আমার নেতা সাহেব পর্ব ৩০
আরিশা জান্নাত আদ্রা
‘সারা বাড়িতে হুল’স্থুল কান্ড,আজ যে সৌহার্দ্য ফায়ান খানের একমাত্র বোনের বিয়ে তা লোকজন’কে জানাতে হবে না?
‘শুধুমাত্র আকদ না করিয়ে রেখে একেবারে’ই তোলে দিবে ফারহা’কে।বড় বড় নেতা’রা নিম’ন্ত্রি’ত।কনস্টেবল থেকে শুরু ডিআইজি সবাই উপস্থিত,হাতে গুনা কয়েকজন সনামধন্য রিপোর্টা’ররাও আছে।এদেরকে ফায়ান নিজে গিয়ে ইনভাইট করে এসেছে।
‘সবাই যে যার মতো রেডি হতে গেছে,কাল রাতের মধ্যে অনেক লোক লাগিয়ে বাড়ি’টা জাঁকজমক ভাবে সাজানো হয়েছে।ফায়ানের বোনের বিয়ে বলে কথা।
-আরে,রে আমার মেকআপ’টা করা হয়নি,এই ফারহা,আমাকে মেকআপ’টা করে দে না।
-এই তুই কি পা’গ’লা?যার বিয়ে সে না সেজে তোকে সাজাবে?এতো সেজে কি হবে?বিয়ে কি তোর?
‘বেলা রেগে অগ্নি’শর্মা হয়ে তাকালো মনিরের দিকে।মনিরও কিড়’মিড়িয়ে তাকিয়ে আছে।দেখেই বুঝা যাচ্ছে আজকে এদের মাঝে হবে,(মানে ঝগড়া)
-রাগ করিস না বেলা,জানিস তো ও তোর পিছে লাগে,আমার কাছে আয় দেখি।
‘বেলা নাক সিট’কে সিমরানের কাছে চলে গেলো।পরে মনির’কে দেখে নিবে।
এদিকে মনির আর আফরিদ,অসহায় ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে,মানে এদের সাজ শেষ হচ্ছে না,নিচে কখন নিয়ে যাবো কনে’কে
তখনই শুভ হাঁপাতে হাঁপাতে এলো,।মনে হচ্ছে কুত্তা’দৌড় দিয়েছে।
-কি’রে কুত্তা’র মতো এক হাত জিভ বের করে হাঁপাচ্ছিস কেনো?Anything wrong?
-দোস্ত,,,সর্বনাশ হয়ে গেছে।
‘আরিমা ওয়াশরুম থেকে বের হতে হতে বললো,,
-কার সর্বনাশ করে এলি?
‘সবাই গোল গোল দৃষ্টি’তে আরিমার দিকে তাকিয়ে আছে,বিশেষ করে শুভ।
-আমি কারো সর্বনাশ করি’নি,কেউ আমার সর্বনাশ করেছে।
‘সবাই মাথায় হাত দিলো,
-বলবি তো কে তোর কি সর্বনাশ করেছে।
-Love at first sight হয়েছিলো,,,,,,,
‘’বলেই ঠা’সস করে মাটি’তে আঁছড়ে পরলো শুভ।সবাই তাকে ধরাধরি করে তুললো।
তারপর একযোগে বলে উঠলো,,
-তারপর?????
-কাছে আমি গিয়া দেহি ওইডা কোনো মাইয়া না,ওইডা হলো ভার্সিটির এক ফুচকা’ওয়ালা মামা।
‘সবাই ফিক করে হেসে উঠলো,হাসতে হাসতে একজন অপরজনের উপর হেলে-দুলে পরে যাচ্ছে।শেষে কি’না ফুচকা ওয়ালা মামার প্রেমে।
-আজকের দিনেও এমন না করলে নয়?বোনকে নিতে পাঠিয়েছি,আর তোমরা পা’গ’লের মতো হাসছো?
‘হঠাৎ ফায়ানের আগমনে সবাই চুপ হয়ে গেলো,কিন্তু মনে পরতেই হাসি থামাতে পারছে না,মুখ টিপে হাসছে।কিন্তু আরিমা আর ফারহা হাসি থামাতেই পারছে না,সদ্য কাজল আঁকা চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পরছে।তবুও থামে না।
‘ফায়ান এক পলক দুজনকে দেখে নিলো,
আহ্,রূপ যেনো ঠিকরে পরছে।
‘ফায়ান এগিয়ে এসে আরিমা আর ফারহা’র হাত দুটো দু’হাতে ধরে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো,
বাকিরা সাথে সাথে আবার ফিক করে হেসে উঠলো,এদিকে শুভ রাগে গজরাতে গজরাতে ফায়ানের পিছু পিছু বেরিয়ে গেলো।এদেরকে পরে দেখে নিবে।
‘সবাই সিঁড়ির দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।ফায়ান মাঝ’খানে,যে কি’না বরাবরের মতোই সাদা পাঞ্জাবী পরে আছে,তবে আজকে উপরে একটা সোনালী রঙের কটি পরেছে,এটাই পার্থক্য। তার বাম পাশে আরিমা,যার গায়ে সোনালী রঙের একটা সিল্কের শাড়ি।হাত ভর্তি সোনালী রঙের চুড়ি,মাথায় হিজাব করা।
ডান পাশে হলো বিয়ের কনে,একটা ভারী কাজের সুন্দর মেরুন রঙের লেহাঙ্গা পরে আছে।সে নিজেও আজকে মাথায় হিজাব প্যাঁচিয়েছে।
হাতে মেরুন রঙের থোকা ধরা চুড়ি।দুজনের কপালেই টিকলি স্থান পেয়েছে।
‘এক কথায়,তিনজন’কেই অপরূপ সুন্দর লাগছে,
ফায়ান দুই হাত দিতে দুজন’কে ধরে নিচে নামলো,তারপর ফারহা’কে তার নিজ আসনে বসিয়ে দিলো,সাথে সাথে ছয় ভেড়ার ছানা তাকে ঘিরে ধরলো,তারা এখানে দাঁড়িয়েই তার বান্ধবীর বিয়ে দেখবে।
‘বেচারা নাদিম উশ’খুশ করছে প্রেয়সী’কে এক পলক দেখার জন্য। কিন্তু সে তো ফায়ানের মতো হতে পারছে না।তাই মনো‘বাঞ্ছা’টা চাপা দিয়ে রাখলো সে,বাসর ঘরে’ই নাহয় দেখবে।
‘এদিকে কাজী এসেছে বিয়ে পড়াবে।
মেয়েরা হালকা পিছু সরে গেলো,সেখানে ফায়ান,ফিরোজ আর জাভেদ,তিন খান এসে বসলো,কিন্তু সাহিত্য’কে পাওয়া যাচ্ছে না।
‘তখনই সাহিত্য এসে হাজির হলো,যার পরনে একটা কালো রঙের ঢিলে’ঢালা শার্ট।বেশ মানিয়েছে তাকে।
‘ফারহা’কে কবুল বলতে বলছে কাজী,কিন্তু সে চুপ করে বসে আছে।কথা বলছে না।
-ফারু,কবুল বলবি নাকি বিয়ে ভেঙে দিবো?
‘সবাই হকচকিয়ে গেলো, ফারহা নিজেও চমকে তাকালো ফায়ানের দিকে।সে কি একটু সময়ও নিতে পারবে না?
-বলবি?নাকি বিয়ে ভেঙে দিবো?
-কবুল,,
‘সবাই চেঁচিয়ে উঠলো,আর বেচারি ফারহা তার বড় ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে,তার ভাই এতো আজব কেনো?
এদিকে নাদিমও মুখ চেপে হাসছে।
বড্ড অস্বস্তি’কর পরিস্থিতি।
-লেডিস এন্ড জেন্টে’লম্যান,আমি সৌহার্দ্য ফায়ান খান আজকে আপনাদের সাথে কিছু কথা বলতে চাই।আপনাদের কিছু জানাতে চাই।
‘সবাই উৎসুক দৃষ্টিতে ফায়ান’কে দেখছে,আরিমা আরহাম’কে কোলে নিয়ে ফায়ানের কাছে চলে গেলো,কারণ ফায়ান বার’বার হাতের ইশারায় তাকে ডাকছে।আর কতো উপেক্ষা করবে সে?
‘আরিমা যেতেই ফায়ান আরহা’মকে কোলে তোলে নিলো,তারপর আবার বলতে লাগলো।
-আমি আজকে আপনাদের যা বলবো আর যা দেখাবো,তা হয়তো আপনাদের ধারনার বাহিরে হবে।
‘এই বলে ফায়ান আরিমার হাতে একটা পেন’ড্রাইভ ধরিয়ে দিলো,আরিমা গিয়ে সেটা টিভি’তে সেট করে দিলো।
খান ভীলার ড্রইংরুমে’র টি’ভিটা বেশ বড় বলা চলে,তাই যে কেউ-ই নির্ভেজালে দৃশ্য দেখতে পারবে।
‘আরিমা রিমোট এনে ফায়ানের হাতে ধরিয়ে দিলো,ফায়ান ভিডিও অন করেই একপাশে সরে এলো,যাতে করে সবাই দেখতে পারে।কোনো অসুবিধে না হয়।
‘আরিমা নিচের দিকে তাকিয়ে নখ দিয়ে টাইলসে খুটছে,সে আর এসব দেখতে পারবে না,বুকের ভিতর হুঁ হুঁ করে।সহ্য হয়’না তার।রামিশার ব্যাপার’টা মাথা’চাড়া দিয়ে উঠে।
‘কমিশনার যেনো লাফ দিয়ে উঠলো,তার বিশ্বস্ত অফিসার’কে কি’না রায়হান শেখ মে’রেছে?কিন্তু তাকে ধরবে কীভাবে,সে তো পলাতক।এটা কোনো’ভাবেই মানা যায় না।
‘তারপর আরেকটা ভিডিও অন হলো,যেটাতে রামিশার দৃশ্য। বাড়ির সকলের চোখ পানি’তে টই’টুম্বুর।ছয় ভেড়ার ছানা’রা থেমে থেমে কাঁদছে।শব্দহীন কান্না।এই ভরা মজলিসে এমন কেউ নেই যার চোখে রামিশার জন্য পানি নেই।
‘আর সাহিত্য?সে তো এক কোণে গিয়ে বার’বার দেয়ালে হাত দিয়ে বারি দিচ্ছে।তার কলিজা মোচড় দিচ্ছে।তার ভালোবাসার মানুষ কি’না এভাবে মা’রা গেছে?ছিহ্, সে কেমন প্রেমিক’পুরুষ।
‘আরিমার কানে এসে বাক্য’টা আবার এসে বারি খেলো,এমনকি বেশ কয়েকবার।
-আমার বোকা ফুল,ভালোবাসি বোন।
‘এবার আরিমা আর কন্ট্রোল করতে পারলো না ঝর’ঝর করে চোখর পানি ছেড়ে দিলো,ভিতরে তার পুঁড়ছে।সে আর দমিয়ে রাখতে পারলো না নিজেকে।সেখানেই বসে পরলো।
চিল্লিয়ে কাঁদছে মেয়েটা,লোকে কি বলবে সেটা তার দেখার বিষয় না।তার কষ্ট হচ্ছে,দম বন্ধ লাগছে এটাই বড় বিষয়।আর এক সেকেন্ড সে চুপ হয়ে থাকলে দম বন্ধ হয়ে মা’রা পরবে।
‘ফায়ান আরহাম’কে সোনালীর কোলে দিয়ে এখান থেকে যেতে বললো,বেচারা আরহাম তার মাম্মা’মের কান্না দেখে অস্থির হয়ে উঠছে।
তাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে মোহনা আর সোনালী সেখান থেকে খানিক দূরে গিয়ে দাঁড়ালো।
-প্লিজ,নিজেকে সামলাও বউ। এভাবে ভেঙে পরতে নেই।
‘আরিমা কেঁদেই যাচ্ছে।থামার নাম-গন্ধ নেই।লোকে বুঝছে না কেনো কাঁদছে সৌহার্দ্য ফায়ান খানের ওয়াইফ?কিন্তু মেয়েটার কান্না তাদের ভিতরে দাগ কা’টছে।
‘শেষে ফায়ান আরিমা’র কাঁধ ধরে ঝাঁকি দিলো,যাতে সে সম্বিত ফিরে পায়।কিন্তু আরিমা তাতে চেঁচিয়ে উঠলো,,,
-আমার বোন’টা কি দোষ করেছিলো বলতে পারেন নেতা সাহেব?কি করেছিলো সে,শুধু একটু ভালো’বাসা,ভালো থাকা কামনা করেছিলো। আমার বোনটা বড্ড অবুঝ ছিলো নেতা সাহেব।
সে শুধু আমার ভালো’টাই বুঝে এসেছে সবসময়।ফিরিয়ে দিন না।আমার বোনকে এনে দিন’না নেতা সাহেব।সে একটু ভালো’ভাবে বাঁচুক।
আমার বোন’টা একটু ভালো’ভাবে বাঁচুক নেতা সাহেব।
‘সবাই বুঝে নিয়েছে,আরিমা আর রামিশা দুজনেই আবিদ আর আশালতা’র সন্তান। সবার বুক চিঁড়ে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো।আহারে বেচারি বোনটা অকালে মা’রা পরলো।
‘জিসান আর দিশা দিয়াজ’কে কোলে নিয়ে চোখ থেকে পানি বিসর্জন দিচ্ছে।ফারহা হেঁচকি তোলে কাঁদছে।নাদিম অসহায় দৃষ্টি’তে সেদিকে তাকিয়ে আছে।নিশাতেরও অবস্থা নাজে’হাল।
ভেড়ার ছানাদের তো কথায় নেই।
‘ফায়ান আর না পেরে আরিমা’কে ধমক দিলো।
-একটু যদি থামতে তাহলে কিছু বলতে পারতাম।
‘আরিমা অশ্রুসিক্ত পল্লবে ফায়ানের দিকে তাকালো,ফায়ান চোখ বন্ধ করে বড় বড় শ্বাস ফেলার মাধ্যমে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করছে,সে এভাবে তার বউকে দেখতে পারছে না,তার বউ থাকবে হাসি’খুশি,দেখলেই যেনো চু’মু দিতে ইচ্ছে করে,আর এ কীভাবে অবলা নারীর মতো কাঁদছে,মনে হচ্ছে জামাই ম’রেছে।
-তো আমি আরো’কিছু বলতে চাই আপনাদের।
-আজ থেকে কয়েক’বছর আগে,বোনকে নিয়ে সিলেট ঘুরতে গিয়েছিলাম।কারণ বোন জেদ ধরেছিলো সে সিলেট ঘুরে আসবে,আমিও না করতে পারিনি।সেদিন সন্ধ্যায় আমি বোন’কে নিয়ে একটা ক্যাফে’তে বসে ছিলাম।
🌼 Flashback 🌼
‘সন্ধ্যা গড়িয়ে গেছে,ফারহা’র এখানে বসে থাকতে বেশ বিরক্ত লাগছে,কারণ সে এক জায়গায় বসে থাকার মেয়ে না।বেশ চঞ্চল প্রকৃতি’র মেয়ে ফারহা।সে তার ভাইকে ডেকে উঠলো,,
-ভাইয়া,চলো বের হই এখান থেকে ভালো লাগছে না আর।
‘ফায়ান বোনের সব আবদার পূরণ করতে তৎপর। তাই সে নাদিম’কে সাথে নিয়ে ফারহা’র সাথে বেরিয়ে এলো ক্যাফে থেকে।বলে রাখা ভালো যে,নাদিম ফায়ানের সাথে বহু বছর যাবত আছে।
‘একটা নিরিবিলি জায়গা ধরে হাঁটছে তারা তিনজন,ফারহা আগে আগে লাফাচ্ছে,নাদিম আর ফায়ান পিছনে কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে,কিন্তু দৃষ্টি তার ফারহা’র দিকে।কয়েকবার ধমকও দিয়েছে।কাজ হয়নি।
-ভাইয়া আইস’ক্রিম খাবো প্লিজ,না করো না।প্লিজ।আমি তোমার হাতেই আইসক্রিম খাবো,তুমি আনবে যাও না।
‘ফায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেললো,,
-নাদিম,বোনকে দেখে রেখো আমি আসছি।
‘’ফায়ান আইসক্রিম নিয়ে অর্ধেক পথ আসতেই ফারহা’র চিৎকার শুনতে পেলো,আইসক্রিম সেখানে ফেলে রেখেই ছুটলো ফায়ান।
বোনকে অচেতন অবস্থায় দেখে বেশ ঘাবড়ালো ফায়ান।কি হলো বোনের?
-স্যার,আমি ম্যাম’কে গাড়িতে উঠিয়ে পাশে থাকা হসপিটালে নিয়ে যাচ্ছি।আপনি প্লিজ ওই মেয়েটাকে দেখুন,তাকে পুড়াচ্ছিলো কিছু লোক।
‘ফায়ান সায় জানালো,তারপর দৌড়ে গেলো মেয়েটার কাছে,ফারহার হাতে পানির বোতল ছিলো সেটা ছোঁ মেরে ফায়ান নিয়ে গিয়ে যথা সম্ভব আগুন নিভিয়ে দিলো।
‘সেরকম পুঁড়ে’নি।শাড়ি’টা মোটা হওয়ার দরুন সেরকম শরীর পুঁড়তে পারে নি।তাপ লাগার কারণে আত’ঙ্কে জ্ঞা’ন হারিয়েছে মেয়েটা।
মেয়েটার মুখটা চেনা চেনা লাগলো ফায়ানের।বেশি না ঘেটে কোলে তোলে নিলো সে।তারপর গাড়িতে বসিয়ে দুজন’কে হসপিটালের উদ্দেশ্যে নিয়ে গেলো।
‘দুর্ভাগ্য বসত সেখানে কিছুক্ষ’ণ পরেই ব্লাস্ট হয়।যার ফলে কিছু মানুষ মা’রা যায়।সেখানে থেকেই একজনের লা’শ রাজ রামিশা বলে চালিয়ে দেয়।
🌼 Flashback and🌼
‘সবার মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে,কি হলো পরে?ছয় ভেড়ার ছানা হা করে তাকিয়ে আছে।সবার এক অবস্থা।
‘ফায়ান কাউকে উদ্দেশ্য করে বললো,,
-রাশি,তুই তোর বাড়িতে সাচ্ছন্দ্যে প্রবেশ করতে পারিস।
‘তারপর আরিমা’র দিকে তাকিয়ে চোখ মা’রলো ফায়ান,ঠোঁট কামড়ে হাসছে সে।কেমন দিলো সে বউকে,আজকে নির্ঘাত তার বউ খুশী হয়ে তাকে দুই তিনটে চু’মু দিবে।ভাবতেই ফায়ানের মনটা খুশীতে নেচে উঠলো।
‘রামিশা সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করলো,পরনে কালো রঙের একটা শাড়ি,পাথর গুলো’তে লাইটিং এর আলো পরে ঝিকমিক করছে।মাথায় হিজাব প্যাঁচানো,মুখে অমায়িক হাসি।
‘’আরিমা কথা বলতে ভুলে গেছে,চুপ করে অশ্রুসিক্ত পল্লবে রামিশার দিকে তাকিয়ে আছে,মুখে কোনো কথা নেই।দৃষ্টি নড়’চড়ও করছে না।
‘এটা তার বোন?যাকে সে আবার স্পর্শ করতে পারবে?যার বুকে মাথা রেখে আবার ঘুমাতে পারবে?যার সাথে রাত জেগে গল্প করতে পারবে?
আরিমার শরীরে কম্পন ধরে গেছে।এটা তার বোন?
‘রামিশা সোজা আরিমা’র কাছে এগিয়ে এলো,তারপর আরিমা’র সামনে হাটু মোড়ে বসলো।আরিমার গালে এক হাত ছুঁয়ে বললো,,
-আমার বোকা ফুল,কেমন আছিস বোন।
‘আরিমার শরীর দুলে উঠলো,সে কাঁপা’কাঁপা হাতে রামিশার পুরো মুখ ছুঁয়ে দিলো।তারপর কাঁপা’কাঁপা কন্ঠে বুলি আওড়ালো,,
-আ…আমার বো…ন?
‘রামিশাও অশ্রুসজল নয়নে মাথা নাড়ালো।
আরিমা আবার বললো,,
-আ…আমি,ছুঁ…তে পার…ছি?
‘আরিমা কথা বলতে পারছে না,গলা ধরে আসছে।শুধু মুখ নাড়াচ্ছে সে,কথা গুলো ভিতরেই রয়ে যাচ্ছে। সে দুই হাত দিয়ে বোন’কে আঁকড়ে ধরে গগনবিদারী চিৎকার দিয়ে উঠলো।দুজনেই হাউমাউ করে কাঁদছে।তাদের কান্নায় চারপাশে মানুষজনের সাথে মনে হয় খান ভীলার ইট পাথর গুলোর বুকটাও যেনো হুঁ হুঁ করে উঠছে।
আমার নেতা সাহেব পর্ব ২৯
-আমার বোন,আমার বোন ফিরে এসেছে,কোথায় ছিলে তুমি এতদিন।জানো কতো কষ্ট পেয়েছি আমি?তোমার বোকা ফুল অনেক কষ্টে ছিলো তো!তুমি এতো পাষাণ কীভাবে হলে আপু?
‘রামিশা আরিমার চোখে মুখে চুমু দিয়ে ভরিয়ে দিলো,তারপর আবার বোনের মাথা’টা বুকের সাথে চেপে ধরলো।
দুজনের বক্ষ’স্থলেই যেনো শান্তির প্রজাপতি ডানা ঝাপড়াচ্ছে।এতো শান্তি, আরাম ক’বছর পায়নি তারা।
