আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৫৪
ইসরাত জাহান দ্যুতি
গতরাতে মাভিশা ড্রয়িংরুমে ঘুমিয়ে ছিল। ইয়াসিফ প্রয়োজনে ডাকতেই যেন শোনা যায়, যার জন্য একজনকে সোফাতে রাত কাটাতে হয়। গতরাতে ওর অবস্থাটা বেশি খারাপ ছিল বিধায় মাভিশা কাছাকাছি ছিল৷ আজকে যেহেতু অনেকটাই ভালো ইয়াসিফ, তাই মাভিশার বদলে মারিহাম বেডরুম ছেড়ে ড্রয়িংরুমে এসেছে। অর্থাৎ ইয়াসিফের প্রয়োজনে আজ মারিহাম ওর দেখাশোনা করবে।
আরাম করে না শুতে পারার কারণে ইয়াসিফের ঘুমাতে কষ্ট হয়। এদিক-ওদিক ফেরার উপায় নেই বলে বিরক্ত হয়ে বেলকনিতে গিয়ে দাড়িয়ে দাড়িয়ে সমুদ্র দেখছে কখনও, ঘরের মাঝে ফোন স্ক্রলিং করতে করতে কখনও পায়চারি করছে৷ পায়চারি করার মাঝেই একটু খিদে অনুভব করায় সেন্টারটেবিলে মাভিশার রেখে যাওয়া ফ্রুট সালাদের বাটিটা হাতে নিয়ে বসল সে। কিন্তু মোটেও তা খেতে মন চাচ্ছে না৷ সারাদিন ফল, সবজি, এসব গিলতে গিলতে অভক্তি চলে এসেছে খাবারের ওপর।
না খেয়ে বাটিটা পূর্বের জায়গায় রেখে দিলো। কী করে সময় কাটাবে, মাথা নুইয়ে সে ভাবনায় বিভোর হলো। তার কিয়ৎ পলের মাঝেই নাকে সিগারেটের গন্ধ এসে লাগল৷ নাক টেনে তা শুকল ভালো করে। নিশ্চিত হলো গন্ধটা ড্রয়িংরুম থেকে আসছে৷ প্রায় একটা মাস সিগারেট ছুঁতে না পারায় অভ্যাসটা প্রায় চলেই যাচ্ছিল ওর৷ কিন্তু হঠাৎ করে গন্ধটা আবার সিগারেটের তৃষ্ণা জাগিয়ে দিলো। এত মহৎ কাজটা কে করছে? মারিহাম না কি মাভিশা? মাভিশা হলে মেয়েটার পরাণ ভরিয়ে দে ক’টা চুমু খাবে ঠিক করে কষ্টেসৃষ্টে উঠে দাড়াল। মন্থর পায়ে চলতে চলতে ড্রয়িংরুমে এসে নরম আলোয় দেখল, সোফায় সটান হয়ে শুয়ে মুখের ওপর ফোন ধরে সিগারেট ফুঁকছে মারিহাম। ফোনের নীল আলোয় ধোঁয়াও নীলাভ-মাদা মেঘের মতো লাগছে। আর মেয়েটাকেও লাগছে কোনো এক নভোনীল পরী।
‘পরী!’ ইয়াসিফ শব্দটা মনে মনে উচ্চারণ করল প্রশ্নকারী হয়ে৷ পরী কেন মনে হলো ওর কাছে? সেটাই ভাবতে ভাবতে তার কারণটা আবিষ্কার করে ফেলল। মারিহামের পরনে জিন্সের শর্ট আর স্লিভলেস কালো ক্রপ টপ। উজ্জ্বল ফর্সার লতানো শরীরের সর্বাধিকই উন্মুক্ত। চকচকে খোলা পা জোড়া থেকে চোখ বুলাতে বুলাতে অর্ধাংশ খোলা পেটের প্রলুব্ধ নাভিপদ্মতে কিছু পল দৃষ্টি থমকাল ইয়াসিফের৷ অর্ধ উন্মুক্ত বক্ষোজে সে দৃষ্টি পৌঁছলে ইয়াসিফের দাড়িয়ে থাকা মুশকিল হয়ে পড়ল। চোখদুটো বুজে বিড়বিড় করে হঠাৎ প্রার্থনা করতে আরম্ভ করল, ‘যা কিছু করো, ইয়া আল্লাহ! কিন্তু একে আমার বোন বানিয়ো না… বোন বানিয়ো না! ও আল্লাহ, তোমান এই পাপী সুন্দর ছেলের আর কোনো দোয়া কবুল না করলেও এই দোয়া কবুল করো! বোন বানিয়ো না, আমার আর কোনো বোন চাই না!’
-‘ইয়াসিফ?’
নিজের প্রার্থনায় এত মশগুল ইয়াসিফ, সে শুনতেই পেলো না কোনো ডাক। কুঞ্চিত কপালে আচমকা উষ্ণ হাতের স্পর্শ পেলে পিটপিট করে চোখ মেলল তখন। ঘরের নরম নীল আলোয় মুহূর্তেই দু’জোড়া শান্ত চাউনির মিলন ঘটল খুব কাছ থেকে। ভীষণ কোমল স্বরে জিজ্ঞেস করল মারিহাম, ‘অসুস্থ বোধ করছ?’
ইয়াসিফের মনে হলো এমন মিষ্টি করে আদর ঢেলে কথা বলল ওর সঙ্গে এই প্রথম কোনো নারী। অথচ মনেই পড়ল না ওর, ক’মাস আগেনএর চেয়েও ললিত সুরে নিবিড়ঘন মুহূর্তে ওকে কাছে ডেকেছে অন্য কোনো নারী।
হতাশাজনক দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করে ইয়াসিফ দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে সোফায় এসে বসল। মারিহামও এলো ওর কাছে৷ চোখের সামনে শ্বেতশুভ্র উরু জোড়া দেখে ইয়াসিফ সেদিকে চেয়েই ক্ষীণ গলায় বলল, ‘ঠান্ডা কিছু এনে দাও প্লিজ।’
মারিহাম অনুরোধটুকু শুনে ত্বরিতে পা বাড়ালে অকস্মাৎ তার ডান হাতের কব্জি চেপে ধরল ইয়াসিফ। ‘ক্যান আই ব্লো সাম স্মোক?’
-‘অফকোর্স।’ মুচকি হেসে সিগারেটটা বাড়িয়ে দিয়ে চলে গেল মারিহাম।
উদাসভাবে সিগারেটে টান দিতে দিতে ইয়াসিফ মূঢ় হয়ে মারিহামের গমন দেখল। এবং খেয়াল করল যথেষ্ট আকর্ষণীয় মেয়েটার দেহের ভাঁজ, বিশেষ বিশেষ অঙ্গ। এতগুলো দিনে তা একটুও নজরে আসেনি ওর। কোনো সময় যে ওর সামনে এমন বেশে আসেনি সে। তাই তো দেখতেও পায়নি।
হাতে দু’টো কোল্ডড্রিংকস ক্যান নিয়ে এসে বসল মারিহাম ইয়াসিফের পাশ ঘেঁষেই। একটা ওর দিকে বাড়িয়ে কৌতুক করে বলল সে, ‘আমাকে ডাকলেই তো হত।’
-‘কী জন্য?’ ইয়াসিফ বুঝতে পারেনি মারিহামের ঠাট্টাটা। কারণ, সে তো আড়চোখে তার কমনীয় দেহের অসাধারণ খাঁজ দেখতে ব্যাকুল।
মুচকি হেসেই মারিহাম ইয়াসিফের আঙুলের ফাঁকে থাকা সিগারেটের ফিল্টারটা নিয়ে নিলো, ইশারা করল সেটাতেই। সম্বিত ফিরে পেল তখন ইয়াসিফ, অপ্রস্তুত অভিব্যক্তির হাসি টানল ঠোঁটে। ‘নেবে আরেকটা?’ প্রস্তাব রাখল মারিহাম। তাতে মুচকি হাসল ইয়াসিফ। ‘আই উইল বি গ্রেটফুল।’ প্রস্তাবটা গ্রহণ করে বলল সে।
সামনের টি টেবিল রাখা সিগারেটের খাপ থেকে আরেকটা বের করে ইয়াসিফকে দিলে ইয়াসিফ সেটা মুখে পুরে নিলো৷ সিগারেটে আগুনটাও ধরিয়ে দিলো মারিহামই। চুপচাপ দুজন কিছু সময় পাশাপাশি বসেই নির্বিকার একজন ধোঁয়া ছাড়তে থাকল, আরেকজন ছোটো ছোটো চুুমুক দিতে থাকল ক্যানে। মৌনতার জাল ছিঁড়ে অবশেষে কথা বলল ইয়াসিফ। তাও সেটা অমূলক। ‘তোমার পার্সনালিটির পাশাপাশি হাইটটাও টু মাচ অ্যাট্রাক্টিভ।’
-‘হাইট!’ জিজ্ঞাসা বা আশ্চর্যবোধের মাঝামাঝি অভিব্যক্তিতে মারিহাম উচ্চারণ করল শব্দটা।
ইয়াসিফ মুখটা ঘুরিয়ে ঠোঁট টিপে হাসল শুধু। ও যা বোঝাতে চেয়েছে তা ছিল মারিহামের দৈহিক সৌন্দর্যের পরোক্ষ উল্লেখ।
-‘তোমাদের দেশ অনুযায়ী আমার ফাইভ এইট হাইট অ্যাট্রাক্টিভ না কি পিকিউলিয়ার?’
-‘পিকিউলিয়ার কেন হবে?’
-‘আমি পথে চলাফেরা করলে এখানের পথচারীরা তো সে দৃষ্টিভঙ্গিতেই দেখে মনে হয়৷’
-‘হাঁ করে তাকিয়ে থাকে, না?’ হাসল ইয়াসিফ। ‘সেটাই তো নরমাল৷ পথেঘাটে এমন ব্রিটিশ আইটেম নজরে বিঁধলে তাকিয়ে তো থাকবেই।’
-‘তুমিও থাকো না কি?’
-‘দেখার মতো হলে থাকিই তো।’ কোনা চোখে মারিহামের উন্মুক্ত জায়গাগুলোতে নজর বুলাতে বুলাতে বলল ইয়াসিফ।
কথাটা শুনে ঝট করেই ইয়াসিফের পুরো কাছে ঝুঁকে পড়ল মারিহাম। ‘তাহলে কি আমাকেও দেখছ?’ ব্যাপারটা অপ্রত্যাশিত কিছুটা। আকস্মিক অত কাছে আসাতে বুকের মধ্যে হালকা বাড়ি খেলো ইয়াসিফ। তবে দ্রুতই সামলে নিলো নিজেকে৷ ধোঁয়াটুকু অন্য পাশে ছেড়ে নিজেও মারিহামের মুখটার অতি কাছে এসে তার তীক্ষ্ণাগ্র নাক, চৌকশ চাহনির গাঢ় বাদামি চোখদুটো দেখে শেষে দৃষ্টি স্থির করল তার গোল আকৃতির ঠোঁটজোড়ায়। ‘তুমি যদি চাও তো দেখব।’ মৃদুস্বরে বলল ঠোঁটজোড়াতে চেয়েই।
মারিহাম সরে এলো না। ওভাবেই সোফা হেডবোর্ডে মাথা এলিয়ে দিলো৷ ‘একটু আগেও যখন দেখছিলে তখন কি আমার পারমিশন নিয়েছিলে?’ প্রশ্ন শেষে ভ্রু নাচাল। ইয়াসিফ মোটেও লজ্জা পেলো না বা অপ্রস্তুত হলো না ধরে পড়েও৷ আরাম করে সোফার ওপর এক পা উঠিয়ে বসল সে। হেডবোর্ডে বাহু রেখে সেখানে মাথা এলিয়ে দিলো এরপর। দুজনের মুখদুটো এবার মুখোমুখি আর ভীষণ কাছাকাছি। একজনের নিঃশ্বাস আরেকজন নিঃশ্বাসকে ছুঁতে পারবে যেন। মৃদুস্বরেই জবাব রাখল ইয়াসিফ, ‘সকল মানুষের মনই প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে সুন্দরের উপাসক। আমাকে না জানিয়েই যদি সেই উপাস্যকে দেখে নেয় চোখদুটো, আমার কী দায় বলো?’
-‘আচ্ছা! তাই তো… তাই তো৷ কিন্তু এই স্টকারস চোখদুটোর মালিক হিসেবে এবার তোমার দায়িত্ব ওদেরকে রক্ষা করা৷ নিশ্চয়ই চাইবে না ওরা আমার পাঞ্চ পেয়ে ইনজুরড হোক?’
-‘উহুঁ। অপরাধ করলে সাজা কেন পাবে না?’ বলেই সিগারেট মারিহামের দিকে বাড়িয়ে দিলো৷ ‘তুমি পছন্দসই সাজা দিতে পারো। আমি মঞ্জুর করছি।’
এই প্রথম ইয়াসিফের ফ্লার্ট মারিহাম উপভোগ করছে। মিটিমিটি হেসে সত্যিই সিগারেটটা নিয়ে নিলো সে৷ ইয়াসিফের দুষ্টু মনও উৎসুক হয়ে আছে, কী করে মারিহাম তা দেখার জন্য৷
-‘আমি ডাচেস নই যে একজনের সঙ্গে বারবার নিষ্ঠুরতা করব। তবে অপরাধ যেহেতু করেছেই তোমার চোখ। তাই শাস্তি তো পেতেই হবে৷ কিন্তু ওদেরকে দিতে চাচ্ছি না শাস্তিটা। বদলে তোমাকে নিতে হবে। মঞ্জুর?’
-‘মঞ্জুর।’ চোখের পাতা ঝাপটে সহাস্যে বলল ইয়াসিফ।
হাসল মারিহাম। মাথাটা তুলে ক্যানে এক চুমুক বসিয়ে সিগারেটেও এক টান দিলো। চোখে – মুখে দুষ্টুমি খেলছে তার। তারপর হঠাৎ করে জ্বলন্ত ফিল্টারটা ইয়াসিফের মুখের দিকে এগিয়ে নিতে থাকল ধীরে ধীরে, ওকে ঘাবড়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে৷ লক্ষ ইয়াসিফের সরু নাকের ডগা। তবে ইয়াসিফ একদমই ঘাবড়াল না৷ মুচকি হাসির সাথে ওর চাহনি অনড় মারিহামের ঠোঁটজোড়াতেই। কিন্তু অপ্রত্যাশিত বিপদ একটা ঘটে গেল৷ ফ্যানের হাওয়ায় উড়াউড়ি করা মারিহামের কপালে পড়া রেশমি চুলগুলো ইয়াসিফের নাকের ছিদ্রপথে যেতেই সে অপরিকল্পিত একটা হাঁচি দিয়ে উঠল বিভৎস আওয়াজ করে। নিঃশব্দ ঘরে সহসা সে আওয়াজে মারিহাম চমকে উঠতেই তার হাতটা নড়ে উঠল, অমনি জ্বলন্ত সিগারেট ওষ্ঠ(উপরের ঠোঁট) ছুঁয়ে গেল ইয়াসিফের।
কাতর সুরে ‘আহ্! করে উঠল ইয়াসিফ চকিতেই। অসাবধানতার ফলে এমন বিশ্রী কাজটার জন্য উত্তেজিত হয়ে পড়ল মারিহাম। ‘ওহ গড! আ’ম স্যরি, বয়। আ’ম… আ’ম রিয়ালি ভেরি স্যরি!’ দাড়িয়ে পড়ে ইয়াসিফের পুড়ে যাওয়া জায়গাটা ক’বার ছুঁতে চেয়েও হাত ফিরিয়ে নিতে থাকল আড়ষ্টতায়।
ইয়াসিফ ঠোঁটের ওপর থেকে আঙুলটা একটু সরাতেই মারিহাম ঝুঁকে গিয়ে দেখল ফোস্কা পড়ল কি না সেখানে। তা দেখে ইয়াসিফ বিরক্ত গলায় বলল, ‘দেখলে কি সেড়ে যাবে? মধু আছে কি না দেখো গিয়ে।’
-‘হ্যাঁ হ্যাঁ আছে তো। মাভিশা আনিয়েছিল বোধ হয় সকালবেলা তোমার ড্রিঙ্কস করে দেওয়ার জন্য। ওটা দিয়ে কী হবে?’
-‘নিয়ে আসো। জ্বালাপোড়া কমবে অন্তত।’
ছুটে গিয়ে রান্নাঘর থেকে মধুর বয়ামটা খুঁজে আনল মারিহাম। ডাইনিং টেবিল থেকে টিস্যুও আনল সাথে। বয়ামের গোলাকার ঢাকনাটা খুলে দু আঙুল ডুবিয়ে দিয়ে তারপর জলদি মেখে দিলো ইয়াসিফের পোড়া ঠোঁটে। কিন্তু তাড়াহুড়োয় তা পুরো ঠোঁটে ছড়াল, চুইয়ে গিয়ে চিবুকও মেখে গেল ওর। অসম্ভব বিরক্তি নিয়ে ভ্রু কুচকে তখন তাকিয়ে থাকল তার দিকে ইয়াসিফ। বোকার মতো কর্মকাণ্ডের জন্য লজ্জিত মুখ করে মারিহামও চেয়ে থাকল ওর দিকে, আর জবাবদিহির সুরে বলল, ‘আমি ইনটেনশনালি তখন কাজটা করিনি, ট্রাস্ট মি।’ বলার পর চিবুকের মধুটুকুু মুছে দিলো। কিন্তু আঠা হয়ে রইল সেখানে৷ তাই পানি এনে ভেজা হাতে চিবুক ধুয়ে দিলো আবার। জিজ্ঞেস করল, ‘কমেছে জ্বালাপোড়া?’
-‘কমছে ধীরে ধীরে।’ ভার মুখ করে বলল ইয়াসিফ।
মারিহাম ওর যৌক্তিক রাগটা দেখে অপরাধী গলায় বলল, ‘আমি বারবার তোমাকে ব্যথা দিচ্ছি। আমার তো অনেক পানিশমেন্ট প্রাপ্য। তুমি সুস্থ হওয়ার পর আমাকে যে পানিশমেন্ট দেবে তা আমি মেনে নেবো নির্দ্বিধায়।’
-‘এখন দিতে চাইলে তা পারব না?’
-‘এখন তো তুমি অসুস্থ। কীভাবেই বা হিট করবে আমাকে? তাও যদি পারো তো করো। তাতে আমার গিল্ট ফিলিং কম হবে কিছুটা।’
-‘কাম টু মি।’ গম্ভীর গলায় তর্জনী আঙুলে ইশারায় ডাকল তাকে ইয়াসিফ।
নিরুদ্বিগ্ন হয়ে এগিয়ে এলো মারিহাম ওর কাছে৷ এবার মধুর বয়ামে ইশারা করে দেখাল ইয়াসিফ। মারিহাম ভাবল, পোড়া জায়গাতে আবারও মধু লাগিয়ে দিতে হবে। তাই আঙুলে মধু জড়িয়ে ওর ঠোঁটে জড়িয়ে দিলো পুনরায়। এবার চুইয়ে চিবুক অবধি না গেলেও নিম্ন ঠোঁটটা মেখে গেল একদম৷ ‘লেট মি কিস।’ তক্ষুনি নির্বিকার কণ্ঠে এ আদেশ রাখল ইয়াসিফ। নির্বাক দেখাল মারিহামকে।
-‘শুনতে পাওনি তোমার এখনের পানিশমেন্ট?’
-‘রিয়ালি? জাস্ট আ সিম্পল কিস?’
-‘ইয়াপ।’
আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৫৩
মারিহাম বয়ামটা টি টেবিলে রেখে হাতটা টিস্যুতে মুছে নিয়ে ঝুঁকল ইয়াসিফের মুখের ওপর৷ সেও নির্বিকারভাবেই তাকাল ওর চোখে৷ একে অপরের দৃষ্টি মিলন হওয়ার মাঝেই দুজনের দ্বিতীয় চুমুটা নির্মিত হলো। মারিহাম তখন বলেছিল ‘আ সিম্পল কিস।’ কিন্তু তা মোটেও সাদাসিধাভাবে শেষ হয়নি৷ মারিহামের ধারণাতে ছিল না এবার থেকে তার মর্জি নয়, ইয়াসিফের মর্জিই চলবে তার ওপর।
