Home আনহেলদি অবসেশন আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৫

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৫

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৫
কায়নাত খান কবিতা

”No, no! It’s Abhi Jah Sanam, Yuna Kar Sitm, Teri Bahonme, Oh! I forget the line!! “‘
” mar mitenge hum!”
পরিচিত কন্ঠস্বর কানে ভেসে আসতেই থমকে যায় অরিন! তার কদম থমকে যাওয়ার সাথে সাথে পিঠ পিছনে কিছু একটার সাথে কিঞ্চিৎ পরিমাণ ধাক্কা খায়!মাথা পিছনে ঘোরাতেই কিংশুকের বিশাল দেহির দর্শন পায়! একদম কিংশুকের বুক বরাবর তার পিঠ!
কিংশুককে দেখা মাত্র অরিনের মুখের আদল পরিবর্তন হয়ে যায়! কষ্ঠ করে হলে ও খুব মিষ্টি একটা হাসি দেয় সে!

” আম, সো সরি, আমি দেখতে পায়নি!”
” চোখ সামনের দিকে থাকলে পিছনে দেখবি কীভাবে! ”
কিংশুকের এমন ব্যাঙ্গাতক বাক্য শুনে নিজের মুখের নকশা কঠিন হওয়াতে আটকে ফেলে অরিন! রাগলে চলবে না! কিংশুকের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে! তাকে পটাতে হবে! না-হলে শর্তে হেরে যাবে সে! আজ দুপুরে কনভেনশন হলে সে তার বান্ধবীদের সাথে ভেট ধরেছে কিংশুককে পটিয়ে কান ধরে উঠবস করানোর প্রতিশোধ নিবে, সেটা রাখতে হবে! হারলে চলবে না!
অরিন এই অব্দি কোনো বাজিতে হারেনি! এখন ও হারবে না!
খুব কষ্ট করে মুখের এক্সপ্রেশন আটকে নাটকীয় হাসি টেনে আসনে মুখে অরিন!

” পিছনে দেখে হাঁটলে কী আর এতো হ্যান্ডসাম কারো সাথে ধাক্কা খেতাম?”
অরিনের কথায় বোকা বনে যায় কিংশুক! কাল দেখা হলো, আজ সকাল থেকে এতো কান্ড! বিকেলে ঝাড়ি খেলো, তারপর ও এতোটা স্বাভাবিক ভাবে অরিন তার সাথে কথা বলছে? বিন্দু মাত্র রাগ করছে না সে! তাহলে ও সে ও কিংশুককে পছন্দ করে? হতে ও তো পারে! কিংশুক তো এক দেখাতেই অরিনকে পছন্দ তার মুখমন্ডলের ছবি নিজের বাহুতে একেঁ ফেলেছে! তার প্রতি প্রচন্ড অবসেস্ড হয়ে গেছে! পুরো বিশ্বে তন্ন তন্ন করে খুঁজেছে তাকে! তাহলে সে কেন প্রেমে পড়তে পারে না? হয়তো একেই বলে প্রকৃত প্রেম!
অরিন আর কিছু না বলে চুপচাপ সামনে হেঁটে যেতে থাকে! কিংশুক ও তার পিছু নেয়! বিষয়টা অরিন ও লক্ষ্য করে! অরিন চুপচাপ কিচেনে চলে যায়! কফি বানানোর জন্য! কিংশুক ও একদম অরিনের সাথে আঠার মতো লেগে থাকে!

” সুগার ফ্রী?”
জিজ্ঞেসবোধ দৃষ্টিতে কিংশুকের দিকে তাকায় অরিন! সে কী কফিতে সুগার নেই? অরিন তো কফিতে ও হানি মিক্স করে খায়! কিংশুক ও কী খায়!
কিংশুক মাথা নেড়ে না বোঝায়! অরিন হালকা হেঁসে কফি বানাতে মনোযোগ দেয়! আর কিংশুকের মনোযোগ পুরোপুরি ছিলো অরিনের উপরে! সে কী স্বপ্ন দেখছে?
যেই মেয়েকে পাওয়ার তীব্র নে’শায় সে তিনটি বছর অপেক্ষা করেছে, সেই মেয়ে তাকে এভাবে ভালো লাগার ইঙ্গিত দিচ্ছে?
কফি বানানো শেষে অরিন এক কাপ কিংশুকের দিকে এগিয়ে দেয়! তারপর নিজের কাপটি নিয়ে রুমে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়ায়!

” রোজ!”
একদম সামনে বাড়াতেই কিংশুক অরিনের নাম ধরে ডাক দেয়! পিছনে ফিরে তাকায় অরিন!
” লং ড্রাইভে যাবে?”
খুব প্রত্যাশা নিয়ে কিংশুক অরিনকে লং ড্রাইভে যাওয়ার জন্য অফার করে! অরিন কিছু চুপ থেকে কফির মগটি টেবিলে রেখে দেয়!
” নাইট স্যুট চেঞ্জ করে আসছি!”
উপরে চলে যায় অরিন! আর কিংশুক কিচেনেই দাড়িয়ে থাকে! সে কী স্বপ্ন দেখছে না-কি বাস্তব এখনো একটি ঘোরের মধ্যে রয়েছে সে!
মিনিট দশকের মতো সময় লাগে অরিনের রেডি হতে! কিংশুক তখনও নিচেই দাড়িয়ে বার বার ফোনে সময় দেখছিলো! সময় যেন যাচ্ছেই না! এই দিনটির জন্যই তো সে এতোদিন ধরে অপেক্ষা করেছে! অরিনের সাথে একান্তে সময় কাটাবে বলে! আজ অবশেষে সেই দিন!
পায়ের কদম কানে ভেসে আসতেই পিছনে ফিরে তাকায় কিংশুক! অরিন আসছে! হৃদপিণ্ডটি হুট করে কেমন যেনো জোড় গতিতে চলতে লাগলো!
কালো সিম্পল অফ সোল্ডার ড্রেসে মারাত্মক লাগছিলো অরিনকে! চাইনিজদের মতো সাদা-গোলাপি বর্নের হওয়ায় কালো রংটি যেনো ফুটে উঠেছে তার শরীরে! শুকনো ঢোক গিলে কিংশুক!

” চলুন!”
কিংশুকের একদম মুখোমুখি দাড়িয়ে পড়ে অরিন! কিংশুক তখন ও ঘোরের মধ্যে ছিলো! আকাশ থেকে নেমে আসা পরী তার সামনে দাড়ানো! ঘোড় কী এতো সহজে কাটবে আর?
অরিন কিংশুকের হাত ধরে হালকা নাড়া দিয়ে উঠে! ঘোড় কে’টে যায় কিংশুকের! সে কি বলবে কিছু বুঝতে পারে না! হালকা হেঁসে উঠে অরিন!
” চলুনননন!”
” হুমম!”
অরিন সামনে হাঁটতে থাকে আর কিংশুক তার পিছু পিছু! সদর দরজায় যেতেই অরিন দাড়িয়ে পড়ে! মুখ গোমড়া হয়ে যায় তার!

” ওয়াট হ্যাপেন্ড রোজ?”
” এতো লোক কেন?”
” ফর সিকিউরিটি রিজন রোজ!'”
” আই ওয়ানা গো ইউথ ইউ! নট ইউথ দ্যাম!”
কিংশুক ইশারা দিয়ে সকলকে চলে যেতে বলে! কিন্তু আকাশের হেলিকপ্টার গুলো ঠিকই উড়তে থাকে! তাদের থেকে অনেক দূরে! যেখানে বিশ্বের পঞ্চম ধনী ব্যক্তি কোথায়ও গেলে শত শত গাড়ি আর হেলিকপ্টার এবং কড়া নিরাপত্তা ছাড়া যায় না, সেখানে সে তো তৃতীয় ধনকুবের নাতি! তার নিরাপত্তা তো না চাইলে ও কড়া হবেই!
কিংশুক ড্রাইভিং সিটে বসে, এবং অরিন তার পাশের সিটে! খুব মনোযোগ সহকারে ড্রাইভিং করতে থাকে কিংশুক!
গার্ডরা সরে গেলে ও! তাদের থেকে কয়েক হাত দূর থেকে তাদের পিছু নেয়! নিরাপত্তা নিয়ে নো কমপ্রোমাইজ!
খান বাড়ি থেকে একটি জনশূন্য জায়গায় গাড়ি থামে কিংশুকের! হঠাৎ ব্রেক পড়ায় কিংশুকের দিকে তাকায় অরিন!
কিংশুক কিছু না বলে ডোর খুলে বের হয়! তারপর অরিনের ড্রোর খুলে হাত বাড়িয়ে দেয়! অরিন কিংশুকের হাত ধরে বাইরে বের হয়!

” এটা?”
” ডোন্ট টক!”
কিংশুক অরিনের হাত ধরে জঙ্গলের ভিতরে নিয়ে যেতে থাকে! শুকনো ঢোক গিলে অরিন! বাজিতে জিততে গিয়ে আবার হিতের বিপরীত না হয়ে যায়! জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে যদি ১৯/২০ কিছু করে ফেলে সে! প্রচন্ড ভয় পায় অরিন! কিন্তু মুখে এক কৃত্রিম হাসি বজায় রাখে!
কিছু ক্ষণ পর জঙ্গল ভেদ করে একটি জনশূন্য জায়গায় চলে যায় তারা! একটি পরিত্যক্ত গার্ডেন তার সাথে এট্যাচ করা ছোটো লেকের মতো তার পাশে সিমেন্টের লম্বা বেঞ্চ বানানো! খুবই মনোমুগ্ধকর কর পরিবেশ!
ছোটো থেকে বড় হয়ে ও অরিন এই জায়গার সম্পর্কে কিছুই জানতো না! মনি কেন কেউ কখনো এমন জায়গা যে রয়েছে সেটা বলেই নি তাকে! খুব অবাক চোখে দেখতে থাকে অরিন সব কিছু!
হঠাৎ কিংশুক অরিনের চোখে হাত দেয়!
” কী করছেন?”
” কথা বলো না!”
কিংশুক অরিনের চোখে হাত দিয়েই তাকে নিয়ে কিছুটা সামনে চলে যায়! তারপর আলতো করে চোখ থেকে হাত সরায়!
চোখ থেকে হাত সরতেই অরিন খুব অবাক হয়ে যায়! মুখে ফুটে উঠে এক ভূবন ভুলানো হাসি! জোনাকি!! তাও এ সময়! জোনাকি তো বিলুপ্ত প্রায়!

” কী সুন্দর! ”
‘ তোমার থেকে কম!”
কিংশুকের কথা কানে আসতেই পিছনে ফিরে তাকায় অরিন! এক অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করে কিংশুকের মাঝে!
” আপনি তো বাংলাদেশে আসতেন না, তাহলে কীভাবে জানলে এতো সুন্দর জায়গার কথা? ”
অরিনের প্রশ্ন শুনে কিছুটা অন্য মনস্ক হয়ে পড়ে কিংশুক! ছোটোবেলা যতবার দেশে আসতো, ততবার তার বাবা তাকে এখানে নিয়ে আসতো! কিন্তু তার মায়ের পরকী’য়া এবং বাবার সুইসা’ইডের কারণে আর এখানে আসা হয়নি কিংশুকের! এই জায়গাটির কথা, কেবল মাত্র খান বাড়ির সদস্যরা জানে! আর কেউ নয়! আজ অরিন জানলো!
কিংশুককে অন্য মনস্ক হতে দেখে অরিন কিংশুকের হাতে হাত রাখে!
” কী হয়েছে? ”
নিজ থেকে অরিন কিংশুকের হাত ধরায়, সে খুব খুশি হয়!
” নাথিং! ”
” আমার ছবি তুলে দিন!”

অরিন কিংশুকের হাতে তার ফোন ধরিয়ে দিয়ে সুন্দর পোজ দিয়ে দাড়িয়ে পড়ে! কিংশুক অরিনের ফোন পকেটে ঢুকিয়ে, নিজের ফোন বের করে! এবং সেটা দিয়ে অরিনের ছবি তুলতে থাকে! যেখানে প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার দিয়ে কিংশুকের ফটো সুট করানো হয় ম্যাগাজিনের জন্য, সেখানে সে নিজে অন্য কারো ছবি তুলছে, বিষয়টি আসলেই অন্য রকম!
অরিন একের পর এক অদ্ভুত রকমের পোজ দিতে থাকে, আর কিংশুক তাকে ক্যাপচার করতেই থাকে! ফোনের ক্যামেরা যতোটুকু না ক্যাপচার করছে তার থেকে বেশি চোখের লেন্স দিয়ে করছে! অরিনকে যেনো বন্দি করছে সে নিজের চোখের কোঠরে!

এভাবে প্রায় ২৭ টি ছবি তুলে দেয় কিংশুক অরিনের! হঠাৎ করে অরিন পোজ দেওয়া বাদ দিয়ে জোনাকি ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে! কিন্তু কিছুতেই ধরতে পারে না! বার বার ব্যর্থ হতে থাকে! এক পর্যায়ে হাল ছেড়ে দিয়ে চুপচাপ দাড়িয়ে পড়ে অরিন! মুখটা একদম ভার করে রাখে! কিন্তু তখনই অনুভব হয় কেউ তার হাত সামনের দিকে তুলে ধরছে! যেহেতু কিংশুক আর সে ছাড়া এখানে কেউ নেই, তাহলে অবশ্যই কিংশুক তার পিছনে! কিংশুক খুব কাছে দাড়ায় অরিনের! তার হাতটি সামনে মেলে ধরে! কিছু ক্ষণের মধ্যে বেশ কয়েকটি জোনাকি পোকা তার হাতে বসে! প্রচন্ড খুশি হয়ে যায় অরিন! একগাল হাসি দিয়ে কিংশুকের দিকে তাকায় সে! কিংশুক ও খুব খুশি হয়ে যায়!
এভাবেই বেশ অনেক ক্ষণ কে’টে যায়! একসাথে খুব সুন্দর মূহুর্ত কাটিয়ে রাত ১:৩০ টায় বাড়ির পথে রওনা দেয় অরিন কিংশুক!

কিংশুক ড্রাইভ করতে থাকে, আর অরিন চুপচাপ বসে একটার পর একটা গান চেঞ্জ করতে থাকে! অরিনের ছেলেমানুষী গুলো মুগ্ধ করতে থাকে কিংশুককে! সারা রাস্তা অরিন প্রচুর বকবক করতে থাকে, আর কিংশুক মনোযোগ সহকারে শুনতে থাকে!
ঠিক পনেরো মিনিট পর তারা খান বাড়িতে এসে পৌঁছায়!
অরিন এবং কিংশুক একসাথে ভিতরে চলে যায়, তাদের রুম পাশাপাশি হওয়াতে একসাথে যেতে থাকে তারা!
” গুড নাইট রোজ!”
” গুড নাইট কিং ব্রো!”

অরিন নিজের রুমে না ঢুকা অব্দি কিংশুক চুপচাপ দাড়িয়ে থাকে! অরিন চলে যাওয়ার পর কিংশুক নিজের রুমে চলে যায়! এবং ফ্রেশ হয়ে এসে দেখে ১২ টা টেক্সট অরিনের!
কিংশুক তড়িঘড়ি করে ফোন চেক করে দেখে ওয়াটস এ্যাপ এ অরিনের টেক্সট! তার ছবি দেওয়ার জন্য বলেছে! সাথে অনেক গুলো এংরি ইমোজি! কিন্তু এক এক করে অরিনের সব পিক সেন্ড করে!
পিক পাওয়া মাত্র অরিন ইন্সটাতে আপলোড করে দেয়! কিংশুককে ক্রেডিট দিয়ে! কিংশুক শুধু অরিনের এসব ছেলেমানুষী দেখে হাসতে থাকে! আর অন্যদিকে অরিন তাদের ফ্রেন্ডস দের দেখিয়ে দেয়, শর্তে হারার মতো মেয়ে সে নয়! কিংশুক ঠিকই তার বসে চলে এসেছে!
এভাবেই বেশ কিছু দিন কেটে যায়!

কিংশুক এবং অরিন বেশ ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ে! কিংশুক মাঝে মধ্যেই অরিনকে নিয়ে বের হয়! তাকে শপিং করিয়ে দেয়, গার্ডেনে পানি দেওয়া থেকে শুরু করে একসাথে অনেক কিছুই করতে থাকে তারা! বিষয়টা খান বাড়ির সকল সদস্যদের ও চোখে পড়ে! কিন্তু সকলেই খুশি! ঘরের মেয়ে যদি ঘরেই থাকে তাহলে তো কোনো কথায় নেই!
এভাবেই ভালো চলছিলো দিন! কিন্তু বিপত্তি ঘটে কিংশুকের কাজ নিয়ে, ফোবস থার্টিতে প্রথম স্থান দখন করে নেওয়ার জন্য, তাকে প্রেস্টিজেস প্রাইস দেওয়া হয়! যার ফলে তাকে আমেরিকাতে যেতে হয়! কিন্তু কিংশুকের মন পড়ে থাকে বাংলাদেশে!৷
প্রায় ৭ দিন সেখানে থাকতে হয় তাকে! আর সেখানে থাকা কালিন খুব কম কথা হতো অরিনের সাথে! ধরতে গেলে হতোই না! হয়তো সময়ের ব্যবধানের কারণে! কিন্তু কিংশুক দেখতো অরিন তাকে মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে ইগনর করছে! তাই সে ঠিক করে দেশে ফিরে অরিনকে বউ বানিয়ে সাথে নিয়ে যাবে লন্ডন! বাকি পড়াশোনা না-হয় সেখানেই শেষ করবে সে!।।

যা ভাবা তাই কাজ! কিংশুক আমেরিকাতে একটি অকশনে যায়! যেখানে বিশ্বের দামি হিরা নিলামে উঠে! সে সেটি কিনে ফেলে সব থেকে বেশি প্রাইস বলে! কারণ কিংশুক চেয়েছিলো অরিনকে এই হীরার আন্টি দিয়ে বিয়ের জন্য প্রপোজ করবে! অরিন যেহেতু তার জন্য দামি! তাই তাকে তো সিম্পল কিছু দিয়ে প্রপোজ করা যাবে না! কিংশুক হীরাটি নিয়ে কাস্টমস করে রিং বানায়! তারপর সেটা নিয়ে নিজের প্রাইভেট জেট দিয়ে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়!
প্রায় ৯ ঘন্টার জার্নি শেষে কিংশুক বাংলাদেশে আসে! এসে সোজা অরিনের রুমে চলে যায়! কিন্তু রুম ফাঁকা থাকায় কিছু টা নিরাশ হয় সে! খোঁজ নিয়ে জানতে পারে অরিন তার বান্ধবীদের সাথে হ্যাংআউট করতে বের হয়েছে! কিংশুক ঠিক করে সে ও সেখানে যাবে! আর সবার সামনে অরিনকে প্রপোজ করবে!
রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আবার ও বেরিয়ে পড়ে কিংশুক! আজকে আর দেরি নয়! অরিনকে তার মনের কথা বলতেই হবে!

‘ ক্যাফে মোয়া’
” যায় বল অরিন, কিংশুক স্যার যে তোর ফাঁদে পা দিবে ভাবতেই পারিনি! ”
পুষ্পের কথা শুনে সকলে হো হো করে হেসে উঠে!
” তুই যে এভাবে বাজিতে জিতে যাবি আমরা ভাবতে ও পারিনি! শেষে কী-না থ্রাড কিং তোর প্রেমে পাগল হয়ে গেলো!”
খুশ গল্পতে মেতে উঠে অরিন এবং তার বন্ধরা! কিন্তু আড়ালে দাড়িয়ে তাদের সমস্ত কথা শুনে আরেক জনের মধ্যে আগ্নি শীখা জ্বলে উঠে! চোয়াল শক্ত হয়ে পড়ে তার!
চুপচাপ বেরিয়ে পরে ক্যাফে থেকে! সারা রাস্তা নিজের মনের সাথে একটি স্নায়ু যুদ্ধ চলতে থাকে কিংশুকের! যেখানে পুরো নারী জাতিকে ঘৃণা করা কিংশুক নিজের থেকে ৮ বছরের ছোটো মেয়ের প্রতি অবসেস্ড হয়ে পড়ে, সেখানে সেই তাকে ধোঁকা দিলো?

খান বাড়িতে এসে নিজের রুমের হিডেন রুমে চলে যায় কিংশুক! অরিনের বিশাল বড় ছবির ফ্রেমের সামনে দাড়ায়,কিংশুক! চুপচাপ দাড়িয়ে অরিনের ছবি দেখতে থাকে কিংশুক! তারপর খুব জোড়ে ফ্রেমটি ধরে ফ্লোরে আঁচড়ে ফেলে দেয় কিংশুক! অরিনের নাম নিয়ে জোড়ে চিৎকার করে উঠে সে!
জীবনের প্রথম একটি মেয়েকে ভালোবাসলো সে! আর সেই তাকে ধোঁকা দিলো! কিংশুক এক এক করে অরিনের ছবি থেকে কাঁচের টুকরো গুলো সরাতে থাকে! আর ধীরে ধীরে বলতে থাকে!!

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৪

” Dard tumhara badan mey mere! Zaher ki tarha uthar rahi hey!”
চোখ বন্ধ করে ফেলে কিংশুক! তারপর আবার ও চোখ মেলে তাকায় অরিনের ছবির দিকে!
” I’ll make your life hell baby girl!”

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৬