Home আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ২৩+২৪+২৫

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ২৩+২৪+২৫

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ২৩+২৪+২৫
ফারজানা মনি

আবির খাওয়া শেষ করে উপরে চলে গেল। হালিমা খান মালিহা খান কে বলল: আপা মেয়েকে অন্য কোথাও বিয়ে দিলে হয়তো এতটা নিশ্চিন্ত থাকতাম না। তোমার ছেলে যেভাবে আমার মেয়েকে আগলে রাখে হয়তো অন্য কোথাও বিয়ে দিলে তা কখনোই করত না। নিজের মেয়েকে সুখী দেখার চেয়ে বেশি একটা মায়ের আর কি চাওয়ার থাকে।
মালিহা খান বলল: তুই নিশ্চিন্ত থাক আমার আবি র মেঘের খুব ভালোভাবে খেয়াল রাখতে পারবে।
আকলিমা খান: ওদের দুটোকে দেখলে মনটা জুড়িয়ে যায়। আবির থাকতে মেঘকে নিয়ে আমাদের কোন চিন্তা করতেই হবে না।

আবির রুমে ঢুকলো। দেখল মেঘ এখনো ঘুমায়নি। সামনে গিয়ে বসলো, বলল: ঘুমাওনি এখনো?
মেঘ: ঘুম আসছেনা।
আবির: শুয়ে পড়ো.. আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি।
মেঘ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। হঠাৎ বলল: আহিয়ার আব্বু…
আবির সেই চিরচেনা শান্ত কন্ঠে জবাব দিল.. হুম 🥰
মেঘ ব্যালকনির দিকে আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে বলল: বাহিরে তাকিয়ে দেখুন আকাশে মস্ত বড় থালার মত চাঁদ উঠেছে। চলুন না আমরা ছাদে যাই;
আবির: এত রাত্রে ছাদে যাওয়া যাবেনা। অন্য কিছু বলো..
মেঘ: চলুন না প্লিজ,,
আবির: মেঘ.. জেদ করোনা প্লিজ। তুমি কি ভুলে গেছো, তুমি অসুস্থ।
এত রাত্রে ছাদে গেলে তেনারা তোমার ঘাড় মটকে দেবে জানো??
মেঘ একটু ভয়ে ভয়ে বলল: সত্যি বলছেন? কিন্তু আপনি তো বলেছিলেন তেনারা বলতে কেউ নেই ।
আবির: এসব বাদ দাও। চলো আমরা ব্যালকনিতে যাই। ব্যালকনির দিকে তাকিয়ে দেখো সেখানেও কি সুন্দর চাঁদের জোসনা দীপ্তি ছড়াচ্ছে।

মেঘ: চলুন..
আবির আর মেঘ ব্যালকনির সোফাতে গিয়ে বসলো। চাঁদের আলোতে আবির মেঘের ক্লান্ত ,অসুস্থ মুখের পানে তাকিয়ে আছে। আবিরের চোখ যেন মেঘের সারা মুখেই বিচরণ করছে। এই কয়েকটা দিনে মেয়েটার মুখের লাবন্য অনেকটাই কমে এসেছে। মুখে কয়েকটা ব্রণ ও উঠেছে। মুখটা মনে হয় রক্তশূন্য হয়ে উঠেছে। আমি অক্লান্ত চোখে তাকিয়ে আছে।
মেঘ বলল: এভাবে কি দেখছেন?
আবির: আমার আহিয়ার আম্মুকে। আচ্ছা মেঘ আমাদের আহিয়া এখন কি করছে?
মেঘ আবিরের এসব বাচ্চামো প্রশ্ন শুনে কিছুটা হাসলো। বলল: আহিয়া আপনাকে বলছে, “পাপা.. তোমাকে অনেক ধন্যবাদ আমাকে চন্দ্রবিলাস করানোর জন্য”
আবির হু হু করে হাসলো। বলল: কই আমি তো শুনতে পাচ্ছি না।
মেঘ: আমি তো পাচ্ছি।
আবির: আমিও শুনতে চাই..
মেঘ ফিস ফিসিয়ে আবির কে বলল: কাছে আসুন..

আবির মেঘের কিছুটা সামনে গিয়ে বসলো। মেঘ আবিরের ডান হাতটা তার পেটে স্পর্শ করে বলল আপনি কি অনুভব করতে পারছেন আমাদের বাবুর রিদ স্পন্দন?
আবি র মাথাটা কিছুটা ঝুঁকে মেঘের পেটে কান দিয়ে ফিস ফিসিয়ে বলল: তুমি এখন কোন কথা বলবে না। এখন আমাদের বাপ মেয়ের কথা হবে।
মেঘ আবিরের পাগলামো দেখে হাসলো।
আবির: আমার ছোট্ট পরী কি তার পাপার কথা শুনতে পাচ্ছে? পাপা তোমায় খুব মিস করে। তুমি তাড়াতাড়ি পাপার কাছে চলে আসো।
কথা দিচ্ছি পাপা তোমায় কাঁধে করে সারা বাড়ি ঘুরবো। আইসক্রিম কিনে দেবো, চকলেট কিনে দিবো। তোমার মাম্মাকে আর কষ্ট না দিয়ে তুমি তাড়াতাড়ি পাপার কাছে চলে আসো।

মেঘ আবিরের কথা শুনে মুচকি মুচকি হাসছে। বলল: তো.. আপনার ছোট্ট পরী কি বলল??
আবির: আমার আহিয়া পরি আমাকে বলেছে সে অতি শীঘ্রই আমাদের কাছে চলে আসছে।
মেঘ আবিরের বুকে মাথা রাখলো। বলল : আপনার মত স্বামী পাওয়া আমার সৌভাগ্য। জীবনের সকল পূর্ণতার মাঝে সর্ব উত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ পাওনা হলো আমার স্বামী, সাজ্জাদ খান আবির।
আবির হাসলো। বলল: আমার সৌভাগ্য আমি তোমাকে পেয়েছি। তোমাকে না পেলে কি হতো বা আমি কি করতাম তা আমি জানিনা। তোমাকে ধন্যবাদ ..অসংখ্য ধন্যবাদ.. আমাকে ভালোবেসে আমাকে সুন্দর একটা জীবন দেওয়ার জন্য। কারণ তুমি হীনা এই আবিরের জীবন মূল্যহীন।
ট্রেন চলছে..

একজোড়া কপৎ-কপতি ডুবে আছে দুজন দুজনের চোখের মায়ায়।
দুজনের চোখের তৃষ্ণা যেন বহুদিনের। মনে হচ্ছে সারারাত দেখলেও যেন এই তৃষ্ণা মিটবে না। হঠাৎ বন্যা চোখ নামিয়ে নিল। তানভীর ট্রেনের বাহিরের দৃশ্যে তাকিয়ে একটু হাসলো। মনে মনে বলল মেয়েটা বড্ড বেশি লাজুক। আল্লাহ জানে এই মেয়ের লজ্জা ভাঙ্গাতে আমার আর কি কি করা লাগে..
বন্যা মনে মনে ভাবছে, বেহায়া নির্লজ্জ পুরুষ কোথাকার.. সর্বক্ষণ প্রস্তুত থাকে কখন ,কিভাবে, কতবার আমাকে লজ্জা দেওয়া যায়।
হঠাৎ তানভীর বন্যার হাতের আঙ্গুলের ভাজে নিজের আঙ্গুল গুজলো।
বন্যা কিছুটা লজ্জা পেয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে আছে।
তানভীর আরেকটু কাছে এগিয়ে বসে, বন্যাকে নিজের দিকে ফেরালো।
বলল: বন্যাফুল.. তুমি কি এখনো আমায় আগের মতো ভয় পাচ্ছো?
বন্যা: কই.. নাতো…
তানভীর: তাহলে আমার দিক থেকে এমন মুখ ফিরিয়ে কেন রেখেছো? আমাকে কি তোমার ভালো লাগে না?
বন্যা তানভীরে ঠোঁটে আঙ্গুল দিয়ে কথা আটকে বলল: এসব কি বলছেন? আমি আপনাকে ভীষণ ভালোবেসে বিয়ে করেছি।

বন্যা: আপনি যা ভাবছেন তেমন কিছুই না।
তানভীর: তাহলে?
বন্যা: তাহলে কিছুই না…
বলেই বন্যা মাথাটা নিচু করে বসে আছে।
তানভীর এক হাত দিয়ে বন্যার থুতনি ছুঁয়ে মুখটাকে উঁচু করে বলল: বন্যা.. আমি জানি আমি একটু রাগী , বদমেজাজি , রাগ হলে ভালো- মন্দ মাথায় থাকে না । কিন্তু আমার এত বাজে স্বভাবের মাঝেও একটি চিরন্তন সত্য হলো আমি তোমাকে ভালোবাসি … ভীষণ ভালোবাসি…
গত কয়েকটা বছর নিজের ভেতরটা এক অসহনীয় যন্ত্রণা কুরে কুরে খেয়েছে। আমিই জানি, তোমাকে ছাড়া আমার কতটা কষ্ট হয়েছে। ভাইয়াকে ছাড়া আর কাউকে কিছু বলতেও পারিনি। যখন তোমার কথা খুব মনে পড়তো। তখন ছুটে যেতাম তোমার ভার্সিটিতে ,তোমার গলিতে তোমাকে এক নজর দেখার অপেক্ষায়। বহুবার মুখলেস দাদার বহু প্রশ্নের সম্মুখীন ও হয়েছি।

মাথার ব্রেন বলতো যেকোনো সময় তোমার বাড়ির কারো কাছে হয়তো ধরা পড়ে যাব কিন্তু মন মানতো না। ছুটে যেতাম তোমার গলিতে যদি একবার দেখা পাই । মাঝেমধ্যে সৌভাগ্যবশত পেয়েও যেতাম।
বন্যা নির্বাক। অবাক দৃষ্টিতে তানভীরের মুখের পানে তাকিয়ে আছে। চাঁদের আলোয় তানভীর কে দেখতে অনেক মোহনীয় লাগছে। ট্রেনের ঝন ঝন শব্দ, জানলা দিয়ে আসা মৃদু মৃদু বাতাস, চাঁদের জোসনার আলো পরিবেশটাকে আরো মধুর করে তুলেছে।
বন্যা বলল: আপনি কি আমায় অনেক আগে থেকে ভালবাসেন?
তানভীর চুপ..
বন্যা: কত আগে থেকে?
তানভীর: প্রায় ৪ বৎসর হলো।
বন্যা তো অবাক.. বলল: তার মানে এই চার বছর যাবত আপনি আমায় নজরে নজরে রেখেছেন?
তানভীরের সহজ স্বীকারোক্তি: হুম। শুধু আমি না তোমার আশেপাশে আরো অনেকেই আছে যাদেরকে বলা আছে তোমার উপরে নজর রাখতে । তুমি কোথায় যাচ্ছ , কি করছো, কোনো ছেলের সাথে মিশছো কিনা তারা আমাকে বলতো।

এবার বন্যা একটু রাগ করলো। বলল: অন্য ছেলেরা আমার দিকে নজর রাখতো?
তানভীর: প্লিজ রাগ করোনা। ওরা কেউ তোমার দিকে খারাপ নজর দিত না। জাস্ট তোমার খেয়াল রাখতো ভাইয়ের হবু বউ হিসেবে। তাছাড়া তোমার দিকে কেউ খারাপ নজর দিলে তাকে আমি পিটিয়ে আদমরা করে ছাড়বো। যেমনটা তামিমকে করেছিলাম।এবারের :কথাটা তানভীর একটু আস্তে আস্তে বলল।
বন্যা: তারমানে তামিমের উপরে আপনার আগে থেকেই খোভ জেদ জমা ছিল? আর সেটার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল আবির ভাইয়ের এক্সিডেন্টের দিন?
তানভীর: হুম
বন্যা ফুস করে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল : কি হিংসুটে ছেলেরে বাবা!
তানভীর হাসলো। বলল: তুমি আমার.. একান্তই আমার .. যে তোমার দিকে তাকাবে তার চোখ আমি তুলে নিব। ভুলে যেও না, রাজনীতি ছেড়েছি , কিন্তু মারপিট করা আমার রক্তে এখনো রয়ে গেছে।
বন্যা বলল: আমি কি শুধু শুধুই আপনাকে ভিলেনের সাথে তুলনা করি? আপনি তো ভিলেনই.. হিংসুটে ভিলেন..
মেঘ আবিরের কোলে মাথা রেখে বেলকনির সোফাতে শুয়ে আছে। তার নজর ওই আকাশের পানে। কিন্তু আবিরের নজর তার কাদম্বিনীর মুখে ,চোখে, ঠোঁটে। আবির মেঘকে দেখছে, আর মেঘের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।

একটা সময় মেঘ ঘুমিয়ে পড়ল। আবির মেঘকে পাজা কোলে করে তুলে বিছানায় শুয়ে দিলো। কপালে একটা দীর্ঘ চুমু দিয়ে মেঘকে বুকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।
সকাল ৯ টা বাজে। হালিমা খানের ফোনে তানভীর কল দিয়েছে। একে একে সকলের সাথে কথা হয়েছে কিন্তু বাড়ির তিন কর্তা আর আবির কোন সকালেই অফিসে চলে গেছে। মেঘ এইমাত্রই নিচে নেমে এসেছে।
বলল: আম্মু.. কে কল দিয়েছে? ভাইয়া?
হালিমা খান: হ্যাঁ.. নে কথা বল।
মেঘ: হ্যালো ভাইয়া.. কেমন আছো?
তানভীর: ভালো। তুই কেমন আছিস?
মেঘ: আলহামদুলিল্লাহ ভালো। বন্যা বেবি কই?
তানভীর: এইতো কাছেই আছে নে কথা বল।
বন্যা: হ্যালো ননদিনী.
মেঘ: কেমন আছো ভাবি আমার।
বন্যা: ভালো । তুই কেমন আছিস। আর বাড়ির সবাই কেমন আছে?
মেঘ : আলহামদুলিল্লাহ সবাই ভালো আছে। তোরা কখন পৌঁছেছিস?
বন্যা: আমরা প্রায় মাঝরাতেই পৌঁছে গেছি। কিন্তু এত রাত হওয়ায় বাড়িতে কল দিয়ে জানাই নি। সকালে কল দিলাম।

মেঘ: ওহ
তানভীর বন্যার কথা শুনে মিম দৌড়ে ছুটে এলো। বলল: মেঘ আপু_ ফোনটা আমাকে দাও না প্লিজ! আমরা বন্যা ভাবির সাথে কথা বলবো।
বন্যা ফোনের ওপার থেকে ওদের চিল্লাচিল্লি শুনে বলল: মিম কি করে?
মেঘ: মহারানীর আজ কলেজ নেই তাই মাত্র ঘুম থেকে উঠলো।
বন্যা: মিমের কাছে দে ফোনটা;
মিম: হ্যালো বউ মনি.. কেমন আছো?
বন্যা: ভালো কুট্টি ননদ.. তুমি কেমন আছো?
মিম: হুম, আমিও ভালো। শোনো বউ মনি..
বন্যা: হুম.. বলেন মহারানী। বান্দরবানের সুন্দর সুন্দর স্পটের ভিডিও করে আনবে। সেই ভিডিও নিয়ে আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করব।
পাশ থেকে তানভীর বলে উঠলো। ওরে পাকা মেয়ে.. একবার বাড়ি ফিরি, তারপর মজা বুঝাবো।

আদি এসে মিমের কাছ থেকে ফোনটা নিয়ে বলল: হ্যালো বউ মনি..
বন্যা: বলো.. ছোট দেবর;
আদি: তুমি মিম আপুর কথা ছাড়ো। ওর কোন কথাই তুমি শুনবে না।
বন্যা: ও… তাই বুঝি.. তাহলে কার কথা শুনবো?
আদি: আমি আছি না.. তোমার ছোট বর।
বন্যার চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল। কি বলছে এই পাকা ছেলে। পাশে তানভীর চিৎকার দিয়ে উঠলো; কিরে আদি, শেষ পর্যন্ত কেঁদে কেঁটে আমার বউটাকে ও নিয়ে যাবি?
বন্যা মৃদু মৃদু হাসছে আর বলছে: হিংসুটে বর আমার।
আদি: ভাইয়া.. নিয়ে যাচ্ছি না তো। ভাগ করছি। তুমি বড় বর, আর আমি ছোট বর।
পাশ থেকে মেঘ আদির কান টেনে ধরল। বলল: আজকাল বড্ড পেকেছেন তাই না.. অপেক্ষা করেন, আবির ভাই বাড়িতে ফিরুক তাকে জানাতে হবে।
আবিরের নাম শুনতেই আদি ছুটে পালালো। সবাই আদির কান্ড দেখে হাসছে।
মিম গিয়ে সোফায় বসলো, মেঘের পাশে। মিম টিভি ও দেখছে আবার গুনগুনিয়ে গানও গাইছে। মেঘ কপাল কুচকে মিমের দিকে তাকিয়ে আছে। সেদিকে মীমের কোন খেয়াল নেই। মেঘ মাঝে মাঝেই খেয়াল করে, মিম আজকাল একটু বেশি খুশি খুশি থাকে।

মেঘ বলল: কিরে তোর খবর কী?
মিম: কিসের খবর? কয়টার খবর?
মেঘ: তোকে দেখে মনে হচ্ছে; ডালমে জারুর কুছ কালাহে।
মেঘ চোখ দুটো ছোট ছোট করে বলল: কাহিনী কি?
মীম: আপু তুমি যে কি বলো না.. আজকাল কি হাসাও যাবে না ?
মীম বসা থেকে উঠতে উঠতে বলল : ধুর আজকাল এই বাড়িতে হাসলেও সমস্যা!!
মেঘ অবাক কন্ঠে তাকিয়ে বলল এর আবার কি হলো?
রাকিব: কিরে আবির? শুনলাম কাল অফিস থেকে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরেছিস.. বাসায় কি কোন সমস্যা?
আবির: নারে, তেমন কিছু.. গতকাল তানভীর আর বন্যা হানিমুনে গিয়েছে। ওদের বিকেলে স্টেশনে দিতে গিয়েছিলাম তাছাড়া মেঘের শরীরটাও গতকাল ভালো ছিল না।
রাকিব: মেঘ এখন কেমন আছে?

আবির:হুম ভালো। তোর কথা বল.. তোকে তো বলেছিলাম এক সপ্তাহ অফিসে আসতে না। চারদিন পরেই চলে আসলি যে। একটা ছুটির এপ্লিকেশন পাঠিয়ে দিলেই তো হতো।
রাকিব: জানি কিন্তু অনেক কাজ পেন্ডিং হয়ে গেছে এই কয়েক দিনে, তাই ভাবলাম তোর উপর এত চাপ না দিয়ে অফিসেই চলে আসি।
আবির: প্রয়োজন ছিল না.. এ সময় তোর রিয়ার পাশে থাকা বেশি দরকার ছিল। রিয়া আর বেবি কেমন আছে?
রাকিব: ভালো.. মেঘের কথাটা শুনেছে পর থেকে বারবার মেঘের কথাই জিজ্ঞাসা করছিল। জান্নাত ও বলল কয়েকদিনের মধ্যে মেঘকে দেখতে যাবে।

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ২০+২১+২২

আবির: যেতে বলিস জান্নাত কে। ভেবেছিলাম মেঘকে নিয়ে তোদের বাড়িতে যাব রিয়া আর বেবিকে দেখতে। কিন্তু আম্মু আর মামনি বলল: বাবুর এক মাস না হওয়া পর্যন্ত মেঘ সেখানে যেতে পারবেনা।
রাকিব: সমস্যা নাই.. পরে একসময় নিয়ে যাস…

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ২৬+২৭+২৮