Home আনহেলদি অবসেশন আনহেলদি অবসেশন পর্ব ১০

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ১০

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ১০
কায়নাত খান কবিতা

​” তুমি শুধুই আমার বেবি গার্ল! আমি ছোঁব তোমাকে, আর কেউ না!”
​জ্ঞানহীন অরিনের ঠোঁটে কিস করে কিংশুক! কিংশুকের বাহুর মধ্যে সীমাবদ্ধ অরিন! পরপর চার-পাঁচ বার অরিনের ঠোঁটে কিস করতে থাকে কিংশুক!
​গার্ডরা নিজেদের চোখ বন্ধ করে ফেলে! কিংশুক জ্ঞানহীন অরিনকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে! অরিনের শরীরের সমস্ত ভার নিয়ে নেয় নিজের উপরে!

​”’ আজকে তো আমাদের এনগেজমেন্ট হলো, উই শুড সেলিব্রেট বেবি গার্ল! ”
​কিংশুক আবারও অরিনের ঠোঁটে কিস করে!
​” যদি বুকে একটা খাঁচা বানানো যেত না প্রিন্সেস! খুব যত্ন করে সেখানে রাখতাম তোমাকে! লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতাম, আর মন চাইলেই আদর করতাম!”
​একদৃষ্টিতে কিংশুক নিজের বাহুতে থাকা অরিনের দিকে তাকিয়ে থাকে! কিছু ক্ষণের মধ্যে ওমার এবং টাইগার সাউন্ড বক্স নিয়ে আসে! চারপাশে ফুল ছড়িয়ে দেওয়া হয়! এনগেজমেন্ট হলো, গ্রুম অ্যান্ড ব্রাইড ডান্স করবে না? এটা কি মানায়?
​হালকা মিডিয়াম সাউন্ডে গান বাজানো হয়!

​” Ishq aisa chaiye… Aisi deewangi se main.. Chahu tujhe jese pehli dafa koi pagol huya..huya main…! ”
​জ্ঞানহীন অরিনের কোমর ধরে কিংশুক কাপল ডান্স শুরু করে! সে তার মন মতো নাচতে থাকে! আর গার্ডরা ফুল বর্ষণ করতে থাকে!
​চিলেকোঠায় নিজের জ্ঞানহীন প্রেয়সীকে নিয়ে ডান্স করা বোধ হয় একমাত্র সাইকো কিংশুকের দ্বারাই সম্ভব!!
​এভাবে প্রায় বেশ অনেক ক্ষণ ডান্স করে কিংশুক অরিনের সাথে! তারপর তাকে চেয়ারে বসিয়ে দেয়!
​অরিনকে চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে নিচে পড়ে থাকা সৌরভের দিকে তাকায় কিংশুক!
কিংশুক তাকানোর সাথে সাথে সৌরভ ভয়ে শেষ হয়ে যায়! শরীরে অসহ্য ব্যথা, তার উপরে একটু পর পর কিংশুকের মার! সৌরভের প্রাণ প্রায় যায় যায় অবস্থা!!
​কিংশুক হাঁটু পেঁড়ে বসে সৌরভের সামনে! তারপর নিজের ড্রেসের হাতা উপরে ওঠায়!
সৌরভ বুঝতে পারে না, এখন ঠিক কি করতে চাচ্ছে কিংশুক!
কিংশুকের দু-জন লোক সৌরভের হাত শক্ত করে ধরে ফেলে! তারপর কিংশুকের হাতে ছুরি দিয়ে দেয়!

​” আই হেট ইয়োর আইজসস!”
​কিংশুক ছুরিটি নিজের হাতে নিয়ে ধার চেক করে! তারপর সৌরভের দিকে তাকায়!
​” নাহহহহহহহহ!”
​সৌরভের গলা ফাটা আর্তনাদে পুরো চিলেকোঠা ফেটে পড়ে! কিন্তু বিন্দু মাত্র দয়া হয় না কিংশুকের! সে সুন্দর মতো সৌরভের চোখ উপড়ে ফেলে! একজন জীবন্ত মানুষের চোখ উপড়ে ফেলার মতো কাজ কোনো সুস্থ মানুষের দ্বারা সম্ভব নয়! কিংশুকের গার্ডরা সৌরভকে শক্ত করে ধরে ফেলে! আর কিংশুক সৌরভের পরের চোখও উপড়ে ফেলে! তারপর চোখ জোড়া নিজের হাতে নেয়! বার বার ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখতে থাকে!

​” আমি ছাড়া আর কেউ দেখবে না অরিনকে! অরিন শুধুই আমার!”
​কিংশুক উঠে অরিনের পায়ের নিচে সৌরভের চোখ জোড়া রাখে! এবং তার পা ধরে তিন থেকে চার বার চোখ গুলোতে লাথি দেওয়ায়! তারপর সেই চোখ নিয়ে মারবেল খেলতে থাকে!
​” চোখে তো পাওয়ারই নেই! একটুতেই নষ্ট হয়ে গেল! এখন আমি মারবেল খেলব কি দিয়ে?”
​কিংশুক উঠে আবার ও সৌরভের সামনে দাঁড়ায়! তারপর তার দিকে তাকিয়ে থাকে!
​” মানুষের চোখ যে কেন দুটো হয়! ড্যাম ইট!”
​কিংশুক ইশারা করে সৌরভকে নালাতে ফেলে দেওয়ার জন্য! শুধুমাত্র নিজের শখের নারীর দিকে নোংরা দৃষ্টিতে তাকানোর ফলে চোখ তুলে মারবেল খেলে সাইকো কিংশুক!
​তারপর অরিনের কাছে যায়! তাকে কোলে তুলে নেয়!
​” আমি ছাড়া আর কেউ দেখবে না তোমাকে জান!”

“”​সকাল বেলা”
​খুব ভোর করে কখনোই ঘুম থেকে অরিন ওঠে না! যার জন্য লেট লতিফের ট্যাগপ্রাপ্ত সে! কিন্তু আজ ভোর রাতেই তার ঘুম ভেঙে গেল! ধড়ফড়িয়ে উঠে বসলো সে! চোখে এখন ও আতঙ্ক কাটেনি! মনে হচ্ছে সবটাই স্বপ্ন! কিংশুকের এতো ভয়ংকর রূপ সে আগে কখনো দেখেনি!
​জোড়ে জোড়ে নিঃশ্বাস নিতে থাকে সে!
​” ঘুম ভাঙল জান!”
​কিংশুকের কণ্ঠস্বর কানে ভেসে আসতেই চমকে ওঠে অরিন! সাথে সাথে পাশ ফিরে তাকায় বাম পাশে!
​দেখে কিংশুক খুব আরাম করে পায়ের উপরে পা তুলে তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে! পরনে ট্রাউজার এবং কালো অফ সোল্ডার টি-শার্ট!

​কিংশুক উঠে অরিনের কাছে আসতে থাকে! কিংশুককে এতো কাছে আসতে দেখে ভয়ে থরথর করে কাঁপতে থাকে অরিন! কিংশুক একদম তার বেডের কাছে চলে আসে!
অরিন ভয়ে হাতে ভর দিয়ে পিছিয়ে যেতে থাকে! মাথা অকেজো হয়ে পড়ে তার! কি করবে সে এখন?
কিংশুকের এতো ভয়ংকর রূপ দেখার পর, তার চোখে চোখ রাখতেও শরীরে বেগতিক কম্পন শুরু হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়ে যায় তার!
​অরিন একদম বেড সাইডের কিনারায় চলে যায়! কিংশুক অরিনের পায়ে টান দিয়ে নিজের আয়ত্তে নিয়ে নেয় অরিনের সমস্ত শরীর!
​” কিছু করবো না, ভয় পেয়ো না!”

​একদম চুপসে যায় অরিন! বর্তমানে তারা যেই অবস্থায় রয়েছে, সেই অবস্থায় কোনো অবিবাহিত ছেলে মেয়ে থাকে না! বিদেশে হয়তো এটা খুব স্বাভাবিক! কিন্তু দেশে দৃষ্টি কটু! তার উপরে একটা বদ্ধ ঘর! কিংশুক চাইলেই উল্টো পাল্টা কিছু করতে পারে, অরিন বাঁধা দিয়েও আটকাতে পারবে না!! মনে মনে দোয়া পড়তে থাকে অরিন!
​” ঠিক একমাস পর আমি ফিরব! ”
​অরিন মুখ ফিরে তাকায় কিংশুকের দিকে! কিন্তু কিংশুকের মুখ অরিনের এতোটা কাছে ছিল যে, ভুল বশত অরিনের ওষ্ঠের সাথে কিংশুকের ওষ্ঠের ছোঁয়া লেগে যায়! চোখ বড় বড় করে তাকায় অরিন! মুচকি হেসে ওঠে কিংশুক!

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ৯

​” থ্যাঙ্কস ফর ইয়োর লাভ জান!”
​” লিভ মি!”
​অরিন দু-হাত দিয়ে কিংশুককে নিজের উপর থেকে সরানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে!
​” ভালোবাসতে বাধ্য করো না জান! চুপচাপ থাকো!”
​চোয়াল শক্ত করেই কথাগুলো বলে কিংশুক! শান্ত হয়ে যায় অরিন!
​” আমি একমাস পর ফিরব! যেভাবে রেখে যাচ্ছি, সেভাবেই থেকো! তা না হলে! আশা করি রাতের কথা ভুলোনি!”

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ১১