Home আকাশপ্রিয়া আকাশপ্রিয়া পর্ব ৩৪

আকাশপ্রিয়া পর্ব ৩৪

আকাশপ্রিয়া পর্ব ৩৪
দুর এ দিলশাদ্ দুআা

সমুদ্র আর আকাশের মিলনে গড়ে ওঠা এক বিস্ময়কর সৌন্দর্যের নাম কক্সবাজার।পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকতটি যেন দিগন্তজোড়া বিস্তৃত এক শান্তির রাজ্য। যতদূর চোখ যায়, শুধু সোনালি বালির রেখা আর তার পাশে অবিরাম ছুটে আসা সমুদ্রের ঢেউ। দূরে কোথাও গিয়ে আকাশ আর জল এমনভাবে মিশে গেছে যে বোঝার উপায় নেই কোনটা কোথায় শেষ হয়েছে।
সূর্য যখন ধীরে ধীরে দিগন্তের নিচ থেকে উঠে আসে, আর তার সোনালি আলো সমুদ্রের জলে পড়ে রুপালি ঝলক তৈরি করে। বাতাসে ভেসে আসে সমুদ্রের লবণাক্ত গন্ধ, সেই বাতাস চুল এলোমেলো করে দেয়, পোশাকের কিনারা উড়িয়ে দেয়। ঢেউগুলো দূর থেকে ছুটে এসে তীরে আছড়ে পড়ে আবার ধীরে ধীরে ফিরে যায়,একটা অন্তহীন ছন্দের মতো।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যায় হওয়ার পথে।সূর্য ঘটা করে ডুব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যেনো।সবাই সেই সূর্যাস্ত দেখার অপেক্ষায় বসে আছে।একটু পর হোটেলে ফেরা হবে।রাতে ছোটখাটো পার্টির আয়োজন করেছে রাকিব,রেদেয়ান রা…
সারাদিন ঘোরাঘুরি শেষে সবাই যখন হোটেলে ফিরলো তখন ঘড়ির কাটায় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা।আজ প্রায় সারা রাত চলবে পার্টি।লেট নাইট পার্টি যাকে বলা হয় আরকি।প্রায় সবাই যার যার রুমে এসে ছোটখাটো ন্যাপ নিয়ে নিচ্ছে।রাকিব বারবার বলে দিয়েছে রাতে পার্টির সময় ক্লান্তি চলবে না।শিয়া সেই মোতাবেক রুমে এসে ঘুমোচ্ছে।বাকিরাও নিজেদের রুমে বোধহয় তাই করছে।তবে অবশ্যই সেসবের ব্যাতিক্রম প্রিয়া।সারাদিন এতো ঘোরাঘুরি, দৌড়ঝাপ কোনোকিছুই তার মধ্যে ক্লান্তির ভাব তৈরি করতে পারেনি।সন্ধ্যার পার্টি নিয়ে তার উচ্ছাস তুঙ্গে।কি জামা পরবে,কিভাবে সাজগোছ করবে সেটা নিয়ে পরিকল্পনার শেষ নেই।শিয়া বলেছে শাড়ি পরবে,রাকা আর তুষিও তাই।তাহলে হয়তো বাকি মেয়েরাও তাই পরবে।লাগেজ টেনেহিঁচড়ে বের করলো সে।নিয়ে আসা সমস্ত শাড়ি একেএকে মেললো মেঝেতে।

আলো ঝলমল চারিপাশ।হোটেলের ফ্রন্ট সাইটের সুইমিং পুুল এড়িয়ায় অ্যারেন্জ করা হয়েছে পার্টির।ফেইরি লাইটের রঙবেরঙের আলোতে চোখ ধাঁধিয়ে উঠছে একদম।আপাতত মৃদু আওয়াজে গান বাজানো হচ্ছে। মানুষজন এখনো সবাই এসে পৌছায়নি।রাকিব,রেদোয়ান ব্যাস্ত হাতে দেখছে সবটা।
মেয়েরা সবাই বোধহয় সাজগোজ এ ব্যাস্ত।প্রিয়া বেছে বেছে ডার্ক রেড কালার একটা শাড়ি চুজ করেছে,শিয়া অবশ্য পরবে ন্যুড পিংক..দুজনেরই সাজগোছ প্রায় শেষের দিকে।বের হবে একটু পরে।
ভাইয়ের মেসেজ পেয়ে অয়ন এসেছে আকাশের রুমে।একেবারে তৈরি হয়েই এসেছে।তার গায়ে অফ হোয়াইট শার্ট।আজ সব কাপলকে নাকি ম্যাচ করে জামাকাপড় পরতে হবে।আকাশ ব্ল্যাক কালার শার্ট গায়ে জড়িয়েছে,হাতে ঘড়ি পরে আয়নার সমানে চুল স্যাট করে নিচ্ছে।

“মা কল করেছিলো নিশ্চয়। “
ভাইয়ের কথায় আকাশ মাথা নাড়ে।, “,তুমি ধরোনি কেনো?”
অয়ন আয়েশ করে বসে বিছানার ওপর।দু হাত পিছনের দিকে বিছানায় ভর দিয়ে।
“শাওয়ার নিচ্ছিলাম।পরে কল করতে বিজি পেলাম।ভাবলাম তোর সাথে কথা বলছিলো।”
আকাশ বিছানা থেকে ফোন তুলে কল করলো মাকে।প্রায় সাথে সাথেই রিসিভ হলে।আমেনা চৌধুরী ছেলের ফোনের আশাতেই বসে ছিলেন হয়তো।
“মা নাও তোমার বড় ছেলে।”
অয়ন ফোন হাতে নিলো।কান থেকে একটু দূরেই ধরলো। কারণ এখন কি হবে তার বেশ ভালো জানা।হলোও তাই,আমেনা চৌধুরী চেচিয়ে উঠলেন একপ্রকার।
“,তোদের কি মায়ের কথা মনে পরে না।?হ্যারে বড় আব্বা।”
আকাশ হাসলো ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে।

“পরে মা।পরবেনা কেনো।”
“,আমার কল ধরতে সমস্যা কি তাহলে তোদের দুই ভাইয়ের”
“,মা বাথরুমে এ ছিলাম।”
“,মিথ্যা বলবি না।তোরা সবকটা মিথ্যাবাদি।আমাকে মিথ্যা বলার ওপর থাকিস সারাক্ষণ ।”
“,আবার কি মিথ্যা বললাম?”
“,সামনে সপ্তাহে বাড়ি আসবি ব্যাস।”
“মা..।”
“,আমি কিছু শুনতে চাচ্ছি না।দুজন ভদ্র ছেলের মতো বাড়ি আসবি।”
অয়ন দীর্ঘশ্বাস ফেলে এবার সত্যি বাড়িতে যাওয়া দরকার।না হলে মা টা তার শোকে দুঃখে ঘরছাড়া হবে।
“,আসবো।”

মায়ের সাথে কথা বলে দু ভাই বের হলো।নিচে আসতেই চোখে পরলো সবাইকে।প্রায় সবাই চলে এসেছে। অয়ন মৃদু হেসে এগিয়ে গেলো শিয়ার দিকে।হাতে অরেঞ্জ জুস নিয়ে পুল সাইটে একা দাড়িয়ে আছে শিয়া।রাকা,তুষি এখনো তৈরি হয়ে এসে পৌছায়নি।
আকাশ ছটফটে নজরে খুজলো কাঙ্খিত মানুষ টাকে।চোখে পরলো না আশেপাশে কোথাও।আজকেও নিশ্চয় সাজগোছে দেরি করছে।একে একে বন্ধু সবকটাও এসে হাজির হলো।বাকি সবাই এসেছে প্রায় সবাই।
রাতুল ড্রিং হাতে এসে দাড়ালো আকাশের পাশে।গলা নামিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো,”তোর বেবিগার্ল কোথায়?”
আকাশ জবাব দিলো না।নির্বিকার তাকিয়ে রইলো।
“শোন আকাশ,বলি কি বিয়েটা করে নে তুই আর অয়ন ভাই।তোদের দু ভাইয়ের যা কনট্রোল এর বহর তোরা মেয়ে দুটোর…”

আকাশের তপ্ত চোখ রাঙানিতে আঙুল ঠোঁটে ঠেকিয়ে চুপ করা ভঙ্গি করলো রাতুল।বত্রিশ দাত বের করে হেসে পাশ ফিরতেই অদূরে ড্রিং টেবিলে চোখে পরলো রিয়ান এর ওপর।ড্রিং হাতে একা দাড়িয়ে। কারোর অপেক্ষা করছে হয়তোবা।আজকাল ওকে সুবিধার লাগে না তার।বন্ধুদের সাথে যথেষ্ট দুরত্ব রেখে চলে।ওকে আজকাল রাতুলের বলা বাহুল্য ভয় হয়।অনেককিছুর ভয়।তাদের এতো বছরের বন্ধুত্ব ভেঙে গুড়িয়ে যাওয়ার ভয়,আকাশ প্রিয়ার সম্পর্ক ভাঙার ভয়,প্রিয়ার কোনো ক্ষতি হওয়ার ভয়,অযাচিত ভুলবোঝাবুঝির ভয়।
রাতুল এর হাসি মুখ থেকে মূহুর্তে হারিয়ে গেলো।রিয়ান টা আগুন নিয়ে খেলতে চাচ্ছে।আকাশের ওপর বরাবর ওর একটা অদৃশ্য রাগ বা হিংসা যেটাই বলা হয় ছিলো হয়তো।কিন্তু তাই বলে এই বয়সে এসে একটা বাচ্চা মেয়ে নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝামেলা হবে এটা ভাবতেই ভয় হয় রাতুল এর।
হঠাৎ নিজের কাধে জোরেশোরে একটা হাতের ছোয়ায় ধ্যান ভাঙে তার।প্রায় পরে যাওয়া আকাশকে জাপটে ধরে।আকাশের হাতের দামি মোবাইল ততক্ষণে মেঝেতে শব্দ করে পরেছে।রাতুল আকাশকে সামলে নিলো।
“আর ইউ ওকে..আকাশ?”

আকাশ উত্তর দিলো না।বরং অনিমেষ তাকিয়ে রইলো সামনের দিকে।আকাশের সেই বিষ্ময়কর দৃষ্টি অনুসরন করে সামনে তাকাতেই এক সেকেন্ড সময় লাগলো সবটা বুঝতে,বুঝতেই হেসে ফেললো রাতুল।এবং খেয়াল করলো বিষয়টা শুধু তার নয় এখানে আশেপাশে উপস্থিত আর অনেকরই নজরে পরেছে।কিছুক্ষণ আগে আশা রাকা,তুষি সহ রাকিব,রেদোয়ান, অয়ন, শিয়া প্রায় সবাই শব্দ করে হাসছে।
রাকিব,রেদোয়ান ছুটে এলো আকাশ আর রাতুল এর দিকে।তিন বন্ধু লাফিয়ে উঠলো একপ্রকার। হৈ হে করে উঠলো।
রাকিব জাপটে ধরলো।আকাশের ঘাড়।
“গেছোস দোস্ত। একেবারে গেছোস।এই অবস্থা তোর!”
রাতুল উৎফুল্ল হয়ে উঠলো।,”বলেছিলাম তোদের আমি।প্রিয়াকে সামনে পেলে আমাদের আকাশ এ দুনিয়াতেই থাকেনা।দেখলি তো এবার?”

আকাশ এর এসব কোনোদিকে কান গেলো না,খেয়াল দিলো না।সে তো স্বর্গের অপ্সরা দেখতে ব্যাস্ত।প্রিয়া আসছে।গায়ে জরজেট এর একটা ডার্ক রেড শাড়ি।দিঘল চুলগুলো খোলা রাখা।কোমড় ছাড়িয়ে নেমে গেছে আরও বেশ খানিকটা।খুব একটা সাজসজ্জার বালাই নেই।হাতভর্তি রেড চুড়ি আর বড়সড় একটা কানের দুল।ঠোঁট রাঙিয়েছে শাড়ির সাথে ম্যাচ করে ডার্ক রেড লিপস্টিক এ।আঁচল ছেড়ে দেওয়া,তারপরও আকাশের অদৃশ্য দৃষ্টি খুব মাপঝোঁক করে মেপে নিলো তার নারীদেহের সব অংশ।কুঁচি ধরে দ্রুত পায়ে এগিয়ে আসছে এদিকে।খোলা আকাশের নিচে দমকা বাতাসে এলেমেলো হয়ে যাওয়া চুলগুলো অন্যহাতে কানে গুজতে ব্যাস্ত…আকাশ এর মনে পরলো সেই প্রথম দিন শাড়ি পড়া রমনীটির কথা।সেদিন অবশ্য এক ছটাক ও সাজের ছোঁয়া ছিলো না।তার পরেও সে আটকে গেছিলো সেই নারীতে।আর আজ!ডার্ক রেড রঙটা ফর্শা দেহে উজ্জল হয়ে ফুটে উঠেছে।
প্রিয়া কাছে আসতেই খেয়াল করলো অনেকগুলো চোখ তার দিকে।রাতুল হাসতে হাসতে এগিয়ে গেলো সেদিকে।মাথা নিচু করে হাত বাড়িয়ে দিলো প্রিয়ার দিকে।
“বেহেন জি। আপনাকে স্বাগতম আমাদের চৌধুরী গ্রুপ অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ছোট মালিক আকাশ এহনাজ চৌধুরীর মনের মধ্যে! “

উপস্থিত সবাই অট্টহাসিতে ফেটে পরেছে।প্রিয়া আড়চোখে দেখলো আকাশকে।মন্ত্রমুগ্ধের মতো আকাশ তার দিকেই তাকিয়ে।সবার হাসির কারণ বুঝতে তার খুব একটা সময় লাগলো না।লজ্জায় আড়ষ্ট হলো।আলতো হাত বাড়িয়ে ধরলো রাতুলের হাত।রাতুল টেনে নিয়ে এসে দাড় করালো আকাশের পাশে।বাঁকা গলায় বললো,
“নে।তোর বেবিগার্ল। আজ অবশ্য বেবি লাগছে না কিন্তু.. “
প্রিয়া লজ্জায় মিয়িয়ে যাচ্ছে।আকাশ মোটেও দৃষ্টি সরাচ্ছে না।প্রিয়া মাথা নিচু করে মিনমিনে গলায় বললো,
”এভাবে তাকিয়ে থাকবেন না।”
“ইউ লুকস বিউটিফুল। “
প্রিয়া রক্তিম হয়ে যাওয়া মুখ নামিয়ে রাখলো।আকাশের দৃষ্টি, কন্ঠ কোনোটাই তার সহ্য সীমার মধ্যের নয় এই মূহুর্তে।

“ইওর লিপস লুক লাইক রেড চেরি।”
প্রিয়া ঠোটে ঠোট চেপে ধরলো লজ্জায়।শীতল অনুভূতি বয়ে গেলো শরীরে।আশেপাশে খেয়াল করলো।সবাই প্রায় তাকিয়ে আছে তাদের দিকে,মিটিমিটি হাসছে।প্রিয়া গলার আওয়াজ নামিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো,
“চুপ থাকুক এখন অন্তত।এসব কথা আমি সহ্য করতে পারি না।”
“খারাপ লাগে?”
“উহু,শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।”
“আমারও। “
প্রিয়া চমকে তাকালো পাশের নেশাক্ত কন্ঠের মানুষ টার দিকে।বুঝতে পারলো না আকাশের কথা।ভ্রু জোড়ার মাঝে সরু ভাজ ফেলে জিজ্ঞেস করলো,
“হুহ?”
আকাশ মুখ নামিয়ে আনলো খানিকটা।প্রিয়ার কানের কাছে মুখ নিলো।নিচু গলায় বললো,
“শাড়ি পরেছো কেনো?আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। খুব। ট্রাস্ট মি।আই ওয়ানা টেস্ট ইওর চেরি লিপস।”
প্রিয়ার শরীর ঝিনঝিন করে উঠলো,কেঁপে ওটা শরীর ধাতস্থ করে শাড়ি খামচে ধরে দাড়িয়ে রইলো।এসব কথাবার্তা বলারও টাইমটেবল নেই লোকটার।যেখানে সেখানে শুরু করে বাজে বকা।

অয়ন আর শিয়া দুজনেই একবুক প্রশান্তি নিয়ে তাকিয়ে আছে আকাশ প্রিয়ার দিকে।কি দারুণ মানাচ্ছে দুজনকে।অয়ন খানিকটা ঘেষে বসলো শিয়ার দিকে।
“আমার ভাইটা যে জীবনে প্রেমে পরবে এক্সপেক্ট করিনি জানো?”
শিয়া হাসলো।অয়নের দিকে এক নজর তাকালো।
“আমি নিজেও করিনি।আকাশ!প্রেম!পরলো তো পরলো আমারই ওইটুকুন বোনের!”
“সেটাই ভাবছি।তোমরা দু বোন আমাদের দু ভাইকে জাদু করলে কিনা ভাবার বিষয়।”
শিয়া আলতো চড় বসালো অয়নের বাহুতে। অয়ন হেসে ফেললো।হাত বাড়িয়ে তুলে নিলো শিয়ার হাত।আলতো চুমু খেলো হাতের পিঠে।

“জাদু করলেও লাভটা আমাদেরই হয়েছে কিন্তু। দিনশেষে জিতেছি আমরাই।দু দু’টো পরী আমাদের দু ভাইয়ের বউ হবে।”
শিয়া হেসে ফেললো।অয়ন একহাতে জড়িয়ে নিলো শিয়াকে।
“সামনে সপ্তাহে বাড়ি যাচ্ছি।আমাদের কথাটা জানিয়ে আসবো।মা খুব খুশি হবে।আকাশের কথা আকাশ যা করার করবে…”
শিয়ার বুকের ভিতর আবার ধুকধুক শুরু হয়।বিয়ে শব্দটা তার ভয়ের কারণ।বিয়ে টা নিয়ে ঝামেলা হবে সেটা সে জানে,বুঝতে পারছে।কাল রাতেও অগুনতি বার নিলয় এর কল এসেছে।ধরেনি,এক পর্যায়ে নিলয়ের মা সহ কল করা শুরু করেছিলো।বিয়ের আগে এতদূর অফিস স্টাফদের সাথে যাওয়া,মেয়েমানুষ উচিত নয়,তাদের বাড়ির হবুবউ একাকি কেনো গেলো।হাজার হাদিস শোনালো।বাবা কে সে অয়নকে নিয়ে মানাতে পারবে না কিনা খুব সন্দেহ আছে।অয়নের সম্পর্কে একটা তীব্র বিরুপ ধারনা বাবার মনে গাঁথা। বছরের পর বছর আজগর আংকেল এর কারণে সেটা আরও শক্তপোক্ত হয়েছে।এতগুলো বছর হলো নিলয় এর সাথে বিয়ের কথা চলছে,এতো সহজে সে সবটা ভুলে বাবা অয়নকে মানবে না।তাই যতবার অয়ন বিয়ের কথা তোলে তার মন ততবারই অস্থির হয়,নিজেকে অসহায় লাগে,কূল কিনারা খুঁজে পায়না।তার ওপর এখন আবার ওই একই পরিবার এর ছেলের সাথে প্রিয়াও..অয়নেরই ছোট ভাইয়ের সাথে। বোনের দিকে তাকায় শিয়া।খানিকটা দূরেই পুলের পাশে আকাশের পাশে বসা।লজ্জায় রাঙা হয়ে আছে।আকাশ কি সুন্দর খেয়ালই না রাখছে বারবার। মনটা ভালো হয়ে যায় সে দৃশ্যে।

“শিয়া?”
“অয়ন…”
“আমি জানি কি ভাবছো।ভাবতে নিষেধ করেছি তো।আমি আছি তো নাকি!আমার পরিবার কে জানিয়ে আসি,তোমার পরিবার কেউ আমি আর আমার পরিবার সামলে নেবো।”
শিয়া চোখের পানি টলমল করছে।চেপে ধরে অয়নের হাত দুটো।
“আমি তোমাকে আবার হারাতে পারবনা অয়ন।”
অয়ন মাথায় হাত রাখে শিয়ার।মৃদু হাসে।
“কে।বলেছে হারাবে!এক ভুল আমি বারবার করবো?বুকের ভিতর জাপটে রাখবো।এতো সহজে হারিয়ে যাবো কোথায়।”
শিয়ার ভরসা পায় অয়নের এসব কথায়।কিন্তু অশান্ত মন শান্ত হয়না।একদম হয়না।
“আকাশ আর প্রিয়া..”
“আকাশকে চেনো না তুমি?আমি যে ভুল করেছিলাম।তোমার মনে হয় আকাশ সেটা কখনো করবে?”
“প্রিয়া অনেক ছোট অয়ন।ও যদি বাবা মায়ের কথায়..“
“আমার প্রিয়ার ওপরও বিশ্বাস আছে।ও একদম বাচ্চা নয় কিন্তু। যথেষ্ট বোঝার বয়স হয়েছে। ভালোবাসা কি বোঝে ও।মানছি আবেগের বয়সই বেশি,তার পরেও।আকাশ ওকে এত সহজে ছাড়বে না।ঠিক আগলে রাখবে।”
“বাবা খুব জেদি অয়ন।আমাদের দু বোন কে খুব ভালোবাসে।না চাইতেই সব হাজির করে।কিন্তু একবার কিছুতে নিষেধ করলে সেটায় কখনো তাকে রাজি করানো যায়না।,আমাদের,আকাশ,প্রিয়ার সম্পর্ক গুলো নিয়ে খুব ভয় হয়।আমার তোমার ওইসময়কার বোকামি,ভুলবোঝাবুঝির জন্য আমাদের ভাই বোন দুটো না কষ্ট পায়।”

অয়ন শিয়াকে আগলে রাখে।শান্ত করতে চায়।তবে বুকের ভিতর খচখচ কি তারও করে না?খুব করে।অন্য ছেলের সাথে শিয়ার বিয়ে ঠিক আছে শুনলেই দূর্বল লাগে তার,অসহায় লাগে। খুব করে অসহায় লাগে।বুকটা দুমড়েমুচড়ে যায়।ছয় বছর আগে ভুলবোঝাবুঝির বিষয়টা নেহাৎ মামুলি নয়।বিচ্ছিরি একটা বিষয়।কোনো বাবাই তারপর তার মেয়েকে সেই ছেলের হাতে আবার ফেরত দিতে চাইবে না,তা সে ছেলে যতই নির্দোষ হোক।একবার কারোর মন থেকে উঠে গেলে সবটা ঠিক করা কি এতই সোজা।তারা দু ভাই স্বাভাবে দু রকম।সে হৈ হুল্লোড় প,আমোদপ্রিয়, মিশুক হলেও আকাশ সম্পূর্ণ ভিন্ন।রাতুল,রিয়ান,রেদোয়ান বা এই কয়জন ছাড়া ওর তেমন কোনো ফ্রেন্ড সার্কেল নেই।ওর এসব পছন্দও না।শিয়া তাকে ভুল বোঝার পর, চলে যাওয়ায় সে যেভাবে পাগলের মতো শিয়াকে খুঁজেছে, কারণ জানতে চেয়েছে। খোদা না করুক আকাশ আর প্রিয়ার সম্পর্কে অমন দিন আসলে ভাইটা তার কি করবে? সব ছেড়ে ছুড়ে প্রিয়াকে ফেরাবে?নাকি ইগো ধরে রেখে ধ্বংস কবুল করে নিয়ে নিজেও দূরে চলে যাবে।প্রিয়া সত্যিই বাচ্চা।আবেগের বয়স ওর।আঠারো বছরের একটা মেয়ের মনকে বাবা মা খুব সহজে ডাইভার্ট করতে পারে।তখন কি তাদের সকলের সম্পর্কের মধ্যে আবার একটা ঝড় আসবে না?অয়ন দীর্ঘশ্বাস ফেলে, নিজের পরিবার কে আগে জানাতে হবে।যদিও তার পরিবার খুব সহজেই মানবে যদি না তার বাবার অন্য কিছু বলার না থাকে…

সুইমিংপুলের টলটলে পানিতে আলোর প্রতিফলন ঝলমল করছে একেবারে।উচ্চস্বরে গানবাজনা হচ্ছে এখন।একপাশে নাচগানে ব্যাস্ত অনেকে।লম্বা একটা টেবিলে গোল হয়ে পরপর বসা আকাশ রা।আড্ডা চলছে মূলত।পাশে বসা প্রিয়া একেরপর এক কিছু না কিছু অনবরত খেয়েই চলেছে।আকাশ একটু পরপর এটা সেটা এনে দিচ্ছে ফুড জোন থেকে।এখনও মনযোগ দিয়ে পাস্তা খাওয়ায় ব্যাস্ত সে।সামনে আরও একগাদা খাবার সাজানো।বাকিরা গল্পগুজবে ব্যাস্ত।
আকাশের পূর্ণ খেয়াল অবশ্য প্রিয়ার দিকে।একটু পরপর টিস্যু দিয়ে বাচ্চাদের মতো মুখ মুছে দিচ্ছে,পানি এগিয়ে দিচ্ছে।প্রিয়া মনে মনে খুব হাসছে।লোকটা সবার সাথে গল্প করছে, দেখে মনে হবে প্রিয়া যে পাশে আছে এটা সে খেয়ালই করছে না।আদতে তা মোটেই নয়।তার দিকে না তাকিয়েই কিভাবে কিভাবে বুঝে যাচ্ছে তার কখন কি লাগবে।

এই যেমন এত রাত হয়েছে কারোরই ডিনার নিয়ে চিন্তা নেই।হুটহাট টুকিটাকি খাচ্ছে সবাই।কিন্তু অমন পোষাচ্ছিলো না মোটে।এত এত খাবার একশ বার করে হেটে হেটে খাওয়া যায় নাকি!একপ্রকার উশখুশ শুরু করে দিয়েছিলো।এখানে যখন সবাই মিলে আড্ডা দিতে বসলো একফাঁকে আকাশ উঠে গিয়ে এতো এতো খাবার এনে সামনে দিলো তার।সবদিকে খেয়াল মানুষ টার।মৃদু হাসি ফুটে উঠলো ঠোঁটের কোনে।খাওয়ায় মন দিলো আবার।
আকাশ বারবার আড়চোখে দেখছে প্রিয়াকে।কি মন দিয়েই না তখন থেকে খাচ্ছে।নিঃশব্দ হাসলো।কেউ দেখতে পেলো না অবশ্য সেটা।এই মেয়ের শরীর দেখলে বোঝার উপায় নেই এতো খাবারপ্রিয়।
“এই আকাশ,তোর বেবিগার্ল এর মুখটা মুছিয়ে দে।আহারে বাচ্চা মেয়ে।”
রাতুুল এর কথায় টিস্যু ছুড়ে মারলো আকাশ।প্রিয়ার প্রতি এতো যত্নে রীতিমতো অবাক সকলে।অফিসের বাকি লোকজন দের মধ্যে ঘোর আলোচনা চলছে,আর সামনা সামনাসামনি উত্যক্ত করার জন্য তার বেয়াদব বন্ধু গুলো তো আছেই।বেবিগার্ল ডাকটা শুনলে প্রিয়া একদম লজ্জায় রক্তিম হয়ে যায়।ফর্শা ফুলো ফুলো গাল দুটো টমেটোর মতো হয়ে ওঠে।মাথা তুলতেই পারেনা।ছেলেগুলো বোধহয় সেটা খুব ভালো করে টের পেয়েছে,বারবার আকাশের বেবিগার্ল বলতে বলতে মুখে ফ্যানা তুলে ফেলেছে।

রাকা ওপাশে বসা প্রিয়ার পাশে।একহাতে টেনে নিলো নিজের দিকে।গালে গাল ঠেকালো।রাতুলের দিকে তপ্ত নজর দিয়ে বললো,”বেবিগার্লই তো।আমাদের থেকে কত ছোট আন্দাজ আছে তোর।।সমস্যা কি মুখ মুছে দিলে।দরকার হলে কোলে নিয়ে ঘুরবে।আওয়ার প্রিন্সেস ডিজার্ভ দ্যাট প্রিন্সেস ট্রিটমেন্ট। “
প্রিয়া লজ্জায় পারছে না টেবিলের নিচে লুকাতে।আকাশ সে লজ্জারুণ মুখটা দেখে হাসলো।
হঠাৎ ফিরলো রাকিবদের দিকে।কপাল কুচকে জিজ্ঞেস করলো,”রিয়ান কই।”
রাকিব, রেদোয়ান মাতা নাড়লো দুদিকে।জানেনা তারা।রাতুল অবশ্য বললো না কিছু।অস্থির দৃষ্টি বোলালো এদিকওদিক। খুজলো রিয়ান কে।দেখতে পেলো না আশেপাশে।
ওকে অবশ্য বেশ অনেকক্ষণ হলোই দেখতে পাচ্ছে না সে।রাকিব কফিতে চুমুক দিলো।উদাশ গলায় বললো,”একবার বলেছিলো কাকে পিক করতে যাবে।সেখানে গিয়েছে কি না।”
সবার কপাল কোচকালো।এখানে তাদের কোনো গেস্ট আর আসা বাদ নেই।আর রিয়ান এর পরিবার আসার কথা নয়।ক্লাইন্ট!নয় বোধহয়।

“গায়েজ সারপ্রাইজ। “
একটা মেয়েলি কন্ঠের আওয়াজে পিছন ফিরলো সবাই।মেয়েটি ছুটে এলো তাদের দিকে।এসেই ঘটালো অঘটন।কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই আকাশকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো।উপস্থিত সকলের চোয়াল ঝুলে পরলো একপ্রকার। তবে রাকিবরা কয়েকজন বোধহয় অবাক হলো না।হতাশার দীর্ঘশ্বাস ফেললো।প্রিয়া চমকে গেছে,মেয়েটা বসা রত আকাশকে জড়িয়ে ধরেছে।আকাশের নিজের মুখটাও বিরক্তি তে ছেয়ে গেলো।দু হাতে সরিয়ে দিলো গলায় জড়ানো হাত খানা।প্রিয়ার হাতের কাঁটাচামচ ততক্ষণে শক্ত করে প্লেটে চাপ দিয়ে ধরা।সবাই এক এক করে দেখলো তাদের।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সবার আগে কথা বলে উঠলো রাতুল,চেয়ার ছেড়ে উঠে গিয়ে মেয়েটার হাত টেনে সরিয়ে আনলো।আলতো হাতো জড়িয়ে ধরলো।
“সৌমি,হোয়াট আ সারপ্রাইজ। “
সৌমির চোখেমুখে রাজ্যের খুশি। তার খানিক দূরেই রিয়ান দাড়িয়ে হাসিমুখে।
“তাইনা?কেমন সারপ্রাইজ দিলাম হু?”

সবাই কষ্টেশিষ্টে হাসলো।কপট হাসি যাকে বলে।অযাচিত অতিথি এসে পরলে যে অবস্থা হয় আরকি তেমন অবস্থা সকলের।রাতুলকে পাশ কাটিয়ে একই ভঙ্গিতে অয়নকেও জড়িয়ে ধরতে গেলো সৌমি।
শিয়া ফট করে উঠে দাড়াতেই চমকে উঠলো মেয়েটা।শিয়া কে বোধহয় এখানে এক্সপেক্ট করেনি।
অয়ন কে ছেড়ে দ্রুত সরে আসলো।অবাক গলায় বললো,”সারপ্রাইজ দিতে এসে সারপ্রাইজ হয়ে গেলাম।শিয়া!ওয়াও!”
এক নজর তাকালো অয়নের দিকে।অয়ন রাগে মুখ লাল করে বসে আছে অন্যদিক পেলে।
শিয়া সৌজন্য হাসলো।”আমারাই বেশি সারপ্রাইজ হয়েছি…তোমাকে দেখে।”
সৌমি কারোর উত্তরের অপেক্ষা করলো না।পাশ থেকে চেয়ার টেনে নিয়ে বসলো আকাশের পাশে।প্রিয়া সরু চোখে দেখছে সবটাই।
রিয়ান নিজেও এসে বসলো রেদেয়ান এর পাশে।

“ওয়াও,সবাই এখানে দেখছি।তোরা কবে এলি?”
কথাটা বললো রাকা আর তুষির দিকে ফিরে।
“এসেছি গত সপ্তাহে। “
সোমি বোধহয় আপসেট হলো খানিকটা।অভিযোগ এর গলায় বললো,”আমাকে জানাস নি কেনো।আমিও আসতাম একসাথে। “
তুষি চোখ বুজে নিজের বিরক্তি কনট্রোল এর চেষ্টাায়।রাকা স্বাভাবিক গলায় বললো,”আমরা এসেছি আমাদের হাসবেন্ড দের কাছে।তোকে কার কাছে রাখতাম এনে!বোরিং হতিস তুই।”
সৌমির মধ্যে মোটেই ভাবাবেগ লক্ষ করা গেলো গেলো না।আড়চোখে আকাশের দিকে তাকালো একবার।লজ্জা লজ্জা মুখ করে বললো,”মোটেই না।আকাশ তো ছিলো।”

উপস্থিত সবাই ফট করে তাকালো প্রিয়ার দিকে।মেয়েটার চোখমুখ অন্যরকম দেখাচ্ছে।সেখানে স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে সৌমি নামক ন্যাকা বস্তুটাকে তার মোটেও পছন্দ হয়নি।আকাশ চোখবুজে নিজেকে ধাতস্থ করলো।এতো মানুষের মধ্যে নারীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা মোটেও ভালো দেখাবে না।সৌমিকে পাত্তা না দিয়ে উঠে গেলো সেখান থেকে।ফুড জোনের ওদিক যেতে যেতে চোখে চোখ পরলো তুষির সাথে। তুষি বোধহয় মূহুর্তে বুঝে গেলো তার করণিয়।সৌমির দিকে তাকিয়ে গদগদ ভাব করে প্রিয়ার ডান পাশ থেকে উঠে এসে বসলো আকাশের বসা জায়গায়।আকাশ মিনিটখানেকের মধ্যে একগ্লাস পানি হাতে ফিরে এসে বসলো প্রিয়ার এপাশে।নিঃশব্দে পানি এগিয়ে দিলো প্রিয়ার দিকে।প্রিয়া খপ করে গ্লাসটা ধরলো ঠিকই।তবে খেলো না।বরঙ চোখ রাঙানি দিলো আকাশকে।আকাশ বেচারা এই মূহুর্তে প্রেয়সীর রাগ ভাঙানোর চেষ্টা কিভাবে করবে,সময়ের ওপর ছেড়ে দিয়ে বসে রইলো।
রাতুল বাঁকা হাসলো,আকাশ এহনাজ বেশ জব্দ।প্রেম কর আরও,বিড়াল ছানার মতো প্রেমিকার পিছন পিছন ঘোর ভয়ে।শব্দ করে হেসে ফেলতে ইচ্ছে হলো।দৃষ্টি মিললো বাকি বন্ধু দের দিকে।সবাই বোধহয় একই জিনিসএ হাসতে চাইছে,অথচ পারছে না।রাতুল হেলে তাকালো সৌমির দিকে।এক নজর দেখে নিলো রিয়ান কে।সৌমিকে আনাটা যে রিয়ানেরই প্ল্যান বুঝতে তার এক মিনিট ও সময় লাগেনি।সৌমি তাদের ফ্রেন্ড সার্কেলের কেউ নয়।বলা বাহুল্য সম্পর্ক রিয়ান এর সাথেই টুকটাক। টুকটাক নয়,বলা যায় জাস্ট ফ্রেন্ড নামক অশ্লিল ট্রেন্ড এর ফলোয়ার দুজন।মাখামাখি ভাব প্রচুর।বিছানা অবধি সম্পর্ক গড়িয়েছে,অথচ তারা নাকি জাস্ট ফ্রেন্ড।সৌমিকে তাদের গ্রুপের কেউ একবিন্দু পছন্দ করেনা।আকাশের বাবার বিজনেস পার্টনারের মেয়ে। একই ভার্সিটিতেও ছিলো।সব মিলিয়ে সৌজন্যতার খাতিরে ভালো ব্যবহার করতে হয় আরকি।

“তা সৌমি এখানে কি মনে করে?”
সৌমি বাঁকা চোখে তাকালো রাতুল এর দিকে।রাতুল এর প্রশ্ন টা বোধহয় তার পছন্দ হয়নি।
“কি মনে করে মানে!আমি তোমাদের গেস্ট। “
“,ইনভাইট কখন করলাম?”
মুখচেপে হাসির শব্দ পাওয়া গেলো আশপাশ থেকে।সৌমি চোখ গরম করলো,রিয়ান দ্রুত বলে উঠলো,”আমি ইনভাইট করেছি ওকে।”
“রিয়ান যেখানে সৌমি সেখানেএএ”
রাতুল এর বাকা কথায় সৌমি প্রতিবাদ করে উঠলো।
“মোটেই না।রিয়ান আর আমি জাস্ট ফ্রেন্ড। আমি তো এসেছি..।”
আড়চোখে তাকালো আকাশের দিকে।প্রিয়ার নজরে পরছে সবকিছুই।সৌমির নজর আকাশের দিকে পরতেই উঁচু হিল খানা দিয়ে চেপে ধরলো আকাশের পায়ের ওপর।ব্যাথায় চোখমুখ খিঁচে এলো আকাশের।এ তো মহা সমস্যা। সে কি করলো!তার কি দোষ।তার ওপর ক্ষেপে যাচ্ছে কেনো মেয়েটা।
রাতুল আর বলতে দিলো না সৌমিকে।চোখ টিপলো,তার আগেই বলে উঠলো,”জাস্ট ফ্রেন্ড! কাম অন গায়েজ।আমরা সবাই অ্যাডাল্ট এখানে।তোমরা দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক। ভুল হতেই পারে।হোক জেনেশুনে বা ভুলে ভুল!উই ডোন্ট মাইন্ড।এখানে রিয়ান রুম টা কিন্তু মাস্টার বেড রুম।”

রাকিব, রেদোয়ান হাসি সামলাতে না পেরে ঘুরে অন্য দিক ফিরলো।তুষি,রাকা মাথা নামিয়ে ফেলছে টেবিলের ওপর।হাসির তোরে টেবিল কাপছে।আকাশ,অয়ন স্বভাবমাফিক শব্দহীন বাঁকা হাসলো।রিয়ান চোখ রাঙিয়ে তাকালো রাতুল এর দিকে,বেচারার রাগে চোখমুখ ছেয়ে গেছে।সৌমির মধ্যে রাগ কম কপট লজ্জা দেখতে পাওয়া গেলো।প্রিয়ার জাস্ট অসহ্য লাগছে মেয়েটাকে।শরীরের নড়াচড়ার ভঙ্গি দেখলেই বোঝা যাচ্ছে গায়ে পরা।আর পোষাকের কি ছিড়ি।এতবার বার লজ্জায় লাল নীল হয়ে আকাশের দিকে তাকানোর কি মানে!রাতুল এর কথার মানে ধরতে না পারার মতো বাচ্চা এখনে কেউ নেই।তার পরেও রিয়ানকে ছেড়ে আকাশের দিকে এতো হায়নার মতো তাকানোর মানে কি।প্রিয়ার ইচ্ছে হলো এক গ্লাস পানি ছুড়ে মারতে মেয়েটার দিকে।
রিয়ান দ্রুত ধমকে উঠলো রাতুল কে।

“রাতুল!পাস্ট ইজ পাস্ট।এখানে এসব তুলে অকওয়ার্ড ফিল করানোর কি মানে!”
রাতুল ড্রিং এ চুমুক দিলে।তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখলো রিয়ান এর চোখে।ফিচলে হাসলো।
“কিছু বিষয় পাস্ট হয়না রিয়ান।স্পেশালি ফর গার্ল।আই থিং ইউ নো দ্যাট।”
সৌমি অধৈর্য হয়ে উঠলো।রাতুল এর দিকে তাকিয়ে আহ্লাদী গলায় বললো,”উই ওয়ার ড্রাংক দ্যাট দে।জাস্ট আ লিটল মিসটেক।”
উপস্থিত সকলের মুখে বিদ্রূপ এর আভাস ছেয়ে গেলো।
রাকা ঘাড় বাকালো।”লুজিং ভার্জিনিটি বিফোর ম্যারেজ ইজ আ নরমাল মিসটেক!সাচ আ লেম এক্সকিউজ!”
“জাস্ট স্টপ ইট গাইজ।এসব নিয়ে কথা বলার সময় এটা!লেটস্ স্কিপ টা টপিক।”
অয়নের ধমকে থামলো সকলে।সৌমির মুখ রাগে ফুসছে।এতক্ষণ রাগ হলেও এখন ঘিন্না লাগছে মেয়েটাকে প্রিয়ার।প্রিয়া ফট করে উঠে দাড়ালো।সকলের দিকে তাকিয়ে বললো,
“আমার প্রচন্ড মাথা ধরেছে। আমি একটু রুমে গেলাম।”

কেউ বাধা দিলো না।সৌমির গায়েপড়া ভাব তাদের কারোরই পছন্দ না।খুব শীগ্রই বাকিরাও উঠবে।দ্রুত ডিনার সেরে যার যার রুমে যেতে পারলে এই ন্যাকার থেকে বাচা যাবে।শিয়া মাথা নাড়লো বোনের দিকে তাকিয়ে।প্রিয়া রক্তিম চোখের ভস্ম করা নজর দিলো আকাশের দিকে।রাতুল হেসে ফেললো সেটা দেখে।শাড়ির কুচি ধরে গটগট করে শব্দ করে জায়গা ত্যাগ করলো প্রিয়া।মূহুর্তেই সৌমি একপ্রকার উড়ে এসে বসলো আকাশের পাশ টায়।প্রিয়া যেতে যেতে একনজর ঘাড় ঘুড়িয়ে দেখলো সেটা।তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো।মুখ বাঁকিয়ে রওনা দিলো নিজের রুমে।আকাশ সাথে সাথে চেয়ার থেকে উঠতেই কবজি টেনে ধরলো সৌমি।আকাশ বিরক্তসূচক শব্দ করলো।হাত টা ছাড়িয়ে নিতে নিতে বললো,

“আই হ্যাভ টু গো সৌমি।”
“তুমি কোথায় যাচ্ছো।আমি সবে এলাম।তোমার জন্য এসেছি আমি। কত প্ল্যান করেছি জানো?”
“সবাই আছে তো এখানে।প্রিয়া একা একা গেলো।আমাদের ফ্লোর পুরো ফাঁকা। মেয়েটা অন্ধকার ভয় পায়।”
প্রিয়ার জন্য এতো টেনশন এর কারণ বুঝলো না সৌমি।আবার হাত ধরলে গেলে ধমকে উঠলো আকাশ।
“আই ডোন্ট লাইক অল দিস সৌমি।প্লিজ ডোন্ট টাচ।”
আকাশ হেচকা টানে হাত সরিয়ে একপ্রকার দৌড়ে এগিয়ে গেলো হোটেলের দিকে।
সৌমি আহত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো সেদিকে।ঘুরে তাকালো সবার দিকে।

আকাশপ্রিয়া পর্ব ৩৩

“প্রিয়া কে!”
“শিয়ার বোন।”জবাব দিলো রেদোয়ান।
“তো শিয়া যেতো!আকাশের পার্টি টা মিস হয়ে গেলো।”
রাতুল বাঁকা হাসলো।রিয়ানকে দেখে নিলো একবার।রিয়ান ও চোখমুখ লাল করে তাকিয়ে আছে আকাশের প্রস্থান এর দিকে।
“প্রিয়া আকাশের গার্লফ্রেন্ড…আকাশের বেবিগার্ল… “
“ইনফ্যাক্ট আমাদেরও। “ হেসে বললো রাকা

আকাশপ্রিয়া পর্ব ৩৪ (২)