Home আনহেলদি অবসেশন আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৯

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৯

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৯
কায়নাত খান কবিতা

এক রাজকীয় এনগেজমেন্টের স্বাক্ষী হতে যাচ্ছে পুরো শহর! বিশ্বের তৃতীয় ধনকুবের নাতির এনগেজমেন্ট! রাজকীয় যেমন তেমন, চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্যে ভরপুর! নামি দামি ডিজাইনারের থেকে হবু বর-কনের ড্রেস বানানো হয়েছে! পুরোটাই কাস্টমাইজস করা! পুরো এনগেজমেন্টের থিম রাখা হয় ‘লোটাস’ অর্থাৎ পদ্মফুলের! সবাইকে ড্রেস কোড দেওয়া হয় ফুঁসিয়া পিঙ্ক কালারের ড্রেস পড়ার জন্য! আর লোটাস ডিজাইন শুধু গ্রুম এন্ড ব্রাইড পড়বে! পার্টির সময় নির্ধারণ করা হয় সন্ধ্যা ৬ টায়! তাই বিকেল থেকেই খান ম্যানশনে লোক জন আসার আয়োজন শুরু হয়ে যায়! অরিনের পরিবার থেকে তার বাবা এবং সত ফুপি আসে! মা তো সেই ছোটোবেলাতেই চলে গেছে! বাবার সাথে ও তেমন একটা ভালো সম্পর্ক নেই তার! ইন্ডিয়ার সব থেকে বড় ডায়মন্ড ব্যবসায়ী হলে ও মন এতোটাই নিকৃষ্ট যে নিজের একমাত্র মেয়ের খোজ রাখেননি উনি! কিন্তু বিশ্বের তৃতীয় ধনকুবের নাতির সাথে নিজের মেয়ের বিয়ের কথা শুনে ঠিকই চলে আসেন!

দেখতে দেখতে এক এক করে সবাই চলে আসে! কিংশুকের বিজনেস পার্টনার থেকে শুরু করে বিশ্বের নামি দামি সব লোকেরা আসে এনগেজমেন্টে! কিংশুক ও অনেক ক্ষণ আগেই রেডি হয়ে নিচে এসেছে! শুধু দেখা নেই অরিনের! তাকে খুব যত্ন সহকারে সাজানো হচ্ছে উপরে! একদম ফুটন্ত পদ্মফুলের মতো! কিংশুক নিজে সব পছন্দ করেছে অরিনের জন্য! তার ড্রেস, শু, ওর্য়ানামেন্টস, এমন কী লিপস্টিকের কালার ও কিংশুক নিজেই যত্নসহকারে পছন্দ করে! তিনটি বছর যার দহনে পুড়েছে, অবশেষে সে তার হবে!!
” এভাবে কাঁদো না বাচ্চা! মেকআপ নষ্ট হয়ে যাবে! ”
ক্যাটরিনার কথাতে তার দিকে খুব করুন দৃষ্টিতে তাকায় অরিন!!

এই নিয়ে তিনবার অরিনের মেকআপ করা হলো! বার বার সে কেঁদেই মেকআপ নষ্ট করে ফেলেছে! কিংশুক ও নিচে ও অপেক্ষা করছে, আর সবাইকে তাড়া দিচ্ছে বার বার! তাই আর্টিস্ট কোনো উপায় না পেয়ে ওয়াটার বেজ মেকআপ করে দেয়! এবার যত খুশি কাঁদুক সে! মেকআপ আর নষ্ট হচ্ছে না!!
পাশ থেকে ক্যাটরিনা বার বার অরিনকে বোঝায়, কিংশুক যদি রেগে যায় তাহলে তুলকালাম বাঁধাবে!কালকের ঘটনার পর আর কারো সাহসে কুলাই নি কিংশুকের সাথে কথা বলার!!
” বাইকার তুমি একটু বোঝাও না উনাকে! প্লিজ! ”
” কে বোঝাবে আমাকে?”

পিছন থেকে কিংশুকের কন্ঠস্বর ভেসে আসতেই হিমশীতল করা ঠান্ডার মতো জমে যায় অরিন! কাল রাত থেকে আজ বিকেল অব্দি সে ভয়ে কিংশুকের ছায়া অব্দি মাড়ায়নি, সেখানে কিংশুক নিজেই চলে এলো তার রুমে!
ভয়ে গলা শুকিয়ে আসে অরিনের! কিংশুকের কদম যতটা এগিয়ে আসছিলো, অরিনের নিঃশ্বাস ঠিক ততটাই জোড়ে জোড়ে উঠা-নামা করছিলো!
” ব্রো?”
” আউট!”
কিংশুকের নির্দেশ মতো সকলে রুম থেকে বাইরে চলে যায়! রুমে এখন শুধু অরিন এবং কিংশুক!! অরিন ঘৃণাতে নিচে মুখ করে রাখে! এখন কিংশুককে দেখলে খুব ঘৃণা আসে তার!!
কিন্তু হঠাৎ করে নিজের গলায় ঠান্ডা কিছু অনুভব হতেই চমকে উঠে অরিন! চোখ তুলে তাকায় আয়নার সামনে! দেখে কিংশুক তার গলায় নেকলেস পড়িয়ে দিচ্ছে!! নেকলেস পড়িয়ে দিয়ে অরিনের কাঁধ বরাবর কি’স করে কিংশুক! উঠে দাড়িয়ে পড়ে অরিন! এভাবে বার বার কিংশুকের ভালোবাসাকে প্রত্যাখান করায় প্রচন্ড রেগে যায় কিংশুক!
দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে অরিনকে! নিজের হাত দিয়ে কিংশুককে সরানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যায় অরিন! কিন্তু কোনো লাভ হয় না!

” ঘৃণা লাগে না আমার ছোয়া তোর? খুব ঘৃণা লাগে?”
কোনো কথা না চুপচাপ নিচে তাকিয়ে থাকে অরিন! কাল রাতে যা হলো! এরপর কিংশুককের ছায়াকে ও ভিষণ ভয় পায় অরিন! একটা মানুষ ঠিক কতটা নিকৃষ্ট হলে আরেকটা মানুষের সাথে এমন করে??
” তোর তেজ আমি ভাঙ্গবো মেয়ে! আই সয়ার, আই উইল টাচ ইউ হোল নাইট! ”
খুব অবাক দৃষ্টিতে তাকায় অরিন কিংশুকের দিকে! চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পরে তার! বর্তমানে কিংশুককে একজন খারা:প লোকের থেকে আর বেশি কিছু মনে হচ্ছে না অরিনের!
একটা ক্রুনিক হাসি ফুটে উঠে কিংশুকের চোয়ালে! সে অরিনের গালে স্লাইড করতে করতে বলে,
” আমাকে খারা:প হতে বাধ্য করো না বেবি গার্ল! বিয়ের আগে প্রেগন্যান্ট হওয়ার শখ আশা করি তোমার নেই! ”
কিংশুক ছেড়ে দেয় অরিনকে! তারপর নিচে চলে যায়! কিংশুক চলে যাওয়ার সাথে সাথে অরিন কান্নায় ভেঙে পড়ে! এমন কী কেউ নেই তাকে সাহায্য করবে? এরকম একটা নিকৃষ্ট লোকের সাথে কেউ কীভাবে থাকতে পারে?
ঘড়ির কাটা বলছে সময় ৬:৩০ মিনিট!

কিংশুক এবং অরিনের এনগেজমেন্ট হওয়ার সময়! কিংশুক নিচে এসেছে অনেক ক্ষণ, কিন্তু অরিনের দেখা নেই! তাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে নিয়ে আসতে গেছে ক্যাটরিনা এবং আতিয়া বেগম!
কিছু ক্ষণ পর অরিনকে নিয়ে আসতে থাকে, আতিয়া বেগম এবং ক্যাটরিনা! সকলের চোখ অরিনের দিকে চলে যায়!কিংশুকের চোখ যেনো সব কিছু ঘোলা হয়ে শুধু অরিনের দিকেই ফোকাস করতে থাকে!! কিছু ক্ষণ আগে ও সে অরিনকে দেখে এসেছে, কিন্তু আবার দেখার পর মনে হচ্ছে আকাশ থেকে নেমে আসা কোনো পরী!!
পরক্ষণেই কিংশুকের চোখ চলে যায় সবার দিকে! সবাই অরিনকে দেখছে!! বিষয়টা ভালো চোখে দেখে না কিংশুক! জেদের বসে সে এতো বড় এনগেজমেন্টের আয়োজন তো করলো, কিন্তু তার বউকে সবাই দেখছে বিষয়টা কেমন যেনো হজম করতে পারছে না কিংশুক! নিজেই সবাইকে ইনভাইট করে ও খুব হিংসা হতে থাকে তার সকলের উপরে!!

নিজেকে মনে মনে বকতে থাকে কিংশুক! এতো বড় বোকামি তার দ্বারা হলো কীভাবে? সবাই তো অরিনকে দেখছে! পরক্ষণেই কিংশুক তার গার্ডদের ইশারা করে! আর সকলে কাজে লেগে যেতে বলে!
অরিনকে নিচে আনার পর একদম কিংশুকের সাথে দাড় করানো হয়! কিংশুক ঘাড় ঘুড়ে তাকায় অরিনের দিকে! কিছু ক্ষণ আগে ও সে অরিনকে দেখে এসেছে, কিন্তু তার পর ও মনে হচ্ছে কতদিন পর দেখা হলো! কিংশুক এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে অরিনের পানে! তার নজর পুরোপুরি দখল করে রেখেছে অরিন!
ফটোগ্রাফার তাদের একসাথে পোজ দিতে বলে! অরিনের বিন্দু মাত্র আগ্রহ জাগে না পোজ দেওয়ার জন্য! চুপচাপ জড়বস্তুর মতো দাড়িয়ে থাকে! ঠিক তখনই কিংশুক অরিনের কোমর চেপে ধরে! বিদ্যুৎতের গতির মতো তাকায় অরিন কিংশুকের দিকে!!
কিংশুক ও তাকায় অরিনের দিকে!

” সকলের সামনে কি’স করতে বাধ্য করো না জান, এসব গোপনে করাই ভালো!”
কিংশুকের কথা শুনে সাথে সাথে অরিন সামনের দিকে তাকায়! হালকা হাসার চেষ্টা চালিয়ে যায় সে! এভাবে তাদের বেশ কিছু ছবি তোলা হয়!
কিছু ক্ষণের মধ্যে কিংশুকের গার্ডরা চলে আসে কালো সান গ্লাস নিয়ে! প্রত্যেকের হাতে একটি করে সান গ্লাস দেওয়া হয়! সকলে নতুন ট্রেন্ড ভেবে পড়ে ফেলে শুধু অরিন এবং কিংশুক ছাড়া!
কিংশুক ছাড়া আর কেউ যেনো অরিনকে না দেখতে পারে সো জন্য এনগেজমেন্টের পার্টিতে সকলের হাতে কালো চশমা ধরিয়ে দেয় কিংশুক!

আয়োজন শুরু হয়ে যায়! সকলে গ্রুম এন্ড ব্রাইড কে হাইলাইট করে দাড়িয়ে পড়ে চারপাশে গোল হয়ে! মাঝে কিংশুক এবং অরিন একজন আরেকজনের সামনাসামনি দাড়ায়! কিংশুকের চোখ তো পুরোটাই অরিনের উপরে! কিন্তু অরিনের চোখ অন্য দিকে! মাইকে এনাউন্সমেন্ট করার সাথে সাথে কিংশুক অরিনের হাত ধরে রিং পড়িয়ে দেয়! তারপর অরিনের সামনে নিজের হাত বাড়িয়ে দেয়! অরিন ও কোনো ভনিতা না করে আন্টি পড়িয়ে দেয় কিংশুককে! বাগদাদ সম্পূর্ণ হয় অরিন এবং কিংশুকের!! কিংশুক অরিনের কপালে কি’স করে! সকলে হাত তালি দিয়ে উঠে!! ঘৃণাতে চোখ বন্ধ করে ফেলে অরিন!
আন্টি বদলের পর অন্য দিকে চলে যায় অরিন! যেখানো তার বন্ধরা রয়েছে! আর কিংশুক চলে যায় তার বিজনেস পার্টনারদের সাথে আলোচনা করতে!

” সরি রে অরিন! আমাদের জন্য..! ”
সাথির পুরো কথা শেষ করার আগেই অরিন তার কাঁধে হাত দেয়! মাথা নেড়ে তাকে শান্ত থাকতে বলে! যা হবার তা তো হয়েই গেছে! এখানে অরিনের ও তো পুরোপুরি দোষ ছিলো!!
” এই অরিন, তোর মাথায় ওটা কী?”
সৌরভের কথাতে তার দিকে তাকায় অরিন! এনগেজমেন্টে অরিনের মেয়ে বান্ধবীদের পাশাপাশি কলোনির বিত্যশালীর পরিবার ও এসেছে! তার মধ্যে সৌরভ ও আছে! গ্যাস মন্ত্রীর ছেলে সৌরভ !, চরিত্র হীন মেয়ে বাজ! কিন্তু সৌরভ ছিলো অরিনের জন্য পাগল, বেশ কয়েকবার বিয়ের প্রপোজ পাঠিয়ে ও লাভ হয়নি! আতিয়া বেগম বার বার না করে দিতো অরিনের বয়স কম ছিলো বলে!! ! কিন্তু আজ তার এনগেজমেন্টে মন খারাপ হয়ে যায় সৌরভের!! এতোদিন ধরে সে অরিনকে চেয়েছে কিন্তু পেলো না! অন্য কেউ নিয়ে চলে যাচ্ছে তাকে!

” কীসের কথা বলেছেন ভাইয়া?”
সৌরভ অরিনের মাথা থেকে কিছু একটা ফেলে দেয়, তারপর তার গালে কিছু একটা মুছে দেয়! ভিষণ আইন ইজি ফিল করে অরিন! সরে দাড়ায় সাথে সাথে তারপর আবার ও বান্ধবীদের সাথে কথা বলতে শুরু করে! পরক্ষণেই অরিনের মনে হয় কেউ তার কোমরে হাত বাড়িয়ে গেলো! পিছনে ফিরতেই এতো লোকের মাঝে কাউকে দেখতে পেলো না অরিন! নিজের বাড়িতে এভাবে হ্যারেস’মেন্টের শিকার হওয়া আসলেই পোড়া কপালের থেকে কম নয়! প্রচন্ড হীনমন্যতায় ভোগে অরিন! চুপচাপ উপরে চলে যায়!!

—-রাত ৯:৪৫ মিনিট!
এনগেজমেন্টের পর নিজের রুমে চলে আসে অরিন! বেশ অস্বস্তি লাগছিল তার! নিচে সকলে কিছু ক্ষণ থেকে এক এক করে চলে যায়! আর বিয়ের ডেট ঠিক করে এক মাস পর! কিংশুকের সাথে ও দেখা হয়নি আর তার! পুরোটা সন্ধা নিজের রুমেই পার করে কাটিয়ে দেয় অরিন!
বাইরে যাবে বাচ্চা? ”
ক্যাটরিনার কন্ঠস্বর কানে ভেসে আসতেই দরজার পানে তাকায় অরিন!
” এখন?”
” হুম! চলো গার্ডেনে যায়! একটু হাঁটি ভালো লাগবে!”
পরক্ষণেই অরিন নিজের দিকে তাকায়! সে তো ফ্রেশ হয়নি! এখনো এনগেজমেন্টের ড্রেসেই আছে! মেকআপ ও তুলে নি!

” কিন্তু! ”
” আরে এসো, পরে ফ্রেশ হবে!”
ক্যাটরিনা রীতিমতো জোড় করেই অরিনকে নিয়ে গার্ডেনে চলে যায়! কাল যা হলো তার উপরে আজ ইচ্ছের বিরুদ্ধে এনগেজমেন্ট! মন তো ভালো থাকবে না এটাই স্বাভাবিক বিষয়! আতিয়া বেগম বার বার বলেছেন অরিনকে নিয়ে একটু গার্ডেনে যেতে! কিংশুক বাড়ির বাইরে যেতে নিষেধ করলে ও গার্ডেনে যেতে তো নিষেধ করেনি! সুন্দর মতো দু-জন গার্ডেনে এসে হাটতে থাকে!
বেশ অনেক ক্ষণ ধরে অরিন এবং ক্যাটরিনা হাঁটতে থাকে! অরিনের মনটা ও বেশ ভালো হয়ে যায়! অনেক গল্প করতে থাকে অরিন -ক্যাটরিনা! ঠিক পূর্বের মতো! রাত ১০ টার বেশি বেজে যায়!!

” বাচ্চা! তোমাকে সব সময় হাসি-খুশিতেই মানায়! প্লিজ এভাবেই হেঁসো! ”
অরিনের মুখ একটু ভার হয়ে যায়! কিংশুক থাকতে তার মুখে আর হাসি কীভাবে আসবে? ক্যাটরিনা এবং অরিনের কথার মাঝেই মুঠোফোনে কল আসে ক্যাটরিনার! রিসিভ করে জানতে পারে তাকে আর্জেন্ট যেতে হবে! ক্যাটরিনা বাইক নিয়ে বেরিয়ে পরে! আর অরিন গার্ডেনেই থাকে!
বাড়ির ভিতরে ঢুকতে যাবে এমন সময় কিছু শব্দ ভেসে আসে চিলেকোঠা থেকে! মনে হচ্ছে কেউ হাঁপাচ্ছে আর কেউ কাউকে বেধড়ক পেটা’চ্ছে! কৌতুহল নিয়ে অরিন সরাসরি চিলেকোঠার দিকে চলে যায়! এতো রাতে এমন শব্দ কেন আসবে?

চিলেকোঠার সামনে যেতেই চোখ কপালে উঠে যায় অরিনের!!
সারা শরীরে, পুরো মুখে র:ক্তের ছড়াছড়ি কিংশুকের! ইচ্ছে মতো রড দিয়ে কাউকে পেটা”চ্ছে সে, কিন্তু নিচে থাকা ব্যক্তিকে চিনতে পারলো না সে! এতোটাই অবস্থা খারাপ তার মুখ উল্টো দিকে!
হাত পা কাঁপতে থাকে অরিনের! কিংশুকের একজন গার্ড অরিনকে দেখে, সাথে সাথে কিংশুককে জানায়! তড়িৎ গতিতে কিংশুক তাকায় অরিনের দিকে!
এমন বিভৎস কিংশুকের রুপ দেখে ভয়ে আত্মা বের হয়ে আসে অরিনের! কিংশুক রড ফেলে দিয়ে পুরোপুরি ভাবে তার দিকে তাকায়!

” জাননন!”
অরিন আর এক সেকেন্ড ও দেরি করে না! ড্রেস ধরেই দৌড়ে পালানো শুরু করে! কিংশুক ও তার পিছু নেই!
” জান দাড়া…! এভাবে আমাকে ফেলে যাস না! ”
অরিন নিজের আপ্রাণ চেষ্টা দিয়ে দৌড়ে লাগায়! কিন্তু কথায় আছে বিপদে পড়লে বুদ্ধি পালায়! হলো ও তাই! অরিন এতোটায় ভয় পেয়েছিলো যে দৌড়ে বাড়ির ভিতরে না গিয়ে সোজা মেইন গেটে চলে যায়!
” আক্কেল প্লিজ দরজাটা খুলুন! প্লিজ আক্কেল…! “”
সিকিউরিটি গার্ডরা কোনো কথা বলে চুপচাপ দাড়িয়ে থাকে! নিরুপায় হয়ে পড়ে অরিন! সে নিজেই গেট খুলতে লাগলে! কিন্তু তার বুদ্ধি এতোটাই লোপ পায় যে, এতো বড় গেট তার মতো দু-জন মিলে ও খুলতে পারবে না! তার উপরে লক করা!

” নিড মাই হেল্প জানন?”
পিছন থেকে কিংশুকের কন্ঠস্বর ভেসে আসতেই ভয়ে চোখ বড় বড় হয়ে যায় অরিনের! হাত পা কাঁপতে থাকে তার! কিংশুক এসে তার পিছনে একদম লেগে দাড়িয়ে পড়ে!
এক ঝাটকাতে ঘুড়িয়ে অরিনকে নিজের কাঁধে তুলে নেয় কিংশুক! তারপর চিলেকোঠার দিকে যেতে থাকে!
—- চিলে কোঠা—
কিংশুক অরিনকে কাঁধে নিয়ে সোজা চিলেকোঠার ভিতরে ঢুকে পরে! তারপর নিচে নামায়!
নিচে নামতেই মাটিতে পড়ে থাকা সৌরভকে দেখে আত্ম কেঁপে উঠে অরিনের! কী অবস্থা হয়েছে তার! মেরে মুখের নকশা পরিব’র্তন করে দিয়েছে কিংশুক তার!
অরিন কিংশুকের দিকে তাকায়! চোখ দিয়ে পানি আপনা আপনি গড়িয়ে পরে! কিংশুক হুট করে অরিনের কোমর জাপ্টে ধরে!!

” ভয় পেয়ো না জানন! আমি আছি তো ! আই ওয়েল প্রটেক্ট ইউ!”
কিংশুকের কথার আগামাথা কিছুই বুঝতে পারে না অরিন! কীসের ভয় পাওয়ার কথা বলছে সে!
পরক্ষণেই কিংশুক নিজের পকেট থেকে রিভ’লবার বের করে অরিনের হাতে দিয়ে দেয়! তাকে সৌরভের সামনে দাড় করিয়ে নিজে পিছনে দাড়িয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে অরিনের হাত!
” স্যু’ট জান!”
” কীহহহহ!”
” স্যু’ট বেবি গার্ল! ”
” নাহহ, নাহ প্লিজ!”
কিংশুক অরিনের হাত দিয়ে সৌরভের হাতে পরপর দুটো গু’লি চালায়! স্তব্ধ হয়ে যায় অরিন!
শুধু গু’লি চালিয়ে শান্ত হয়নি কিংশুক! বরং রড দিয়ে আবার ও পেটা’তে থাকে সৌরভকে!
ভয়ে জড় বস্তুর মতো হয়ে যায় অরিন!
” যেই মেয়েকে দেখার অধিকার কাউকে দেইনি! তাকে তুই টাচ করলি কীভাবে বাস্টা;র্ড,, কীরে কলিজা কত বড় তোর? ”

অরিন শুধু কিংশুককে মা’রতেই দেখছে, আর ভয়ে কাঁপতে থাকে! কিছু ক্ষণ পর কিংশুক অরিনের কাছে চলে যায়!
” তুমি তো আমার, আমি ছোঁবো তোমাকে, ও কেন তোমাকে ছোঁবে বলো?”
খুব বিশ্রি ভাবে অরিনের পুরো শরীরে ছুয়ে ছুয়ে কথা কথা বলে কিংশুক! কখনো গলায়, কখনো গালে, কখনো কোমরে!

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৮

” আমি ছাড়া কেউ তোমাকে ছোঁবে না জান!”
কিংশুকের এমন আনস্টেবল আচরণে আঙ্কিত হয়ে পড়ে অরিন! মাথা কাজ করা বন্ধ করে দেয় তার! চোখে ঝাপসা দেখতে শুরু করে! পরক্ষণেই কিংশুকের বুকে টলে পরে সে! দক্ষ্য হাতে সামলে নেয় কিংশুক অরিনকে!
সেন্সলেস অরিনের ঠোঁটে কি’স করে কিংশুক!
”তুমি শুধুই আমার বেবি গার্ল! আমি ছোঁবো তোমাকে, আর কেউ না!”

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ১০