আনহেলদি অবসেশন পর্ব ২৩
কায়নাত খান কবিতা
——- সাইকোদের ভালো বাসা আরো interesting হয় জান। চল তোকে দেখায়।”
অরিনের বাঁধা হাত জোড়ার মাঝে নিজের হাত দিয়ে আরো শক্ত করে চেপে ধরে কিংশুক। আরেক হাত দিয়ে অরিনের দৃঢ় এক টানে তাকে নিজের বুকের কাছে চেপে ধরে।অস্বস্তির টানাপোড়েনে অরিন ছটফট করতে থাকে।এই নৈকট্য তার অভিজ্ঞতার বাইরে। কিন্তু কিংশুকের ভাবমূর্তি গভীর মগ্নতায় ভরপুর। সে খুব করে চাইছে অরিনকে।মুখ গুঁজে দেয় অরিনের গ্রীবায়, নিঃশব্দে তাকে নিজের মধ্যে টেনে নেয়। চোখ বন্ধ করে ফেলে অরিন।এখন কিংশুককে আটকানো তার সাধ্যের বাইরে।
টুকরো টুকরো চু’মুতে ভরিয়ে দেয় অরিনের পুরো কন্ঠদেশ।
—— আমার হাতে খুব লাগছে কিং।”
অত্যান্ত নমনীয় ভাবে নিজের বেদনা প্রকাশ করে অরিন। এবার হয়তো একটু হলে ও অরিনের জন্য মায়া হবে কিংশুকের।
মুখ তুলে চুপচাপ অরিনের মুখের পানে তাকিয়ে থাকে কিংশুক। তখন ও অরিনের চোখ দিয়ে পানি গড়ে পড়ছিল।
—- প্লিজ কিং।”
কিংশুক কিছু একটা ভেবে চুপচাপ তাকিয়ে থাকে অরিনের পানে। অরিন ও খুব করুনার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে কিংশুকের পানে। তার যে সত্যি ব্যাথা লাগছে এটা তার মুখ দেখলেই বোঝা যাচ্ছে।
—- কি’স মি জান।”
—-হুম?”
—- কি’স মি।নাথিং ইজ ফ্রী হেয়ার।”
একটা অফুটন্ত দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেরিয়ে আসে অরিনের ভিতর থেকে। হাত খোলার জন্য তাকে কি’স করতে হবে।
কিংশুকের গাল বরাবর কি’স করে অরিন।
—- ইউ আর সো ব্যাকডেটেড জান। কি’স অন মাই লিপস।”
— কিং!!!'”
কপাল কুঁচকে তাকায় অরিন কিংশুকের পানে। মানুষ কতটা নির্দয় হতে পারে এটা কিংশুককে না দেখলে সে বুঝতেই পারতো না।
—- কি’স মি।”
কোনো কথা না বাড়িয়ে নিজের ওষ্ঠ যুগল কিংশুকের ওষ্ঠের কাছে নিয়ে আসে। কিংশুকের নিঃশ্বাস উপড়ে পড়ছে অরিনের মুখে।চোখ বন্ধ করে কিংশুকের ওষ্ঠে নিজের ওষ্ঠ ডুবিয়ে দেয় অরিন। সাথে সাথে কিংশুক চেপে ধরে অরিনকে। খুব ডেস্পারেট ভাবে কি’স করতে থাকে অরিনকে। এক পর্যায়ে কোলে তুলেই হাঁটতে থাকে কিংশুক।
—- কিং লিভ মি।”
—- সরি। আই কান্ট।”
কিংশুক মেতে থাকে অরিনের মাঝে। একপর্যায়ে জেটের পার্সোনাল রুমে অরিনকে নিয়ে চলে যায় কিংশুক। ডর লক করে বেডে ছুঁড়ে ফেলে দেয় অরিনকে।
—- কিং প্লিজ ডোন্ট। প্লিজ কিং।”
ঠেলে ঠেলে পিছিয়ে যেতে থাকে অরিন। তাকে অনুসরণ করে একটু একটু করে এগিয়ে যেতে থাকে কিংশুক। একদম বেডের শেষ সীমানায় পৌঁছে যায় অরিন।
নিজের থেকে এতোটা দূরে যেতে দেখে প্রচন্ড ক্ষেপে যায় কিংশুক। আর যায় হোক উপেক্ষা সে সহ্য করতে পারে না। শীর্ষ কনায় এক টান দিয়ে অরিনের সমস্ত শরীর নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসে কিংশুক। বাঁধা হাত দিয়ে ঠেলে ও সে কিংশুককে সরাতে পারে না।
—– কি চাই আপনার কিং?”
—- আমায় আদর কর।”
—– অসম্ভব। ”
—- লেট’স সি।'”
এক হাতে অরিনকে আঁকড়ে ধরে, আরেক হাত দিয়ে নিজের শার্টের বোতাম খুলতে থাকে কিংশুক। কিংশুককে এতোটা ডেস্পারেট হতে দেখে ভয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে অরিন।
” লন্ডন”
লন্ডনের বেলগ্রাভিয়ার একটি বিশাল বড় মেনশন হচ্ছে ”King’s-Mansion”!
দেড় কিলোমিটার জুড়ে পুরো এলাকায় মাত্র একটাই বাড়ি! বিশাল আধুনিক প্রাসাদের থেকে কম নয়! দূর থেকে তাকালেও বোঝা যায়, সেটা কোনো সাধারণ মানুষের বাস নয়, বরং যেন কোনো গোপন সম্রাটের রাজপ্রাসাদ।
চারপাশে ঘিরে আছে ঘন বন। বাড়ির চারদিক দিয়ে বিশাল উঁচু দেয়াল, দেয়ালের শেষে একটা আয়রন গেট, সেখানে পৌঁছাতে হলে প্রায় দেড় কিলোমিটার জঙ্গল পেরোতে হয়। অবশ্য জঙ্গল বললে ভুল হবে! পুরোটাই আধুনিক থিমে করা, যেখানে প্রাকৃতি এবং আধুনিকতার ধোঁয়া ভরপুর!
গেটের ওপারে শুরু হয় হাইওয়ে! বাড়ির পেছনের অংশটা নেমে গেছে একেবারে সমুদ্রে!বাড়ির ভিতরে সব কিছু আধুনিক,গ্লাসের দেয়াল, সেন্সর লাইট, লিফট, রুফটপে হেলিপ্যাড, আর বিশাল সুইমিং পুল থেকে দেখা যায় একদিকে বন, অন্যদিকে নীল সমুদ্র। দ্বিতীয় কিং কে.কে. এর মৃত্যু বরণের পর কিংশুক একাই থাকতো এ বাড়িতে। বডি গার্ডস, সার্ভেন্ট এবং রকি ছাড়া তার তেমন কোনো সঙ্গী ও ছিলো না। কিন্তু এবার থেকে সে আর এক নয়।
সময় তখন সকাল আটটা কুড়ি মিনিট। পিট পিট করে চোখ খুলতে থাকে অরিন। শরীরে অসম্ভব ব্যাথা। তার থেকে বেশি কষ্ট হচ্ছে তার নিঃশ্বাস নিতে। পুরোপুরি চোখ খুলে এক দিক ওদিক তাকাতে থাকে অরিন। সে নিজের বর্তমান অবস্থা বোঝার চেষ্টা করে।কিন্তু ড্রিম লাইটে তেমন স্পষ্ট ভাবে কিছু দেখতে পারে না সে। সে যে জেটে নেই এটাতে ১০০% ভাগ নিশ্চিত। ঘরটা বিশাল বড়। তাদের বাংলাদেশের খান ম্যানশনের দুটো ঘর মিলিয়ে একটা ঘর হবে।
উঠে বসতে গিয়ে তব্দা লেগে পরে অরিন। শুধু ব্যাথায় নয়, তার শরীরে উপরে আস্ত একটা মানুষ শুয়ে রয়েছে। জড়িয়ে রেখেছে তাকে আষ্টেপৃষ্টে। ব্যাথার চোটে শরীর অবশ হয়ে পড়ায় প্রথম তেমন অনুভব না করতে পারলে এখন পুরোপুরি নিশ্চিত হলো সে।
শুকনো ঢোক গিলে অরিন। সে তো একটু আগে জ্ঞান হারালো। তাহলে এই রুমে এলো কীভাবে? আর এটা কারই বা ঘর?
ভাবতে ভাবতে খুব নড়তে থাকে অরিন। এক পর্যায়ে ঘুম আলগা হয়ে আসে কিংশুকের।
—- কি সমস্যা বউ? এতো নড়ো কেন?”
—- আমরা কোথায়?”
— বাসায়।”
— কখন এলাম।”
— ভোর রাতে।”
—- আমি কিছু টের পেলাম না কেন?”
—– সারা পথ আমার বুকে শুয়ে বসেই পার করেছেন ম্যাডাম কীভাবে টের পাবেন?”
আনহেলদি অবসেশন পর্ব ২২
ভয়ে গলা শুকিয়ে আসে তার। যখন জ্ঞান হারিয়েছিল তখন অনেক কিছুই হতে যাচ্ছিল।কিছু কী অঘটন ঘটেছে? ভয়ে অবস্থা খারাপ হতে থাকে অরিনের।
—– আপনি…আপনি উল্টো পাল্টা কিছু করেননি তো আমার সাথে?”
—- কখনো শুনেছিস বিড়ালের সামনে খাবার রাখা আছে, আর সে সেটা খায়নি?”
