Home আনহেলদি অবসেশন আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৬

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৬

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৬
কায়নাত খান কবিতা

” কার বিয়ে মনি?”
” কেন তোর আর কিংশুকের! ”
আতিয়া বেগমের কথা শুনে অরিনের মাথায় যেনো বজ্রপাত পড়া শুরু করলো! তার এবং কিংশুকের বিয়ে? কিন্তু সে এতো এতোদিন অভিনয় করেছিলো! মন থেকে তো অরিন কিংশুককে ভালোবাসে না!! মনে একজন আর জীবনে আরেক জন কীভাবে পারবে সে থাকতে! আর মনি ও তো জানে অরিনের একজন ক্রাশ আছে! তাহলে সে কীভাবে রাজি হলো??

”কিছু ক্ষণ আগে”
ফ্রেন্ডস দের সাথে হ্যাংআউট করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে কারেন্টের ২৪ ভোল্টের ঝাটকা খায় অরিন! পুরো বাড়িতে লোকজন গিজগিজ করছে! বাড়ির অন্দরমহল থেকে শুরু করে বাইরে অব্দি ডেকোরেশনের কাজ চলছিলো! কিন্তু হঠাৎ কীসের ডেকোরেশন হচ্ছে এটা জানার জন্য যখন সে খোঁজ করে! জানতে পারে তার এবং কিংশুকের বিয়ের আয়োজন চলছে! আপাতত আংটিবদল হবে! তার একমাস পর বিয়ে! পুরোটাই যেনো কিংশুক আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রেখে!
কিন্তু অরিন তো রকিকে পছন্দ করে! তার কলেজের সিনিয়র ছিলো রকি! অরিনের ক্রাশ! আতিয়া বেগম থেকে শুরু করে বাইকার সবাই তো জানে তার কথা! তাহলে তারা কীভাবে কিংশুকের মতে সাই দিলো? কেন কেউ বাঁধা দিলো না?

” বর্তমান ”
” কিন্তু মনি আমি তো..! ”
” ওসব ছেলে মানুষী আম্মা! ভুলে যাও! Focus on your wedding! ”
আতিয়া বেগমের কথায় কিছুটা ভেঙে পড়ে অরিন! সে তো জানে অরিন রকিকে পছন্দ করে! তাহলে কেন কিংশুকের সাথে তালে তাল মিলিয়ে যাচ্ছে! ক্রাশ আর ভালোবাসা কী এক নয়? এটা কী শুধুই বয়সের দোষ?
অরিন ঠিক করে কিংশুকের সাথে সরাসরি কথা বলবে! কিন্তু বার বার ফোন দেওয়ার পর ও কিংশুক তার ফোন রিসিভ করে না! এবং নিজ কক্ষ হতে বাইরে ও আসে না! অরিনের সাহসে কুলাইনি কিংশুকের রুমে গিয়ে তার মুখোমুখি হওয়ার! কীভাবে বলবে সে এগুলো সব তার অভিনয় ছিলো!!

রাত তখন ১২ টা ৩৫ মিনিট!
অরিনের ফোনে হঠাৎ কিংশুকের কল আসে! অরিন তখন ও জেগে জেগে রিলস দেখছিলো! কিংশুকের কল আসাতেই একটু চিন্তায় পড়ে যায় সে! তার কী কিংশুকের সাথে কথা বলা উচিত? সবটা কি ফোনেই শেষ করা উচিত? না-কি সরাসরি বলা উচিত!! কিংশুক কী তাকে খারাপ মেয়ে মানুষ ভাববে?
প্রচন্ড অনুপাতে পুড়’তে থাকে অরিন! সে ঠিক করে কিংশুককে সব বলে দিবে! কিন্তু তার আগেই কল কেটে যায়! অরিন ভেবে পায় না কী করবে! তারপর আবার ও কিংশুকের কল আসে! এবার সাথে সাথে ধরে ফেলে অরিন!

” ছাদে এসো!”
” এখন?”
” হুম!”
” কিন্তু.. হ্যালো?”
অরিনের কথা শেষ হওয়ার আগেই কল কেটে দেয় কিংশুক! অরিন ঠিক করে এটাই সুযোগ! এখন নিরিবিলি কিংশুকের সাথে কথা বলা যাবে! তার কাছে মাফ চাইবে! ছেলে মানুষি করে সে যে কিংশুকের সাথে অভিনয় করেছে সব বলবে আজ!
মনে প্রচন্ড অনুপাত নিয়ে ছাদে চলে যায় অরিন!
—পকেটে হাত দিয়ে রেলিং এর একদম কাছে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে থাকে কিংশুক! হাতে তার জলন্ত সিগা’র! অরিন আসার সাথে সাথে সিগা’রটি ফেলে দেয় কিংশুক! তারপর ইশারা করে অরিনকে কাছে যেতে বলে!
মাথা নিচু করে অরিন কিংশুকের সামনে দাড়ায়!প্রচন্ড অনুপাতে মুখ উঁচু করে কিংশুকের সামনে দাড়াতে পারে না সে! অনেকটায় নার্ভাস ফিল করে অরিন! কিংশুক অরিনের একদম সামনাসামনি এসে দাড়ায়!

” আমি আপনাকে কিছু বলতে চায়! ”
” শুনছি!”
” আমি আপনাকে পছন্দ করি না! আপনি প্লিজ এই বিয়েটা ভেঙ্গে দিন!!এতো দিন ফ্রেন্ডের সাথে বাজে ধরে আপনার আগে পিছনে ঘুড়েছি, সত্যি বলতে আমি অন্য কাউকে পছন্দ করি!”
খুব সাহস নিয়ে কিংশুকের সামনে সত্যিটা শিকার করে অরিন! আর মনে মনে ঠিক করে কিংশুক যদি তাকে চ’ড় থাপ্প’ড় ও বসিয়ে দেয় তাতে ও কিছু বলবে না সে!!
কিন্তু অবাক করার বিষয় হচ্ছে কোনো প্রকারের রিয়েকশন না দিয়ে হাত ভাজ করে দাড়িয়ে, চুপচাপ অরিনের কথা গুলো শুনতে থাকে কিংশুক! কি’বা রিয়েকশন দিবে সে? যেখানে পুরোটাই কাঁচের মতো স্বচ্ছ!! অরিনের এই বেইমানির কথা তো কিংশুকের আগে থেকেই জানা! সারা দুপুর থেকে সন্ধ্যা নিজের সাথে লড়াই করেছে কিংশুক! এখন আর কী রিয়েকশন দিবে সে??

” আমাকে প্লিজ মাফ করে দেন!”
” করতে পারি, আই হ্যাভ আ কানডিশন!”
অরিন প্রশ্ন বোধক দৃষ্টিতে তাকায় কিংশুকের দিকে! এখন যদি কিংশুক তাকে ছাদ থেকে লাভ ও দিতে বলে তাহলে ও সে দিবে! কারণ সে, নিজের ছেলে মানুষির চক্করে পড়ে কিংশুকের মন নিয়ে খেলেছে!
” বলুন!”
” কি’স মি!”
কপাল কুঁচকে তাকায় অরিন কিংশুকের দিকে! এটা কেমন কথা? সে তাকে মাফ করবে কিন্তু বিনিময়ে তাকে কি’স করতে হবে? যেখানে কিংশুক শুনলো অরিনের মনে অন্য কেউ আছে, সেখানে কীভাবে তাকে কি’স করবে?
” এটা সম্ভব না! আমি অবিবাহিত! ”
” আমি ও! ”

কিংশুকের এমন ভাবহীন আচরণ আরো ভিতর থেকে নাড়িয়ে তুলে অরিনকে! এটা কীভাবে সম্ভব? খুব বেশি ডানপিটে হলে ও অরিন এসব ব্যাপারে যথেষ্ট ম্যাচুয়র! বিয়ে হয়নি, কেন একটা পরপুরুষকে কি’স করবে সে! তার উপরে সে আজ অব্দি রকিকেই নিজের পছন্দের কথা বলতে পারেনি! সেখানে কিংশুককে কীভাবে কি’স করবে?
” আমি পারবো না সরি!”
কথাটি বলেই অরিন যেই না সামনের দিকে পা বাড়ায়, তার আগেই কিংশুক তার হাত ধরে টান দিয়ে নিজের খুব কাছে নিয়ে ফেলে!
” মন নিয়ে খেলেছো এটা ও তো অন্যায় বেবি গার্ল! তাহলে আরেকটা কেন নয়?”

” আমি যা করেছি,তার জন্য মাফ চাইছি! আপনি বললে ছাদ থেকে ও লাফ দিতে পারবো! কিন্তু এটা অসম্ভব! ”
কিংশুক কিছু না বলে চুপচাপ অরিনের বাহু ধরে দাড়িয়ে থাকে! তার দৃষ্টি সোজা অরিনের দিকে! অরিন ও একটু ভয় পেয়ে যায় কিংশুকের এমন ভাবে তাকিয়ে থাকা দেখে! কিন্তু সে না পারছে নিজের হাত ছাড়াতে আর না পারছে কিংশুককে কিছু বলতে!! এ কেমন পরিস্থিতিতে পড়লো অরিন?
কিংশুক এবং অরিনের কথার মাঝেই ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়! যেন উপর থেকে কেউ কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টি করাচ্ছে! অরিন নিজেকে ছাড়িয়ে ছাউনিতে যেতে চাই! কিন্তু কিংশুক তার হাত ছাড়ে না! অরিন ও চুপচাপ দাড়িয়ে থাকে কিংশুকের সাথে! দু-জনে প্রায় কাক ভেজা হয়ে যায়! প্রায় ১০ মিনিটের মতো তারা একে-অপরের দিকে তাকিয়ে থাকে!!

ইতিহাস স্বাক্ষী দু-জন প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ে এমন বৃষ্টিতে কাছাকাছি থাকলে কোনো না কোনো ভুল হয়ে যায়! শরীরে চাহিদার কাছে বিবেক বুদ্ধি লোপ পায়! হলো ও তাই!!
কিংশুক এবং অরিন ও নিজেদের বিবেক বুদ্ধি হারিয়ে চাহিদার কাছে হেরে গেলো!!
কিংশুকের হাত অরিনের কোমরে চলে যায়, আর অরিনের হাত কিংশুকের বুকে! কিংশুক শুরু থেকেই জানতো এখানে কী হবে! কিন্তু অরিন তো জানতো না!!
অরিন ও নিজের আবেগের কাছে হেরে যায়! একজন আরেক জনকে কি’স করতে শুরু করে! কিংশুকের পায়ের উপরে ভর দিয়ে উঠে,,অরিন ও কিংশুকের সাথে ওষ্ঠের লড়াইয়ে নেমে পড়ে! যতটা সময় বাড়তে থাকে তাদের ঘনিষ্ঠ ততটাই বাড়তে থাকে! আবেগে আপ্লূত হয়ে দু-জনেই বিবেক হারিয়ে ফেলে! এভাবে প্রায় অনেকক্ষণ কিংশুক এবং অরিন এক অপরের মাঝে লিপ্ত হতে থাকে!!

কিন্তু হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকানোর আওয়াজে নিজের হুশ ফিরে পায় অরিন! সে চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে কিংশুকের একদম কাছে সে! দু-জনের ওষ্ঠা এক অপরের সংস্পর্শে!!
ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে কিংশুককে দূরে সরিয়ে ফেলে অরিন! এতো বড় পাপ হয়ে গেলো তার দ্বারা? সে তো কারো হাত ও ধরেনি আজ অব্দি! সেখানে এতো বড় পাপ হয়ে গেলো!!
দু-জনেই প্রচন্ড হাঁপাতে থাকে! এক পর্যায়ে অরিন দৌড়ে নিজের রুমে চলে যায়! আর কিংশুক সে ছাদেই দাড়িয়ে থাকে! উপরে তাকিয়ে কিছু একটা ইশারা করতেই বৃষ্টি পড়া বন্ধ হয়ে যায়! হাতের উল্টো পাশ দিয়ে ঠোঁট মুছে কিংশুক হাসতে থাকে! যে সে এটাই চেয়েছিলো! পকেটে হাত দিয়ে আবার ও হেলান দিয়ে দাড়িয়ে পড়ে কিংশুক! কিছু ক্ষণের ব্যবধানে ওমার এবং টাইগার চলে আসে তয়লা নিয়ে! টাইগার কিংশুককে সিগা’র ধরিয়ে দেয়, আর ওমার তয়লা দিয়ে দেয়!!

‘ স্যার, ওয়াট নেক্সট? ‘
ওমারের প্রশ্নে কিংশুক সিগা’রটি সামনে ধরে, তারপর ভাব হেল শীল ভাবে বলে…!
” আজ পাসা খেলবো রে শ্যাম!”
বিভিন্ন দেশের ১৮ টি ভাষা জানলে ও বাংলা গানের অর্থ বুঝলো না বেচারা টাইগার এবং ওমার! একজন আরেক জনের দিকে তাকিয়ে থাকে! আর কিংশুক চুপচাপ নিজের কক্ষে যেতে থাকে!! রুমে গিয়ে দেখে অরিনের টেক্সট! তাকে রিকুয়েষ্ট করেছে বিয়েটা ভাঙ্গার জন্য! আর একটু আগে যা হয়েছিলে সেগুলো ও শুধুমাত্র ভুল!!
অরিনের টেক্সট দেখে মুখে তীর্যক হাসি ফুটে কিংশুকের! সে রিপ্লাই পাঠায় ” ওকে” বিয়ে করবে এবং সব ভুলে ও যাবে! তারপর আয়নাতে গিয়ে নিজেকে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে কিংশুক! নিজের পা থেকে মাথা অব্দি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে থাকে কিংশুক! কারণ অরিন বললো সে অন্য কাউকে পছন্দ! কিন্তু কিংশুকের মধ্যে এমন কোন কমতি রয়েছে যেগুলোর ফলে অরিন তাকে নয় অন্য কাউকে পছন্দের কথা বললো!
বয়স তো মাত্র ২৬ বছর! আর অরিনের ১৮! তাহলে কী বয়সের ব্যবধান? এটাই সমস্যা অরিনের? কিংশুক ঠিক করে নিজের মাঝে আরো পরিবর্তন আনবে! অরিনের চোখে যেনো তার থেকে সুদর্শন পুরুষ আর কাউকে না লাগে!
এভাবেই প্রায় সারারাত আয়নার সামনে দাড়িয়ে থাকে কিংশুক! নিজেকে কমতি গুলো দেখতে ব্যস্ত হয়ে পরে সে!!
”পরদিন সকালবেলা”

ফোনে একের পর এক নোটিফিকেশনের চক্করে ঘুম ভেঙে যায়, অরিনের! ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে ফোন হাতে নেয় অরিন! সেখানে দেখে তার বন্ধুরা তাকে টেক্সট করেছে! দু-দিন পর তার আংটি বদল, আর সে কাউকে কিছু বললোই না? সকালে সকলের এমন টেক্সট দেখে কিছু হতবাক হয়ে পড়ে সে! কারণ কালকেই তো ঠিক হলো আংটিবদলের তারিখ! আর রাতে কিংশুক তাকে জানালো বিয়ে ক্যানসেল হবে! তাহলে সকলে জানলো কীভাবে?
অরিন নোটিফিকেশনে ঢুকে বড় বড় পেজ গুলোতে একটাই নিউজ! বিশ্বের তৃতীয় ধনকুবের নাতির বিয়ে! ইন্ডিয়ার সব থেকে বড়লোক হীরা ব্যবসায়ির মেয়ে রোজ আগার ওয়ালের সাথে! নিউজটি এখন হট টপিক! প্রচন্ড ক্ষেপে যায় অরিন! কারণ নিউজি টাইম দেখে বুঝা যাচ্ছে এগুলো রাতের করা! যেখানে কিংশুল বলেছিলো বিয়ে হবে না, সেখানে কেন এসব করলো সে?

তাড়াতাড়ি করে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে পড়ে অরিন! কিংশুককে খুঁজতে হবে! সে কেন এমন করলো? সবটা জানার পর ও এতো আয়োজন করে মিথ্যে নাটক কেন?
সারা বাড়ি খুঁজে ও যখন অরিন কিংশুককে কোথায় ও খুঁজে পায় না তখন জানতে পারে সে কাজে বের হয়েছে, ফিরতে দেরি হবে! দু-দিন পর তাদের আংটিবদল! তাই এখনই কাজ করে ফ্রী হতে হবে!
অরিন ঠিক করে কিংশুককে আসলেই তার সাথে সরাসরি কথা বলবে! কিন্তু এখন যেটা করতে, সবার আগে রকির সাথে কথা বলতে হবে! যেই ভাবা সেই কাজ! রকিকে ফোন করে তার সাথে দেখা করতে বলে অরিন!!

“ক্যাফে মোয়া”
ঠিক ১২ টার সময় ক্যাফেতে চলে যায় অরিন! যেখানে আগে থেকেই রকি তার জন্য অপেক্ষা করছিলো! অরিন যেতেই রকি উঠে দাড়ায়!
” হাই অরিন”
অরিন ইশারা করে হ্যালো বলে রকিকে! তারপর চেয়ারে বসে পরে!!
” শুনলাম বিয়ে করছো!”
রকির হঠাৎ এমন কথায় কিছুটা মন খারাপ হয়ে যায় অরিনের! রকি ও জানে অরিন তাকে পছন্দ করে! রকি ও অরিনকে পছন্দ করে! কিন্তু কেউ কাউকে কিছু বলা বলেনি! ভেবেছিলো যখন তাদের পড়াশোনা মোটামুটি শেষ হবে তখন বলবে মনের কথা! কিন্তু তার আগেই কিংশুক এন্ট্রি নিলো তাদের মাঝে!!

” আমি তোমাকে পছন্দ করি রকি!”
” জানি! আমি ও তোমাকে খুব ভালোবাসি অরিন! এটা তুমি ও জানো! But now You’re getting married to someone else! ”
” আমি বিয়েটা করতে পারবো না রকি! আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে হচ্ছে বিয়েটা!”
” স্যতি বলছো?”
” হুমম!”
রকি উঠে অরিনের সামনে চলে যায়! অরিনি ও উঠে দাড়ায়! তারপর একজন আরেক জনকে জড়িয়ে ধরে! ঠিক তখনই অরিনের চোখ যায় দেয়ালে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে থাকা কিংশুকের উপরে! চমকে উঠে অরিন! কিংশুক কিছু না বলে চুপচাপ শুধু হাত ভাজ করে দাড়িয়ে থাকে!! তার দৃষ্টি দেখে বোঝার উপায় নেই কি চলছে তার মনে!
প্রচন্ড ভয়ে থরথর করে কাপতে থাকে অরিন! অরিনের এহেন অস্বাভাবিক কম্পন দেখে রকি ও তাকে ছেড়ে পিছনে তাকায়!
কিংশুককে দেখা মাত্র তার ও ভয়ে আত্মা বের হয়ে যায়! কিংশুক আবির খান কেমন এটা সে খুব ভালো মতোই জানে!
কিংশুক নিজের টিশার্টের হাতা উপরে উঠাতে উঠাতে ধীরে ধীরে সামনে আসতে থাকে! সাথে বেশ কিছু বডিগার্ড এবং তার বিশস্ত লোকেরা!
কিংশুক সামনে এসে সোজা অরিনের সামনে দাড়ায়! ভয়ে গলা শুকিয়ে আসে তার!

” আমি কী যথেষ্ট না?”
কিংশুকের এহেন কথায় তার দিকে তাকায় অরিন! হঠাৎ এমন কথা কেন বললো সে?
কিংশুক অরিনের কোমর ধরে তাকে নিজের কাছে নিয়ে আসে!নিজেকে ছাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যায় অরিন! কিন্তু কোনো লাভ হয় না! কিংশুকের হাতের বাঁধন শক্ত!
অরিনকে ধরার সাথে সাথে রকি ও প্রতিবাদি হতে গিয়ে হতে পারে না! কারণ কিংশুকের লোকেরা তাকে ধরে ডাউন করে ফেলে!
” কাল এতো ভালো বাসলাম তার পরও পরপুরুষের কাছে কেন আসতে হলো মাই ডিয়ার ব্ল্যাডি রোজ?”
” আমি আপনাকে ভালোবাসি না!”
” সমস্যা নেই! তুমি ভালো লাগা অব্দি এসো, তারপর হাত ধরে আমি ভালোবাসা অব্দি নিয়ে আসবো!”
” দেখুন..!”
” চুপপপপ!”
জোরে চেচিয়ে উঠে কিংশুক! ভয়ে চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে অরিনের! খুব শক্ত করে গাল টিপে ধরে অরিনের কিংশুক!

” তোর শরীর দিয়ে পর পুরুষের ঘ্রাণ আসছে জান! চল তোকে শুদ্ধ করি!”
কিংশুক অরিনকে টানতে টানতে নিয়ে যেতে থাকে! আর রকি ওভাবেই ডাউন হয়ে থাকে ক্যাফে তে! তার হিসাব কিংশুক পরে নিবে! আগে ঘরেরটা সামলাক!
কারো তোয়াক্কা না করে কিংশুক অরিনকে টানতে টানতে নিয়ে গাড়িতে বসায়! খুব জোড়েই ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় গাড়িতে! তারপর নিজে ড্রাইভ করতে থাকে! কিংশুক গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার সাথে সাথে তার গার্ডরা ও পিছু পিছু যেতে থাকে! হঠাৎ জোরে গাড়ি চালানোর ফলে তাল সামলাতে না পেরে গাড়িতেই হুমড়ি খেয়ে পরে অরিন! প্রচন্ড ব্যাথা পায় হাতে! কিন্তু কিংশুকের সেদিকে কোনো তোয়াক্কা নেই বললেই চলে! তার চোখে ভাসছে অন্য কিছু! অরিন অন্য কাউকে জড়িয়ে ধরছে! তাকে নয়!
বেশ কিছু ক্ষণ পর গাড়ি সোজা যমুনা নদীর কাছে গিয়ে থামে!
কড়া সিকিউরিটি মাঝে ও কিংশুক অরিনকে টানতে টানতে সোজা নদীর ঘাটে চলে যায়! অরিন শুধু হতবাক হয়ে পুলিশ গুলো দেখে! টাকার কাছে সকলেই বিক্রিত?
কিংশুক অরিনকে নিয়ে সোজা কোমর অব্দি পানি নেমে পড়ে!

” প্লিজ আমাকে ছেড়ে দিন!”
প্রচন্ড কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে অরিন! কিংশুককে আকুতি মিনতি করতে থাকে! কিন্তু কোনো লাভ হয় না! তারা পানিতে নামার সাথে সাথে কিছু গার্ড ও নেমে তাদের ঘিরে দাড়ায়!
” তোর শরীর থেকে পর পুরুষের ঘ্রাণ আসছে জান! ছেড়ে দিলে আমি শান্তি পাবো না!”
কথাটি বলেই কিংশুক অরিনের মাথা ধরে তাকে পানিতে ইচ্ছে মতো চুবানো শুরু করে! এমনিতেই ডিসেম্বরের শীত! তার উপরে এতো ঠান্ডা পানি! আত্মা বের হয়ে আসছিলো অরিনের! থরথর করে কাঁপতে থাকে সে! কিন্তু কিংশুক কোনো কথায় শুনে না! সে অরিনকে একবার উঠায় তো আটেকবার পানির মাঝে ঠেসে ধরে!!

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৫

” কাম অন জান থামলে চলবে না! তোকে শুদ্ধ হতে হবে!””
এভাবে কিছু ক্ষণের ব্যবধানে নিঃতেজ হয়ে পড়ে অরিনের শরীর! নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায় তার! শরীরে সমস্ত ভার ছেড়ে দেয় কিংশুকের উপরে! দক্ষ হাতে ধরে ফেলে কিংশুক অরিনকে!
” this is just a beginning jaan! ”

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৭