Home আমি অভিশাপ পৃথ্বীর আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ১৭

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ১৭

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ১৭
ইসরাত জাহান দ্যুতি

জাবির হোটেলের সামনে গাড়িটা দাঁড় করিয়ে রাখা সুহাইলের৷ তার সেক্রেটারি আলমকে হোটেলের ভেতরে পাঠিয়েছেন ভাতিজাকে বার থেকে তুলে নিয়ে আসার জন্য৷ সেই সন্ধ্যার পর এসে ঢুকেছে ছেলেটা এখানে। এখন রাত বাজে একটা। এতক্ষণ ধরে বারের কর্মচারীগুলোকে জ্বালিয়ে মেরেছে নিশ্চয়ই। শিল্প মন্ত্রীর নাতি পরিচয়ে ঢাকার মধ্যে এই ছেলে যে কত কী বেড়ায়! আবার জায়িন মাহতাব শেখের রক্ত বলেও কথা! সেই রক্তের মর্যাদা না রাখলে কি চলে? কিশোর বয়সে যদিও জায়িনকে তার এক্সট্রাঅর্ডিনারি ধরনের মনে হত, ভালোও লাগত তাই৷ কিন্তু ভাইটির নারীনেশার প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আসক্তিটাই ঘৃণা লাগত।

পরবর্তীতে অবশ্য জেনেছিলেন জায়িনের হাইপারসেক্সুয়াল ডিজঅর্ডার ছিল৷ যেটার চিকিৎসাও আবশ্যিক ছিল। কিন্তু ভাতিজাটাও কি এই ডিজঅর্ডারে ভুগছে না কি স্বভাবেই চরিত্রহীন হলো, আল্লাহই ভালো জানেন! যশোরে এসে আবার কোন মেয়ে মামলায় ফাঁসবে কে জানে! নিজের মানসম্মান নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছেন তাই সুহাইল। তিনি প্রায়ই জাকির শেখ, জাহিদ শেখ, দুজনকেই কতবার করে বলেন ছেলেগুলোকে বিয়ে করিয়ে দিতে৷ ইসলামে তো ছেলেদেরকেই দ্রুত বিয়ে করিয়ে দেওয়ার হুকুম জারি করা আছে৷ তারা কেউ-ই এ কথার গুরুত্বই দেয় না। শেখ পরিবার নামেই কেবল ইমানদার গোষ্ঠী। ওই পরিবারের একটা ছেলে মেয়ে কি ইসলামের বিধি-নিষেধ মেনে চলে? সবগুলোর মধ্যেই ভেজাল। বাড়ির বউগুলোও তো শুধু শ্বশুর আর শাশুড়ীর সামনেই শুধু হুজুর সাজে৷ তারা আর ছেলে-মেয়েদের কী মানুষ করবে!
গাড়ির জানালায় টোকা পড়ল সহসা। সুহাইল মুখ তুলে তাকাতেই আলম বলল, ‘স্যার, ডোর তো লক। লক খুলুন।’

ভাবনার মধ্যে বেখেয়ালে কখন দরজা লক করে ফেলেছিলেন বুঝতে পারেননি তিনি৷ দরজা খুলতেই তার লম্পট চরিত্রের সুন্দর ভাতিজাটা নেশা চোখে কেমন দুষ্টু হাসতে হাসতে পাশের সিটে এসে বসল ধপ্ করে, ‘তুমি এত রাতে কেন দেখা করতে এলে, কাকু? কাল সকালেই আমি যেতাম।’
ছেলেটার গায়ে বিলেতি মদের ঘ্রাণ আর বিদেশী সুবাসের কড়া পারফিউম, দুইয়ে মিলে একাকার হয়ে গেছে৷ কেমন উটকো একটা গন্ধ বাতাসে ভেসে আসছে ফাজিলটার গা থেকে। সুহাইল দূরে না সরে বসলেও নাক কুঁচকালেন, ‘কী সমস্যা, বাপ? তুই সুইট বুক করেছিস কেন বাড়িতে না গিয়ে?’
-‘বাড়ি গেলে কি তুমি আমার ঘুমপরীদের নিয়ে ঘুমোতে দেবে?’ সিটে গা মেলে দিয়ে শুধায় সে, চোখেমুখে সেই দুষ্টু হাসিই।

সুহাইল হতাশ হন, অধর চেপে ধরে একবার জানালার বাইরে চেয়ে আবার ভাতিজার দিকে তাকান। আদর গলায় বলেন, ‘চল, তোকে বিয়ে দিই বাপ। এই জেলার সব থেকে সুন্দর মেয়েটাকে তোর বউ করে দেব। তারপর বউ নিয়ে সারা দুনিয়া ঘুরবি।’
-‘আমার বাপ, চাচার থেকে তুমি সবচেয়ে ভালো মানুষ কাকু। সেই তুমি আমাকে বিয়ে করিয়ে একটা মেয়ের জীবন নষ্ট করতে চাও? বিয়ে থা করে আমি কোনো মেয়েকে কষ্ট দিতে পারব না, কাকু। স্বভাবে না হয় আমি ওলট-পালট। কিন্তু মন আমার সাদাই সাদা। আমি আজ অবধি কোনো মেয়েকে কষ্ট দিইনি আর পারবও না দিতে।’
-‘তোকে বিয়ে করলে কষ্ট কেন পাবে সে?’ একটু বিরক্তি আর বিস্মিত হলেন সুহাইল।
-‘বোঝো না কেন?’ মুচকি মুচকি হাসে সে।

সুহাইল বিব্রত হলেন ভাতিজার ইঙ্গিত বুঝতে পেরে, তবুও কৌতূহলী কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুই কি ইন্টিমেসির সময় দানব হয়ে যাস না কি জানোয়ার হয়ে যাস, ন…!’ সতর্কতা অবলম্বনে ডাকতে গিয়েও থেমে গেলেন। আর তখনই অট্টহাস্যে ফেটে পড়ল ছেলেটা, ‘তুমি এত সরল কেন, কাকু? এই জন্যই চাচিকে বিশ বছরেও বিয়েটা করতে পারলে না। শোনো কাকু, আমি আমার পার্টনারদের একটুও কষ্ট দিই না৷ বরং তারা পাগল হয়ে যায় আমার পাগলামোই। সে সময় ওরা প্রত্যেকেই আমাকে প্রচণ্ড ভালোবাসে। আমি তো বউকে কষ্ট না দেওয়ার কথাটা বললাম এজন্য, একজনকে বিয়ে করে তো আমার হবে না৷ যে সুন্দরীকেই দেখি তাকেই আমার ভালোবাসতে মন চায়৷ তাহলে বিয়ে করতে হবে প্রতি বছর কম করে হলেও আমাকে এক সেঞ্চুরি। পাছে শেখ গোষ্ঠী আমার পয়দা করা বাচ্চাকাচ্চাই দিশাহারা হয়ে ঘর ছাড়বে। হা হা! আমি তা ইমাজিন করছি এই মুহূর্তে, কাকু। তুমিও করো। কী দুর্দান্ত হবে আমার ফ্যামিলি। গিনিস বুকে রেকর্ড লিস্টে ফার্স্ট থাকবে আমার নাম। প্রথম রেকর্ড থাকবে বিশ্বের সব চেয়ে বিয়ে করেছেন যে পুরুষ। দ্বিতীয় রেকর্ড হবে বিশ্বের সব থেকে বেশি বাচ্চা জন্ম দিয়েছেন যে বাবা। হা হা হা!’

আলম গাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে আছে ঠিকই। কিন্তু তার কান খাঁড়া হয়ে আছে গাড়ির মানুষদুটোর কথোপকথন শোনার আশায়। হোটেলে ঢুকে সুহাইল শেখের ভাতিজাকে সে যে অবস্থায় পেয়েছে, তাতে সে খুব অবাক হয়েছে৷ মানুষ হিসেবে সুহাইল ধার্মিক না হলেও তাকে আজ অবধি মেয়ে নিয়ে নোংরামি করতে দেখেনি, মদ স্পর্শ করতেও দেখেনি, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজটাও আদায় করেন। আর সব থেকে বেশি যেটা করেন তা হলো– ডাক্তার ঝুমুরকে সব সময় নজরবন্দি রাখেন। তার মেয়ে কিরণের সঙ্গে সেদিন যে দুর্ঘটনাটা ঘটেছিল, তাতে সুহাইল মোটেও সেই ছেলেদুটোকে ছেড়ে দেননি৷ ছেলেদুটির নামে কতগুলো যে মামলা ঠুক জেলে ভরেছেন! তা শুধু সে-ই জানে। দশ বছরেও জেল থেকে মুক্তি পাবে কি না সন্দেহ। রাজনীতিতে যতটা সম্ভব সৎ থেকেছেন। সামনের নির্বাচনে সুহাইল এমপি পদে জিতে যাবে বলে বিশ্বাস আলমের। সেই মানুষের ভাতিজা কি না দুশ্চরিত্র!

-‘ওকে ওকে! অনেক হাসলাম৷ তুমি আমার পরিচয়টা কোথাও ঘোষণা কোরো না, কাকু। ভাগ্যিস সেদিন কলেজে সাবধান করেছিলাম! আর তুমি আমাকে আপাতত নিহাদ নামে ডেকো। আমি এখানে যতদিন আছি ততদিন তুমি প্রচণ্ড চিন্তাতে থাকবে জানি৷ বাট আই প্রমিস আই ওন্ট প্রেশার য়্যু অ্যাট অল। আমাকে যশোর যারা পাঠিয়েছে প্রেশার পড়বে তো তাদের ঘাড়ে।’
-‘এটা কোনো এক্সকিউজই ছিল না, নিহাদ। বিয়ের পর তোর চাহিদা তুই বউয়ের কাছ থেকেই পূরণ করবি, ভালোবাসতে চেষ্টা করবি তাকেই। বাইরের মেয়েদের দিকে নজর যাবে কেন তোর? ঢাকায় যে মেয়েটাকে নিয়ে রটনা ঘটনা শুনলাম। সে মেয়েটা নাকি বেশ ইনোসেন্ট। তাওসিফ বলল। বিয়েটা তাকেই কর না হয়। তোর দাদাকে মানানোর দায়িত্ব আমার।’
এবার বিরক্ত হলো নিহাদও, ‘ঢাকার কোন মেয়েটার কথা বলেছে ভাই? আমি কি একটা মেয়ের সঙ্গে ডিল মেইনটেইন করেছি? সিরিয়াস রিলেশন এ জীবনেও করিনি আমি। আমার ওসব বিয়ে-শাদি হবে না, কাকু। আমার ইন্ট্রেস্ট নেই বিয়েতে। বিয়ে ছাড়াই তো সব পাচ্ছি। বিয়ে করলেই সব আনন্দ তছনছ। আমাদের শেখ গোষ্ঠীর ছেলেদের বউ কপাল ভালো না, বিশ্বাস করো না তুমি? হয় বউ দ্রুত মারা যাবে, নয় ভেগে যাবে অন্য কারও সাথে, নয়ত ফ্রড হবে, চরিত্র খারাপ থাকবে বিয়ের আগে, নয়ত সন্ত্রাস হবে। হা হা! শুধু আমার দাদীবুই একদম খাঁটি সোনা। তোমার বড়ো বাবা মানে আমার দাদার যে দাদা ছিলেন, তিনি সারা জীবনে কতগুলো বিয়ে করেছেন তার হিসাব যদি তুমি দিতে পারো তাহলে আমি ভালো ছেলে হয়ে যাব, কসম। এক বউ নিয়ে সংসার করব, যাও।’

-‘তার কথা কেন আসছে এখানে? তিনি করতেন দেশের বাইরে বাইরে ব্যবসা বাণিজ্য। সেসব জায়গায় ব্যবসা করতে গিয়ে বছরের পর বছর পার করতেন বলে বিয়ে-শাদি করে হালালভাবে চাহিদা পূরণ করতেন। তাদেরকে তালাক দিলে প্রাপ্য বুঝিয়ে দিয়েই ফিরতেন। বিয়ে তিনি হাজারটা করলেও বাড়ির একমাত্র কর্ত্রী আমার বড়ো মা-ই ছিলেন কিন্তু। জীবনেও বড়ো বাবা তার বাকি কোনো বউদের ঘরে তোলেননি৷ ওই সময়ের মানুষগুলোর ধ্যান ধারণাই ছিল অন্যরকম। তাদের কথা বলে লাভ আছে?’
হাসি মুখে রেখেই চোখজোড়া ডলে নিহাদ হাতঘড়ি দেখল। রাত দেড়টা পার হয়ে যাচ্ছে৷ সুহাইলকে শেষ কথাই বলল, ‘ওকে চাচাজান, তোমার কথামতোই এখানের একটা মেয়েকে বিয়ে করব কথা দিলাম। তুমি তো বিয়ে করবে বললে এক বছর পরই। আমিও তোমার মতো তেতাল্লিশ শেষ করে যশোরের একটা ডক্টরকে বিয়ে করে নেব, হ্যাপি? এখন আমি যাই? আমার সুইটে লাস্যময়ী রাতপরী অপেক্ষা করছে অনেকক্ষণ। আর অপেক্ষা করানো যাবে না৷ শেষে দেখা গেল অন্য কারোর ম্যাসাজ সার্ভিসে ব্যস্ত হয়ে যাবে। শুভ শুভরাত্রি, চাচাজান!’ শেষোক্ত কথার মাঝে ঠোঁট দুষ্টু হাসি ঝুলিয়ে, চোখ মেরে বসল সে সুহাইলকে।
সুহাইল নির্নিমেষ তাকিয়ে থাকলেন ওর যাওয়ার পথে। শেখ গোষ্ঠীর পুরুষদের জীবনে সত্যিই কি কোনো অভিশাপ আছে? কারও জীবনেই সত্যিকারের সুখ নেই কেন?

পড়তে পড়তে কখন যেন রাত আড়াইটা বেজে গেছে। ঘুম চোখে আজ নামবে বলে মনে হয় না। তাওসিফকে বিদায় না জানিয়েই তখন ঘরে ফিরে আসে দীধিতি। তামান্না ঘুমে বেহুঁশ ততক্ষণে। নীরব ঘরে সে সময় একটানা দু’ঘণ্টা করে যাবৎ পড়ে গেছে ও। এরপরও ঘুমের হদিস না পেয়ে আজ ল্যাপটপের নভেল ফোল্ডারটা ওপেন করে বসল৷ বহুদিন বাদে বিদেশী এক লেখকের একটি ফ্যান্টাসি, রোমান্টিক আর থ্রিলার জনরার উপন্যাস পড়তে শুরু করল। Bluest moonshine উপন্যাসের শিরোনাম।
আইসল্যান্ডের ভেস্তমানেয়ার আরকিপেলেগো শহরের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত একটি আগ্নেয় দ্বীপ ‘সার্টসি’। ১৯৬৩ সালে সমুদ্রপৃষ্ঠের ১৩০ মিটার নিচে সংঘটিত ওয়েস্টম্যান আইল্যান্ডের এক জলস্থ আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাতের ফলে এই দ্বীপের উৎপত্তি। অগ্ন্যুৎপাত চলতে থাকে ১৯৬৭ সালের ৫ জুন পর্যন্ত এবং বন্ধ হওয়ার পর সেই স্থানে এক দ্বীপের সৃষ্টি হয় যা আগে সেখানে ছিল না। এই নতুন দ্বীপের নামকরণ করা হয় নোর্স পুরাণের আগুণের ইয়োটুন বা দৈত্য সার্টর-এর নামানুসারে।
এই দ্বীপ আবিষ্কারের পর শুরুর দিকে বহু মানুষ জানার আগ্রহে ছুটে এলেও অদ্ভুতভাবে সে মানুষগুলো আর ফিরে যেতে পারেনি৷ তাদেরকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। মৃত ভাবলেও তাদের লাশের চিহ্নও মেলেনি৷ রহস্য সমাধানের জন্য যারা ছুটে এসেছিল আধুনিক যন্ত্র সরঞ্জাম নিয়ে৷ আশ্চর্যভাবে তাদের মৃত্যু ঘটেছে প্রাকৃতিক নিয়মেই। পৃথিবীর সাধারণ মানুষের আজও জানা নেই, তাদের দৃষ্টির আড়ালে এই দ্বীপে ঝলমল করে এক প্রাসাদ৷ যে প্রাসাদে হাজারও মায়া নেকড়ে।

পড়ার মাঝেই টেবিলে মাথা রেখে দীধিতি চোখ বুজে নিলো। আজও সে কল্পনা করতে চায় এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় একটি চরিত্রে৷ যে চরিত্রের নাম মিরহান। বৃটিশ এক মধ্যবিত্ত পরিবারের এতিম মেয়ে সে। তবে সে কোনো সাধারণ মেয়ে নয়। তার মাঝে আশ্চর্য এক ক্ষমতা আছে। যে ক্ষমতা সে ব্যবহার করতে পারবে শুধুই শয়তান ধ্বংসের জন্য। যাকে গড়ে তুলেছেন তার দাদা জর্জ ছোটোবেলা থেকেই এক যোদ্ধার মতো। আত্মরক্ষার জন্য সকল প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তিনিও সে বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী। সে ক্ষমতায় লাভ করেছে তার একমাত্র নাতনি। তবে তিনি খুব ধর্মপ্রাণ মানুষ৷ নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার কখনই করেননি৷
নাতনিকে নিয়ে থাকেন তিনি উইম্বলডন গ্রামে খুবই সাধারণভাবে। তিনি চান তার নাতনি নিজের অসাধারণ ক্ষমতা শুধু নিজের মাঝে পুঁজি করে না রাখে সৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করুক। সার্টসি দ্বীপে হাজারো মানুষের প্রাণ খোয়া যাচ্ছে রোজ। যা কেউ-ই জানতে পারছে না, দেখতে পাচ্ছে না। শুধু যাদের আপনজনেরা নিখোঁজ হচ্ছে তাদের পরিবারের হাহাকারটুকুই সকলে দেখতে পাচ্ছে। মায়া নেকড়েগুলো শয়তানের পূজারী। তাদেরকে মানুষের চোখের আড়ালে থাকতে সহযোগিতা করছে শয়তানই৷ প্রতিনিয়ত তারা সেই শয়তানের মূর্তির পদতলে উৎসর্গ করছে শত শত যুবক আর যুবতীদের রক্ত৷ সেখানে এখন অবধি বন্দি রয়েছে একশো এর অধিক যু্বক যুবতী। তাদেরকে মুক্ত করে আনা আর শয়তানের পূজারীদের ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই মিরহান ছুটে যাচ্ছে সার্টসি দ্বীপে। তবে যাওয়ার পূর্বে জর্জ তাকে অদ্ভুত একটি কথা বলেন।
-‘প্রিয় মিরহান, হৃদয় কখনও উৎসর্গ কোরো না। তোমার হৃদয়ের কোমল অনুভূতি অপাত্রে দান হতে দিয়ো না।’

মিরহান দাদার সকল কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করলেও এ কথার সঠিক অর্থ সে বুঝতে পারে না। জর্জ তাকে আরও কিছু কথা বলেন, ‘সার্টসির প্রাসাদের সব থেকে বড়ো আকর্ষণ কী জানো মিরহান? ওই প্রাসাদের যুবরাজ অ্যাডাম। যার সৌন্দর্যেই বোকা নারীরা প্রেমে মাতোয়ারা হয়ে যায়, অজান্তেই শয়তানের জন্য বলির শিকার হয়। অ্যাডাম তার শিকার খুঁজতে মানুষরূপে ঘুরে বেড়ায় সারা শহর, গ্রাম। আর তোমার শিকার এই অত্যধিক সুন্দর পুরুষ অ্যাডাম। ভুল করেও তার ছলনায় পড়বে না, প্রিয়। ওই প্রাসাদে অতি সাবধানে তোমাকে দাসী বেশে প্রবেশ করতে হবে। অ্যাডামের পরিচারিকা হতে হবে। তবেই পারবে তোমার লক্ষ্যে পৌঁছতে।’
জর্জের কথাগুলো ভাবতে ভাবতে মিরহান রূপে দীধিতি কল্পনা করল উপন্যাসের সুন্দর পুরুষ অ্যাডামকে নাওফিলের রূপে।

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ১৬

সার্টসি দ্বীপের তথ্যসূত্র গুগল৷ তবে Bluest moonshine শিরোনামে কোনো বিদেশী লেখকের উপন্যাস আছে না কি জানা নেই। এই নাম আর পুরো কাহিনি আমারই লেখা। এই প্লটে উপন্যাস আকারে লেখার খুব ইচ্ছা আছে ভবিষ্যতে৷ কবে লেখা হবে জানি না। তবে এই প্লটের অল্পবিস্তর কাহিনি আগামী পর্বেই শুধু রাখব। যেখানে নাওফিল রূপে অ্যাডাম ওয়ারওল্ফ আর দীধিতি রূপেই মিরহান ওয়ারওল্ফ হান্টার। এদের মাঝে দারুণ এক কেমিস্ট্রির এক ঝলক থাকবে আগামী পর্বে। লেখা শেষে ভুল-ভ্রান্তি এডিট করা হয়নি।

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ১৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here