Home আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৫৩

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৫৩

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৫৩
অরাত্রিকা রহমান

সকাল বেলা~
সকাল ৮টার কাছাকাছি বাজছে। সূর্যের কিরণ খুব একটা নেই, বরং অনেক টাই তির্যক ও ঠান্ডা আবহাওয়া এখন বান্দরবান অঞ্চলে। মিরায়ার শরীরে বারান্দা থেকে বয়ে আসা ঠান্ডা বাতাসে একটু পর পর কেঁপে কেঁপে উঠছে কিন্তু বেশ রাত করে ঘুমিয়েছে বলে চোখ আর খুলছে না ওভাবেই ঘুমাচ্ছে। অতিরিক্ত শীতে না পারতে রায়ানের দিকে ঘুরে রায়ানের বুকে লুকিয়ে নিল নিজেকে সাথে শরীরটাও রায়ানের শরীরের সাথে মিলিয়ে দিল। রায়ান ও ঘুমের ঘোরে মিরায়াকে খুব আদরে নিজের বুকে দুই বাহুর দ্বারা জড়িয়ে নিলো।

মিরায়া রায়ানের অধীনে থাকার পর কিছু টা গরম অনুভব করে শান্তিতে ঘুমাতে থাকে কিন্তু রায়ানের আর ঘুম হলো না। মিরায়ার চুল এলোমেলো হয়ে রায়ানের মুখের উপর পড়ছিল বলে রায়ান একটু কাচুমাচু হয়ে চোখ মিটিমিটি খুলে দেখলো তার হৃদপাখি ঠিক তার বুকের মধ্যিখানে মুখ লুকিয়ে ঘুমাচ্ছে – এই দৃশ্য দেখে কি আর তার ঘুম হয়?! না একদম না, ঘুম নিজের মতো চলেগেলে রায়ান চোখ একটু পরিষ্কার করে মিরায়ার বাচ্চাসুলভ মায়া মায়া মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলো কিছু সময়।
প্রায় কয়েক মিনিট পর মিরায়ার এলোমেলো চুল গুলো গুছিয়ে নিয়ে আলতো করে মিরায়ার কপালে একটা চুমু খেয়ে নিয়ে ঘুম আড়ষ্ট গলায় বলল-

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“হৃদপাখি.. তুমি কি জানো তোমার ঘুমিয়ে থাকার সুযোগ এর আগেও নিয়েছি আমি। জানলে হয়তো বিশ্বাস করে আমার কাছে আসতে না এভাবে। এখন যে এতো কাছে আছো, কি ইচ্ছে করছে জানো?”
মিরায়ার শব্দ নেই, সে ঘুমের রাজ্যে ব্যস্ত।
রায়ান নিজের প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিয়ে দিল-
“ইচ্ছে করছে আদরে আদরে সাজিয়ে তুলি তোমাকে। কিন্তু এই মায়া মায়া মুখটা আমাকে খুব খারাপ ভাবে জাদু করে রেখেছে, তোমার অস্বস্তি আমার সহ্যই হয় না। কবে তুমি আমাকে নির্দ্বিধায় আপন করবে বউ? আমি কি দ্বিতীয় বার বিয়ের পরও বউ আনবক্স করতে পারবো না?”
রায়ান নিজের প্রশ্ন মিরায়ার কাছে রাখলো তবে উত্তর পেল না। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে বলল-
“ওহ আল্লাহ, একটু রহম করো আমার উপর। I don’t know what she has done to me.. I am going crazy…”
রায়ান কথাটা বলেই মিরায়ার দিকে তাকিয়ে দেখে, চোখ সরিয়ে নিয়ে মিরায়াকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে নিতে নিতে বলল-

“ধুর দেখবোই না! দেখলেই আদর পায় আমার।”
পরে আর কি বউকে জড়িয়ে নিজেও আবার ঘুমিয়ে গেল।
সকাল এখন ৯টা বাজে। মিরায়ার ঘুমের ঘোর একটু কমে এলে মিরায়া মিটিমিটি চোখ খুলল। আধ আলোতে ঘুম চোখে রায়ানের দিকে তাকিয়ে চমকে সরতে গেলে ব্যর্থ হয়ে নিজের জায়গায় আটকে রইল। রায়ান এমন ভাবে মিরায়ার কোমর পিঠ জড়িয়ে আছে যে চাইলেই ছুটে আসা সম্ভব নয়। মিরায়ার নড়াচড়াতে রায়ান ঘুমের মধ্যেই যেন কি ভেবে মিরায়াকে নিজের আরো কাছে এনে অস্পষ্ট ঘুম জড়ানো গলায় আওয়াজ করে আবদার করল-
“উউমম…থাক না একটু। আরাম লাগছে।”

মিরায়া রায়ানের ঘুম আড়ষ্ট আওয়াজ শুনে যেমন পুলকিত তেমন অবাক। আর তার প্রেক্ষিতেই রায়ানের দিকে তাকালো, কই না তো, রায়ান তো জেগে নেই। মিরায়া বেশ কয়েকবার দেখলো হাত নাড়িয়ে কিন্তু কিছুই হলো না। বুঝতে আর বাকি নেই ঘুমের মাঝেই কিছু চিন্তা করে কথা বলেছে রায়ান। বিষয় টা মিরায়াকে খুব মজা দিল যেন। সকাল সকাল কি ভেবে দুষ্টু মি করতে ইচ্ছে করলো তার কে জানে, ভাবলো সে রায়ানের এখন ঘুমের ঘোরে কথা বলার সুযোগ নেবে তাই রায়ান থেকে নিজেকে না ছুটিয়ে উল্টো আরো কাছে ঘেঁষে মৃদু আওয়াজে প্রশ্ন করলো-
“এবার ঠিক আছে?”
রায়ান ঘুমের মধ্যেই স্বপ্ন দেখছে ভেবে ওইভাবেই বলল-

“হুমমম…!”
মিরায়ার রায়ানের ঘুমের মাঝে হুমমম বলাটা খুব ভালো লাগলো তাই প্রশ্ন ও চলতে থাকলো।
-“আরাম লাগছে?”
-“হুমমম…!”
-“আমি কি আপনার বউ?”
-“হুমমমম…!”
মিরায়া মুখ টিপে একটু হেঁসে ফেলল।
-“আমাকে পছন্দ?”
-“হুমমমমম…!”
এতো প্রশ্নের মাঝে পড়ে রায়ান মনে হয় বিরক্ত হলো তাই মিরায়ার কোমর একটু খামচে ধরে নিজের কাছে টানলে মিরায়া হালকা আর্তনাদ করল-“আউউ..!”

রায়ানের কানে গেল না। মিরায়া বিরক্তি প্রতিক্রিয়া নিয়ে রায়ানের ঘুমের চেহারার দিকে তাকালো রায়ান কে ডাকতে তবে তা আর পারলো না। রায়ানের অবুঝ মিষ্টি চেহারার দিকে তাকিয়ে থেকে মিরায়া হতাশ হয়ে বলল-
“কেউ বলবে এই নিষ্পাপ মুখওয়ালা লোকটা আমার সাথে এতো অসভ্যতামি করে। মুখ দেখলে মনেই হয় না লোকটা এতো বেপরোয়া।”
হালকা হেসে মিরায়া রায়ানের চুলে হাত দিয়ে তা ঠিক করতে করতে বলল-
“এমন একটা সকাল কত কল্পনা করেছি জানেন? যেই সকালটা কেবল আমার আর আপনার হবে। আপনি আমাকে সকাল সকাল খুব বিরক্ত করবেন আর আমি চুপচাপ সবটা মেনে নেব, সহ্য করবো।”
মিরায়া নিজের মনে কল্পনা করে মিষ্টি হাসলো। হঠাৎ তার চোখ রায়ানের ঠোঁটের দিকে পড়তেই নিজের মুখ ফুলিয়ে বলল-

“বড্ড অধৈর্য আপনি। ওভাবে বোন আর বন্ধুর সামনে বুঝি চুমু খেতে আছে? নিজের তো লজ্জা নেই সাথে আমার টাও ডুবিয়ে দিয়েছেন। যখন তখন হামলা চালান আমার ঠোঁটে, এমন স্বৈরাচারী আচরণ মানতে আমি রাজি নই।”
রায়ান এখনো ঘুমাচ্ছে। ঘনিষ্ঠতার কথা মনে করে মিরায়া নিজের কথায় নিজেই লজ্জা পেয়ে মিটিমিটি হেঁসে রায়ানের বুকে মুখ লুকালে তার হঠাৎ মনে পড়লো এমনটা তো হওয়ার কথা নয়। রায়ান তো তাকে নিজের সাফাই দেয় নি। এতো তাড়াতাড়ি সব ঠিক হলে তো হবে না। মিরায়া তখনি নিজেকে রায়ানের থেকে ছাড়িয়ে গড়িয়ে গেলো বিছানার অপর দিকে কিন্তু মিরায়া খেয়ালই করে নি তারা বিছানার কিনারেই ছিল, তাই আঁতকা গোড়ানোতে রায়ানের ও ঘুম ভেঙে যায় আর মিরায়া ও বিছানা থেকে ধপ করে পড়ে যায়।

-“হৃদপাখি…!”
-“আআআআআ…!”
রায়ান ধড়ফড় করে উঠে বসে মিরায়াকে ডাকলে মিরায়াও বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে আওয়াজ করলো। রায়ান চট জলদি মেঝেতে তাকিয়ে মিরায়াকে বসে থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করলো অবাক হয়ে-
“মিরা..তুমি নিচে কি করছো?”
বিছানা থেকে পড়ে গেছে শুনলে রায়ান তাকে খেপাতে পারে এই ভেবে মিরায়া কথা পাল্টাতে দাঁত বের করে মেঝেতে হাত বুলাতে বুলাতে বলল-
“হেহেহে…ও কিছু না মেঝে টা সুন্দর তাই দেখছিলাম আর কি। কিভাবে বানিয়েছে এটা?”
রায়ান বুঝলো না মিরায়া কি বলল তার বুঝার ইচ্ছে ও ছিল না। সে তাড়াতাড়ি বিছানা থেকে নেমে মিরায়াকে কোলে তুলে নিয়ে আবার বিছানায় শুইয়ে দিতে দিতে বলল-

“এমনিতেই ঠান্ডা দিন, দয়া করে মেঝে সুন্দর দেখতে তাই মেঝেতে এভাবে বসে থাকবেন না। ঠান্ডা লেগে যাবে আপনার, মহারানি।”
মিরায়া রায়ানের অতিরিক্ত যত্নে তার কথার ভেঙচি কাটলো। রায়ান মিরায়াকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে আবার মিরায়াকে জড়িয়ে শুয়ে পরতে চাইলে মিরায়া একটু কাচুমাচু হয়ে রায়ান কে জিজ্ঞেস করলো-
“কি করছেন? সকাল হয়েছে তো, আবার শুচ্ছেন কেন?”
-“আমার ঘুম পুরো হয় নি। আরো ঘুমাতে হবে।”

রায়ান কোনো তোয়াক্কা না করে মিরায়াকে জড়িয়ে শুয়ে পড়লে মিরায়া বিরক্ত হয়ে বলল-
“আপনার ঘুম হয়নি, ঘুমাতে হবে তো ঘুমান মানা করেছি নাকি। আমাকে জড়িয়ে আছেন কেন এভাবে?”
-“শুধু ঘুম না, ভালো ঘুম ঘুমাতে হবে। আমি আবিষ্কার করলাম তোমাকে জড়িয়ে ঘুমালে ভালো ঘুম হয়।”
-“ওহ আচ্ছা, তাই? তা এই আবিষ্কার আপনি কবে করলেন শুনি?”
-“এই তো সোনা, বেশ কিছুক্ষণ আগেই।”
মিরায়া বিরক্তির চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গেলো সাথে সাথে রায়ানের হাত নিজের উপর থেকে সরাতে চেষ্টা করে বলল-
“ভালো করেছেন আবিষ্কার করেছেন। এবার আমাকে ছাড়ুন আমি উঠবো। আমার ঘুম নেই।”
রায়ানের কানে গেলে তো সেই কথা! সে তো দিব্বি শুয়ে আছে। মিরায়া রায়ানের শক্ত বাঁধন থেকে নিজেকে ছাড়াতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে বলল-

“আমার ওয়াশ রুমে যেতে হবে ছাড়ুন না!”
রায়ান আর কিছু না বলে একটু অভিমান মুখ করে মিরায়াকে ছেড়ে দিলে মিরায়া বিছানার থেকে নেমে দৌড়ে ওয়াশ রুমে পালিয়ে যায়। রায়ান হালকা চোখ খুলে দেখে মুচকি হেঁসে আবার ঘুমিয়ে গেল।

ড্রয়িং রুম~
সকালে একই সময়ে রিমি আর সোরায়া দুই জনেই ড্রয়িং রুমে অবস্থান করছে। দুজনেই বেশ সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেছে। কেয়ারটেকার কাকা সবার নাস্তা তৈরিতে ব্যস্ত থাকায় রিমি আর সোরায়া তার সাহায্য করতে রান্নাঘরে গেলে কাকা তাদের কিছু করতে মানা করে দেন এবং বাড়িটা ঘুরে দেখতে বলেন। রিমি আর সোরায়া তারপর বাগান বাড়িটা একটু ঘুরে দেখেছে এখন তারাও ক্লান্ত হয়ে গেছে এতো বড় বাড়ি ঘুরে দেখতে দেখতে।
-“এতো বড় বাড়ি..! বাবা গো! দেখে শেষ করা যাবে না।”
সোরায়া সোফায় বসে হাঁফ ছেড়ে বলল।
-“বড় হলেই কি হয়? কত সুন্দর করে সাজানো দেখেছিস? রুচি বোধ স্পষ্ট ফুটে উঠে গোটা বাড়িতে।”
রিমিও সোরায়ার পাশে বসে পড়লো।

-“আমার না হঠাৎ জায়গা বদল হলে ঘুম হয় না তেমন, তাই আজ এতো সকালে উঠে গেছি।”
-“হুম, আমারও একই অবস্থা রে বনু। নতুন জায়গায় ঘুম হয় না।”
-“খুদা পেয়েছে রিমি আপু। নাস্তা তৈরি হয় নি এখনো?”
-“তৈরি হলে তো কাকা বলতেন বনু।”
সোরায়ার খিদে পেয়েছে কিন্তু খাবার তৈরি নেই বলে মুখটা বাংলার পাঁচ করে ঝুলিয়ে নিলে রিমি একটু মুচকি হেঁসে টি-টেবিলের উপর রাখা ফলের ঝুড়ি থেকে একটা আপেল নিয়ে হঠাৎ সোরায়ার মুখে দিয়ে বলল-
“নে, আপেল খা। পেট একটু ভরবে।”
সোরায়া হকচকিয়ে গিয়ে মুখের আপালে একটা কামড় দিয়ে আপেলটা হাতে নিয়ে সাইডে ধরে থেকে ভ্রু কুঁচকে রিমিকে বলল-

“আপুউউউ…আমি আপেল খাই না। আমার পছন্দ না।”
রিমি সাথে সাথে জিভ কেটে বলল-
“সরি সরি, আমি জানতাম না বনু।”
পিছন থেকে হঠাৎ মাহির এসে সোরায়ার হাত টেনে নিয়ে হাতে থাকা এঁটো আপেলটায় কামড় দিয়ে খেতে খেতে বলল-
“কিন্তু রিমি, আমার আপেল খুব পছন্দ।”
সোরায়া এমন হঠাৎ ঘটনায় মাহিরের দিকে তাকালো অবাক হয়ে, সাথে রিমিও দুষ্টু হেসে মাহির কে দেখলো- সে ভালোই বুঝতে পারছিল মাহিরের সোরায়ার প্রতি কোনো দূর্বলতা
আছে হয়তো। মাহির সোরায়ার হাতটা ছেঁড়ে দিয়ে পিছন থেকে ঘুরে এসে সোরায়ার পাশে বসলে সোরায়া রেগে গিয়ে বলল-

“আপেল পছন্দ, তো ঝুড়ির থেকে নিয়ে খেলেই তো হয়। আমার এঁটো টা খেলেন কেন?”
মাহির সোরায়ার দিকে ঝুঁকে কানে ফিসফিস করলো-
“ঝুড়িতে থাকা আপেল পছন্দ তা বলি নি। যেটা তুমি ছুঁয়েছো সেটা পছন্দ।”
সোরায়ার মাহির কাছে আসাতে একটু অস্বস্তিতে পড়ে গেল কিন্তু মাহির বলা করি তার কাছে খুব পছন্দ হলো না হয়তো। মুখ বেঁকিয়ে বলল-

“eeeuuu, so cringe!”
মাহির ঠোঁট কামড়ে হেঁসে সোজা হয়ে বসলো। রিমিও ওদের দেখে হাসছে।
-“কি নিয়ে এতো হাসাহাসি হচ্ছে?”
রুদ্র সিঁড়ি থেকে নামতে নামতে বলল।
সবাই একসাথে রুদ্রর দিকে তাকালে রুদ্র সবার উদ্দেশ্যে বলল-
“Good morning everyone.”
-“Good morning.”
সোরায়া আর মাহির প্রতি উত্তর করলেও রিমি করলো না তাই রুদ্র সোফার কাছে এসে রিমির পাশে বসে রিমির উদ্দেশ্যে একটু আছে ঘেঁষে বলল-

“Good morning Rimi. ঘুম কেমন হলো?”
রিমি একটু চমকে উঠলো সেটা তার শরীরের লোম দাঁড়িয়ে উঠা দেখেও ঠাওর করা যায়। রিমি কাল রাতের ঘটনার পর আশা করে নি রুদ্র আর তার সাথে এভাবে কথা বলবে কিন্তু যা তার ভাবনা ছিল রুদ্র তার বিপরীতে। রিমি সবার সামনে আর অদ্ভুত আচরণ না করে রুদ্রর উত্তর করলো-
“Good morning Rudro. ঘুম ঠিক থাকই হয়েছে। জিজ্ঞেস করার জন্য থ্যাংকস।”
সোরায়া রিমি আর রুদ্রর মধ্যে একটু ভাব বিনিময় দেখে মাহিরের দিকে তাকালো কিন্তু মাহির তো তার দিকেই তাকিয়ে ছিল। একটু স্বাভাবিক হয়ে সোরায়া মাহির কে ইশারা করলো এখান থেকে উঠে যাওয়ার জন্য কিন্তু মাহির না বুঝে সোরায়ার দিকেই তাকিয়ে রইল। সোরায়া বিরক্ত হয়ে মুখ খিচিয়ে একটু বাঁকা হেঁসে মাহিরের শার্টের কলার খামচে ধরে নিজের দিকে টেনে বলল-

“চলুন এখান থেকে। ওদের সময় দিন।”
এই বলে সে মাহিরের হাত ধরে ধপ করে সোফা থেকে উঠে গিয়ে বলল-
“রিমি আপু রুদ্র ভাইয়া, তোমরা থাকো আমি আর মাহির স্যার একটু বাগান থেকে ঘুরে আসছি কেমন।”
মাহির হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে, রুদ্র সোরায়ার ইশারা বুঝলো, তবে রিমি সোরায়াকে আটকানোর আগেই সোরায়া মাহিরের হাত ধরে টেনে নিয়ে বেরিয়ে গেল।
সোরায়া মাহির চলে গেলে রিমিও আর একা রুদ্রর সাথে থাকতে চাইছিল না বলে সোফা থেকে উঠতে চাইলে রুদ্র রিমির হাত ধরে টেনে সোফায় বসিয়ে রিমির উপরে চলে আসে দুই দিকে হাত রেখে। রিমি সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে নিয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলো-

“রুদ্র কি করছেন আপনি?”
রুদ্র রিমিকে ভয় পেতে দেখে হালকা হেঁসে রিমিকে জিজ্ঞেস করলো-
“রিমি..আমি আপনাকে অনেক সম্মান করি। এই কথা কি আপনি মানেন?”
রিমি মিটিমিটি চোখ খুলে বলল-
“হুম, মানি।”
রুদ্র এবার রিমির মুখের দিকে ঝুঁকে কানের কাছে মুখ নিয়ে জিজ্ঞেস করলো-

“যদি কখনো সেই সম্মানের জায়গা আমার পুরুষত্বের কারণে নষ্ট হয় তবে কি আমাকে খারাপ ভাববেন?”
রিমির গলা শুকিয়ে গেল রুদ্রর কথায়। সে এমনিতেই কাল রাতের পর থেকে রুদ্রর প্রতি খুব দূর্বলতা অনুভব করছে তার উপর হঠাৎ রুদ্রর এমন কাছে আসা বড্ড জ্বালাময়। রিমি চোখ বড় করে রুদ্রর দিকে তাকালে রুদ্র রিমির চোখে হাজারো প্রশ্নের ভীর দেখলো আর নিজের থেকেই উত্তর করলো-
“চিন্তা নেই, আপনার অনুমতি ছাড়া কিছু করবো না। শুধু জানিয়ে রাখলাম, চাহিদার সামনে সম্মান খাটে না। So just don’t think I am gentle cause I am not.”
রিমি রুদ্রর কথার আগা মাথা বুঝলো না। এমন পরিস্থিতিতে বুঝার কথাও না। ব্রেইন সেল গুলো যেন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে তার। রুদ্র রিমির চুল গুলোতে একটু হাত ফিরিয়ে দায়িত্ব ভরা গলায় বলল-
“Don’t think too much, okay? I will handle everything. Just be there for me.”
রুদ্রর কথায় রিমি ঘোরে পড়ে গেল আর তাতে মাথা নাড়িয়ে সম্মতিও দিলো না চাইতেই। রুদ্রর এসব বলায় কারণ হয়তো কাল রাতের ঘটনা। তার মনে হচ্ছিল রিভিও তার প্রতি দূর্বল তবে লোকসমাজের জন্য নিজেকে দূরে রাখছে যেটা হয়তো তাকে সাহস দিলে কেটে যাবে।

সোরায়া মাহিরের হাত ধরে টেনে বাগানে এনে বিরক্তি নিয়ে বলল-
“আচ্ছা আপনি কি বোঝেন না? রুদ্র ভাইয়া রিমি আপুকে ভালোবাসে। ওদের একটু একা ছেড়ে দেওয়া দরকার।”
মাহির ভ্রু উঁচিয়ে সোরায়ার কথায় মাথা উপর নিচ নাড়িয়ে একপা এগিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“আচ্ছা…তুমি খুব বোঝো তাই না?”
-“অবশ্যই। রুদ্র ভাইয়ার রিমি আপুর দিকে যেভাবে তাকায় সেই তাকানো দেখেই বোঝা যায়।”
মাহির সোরায়ার দিকে এগিয়ে গিয়ে তার কোমর জড়িয়ে ধরে নিজের কাছে টেনে জিজ্ঞেস করলো-
“কিভাবে তাকায় রুদ্র রিমির দিকে? আমাকে বল আমিও চেষ্টা করি, তবে যদি আমাকে একটু বোঝো তাতেও শান্তি ।”

মাহিরের হঠাৎ কাছে টানাতে অবাক হলো, মুখে কোনো কথা নেই, চোখ গুলো কপালে উঠার অবস্থা। মাহির আবারো জিজ্ঞেস করলো-
“কি হলো বলছো না কেন? কিভাবে তাকাতে হয় মনের কথা বোঝাতে?”
সোরায়া কি বলবে এবার কিছু ভেবে না পেয়ে মাহির হাত তার কোমর থেকে সরানোর চেষ্টা করতে করতে বলল-
“সমস্যা কোথায় আপনার হ্যাঁ। যখন তখন আমাকে স্পর্শ করেন। আমি আপনার স্টুডেন্ট। Keep that in mind.”
মাহির তখনি সোরায়াকে ছেড়ে দিয়ে বলল-
“সরি।”
সোরায়া চোখ ছোট ছোট করে ওখান থেকে চলে যেতে পা বাড়ালে মাহির এক প্রকার হুমকি দিয়ে বলল-
“কথা শেষ হয়নি আমার। এর আগে এখান থেকে যাওয়ার সাহস দেখালে আমি তোমাকে স্পর্শ করার জন্য অনুমতির প্রয়োজন বোধ করবো না। stay still.”

সোরায়া নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে গেলে মাহির তার সামনে এসে স্পষ্ট গম্ভীর গলায় বলল-
“দেখ সোরা! তোমার মেসেজটা আমাকে ডিস্টার্ব করে দিয়েছে। আমি বড্ড প্রেমে পড়ে গেছি তোমার।”
সোরায়া চোখ বড় বড় করে মাহিরের দিকে তাকালো। তার বিশ্বাস হচ্ছে না এভাবে মাহির প্রেমের কথা বলে দিলো। মনে মনে বিড়বিড় করলো-
“এটা কোনো কথা? এভাবে কেউ মনের কথা কিভাবে বলে? এখন আমি কি উত্তর দেব!”
মাহির সোরায়ার দিকে এক পা এগোলে সোরায়া কিছু একটা বলে দেয় যা মনে আসছিল –
“দেখুন স্যার, আমি এতোটাও ডিস্টার্বড নই যে নিজের স্যারের প্রেমের ধার ধারবো।”
মাহির কোনো পাত্তা না দিয়ে বলল-

“এখন থেকে হয়ে যাবে। প্রয়োজনে আমি ডিস্টার্ব করবো।”
সোরায়া ভাবলো স্টুডেন্ট টিচার সম্পর্কের দোহাই দিলে হয়তো মাহির পিছন হটবে –
“এমন কিছু করলে আপনি আমাকে নিজের স্টুডেন্ট হিসেবে
হারিয়ে ফেলবেন, এই বলে দিলাম আমি।”
তবে মাহিরের এই কথাটা যেন বেশি ভালো লাগলো-
“আলহামদুলিল্লাহ,তাহলে তো আরো গুরুত্ব দিয়ে ডিস্টার্ব করতে হবে।”
সোরায়া চোখ বাঁকিয়ে মাহিরের দিকে তাকিয়ে থাকলে মাহির নিজেকে আরও পরিষ্কার করলো-
“এভাবে কি দেখছো? Trust me, I don’t want you to be student…Just be mine anyhow but not this…”
সোরায়ার কাছে বলার মতো আর কিছু বাকি রইল না। তর্ক করার জন্য কোনো যুক্তি ও নেই আর না ইচ্ছে আছে।

ছাদ ঘর~
বেলা ১০টা। মিরায়া একবারে গোসল করে বেরিয়েছে ওয়াশ রুম থেকে। পড়নে লাল রংয়ের কুর্তি ভেজা চুল টাওয়াল পেঁচানো। নতুন বউ হিসেবে শাড়ি পাড়া উচিত ছিল তা সে জানে তবে শাড়ি পড়তে পারে না বলে আর চেষ্টা করেনি। বউ বলে লাল রংয়ের কুর্তি টাই পড়েছে।

মিরায়া আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখতে গিয়ে খেয়াল করলো কাল রাতে রায়ানের দেওয়া লাভ বাইটের জায়গাটায় কালসিটে দাগ পড়ে গেছে। ফর্সা গায়ে দাগটা বেশ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। মিরায়া সেখানে আঙুল ঘুরিয়ে নিয়ে মুচকি হেঁসে আয়নার মধ্যে দিয়ে বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা পুরুষের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল-
“রাক্ষুসে লোক, আদর করার বেলায় পাগল হয়ে যায়। রয়ে সয়ে কোনো কাজ হয় না তার দ্বারা। হুহহ..!”
কথাটা বলেই আয়নার সামনে থেকে সরে গিয়ে চুল খুলে দিয়ে কয়েকবার চুল ঝাড়া দিয়ে বারান্দার দিকে যায় মিরায়া পানির ক্ষুদ্র ফোটা রায়ানের চোখে মুখে পড়লে সে হালকা বিরক্তি নিয়ে চোখ মেলে তাকায়। মিরায়া বারান্দার পর্দা গুলো সরিয়ে দিয়ে বারান্দায় গেলো। রায়ান ঘুম জাড়ানো চোখে এক নজর এই দৃশ্য দেখে সাথে সাথে চোখ কচলে ঠিক করে তাকিয়ে দেখলো সে সব সত্যি সত্যি দেখছে। মিরায়া খেয়াল করেনি রায়ান উড়ে গেছে, সে নিজের মতো করে ভেজা চুল মুছে যাচ্ছে ।

রায়ান বিছানায় উঠে বসে অপলক দৃষ্টিতে মিরায়ার দিকে তাকিয়ে রইল। তার মনের ভিতরের অস্থিরতা বাড়ছে-
“আল্লাহ! কেন কেন? আমার সাথেই কেন? এখন যদি একটু ধরতে যাই নানা বাহানা করবে তাহলে কেন আমার সামনে এইভাবে আসতে হবে ওর? আমাকে পাগল করতে! পাগলামি সহ্য করতে পারে না তো কেন করে এমন? আমি ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে দিতে অতিষ্ট।”
রায়ানের মুখ দিয়ে একটা বড় দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। বিছানা থেকে নেমে সোজা বারান্দায় গেল মিরায়ার কাছে। রায়ান মিরায়ার পিছনে গিয়ে দাঁড়ালে মিরায়াও বুঝতে পারছিল রায়ান উঠেছে কিন্তু পিছনে না ফিরে ভেজা চুল গুলো ইচ্ছে করে পিছনে ছুড়ে মারলো। রায়ানের মুখে চুলের ঝামটা পড়লে সে মৃদু আওয়াজ করলো-“আহ্!”
মিরায়া রায়ানের আওয়াজে ঠোঁট কামড়ে হাসলো সামনের দিকে ফিরেই। পিছনে ফিরলো না বলে রায়ান ভ্রু কুঁচকে নিয়ে মিরায়াকে জিজ্ঞেস করলো-

“লেগেছে আমার। পিছন ফিরে একটু দেখতে তো পারো নাকি।”
মিরায়া পাত্তা না দিয়ে সামনে তাকিয়েই বলল-
“আমি কি কাউকে বলেছি আমার পিছনে এসে দাঁড়িয়ে থাকতে? যে এসে দাঁড়িয়েছে সে নিজের দায়িত্বে ফল ভোগ করবে। এতে আমার কি করার আছে?”
রায়ান ঠোঁট কামড়ে ধরে বলল-“আচ্ছা? এমন ব্যাপার নাকি?”
মিরায়া মাথা নাড়ালো রায়ান ও কম যায় না- হঠাৎ পিছন থেকে মিরায়াকে জড়িয়ে ধরে তার ভেজা চুলে মুখ গুঁজে দিয়ে দাঁড়ালো। মিরায়া চমকে উঠে রায়ানের হাতের উপর হাত দিয়ে বলল-
“কি করছেন এটা? ছাড়ুন আমাকে। ”

রায়ান আরো গভীর ভাবে ভেজা চুলের মাঝে ডুবে যেতে যেতে বলল-
“আমি কি কাউকে বলেছি আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে? যে এসে দাঁড়িয়েছে সে নিজ দায়িত্বে ফল ভোগ করবে।”
মিরায়া আহাম্মক হয়ে রইল। সে বোঝেনি রায়ান এভাবে তার বলা কথা তার উপরেই ফলাবে। রায়ান বেসামাল হলো মিরায়ার কাছে এসে। কাঁধে থেকে চুল একদিকে সরিয়ে উন্মুক্ত ঘাড়ে ঠোঁট ছুয়ালো। মিরায়া রায়ানের প্রতিটা স্পর্শে কেঁপে কেঁপে উঠছে। কিছু বলতে যাবে তার আগেই আওয়াজ আটকে আসছে গলায়। রায়ান মিরায়ার কানের লতিতে হাল্কা করে ঠোঁট ছুঁইয়ে ফিসফিস করে জিজ্ঞাসা করলো-
“সকাল সকাল শাওয়ার নিয়েছো কেন বেইবি?”

মিরায়ার শরীরে শিহরণ হয়ে যাচ্ছে। রায়ানের প্রশ্নের কি উত্তর দেবে ভেবে পাচ্ছিল না। রায়ান আরো গভীর ভাবে মিরায়ার ঘাড়ে স্পর্শ করে জিজ্ঞেস করলো-
“কিছু জিজ্ঞেস করেছি আমি, উত্তর দাও। শাওয়ার নেওয়ার কারণ কি?”
মিরায়ার শরীর বাঁকিয়ে উঠছে । আমতা আমতা করে কথা বলার চেষ্টা করে বলল-
“এএ…এমনি।”

রায়ান মিরায়াকে এবার নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিলো। মিরায়া হাত দুটো মুঠো পাকিয়ে চোখ বন্ধ করে কাঁপছে শিহরণে। রায়ান মিরায়ার চুল গুলো সামনে থেকে সরিয়ে দিতেই খেয়াল করলো রাতের কামড়ের দাগ টা। স্ত্রীর গায়ে নিজের আদরের চিহ্ন দেখে রায়ান ঠোঁট প্রসারিত করে হাসলো। তারপর ঝুঁকে সেখানে পরম মমতায় আলতো করে ঠোঁট ছোয়ালে মিরায়া খামচে ধরলো রায়ানের চুল।
-“আহহ্! আস্তে… আমার চুল ছিঁড়তে চাইছো নাকি ?”
রায়ানের কথায় মিরায়া লজ্জায় হাত রায়ানের চুল থেকে সরিয়ে নিল। রায়ান সোজাসুজি হয়ে দাঁড়িয়ে বলল-
“বিয়ের পরের দিন সকালে তোমার এই এমনি এমনি শাওয়ার নেওয়াটা আমার মানসম্মান খোয়াতে সক্ষম। তা কি জানো?”

মিরায়া চোখ তুলে রায়ানের দিকে চাইলো ফেল ফেল করে। রায়ানের কথা ঠিক তবে সে তো এসব ভেবে শাওয়ার নেয় নি। দুইজনের দিক চিন্তা করে অবশেষে বলে বসলো-
“এতোই যখন মানসম্মান খোয়ানোর ভয় আপনার এক কাজ করুন, আপনিও শাওয়ার নিয়ে নিন। আমারও মানসম্মান খোয়াবে। শোধ বোধ।”
রায়ান ঠোঁট কামড়ে হেঁসে বলল-
“ঠিক বলেছ এটা করলেই ষোলকলা পূর্ণ হবে।”
লাভ বাইটের দিকে ইশারা করে বলল-
“আর সাথে এই দাগ তো আছেই। Cherry on top, right baby? আদর করা হলো না কিন্তু চিহ্ন রয়েছে গেছে। wow..”
মিরায়া বিরক্ত হয়ে বলল-

“এখন এতো কিছু বলেছেন কেন? কামড়ানোর আগে মনে ছিলো না? আমি কি বলেছি আমাকে কামড়ান?”
-“I wish… যদি বলতে।”
রায়ান অস্পষ্ট বিড়বিড় করলো। মিরায়া রায়ানের সামনে থেকে চলে যেতে চাইলে রায়ান মিরায়ার হাত ধরে নিলো। মিরায়া রায়ানকে রাগি গলায় বলল-
“রায়ান হাত ছাড়ুন আমার।”
রায়ান মিরায়ার কোমর আঁকড়ে ধরলো –
“আর যদি না ছাড়ি তো?”
-“এতো জেদ কেন আপনার? এমন কেন আপনি?”
রায়ান মিরায়াকে আরো কাছে টেনে গভীর গলায় অধিকার দেখিয়ে বলল-
“একবার বলব মাথায় ঢুকিয়ে নাও,Whatever and however I am, I’m all yours. Do you get me,
Sweetheart?”

মিরায়া একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। তার রায়ানের কথা খারাপ লাগে না কখনোই কিন্তু ভালো লাগা প্রকাশ করবে তার সুযোগ ও রায়ান করে দিচ্ছে না বলে তা নিয়ে সে বেশ জ্বালায় আছে। মিরায়া আর কিছু বললো না শুধু মুখ নিচু করে ওভাবেই রায়ানের আয়ত্তে থাকলো। রায়ান মিরায়াকে একটু দেখে নিয়ে তার দুই হাতের আচলায় মিরায়ার মুখটা নিয়ে সম্পূর্ণ মুখে ঠোঁট ছুঁইয়ে আদর করে মনের আঁশ মিটিয়ে ছেড়ে দিয়ে বলল-
“আমি শাওয়ার নিয়ে আসছি। গিয়ে আমার জন্য হালুয়া বানাও একটু। খেতে ইচ্ছে করছে খুব।”
-“আমি পারবো না।”

-“আমি শাওয়ার শেষে হালুয়া পেলে সেটা খাবো নয় তো তোমাকে। Now choice is yours…I am ok with both..”
কথা টা বলেই রায়ান টাওয়াল নিয়ে চলে গেল ওয়াশ
রুমে।
মিরায়ার জেদ ধরে বসে থাকার আর কোনো সুযোগ নেই-
“অশ্লীল লোক একটা। এখন আমার হালুয়া বানাতে হবে তার জন্য। ধুর অসহ্য। এই লোকের বিশ্বাস নেই যা বলেছে করতেই পারে।”
তারপর সেও রান্নাঘরে চলে গেলো চুল শুকিয়ে।

ড্রয়িং রুম~
মিরায়া ড্রয়িং রুমে গিয়ে কাউকে দেখতে পেলো না। রিমি রুদ্র ও নিজেদের ঘরে চলে গেছে। মিরায়া বিরক্তি নিয়ে হালুয়া রান্না করা শুরু করলো। কিন্তু মাথায় হঠাৎ তার কি দুষ্টু বুদ্ধি এলো কে জানে দুধ, সুজি, ঘি আর বাকি সব উপকরণ নিয়ে চিনির বদলে লবণ নিলো।
-“হালুয়া খেতে ইচ্ছে করছে তাই না? খাওয়াচ্ছি হালুয়া।”
মিরায়া বাঁকা হেঁসে কথাটা বলে রান্নায় মন দিলো।
৩০মিনিট পরে, রায়ান শাওয়ার শেষ করে ড্রয়িং রুমে এলে মিরায়া মিষ্টি হেঁসে বলল-
“আপনার মিষ্টি বউয়ের হাতের মিষ্টি হালুয়া রেডি।”

রায়ানের সামনে মিরায়া হালুয়ার বাটি টা ধরলো। বউয়ের হঠাৎ এমন পরিবর্তন রায়ানের ভালো লাগলেও সন্দেহজনক ঠেকলো। রায়ান খাবার টেবিলে বসে পড়লে মিরায়া তার সামনে বাটিটা দিয়ে বলল-
“নিন,খেয়ে বলুন তো মিষ্টির পরিমাণ ঠিক আছে নাকি।”
রায়ান মিরায়ার দিকে এক নজর দেখে হালুয়ার বাটির দিকে তাকালো চোখ ছোট ছোট করে। মিরায়া আবার জেদ দেখিয়ে বলল-

“কি হলো খাচ্ছেন না কেন? এতো কষ্ট করে বানালাম আমি। খাবেন না আপনি? ফেলে দেবো?”
রায়ান মিরায়ার হাবভাব দেখছে শুধু মিরায়া মনে মনে বিড়বিড় করছে-
“খাচ্ছে না কেন আজব তো?”
মিরায়া একটু নাটক করতে হালুয়ার বাটি তুলে নিয়ে বলল-
“থাক। খেতে হবে না ফেলে দিচ্ছি।”
রায়ান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মিরায়ার হাত থেকে বাটিটা নিয়ে নিলো। আর চামচে করে হালুয়া মুখে দেওয়ার আগে বলল-

“এতো নাটক করতে হবে না থাক। আমার মিষ্টি বউ টা এতো কষ্ট করে আমাকে কিছু একটা বানিয়ে খাওয়াতে চাইছে বিষ মিশিয়ে খাওয়ালে ও খেয়ে নেব।”
মিরায়ার কপালে ভাঁজ পড়লো। মনে মনে আওড়ালো-
“কি আজব লবণ দিয়েছি শুধু তাই বলে বিষের কথা বলতে হয়? নিজেকে বিধবা করবে নাকি আমি। কথার কি ছিড়ি।”

রায়ান হালুয়া মুখে দিতেই বুঝলো মিরায়া লবণ দিয়েছে চিনির বদলে সে আন্দাজ ও করেছিল কিছু টা তবে সে চাইছিল মিরায়া যদি তাকে সাফার করতে দেখে শান্তি পায় তাহলে সে নিজেকে কষ্ট দিতেও রাজি। রায়ান মিরায়ার দিকে এক নজর দেখে মুচকি হেসে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিল হালুয়া খাওয়াতে।
মিরায়া রায়ানের দিকে তাকিয়ে থাকলো। রায়ানকে এভাবে নোনতা খেতে দেখেও তার খারাপ লাগছে এই দিকে রায়ান ও খেয়ে যাচ্ছে। মিরায়ার মনে চলছে দোটানা।

-“কি জ্বালা এটা! খাওয়া যায় না এমন কিছু বউ দিয়েছে বলেই খেতে হবে? রেখেও তো দিতে পারে। ”
মিরায়া এবার রায়ানের থেকে হালুয়ার বাটি টা কেড়ে নিলো। রায়ান ঠোঁট কামড়ে একটু হেঁসে জিজ্ঞেস করলো-
“কি হলো? নিয়ে নিলে কেন? খাওয়া শেষ হয়নি তো।”
মিরায়া বিরক্ত হলো রায়ানের কথায় তাই আর কিছু না বলে হালুয়ার বাটিটা নিয়ে গিয়ে সব হালুয়া ফেলে দিয়ে বলল-
“আমাকে আর কিছু টা সময় দিন আমি হালুয়া বানিয়ে দিচ্ছি আবার।”
রায়ান মুচকি হেঁসে বলল-

“হাজার বার চেষ্টা করলেও এমন হালুয়া আর রান্না করতে পারবে না তুমি। ফেললে কেন, আমি আরো একটু খেতাম।”
মিরায়া বুঝতে পারলো রায়ান ইচ্ছে করে এখন মজা করছে তার সাথে তাই সেও মজা করে জিজ্ঞেস করলো-
“হালুয়া টা খেতে কেমন লেগেছে আপনার শুনি?”
রায়ান মিরায়ার দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল-
“বর বলে ডাকো। তাহলে বলবো কেমন লেগেছে।”
মিরায়া নাটকীয় ভাবে জিজ্ঞেস করলো-

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৫২ (২)

“হালুয়া টা খেতে কেমন লেগেছে মাই হাবি?”
রায়ান মিরায়া কে কাছে টেনে নিয়ে বলল-
“তোমার ঠোঁটের তুলনায় কম মিষ্টি ছিল। অনেক হালুয়া খেয়েছি এবার কাছে এসো, তোমার ঠোঁটের মিষ্টত্ব নিতে হবে আমার।”

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৫৪