আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৬৮+৬৯+৭০
ফারজানা মনি
পরিবারের সবার কথায় আবির শান্ত হলো। ছুটে যেতে চাইলো মেঘের কাছে। আরিফ আবিরের হাত ঝাপটে ধরে বলল: ভাইয়া.. ভাবির কাছে তুমি পরে যেও। আগে আমাদের সাথে চলো।
আরিফের কথা শুনে আবির অবাক দৃষ্টিতে তাকালো। আরিফ আবিরের চাহনি বুঝতে পেরে আবারো বলল: ভাবির ইমারজেন্সি সিজার করা লাগবে। সেখানে কিছু ফরমালিটি আছে যা তোমাকে ছাড়া অসম্ভব।
আরিফের কথা শুনে আবির প্রশ্ন করল: কি হয়েছে আমার মেঘের?
আরিফ আর ইকবাল খান আবির কে কোন কিছু না লুকিয়ে সবটাই খুলে জানালো। অতঃপর ইকবাল খান প্রশ্ন করল:
আবির.. তুই কি জানতি তোদের যে টুইন বেবি হবে?
আবির: জ্বী.. কয়েকদিন আগেই জেনেছি, কিন্তু মেঘকে জানাইনি।
আবির ইকবাল খান এর উদ্দেশ্যে আবারো বলল: কাকামনি আমাদের মনে হয় এখন মেঘের চিকিৎসার ব্যবস্থা আগে করা উচিত..
ইকবাল খান: হুম.. তাড়াতাড়ি চল। এমনিতেই অনেক লেট হয়ে গেছে।
আবির ছুটে গেল সকল ফর্মালিটি পূরণ করতে।
প্রায় ২০ মিনিট পর…
মেঘ.. এই মেঘ..
আবিরের কন্ঠ শুনতে পেয়ে মেঘ ঝাপসা চোখে বারবার তাকানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু আফসোস, যা কিছুতেই সম্ভব হচ্ছে না।
কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল: আপনি এসেছেন আহিয়ার আব্বু..
আবির মেঘের এক হাতটা চেপে ধরে বলল: হুম.. আমি এসেছি। তুমি কোন চিন্তা করো না। সব ঠিক হয়ে যাবে।
একটা নার্স এসে মেঘকে ওটি তে নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে নিতে আবিরের উদ্দেশ্যে বলল: এখন পেশেন্টকে ওটি তে নিতে হবে, প্লিজ উনার হাতটা ছাড়ুন।
কিন্তু আবির ছাড়লো না : জানালো: ওটিতে নেওয়ার আগ পর্যন্ত ও মেঘের সাথেই থাকতে চায়।
নার্স বাধ্য হয়ে , মেঘকে অপারেশন থিয়েটারের দিকে নিয়ে যাওয়া শুরু করলো। আবির মেঘের এক হাত ধরে মেঘের সাথে যাচ্ছে।
মেঘ: আহিয়ার আব্বু.. আমার যদি কিছু হয়ও, আপনি আমার আহিয়া কে দেখবেন । ওর কিছু হতে দিবেন না।
আবির: আমার কাউকে দরকার নেই, আমার শুধু তুমি থাকলেই চলবে। একবার তুমি ফিরে এসো সুস্থ হয়ে, আমাদের কোন ছেলে মেয়ের প্রয়োজন নেই। আমরা দুইজন দুইজনের জন্য বাঁচবো।
মেঘ: না.. না আহিয়ার আব্বু.. আপনি কথা দিন আমার আহিয়া কে দেখবেন। আর হ্যাঁ.. আমাকে প্লিজ ক্ষমা করে দিবেন , যদি আপনার সাথে কোন ভুল করে থাকি।
বলেই মেঘ অঝরে কান্নায় ভেঙে পরল।
মেঘের মুখে এসব কথা শুনে আবির পাগলের মত মেঘকে ঝাপটা ধরল নিজের বুকে।
আবির: আমি কিছু হতে দেব না তোমায়.. দেখো সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি তোমায় খুব ভালোবাসি আহিয়ার আম্মু.. আবারো সুস্থ হয়ে ফিরে এসো শুধু আমার জন্য।
মেঘকে জড়িয়ে ধরে আবিরের কান্না দেখে ডক্টর নার্সসহ সকলেই স্তব্ধ।
ডক্টরের ইশারা পেতেই আরিফ আর ইকবাল খান আবিরকে টেনে দূরে সরালো। কিন্তু তাও মেঘের হাত থেকে আবিরের হাতটাকে কেউ সরাতে পারলো না।
যখন অপারেশন থিয়েটারের সামনে চলে আসলো। আবির বাধ্য হয়ে মেঘের হাত ছাড়লো। ধপাস করে বসে পড়ল অপারেশন থিয়েটারের বাইরে।
আশেপাশের সবাই এক পাগল প্রেমিক অথবা এক পাগল স্বামী দেখায় ব্যস্ত। অনেকেই আবির আর মেঘের ভালোবাসা দেখে স্তব্ধ হয়ে গেছে।
এক হাতে ব্যান্ডেজ, এক পায়ে ব্যান্ডেজ, মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে হসপিটালে অপারেশন থিয়েটারের সামনে ফ্লোরে বসে আছে আবির । এতক্ষণে মাথার সাদা ব্যান্ডেজটা ও ভিজে এসেছে রক্তে। বার বার হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে নাক মুছছে আবির। দু’হাত ভিজে গেছে রক্তে। কিন্তু সেদিকে কোন খেয়াল নেই।
মিস্টার আবির.. দীর্ঘ এক ঘণ্টা পর ডক্টরের কন্ঠ পেয়ে আবির মাথা তুলে তাকালো। তাড়াহুড়া করে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করল: ডক্টর.. আমার মেঘ কেমন আছে
ডক্টর হাসিমুখে উত্তর দিল: আপনি প্লিজ টেনশন করবেন না। সুখবর আছে।
আবির: সুখবর!
ডক্টর: জ্বী, একটা অপারেশন সাকসেসফুল। আপনার মাশাল্লাহ দুইটা ফুটফুটে সন্তান হয়েছে, একটা ছেলে এবং একটা মেয়ে।
আবির খানিকটা মলিন মুখে প্রশ্ন করল: আর আমার মেঘ?
ডক্টর এবার ঠোট প্রসারিত করে উত্তর দিল: পেশেন্ট ভালো আছে। আর তার দ্বিতীয় অপারেশন অর্থাৎ জরায়ুর অপারেশন করার প্রয়োজন হয়নি। আপনারা চাইলে আবারও সন্তান নিতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।
আবির এবার খুশিতে ডাক্টরকে জড়িয়ে ধরল। তারপর হঠাৎ ছেড়ে দিয়ে বলল: সরি ডক্টর.
ডক্টর: ইটস ওকে মিস্টার খান।
আবির: আমার সন্তানেরা আর তাদের মা কোথায়?
ডক্টর: পেশেন্ট নাও আউট অফ ডেঞ্জার। আর বেবিদের কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনাদের কাছে দেওয়া হবে।
বলেই ডক্টর হাসিমুখে চলে গেল।
রাকিব ,রাসেল ,আরিফ ও তানভীর ছুটে এসে আবীরকে জড়িয়ে ধরল। সবাই আবিরকে অভিনন্দন জানাচ্ছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দুইটা চাঁদের টুকরো এসে ধরা দিয়েছে খান বাড়িতে। গত ২৪ ঘন্টায় খান বাড়ি শোকের বাড়িতে পরিণত হয়েছিল। আদির পর বহু বছর কেটে গেছে এই বাড়িতে কোন ছোট্ট বাবুর আগমন ঘটেনি, আজ মেঘ আবিরের সন্তানেরা সেই শূন্যতাকে পূর্ণতা দিয়েছে।
আবিরতো খুশিতে আলি আহমেদ খানকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেই দিল। আলী আহমেদ খান ও ছেলেকে সান্ত্বনা দিল।
মালিহা খান হালিমা খানকে জড়িয়ে ধরলো, সাথে যোগ হলো আকলিমা খান , বন্যা, মিম , মাহমুদা খান ও জান্নাত।
ভাইয়া..য়া..য়া..
তানভীরের চিৎকার শুনে সকলেই সেদিকে তাকালো। ইকবাল খান, মোজাম্মেল খান ও আলী আহমদ খান দৌড়ে ছুটে গেল আবিরের দিকে। কিন্তু ইতিমধ্যেই আবিরকে রাকিব ও রাসেল ধরে ফেলেছে। আসিফ ছুটে গেল ডাক্তারকে ডাকতে।
আবির অজ্ঞান হয়ে গেছে। হসপিটালের কয়েকটা ছেলে স্টাফ এসে আবিরকে ধরাধরি করে বেডে শুইয়ে দিল।
আসিফ তাড়াতাড়ি করে ডক্টর নিয়ে এসেছে।
তানভীর: ডক্টর ভাইয়ার কি অবস্থা?
ডক্টর আবিরের গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত সকল রিপোর্ট চেক করতে করতে বলল: উনি অলরেডি আগে থেকেই অসুস্থ। উনার মাথায় কিছু ইন্টারনাল ড্যামেজ হয়েছে। এই মুহূর্তে উনার অনেক রেস্টের প্রয়োজন। কিন্তু উনি ওনার ওয়াইফের জন্য সকাল থেকে অতিরিক্ত টেনশন নিয়ে ছোটা ছুটি করছে, যার ফলে পেশেন্টের একটা মাইনর প্যানিক অ্যাটাক ঘটেছে।
ডক্টরের কথা শুনে সকলেই আতকে উঠলো। ডক্টর সূক্ষ্ম চোখে সকালের দিকে তাকিয়ে শান্ত কণ্ঠে আশ্বাস দিয়ে বলল: আপনারা টেনশন করবেন না। পেশেন্টের যথাযথ ট্রিটমেন্ট করা হয়েছে, হয়তো ঘন্টাখানেকের মধ্যে জ্ঞান ফিরে আসবে। পেশেন্টের জ্ঞান ফিরলে আপনারা কেউ এমন কিছু করবেন বা বলবেন না যাতে ওনার আবারও টেনশন বাড়ে। উনাকে টেনশন ফ্রি রাখার চেষ্টা করবেন।
আর হ্যাঁ, পেশেন্টের কম হলেও আগামী একমাস রেস্টের প্রয়োজন। আশা করি আপনারা তা লক্ষ্য রাখবেন।
আবিরের বিপদ কেটে গেছে শুনে সকলেই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
হঠাৎ রাকিব তানভীর এর উদ্দেশ্যে বলল: তানভীর_ আমরা আবিরের কাছে আছি। তুই তোর পরিবার নিয়ে মেঘের কাছে যা। একটু আগে একটা নার্স এসে জানিয়ে গেছে মেঘের জ্ঞান ফিরেছে।
তানভীর: ঠিক আছে তোমরা ভাইয়ার খেয়াল রেখো আমরা যাচ্ছি।
সন্ধ্যা সাতটা।
আবির পিটপিট করে চোখ খুলছে। হঠাৎ চাহনিতে চোখে সাদা বাল্বের আলো টা অসহ্যকর ঠেকছে। হঠাৎ কি ভেবে যেন তাড়াতাড়ি করে উঠে বসার চেষ্টা করলো। আবিরের জ্ঞান ফিরেছে দেখে রাকিব ও রাসেল ছুটে এসেছে।
রাকিব: কিরে আবীর কিছু লাগবে?
আবির মাথায় এক হাত চেপে ধরে রাকিবের দিকে তাকালো। মাথায় এখন ব্যথা নেই কিন্তু কেমন যেন ঝিমঝিম করছে। আবির ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে বলল: আমার মেঘ কই? আমার ছেলে মেয়ে কই?
রাসেল খানিকটা হেসে জবাব দিল: ওরা সবাই আছে_ এমনকি সুস্থ আছে তুই টেনশন করিস না।
আবির ব্যাকুল কন্ঠে বলল: আমাকে ওদের কাছে নিয়ে চল।
আবিরের ব্যাকুলতা বুঝতে পেরে রাকিব বলল: ঠিক আছে নিয়ে যাচ্ছি তুই একটু শান্ত হ_
মেঘের কেবিনে মালিহা খান ও হালিমা খান বসে আছে। মেঘকে ঘুমের ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে রেস্টের জন্য।
একটু আগে একে একে সকলেই মেঘ কে কেবিনে এসে দেখে গেছে। তানভীর, বন্যা, মিম ও আদি তো ছোট্ট বাবুসোনা দের ছাড়তেই চায়নি ।
মালিহা খান ধমকে সবগুলাকে কেবিনের বাইরে পাঠিয়েছে। বাবুরা এখন মেঘের পাশে ঘুমাচ্ছে।
মেঘ_
আবিরের কণ্ঠ শুনে মালিহা খান ও হালিমা খান উঠে দাঁড়ালো। আবিরকে মেঘের সাথে কথা বলার সুযোগ করে দিয়ে সবাই বাহিরে চলে গেল।
আবির নিশ্চুপ ভঙ্গিতে সামনের দিকে এগিয়ে গেল। চুপচাপ মেঘের পাশে একটা চেয়ার টেনে বসলো। দুই মিনিট স্তব্ধ হয়ে মেঘের দিকে তাকিয়ে মেঘের কপালে একটা দীর্ঘ চুমু আকলো। তারপর মেঘের পাশ থেকে আস্তে আস্তে দুই বেবিকে একসাথেই কোলে নিল।
পাপ্পার স্পর্শ পেয়ে বাবু দুইটা স্পষ্ট ভাবে চোখ খুলে আবিরের দিকে তাকিয়ে আছে। আবির বেবিদের কপালে চুমু দিয়ে আদর করলো।
আবিরের শব্দ পেয়ে মেঘ আস্তে আস্তে চোখ খুলল। চোখ খুলেই আবির কে দেখে মেঘের মনটা প্রশান্তিতে ছেয়ে গেল। আস্তে আস্তে বলল: আহিয়ার আব্বু
আবির ছেলে মেয়েকে কোলে নিয়েই মেঘের বেডের পাশে এগিয়ে বসলো।
আবির: বলো, আহিয়ার আম্মু।
মেঘ: আমি ভেবেছিলাম, আমি আপনাকে আর দেখতে পাবো না। হয়তো এই দেখাই শেষ দেখা।
আবির হুট করেই মেঘের ঠোটে আঙ্গুল চেপে ধরল।
আবির: চুপ, এসব কথা আর না। আমাদের প্রেমের গল্প থেকে আলাদা হওয়ার পৃষ্ঠাটা আমি নিজ হাতে ছিড়ে দেব। তবুও তোমায় কখনো কোথাও যেতে দেব না।
আর আজ এত খুশির দিনে এসব কথা তো হবেই না। দেখো আমাদের আহিয়া.. কিন্তু আমাদের এই পুচু সোনাটার নাম কি দেওয়া যায় বলোতো?
মেঘ: মেয়ের নাম তো আপনি আমাদের বিয়ের আগেই রেখেছেন। এখন ছেলের নামটাও আপনি রাখেন।
আবির: খানিকটা ভুল বলেছো। তখনো আমাদের বিয়ে হয়েছিল শুধু তুমি জানতে না। এখন ছেলের নাম তুমি রাখো।
বর্ষার পানির মতো চারিদিক যেন খুশিতে থৈ থৈ করছে। খান পরিবারে খুশির জোয়ার নেমেছে। দীর্ঘ একটা দম বন্ধ কর পরিবেশের পর আবারো আলোর রশ্নি তে আলোকিত হয়েছে খান পরিবারের সকল সদস্যদের মন।
হসপিটাল থেকে আবিরের এখনো নাম কাটা হয়নি। তানভীর আর আলী আহমেদ খান হসপিটাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে আবিরকে মেঘের রুমেই শিফট করেছে।
কিন্তু আবিরের রেস্ট করার কোন খবর নেই, সারাক্ষণ ছেলে মেয়েকে নিয়ে মেঘের সাথে খুনসুটিতে ব্যস্ত থাকে।
আবিরের ছেলে মেয়ে দুনিয়াতে এসেছে আজ মাত্র চার দিন। এর মাঝেই ছেলে মেয়ের পক্ষ ভাগাভাগি শেষ। আবিরের একটাই দাবি ওর মেয়ে আহিয়া ওর পক্ষে। কিন্তু মেঘ তা শুনতে বা মানতে নারাজ। মেঘ চায় ছেলে মেয়ে দুজনেই মায়ের পক্ষে থাকুক।
ভাইয়া..
তানভীরের কণ্ঠ শুনে মেঘ আবির দুজনেই সে দিকে তাকালো।
আবির: ভেতরে আয়..
তানভীর ভেতরে এসেই বেবিদের কাছে গেল। ছেলে বাবুটাকে কোলে নিয়ে বলল: আমার মামা কি করে? তাড়াতাড়ি বড় হয়ে যাও, তোমাকে কাঁধে চড়িয়ে পুরো এলাকা ঘুরবো।
তানভীরের স্পর্শ পেয়েই হয়তো বেবি টা বুঝতে পেরেছে এটা তার পাপা না, তাই ঠোঁট বাঁকিয়ে কাদা শুরু করল।
তানভীর: এই যে মামা কেঁদো না.. চকলেট খাবে? তোমাকে আমি অনেক চকলেট এনে দিবো। তারপরও কেঁদো না প্লিজ।
তানভীরের কথা ও কর্মকাণ্ড দেখে মেঘ হাসতে হাসতে বেডে লুটোপুটি খাচ্ছে। বহু কষ্টে হাসি থামিয়ে বলল: ভাইয়া.. আমার এইটুকু ছেলেকে তুমি চকলেট খাওয়াতে চাইছ?
তানভীর: হুম.. ওকে আমি অল্প বয়সেই সব কিছুর ট্রেনিং দেব।
তানভীরের কথা শুনে আবির হঠাৎ ফুঁসে উঠে বলল: তাহলে তো হয়েছেই.. আমার ছেলেটাকে অল্প বয়সেই তোর মত পাকা বানাস না ভাই.. তাহলে আবার বোনের বান্ধবীর সাথে প্রেম করতে যাবে।
আবিরের খোঁচা মারা কথা শুনে তানভীর টিটকোণি কেটে বলল: ছিহ ভাইয়া.. আমাকে কি তোমার এত কাঁচা ট্রেনার মনে হয়.. আমিতো আমার ভাগিনাকে চাচাতো বোনের সাথে প্রেম করা শিখাবো।
আবির অবাক কণ্ঠে উত্তর দিল: তাহলে তো আমার ছেলের সারা জীবন সিঙ্গেল ই থাকতে হবে। তুই তো আমার ছেলের চাচা না হয়ে মামা হয়ে বসে আছিস।
তানভীর: আমি তো তোমার ছেলের চাচা মামা কোনটাই হতে ইন্টারেস্টেড না।
আবির: তাহলে?
তানভীর আবিরের দিকে তাকিয়ে একচোখ মেরে জবাব দিল: শশুর হবো শ্বশুর.. ওকে আমার মেয়ের জামাই বানাবো বুঝলা ভাইয়া।
আবির ঠাট্টার কন্ঠে উত্তর দিল: বললেই হলো? তোকে আমার বিয়াই জীবনেও বানাবো না। জেগে জেগে স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেন সমন্ধি ভাই..
তানভীর হাসতে হাসতে বলে উঠলো: আমার মেয়েকে তোমার ছেলের সাথে ভাগিয়ে দিব পারলে তুমিও আটকে দেখিও বিয়াই মশাই।
ওদের কান্ড দেখে মেঘ ধমকের সুরে বলে উঠলো: তোমরা প্লিজ একটু চুপ করবা.. আমার মেয়েটা ঘুমিয়ে আছে উঠে যাবে।
আহিয়ার কথা শুনেই আবির তানভীরের মাথায় চাটি মেরে বলল: ধুর শালা.. কথা কম বল.. আমার মেয়ে ঘুম থেকে উঠলে, তোকে জীবনে মেয়ের বাপ হওয়ার সুযোগটাই আমি দিব না।
তানভীর: আমি তোমার শালা না সমন্ধি হই সম্মান দিয়ে কথা বলো।
আবির: আমি তো তোকে সম্মানের চুড়ায় নিয়ে যেতেই চাই। কিন্তু তুই তো আড়ালে দেখা করিস না।
মেঘ বিরক্তিকন্ঠে বললো: উফফফ… তোমরা বাচ্চাদের মত ঝগড়া করা বন্ধ করবে।
তারপর তানভীরের উদ্দেশ্যে আবার বলল: ভাইয়া.. আমাদের রিলিজ কয়টায় দিবে?
তানভীর এবার সিরিয়াস কণ্ঠে উত্তর দিল: সকল ফরমালিটি শেষ.. আর ঘন্টা খানিক পরেই আমরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হব। খান পরিবারের সকল সদস্য তোদের আশায় পথ চেয়ে আছে।
মেঘ: হুম.. জানি তো। আমারও তাদের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য মনটা ব্যাকুল হয়ে আছে।
আবির : ইসসস… আমার জন্য তো কারো মনটা এত ব্যাকুল হয় না।
মেঘ: আপনি কি কোন ভাবে নিজের পরিবারকে নিয়ে জেলাস ফিল করছেন?
আবির: কই না তো.. আমাকে ভালোবাসার জন্য আমার এখন মেয়ে আছে বুঝলা…
মেঘ আবিরের খুনসুটি দেখে, তানভীর হাসিমুখে বিদায় নিয়ে বাহিরে চলে গেল।
এই ছেলে… তাড়াতাড়ি সাজানো শেষ কর। আমার নাতি নাতিরা চলে আসবে।
আলী আহমেদের তাড়াহুড়া শুনে ছেলেটি জবাব দিল: আঙ্কেল আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সব সাজানো শেষ হয়ে যাবে।
এদের দুই জনের কথার মাঝেই উপস্থিত হলো মোজাম্মেল খান। বলল: কি হয়েছে ভাইজান..
আলী আহমেদ খান জবাব দিল: আমার আবিরের ছেলে মেয়ে বাড়িতে আসার সময় হয়ে গেছে, কিন্তু ওদের এখনো বাড়ি সাজানো কমপ্লিট হয়নি।
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৬৫+৬৬+৬৭
মোজাম্মেল খান: আরে ভাইজান, এত চাপ নিও না। ওদের বাড়িতে ফেরার আগেই সব কমপ্লিট হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।
মালিহা খান, হালিমা খান ও আকলিমা খান সকাল থেকেই রান্নাঘরে প্রচুর ব্যস্ততার মাঝে সময় কাটাচ্ছে। বন্যা ও সাথে সাথে সাহায্য করছে।
আজ মাহমুদা খান ও জান্নাত আসার কথা। হয়তো তারাও কিছুক্ষণের মধ্যে চলে আসবে। মিম আরিফ কে বারবার বলেছে আসার জন্য। কিন্তু আরিফ জানিয়েছে সে অন্য সময় আসবে।
