Home আনহেলদি অবসেশন আনহেলদি অবসেশন পর্ব ২২

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ২২

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ২২
কায়নাত খান কবিতা

—-ঝুলন্ত বিয়ে ডান’’
বিয়ের কথা শুনে অরিনের পায়ের তলার মাটি সরে যায়, অবশ্য এখন সে ঝুলে রয়েছে। তাও তার শরীর দিয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে যায়। এভাবে কে বিয়ে করে? তাও ২৩ তলা বিল্ডিং এ ঝুলিয়ে রেখে।
কিংশুক পেপারটি পকেটে পুরে আড়মোড়া দিয়ে দাঁড়িয়ে পরে। অরিন তখন ও ঝুলেই ছিলো। সে শুধু কিংশুকের অমানবিক আচরণ দেখছিলো।কতটা অমানুষ হলে এইভাবে একটি মেয়েকে ঝুলিয়ে রাখে।
—– কিং? প্লিজ তুলুন আমাকে।’’
কিংশুক অরিনের হাত ধরে তাকে টেনে তুলে। ফ্লোরে বসে পরে অরিন। চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে থাকে তার। এখনো ও একটা আতঙ্ক তার মাঝে ভর করছে। আর একটু হলেই সে পড়ে যেতো। তার হাড়ের ও খোঁজ পাওয়া যেতো না।
হাঁটু পেরে বসে মুখ গুঁজে কান্না করতে থাকে অরিন। কিংশুক মাটিতে তার মুখ বরাবর বসে পরে।

—- আর কতক্ষণ কাঁদবে বেবিগার্ল? বাড়ি যাবে না?’’
অরিন কিছু না বলে তখন ও চুপচাপ কেঁদেই চলে। কিংশুক কিছু না বলে ঘড়ি দেখতে থাকে। ঠিক কতক্ষণ কাঁদতে পারে অরিন। এভাবে প্রায় ২০ মিনিট যাবৎ কান্না করতে থাকে অরিন। তারপর মোটামুটি স্বাভাবিক হয় সে। একটু একটু করে মুখ তুলে সামনে তাকায় অরিন। তাকাতেই আবার ও মুখ ঢেকে ফেলে।
কিংশুক চুপচাপ গালে হাত দিয়ে তার সামনে মাটিতে বসে বসে ঘড়ি দেখছিলো, সে ঠিক কত সময় কাঁদে।
—- মাত্র ২০ মিনিট কাঁদলে। আমি তো ভেবেছিলাম আজকে ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করবে।’’
অরিন কিছু না বলে শুধু দাঁতে দাঁত পিষতে থাকে।বেছে এমন একটা লোকের পাল্লায় পড়লো সে।
কিংশুক অরিনের হাত ধরে তাকে টেনে তুলতে থাকে। অরিন নিজের সমস্ত ভর দিয়ে বসে থাকার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যায়, কিন্তু কিংশুকের শক্তির কাছে তার শক্তি চুনোপুঁটির মতো।

—– শুধু শুধু শক্ত খাঁটিয়ো না জান। ইউ ক্যান্ট বিট উইথ মি।’’
কিংশুক অরিনকে টেনে তুলে শক্ত করে ধরে সামনে হাঁটতে থাকে। পায়ে অসহ্য ব্যাথা থাকায় কিংশুকের গতির সাথে নিজের গতি মেলাতে পারে না অরিন। বার বার পরে পরে যায় সে। এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে অরিনকে কোলে তুলে নেয় কিংশুক।
— শুধু আমার কালে উঠার ধান্দা সব।’’
— আমার বয়েই গেছে আপনার কোলে উঠতে।’’
— তাহলে ফেলে দেই ছাদ থেকে? ‘’
—- নাহহহহ।’’
অরিন চুপচাপ কিংশুকের গলা জড়িয়ে থাকে। এখন কথা বললেই বিপদ। পরে কিংশুক সত্যি সত্যি না তাকে ফেলে রেখে দেয়।
কিংশুক অরিনকে কোলে তুলে চুপচাপ হাঁটতে থাকে। তার পাশে গার্ডরা ফুল সিকিউরিটি দিয়ে হাঁটতে থাকে। কিংশুকের দৃষ্টি সামনে। অরিন একটু পরপর কিংশুকের পানে চায় তো পরক্ষণেই সামনের পানে তাকায়। তার গন্তব্য কোথায় জানা নেই। কিংশুক তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে বা যাবে সেটার সম্পর্কে ও তার কোনো ধারণা নেই। সে শুধু চারপাশের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে থাকে।
কিংশুক অরিনকে নিয়ে সোজা গাড়িতে বসে। অরিন পাশের সিটে বসতে চাইলে কিংশুক তাকে শক্ত করে ধরে নিজের কোলে বসায়।

—-পরপুরুষকে কি’স করতে পেরেছো, আর জামাইয়ের কোলে বসতেই অসুবিধা। ”
—- একটা কি’সের খেসারত এতো পরিমাণের দিতে হবে জানলে নিজেকে সামলে নিতাম।”
কিংশুক অরিনের গাল শক্ত করে চেপে ধরে ডীপলি কি’স করে।
—– কিং?”
—- ডোন্ট! উল্টো পাল্টা কিছু করতে বাধ্য করো না।”
কিংশুকের ঠান্ডা মস্তিষ্কের ভয়ংকর থ্রেট শুনে চুপসে যায় অরিন। কোনো প্রকারের কথা বাড়ায় না আর। কিং কী কী করতে পারে এটা অরিনের থেকে কেউ ভালো জানে না।
সারা রাস্তা কি’স করতে থাকে অরিনকে কিংশুক। গাল মোছা ছাড়া অরিনের আর তেমন কোনো কিছু করার মতো ছিলো না।
গাড়ি সোজা এয়ারপোর্টের সামনে এসে দাড়ায়। গ্লাস দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখতেই আত্মা কেঁপে উঠে অরিনের। তাহলে কী কিং তাকে নিয়ে চলে যাচ্ছে? তাহলে তার মায়ের কী হবে? প্রচন্ড ঘাবড়ে যায় অরিন।রীতিমতো ছোটাছুটি শুরু করে দেয় সে।

—- আপনি আমাকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছেন?”
—– আমাদের বাড়ি।”
—- আমি যাবো না।”
—- সেটা আমি ঠিক করবো।”
অরিন গাড়ির ডোর খোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে। কিন্তু লক করা ডোর কী চাইলেই খোলা সম্ভব? কথায় আছে না বিপদে সবার আগে বুদ্ধি লোপ পায়, ঠিক তেমন হয়েছিল অরিনের সাথে। সে লক করা ডোর বার বার খোলার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলো। এবং কিংশুকে রীতিমতো ধাক্কা দেওয়া শুরু করেছিল।
—- আমাকে কঠিন হতে বাধ্য করো না বেবি গার্ল। তোমার বেইমানির কথা ভুলিনি এখনো ও।”
—– আই ক্যান্ট গো উইথ ইউ।”
—— ওকে। ”
—– ওটা ক… ওমমম.।”

সম্পূর্ণ কথা শেষ করার আগেই অরিনের মুখে ক্লোরোফিল যুক্ত রুমাল চেপে ধরে কিংশুক। মুহুর্তের মধ্যেই নিস্তেজ হয়ে পরে অরিনের শরীর। কিংশুক দক্ষ হাতে সামলে নেয় অরিনকে। চুপচাপ তাকে শক্ত করে ধরে বসে থাকে কিছু ক্ষণ। জ্ঞন হীন অরিনের মুখটা সামনে তুলে ধরে কিং। অরিনের ওষ্ঠে ডুবিয়ে দেয় নিজের ওষ্ঠ যুগল।
—– আই লাভ ইউ বেবি গার্ল।
—–প্লেনের ভেতরটা সোনালি আলোয় ভাসছে। বাইরে রাতের অন্ধকার, তারাদের ছায়া পড়েছে জানালার কাঁচে।
পিট পিট করে চোখ খুলতে থাকে অরিন। পুরোপুরি জ্ঞান ফিরার পর নিজেকে প্রাইভেট জেটের ভিতরে আবিষ্কার করে অরিন। তার মানে কিংশুক তাকে সেন্সলেস করে সোজা জেটে নিয়ে চলে এসেছে। কিন্তু তার পাসপোর্ট কোথায় পেলো সে? আর বাকি প্রসিজার কীভাবে কমপ্লিট করলো সে? পরক্ষণেই অরিনের মনে সে তো এখন ওয়ার্ল্ডের দ্বিতীয় রিচ পার্সন। এসব বোকা বোকা জিনিস ভাবা বোকামি ছাড়া কিছুই নয়।

গুটিসুটি হয়ে বসে থাকে ইউনডো সিটে।শরীরের প্রতিটা কোষে আতঙ্ক জমাট বাঁধছে। চারপাশে ভালো ভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখে সে, কোনো লোকের লেশমাত্র নেই। আর কোনো শব্দ তার কান অব্দি যাচ্ছে।
কিন্তু হঠাৎ কারো পায়ের পদধ্বনি শুনতে পায় অরিন। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখতে পায় কিংশুককে। তাকে দেখার সাথে সাথে এক অজানা ভয় কাজ করে নিজের মাঝে।
কিংশুক ধীরে ধীরে অরিনের কাছে আসতে থাকে আর অরিন ভয়ে আরো গুটিসুটি হয়ে বসে থাকে।
কিন্তু কিংশুকের জন্য অরিনের এই ভয়টাই যেন এক ধরনের উপভোগের বিষয়। সে খুব উপভোগ করছে অরিনের এই ভয়টা।
কিংশুক ধীর পায়ে অরিনের পাশে এসে খুব কাছে গা ঘেঁসে বসে। কিংশুকের গায়ের সুগন্ধি, নিঃশ্বাসের গরম ছোঁয়া অরিনের মনের ভয়টা আরও দ্বিগুন করে তুলছে। কিংশুক একদম অরিনের শরীর ঘেঁসে বসে।এবং অরিনের চুল গুলো ঠিক করতে থাকে।

—–ওয়েক আপ জান?”
কিংশুকের গলার স্বর গভীর, মাদক’তাময়।যেনো অন্য কিছু চলছে তার মাঝে। তার হাত ক্রমশো পিঠ থেকে অন্য বিভিন্ন জায়গায় বিচরণ হতে থাকে।
চোখ বন্ধ করে নেয় অরিন, কিন্তু পরের মুহূর্তেই কিংশুক তার চিবুকে হাত রাখে, জোর করে মুখটা নিজের দিকে ফেরায়।

——লুক অ্যাট মি জান। আমি চাই তুমি অনুভব করো, আমার ছোঁয়া, আমার অধিকার! আমার ভালোবাসা।”
কথা বলতে বলতে কিংশুকের চোখ যায় অরিনের ঠোটের পানে। সে তার আঙুল অরিনের ঠোঁটের ওপর স্লাইড করতে থাকে।শুকনো ঢোক গিলে অরিন।
কিংশুক অরিনের মুখটা আরও কাছে টেনে নেয়, চোখেমুখে একধরনের ঘোর লাগানো নে’শা। সে অরিনের কানের কাছে আলতো করে বলে,

——-আজকে আর কোনো দূরত্ব এলাউ করবো না জা’ন।”
হুট করে কিংশুককে ধাক্কা দিয়ে উঠে অরিন।, কিন্তু কিংশুকের বাঁধন শক্ত। অরিন নড়াচড়া ও করতে পারে না।
কিংশুক অরিনের কোমর চেপে ধরে নিজের দিকে টেনে নেয়, যেন তার সমস্ত অস্তিত্ব নিজের করে নিতে চাই সে।
—– কিং প্লিজ লিভ মি।”
দু-চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পরে অরিনের। সে খুব চেষ্টা করে নিজেকে ছাড়ানোর। কিন্তু অরিনের কান্না যেনো কিংশুকের কান অব্ধি পৌঁছায় না। সে মেতে আছে আজকে অরিন নামক নে’শাতে।
কিংশুক অরিনের গলায় মুখ ডু’বিয়ে ফেলে, গভীর শ্বাস নেয়, যেন অরিনের গায়ের গন্ধে মা’তাল হয়ে যাচ্ছে।
—- আই ক্যান্ট বেবি গার্ল। ”
কিংশুকের ঠোঁট অরিনের গালের ওপর, তারপর ধীরে ধীরে নিচের দিকে নেমে আসে। শক্ত করে চেপে ধরে সে কিংশুকের চুল।
প্লেনের দুলুনি, জানালার বাইরে ছুটে চলা মেঘ, আর কিংশুকের মাঝে জমতে থাকা উত্তেজনা পুরো পরিবেশটাকে রুদ্ধশ্বাস করে তুলে।

—–আই নো! আমাকে সামলাতে তোর ক’ষ্ট হবে।”
বলেই কিংশুক অরিনের গলায় কা’মড় বসায় ঠিক তখনই প্লেন কিছুটা কেঁপে ওঠে। একটা ঝাঁকুনি লাগে, আর সেই সুযোগে অরিন কিংশুকের বাঁধন থেকে নিজেকে কিছুটা সরিয়ে নিতে পারে। কিন্তু পরক্ষণেই কিংশুক অরিনকে আরো শক্ত করে ধরে ফলে আর ওর কাঁধে একটা গভীর চুম্ব”ন এঁকে দেয়, যেন এটা তার জন্য শাস্তি।

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ২১

—-আমাকে একটু বোঝ অরিন।”
—- আপনি একটা সাইকো কিং। নিজের চিকিৎসা করান।”
কিংশুক হঠাৎ করে অরিনকে টেনে নিজের কোলে বসিয়ে ফেলে,তার হাত দুটো শক্ত করে ধরে নিজের টাই দিয়ে বেঁধে ফেলে।
—- সাইকোদের ভালো বাসা অনেক interesting জান। চল দেখায় তোকে।”

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ২৩