আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৪১+৪২+৪৩
ফারজানা মনি
মাহমুদা খানের ড্রয়িং রুম করতালিতে মুখরিত। ঠিক তখনই বাহির থেকে আরিফ বড় বড় পা ফেলে তার নিজের রুমের দিকে চলে গেল। দেখে বোঝাই যাচ্ছে যে, সে এইমাত্র বাড়ি ফিরেছে। মিম মনে মনে বলল: আমার উপরে এত রাগ। একবার ফিরেও তাকালেন না।
মিম উদাস নয়নে তাকিয়ে আছে। কিন্তু আরিফের কোন হেল দোল নেই। চুপচাপ নিজের রুমের দিকে চলে গেল।
ঠাস…… শব্দটা শুনতেই সকলেই হক চকিয়ে আরিফের রুমের দিকে তাকালো। দেখল আরিফ দরজা টাকে ইচ্ছে করেই অনেক জোরে বন্ধ করেছে। মাহমুদা খান বলে উঠলো : কিরে আরিফ.. কি হয়েছে তোর? এত রেগে আছিস কেন? বাহিরে কারো সঙ্গে কিছু হয়েছে? কিন্তু আরিফের রুম থেকে কোন সারা শব্দ এলোনা। মিমের শরীরটা যেন ভয়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছে। আর কেউ না জানুক মিম তো জানে এই রাগ কার উপর।
ফুপ্পি.. আরিফকে নিয়ে তুমি টেনশন করো না। আমি পরে ওর সাথে কথা বলে নিব। দুপুর থেকেই দেখছি ও কোন কারনে অস্থির । ওর মাথাটা একটু ঠান্ডা হোক। তারপর ওর সাথে আমি নিজে কথা বলব। আবিরের কথা শুনে মাহমুদা খান একটা স্বস্তির দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল: আমার এই ছেলেটা সহজে রাগে না, কিন্তু একবার রেগে গেলে তাকে সামলাতে অনেক কষ্ট হয় আমার।
তানভীর ফুপ্পিকে আশ্বাস দিয়ে বলল: কিছু হবে না .. তুমি টেনশন করো না। আমরা তো আজ সকলেই এখানে আছি।ও কেন রাগ করেছে সেটা জেনে ওকে সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।
মিমের মুখটা যেন ভয়ে শিটিয়ে আছে। সকলের কথাবার্তা শুনে মীমকে যেন ভয় ঝাকিয়ে ধরল। এই ভয়টাই তো সে পেয়েছিল। মূলত মিম কিছুতেই চায় না আবির আর তানভীর এই সম্পর্কের ব্যাপারে কিছু জানুক। কপাল বেয়ে টপটপ করে ঘামের ফোটা পড়ছে। মিম ভয়ে ভয়ে আস্তে আস্তে আওরালো, কি করবো এবার আমি… সবাই কি সব জেনে যাবে? কি উত্তর দিবো ভাইয়াদের? তাছাড়া আরিফ ভাইয়াকেই বা কি বলে সামলাবো?
সকলের কথা বার্তার মাঝে হঠাৎই আসিফ বলল: তোমরা সবাই এত প্যানিক করোনা তো। আমি ওকে খুব ভালো করেই চিনি। ফাজিলটা হয়তো ক্রিকেট টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়ে বন্ধুদের সাথে রাগারাগি করেছে। আসিফের কথা শুনে সকলেই এবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো।
হঠাৎ ই মেঘের শরীর খারাপ লাগায়, সে রুমের দিকে চলে গেল। সঙ্গে গেল আবির। ওদের দেখাদেখি তানভীর-বন্যা, আসিফ-জান্নাত, আইরিন-মিম সকলেই যার যার রুমের দিকে গেল।
কিগো আবীর কল দিয়েছিল? মালিহা খান এর প্রশ্নে কপাল কুচকালো আলী আহমেদ খান। রাগী গম্ভীর কন্ঠে বলল: তোমার গুনোদর ছেলে আমাকে কেন কল দিবে? দিলে তো তোমার ফোনেই দিত।
মালিহা খান: এভাবে বলছ কেন? তুমিও তো একটা কল দিতে পারো।
আলী আহমেদ খান হ্রাসবাড়ী কন্ঠে বলল: তুমি গিয়ে দাও। আর তাকে বলে দিও আমার বৌমার যেন খেয়াল রাখে।
মূলত গতকাল অফিসে একটা প্রজেক্ট নিয়ে আবিরের সাথে আলি আহমেদ খানের মতের অমিল হয়েছিল। মোজাম্মেল খান ও ইকবাল খান পুরো ঘটনা শুনে আবিরের পক্ষই নিয়েছিল। সেই থেকেই আলি আহমেদ খান আবিরের উপর বেজায় চটে আছে।
রাত দশটা বাজে। মাহমুদা খান দের বাড়িতে সকলে একত্রে রাতের খাবার খেতে বসেছে। বন্যা বলল: মিম কই? আইরিনের দিকে তাকিয়ে মেঘ ও এবার বলে উঠলো: আইরিন.. মিম তো তোর সাথেই ছিল। খেতে কেন আসলো না।
আইরিন: আসলে আপু আমি মিমকে ডেকে ছিলাম। কিন্তু ও বলছে , ওর খেতে ইচ্ছে করছে না এখন। আবির তানভীরের দিকে তাকিয়ে বলল: তানভীর একটু যা তো.. দেখ কি হয়েছে… মীমকে নিয়ে আয়।
তানভীর উঠে যেতে যেতে বলল: ঠিক আছে ভাইয়া।
সবাই খাওয়া শুরু করল। হঠাৎই তানভীরের ধমক শোনা যাচ্ছে। সবাই ওদিকে ফিরে তাকাতেই দেখল: তানভীর মিমকে নিয়ে আসছে। ওরা সামনে আসতেই আবির প্রশ্ন করল, কি হয়েছে মীমকে বকেছিস কেন?
তানভীর: ভাইয়া ও শুধু শুধুই বলছে ওর নাকি খিদে নেই। রাতে খাবে না।
আইরিন একটু সন্দেহ দৃষ্টি নিয়ে মিমের দিকে তাকালো। তারপর আবার মনে মনে ভাবলো, নাহ.. আমি মনে হয় একটু বেশিই ভাবছি। সবাই খাওয়ায় মনোযোগ দিল।
এবার আবারো শোনা গেল মাহমুদা খানের আওয়াজ।
আরিফ.. এই আরিফ.. দরজা খুল.. খেতে আয় বলছি। একটু পর তোর আব্বু আসবে যদি শুনে তুই বাহিরে ঝগড়া করে এসে বাড়িতে খাবার খাচ্ছিস না। তাহলে কিন্তু খুব বকবে।
দীর্ঘ সময় পর এবার আরিফের রুম থেকে শব্দ শোনা গেল। আমি এখন খাব না আম্মু .. আমার খিদে পাচ্ছে না। তুমি প্লিজ যাও। মাহমুদা খান হতাশ হয়ে ফিরে আসলো।
আরিফের মুখে “আমার খিদে নেই, প্লিজ আম্মু যাও” কথাটা শুনেই যেন আইরিনের টনক নড়লো। এই কথাটা সে যেন আরো কোথাও শুনেছে। আরে হ্যাঁ.. একটু আগে তো মিমও একই কথাই বলেছে যে ওর খিদে নেই। এবার যেন আইরিনের সন্দেহটা আরেকটু গাঢ় হলো।
কি চলছে এদের দুজনের মাঝে। দুপুরে মিমের চোখ মুখ ফুলা, আরিফের সারা বিকেল বাড়িতে না ফিরা, রাতে মিমের খিদে না পাওয়া, এখন আরিফেরও খিদে না পাওয়া সবই যেন এক সুতোয় গাঁথা।
কিরে তোর আবার কি হলো? প্লেটে আঙ্গুল ঘুরাচ্ছিস কেন? আবিরের ধমকের সুর শুনে মিমের সাথে সাথে আইরিন ও ভয় পেয়ে গেল। মিম মিনমিনিয়ে বলল: কিছু হয়নি ভাইয়া .. এইতো খাচ্ছি.. আইরিন যেন এখন মিমকে জহুরী চোখে পরখ করছে।
মিম তাড়াতাড়ি খেয়ে রুমের দিকে চলে গেল। ওর দেখাদেখি আইরিনও তাড়াতাড়ি খেয়ে রুমে গেল। আইরিন রুমে গিয়েই ঠাস করে দরজা বন্ধ করে দিল। মীম ভয় পেয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখল আইরিন। আইরিনকে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে জিজ্ঞাসা করল দরজা কেন বন্ধ করেছিস?
আইরিন: তোকে আজ পেটাবো..
মিম: কেন?
আইরিন মিমের চোখ মুখের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে। এভাবে কি দেখছিস আমায়? বলেই মিম বিছানায় উঠে শুয়ে পড়তে চাইলো। ঠিক তখনই আইরিন মিমের বাহু ধরে আটকে বলল: আমার দিকে তাকা মিম..
মিম অন্যদিকে ফিরে শুতে শুতে বলল: কিছু বলবি? বলার হলে বলে দে.. তাকানোর প্রয়োজন নেই..
আইরিন: পালাচ্ছিস কেন?
মিম: পালানোর কি আছে? আমার ঘুম পাচ্ছে আমি ঘুমাবো..
বলেই মিম অন্যদিকে ফিরে শুয়ে পড়লো। হঠাৎই আইরিন বলে উঠলো: ভালবাসিস আমার ভাইয়াকে?
মিম যেন স্তব্ধ হয়ে গেল। বারবার তার কানে একই কথা বাজছে “ভালবাসিস আমার ভাইয়াকে”।
মিম তৎক্ষণাৎ উঠে বসলো। এবার আইরিন মিমের দুই কাঁধ জাঁকিয়ে বলল। কিরে কিছু বলছিস না কেন? ভালোবাসিস?
আইরিনের এমন সরাসরি প্রশ্নে মিম কিছু না বলেই নিচের দিকে তাকিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো। কেঁদে কেঁদে বলল: আ..আ..মি.. জানিনা। আমি কিছুই জানিনা.. শুধু জানি, ওর রাগ করে থাকায় আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। আমি আর শক্ত হয়ে থাকতে পারছি না আইরিন.. বলেই আবারো হুহু করে কেঁদে ওঠলো মিম।
মিমের এমন অবাধ কান্না দেখে আইরিন মিমকে বুকে জড়িয়ে ধরলো। বলল : কাদিস না প্লিজ.. সব ঠিক হয়ে যাবে। আইরিন আবারও বলল: তুই তো ভাইয়াকে ভালোবাসিস বুঝলাম কিন্তু ভাইয়া??
মিম: ওনি আমাকে প্রপোজ করেছিল কিন্তু আমি তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি।
আইরিন কপালে হাত দিয়ে বলল: হায়রে আমার কপাল.. এ কেমন ভালোবাসা তুমি আমায় দেখাইলা আল্লাহ.. আমার ভাইয়াকে এতটা ভালোবেসেও কেন তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিস মীম?
মিম: আমি কি করবো বলো? আমি চাইনা ফুপ্পির মত আমিও খান বাড়ি থেকে দীর্ঘ সময় বিচ্ছেদ থাকি।
আইরিন মিমের থুটনিতে হাত দিয়ে মুখটাকে উপরে তুলে বললো: তাহলে কি ভাইয়াকে ছাড়া থাকতে পারবি।
মিম এবার ঝরঝর করে কেঁদে দিল। বলল: আমি পারবো না। মনে হচ্ছে দম আটকে মরে যাব।
আইরিন হাসলো। রসিয়ে রসিয়ে বলল: এতো ভালো আমার ভাইকে কবে বাসলি মিম?
মিম: জানিনা আমি। কিন্তু তার দূরত্ব আমার সত্তা কে যেন নাড়িয়ে দিচ্ছে। আমি আর পারছি না।
এবার আইরিন ঠান্ডা কন্ঠে বলল: মিম শান্ত হ.. ভাইয়াকে তুই গ্রহণ করে নে। পরে যা হবে পরেরটা পরে দেখা যাবে। মিম চোখ তুলে আইরিনের মুখের পানে তাকালো।
মিমের চোখ দুটো কান্নায় রক্ত লাল হয়ে আছে। চোখের কোঠোর গুলো ফুলে চোখটাকে ছোট দেখাচ্ছে।
রাতের আকাশ যেন অনুভূতির ক্যানভাস। যেখানে তারা গুলো স্মৃতির আঁচড় কাটে । রাতের নীরবতা কারো মনে শান্তি নিয়ে আসে। আবার কারো মনে প্রবল অশান্তি। এ সময় আমাদের অনুভূতিগুলো আরো গভীর হয়ে ওঠে। রাতের আকাশে যে চাঁদ দেখা যায় তা দিনে সূর্যের আলোর মতোই মূল্যবান। রাতের নিস্তব্ধতায় আত্মার কথা শোনা যায়। নিস্তব্ধ রাত অনেকের কাছে আবেগ প্রকাশের এক বিশেষ মুহূর্ত।
তেমনই একটা রাত আজকে। আকাশে রুপোর থালার মত মস্ত বড় একটা চাঁদ উঠেছে। আরিফ ছাদের কার্নিশে হাত দিয়ে সেই চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে। হয়তো সে চাঁদের মধ্যেই খুঁজছে তার প্রিয়সির মুখ। সে কি করে বোঝাবে, মীম কে সে কতটা ভালোবাসে..
আরিফের কাছে সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার হলো: সে জানে মিম ও তাকে ভালোবাসে, তবুও কেন মিম সায় দিচ্ছে না আরিফের ডাকে। যদি মিম আরিফকে ভালো না বাসতো, তাহলে হয়তো আরিফ মীমকে কখনোই কোনভাবে জোর করতো না। মিমের প্রতি আরিফের ভালোবাসা টাকে হৃদয়ের এক কোণে যত্নে গুছিয়ে রাখতো। ভালোবাসার দহনে আরিফ নিজেকে একা পুরাতো। কখনো মিমের গায়ে আচরও পরতে দিত না। কিন্তু মিম ওযে আরিফকে ভালোবাসে। সেটা বোঝার পরেও আরিফ কিভাবে চুপ করে থাকবে। আরিফ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবারো আকাশের পানে তাকালো।
মেঘ…. আবিরের ডাকে মেঘ আবিরের বুক থেকে মাথা তুলে তাকিয়ে বলল: হুম..
আবির: ঘুমিয়ে গেছো?
মেঘ ঘুমো ঘুমো কন্ঠে বলল: না..
আবির: কাল আমাদের একবার নার্সিংহোমে যেতে হবে।
মেঘ নাক ছিটকে বলে উঠলো: উফফফ.. আমি নার্সিংহোমে যেতে পারবো না।
আবির ব্রু কুঁচকে মেঘের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল: কেন যাবেনা?
মেঘ: নার্সিংহোমে গেলে আমার বমি হয়। হেক্সিসোল আর মেডিসিনের গন্ধে আমার গা গুলায়।
আবির একটু প্রসারিত হেসে মেঘের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল: বউ… কালকের দিনটা একটু কষ্ট যে করতেই হবে। কালকে না গেলে তোমাকে আবার নিয়ে যেতে যেতে নেক্সট ফ্রাইডে হবে। এর মাঝে আমি আর ফ্রি হবো না। তাছাড়া তোমার ইমিডিয়েটলি ব্লাড গ্রুপ টেস্ট করাটা প্রয়োজন। যাতে আমি সঠিক সময়ে রক্তের যোগান দিতে পারি।
মেঘ ঠোঁট বাঁকিয়ে উত্তর জানালো: ঠিক আছে যাবো..
আবির মেঘের ললাটে শব্দ করে শক্ত একটা চুমু খেলো। বলল: আমার লক্ষী বউ..
বন্যা বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে। তার খোলা চুল গুলো অবাধে উড়ছে। সে এতক্ষণ মূলত এখানে দাঁড়িয়ে তার বড় আপুর সাথে ফোনে কথা বলেছে।
তানভীর ঘুমানোর আগে ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে দেখল বন্যা রুমে নেই। চারদিকে একবার চোখ বুলাতেই দেখল বন্যা বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে।
বন্যা হঠাৎ ই বুঝতে পারল একটা পুরুষালী হাত তার লতানো কোমরে বিচরণ করছে। বন্যা পিছন ফিরে তানভীরের দিকে তাকালো। এবার তানভীর বন্যার খোলা চুলের ঘ্রান নিতে নিতে বলল: কি এক অদ্ভুত মাদকতা আছে তোমার কাছে, তোমাকে দেখলেই সেটার নেশায় মত্ত হতে ইচ্ছে করে।
বন্যা একটু মুচকি হাসলো। তানভীরের গায়ের পুরুষালি সু গ্রান টা যেন বন্যা কে ও নেশাতুর করে তোলে। বন্যা নিজে নিজে ভেবেই লজ্জায় তানভীরের বুকে মাথা ঘুজলো।
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৩৮+৩৯+৪০
আরিফ এখনো ছাদে দাঁড়িয়ে চাঁদের পানে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ একটা মেয়েলি সুগ্ৰান তার নাকে এসে ঠেকতেই পাশে তাকালো। চাঁদের রুপোলি আলোয় দেখা যাচ্ছে। একটি মেয়েলি অবয়ব তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। চাঁদের হালকা সিগ্ধ আলোয় আরিফ খেয়াল করল: মেয়েটির পরনের শাড়ির আঁচলটি বাতাসে অবাধে উড়ছে। কোমরের নিচ পর্যন্ত পড়া চুলগুলো বাতাসে মৃদু মৃদু দুলছে। মেয়েটির চাদের পানে তাকিয়ে থাকা দেখে আরিফের মনে হচ্ছে মেয়েটি যেন চাঁদ দেখা নিয়ে কোন প্রতিযোগিতায় নেমেছে। পাশের আরিফের দিকে তার কোন খেয়াল ই নেই।
