিয়া শার্ট খামচে ধরলে আকাশের।চোখ বন্ধ হয়ে গেছে আবেশে।আকাশ ঠোঁট এগিয়ে নিলো তার কানের কাছে।
“আমাকে যেতে দাও কেমন?আমি এখানে থাকলে তোমাকে ছুতে না পারলে আজ নিশ্চিত মরে যাবো।আর যখনতখন শাড়ি পরনে না।হ্যা?আমার সব এলোমেলো হয়ে যায়।চুলগুলোও বেধে রাখবে আমার সমানে।আমি নিজের মধ্যে থাকিনা,গুছিয়ে কথা বলতে পারি না।অস্থির লাগে।শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।আমাকে পাগল করার অনেক সময় পাবে।বিয়ের পর যা করার করবে।এখন না কেমন?”
ঠোঁট কামড়ে চোখ বুজে আকাশের বুকে মাথা ঠেকিয়ে সবটা শুনলো প্রিয়া।নারীত্বে ঝড় উঠেছে তার।আকাশের সবকটা কথা বুঝতে পেরেছে সে।শরীরে কঠিন শিহরণ বইছে।আকাশ ছেড়ে দিতেই আকড়ে ধরলো সে আকাশের শার্টের ওপরের অংশ। আকাশ থমকে গেলো।
“এভাবে চলে যাবেন না।”
“আমি যা চাই সেটা তোমার জন্য এখন নয়।তেমার কষ্ট হবে ”
“হবে না।অতটুকু কষ্ট সয়ে নিতে পারবো।”
“ঠোঁট জ্বালা করছে না।”
“করুক।আপনি এখন এভাবে চলে গেলে সারারাত বুক জ্বালা করবে।সেটা বেশি পোড়াবে আমাকে।”
আকাশ এর শরীরের প্রতিটা অঙ্গপ্রত্যঙ্গে সাড়া দিচ্ছে।মেয়েটা বোকা সত্যি। নিজ থেকে পুড়তে চায়।
“সীমার বাইরে যেতে নিলেই থামিয়ে দেবে কেমন?যেভাবে পারো।”
প্রিয়ার উত্তরের আশায় রইলো না আকাশ।আকড়ে ড়লো মেয়েটার ওষ্ঠজোড়া।প্রিয়া আবেশে চোখ বুজে খামচে ধরে রইলো আকাশের শার্ট।আকাশের অবাধ্য হাত জোড়া বেয়াহা স্পর্শে জড়িয়ে নিচ্ছে নগ্ন উদর।শাড়ি ভেদ করে এলোমেলো অশালীন ভাবে নড়াচড়া করছে হাতটা।প্রিয়া ধীরেসুস্থে তাল মেলালো আকাশের সাথে। চুমুর তীব্রতা আর সহনীয় রইলো না।আকাশ বোধহয় প্রাণপনে চাইলো,কিন্তু ব্যার্থ হলো।গভীর থেকে গভীর আদরে ছুয়ে দিলো মেয়েটার অধর।চুমুতে স্থির নেই আর কামড়ে কামড়ে ক্ষত হচ্ছে আবার।প্রিয়া বাধা দিলো না।সমান তালে সেও মজলো যন্ত্রণা ময় আদর নিতে।
আকাশ তাকালো। মেয়েটার রক্তিম হওয়া অধরোষ্ঠ পরখ করলো।মেয়েটা চোখ বুজে আছে।কামুকতার ছাপ পুরো মুখে।আকাশ সময় নষ্ট করলো না।আবার গভীর ভাবে চুমুতে ভরিয়ে দিলো।বেশ সময় নিয়ে ক্ষান্ত হলো সে।ঘড়ির কাটায় কতক্ষণ পার হয়েছে হিসেব রইলো না।দু হাতের আজলায় নিলো প্রিয়ার মোমের মতো শুভ্র মুখখানা।ভেজা চুমু দিলো কপালে।দুজনেই হাপাচ্ছে।
“আর এক সেকেন্ড এঘরে থাকলে বললে সর্বনাশ হয়ে যাবে প্রিয়া।দরজা লক করে ঘুমিয়ে পরো।”
আকাশ দাড়ায় না আর।হাতের উল্টো পিঠে নিজের ঠোট মোছে।প্রিয়ার ঠোটের গাঢ়ো লিপস্টিক ছড়িয়ে আছে মেয়েটার ঠোটের চারপাশে।তার ঠোট জোড়াও সেই রঙে রাঙা হয়েছে সেটা সে শতভাগ নিশ্চিত।শার্টের বাকি বোতাম গুলো আলগা করতে করতে দ্রুত বেড়িয়ে যায় ঘর থেকে।
আকাশপ্রিয়া পর্ব ৩৪
প্রিয়া সময় নিয়ে চোখ খোলে।ব্যাথা জরজরিত ঠোঁট জোড়ায় আঙুল ছোয়ায়।চোখ টলমল করছে।লজ্জায় কান দিয়ে গরম ধাপ বের হচ্ছে। শরীরের লোম দাড়িয়ে গেছে অনেক আগেই।ঘেমে-নেয়ে একাকার শরীরে রক্তলাল শাড়িটি লেপটে গেছে।লজ্জায় আরষ্ঠ হয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে দরজা লক করে সেথায় পিঠ ঠেকিয়ে দাড়ায়।চেপে ধরে বুকের বা পাশটা।মুখে হাসি ছড়িয়ে পরেছে…
