Home আনহেলদি অবসেশন আনহেলদি অবসেশন পর্ব ১

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ১

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ১
কায়নাত খান কবিতা

—পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর নেশা হলো মানুষের নেশা!
আমাকে তোর নেশায় ধরেছে, অরিন…”
৪৭৫০টি অরিনের ছবির মাঝখানে দাঁড়িয়ে আনমনে কথাগুলো বলতে থাকে কিংশুক।আজ আরও ৫০টি ছবি যুক্ত হবে কিংশুকের ‘লাভ রুম’-এর দেয়ালে।
পুরো রুমটার চারপাশ জুড়ে শুধু অরিন।তার শৈশব, স্কুলজীবন, কলেজ, এখন বিশ্ববিদ্যালয়—জীবনের প্রতিটা ধাপের ছবি সেখানে যত্ন করে সাজানো। শুধু ছবি নয়, অরিনের ফেলে দেওয়া টিস্যু থেকে শুরু করে এমন বহু ব্যক্তিগত জিনিসও রয়েছে কিংশুকের গোপন সংগ্রহে। অরিনের অজান্তেই, অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে তার প্রতিটি জিনিস গুছিয়ে রেখেছে সে।

ভালোবাসা যখন মাত্রা ছাড়িয়ে একজন মানুষকে পুরোপুরি উন্মাদ করে তোলে, তখন তাকে বলে সাইকো লাভার।
কিংশুকও ঠিক তাই অরিনের সাইকো লাভার।
ভালোবাসা যখন প্রয়োজনের চেয়েও বেশি হয়ে যায়, তখন সেটাই রূপ নেয় আনহেলদি অবসেশনে।
আর অরিন ছিল কিংশুকের সেই আনহেলদি অবসেশন।
যাকে ভুলে থাকা কিংবা যার থেকে দূরে থাকা কিংশুকের পক্ষে অসম্ভব যন্ত্রণার।
কিন্তু আজ তার সেই অবসেশন তার কাছে নেই।
অরিন পালিয়ে গেছে—তাকে ফাঁকি দিয়ে।
পুরো শহরজুড়ে কারফিউ, আর্মি নামানো—কিছুই বাদ রাখেনি কিংশুক আবির খান।তবুও নিজের পলাতক স্ত্রীকে খুঁজে পায়নি সে।

যাকে সবাই চেনে কিং নামে।বিশ্বের তৃতীয় ধনকুব ‘ফাস্ট কিংস’ কে.কে.-এর একমাত্র নাতি—কিংশুক আবির খান।
কে.কে. নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে তুলেছেন এই বিশাল সাম্রাজ্য। বয়সের ভার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ছেলে ‘সেকেন্ড কিংস’ এ.কে. (আকাশ খান) এবং কন্যা অ্যাজেল (আতিয়া) ব্যবসার দায়িত্ব নিতে শুরু করেন।
আকাশ চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লন্ডনের নাগরিক। সেখানেই তার পুরো জীবন কাটে এবং সেখানকার এক উচ্চবংশীয় মেয়েকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে জন্ম নেয় দুই সন্তান—কিংস (কিংশুক) ও ক্যাট (ক্যাটরিনা)।সবকিছু ভালোই চলছিল।
কিন্তু কিংশুকের বয়স যখন মাত্র তেরো, তখন সে জানতে পারে তার মায়ের পরকীয়ার কথা। সেই সময় বিষয়টি বিলবোর্ড নিউজে ওঠার মতো বড় স্ক্যান্ডাল হয়ে দাঁড়ায়। সেকেন্ড কিংসের স্ত্রীর পরকীয়া নিয়ে চারদিকে শুরু হয় তুমুল গুঞ্জন।

সেই দিন থেকেই মেয়েদের প্রতি এক গভীর ঘৃণা জন্ম নেয় কিংশুকের মনে।
আর সেই ঘৃণা আরও ভয়ংকর রূপ নেয়, যখন অল্প বয়সেই তার বাবার অকাল মৃত্যু হয়।
মা-বাবা—দুজনকেই হারিয়ে কিংশুকের আপন বলতে ছিল কেবল তার দাদা, বোন আর ফুপি।
কিন্তু নির্মম সত্য—তাদের কেউই শেষ পর্যন্ত তার পাশে ছিল না।
আতিয়া বেগম কখনো নিজের শিকড় ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাননি। এর পেছনেও কারণ ছিল। বিশ্বের তৃতীয় ধনকুব ফাস্ট কিংস কখনোই তার ভালোবাসা মেনে নেননি। তাই আতিয়া বেগম আলাদা জীবন বেছে নিয়েছিলেন।
ভাইয়ের মৃত্যুর পর আতিয়া বেগম ক্যাটরিনাকে সঙ্গে নিয়ে যান।

কিন্তু কিংশুককে নিতে পারেননি।কারণ একটাই কিংশুকের জেদ। সে দাদার সঙ্গেই থেকে যায়।
সময় গড়ায়। কিংশুক বড় হতে থাকে, দাদার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসার হাল ধরতে শেখে।
২৪ বছর বয়সে তার একমাত্র ভরসা—দাদাকেও হারায় সে।
সেদিন থেকেই কিংশুক হয়ে যায় পাথর।
তবে সেই পাথর মনেও একদিন ভালোবাসার ফুল ফুটেছিল।
কিংশুক ভেবেছিল, বাকি জীবনটা সে এই ভালোবাসা নিয়েই কাটাবে।
কিন্তু সেই বিশ্বাসই একদিন রূপ নেয় জীবনের সবচেয়ে নির্মম মিথ্যায়।

—স্যার?”
ওমারের ডাকে ধ্যান ভাঙে কিংশুকের।
প্রশ্নভরা চোখে তাকায় সে।
—রোজ ম্যাডামের ইনফরমেশন পাওয়া গেছে।”
এক চিলতে হাসি খেলে যায় কিংশুকের ঠোঁটে।
ইশারায় ওমরকে চলে যেতে বলে সে।
তারপর আবার তাকিয়ে থাকে অরিনের ছবিগুলোর দিকে।
—মাই ডিয়ার ব্লাডি রোজ,
আই অ্যাম কামিং—টু মেক ইয়োর লাইফ হেল।”

সময়টা তখন ২০১৯ সাল, অক্টোবর মাসের ২১ তারিখ।
লন্ডনে তখন মোটামুটি বৃষ্টিময় পরিবেশ। সাধারণত অক্টোবর থেকে জানুয়ারি—এই কয়মাস লন্ডনে বৃষ্টি লেগেই থাকে।কখনো হালকা, তো কখনো ভারী বর্ষণ।
আজও তার ব্যতিক্রম নয়।
সকাল থেকেই টানা বৃষ্টি হচ্ছে। থামার কোনো নামগন্ধ নেই।
লন্ডনের বেলগ্রাভিয়ায় অবস্থিত একটি বিশাল মেনশন
‘King’s Mansion’।
দেড় কিলোমিটার জুড়ে পুরো এলাকায় মাত্র একটি বাড়ি।
বিশাল আধুনিক প্রাসাদের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। দূর থেকে তাকালেই বোঝা যায়—এটা কোনো সাধারণ মানুষের বাসস্থান নয়, বরং যেন কোনো গোপন সম্রাটের রাজপ্রাসাদ। আর হবেই বা না কেন?

এটি বিশ্বের তৃতীয় ধনকুবেরের নিবাস।
ফার্স্ট কিং এবং তার একমাত্র নাতি, থার্ড কিং-এর বসবাস এখানেই।
চারপাশ ঘিরে আছে ঘন বন। বাড়ির চারদিকে উঁচু দেয়াল, দেয়ালের শেষপ্রান্তে বিশাল আয়রন গেট। সেখানে পৌঁছাতে হলে প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ পেরোতে হয়। যদিও একে জঙ্গল বলা পুরোপুরি ঠিক নয়।পুরো এলাকাটাই আধুনিক থিমে তৈরি, যেখানে প্রকৃতি আর আধুনিকতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন।
গেটের ওপার থেকেই শুরু হয়েছে হাইওয়ে।
আর বাড়ির পেছনের অংশটা নেমে গেছে একেবারে সমুদ্র পর্যন্ত।
বাড়ির ভেতরটা সম্পূর্ণ আধুনিক, গ্লাসের দেয়াল, সেন্সর লাইট, লিফট, রুফটপে হেলিপ্যাড। বিশাল সুইমিং পুল থেকে একদিকে দেখা যায় ঘন বন, অন্যদিকে নীল সমুদ্র।
পুরো ডিজাইনটাই ফাস্ট কিংস এ.কে.-এর পছন্দ অনুযায়ী করা। কিংস মেনশনটি ডিজাইন করেছেন হলিউডের বিখ্যাত ডিজাইনার লুকা মডরিচ।
সকাল তখন ১১টা ৩৭ মিনিট।
কিংস মেনশনের সদর দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসে এক যুবক। বয়স মাত্র তেইশ।
গাঢ় কালো শার্টের ওপর তুষার সাদা স্যুট। কলার সামান্য খোলা, বুকের ভেতর থেকে ঝিলমিল করছে সূক্ষ্ম একটি চেইন।

চোখে কালো অ্যাভিয়েটর সানগ্লাস, মুখে হালকা দাড়ি, ঠোঁটে এক অচেনা গম্ভীরতা।
হাতে মোটা ঘড়ি, আঙুলে সোনালি আভায় মোড়া রিং।
গায়ের রঙ উজ্জ্বল শ্যামলা। আলো পড়লেই ত্বকে সোনালি ঝিলিক খেলে যায়।
চিবুকের ঠিক নিচে ছোট্ট একটি বাদামি তিল—যা তার মুখে এনে দিয়েছে এক অনন্য আকর্ষণ।
সে সামনে আসতেই দু’জন লোক গাড়ির দুই পাশে দাঁড়িয়ে পড়ে। একজন দরজা খুলে দেয়।
গাড়িতে উঠে বসে সে।

আজ তার গন্তব্য,কোলাহল থেকে দূরে হ্যাম্পস্টেড হিথ। সেখানে তার ফুপি ও বোন অবস্থান করছে।
বাবার সঙ্গে অভিমানের কারণে তার ফুপি তাদের বাড়িতে যাননি। সে কারণেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ কিংশুককে সেখানে যেতে হচ্ছে। এই ফাঁকেই ফুপি ও বোনের সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে।
প্রায় ৫৬ মিনিট সময় লাগে হ্যাম্পস্টেড হিথে পৌঁছাতে।
এখনো ভিলা কিছুটা দূরে।

চারপাশ সবুজে মোড়া। রাস্তার দুই পাশে ছোট ছোট গার্ডেনের মতো সাজানো পাহাড়ি উঁচুনিচু পথ। তার ওপর হালকা বৃষ্টি।সব মিলিয়ে প্রকৃতি যেন নিজের সৌন্দর্য উজাড় করে দিয়েছে।
হঠাৎ চলন্ত গাড়িটি জোরে ব্রেক কষে থেমে যায়।
ল্যাপটপ থেকে মনোযোগ ছুটে যায় কিংশুকের। সঙ্গে সঙ্গে তার গার্ডদের গাড়িগুলোও থেমে যায়। অল্পের জন্য একটার সঙ্গে আরেকটার ধাক্কা লাগেনি।
কিংশুকের দুই বিশ্বস্ত গার্ড, ওমার (আমিরাতের সদস্য) ও টাইগার (সিঙ্গাপুরের বডিবিল্ডার) তড়িঘড়ি করে নেমে এসে কিংশুকের গাড়ির জানালার সামনে দাঁড়ায়।
আর বাকিরা সামনে গিয়ে গাড়ি থামানোর কারণ অনুসন্ধানে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
কিংশুকের মেজাজ ক্রমেই গরম হতে থাকে।
যেদিন থেকে তার গ্র্যান্ডপা বিশ্বের তৃতীয় ধনকুবের হয়েছেন, সেদিন থেকেই নানা ঝামেলা লেগেই আছে।

— What happened, Omar?
— Sir, a few boxes standing over there. I think you should check it out.
— Hurry up!
খোলা রাস্তায় হঠাৎ পড়ে থাকা বড় বড় বাক্সগুলো দেখে গার্ডদের সন্দেহ হয়।ভেতরে বোমাও থাকতে পারে।কিংশুক গাড়িতে বসে নিজের রাগ সামলানোর চেষ্টা করে।ঠিক তখনই জানালার দিকে তাকিয়ে তার চোখ আটকে যায়।
সে ধীরে সানগ্লাস খুলে কাঁচ নামায়।চোখের পাতা যেন নড়তেই ভুলে যায়।১৫–১৬ বছরের এক কিশোরী।
সাদা অফ-শোল্ডার, হাঁটু-লম্বা সিম্পল ড্রেস পরা। গাছের ডাল থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে কিছু একটা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

চুল হালকা কোঁকড়ানো স্ট্রেইট আর কার্লির মিশ্রণ। বৃষ্টিতে অল্প ভিজে গেছে।মুখশ্রীতে চাইনিজ ছাপ থাকলেও পুরোপুরি চাইনিজ বলা যায় না। ছোট, চিকন নাক।
দেহের গঠনই বলে দিচ্ছে বয়স ১৫–১৬, বড়জোর এক-দেড় বছর এদিক-ওদিক।কিংশুকের পুরুষালি অ্যাডামস অ্যাপেল স্পষ্টভাবে উঠানামা করে।
নিজের মায়ের পরকীয়ার কারণে বাবাকে হারানোর পর নারীজাতির প্রতি তার মনে জন্মেছিল তীব্র ঘৃণা।
অথচ আজ। এক অপরিচিত কিশোরীকে দেখে তার হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক গতিতে ছুটছে।
খুব বেশি দূরে না থাকায় মেয়েটির মুখ থেকে শুরু করে দেহের প্রতিটি ভাঁজ সে সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে।
বাম পাশের জানালা থেকে আওয়াজ আসতেই তার ধ্যান সেদিকে ফেরে।
জানানো হয়, বাক্সগুলোর ভেতরে বোমা ছিল, রেসকিউ করা হয়েছে। পুলিশেও খবর দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু কিংশুকের মন পড়ে আছে ডান পাশে সেই রহস্যময়ীর দিকে।সে ফোন বের করে ক্যামেরা অন করে।ছবি তুলতে যাবে, ঠিক তখনই ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে মেয়েটি উধাও।কিংশুক তড়িঘড়ি করে গাড়ি থেকে নেমে গার্ডেনের ভেতরে ঢুকে পড়ে। সঙ্গে তার লোকজনও।
কিন্তু সেখানে কাউকেই পাওয়া যায় না, চুলের এক ঝলকও নয়।

— Damn it!
প্রচণ্ড রেগে যায় সে।জীবনে এই প্রথম কোনো মেয়েকে দেখে তার এত ভালো লেগেছে, অথচ তাকে আর খুঁজেই পেল না।রাগ সামলে আবার গাড়িতে উঠে বসে কিংশুক।
বোন আর ফুপির সঙ্গে দেখা করে সরাসরি অফিসে যাবে সে। দাদার সঙ্গে জরুরি কাজ রয়েছে।
রাত তখন ১০টা ৫৬ মিনিট।
অফিসের কাজ শেষ করে গ্র্যান্ডপার সঙ্গে বাড়ি ফেরে কিংশুক। আজ দুটি নতুন বিল্ডিং উদ্বোধন হয়েছে—চাপটা কম যায়নি।
বাড়ি ফিরে সবাই যে যার ঘরের দিকে যেতে থাকে।

— King?
— Yes, Grandpa?
— তোর মনি কি আসবে?
কিংশুক দাদার কাছে এগিয়ে যায়।
— No, Grandpa. মনি আসবে না।
একটি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে গ্র্যান্ডপা নিজের ঘরের দিকে চলে যান।
সারা জীবনের একটাই আফসোস, মনির অভিমান ভাঙাতে না পারা, শত চেষ্টার পরও তাকে এখানে আনতে না পারা।রুমে ফিরে কিংশুক ফ্রেশ হয়ে বেসিনের সামনে দাঁড়ায়। মুখে পানির ঝাপটা দেয়।
আয়নায় তাকাতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সকালের সেই নাম না জানা মেয়েটির মুখ।সে যেন তার দিকে তাকিয়ে একগাল হেসে একটি ফ্লাইং কিস ছুড়ে দেয়।কিংশুক চমকে পিছনে ফিরে তাকায় কিন্তু কেউ নেই।চোখ বন্ধ করেও রেহাই নেই।সেই রহস্যময়ী মুখ বারবার ভেসে উঠছে।শেষমেশ ল্যাপটপ খুলে কাজে বসে পড়ে। মন অন্যদিকে নিতে হবে।কিন্তু ব্যর্থ হয় সে।
অবশেষে ল্যাপটপ বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ে।
রাত তখন ২টা ১৭ মিনিট।

হঠাৎ ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে কিংশুক। কপাল কুঁচকে যায়।গালে হাত বুলিয়ে চারপাশ দেখে, না, সে নিজের ঘরেই আছে।তাহলে এতক্ষণ স্বপ্ন?স্বপ্নে সেই অপরিচিতা এসে তার গালে আদুরে পরশ ছুঁইয়ে গেল?
কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থেকে ফোন তুলে ওমারকে কল করে
— I need the best tattoo specialist and the best painter. Right now.
ফোন কেটে দিয়ে বেলকনিতে চলে যায় সে।৩৭ মিনিট পর ওমার এক বিখ্যাত ট্যাটু স্পেশালিস্ট ও একজন নামকরা পেইন্টারকে নিয়ে কিংস মেনশনে হাজির হয়।
ভয়ে ভয়ে তারা ভেতরে ঢোকে।বিশ্বের তৃতীয় ধনকুবেরের নাতি নিজে ডেকেছে, কাজটা নিশ্চয়ই সাধারণ নয়।কিংশুক ইশারা করে বসতে বলে।

— Do what I say.
পেইন্টার রং-তুলি নিয়ে বসে পড়ে।কিংশুক অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে একটি নারীর মুখের বর্ণনা দিতে থাকে। প্রতিটি ডিটেইল।১৮ মিনিট পর ক্যানভাস প্রস্তুত।
একদম সেই মেয়ে।এরপর নিজের বাহু বাড়িয়ে ট্যাটু স্পেশালিস্টকে নির্দেশ দেয় একদম নিখুঁতভাবে আঁকতে হবে।
১ ঘণ্টা ২১ মিনিট পর ট্যাটু সম্পন্ন হয়।
কিংশুক তাকিয়ে দেখে
__পারফেক্ট।

তারপর হঠাৎ ব্রাশ তুলে পেইন্টারের চোখে ঢুকিয়ে দেয়।একই পরিণতি হয় ট্যাটু স্পেশালিস্টেরও।
কারণ একটাইতারা কিংশুকের পছন্দের মেয়েটিকে অনুভব করেছে।লোকদের ইশারা করে জায়গা পরিষ্কার আর টাকা মিটিয়ে দিতে বলে সে।আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের বাহুর দিকে তাকায় কিংশুক
— মেয়ে যদি সিঙ্গেল থাকো, বাঁচবে।
না হলে—পার্টনারসহ মাটি চাপা দেবো।

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ২