Home আযদাহা সিজন ২ আযদাহা সিজন ২ পর্ব ২৫

আযদাহা সিজন ২ পর্ব ২৫

আযদাহা সিজন ২ পর্ব ২৫
সাবিলা সাবি

চাঁদের ম্লান আলোয় চকচক করছে গাড়িটা। পৃথিবীর সবচেয়ে দামি সুপারকারগুলোর একটি “Rolls-Royce boat Tail”।তার নিখুঁত কার্বন ফাইবার বডির উপর জমে থাকা রক্তের ছোপগুলো কালো রাতের অন্ধকারে আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে।গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ,অথচ তার উপস্থিতি রাস্তায় থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
ড্রাইভিং সিটে বসে থাকা ব্যক্তি এই নৈঃশব্দ্যের একমাত্র রাজা—জ্যাসপার অরিজিন।
তার মুখের বাঁকা হাসি, তীক্ষ্ণ সবুজারণ্য চোখের দৃষ্টি,আর চিবুকের নিচে লেগে থাকা তাজা র*ক্তের দাগ বলে দিচ্ছে—কিছুক্ষণ আগেই এক নারকীয় খেলা হয়েছিলো। তার কালো ব্লেজারের ভেতর সাদা শার্ট প্রায় লাল হয়ে গেছে জমাট বাঁধা রক্তে।

আর ঠিক পাশের সিটে নিস্তেজ হয়ে শুয়ে আছে ফিওনা—তার শরীরে এখনো হাসপাতালের রোগীর পোশাক। নিঃশ্বাস স্বাভাবিক, কিন্তু চেতনা নেই। জ্যাসপার একবার তাকালো ফিওনার দিকে, তারপর আঙুলের ডগায় লেগে থাকা রক্ত ঘষতে ঘষতে একটা গভীর শ্বাস নিলো।
এইযে, পুরো হাসপাতালটাই র*ক্তগঙ্গায় পরিণত হলো, এর একমাত্র কারণ—ফিওনা।
জ্যাসপার নিঃশব্দে হাসলো।
সবকিছু শুরু হয়েছিলো এক অনন্য রসায়ন থেকে—ZVX-09।
একটি বিশেষ রাসায়নিক অস্ত্র, যা একবার শরীরে প্রবেশ করলে ব্যক্তির কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ধ্বংস করে দেয়, মস্তিষ্ককে শুধুমাত্র আক্রমণাত্মক প্রবৃত্তির জন্য প্রোগ্রাম করে ফেলে। এই ক্যামিকেল একসময় নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো এল্ড্র রাজ্যের যুদ্ধ গবেষণাগারে।
কিন্তু জ্যাসপার? সে তো নিয়ম ভাঙার জন্যই জন্মেছে।
এই ক্যামিকেল সে নিজের হাতে তৈরি করেনি। এটি এসেছিলো ড্রাকোনিস রাজ্যের প্রাচীন গবেষণা ল্যাব থেকে, যেখানে একসময়ের নিষিদ্ধ পরীক্ষাগুলোর নথি এখনো অন্ধকারে চাপা পড়ে আছে।
সেই ফাইল ঘাঁটতে গিয়েই জ্যাসপার এই ক্যামিকেলের অস্তিত্ব খুঁজে পায়।
এক ফোঁটা ZVX-09 সে প্রয়োগ করেছিলো এক সাধারণ নার্সের ওপর, ঠিক হাসপাতালের গোপন ওষুধ সংরক্ষণাগারের সামনে।
তখন রাত ১২টা। নার্সটি প্রথমে শুধু ঘামতে লাগলো, তারপর তার শরীরের গঠন বিকৃত হতে থাকলো।
১৩ সেকেন্ডের মাথায়…

তার চোখের সাদা অংশ একেবারে কালো হয়ে গেলো, দাঁত লম্বা হয়ে বেরিয়ে এলো, আর সে হিংস্রভাবে নিজের সহকর্মীর গলায় কামড়ে দিলো!
এরপর ZVX-09 ঠিক যেমন কাজ করার কথা, তেমনই করলো—একজন থেকে আরেকজন, তারপর পুরো হাসপাতালের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লো এই ভয়ঙ্কর সংক্রমণ।
মাত্র ৯ মিনিট ৪২ সেকেন্ড।
মাত্র এতটুকু সময় লেগেছিলো পুরো হাসপাতালকে এক ভয়ংকর মৃ*ত্যুকূপে পরিণত করতে।
এখন সেই রক্তস্নানের ফলাফল জ্যাসপারের পাশের সিটে শুয়ে আছে—ফিওনা, যার জন্য এই পুরো খেলা।
লিউ ঝান যখন হাসপাতালের ল্যাবে ছিলো, তখন সে ব্যস্ত ছিলো জম্বি প্রতিরোধী ক্যামিকেল তৈরি করতে। সে তখন ও জানতো না,জ্যাসপার নিজেই হাসপাতালের লোকজনকে ভয়ংকর জম্বিতে পরিনত করেছিলো।
কিন্তু জ্যাসপার এতো কিছু শুধু হাসপাতাল ধ্বংসের জন্য করেনি।
তার লক্ষ্য একটাই—ফিওনাকে তার নিজের কাছে আনা, এবং ফিওনার চোখের সামনেই তার শত্রুদের নৃশংস শাস্তি দেওয়া।
জ্যাসপার গাড়ির ইঞ্জিন চালু করলো। ফিওনা এখনো অচেতন, কিন্তু বেশিক্ষণ নয়।
তারপর আস্তে আস্তে গাড়িটা চলতে শুরু করলো—এক ভয়ঙ্কর রাতের নীরব সাক্ষী হয়ে।

গাড়িটা এসে থামল একটা পুরনো, পরিত্যক্ত কারখানার সামনে। জায়গাটা এতটাই নির্জন যে মনে হবে বহু বছর আগে এখান থেকে সবকিছু মুছে ফেলা হয়েছে। সামনের বিশাল লোহার গেটটা মরিচা ধরে লালচে হয়ে গেছে, ওপরের দিকে কিছু জায়গায় গর্ত হয়ে আকাশ দেখা যাচ্ছে। বাতাস ভারী, যেন কোনো রাসায়নিকের গন্ধ এখনো এখানকার বাতাসে মিশে আছে।
জ্যাসপার ধীর পায়ে গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো। তার কালো ব্লেজারের নিচে থাকা সাদা শার্টটা জমে যাওয়া রক্তে মাখামাখি। ফিওনা এখনো অচেতন, হসপিটালের পোশাকেই তার নিস্তেজ শরীরটা পড়ে আছে গাড়ির সিটে।
জ্যাসপার চারপাশে তাকিয়ে নিলো, কেউ নেই। সে গেটের সামনে গিয়ে এক ধাক্কায় সেটাকে খুলে দিলো। ভেতরে ঢুকতেই গন্ধটা আরও ঘন হলো—এটা শুধুমাত্র মরিচা আর ধুলো নয়, এটা পচা মাংসের গন্ধ।
এই কারখানাটা বহুদিন আগে বন্ধ হয়ে গেছে, কিন্তু জ্যাসপার এটাকে নিজের কাজের জায়গা বানিয়েছে।
সে আবার গাড়ির দিকে ফিরে এলো, ফিওনার নিস্তেজ শরীরটাকে আলতো করে কোলে তুলে নিলো, তারপর ধীরে ধীরে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করলো।

আজ ফিওনার জ্ঞান ফিরবে, আর সে জেগে উঠবে এক নতুন দুঃস্বপ্নের মধ্যে।
ফিওনার চোখের পাতাগুলো ধীরে ধীরে কেঁপে উঠলো। মাথাটা যেন একদম ভারী লাগছে, পুরো শরীর অবশ। প্রথমে সব ঝাপসা, কিছুই ঠিকমতো বোঝা যাচ্ছে না। কিছুক্ষণ পর ধীরে ধীরে দৃশ্যগুলো স্পষ্ট হতে লাগলো।
তার চোখ সামনে ধাতব আলোর নিচে সে নিজেকে আবিষ্কার করলো—একটা লোহার চেয়ারের সাথে শক্ত করে বাঁধা। হাত-পা নড়াতে পারছে না, দড়িগুলো এতটাই শক্ত যে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে মনে হচ্ছে।
“এটা কী? আমি কোথায়?”
সে চেঁচিয়ে উঠলো, ধস্তাধস্তি করতে লাগলো, দড়িগুলো ছাড়ানোর চেষ্টা করলো, কিন্তু কোনো লাভ হলো না। দম নিতে কষ্ট হচ্ছিলো, বুকটা ধকধক করছে।
তার ঠিক সামনে, প্রথমে ঘন অন্ধকার, তারপর সেই অন্ধকারের মধ্যে একটা অবয়ব স্পষ্ট হতে লাগলো।
একটা দীর্ঘ ছায়া যেন ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে আসছে। ফিওনা হাঁপিয়ে উঠলো, নিশ্বাস আটকে আসছে।
তারপর সে স্পষ্ট দেখতে পেলো—
জ্যাসপার!

সে ধীর পায়ে ফিওনার সামনে এসে দাঁড়ালো। কিন্তু আজকের জ্যাসপার আগের মতো নেই। তার চোখদুটো লালচে হয়ে আছে, তাতে অদ্ভুত এক যন্ত্রণা খেলা করছে। মুখে কোনো হাসি নেই, নেই কোনো বিদ্রূপের ছাপ। তার শরীর থেকে এখনও রক্তের গন্ধ আসছে।
ফিওনার মনে ভয় চেপে বসলো।
জ্যাসপার ধীরে ধীরে ফিওনার দিকে ঝুঁকলো, তার চোখের দৃষ্টিতে এক বিষাক্ত শীতলতা।
“অবশেষে তোমার জ্ঞান ফিরেছে হামিংবার্ড।”
তার কণ্ঠে এক অচেনা, গভীর শূন্যতা।
ফিওনার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে এলো, বুক ধকধক করছে। এই জায়গাটা মনে হচ্ছে মৃত্যুর এক নিঃশব্দ কারখানা—চারপাশে পুরনো যন্ত্রপাতি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে, বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে ধাতব গন্ধ, আর কোথাও এক জায়গায় জল টপটপ করে পড়ার শব্দ।
হঠাৎই ওপর থেকে ধাতব শব্দে লোহার শেকল পড়লো।
ফিওনা অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখলো, শিকলের মধ্যে ঝুলে আছে দুটো মানবদেহ। ওদের মুখ শক্ত করে বাঁধা, শরীরগুলো এলিয়ে আছে,পুরোপুরি নির্জীব ভাবে।
জ্যাসপার ঠাণ্ডা চোখে তাদের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো, হাতে ধরা একটা ছোট রিমোট।
“দেখো, হামিংবার্ড, আমি তোমার জন্য কী এনেছি।”
তার কণ্ঠে ছিল এক অদ্ভুত আনন্দ,মনে হলো এটাই তার সবচেয়ে বড় উপহার।
“ক্লিক!”

একটা বোতাম টিপতেই শিকলগুলো শিথিল হয়ে গেলো, আর সেই দুই বন্দী গর্জনের মতো আওয়াজ তুলে মেঝেতে সজোরে পড়ে গেলো।
ধুলোর আস্তরণ সরে যেতেই ফিওনার চোখ স্থির হয়ে গেলো।
লুকিয়ান আর থালাস!
ফিওনার পুরো শরীর কেঁপে উঠলো, শ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে লাগলো। ওদের দেখেই তার মাথায় ঝড় বয়ে গেলো—একটা একটা করে সব মনে পড়তে লাগলো। ওরা কী করেছিলো! কী করতে চেয়েছিলো!
তার চোখের কোণে জল জমে উঠলো, গলা শুকিয়ে গেলো। ভয় আর আতঙ্কে সে কাঁপতে লাগলো।
“না… না… আমি… আমি ওদের দেখতে চাই না…!”
কিন্তু ঠিক তখনই জ্যাসপার এক ঝটকায় ফিওনার সামনে এসে দাঁড়ালো।
সে কোনো কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ফিওনাকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরলো। তার বুকের উষ্ণতা যেন মুহূর্তেই ফিওনার সমস্ত ভয় টেনে বের করে নিলো।
“শান্ত হও, হামিংবার্ড। আমি আছি তো! এবার কেউ তোমাকে স্পর্শও করতে পারবে না।”
তার গলায় এক অসম্ভব দৃঢ়তা, চোখে বরফের মতো তীব্র প্রতিশোধের আগুন।
সে ধীরে ধীরে ফিওনার কানে ফিসফিস করে বললো, “তবে ওরা যা করেছে, তার বিচার তো হবেই… তোমার চোখের সামনেই ওদের শাস্তি দিবো আমি !”
মধ্যরাত।

পুরনো কারখানার ভেতর ঝুলতে থাকা মরিচবাতিগুলো একের পর এক টিমটিম করে নিভে যাচ্ছে, যেন ভয় আর মৃত্যু তাদের আলো কেড়ে নিচ্ছে। বাতাস ভারী, ধোঁয়াশায় ঢাকা চারপাশ। পুরনো ইঞ্জিনের মরচে ধরা অংশ থেকে ধাতব গন্ধ ভেসে আসছে।
মেঝেতে শিকলে বাঁধা লুকিয়ান আর থালাস।
জ্যাসপার ধীর পায়ে এগিয়ে এলো। তার মুখের বাঁকা হাসি ঠোঁটের কোণে স্থির, কিন্তু চোখ… তার চোখে জ্বলছে ভয়ঙ্কর প্রতিশোধের অগ্নিশিখা।
ফিওনার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। সে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করছে, কিন্তু শক্ত করে বাঁধা লোহার চেয়ারের হাতল নড়বেও না!
“তুই আমার হামিংবার্ডের গায়ে হাত দিয়েছিস?”
জ্যাসপারের কণ্ঠ যেন বিদ্যুতের মতো শীতল!
সে ধীরে ধীরে তার হাতে থাকা ছোট কাঁচের বোতলটা তুললো— নিউরোফেরেম!
এটা এমন এক ক্যামিকেল, যা শরীরের মাংস এবং হাড় ধীরে ধীরে নরম করে ফেলে, ভেতর থেকে শরীরকে গলিয়ে দেয়!

লুকিয়ান যন্ত্রণায় ছটফট করছে, দয়া ভিক্ষা চাইছে, কিন্তু জ্যাসপার নির্বিকার।
‘শসসসস…’
ক্যামিকেলের প্রথম ফোঁটা লুকিয়ানের ডান হাতের পাঞ্জায় পড়লো।
“আআআআহহহহ!!”
গলিত চামড়া ফুটতে ফুটতে ঝরে পড়তে লাগলো! মাংসের নিচে থাকা শিরাগুলো কালচে হয়ে উঠছে, আর তার আর্তনাদে পুরো কারখানা প্রতিধ্বনিত হয়ে উঠলো!
জ্যাসপার অবিচল।
সে এবার ধাতব প্লাস হাতে তুলে নিলো।
‘চিড়িক!’
প্রথম নখটা এক ঝটকায় খুলে এলো, সাথে রক্ত ছিটকে পড়লো ফিওনার সাদা হাসপাতালের পোশাকে!
ফিওনা শ্বাস নিতে পারছে না! সে কাঁপছে, কিন্তু তার চিৎকার বের হচ্ছে না!
‘চিড়িক!’
দ্বিতীয় নখ তুলতে এক সেকেন্ডও লাগলো না!
লুকিয়ানের চিৎকার কেটে গেছে, তার কণ্ঠ ভাঙা…
জ্যাসপার ধীর কণ্ঠে ফিসফিস করে বললো— “এটা তো শুধু শুরু…”

সে এবার তার হাতের প্রথম আঙুল ধরে এক ঝটকায় ছিঁড়ে ফেললো!
‘কচকচ’ করে হাড় আলাদা হয়ে গেলো!
‘ধপ!’
রক্তাক্ত আঙুলটা মেঝেতে পড়লো!
‘ধপ!’
দ্বিতীয় আঙুলটা তুলে ছুড়ে দিলো দূরে!
‘ধপ!’
তৃতীয় আঙুল ছিঁড়তে গিয়ে জ্যাসপার একটু থামলো। যেন এই যন্ত্রণার মুহূর্তকে দীর্ঘায়িত করতে চাইছে…
“খুব দ্রুত শেষ করে ফেলছি মনে হচ্ছে… না, আরও একটু ধীরে ধীরে করতে হবে।”
ফিওনার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে! সে চোখ বন্ধ করতে চাইছে, কিন্তু পারে না।
লুকিয়ান নিথর হয়ে গেলো।
তার মুখ থেকে রক্তের ফোঁটা পড়ছে, নিঃসাড় শরীর ধপ করে পড়ে গেলো মেঝেতে।
কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়…
লুকিয়ানের পাশেই হাত-পা বাঁধা পড়ে আছে থালাস!
সে এই পুরো ঘটনা দেখেছে, তার মুখ থেকে রক্ত শুকিয়ে গেছে! সে কিছু বলতে পারছে না, পালানোর রাস্তা খুঁজছে…
কিন্তু জ্যাসপার ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসছে!

“তুই কি ভেবেছিস, আমি তোকে ছেড়ে দেব?”
তার ঠাণ্ডা কণ্ঠে ভয়ঙ্কর হাসি মিশে আছে।
থালাস কাঁপছে, তার চোখে ভয় জমে উঠছে!
গর্জন!!!
পুরো কারখানাটা কেঁপে উঠলো! বাতাস ভারী হয়ে গেলো!
হঠাৎ, জ্যাসপারের শরীরে পরিবর্তন আসতে শুরু করলো!
তার শরীরের চারপাশে অন্ধকার শক্তি ঘনীভূত হচ্ছে, তার চোখ ধীরে ধীরে রক্তলাল হয়ে উঠছে!
ফিওনার হৃদস্পন্দন থেমে যাওয়ার উপক্রম!
সে বিস্ময়ে ফিসফিস করে বললো—

“প্রিন্স…?”
কিন্তু এখন সে শুধু প্রিন্স নয়…
সে এক ভয়ঙ্কর আযদাহা!
পুরো কারখানাটা নিস্তব্ধ। শুধু লুকিয়ানের আর্তনাদ ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে, মৃত্যুর হাতছানিতে হার মানতে বাধ্য হচ্ছে।
জ্যাসপার এখনো দাঁড়িয়ে, তার মুখে কোনো অনুভূতির ছাপ নেই। বরং, তার চোখ আরও গাঢ় লাল হয়ে উঠেছে—এক ভয়াবহ তৃপ্তি যেন তার র*ক্তে মিশে গেছে!
সে ধীরে ধীরে লুকিয়ানের বাম হাত ধরে ফেললো।
ফিওনা কাঁদছে, কিন্তু তার কান্নার শব্দও যেন আটকে গেছে গলার ভেতর।
‘চিড়িক!’
প্রথম নখটা উঠে এলো!
লুকিয়ানের ঠোঁট ফাঁক হয়ে গেলো,কিন্তু এবার কোনো চিৎকার বের হলো না! শুধু নিঃশ্বাসের টান… হালকা একটা গুঁড়িয়ে যাওয়া শব্দ…
‘চিড়িক!’
দ্বিতীয় নখও একইভাবে তুলে ফেললো!
তার চোখ ফাঁকা হয়ে গেছে… সে বুঝতে পারছে, আজ সে আর বাঁচবে না।

‘চিড়িক!’
তৃতীয় নখ তুলতেই লুকিয়ানের শরীর কাঁপতে লাগলো। তার হাতগুলো আর শক্তি পাচ্ছে না, র*ক্তে ভিজে গেছে মেঝে…
এবার জ্যাসপার এক ঝটকায় তার বাম হাতের প্রথম আঙুল ধরে টান দিলো!
‘কচকচ!’
হাড় আলাদা হয়ে গেলো!
রক্তমাখা আ*ঙুলটা মেঝেতে পড়লো।
দ্বিতীয় আঙুলটাও ছিঁড়ে ফেললো!
তৃতীয় আঙুল ছিঁড়তে গিয়ে জ্যাসপার এবার থামলো না—সে ঠাণ্ডা স্বরে ফিসফিস করে বললো—
“তোর আর কোনো হাত লাগবে না, তাই না?”
‘কচকচ!!’
এক ঝটকায় পুরো বাম হাত ছিঁড়ে ফেললো!
লুকিয়ানের দেহ নিথর হয়ে গেলো!
কিন্তু এখনো প্রতিশোধ শেষ হয়নি… থালাস এখনো জীবিত!
সে নিঃশ্বাস নিতে পারছে না, তার মুখ শুকিয়ে গেছে।
জ্যাসপার ধীর পায়ে তার দিকে এগিয়ে গেলো।

“তোর পালা।”
থালাসের চোখ বিস্ফারিত! সে পাগলের মতো মাথা নাড়ছে, মুক্ত হতে চাইছে—
❝ প্লিজ! আমাকে ছেড়ে দাও! আমি মরতে চাই না! ❞
কিন্তু জ্যাসপার এবার কোনো কথা বললো না।
যেভাবে লুকিয়ানকে শেষ করলো, ঠিক সেভাবেই থালাসের হাতের নখ এক এক করে তুলে ফেললো, তারপর আঙুল, তারপর পুরো হাত ছিঁড়ে ফেললো!
র*ক্তে লাল হয়ে গেলো চারপাশ!
ফিওনার দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছে! সে আর দেখতে পারছে না, তার শরীর অবশ হয়ে গেছে!
এটাই কি জ্যাসপারের সত্যিকারের রূপ?
নাকি প্রতিশোধের আগুনে সে নিজেকেও হারিয়ে ফেলছে?
এই কি ফিওনার প্রিন্স? নাকি সে এখন নরকের রাজা?
চারপাশে শুধু র*ক্ত, আ*র্তনাদ, আর মৃ*ত্যুর ছায়া!
ফিওনার নিঃশ্বাস আটকে আসছে।
তার চোখের সামনে যা ঘটছে, তা এক বিভীষিকাময় দুঃস্বপ্নের চেয়েও ভয়ানক!
লুকিয়ান আর থালাসের শরীর ক্ষত-বিক্ষত, হাত নেই, র*ক্তে ভিজে গেছে মেঝে।
কিন্তু জ্যাসপার এখনো থামেনি…

সে ধীরে ধীরে কোমরের কাছে হাত নিয়ে একটা ছোট মেটাল এক্সট্রাক্টর বের করলো।
ফিওনার চোখ ছানাবড়া!
এটা তো… দাঁত তোলার যন্ত্র?!
জ্যাসপার লুকিয়ানের মুখের কাছে নিয়ে গেলো যন্ত্রটা, ঠোঁটের পাশে হাত দিয়ে মুখটা জোর করে খুলে ফেললো।
“এই দাঁত দিয়েই আমার হামিংবার্ডের শরীরে কামড় বসিয়েছিলি, তাই না?”
“তাইলে তোর এই বিষদাঁতগুলা রাখার দরকার নাই!
প্রথম দাঁতটা খুলে ফেললো!
লুকিয়ানের পুরো শরীর ধাক্কা খেলো! 😱
“আমার হামিংবার্ড কষ্ট পেয়েছিলো…তাই এখন তোকেও কষ্ট পেতে হবে! ”
এক এক করে সব বিষদাঁত তুলে আনলো জ্যাসপার!
ফিওনার গা শিউরে উঠছে, তার চোখ ফেটে কান্না আসছে—
“প্লিজ, প্লিজ, এসব বন্ধ করুন! ”
কিন্তু জ্যাসপার শুনছে না…
এবার সে থালাসের দিকে এগিয়ে গেলো।
ঠিক একইভাবে থালাসের মুখ খুলে, একে একে সব দাঁত তুলে আনলো!

“হামিংবার্ড, এখন এরা আর কাউকে কামড়াতে পারবে না।”
ফিওনার চোখে অন্ধকার নামছে…
চারপাশ নিস্তব্ধ। শুধু ফিওনার কাঁপা কাঁপা নিঃশ্বাস শোনা যাচ্ছে।
জ্যাসপার ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করলো…
সে কল্পনা করলো—
” এরপর কি? ”
“এরা কি ফিওনার চুলে হাত দিয়েছিল? ”
“তাহলে, ওদের শাস্তিও ঠিক তেমনই হবে! ”
সে গভীর শ্বাস নিলো, তারপর হঠাৎ লুকিয়ানের কাছে ঝুঁকে পড়লো!
লুকিয়ানের চুল শক্ত করে ধরলো সে!
” তুই আমার হামিংবার্ডের চুল স্পর্শ করেছিলি, তাই না?”
লুকিয়ানের চোখ ফেটে কান্না চলে এলো!
জ্যাসপার এক ঝটকায় তার চুল টেনে তুললো—
চামড়াসহ উঠে এলো মাথার একাংশ!
লুকিয়ান মাটিতে লুটিয়ে পড়লো, যন্ত্রণায় ছটফট করতে লাগলো!
ফিওনার চোখ বিস্ফারিত!
❝ নাহহহ!! প্লিজ, স্টপ ইট! ❞
কিন্তু জ্যাসপার থামেনি…
একইভাবে থালাসের দিকে তাকালো…
❝ তুইও? তুইও কি স্পর্শ করেছিলি? ❞
একইভাবে থালাসের মাথার চুলও খুলে ফেললো সে!
রক্ত ঝরছে…
জ্যাসপার চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নিলো।
ফিওনা বুঝতে পারছে না, সে কি দুঃস্বপ্ন দেখছে, নাকি বাস্তবেই জ্যাসপার র*ক্তপিপাসু এক দানব হয়ে গেছে!

কারখানাটি নিরব, এক নিঃশ্বাসে থেমে গিয়েছিল। রক্তের ছোট ছোট ছিটে মেঝেতে ছড়িয়ে ছিল, লুকিয়ানের দেহ নিস্তেজ হয়ে পড়ে ছিল। অথচ, তার মৃ*ত্যু এখনো শেষ হয়নি।
জ্যাসপার, অদৃশ্য এক আযদাহার মতো, ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিল। তার হাতে ছিল একটি তীক্ষ্ণ মেডিকেল যন্ত্র, একটি ছোট স্কালপেল যা চোখের পপিলাকে নিখুঁতভাবে বের করার জন্য প্রস্তুত। তার দৃষ্টি কড়া, একটুও নরম ছিল না। প্রতিশোধের আগুন তার চোখে জ্বলছিল, সে জানত তার কাজটা ঠিক করতে হবে।
‘এখন তোর চোখদুটো তার প্রাপ্য শাস্তি পাবে’ — জ্যাসপার শীতল, পৈশাচিক হাসি দিয়ে বলল, ধীরে ধীরে তার হাত স্কালপেলটির দিকে এগিয়ে নিচ্ছিল।
লুকিয়ানের শরীর কাঁপছিল, তবে তার শক্তি প্রায় নিঃশেষিত। সে কোনো প্রতিরোধ করতে পারছিল না, কারণ তার শরীর এতটাই ক্ষত-বিক্ষত ছিল যে, তার সমস্ত শক্তি চলে গিয়েছিল।

‘শক!’ প্রথম চোখটির পপিলার দিকে স্কালপেলটি সরিয়ে ফেলল জ্যাসপার,আর চোখের চারপাশের মাংস কেটে একে একে বাইরে তুলতে শুরু করল। লুকিয়ানের মুখে নিঃশব্দ আর্তনাদ।
‘শপ!’ দ্বিতীয় চোখটি ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া হলো। প্রথমটি বের হয়ে যাওয়ার পর, দ্বিতীয়টির জন্য আরো শক্তি প্রয়োজন ছিল, তবে জ্যাসপার একে একে শেষ করল।
এখন দুই চোখ হাতের মধ্যে, জ্যাসপার দাঁড়িয়ে ছিল, তার চোখে আগুনের ঝলক।
“এই চোখ দিয়ে আমার ভালোবাসার দেহের দিকে নোংরা দৃষ্টি দিয়েছিলি,তাই না?’ — তার কণ্ঠে গম্ভীর আঘাত, ঠাণ্ডা সুরে।
তারপর, একে একে, তার হাতের যন্ত্রটি স্লো-মো সময়ের মতো ধীরে ধীরে নড়াচড়া করতে লাগল। লুকিয়ানের চোখগুলো লুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তার শরীরে একধরনের অদৃশ্য ব্যথা ফুটে উঠেছিল।
জ্যাসপার তাদের চোখ দুটো হাতে তুলে নিয়ে ধীরে ধীরে থালাসের দিকে হাঁটতে শুরু করল। থালাস সরে যেতে চাইল, কিন্তু তার শরীরেও শক্তি নেই।

‘এখন,তোর পালা।’ — জ্যাসপার থালাসের দিকে এগিয়ে এসে বলল। তার চোখে ছিল এক অদৃশ্য আতঙ্ক, আর হাতের মধ্যে ছিল সেই একই তীক্ষ্ণ যন্ত্র।
জ্যাসপার আবার বলল, ‘এবার তোর চোখও আমি তুলে নিবো।
থালাস আরো কাঁপতে শুরু করল, তার দেহ অস্থির হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সে জানত, কিছুই পালানো সম্ভব ছিল না।
তাদের দুজনের চোখ তুলে নিয়ে জ্যাসপার সেগুলো ধীরে ধীরে ফিওনার সামনে দরেখে বলল, ‘এই পাপি চোখগুলো যেটা দিয়ে তারা তোমার শরীরের দিকে বাজে দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলো।এখন,আমি তাদের চোখ তোমার সামনে তুলে এনেছি!’

ফিওনার চোখে ছিল অন্ধকার ভয়।সে আর নিতে পারছিলো না মনে হচ্ছে এখনি সে মুর্ছা যাবে।
অন্ধকার কক্ষে, ব্যান্ড-শ মেশিনটি দাঁড়িয়ে ছিল,তার জ্বলন্ত শীতল ইস্পাতের দেহ দিয়ে এক অসীম ভয় ছড়াচ্ছিল। ধাতু গুলি এক ভয়ানক শীতলতা আর তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে যাচ্ছিল। এই মেশিনটি ছিল এমন এক অপ্রাকৃত শক্তির আধার, যা মানুষের শরীরকে নিমিষেই টুকরো টুকরো করে ফেলতে পারে।
কারখানার ভেতর থমথমে নীরবতা। চারপাশের বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে তীব্র ধাতব গন্ধ, রক্তের মিশ্রিত উষ্ণতা। ফ্লোরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা রক্তের ছোপ, ভাঙাচোরা যন্ত্রপাতির মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে জ্যাসপার—তার মুখে কোনো ভাবান্তর নেই, কিন্তু তার চোখের গভীরে এক অগ্নিশিখা জ্বলছে।
লুকিয়ান আর থালাস ধপধপে সাদা মুখে কাঁপছে। প্রচণ্ড ব্যথা আর রক্তক্ষরণের মধ্যেও তাদের শরীরে এখনও কিছুটা প্রাণ আছে। কিন্তু জ্যাসপার জানে, ওদের শাস্তি এখনো শেষ হয়নি।
সে এক ঝটকায় লুকিয়ানকে চুল ধরে টেনে তোলে, তারপর থালাসকে এক লাথিতে ছিটকে ফেলে দেয় মেঝেতে। তাদের অসহায় গোঙানি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু জ্যাসপার কোনো করুণা দেখায় না।
সে এক ধাক্কায় তাদের ব্যান্ড স মেশিনের দিকে টেনে নিয়ে যায়। মেশিনটা এখনো শান্ত, কিন্তু তার সুনিপুণ ইস্পাতের ব্লেডগুলো অপেক্ষা করছে, যেন ক্ষুধার্ত শিকারির মতো নিশ্ছিদ্রভাবে সবকিছু দু’টুকরো করে দিতে প্রস্তুত।

‘ভেবেছিলি, আমার ভালঝবাসার শরীর ক্ষতবিক্ষত করে বেঁচে যাবি তো্রা?’ জ্যাসপারের গলা ঠান্ডা বরফের মতো, কিন্তু তার চোখের আগুন উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছে।
সে লুকিয়ানকে প্রথমে ঠেলে ফেলে দেয় মেশিনের ওপর, তারপর থালাসকে ঠিক তার পাশে জোর করে চেপে রাখে। লোহার বাঁধনদুটো তাদের শরীর শক্ত করে চেপে ধরে, যেন তারা এক ইঞ্চিও নড়তে না পারে।
তারপর…
মেশিন চালু হয়।
এক মুহূর্তের নীরবতা। তারপর প্রচণ্ড বিকট শব্দ।

ইস্পাতের ব্লেড দ্রুত ঘুরতে শুরু করে। প্রথমে তাদের শরীরের কাপড় ছিঁড়ে যায়, তারপর চামড়া… তারপর মাংস!
এক হৃদয়বিদারক আর্তনাদ বাতাস কাঁপিয়ে দেয়, কিন্তু তাতে কিছুই পরিবর্তন হয় না। ব্লেডগুলো তাদের হাড়ের গভীরে প্রবেশ করে, রক্ত ছিটকে বেরিয়ে আসে।
চকচকে ইস্পাতের ব্লেড তীক্ষ্ণ গতিতে তাদের দেহ কেটে ফেলতে থাকে।
শরীরের একের পর এক অংশ বিচ্ছিন্ন হতে থাকে। প্রথমে হাত, তারপর বুকের মাঝখান দিয়ে এক নিখুঁত বিভাজন!
ঝপ ঝপ করে শক্ত মাংস ছিটকে পড়ে চারপাশে।
গাঢ় লাল, উষ্ণ রক্ত বৃষ্টির মতো ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। জ্যাসপার তার মুখে অনুভব করে সেই উষ্ণতা—তার ঠোঁট, গাল, চোখ—সব ভিজে যায় সেই লাল রক্তে।
ফিওনার দিকেও ছিটকে আসে সেই রক্ত!
তার চোখ বিস্ফারিত হয়ে যায়, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। এক মুহূর্তের জন্য সে স্থির বসে থাকে, তারপর…
তার শরীর ঢলে পড়ে ।

অচেতন হয়ে যায় ফিওনা, পুরো পরিবেশ নীরব হয়ে যায়।
চারপাশ নিস্তব্ধ। যেন সময় থমকে গেছে। শুধু রক্তের গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে আছে, কালো ধোঁয়ার মতো ভারী হয়ে।
জ্যাসপার ধীরে ধীরে ফিওনার দিকে এগিয়ে গেল। তার গায়ের রক্ত এখনও শুকায়নি, তীক্ষ্ণ নখের মাঝে আটকে থাকা লুকিয়ান আর থালাসের মাংসের টুকরোগুলো সেই বিভীষিকার সাক্ষ্য বহন করছিল। ফিওনা নিথর হয়ে পড়ে আছে মাটিতে, চোখ বন্ধ, নিঃশ্বাস ধীর।
সে কিছুক্ষণ ফিওনার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকল। ক্লান্ত, অবশ লাগছিল, কিন্তু ভেতরের অগ্নিশিখা এক বিন্দুও কমেনি।

তারপর, সে পকেট থেকে একটি ছোট রিমোট বের করল। এক চাপ দিতেই কারখানার ভেতর এক গর্জন ওঠে। গা ছমছমে অন্ধকারের ভেতর থেকে বিশাল সব ছায়ামূর্তি বেরিয়ে আসতে শুরু করল।
এগুলো সাধারণ কোনো প্রাণী নয়—এগুলো ছিল মাংসখেকো জানোয়ার, বিশাল আকৃতির কালো কুকুরের মতো ভয়ংকর শিকারী। চোখগুলো জ্বলজ্বল করছে অন্ধকারে, দাঁতগুলো র*ক্তপিপাসায় চকচক করছে।
তারা কোনো অপেক্ষা করল না। পি*শাচের মতো ছুটে গিয়ে ছিন্নভিন্ন দেহের মাংস কা*মড়ে ধরে টানতে লাগল। চর্বণের বিকট শব্দ প্রতিধ্বনিত হলো কারখানার চারপাশে। ভাঙাচোরা লোহার মেঝেতে রক্ত গড়িয়ে পড়তে লাগল।
জ্যাসপার একবারও পেছনে তাকাল না।
সে ধীর পায়ে ঝুঁকে ফিওনাকে কোলে তুলে নিল। রক্তাক্ত হাতের ছোঁয়ায় ফিওনার শরীরের সঙ্গে লেগে গেল সেই উষ্ণ, আঠালো তরল।
তারপর, এক শক্ত পদক্ষেপে কারখানা থেকে বেরিয়ে এলো।
পেছনে শুধু রইল মৃত্যুর বিভীষিকা, রক্তের গন্ধ, আর সেই ভয়াল জানোয়ারগুলোর বিকট চিবানোর আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হলো।

জ্যাসপার দৃঢ় পায়ে কারখানা থেকে বেরিয়ে আসে, তার শক্ত বাহুতে নিস্তেজ ফিওনা। বাতাসে এখনো রক্তের গন্ধ ভাসছে, পেছনে পড়ে আছে এক বিভীষিকাময় দৃশ্য—ছি*ন্নভিন্ন দেহ, ছড়িয়ে থাকা মাং*সের টুকরো, আর ভয়ঙ্কর জানো*য়ারদের ক্ষু*ধার্ত গর্জন।
কিন্তু জ্যাসপার আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়ায় নি।
গাঢ় রাতের নিস্তব্ধতায় তার দীর্ঘ ছায়া প্রসারিত হয়, চোখেমুখে এখনো রক্তের দাগ, পোশাকে শুকিয়ে আসা লালচে ছোপ।
সে ফিওনার দিকে একবার তাকায়—মেয়েটা এখনো অচেতন। হয়তো ধাক্কাটা তার সহ্য হয়নি, হয়তো এত বিভীষিকা দেখার জন্য সে প্রস্তুত ছিল না।
এক গভীর শ্বাস নিয়ে সে পা বাড়ায়।
নির্জন পাহাড়ের চূড়ায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা অরুণমণি প্রসাদ, যেখানে কেবল অন্ধকারে ঢাকা রহস্য বাস করে। এটি কোনো সাধারণ জায়গা নয়—এটি ছিল একান্তেই জ্যাসপারের নিজের নির্মিত এক দুর্গ, যেখানে পৃথিবীর কেউ পৌঁছাতে পারবে না।

প্রাসাদের দেয়ালজুড়ে কালো পাথরের কারুকাজ, তার মাঝে ছড়িয়ে আছে সোনালি আভা, যা অন্ধকারে দপদপ করে জ্বলছে। ভিতরে ঢুকতেই বিশাল হলঘরের মাঝখানে ঝুলন্ত প্রদীপগুলোর অস্পষ্ট আলো পড়লো, তার প্রতিটা কোণ জুড়ে আছে নীরবতা।
জ্যাসপার ফিওনাকে নিয়ে সোজা উঠে গেল উপরের কক্ষে।
কক্ষটি বড়,মখমলের পর্দা টানা জানালার পাশেই এক প্রশস্ত শয্যা।
সে আলতো করে ফিওনাকে বিছানায় শুইয়ে দেয়।
তারপর একপাশে দাঁড়িয়ে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার মুখের দিকে। এই মুখ, যা কিছুক্ষণ আগেই নিস্পাপ ছিল, এখন আতঙ্কে ভরা। এই চোখ, যা কেবল রঙ আর সৌন্দর্য খুঁজতো, এখন শুধুই অন্ধকার দেখেছে।
সে ধীরে ধীরে সামনে ঝুঁকে ফিসফিস করে বলে, “তুমি এখন আমার রাজ্যে, হামিংবার্ড। এখানে তোমাকে কেউ কষ্ট দিতে পারবে না… আর আমিও তোমাকে আর আমার কাছ থেকে দূরে যেতে দেবোনা।”

সিলভা আর তার বান্ধবীরা একাডেমির বিশাল করিডোরের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল,একেকজনের হাতে আজকের প্র্যাকটিক্যাল রিপোর্ট জমা দেওয়ার রসিদ। বাতাসে বিকেলের নরম রোদ মিশে গেছে, তবে সিলভার মন এখনো ভারী।
সে বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে ধীরে বলল, “আমি সত্যিই দুঃখিত, সেদিন যা হয়েছিল… আমি ভাবিনি ব্যাপারটা এমন হবে তোরা থাকতে পারলিনা বেশিক্ষন।”
ক্যালিক্স হাসিমুখে মাথা নেড়ে বলল, “আরে, এ নিয়ে আর ভেবো না। এটাতে তোমার কোনো দোষ নেই।”
কিন্তু ঠিক তখনই, বাতাস মুহূর্তের জন্য থমকে গেল।
“কি ব্যাপার? আমাকে নিয়েই কথা হচ্ছিল, তাই না?”
গভীর, মসৃণ এক কণ্ঠ ভেসে এলো।
সবাই ঘুরে তাকাতেই দেখল এথিরিয়ন সামনে এসে দাঁড়িয়ে আছে, তার চোখে এক ধরনের আত্মবিশ্বাসী ঝলক। কালোর মধ্যে আকাশী রঙের লেয়ার চুল এলোমেলো, কিন্তু তার শার্টের বোতাম খোলা,মনে হলো কোনো তাড়াহুড়োর মধ্যে এসেছে।
সিলভা কিছু বলার আগেই এথিরিয়ন তার হাত দৃঢ়ভাবে ধরে টেনে নিল।

“চলো!”
“রিয়ন, ছাড়ো!” সিলভা হাত ছুটিয়ে নিতে চেষ্টা করল, কিন্তু এথিরিয়ন একটুও ছাড়ল না।
তার বান্ধবীরা আর ক্যালিক্স হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইল, চোখেমুখে বিস্ময়।
হঠাৎ এথিরিয়ন দূর থেকে প্রিন্সিপালের ছায়া দেখতে পেল।
“শব্দ কোরো না,” ফিসফিস করে বলেই সিলভাকে টেনে লাইব্রেরির দরজার দিকে এগিয়ে গেল সে।
লাইব্রেরির ভেতরে ঢুকে দরজা আস্তে করে বন্ধ করল। বাইরে থেকে নিশ্চুপ করিডোরে প্রিন্সিপালের পায়ের শব্দ ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।
এথিরিয়ন গভীর শ্বাস নিল, তারপর সিলভার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল, “এখন বলো, তুমি কি আমাকে এড়িয়ে যাচ্ছিলে?”
সিলভা বিরক্ত মুখে বলল, “তুমি সবসময় এত নাটক কর কেন?”
এথিরিয়ন একটু ঝুঁকে বলল, “কারণ তুমি আমার নাটকের প্রধান চরিত্র, প্রিন্সেস।”
সিলভা চোখ ঘুরিয়ে বলল, “তুমি অসহ্য!”
লাইব্রেরির আলোয় দুজনের চোখের ভাষা কেমন যেন বদলে গেল।
হঠাৎ করিডোরে কিছু শিক্ষার্থীর কণ্ঠস্বর ভেসে এলো।
“আসলে ওই বইটা লাইব্রেরির সেলফেই আছে!”
“ঠিক আছে, চলো দেখে আসি।”
কথাগুলো শুনে এথিরিয়ন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিল।
এক মুহূর্তও দেরি না করে, সে লাইব্রেরির দরজা খুলে সিলভাকে টেনে লাইব্রেরির শেষের দিকের বইয়ের সেলফের আড়ালে নিয়ে গেল।

“সাউন্ড করো না,” ফিসফিস করল সে।
সিলভা বুঝতে পারছিল না, এরকম অবস্থায় কী করা উচিত। তার দেহ এথিরিয়নের এতটাই কাছে এসে পড়েছে যে তার হৃদস্পন্দন নিজেই যেন কানে কানে বলে দিচ্ছে, “আমি অস্থির!”
এথিরিয়ন একটু উঁচু হয়ে উঁকি দিল। তার চোখ ধীরেধীরে সেই স্টুডেন্টদেরকে পর্যবেক্ষণ করছিল,বাইরের পরিস্থিতি বুঝতে লাগল।
“কেউ এদিকে আসছেনা বাঁচা গেলো,” সে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
কিন্তু সেই মুহূর্তে সিলভা টের পেল তার অবস্থান কতটা বিপজ্জনক!
এথিরিয়নের শ্বাস তার মুখের কাছে স্পষ্ট অনুভূত হচ্ছিল। তার ঠোঁট একদম কাছাকাছি, আর…
সে নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরেছে।
সিলভা চুপচাপ এথিরিয়নের দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর একটা গভীর ঢোক গিলল।
তার দম আটকে আসছিল।
এথিরিয়ন এবার সরাসরি তার দিকে তাকাল।
সেই চোখে ছিল একটা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি,মনে হচ্ছে সে সিলভার প্রতিটি প্রতিক্রিয়া ধরে ফেলছে।
সিলভা দ্রুত চোখ নামিয়ে নিল, কিন্তু তার মুখের উত্তাপ যেন লুকানোই যাচ্ছে না!
এথিরিয়ন মুচকি হেসে বলল, “তুমি কি এতক্ষণ আমাকে দেখছিলে তাইনা।”
সিলভা গম্ভীর মুখে বলল, “মোটেও না!”
“ওহ, সত্যিই?”
এথিরিয়ন একটু ঝুঁকে এলো, তার কণ্ঠ আরও নিচু হয়ে গেল, “তাহলে এখনই পালাতে পারো, কেউ আটকাচ্ছে না…”

সিলভা আতঙ্কে চেঁচিয়ে উঠতে যাচ্ছিল, কিন্তু এথিরিয়ন বিদ্যুৎগতিতে তার ঠোঁটে আঙুল রেখে চুপ করিয়ে দিল।
তার আঙুলের উষ্ণ স্পর্শে সিলভার দেহ মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল।
এথিরিয়ন গভীর দৃষ্টিতে ওর চোখের দিকে তাকাল। তার চোখে এক অদ্ভুত আবেশ, এক অজানা আকর্ষণ খেলা করছিল। সিলভা অনুভব করল, তার হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক ছন্দ হারাচ্ছে।
এথিরিয়নের চোখে ঝলসে উঠল এক ছায়ামাখা হাসি। সে ধীরে ধীরে নিজের মুখ এগিয়ে আনল—সিলভার ঠোঁটের দিকে।
মাত্র এক ইঞ্চি দূরত্ব!
শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্ত।
সিলভা বুঝতে পারল, এখন ধরা দেওয়া চলবে না!
ঠিক তখনই, সে নিজের হিল জুতা দিয়ে এথিরিয়নের পায়ের ওপর এক জোরালো আঘাত করল!
“আউচ!”
এথিরিয়ন ব্যথায় এক মুহূর্তের জন্য পিছিয়ে গেল।
সেই সুযোগে সিলভা দ্রুত ছিটকে বেরিয়ে গেল লাইব্রেরির গাঢ় ছায়া থেকে।
এথিরিয়ন ব্যথার মধ্যেই নিচু স্বরে বলল, “এটার জন্য তোমাকে আমি দেখে নেব, সিলভা!”
তার কণ্ঠে গভীর রাগ আর উত্তেজনা।

ফিওনার মাথা ভারী লাগছিল। ভোরের আবছা আলো চোখে এসে লাগতেই সে ধীরে ধীরে চোখ খুলল। চারপাশটা ঝাপসা লাগছিল, সবকিছু এক দুঃস্বপ্নের অংশ মনে হচ্ছে।
তারপরই হঠাৎ বুঝতে পাড়লো—এটা তো অরুণমণি প্রাসাদ!
সে হতভম্ব হয়ে চারপাশে তাকাল। নরম বিছানা, ভারী পর্দা, মৃদু সুবাসিত বাতাস—এখানে আসার কথা তো তার মনে নেই!
তড়িঘড়ি করে পাশে তাকাতেই দেখল জ্যাসপার মেঝেতে বসে আছে, মাথা বিছানার কিনারায় ঠেকিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।
কিন্তু ফিওনার চোখ আটকে গেল তার রক্তমাখা জামার ওপর!
জ্যাসপারের সাদা শার্টের বিভিন্ন জায়গায় শুকিয়ে যাওয়া গাঢ় লাল দাগ। স্মৃতি বিদ্যুৎগতিতে ফিরে এলো—সেই র*ক্ত, সেই বিভীষিকা, সেই নিষ্ঠুরতা!
তার দেহ কেঁপে উঠল। সে আতঙ্কে বিছানার এক কোণে সরে গেল, নিজেকে যতটা সম্ভব গুটিয়ে নিল।
ঠিক তখনই জ্যাসপার চোখ খুলল।
“অবশেষে জ্ঞান ফিরেছে তোমার,” কণ্ঠে প্রশান্তি।
ফিওনা ভয়ে চুপচাপ তাকিয়ে রইল, তার চোখে অবিশ্বাস আর আতঙ্কের ছায়া।
জ্যাসপার ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে এলো।
“চলো, শাওয়ার নিতে হবে,” স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল সে, যেন কিছুই হয়নি।
কিন্তু ফিওনা কিছুতেই নড়তে চাইল না। তার পুরো শরীর যেন অসাড় হয়ে গেছে ভয় আর শঙ্কায়।
জ্যাসপার তখন বিরক্ত হল।

“নিজে যাবে, নাকি আমাকেই নিতে হবে?”
ফিওনা চোখ বন্ধ করে দ্রুত মাথা নাড়ল।
জ্যাসপার এক নিঃশ্বাসে উঠে দাঁড়াল।
পরের মুহূর্তেই সে ফিওনাকে কাঁধে তুলে নিল!
“ছাড়ুন আমাকে!”
ফিওনা হাত-পা ছুঁড়তে লাগল, কিন্তু জ্যাসপারের শক্ত বাঁধনে সে বন্দী।
সে তীব্র প্রতিবাদ করলেও জ্যাসপার স্থির পায়ে তাকে বাথটাবের দিকে নিয়ে গেল…
ফিওনার মনে হচ্ছিল, সে ভুল দেখছে।
এই জায়গাটা অরুণমণি প্রাসাদের কোনো সাধারণ স্নানঘর নয়। এটা যেন এক নিষ্ঠুর গবেষণাগার।
চারপাশে শীতল ধাতব দেওয়াল, আলোর নীচে চকচক করছে কয়েকটি স্টিলের সরঞ্জাম।আর এই বাথটাব—যেটা সে আগে কখনো দেখেনি।
জ্যাসপার নিঃশব্দে তাকে সেই ঠান্ডা, ধাতব খালি বাথটাবে বসিয়ে দিল।
ফিওনা তখনো ঠিক বুঝে উঠতে পারেনি কী ঘটতে চলেছে। কিন্তু পরক্ষণেই সে অনুভব করল—তার হাত পা শক্ত দড়িতে বাঁধা হয়ে গেছে!
“আপনি আমার হাত-পা বাঁধছেন কেন? কী করতে চাইছেন?”
কণ্ঠে ভয় আর হতাশা মিশে গেল।
জ্যাসপার ঠান্ডা গলায় বলল, “তোমার গায়ে এখনো ওদের নোংরা স্পর্শ রয়ে গেছে। সেটা মুছতে হবে।”
ফিওনার পুরো শরীর শিউরে উঠল।

পরের মুহূর্তেই জ্যাসপার কল ছেড়ে দিল।
কিন্তু পানি নয়—বরং একধরনের অস্বাভাবিক, বর্ণহীন তরল ধীরে ধীরে নামতে লাগল বাথটাবে।
ফিওনা প্রথমে বুঝতে পারেনি, কিন্তু পরক্ষণেই অনুভব করল—সে আগুনে পুড়ছে!
“উফফ… আহহহ!!”
ব্যথায় তার গোঙানি বেরিয়ে এলো।
তরলটা তার চামড়ার সঙ্গে মিশতে না মিশতেই তীব্র দহন শুরু হলো,মনে হচ্ছে তার পুরো দেহ পুড়ে যাচ্ছে!
“আপনি কি করছেন?! এটা কী হচ্ছে?!”
ফিওনা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, দড়ির বাঁধনে ছটফট করছে।
জ্যাসপার ঠান্ডা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, “একদিন তুমি প্রশ্ন করেছিলে—কেউ যদি তোমার পুরো শরীরে স্পর্শ করে, আমি কী করব?”
ফিওনার শ্বাস আটকে গেল।
“সেদিন আমি বলেছিলাম—যে স্পর্শ করবে, তাকে এই মহাবিশ্ব থেকে মুছে ফেলব। আর তোমাকে চুবিয়ে রাখব পুরো NTC-7 ক্যামিকেলের মধ্যে।”
ফিওনার চোখ বিস্ফোরিত হয়ে গেল!

আযদাহা সিজন ২ পর্ব ২৪ 

NTC-7!
এটা সাধারণ কোনো তরল নয়—এটা বিশুদ্ধীকরণের জন্য তৈরি এক ভয়ানক রাসায়নিক, যা জীবিত দেহের সংস্পর্শের সঙ্গে সঙ্গে চামড়া পুড়িয়ে দেয়!
“না! থামুন! প্লিজ, থামুন!”
ফিওনার পুরো শরীর লাল হয়ে যাচ্ছে, তার চামড়ার স্তর উঠে আসছে!
যন্ত্রণা এত তীব্র যে তার দৃষ্টিও ঝাপসা হয়ে আসছে।
জ্যাসপার নীরবে তাকিয়ে রইল।
তার চোখে কোনো সহানুভূতি নেই—শুধু এক ধরণের ঠান্ডা সংকল্প।
“ওদের ছোঁয়া মুছে ফেলতে হবে, হামিংবার্ড,” সে ধীর কণ্ঠে বলল। “তোমাকে পবিত্র করতে হবে।”

আযদাহা সিজন ২ পর্ব ২৬