আমার নেতা সাহেব শেষ পর্ব
আরিশা জান্নাত আদ্রা
‘প্রত্যূষের আলো ফোঁটার সাথে সাথে আরিমা জেগে গেলো,তারপর চোখ কচলাতে কচলাতে বিছানা ছেড়ে উঠে পরলো।প্রতিদিন’কার মতো খোপা করতে করতে চারপাশে তাকালো।
‘ফারহা’র রুম দেখে খানিক স্তম্ভিত হলেও পরক্ষণে সব মনে পরাতে খাটের দিকে তাকালো সে।যেখানে রামিশা আরহাম’কে বুকে জড়িয়ে ঘুমোচ্ছে।শান্তির ঘুম।কি জানি এরকম ভাবে কবে থেকে ঘুমায় না তার বোনটা।
‘আরিমা গিয়ে এক পাশ থেকে রামিশা’কে জাপটে ধরলো।আহ্ কতোদিন পরে মা মা গন্ধ পাচ্ছে।চোখ বুজে জোরে শ্বাস টানলো সে।বেশ ফুরফুরে লাগছে এবার।
‘আরিমা আরহাম আর রামিশার কপালে চুমু দিয়ে বেরিয়ে এলো,অনেক রাত করে তারা ঘুমিয়েছে।দু বোন মিলে আজকে অনেক গল্প করেছে।এতো যে ভালো’লাগছে তার।
‘’আরিমা যেই রুমের সামনে গেলো,ফায়ান হেঁচকা টান দিয়ে তাকে ভিতরে নিয়ে এলো,আরিমা হকচকিয়ে গেলো।পরক্ষণেই রাজ্যের রাগ ভর করলো তার মাথায়।
আরিমা ফায়ানের গেঞ্জি’র কলার ধরে জোরে টান দিলো ,
-আমাকে আগে কেনো বলেন নি?খুব ভালো লাগে না আমাকে কষ্ট দিতে?সবাই আমাকে কষ্ট দেন,কি পেয়েছেন কি আমায়?
‘ফায়ান আরিমার হাত সহ তাকে জড়িয়ে ধরলো,তারপর মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললো,,
-বউ,বুঝতে পারছো না।রাশির অনেক জায়গায় ক্ষ’ত হওয়ার জন্যে ওকে বিদেশ নিতে হয়েছিলো,কয়েক’মাস আগেই সে সুস্থ হয়ে ফিরেছে।
‘আরিমা শান্ত হলো,তারপর কিছু মনে হতেই ফট করে ফায়ানের দিকে তাকালো সে।
ফায়ান ঠোঁট কামড়ে বললো,,
-তুমি যা ভাবছো আমিও তা’ই ভাবছি।
-তাহলে হয়ে যাক?
-ইয়েস,তার আগে একটা চু’মু দাও।
-দেখি সরেন,ফ্রেশ হয়ে আসি।ফারহা’কে কল করতে হবে।
-আমি কল দিয়েছিলাম,ফারহা ঘুমোচ্ছে।
-আচ্ছা,ছাড়ুন এবার।
‘ফায়ান ছাড়লো না,বরং নিজের সাথে আরো নিবিড় ভাবে মিশিয়ে নিয়ে কপালে গাঢ় চুম্বন এঁকে দিলো।তারপর রাস্তা থেকে সরে দাঁড়ালো।আরিমা দৌড়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো।ফায়ান ফিক করে হেসে উঠলো।
-নেতা সাহেব,আপনার গলার তিল’টা অনেক সুন্দর।ইচ্ছে করে কামড়ে খেয়ে ফেলি।
‘বলেই ফায়ানের মুখের সামনে দরজা থ’রা’ম করে বন্ধ করে দিলো আরিমা।এদিকে ফায়ান হা করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আবার ফিক করে হেসে দিলো,তারপর এক হাত দিয়ে ঘাড় ডলতে ডলতে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে ঘুরে ঘুরে নিজেকে দেখতে লাগলো।”নাহ্,সৌহার্দ্য ফায়ান খান দেখতে মাশাল্লাহ। বলেই হেসে দিলো ফায়ান,পরক্ষণেই মুখমণ্ডল গম্ভীর করে বেরিয়ে এলো রুম থেকে।
‘আরিমা আবার দরজা বন্ধ করে হেসে দিলো,এতক্ষণ দরজা ফাঁক করে ফায়ানের কর্মকান্ড গুলো দেখছিলো সে।
“আমার নেতা সাহেব বড্ড পাগল।
‘নাদিম সোফায় বসে ফারহা’র দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে।সে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ফারহা’কে দেখছে,গোল’গাল ফর্সা চেহারা,মায়াবী চোখ,হালকা টনটনে নাক,সব মিলিয়ে পারফেক্ট।ফারহা অবশ্য অনেকটা ফায়ানের মতোই দেখতে হয়েছে,দেখেই বুঝা যাবে দুই ভাই’বোন।একদম কার্বন’কপি।
‘কিন্তু ফারহা কাল রাত থেকে যে ঘুমোচ্ছে।আর উঠার নাম নেই।এসেই ঘুমিয়েছে মেয়েটা।
আর কতো ঘুমোবে?নাদিম গালে হাত দিয়ে ফারহার দিকে তাকিয়ে আছে।মেয়েটা তাকে বড্ড টানে।
-আমাকে দেখা শেষ হলে এদিকে আসুন,আমি ফ্রেশ হবো,আমাকে টেনে তুলুন।
‘ফারহা চোখ বন্ধ রাখা অবস্থায় কথা’টা বলে উঠলো,নাদিম হকচকিয়ে গেলো,ফারহা দেখে ফেলেছে কি?ইশশ লজ্জার বিষয়।
-উঠাবেন না আমাকে?
‘নাদিম উঠে গিয়ে ফারহা’র হাত ধরলো,ফারহা হেঁচকা টানে নাদিম’কে বিছানায় ফেলে দিয়ে তার উপরে শুয়ে পরলো জাপটে ধরে।
বেচারা নাদিম হা হয়ে গেছে,অদ্ভুত ভালোলাগা’য় জাপটে ধরেছে তাকে।তার ভালোবাসার মানুষ তার বুকে?
‘নাদিম মুচকি হেসে ফারহা’কে দুই হাত দ্বারা আগলে নিলো,এদিকে ফারহাও তার অগোচরে মুচকি হাসলো।তারপর আরেকটু নিবিড়
‘ভাবে নাদিম’কে জড়িয়ে ধরলো,এ যেনো এক সুখ’কর অনুভূতি।
-মাম্মা,এই আন্টি’টাকে চেনা চেনা লাগে আমার।
‘আরহামের কথায় চমকালো রামিশা,তাকে চিনে মানে?
-কীভাবে চিনো বাবা?উনি তোমার আন্টি না,তোমার আম্মু।
-আম্মু?
-হ্যাঁ,আমাকে মাম্মাম ডাকবে আর উনাকে আম্মু ডাকবে ঠিকাছে?
-ঠিকাছে মাম্মাম,আম্মু আমাকে কোলে নাও।
‘বলেই দু হাত বাড়িয়ে দিলো আরহাম,রামিশার বুকটা ধ’ক করে উঠলো,কতো বছর পর ছেলের মুখের ডাক শুনতে পেলো সে।
আরহাম’কে কোলে তোলে নিলো রামিশা।তারপর চু’মু দিতে দিতে বললো,,
-এইতো বাবা,আম্মু কোলে নিয়েছে।আমার চাঁদ সোনা।
‘আরহাম চুপটি মেরে রামিশার গলা জড়িয়ে ধরে আছে,যেনো কতো আরাম পাচ্ছে ছেলেটা।
-আম্মু,তোমার শরীর থেকে সুন্দর ঘ্রাণ আসছে একটা।কি সুন্দর। মা মা ঘ্রাণ।
‘আরিমা মুচকি হেসে বললো,,
-এতোদিন আমি মা মা ঘ্রাণ পেয়েছি,এবার তুমি সহ ভাগ নিতে এলে বাবাই?
‘বলেই হেসে দিলো আরিমা,রামিশাও হাসছে,দুজনের হাসি দেখে আরহামও খিল’খিল করে হেসে দিলো।তিনজন সমান তালে হেসে যাচ্ছে।যেনো সুখী পরিবার একটা।
-নে,সই কর।
‘ফায়ানের কথায় সাহিত্য অবাক হলো ভীষণ,
-কি হলো?কর সই।
-কিসের পেপার ভাইয়া এটা?
-তোর সব সম্পত্তি নিজের নামে করে নিবো তাই সই চাচ্ছি,ছা’গ’ল কোথাকার।
‘সাহিত্য আর না ঘেটে সই করে দিলো,সাথে সাথে ফায়ান টা’ন দিয়ে পেপার’টা নিয়ে নিলো,তারপর সামান্য ঝেড়ে একটু পরোখ করে নিলো।
সব ঠিকাছে।
‘তারপর রামিশার কাছে গেলো ফায়ান,খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বাড়ির সবাই লিভিং রুমে আড্ডা দিচ্ছিলো।এর মাঝে ফায়ানের আগমনে ভড়কালো তারা।
এ-সময় ফায়ান বাসায় থাকে না তেমন।
-শোন রাশি,আমি তোকে কিছু বলতে চাই।
‘রামিশা একবার আরিমা’র দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ালো।
-দেখ,তুই এখনো বেশ ছোটো,সবকিছু শেষ হয়ে যায় নি।কারো জন্যে থেমে থাকবি না তুই।নিজের মতো করে বাঁচতে হবে তোর।যে তোকে ধো’কা দিয়েছে তার কথা আর মনে করবি না।জীবন নতুন’ভাবে শুরু কর।
‘’একটু থেমে আবার বললো,,
-তোর বিয়ে ঠিক করেছি আমি।
‘আরিমা ছাড়া সবাই চমকালো,রামিশা নিজেও চমকেছে।অশ্রসিক্ত নয়নে সে ফায়ানের দিকে তাকালো।কি করবে সে?কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না।আরিমা রামিশার এক হাত ধরে বললো,,
-দেখো আপু,সব কিন্তু শেষ হয়ে যায় নি।আবার সব মানুষ কিন্তু সমান না,রাজ কখনো তোমাকে ভালোবাসে’নি আপু,তুমি ভে’ঙে পরলে সে জিতে যাবে।তুমি লড়ো,লড়াই করে যাও,আমি আছি,আমরা আছি তোমার পাশে।সব আবার নতুন’ভাবে শুরু করো।
‘রামিশা অবাক হয়ে আরিমা’র দিকে তাকালো,তার বোকা ফুল চালাক হয়ে গেছে।
-কিন্তু ভাইয়া,আমি কেনো অন্যকারো জীবন ন’ষ্ট করবো?এই অধিকার আমার নেই।
-ন’ষ্ট করবি মানে?
-আমার মতো পুঁড়া কপালি একজন’কে কে নিজের সঙ্গী হিসেবে নিবে?আমি কি আদৌও কারো ঘরণী হবার যোগ্যতা রাখি?
-আপু,বেশি বাজে বকবে না।ভাইয়া তোমাকে ছোটো’বেলা থেকেই ভীষণ ভালো’বাসে।
-মানে?
-হ্যাঁ সাহিত্য তোকে ছোটো থেকেই ভীষণ ভালোবেসে এসেছে।আমিই তাকে নিষেধ করেছি বিধায় সে দেশ ছেড়েছিলো।সেই থেকে আমার ছেলেটা আমার সাথে কথা বলে না’রে মা।
‘সোনালী কাঁদতে লাগলেন,ছেলের অবহেলা সে সহ্য করতে পারে না।কষ্ট হয়।
-নে সই কর।
-এটা কি?
-সই কর আগে, বলছি,
‘রামিশা না পড়েই সই করে দিলো।
‘ফায়ান আর আরিমা বিশ্বজয়ের হাসি দিলো।তারপর গলা ঝেড়ে বললো,,
-তো,তুই আর সাহিত্য আজকে থেকে লিগ্যাল হাজবেন্ড ওয়াইফ।আশা করি আমার বউকে নিয়ে আর তোর কাছে রাখবি না।আমার বউ ছাড়া ঘুমাতে সমস্যা হয়।আর হ্যাঁ,আমার ভাই তোকে সুখী’ই রাখবে।দেখে নিস।
-আম্মু,সাহিত্য ঠিক’ই আছে,খালি তোমার সাথে অভিমান করেছিলো।রাতে বিরিয়ানি করিও ওর জন্য, দেখবে সব ঠিক।
‘’সাহিত্য যেনো বিশ্বাস-ই করতে পারছে না রামিশা তার রুমে।রামিশাও বেশ বিপাকে পরলো।সন্ধ্যে বেলাতেই আরিমা তাকে একটা শাড়ি পরিয়ে এই ঘরে দিয়ে গেছে,কেমন লাগে?কিছু বলতেও পারছে না সে।খালি হাত মোচড়াচ্ছে।
-রাশি,,
‘’সাহিত্যের সামান্য ডাকেও কেঁপে উঠলো যেনো রামিশা,এতো দরদ মিশিয়ে কেউ ডাকতে জানে নাকি?
‘সাহিত্য এক পা দু পা করে রামিশার দিকে এগিয়ে গেলো,তারপর তার এক হাত নিজের হাতের মুঠোয় ভরে নিলো।রামিশা এতে বেশ চমকালো।
-আমাকে ছুঁবে না,
‘সাহিত্য ভ্রু কিঞ্চিৎ বাঁকিয়ে শুধালো,
-কেনো ছুঁবো না?তুই কি আমার বউ না?
‘বউ’ শব্দ’টা শোনে রামিশার চারপাশ ভালো’লাগায় ছেয়ে গেলো,সুখ’কর অনুভূতি’রা ডানা মেলছে।নিজেকে ধাতস্থ করে সে বুলি আওড়ালো,,
-আমার শরীরে অন্যকারো……,
‘বাকিটা আর বলতে দেয়’নি সাহিত্য,সে কন্ঠে ক্রোধ মিশিয়ে বললো,,
-খবরদার, ওই জা** কথা আমার সামনে যদি বলেছিস।
‘রামিশা মাথা নিচু করে নিলো,তখনই এক ফোটা তরল পদার্থ টপ করে মাটিতে পরে গেলো,
সাহিত্য এবার এগিয়ে এসে রামিশার মাথা’টা নিজের বুকের সাথে চেপে ধরলো।
-আমি তোকে ভালোবাসি আমার রাশি,তুই আমার কাছে যেমন ছিলিস,সেরকম’ই আছিস।আর সারাজীবন তেমন’ই থাকবি।কোনো নর’পশুর জন্য মন খারাপ করবি না,এতে আমি ক’ষ্ট পাবো।আমার পবিত্র স্পর্শ দিয়ে তোর মাঝের সকল খারাপ স্পর্শ’কে দূর করে দিবো।তুই আমার রাশি একান্ত’ই আমার।তোর ভাগ আমি দুনিয়ার কাউকে দিতে রাজি নই।একবার যে’ই ভুল করেছি।সেটা আর দ্বিতীয়’বার করবো না।
ভালোবাসি আমার রাশি।
‘রামিশা পরম শান্তি’তে সাহিত্যের বুকে মাথা এলিয়ে দিলো,যে’ই দাবানল এতো বছর যাবত নিচের মাঝে পুষে রেখেছিলো আচমকা সব নিভে গেলো।পরম শান্তি,আর ভরসা এসে হানা দিলো মনে।এই স্থান’টা’ই চায় তার।একটু শান্তির জন্য। ভালো থাকার জন্য।
‘ফারহা নিজের রুমের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে,বাহিরে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে,সাথে বাতাস বইছে।এইতো বিকেলে আরিমা আর ফায়ান গিয়ে তাকে নিয়ে এসেছে,সাথে অবশ্য আফরিদও এসেছে।বেচারা কি বাসায় একা থাকবে নাকি?
-কি ব্যাপার,ঘুমোবে না?
-জামাইয়ের আদর ছাড়া ঘুম আসে না’কি?
‘নাদিম ভড়কালো,মেয়েটা তার বড় ভাইয়ের মতোই ঠোঁট’কাটা হচ্ছে না’কি?তাহলে তো সর্বনাশ।
-চলো,এসো ঘুমাবে।
‘ফারহা কথা না বলে উল্টো ঘুরে নাদিমের গলা আঁকড়ে ধরে,সে বড্ড অভিমান করেছে,তার জামাই তাকে একটা চু’মু অব্দিও দেয় নি।কি নিরামিষ লোককে পছন্দ করেছে সে?
-আপনি আমাকে ভালোই বাসেন না।
‘ফারহা’র অভিমানী কন্ঠে নাদিম মুচকি হাসলো।
-বাসি তো,আমার বউকে আমি অনেক ভালোবাসি।এই এতো এতো ভালোবাসি।
‘ফারহা খুশীতে লাফিয়ে উঠলো।
-তাহলে চুমু দিন,
‘বলেই গাল এগিয়ে দিলো ফারহা,নাদিম হেসে দিলো।তারপর ফারহার গাল নিজের দুই হাতে ভরে নিয়ে পর’পর কয়েকটা চুমু খেলো ফারহা’র কপালে,ফারহা মৃদু কেঁপে উঠে নাদিম’কে জড়িয়ে ধরলো,নাদিমও নিজের বউ’কে বুকের মাঝে লুকিয়ে রাখলো,যাতে কেউ তাকে ছিনিয়ে নিতে না পারে।শেষ নিঃশ্বাস অব্দি এভাবে থাকতে চায় সে।
‘আফরিদ মশা মা’রছে আর ভাবছে,তাকে বিয়ে করিয়ে দিলে এমন কি হতো?এবার নিজেকে বড্ড শূণ্য শূণ্য লাগছে।বেলা আর মনির,শুভ তো সারাদিন টাঙ্কি’ই মা’রে।সিমরান আর সে’ই খালি আছে।
-চাচ্চু,আমি ওয়াশরুমে যাবো।
-হ্যাঁ বাপ চল,চারপাশে সব জোড়া জোড়া,মাঝখানে আমি কপাল পুঁড়া।
-আমিও।
‘আফরিদ ফিক করে হেসে দিলো,তার সাথে আরহামও হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে,টুং করে একটা ম্যাসেজ এলো আফরিদের নাম্বারে।
-নিজেকে সিঙ্গেল ভাবা বন্ধ কর,তোর জন্য আমি সিমরান’ই যথেষ্ট।এবার আমাদের বিয়ে ঠিক কর।সবাই এক বাসাতেই থাকবো।ফের ম্যাসেজ দিবি না।আমি ঘুমাবো,গুড নাইট হবু বর।
‘আফরিদ ঠোঁট কামড়ে হাসলো,যাক এতদিন ঘুরিয়ে শেষমেশ সিমরান রাজি হয়েছে।
আরহাম’কে বিছানায় ছুঁড়ে মে’রে দুজন দু’জন’কে জাপটে ধরে ঘুমের রাজ্যে পাড়ি জমালো।
শান্তি আর শান্তি।
-বউ,একটু আদর দাও না।
-উফ,বেশি বিরক্ত করলে কিন্তু আমি আরহামের কাছে চলে যাবো।ঘুমাতে দিন না।
‘ফায়ান ঠোঁট ফুলিয়ে পাশ ফিরে গেলো,সে আর বউয়ের কাছে ফিরবে না।নতুন বউয়ের ব্যবস্থা করতে হবে, এটা আদর করে না।
পরক্ষণেই ফায়ান ভাবলো,,না না,তার বউ যদি আবার অন্যকাউকে বিয়ে করে নেয়?না না,এটা সে মানতে পারবে না,তার আদর তাকেই আদায় করতে হবে।সে পুরুষ মানুষ হুম।
‘ফায়ান পাশ ফিরে তাকিয়ে দেখে আরিমা নেই।দ্রুত উঠে বসলো সে,তার বউ গেলো কই।ছোটো মুরগীর বাচ্চার মতো বউটাকে কি শেয়ালে নিয়ে গেলো?
‘তখনই ওয়াশরুমের দরজা খট করে খুলার শব্দ হলো।ফায়ান হা করে আরিমার দিকে তাকিয়ে আছে,আরিমা জর্জেটের কালো রঙের একটা শাড়ি গায়ে জড়িয়েছে,একদম মানিয়েছে তার গায়ে।ফায়ানের ঘোর লেগে যাচ্ছে।গভীর মায়া’য় ডুব দিতে ইচ্ছে করছে।
‘সে এক পা এক পা করে আরিমার দিকে এগিয়ে গেলো,আরিমা সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে।নড়া’চড়া করছে না।ফায়ান গিয়ে আরিমা’র পিঠে হাত দিয়ে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো তাকে।আরিমার চুলে নাক ডুবিয়ে ঘ্রাণ নিলো ফায়ান।
‘আরিমা দু হাতে ফায়ানের গলা আঁকড়ে ধরলো,তারপর ফায়ানের গলায় থাকা লালচে তিল’টাতে নিজের নরম ঠোঁট বসিয়ে দিলো,ফায়ান আরিমা’র কোমর দু হাত দিয়ে চেপে ধরলো।
‘আরিমা ছিঁটকে সরতে গিয়েও সরতে পারছে না।ফায়ান তাকে ছাড়ছে না।
-আগুন লাগিয়ে দিয়ে পালানো হচ্ছে?
উঁহু,মিসেস খান,আজকে আপনার ছাড় নেই।
‘ফায়ানের একেক’টা কথা কেমন যেনো শোনাচ্ছিলো,আরিমা শত চেষ্টা করেও ছাড়াতে পারলো না নিজেকে,তাই সে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইলো।ফায়ান মুচকি হেসে আরিমার কপালে একটা চু’মু এঁকে দিলো,তারপর ঘাড়ে নিজের মুখ ডুবিয়ে দিলো,আরিমা ফায়ানের চুল আঁকড়ে ধরলো।
‘চোখ বন্ধ করে নিয়েছে মেয়েটা,থাক,আজ আর সে নেতা সাহেব’কে বাঁধা দিবে না।
‘ফায়ান আরিমা’র তিঁর’তিঁর করে কম্পমান ঠোঁটের দিকে এগিয়ে গেলো,দুজনের নিঃশ্বাস তাদের চোখে মুখে এসে বারি খাচ্ছে।
আরিমা কম্পিত স্বরে বলে উঠলো,,
আমার নেতা সাহেব পর্ব ৩০
-ভালোবাসি,আমার নেতা’ সাহেব।আপনি শুধু একান্তই আমার নেতা সাহেব আর কারো না।আমার নেতা সাহেব।
‘ফায়ান মুচকি হেসে বললো,,
-ভালোবাসি বউ,খুব বেশিই ভালোবাসি।
‘বলেই আরিমার ঠোঁটে নিজের পুরুষালী ঠোঁট চেপে ধরলো ফায়ান।হয়ে যাক আজ নতুন অধ্যায়ের সূচনা।ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হোক দুটি মন।
‘বেস্ট অফ লাক ফায়ান”আমার পক্ষ থেকে
( সিজন ২ চান নাকি )
