Home আসবো ফিরে আবারো আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১০ (২)

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১০ (২)

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১০ (২)
সুরভী আক্তার

সিরাতের ঘরের ব্যালকনিতে বুকে আড়াআড়ি হাত ঠেসে দাঁড়িয়ে আছে রৌদ্র । চোখে মুখে স্পষ্ট বিরক্তি । কপালে বিতৃষ্ণ ভাঁজ । কোনোরূপ কথা না বলে সিরাত ওকে টেনে হিড়হিড়িয়ে নিজের ঘরে নিয়ে আসলো । বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা ছিলো না রৌদ্রের ।
ওকে বারান্দায় দাঁড় করিয়ে রেখে এই মেয়ে এখন উধাও । বলে তো গেলো এক পা ও না নড়তে । কথা অনুযায়ী নড়ে নি রৌদ্র । বিরক্তি সমেত দাঁড়িয়ে আছে । মিনিট পাঁচেক বাদ সিরাত আসলো । নিচের গিয়েছিলো আহিয়ান কে অফিসের জন্য বিদায় দিতে । রামিশা কে খাইয়ে রুবিনা কাবিরের কাছে দিয়ে ফ্রি হয়ে আসলো সে ।
ঘর পেরিয়ে বারান্দায় গিয়ে রৌদ্র কে দেখে হন্তদন্ত হয়ে ডাকলো ,,,

” রৌদ্র , আছিস ? আমি ভেবেছিলাম চলে যাবি ?
বিরক্তির মাত্রা বাড়ে রৌদ্রের । চলে যাবে মানে ? এ কেমন ঠেস দেওয়া কথা ? বিরক্তি গিলে গমগমে স্বরে বললো…
” এখানে কেনো ডাকলে সেটা বলো । বেরোবো আমি । এখানে থাকার সময় নেই ।
” সময় নেই কেনো ? কোথায় বেরোবি ? কি কাজ তোর বাইরে ? সারাটা দিন বাইরে কি করিস তুই ?
রৌদ্র খানিক জড়িয়ে এলো । কন্ঠ নুইয়ে বললো….
” কাজ আছে ! কি বলবে তাই বলো ।
” তোকে দেখে অবাক হচ্ছি ।
” কেনো ?
” অবাক না হওয়ার তো কোনো কারণ নেই । শুধু আমি কেনো , বাড়ির সবাই স্তম্ভিত হচ্ছে তোর বিহেভিয়ারে । কেউ প্রকাশ করছে না দেখে সবটা নরমাল আছে এখনো অবধি । তোর কি হয়েছে বলতো ?

” কি আবার হবে ?
” সেদিন মেঘা কে মারলি কেনো ?
” অলরেডি এর জবাব দিয়েছি । আর দিতে পারবো না ।
” আর আজ ? আজ মেঘা কে কিসব বললি তুই ? আমি কিন্তু শুনেছি !
” কি বলেছি ?
” মনে কর ।
” ভুলে গেছি !
” মুখে বলে মনে করাতে পারবো না । বড় বোন আমি তোর ।
” তাহলে বড় বোন হয়ে এসবে ইন্টারফেয়ার করছো কেনো ? হ্যাভ ইউ নো শেম ?
” রৌদ্র !!
” বলো ?

সিরাত খানিক থমকে রইলো । কি গা ছাড়া ছেলেরে বাবা ! না জবাবে গুরুত্ব আছে, আর না লজ্জা । উল্টে ওকেই জিজ্ঞেস করছে সিরাতের লজ্জা আছে না নেই ! শ্বাস ফেললো সিরাত । গলা ভার করে বললো….
” এতো বছর পর ফিরে এসে বউয়ের প্রতি টান অনুভব করছিস ?
তৎক্ষণাৎ ছলকানো দৃষ্টিতে রৌদ্র তাকায় সিরাতের দিকে । দুই ভাই বোনের চোখাচোখি হয় । রৌদ্র তেঁতে বলে…
” হু দ্যা হেল ইজ দ্যা ওয়াইফ ?
” মেঘা ।
রৌদ্র চোখ সরায় । রেগে বলে…..
” আমাকে রাগিও না আপু ।
ঐ ইডিয়ট টা আমার বউ ? হুহহহ , হোয়াট এ জোকস ! আই ডোন্ট কনসিডার হার , এ্যাজ মাই ওয়াইফ । সি ইজ জাস্ট এ্যা ফল্ট অফ মাইন ।
” সিরিয়াসলি ? ও শুধুই তোর মিস্টেক ?
” ইয়াহ , নাথিং বাট এ্যা মিস্টেক !
” ভেবে বলছিস ?
” একদম ?

সিরাত ভ্রু উঁচায় । শব্দ করে শ্বাস ফেলে ! রৌদ্রের ডান বাহুতে চাপড় মারার ভঙ্গিতে বলে….
” গুড ‌! যদি এটাই হয়ে থাকে , যদি ও শুধুই তোর ফল্ট হয়ে থাকে , যদি ওকে তুই সত্যিই বউ না মেনে থাকিস , তাহলে এটা পরবর্তীর জন্য ভালোই হবে । পরবর্তীতে এই নিয়ে ঝামেলা হবে না আর । মেঘা ওর পথে এগোতে পারবে । নিজের মতো করে ওর জীবন টা সাজাতে পারবে কারোর সাথে ।
এটা ওর জন্যই ভালো হবে বুঝেছিস । আব্বু তো বলছিলো , যদি বিয়ে হয়েই থাকে তাহলে ডিভোর্স হবে । বেকার বেকার অন্যের বউয়ের তকমা লাগবে কেনো মেয়েটার শরীরে ? তোর সাথে ডিভোর্স না হলে তো ,ও আর কাউকে বিয়েও করতে পারবে না । তুই বরং এবার দেশে ফিরে এসে একটা সুযোগ করে দিয়েছিস । এবার আইনি ভাবে তোদের ডিভোর্স টা দিতে হবে । যদিও তোদের এই চাপা বিয়ের ব্যাপারে তেমন কেউ জানে না । এতে ডিভোর্স করানোতে সুবিধাই হবে । ঝামেলা পোহাতে হবে না বেশি । তুই তো ফিরবি আবার ? কি রে , সত্যিই ফিরবি ? তুই তো বেপরোয়া , কারোর কথা শুনিস না , কারোর ধার ধারিস না । ফিরতেও পারিস । তবে হ্যাঁ , ফেরার আগে ডিভোর্স পেপারে সাইন টা করে দিয়ে যাস । নয়তো পরে , এক দেশ থেকে অন্য দেশে এসব পেপার পাঠানো জটিল ব্যাপার হয়ে যাবে ।

অতো জটিলতার চেয়ে এটাই ভালো হবে । যাওয়ার আগে ডিভোর্স পেপারে সাইন……
সিরাত আর কিছু বলতে পারে না । ওকে বলার সুযোগ দেয় না রৌদ্র । আর না শোনার প্রয়োজন বোধ করে । শেষে সিরাতের দিকে এক পলক রোষাবিষ্ট দৃষ্টিতে তাকিয়ে ফোঁস করে গজগজ পায়ে বারান্দা ত্যাগ করে সিরাত কে টপকে । সিরাত কথা শেষ না করেই ওকে যেতে দেখে পিছন থেকে ডাকলো….
” রৌদ্র , আরে শোন । আমার কথা এখনো শেষ হয়নি । যাওয়ার আগে ডিভোর্স…..
ব্যাস এটুকুই । এবারো শেষ করতে পারলো না কথা ।
বারান্দা পেরিয়ে ঘর , অতঃপর ঘর পেরিয়ে বাইরে বেরিয়ে ঠাস করে দরজাটায় সজোরে একটা লাথি বসালো রৌদ্র । বিকট শব্দে চোখ খিচে খানিক চমকে চুপসে গেলো সিরাত । কথা টুকু আর শেষ করতে পারলো না । হিসহিসিয়ে নিজের ঘরের দিকে এগোলো রৌদ্র । ও চলে যাওয়ার এক মুহুর্ত বাদ ফিক করে হেসে ওঠে সিরাত । দুদিকে ঘাড় ঝাঁকিয়ে বিড়বিড় করে কিছু একটা ।

সন্ধ্যা গড়িয়েছে । আজ ছাদে ওঠা হয় নি টুকটুকির বিরহে । বেচারি হাঁটতে পারছে না । সেই একই ভাবে শুয়ে বসে আছে ‌। খালি গিলছে সারাটা দিন । শুভ্র গাদা গাদা চকলেট , স্ন্যাকস এনে দিয়েছে । ভার্সিটি থেকে ফেরার পথে আদ্র ও নিয়ে এসেছিলো । সারাটা দিন এসবই গিলে গেছে শাফাহ্ । মুখ বন্ধ রাখে নি এক মুহুর্ত ।
এখনো বসে বসে গিলছে । হাতে বিগ সাইজের একটা ক্যাটবেরি । ওর যা পছন্দ এটা , বলে বোঝানো দায় । মেঘা কিছু না পেয়ে একখানা বই হাতে বসেছে । উপন্যাসের বই । অনেক বই সংগ্রহে আছে । তবে পড়া হয় না তেমন । যখন খুব বোর লাগে , কোন কিছু ভালো লাগে না , তখন মাঝে মাঝে একটা দুটো পৃষ্ঠা খুলে বসা হয় । চোখ বোলানো হয় পাতার ভাঁজে । এখনো তাই করছে মেঘা । বেড বরাবর সামনের সোফাটায় পা তুলে বসে শরীর একটু এলিয়ে দিয়েছে । চুল খোলা । ভেজা এখনো । সোফায় শরীর এলিয়ে দেওয়ায় মেঝেতে গড়াগড়ি খাচ্ছে দীপ্ত কেশরাশী । দীর্ঘক্ষণ পর পর পাতা উল্টাচ্ছে ধীর গতিতে ।
শাফাহ্ খেতে খেতে ওকে পরখ করেছে কয়েকবার । হাতের চকলেট টা প্রায় শেষ । আর দু বাইট নিলেই শেষ হয়ে যাবে । পাশে তাকালো , বিছানায় শুধুই রেপার গুলো পড়ে আছে অবহেলিতের ন্যায় । কতগুলো চকলেট নিয়ে বসেছিলো । সব শেষ ! এতো তাড়াতাড়ি ?
চকলেটে আরেক কামড় বসিয়ে ডাকলো শাফাহ্….

” মেঘা , টেবিলের ড্রয়ারে কিছু ক্যাটবেরি আছে । দে না প্লিজ । এগুলো শেষ হয়ে গেছে ।
মেঘা তাকালো হা বনে । এই মেয়ে এতো তাড়াতাড়ি সব শেষ করলো ।
” সব শেষ করেছিস ?
” হু , খেয়ে ফেলেছি । টেবিলের ড্রয়ারে আরো কয়েকটা আছে । আমি দেখেছি কাল । তবে খাই নি । দে না ।
” ওগুলো আমার । আদ্র ভাইয়া সেই কবে এনে দিয়েছিল । এখনো খাই নি আমি । আর তুই এক বসায় এতো এতো চকলেট খেয়ে নিলি ?
” কি করবো ? ছোঁচা জিভে লোভ সামলাতে পারে না । তুই তো খাবি না জানি । দে না ।
মেঘা বই বন্ধ করে উঠে দাঁড়ালো । ড্রয়ার থেকে চকলেট গুলো বের করে পাশে দাঁড়িয়ে ওর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো…..
” একটু কম করে খা মা আমার । এতো খেলে ক্ষতি হবে ।
বুঝিস না কেনো ?
” কে বোঝে না শুনি ?
পুরুষালি উচ্ছ্বাসিত ভরাট কন্ঠে দুজনে চকিতে তাকায় দরজার দিকে । ফ্লাওয়ার বুকে হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে এক সুদর্শন যুবক । পড়নে তার সাদা শার্ট অর কালো প্যান্ট । ঠোঁটে এক রাশ কুসুমিত হাসি ।
শাফাহ্ দেখেই চেঁচিয়ে ওঠে হতচকিত হয়ে….

” মাই , বাডি !!
” ইয়েস বাডি !!
এগিয়ে যায় ছেলেটা । পেছন থেকে শুভ্র ঘরে না ঢুকে থমথমে গলায় বললো….
” আমি ফ্রেশ হতে গেলাম ।
বলেই চলে গেলো সে ।
ছেলেটা এগিয়ে গিয়ে বিছানার পাশে দাঁড়ায় । প্রথমেই নজর দেয় শাফাহ্’র পায়ের দিকে । অমনি হাসি গায়েব হয়ে ঠোঁট থেকে । কপালে ভাঁজ ফেলে দীর্ঘ শ্বাসে বলে….
” পা ভেঙেছে শুনলাম । এখন কেমন আছিস ?
” উমমম , খুব ভালো !
তোমাকে দেখে আরো বেশি ভালো হয়ে গেলাম । লাস্ট সপ্তাহ থেকে পাত্তা মিলছে না তোমার । কোথায় ছিলে বলতো ? দেখি নি কেনো ?
” শহরে ছিলাম না । আজই আসলাম ।
ছেলেটার হাতের তর তাজা ফুল গুলো ভীষণ টানছে শাফাহ্ কে । হাত কিলবিল করছে ওগুলোকে ছুঁয়ে দেওয়ার জন্য । ছেলেটা বুঝতে পেরে মৃদু হেসে ফুল গুলো বাড়িয়ে দিলো । অমনি ঝাঁপিয়ে পড়লো শাফাহ্ । নাক ডুবিয়ে ফুলের ঘ্রাণ টেনে নিলো নিজের মাঝে । গদগদ হয়ে বললো…

” থ্যাঙ্ক ইউ ভাইয়া ,,
কপাল কুঁচকে ফেললো ছেলেটা । বাঁধ সাধলো….
” ডোন্ট কল মি ভাইয়া । কল মি বাডি । নয়তো সব ফুল ফিরিয়ে নিয়ে যাবো ।
” এহহ্ , আমি দিলে তবেই তো ? এসব আমার , আর আমার জন্যই এনেছো আমি জানি !
মুচকি হাসলো ছেলেটা । মেঘার দিকে তাকালো এ পর্যায়ে ! হাসি চওড়া করে বললো…
” কেমন আছো মেঘা ?
মুচকি হেসে উত্তর করে মেঘা….
” জ্বি ভাইয়া , ভালো ! আপনি ?
” ভালো আছি । তবে শুনলাম শাফাহ্ নাকি ভালো নেই । এই , পা ভাঙলি কি করে তুই ? দেখে চলতে পারিস না ?
” পড়ে গেছিলাম । ভাঙ্গে নি , মচকেছে ।
” হাঁটতে পারছিস ?
” উঁহু ! কাল থেকে পারবো ।
শ্বাস পড়লো ছেলেটার বুক চিরে । সরু মলিন চোখে পা খানা পরখ করলো শাফাহ্’র ।
কিছুক্ষণ পর বাড়িতে ফিরলো আদ্র । বেরিয়েছিলো সে । ফ্রেশ হয়ে ঘর হতে বেরোতেই মুখোমুখি হয় শুভ্রর ‌। শুভ্রর সাথে চেনা আরো একটা মুখ দেখে এক চিলতে হেসে বলে….

” আরে সায়ান ভাইয়া ? কখন এলে ?
হাসলো সায়ান ছেলেটা । উত্তর করলো…
” এইতো একটু আগে ।
” তুমি তো রাজশাহীতে ছিলে , না ?
” হুম । ফিরেছি আজ !
আদ্র হাসি প্রগাঢ় করলো । গলা ঝেড়ে ভনীতা করে বললো…
” আচ্ছা ? ফিরেছো আজই ? শুনেছিলাম বিজনেস পারপোসে গেছিলে । ভাইয়া তো বললো দিন দশেক থাকবে । এতো তাড়াতাড়ি চলে এলে যে ? কাজ হলো ?
চোখ পাকালো সায়ান । শুভ্রের রাগি ভঙ্গিমা দেখে দাঁত চেপে বললো….
” শালা রাগাস না । আমাকে রাগানোর চেষ্টা করছিস , আর ওদিকে তোর ভাই ফুঁসছে ।
শুভ্র গটগটিয়ে ওদের দুটোকে পাশ কাটিয়ে নিজের ঘরে ঢুকলো । তপ্ত শ্বাস ফেললো সায়ান । আদ্র না বুঝে শুধালো….

” কি হলো ভাইয়ার ?
” আমি আমার বিজনেস ছেড়ে এসেছি , আর তোর ভাইয়ের জ্বলছে ! লস হলে আমার হয়েছে , ওর কি ? দাঁড়া তো , ওর খবর করছি আমি ।
সায়ান ও গটগটিয়ে শুভ্রের পিছু নিলো ।
ঘরে ঢুকে ফোন নিয়ে বসেছে শুভ্র । পায়ে পা তুলে নিরেট ভঙ্গিতে ফোন স্ক্রল করছে । সায়ান ধপ করে ওর পাশে বসলো । বললো পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে….
” হয়েছে টা কি তোর ?
এমন ভাব করছিস যেনো তোর বিজনেসে ক্ষতি হয়েছে । ক্ষতি হলে আমার হয়েছে । তোর কি এতে ?
শুভ্র তৎক্ষণাৎ জ্বলজ্বলে চোখে তাকালো । খ্যাট খ্যাটে স্বরে ঝেড়ে বলল….
” তোর বিজনেস নয় , তোর বাপের বিজনেস । আর তোর বাপ আমার শশুর । আমার শশুরের লাখ লাখ টাকার ডিল ক্যানসেল করে কোন আক্কেলে তিন দিন আগে বাড়ি ফিরলি তুই ? কতগুলো টাকার ব্যাপার আছে এখানে , জানা নেই তোর ?
আজকের কনফারেন্স মিটিংয়ে এটেন্ড হতে পারিস নি । এর অর্থ কি ? এই পুরো সপ্তাহের সব পরিশ্রম জলে ভাসিয়ে দিলি ? এতো গুলো টাকা ইনভেস্ট হয়েছে ‌। গায়ে লাগে না এতে….

” লাগে তো , ভীষণ গায়ে লাগে । যার জন্য গায়ে লেগেছে , তার জন্যই ছুটে এসেছি আমি । এসব মানি নো ফ্যাক্ট । বেঁচে থাকলে এমন হাজার ডিল হাতে আসবে । এবার না হয় মিস করলাম । আমার কিউটি পাই’য়ের জন্য , এটুকু ছাড় দিতেই পারি ।
শুভ্র দুদিকে মাথা নাড়ালো । এই পাগল কে কিছু বলে লাভ নেই । যে ছেলে একটা ফোন কলে ভালো মতো সবটা না শুনেই এক ছুটে রাজশাহী থেকে রাজধানীতে আসতে পারে লাখ লাখ টাকার এগ্রিমেন্ট ফেলে । সে ছেলেকে আর কি বোঝাবে ও ? বোঝালেও এই পাগল বুঝবে নাকি ? সায়ান সোফার পেছনের দিকে হেলে মাথা এলিয়ে দেয় ‌। চোখ বুজে শ্বাস টেনে মৃদু স্বরে বলে….

” তোর বোনের খুব লেগেছিলো , ইয়ার ? ব্যাথা পেয়েছে ভীষণ ? দেখে রাখতে পারিস না ওকে একটু ?
” ঐ খচ্চর’কে কতক্ষন চোখে চোখে রাখা যাবে ? ও কি ছোট বাচ্চা ? কতক্ষন দেখে রাখবো ওকে ?
” যতক্ষণ না ও আমার কাছে আসে ততক্ষণ । যতক্ষণ না ওকে দেখে রাখার জন্য আমি ওকে নিজের কাছে নিয়ে আসি ততক্ষণ । যতক্ষণ না ও পুরোপুরি আমার হয় ততক্ষণ । আমার হয়ে গেলে ওকে দেখে রাখার জন্য আমি একাই যথেষ্ট । আপাতত ওকে দেখে রাখার দায়িত্বটা তোদের ।
পরিপ্রেক্ষিতে শুভ্র কিছু বললো না । দম টানলো সায়ান ।
শুভ্র মনে মনে মুচকি হাসে । এই পাগল কে ও বলতেই চায় নি টুকটুকির ব্যাপারে । পা টা মচকেছে শুধু । মুখ ফসকে বেফাঁস হয়ে বেরিয়ে গেছিলো সিঁড়ি থেকে পড়ার কথা । ব্যাস , এটুকুই যথেষ্ট ছিলো এই পাগলের এখানে ছুটে আসার জন্য । পাগলটা ওর একমাত্র বেস্ট ফ্রেন্ড সায়াহ্ন । তবে সবাই ছোট করে সায়ান ডাকে । পুরো নাম #সায়াহ্ন_ইফতেখার । সেই ছোট্ট কালের স্কুল লাইফ থেকে ফ্রেন্ডশিপ ওদের । সায়ানের একটা ছোট বোন আছে । #মেহরিশ_মেহের । ওর সাথে শুভ্রের বিয়ে । সম্পর্কটা একটু জটিলতা পেরিয়ে নতুন মোর নিতে চলেছে ।
সায়ান একটু ভেবে বললো আবার….

” শুনলাম তোদের বিয়ের ডেট ফাইনাল করার কথা হচ্ছে ।
ছ্যাঁত করে ওঠে শুভ্র । গম্ভীরতা ঠেলে ধড়ফড়িয়ে ওঠে….
” হোয়াট ? সিরিয়াসলি ? মানে আমাদের বিয়ের ডেট ? আমার আর মেহেরের ?
” তোর আর আমার বোনের ?
” সিরিয়াসলি ইয়ার ? কে বললো তোকে ?
ভাবসাব নিয়ে ঘাড় উঁচিয়ে বললো সায়ান….
” শুনলাম ! কেনো ? তুই জানিস না ? বাড়িতে থেকেও খবর রাখিস না এসবের ?
শুভ্র ছটফটিয়ে বলে…

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১০

” আরে , আমার কানে তো এসব কিছু আসে নি । বাড়িতে তো আলোচনা হয় নি এসব নিয়ে ।
” আব্বুর সাথে কথা হয়েছিল । তখন বললো আব্বু । রৌদ্র ফিরেছে , ও থাকতে থাকতেই তোদের বিয়েটা দিয়ে দেবে হয়তো । ও তো ফিরে যাবে । বেশিদিন থাকবে না শুনলাম । এর মানে , তোদের বিয়ের বেশিদিন নেই আর । আঙ্কেল,আন্টি , মানে আমার ফিউচার ফাদার এন্ড মাদার ইন ল , আমার বাপ মায়ের সাথে কথা বলেছে এই নিয়ে । কাল মেবি ডেট ফাইনাল করা হবে । সপ্তাহের মাথায় ডেট ফিক্সট করা হতে পারে ।

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১১