Home আসবো ফিরে আবারো আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১৫

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১৫

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১৫
সুরভী আক্তার

কোমরে চিলতে পরিমাণ ব্যথা পেয়ে মৃদু কুকিয়ে ওঠে মেঘা । এক হাত কোমরের ডান দিকে চেপে ধরে । চোখ খিচে রাখে এক মুহুর্ত । খট করে দরজা লাগানোর শব্দ পেতেই তড়িতে চোখ মেলে পরক্ষনে । রৌদ্র দরজা লাগিয়ে দিয়েছে । শার্টের হাতা গোটাতে গোটাতে কঠোর ভঙ্গিতে মেঘার দিকে এগোলো সে । মেঘা ভাবসাবে পরিবর্তন না দেখিয়ে ব্যাথা প্রকাশ করে খ্যাট খ্যাটে স্বরে ঝেড়ে উঠলো….
” ইউ রাইনো , পাগল হয়ে গেছেন আপনি ? এভাবে ছুড়ে মারলেন কেনো আমায় । ব্যাথা পাইনি আমি ?
” ইউ ইডিয়ট , নাটক করবি না একদম । যেখানে ফেলেছি , সেখানে ব্যাথা পাওয়ার হলে তোকে ফেলতাম না আমি ।‌

মেঘা থতমত খায় । বিছানার দিকে তাকায় । কোমল তুলতুলে নরম গদি । মেঘার ছিপছিপে শরীরের ভারে বসে দেবে গেছে তুলোর ন্যায় । মেঘা ব্যাথা পায় নি একটুও । বরং পড়ার সাথে সাথে বাউন্স করেছে তুলোর মতো মোলায়েম বিছানায় । সাদা ধবধবে একখানা বেডশিট । মেঘা মুহুর্ত পর দৃষ্টি সরিয়ে রাগ বজায় রেখে বললো….
” আমাকে এখানে এনেছেন কেনো আপনি ? কোন সাহসে ? বেশরম , অসভ্য লোক । লাজ লজ্জা নেই একটুও ? অতগুলো লোকের সামনে কোন স্পর্ধায় অসভ্যের মতো আমাকে ছুঁয়েছেন আপনি ?
রৌদ্র তেড়ে যায় । আঙ্গুল তুলে শাশ্বিয়ে বলে….
” তোকে ছোঁয়ার জন্য স্পর্ধা নয় , অধিকারের প্রয়োজন । যেটা আমার দিব্যি আছে । এভারমোর হিম্মত নিয়ে চলে রুডভিক কাবির রৌদ্র । অধিকারের পাশাপাশি হিম্মত দেখিয়ে তোকে ছুঁয়েছি আমি ।
মেঘাও রাগ দেখিয়ে প্রশ্ন ছুড়লো বিপরীতে….
” আমাকে ছোঁয়ার কিসের অধিকার আপনার ?
” অধিকার ফলিয়ে দেখাবো কিসের অধিকার ? কি ? দেখাই ?

মেঘা মুখ বিকৃত করে নেয় । চোখ সরিয়ে দ্রুত নামে বিছানা থেকে । অমনি ভাঁজ খুলে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে শাড়ির আঁচল সহ এলোমেলো সব কুঁচি । চমকায় একবিংশীর হৃদয় । নিজের বেগতিক অবস্থা দেখে মুখ ফাঁক করে দ্রুত তাকায় রৌদ্রের দিকে ‌। সহসা ওষ্ঠ পিষে ফিচেল হাসে রৌদ্র । ওষ্ঠপূটে দাঁত চেপে ঘাড় ডলে হাসি ঠেলে মুখ ফিরিয়ে নেয় ডান দিকে । তড়িঘড়ি করে কুঁচি গুলো দুহাতে উদরের সাথে চেপে ধরলো মেঘা । কোনো রকমে কাপড় সামলে চটপট করে এগোলো দরজার দিকে । উপরের ছিটকিনি লাগানো । মেঘা না শাড়ি সামলাতে পারছে , আর না হাত উপরে তুলে ছিটকিনি খুলতে পারছে । উচ্চতাও কম তার । অদূরে হাত পৌঁছালেও ছিটকিনি খুলতে কসরত হবে বড্ড । এই অবস্থায় তো আরো পারবে না । পিছু ফিরে ঝাঁজ দেখিয়ে বললো তাই….
” বেয়াদব লোক , দরজা খুলে দিন । বেরোবো আমি ।
” খুলতে পারলে বেরোও ।
মেঘা পা উঁচিয়ে এক হাতে খোলার চেষ্টা করলো । পারলো না । ফের ঘাড় ঘুরিয়ে একই স্বরে বলল….
” খুলে দিন দরজা । অসভ্যের মতো সবার সামনে তুলে এনেছেন আমায় । সবাই কি ভাবছে কোনো আইডিয়া আছে আপনার ? ইরিটেটিং ম্যান….

রৌদ্র চোয়াল খিচে নেয় । দ্রুত এগিয়ে মেঘা কে টান মেরে ফের বিছানায় এনে ফেলে । রেগে বলে….
” রুম থেকে এক পা বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করলে পা একেবারে কেটে দেবো তোর । চাইছি না এই ইভেন্টে খারাপ কিছু হোক । নয়তো এতক্ষণে তোর ঐ বেয়াদবির শাস্তি মেপে মেপে বুঝিয়ে দিতাম তোকে । ইডিয়ট…
বলেই পিছু ফিরলো । খট করে দরজা খুলে বেরোলো বাইরে । মেঘা উঠে যাওয়ার আগেই মুখের উপর বাইরে থেকে ঠাস করে লাগিয়ে দিলো দরজা টা । চাবি ঘুরিয়ে লক করে দিলো একেবারে ।
ধুপধাপ করে দরজায় আঘাত করলো মেঘা । চেঁচালো গলা চিরে….
” রাইনো মুখো । দরজা খুলে দিন । বেরোবো আমি । অসভ্য, নির্লজ্জ, ইরিটেটিং, ডিজকাস্টিং, সেন্সলেস ম্যান…
সাউন্ড প্রুফ রুম রৌদ্রের । মেঘার একটা কথার সাউন্ড ও বেরোলো না বাইরে । বেরোলে গুনে গুনে পাঁচটা থাপ্পর খেতো এতক্ষণে ‌। রৌদ্র ডোর লক করে গটগটিয়ে নিচে নেমে গেছে । বাইরে বেরিয়ে কোনোদিকে তাকায় নি আর । গার্ডেন পেরিয়ে সোজা এগিয়েছে গেইটের দিকে । সিরাতের নজর এড়ায়নি সে । রৌদ্র কে না আটকে ভিড়ের মধ্য থেকে আদ্র কে টেনে নিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকলো সিরাত ‌। রৌদ্রের বেরিয়ে যাওয়ার খবর আদ্রকে জানিয়ে সোজা উপরে উঠলো মেঘার খোঁজে । নিজের রুমে নেই মেঘা । সিরাত ভ্রু নাচাতেই আদ্র ইশারায় বোঝালো প্রশ্ন সূচকে…
” রুডির রুমে ?

চোখ গোল করে দুজনে এগোলো ওদিকে । দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থমকালো । খোলার চেষ্টা করতেই বুঝলো ডোর লক করা । ফিসফিস করলো সিরাত…..
” মেঘা কি রুমে ?
” হবে হয়তো !
” রৌদ্র বেরিয়ে গেলো কেনো তাহলে ?
বোকা স্বরে আদ্র ঘাড় উঁচিয়ে বললো শ্বাস ফেলে….
” আপু । বোকার মতো কথা বলো না । আই থিংক মেঘকে রুমে আটকে বেরিয়ে গেছে । রুডি জ্বেলাস আপু….
সিরাত ঠোঁট চওড়া করলো ।
” জানি তো । তাইতো জ্বেলাসি বাড়াচ্ছি ওর ।
” বাট ওর রুম সাউন্ড প্রুফ । মেঘ ডাকলে আমরা শুনতেও পারবো না । রুমের চাবিও নেই কারোর কাছে । রুডি কখন আসবে না আসবে কে জানে ? মেঘ কতক্ষন থাকবে এই রুমে….
” যতক্ষণ না রৌদ্র আসে ততক্ষণ । তুই অতো ভাবছিস কেনো ? তুই না রৌদ্রের তেইশ সেকেন্ডের বড় ভাই । চল এখান থেকে…
আদ্র চোখ সরু করে বললো….

” আপু । তুমি বোধহয় ভুলে যাচ্ছো , তুমি আমাদের দুজনেরই বড় ।
” সো হোয়াট ? আমি একটা গুরুত্বপূর্ণ মিশনে নেমেছি । বড় হওয়ার দরুন এটা আমার কর্তব্য । তবে ভিন্ন পথে আমি আমার কর্তব্য পালন করছি । রৌদ্র কে হাড়ে হাড়ে চিনি আমি । সোজা আঙ্গুলে ওকে কখনো সঠিক পথে আনতে পারবি না । তাই আঙ্গুল বাঁকিয়েই আনতে হবে ।
ওদের সম্পর্কটা ঠিক হওয়া প্রয়োজন আদ্র । অন্তত মেঘা আর রৌদ্র দুজনকে দুপথে যাওয়া থেকে আটকানোর জন্য হলেও ওদের সম্পর্ক টা ঠিক হওয়া প্রয়োজন । এতো বছরে মেঘা অনেকটা জড়িয়ে গেছে এ বাড়ির সাথে । হঠাৎ করে চলে গেলে কেউ মানতে পারবে না । আর না আবার রৌদ্র চলে গেলে কেউ সহ্য করতে পারবে । ওদের দুজনকেই একে অপরের সাথে জড়িয়ে তবেই আটকাতে হবে । রৌদ্র কে এপ্রিসিয়েট করাতে হবে । মেঘার প্রতি ঝোঁক বাড়াতে হবে । ইউ নো , ও কতটা পসেসিভ ? ওর জিনিসের উপর ও কারোর হস্তক্ষেপ সহ্য করে না । মেঘার সাথে আরো একটু জুড়তে দে ওকে , তার পর দেখবি রৌদ্র কি জিনিস !
” আই নো আপু । আমাকে বোঝাতে হবে না ।

বাট এখন মেঘা কে নিয়ে ভাবো । রৌদ্র ফিরতে লেট করে অনেক । ওর রুমের চাবি নেই কারোর কাছে ।
” ডোন্ট ওয়ারি । মেঘা থাকুক । বাড়িতে সামলে নেবো আমিই ‌। রৌদ্র আজ তাড়াতাড়ি ফিরবে , আই এম ড্যাম শিওর । চল এখন….
মেঘা মনি তার হাসবেন্ডের রুমে প্রথম বার পদার্পণ করেছে আজ । ওকে ঘরটা একটু বুঝে নিতে দে । দেখে নিতে দে নিজের ফিউচার ।
মেঘা গলা ফাটিয়ে চেঁচাতে চেঁচাতে ক্লান্ত । শুকিয়ে এসেছে গলা । তবুও এক পশলা আওয়াজ দরজা চিরে বাইরে বেরোয় নি । ক্লান্ত হয়ে টেবিলের উপর থেকে ওয়াটার পট নিয়ে অর্ধ বোতল খালি করলো সে । এতক্ষণে এদিক ওদিকে চোখ বোলালো । পুরো দমে এসি চলছে । বাইরের গরমে ঘেমেছিলো শরীর । এখন ঠান্ডায় শিউরে উঠছে । বেরঙিন সব আসবাব এ ঘরে । সব একেবারে পরিপাটি । বেপরোয়া ছেলের গোছালো ঘর । রৌদ্র এলোমেলো করে রাখলেও রুবিনা কাবির গুছিয়ে রাখেন সবসময় । আজ প্রথম এ ঘরে আগমন মেঘার । এর আগে উঁকিও দেয় নি কভু । পুরো ঘরে চোখ বোলালো সে । রাগে গজগজ করে শাড়ি খামচে বিড়বিড় করলো….
” আই হেইট ইউ রাইনো মুখো । আই হেইট ইউ ,, আমি ছাড়বো না আপনাকে…

রাত্রি বারোটার কাছাকাছি । হলুদের সব ঝুট ঝামেলা শেষ হতে হতেই দশটা পেরিয়েছে । মোটামুটি অবিসন্ন সকলে । টুকটাক ডিনার সেরে অতিথিরা ঘরে উঠেছেন । রুবিনা কাবির, শাহিনা কাবির এর মধ্যেই হাজার বার মেঘার খোঁজ করেছেন । সিরাত এটা ওটা বলে থামিয়ে রেখেছে । ঘরে আছে বলতে গিয়ে ধরা খেয়েছে একবার । শাফাহ্ না বুঝে বিরুদ্ধচারন করে বোকার মতো বলে ফেলেছে মেঘা ঘরে নেই । সেই তখন থেকেই দেখা নেই মেঘার ।
তোফায়েল কাবিরের কানে এসব যায় নি এখনো । খাওয়া দাওয়ার পাট চুকিয়ে যে যার ঘরে । মেঘা খায় নি সেই দুপুর থেকে । ওর চিন্তা হলেও ওর কাছে যাওয়ার উপায় নেই । খিদেয় পেট চুইচুই মেঘার । হাজার বার ডাকার পরও বাইরে থেকে কোনোরূপ সাঁড়া শব্দ না পেয়ে অসহায় হয়ে পেট চেপে বিছানায় পড়ে আছে মেয়েটা । এগারোটা হতে হতে ঘুমানোর অভ্যাস । আজও ব্যাতিক্রম হয় নি । শত বিরক্তি নিয়েও চোখ লেগে আসছিলো । বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই পুরোপুরি নিভে এসেছে দু’চোখ । ঘড়ির কাঁটা বারোটার দোর গোড়ায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে ঘুমের অতলে তলিয়ে গেছে মেয়েটা ।

রৌদ্র বাড়ি ফিরতে ফিরতে সাড়ে বারোটা বেজেছে । ততক্ষণে ড্রইং রুম পুরো ফাঁকা । রুবিনা কাবির ছেলের অপেক্ষায় ছিলেন আজ ‌। সব ঝামেলা চুকিয়ে কিচেনে টুকটাক কাজ করছিলেন একা একা । ছেলে আসা মাত্রই বিদ্যুতের গতিতে বেরিয়ে আসলেন তিনি । চঞ্চলা হয়ে বললেন রোজকার সেই এক কথা….
” রৌদ্র , খেতে দেবো তোকে ? খাবি না ?
তার বেপরোয়া ছেলেরও সেই একই জবাব গম্ভীর গলায়….
” খিদে নেই । খাবো না ।
সিঁড়ি উঠতে গিয়ে একটু থামে রৌদ্র । কিছু একটা ভেবে নিচে নেমে বলে….
” ডিনার সাজিয়ে দাও । রুমে গিয়ে খাবো ।
” তুই যা , আমি নিয়ে আসছি ।
” তোমাকে যেতে হবে না । আমাকে দাও….
রুবিনা কাবির অক্ষরে অক্ষরে পালন করলেন । তার ছেলে রাতে খাবে এই অনেক । বেশি কথা না বাড়িয়ে একটা ট্রেতে খাবার সাজিয়ে দিলেন তিনি ।
রৌদ্র উপরে উঠলো । দরজার সম্মুখে দাঁড়িয়ে হাঁফ টেনে চাবি ঘুরিয়ে খুললো দরজাটা । এতক্ষণ ধরে ঐ মেয়েটাকে আটকে রেখেছে । না জানি কি করছে !

ঘরে ঘুটঘুটে অন্ধকার । কপাল কুঁচকালো রৌদ্র । লাইট অন করলো প্রথমে ।
মুখোমুখি বিছানার উপর খুব আরাম ঘরে একবিংশী রমনী কে ঘুমোতে দেখে মুহুর্তেই শিথিল হলো কুঁচকানো কপাল ।
চাদর মুড়িয়ে কুঁকড়ে শুয়ে আছে মেঘা । রৌদ্র থমকালো । থমকানো দৃষ্টিতে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে থেকে দরজা আটকে দিলো । হাতের খাবারের ট্রে টা রাখলো টেবিলের উপর । ফের তাকালো । মেয়েটার মুখ খুব একটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না । শরীর ঢেকে আছে চাদরে , আর মুখশ্রী ঢেকে আছে কেশের আড়ালে । রৌদ্র এগোলো ধীর পায়ে । মুখ সম্মুখে মেঝেতে হাঁটু মুড়ে বসলো । সেভাবেই কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে হাত বাড়িয়ে আলতো করে সরিয়ে দিলো গুচ্ছ কয়েক কেশরাশী । মেয়েটা নড়ে ওঠে একটু । আপনা আপনি মৃদু হাসে রৌদ্র । মেঘা কে গুটিয়ে থাকতে দেখে কপাল কুঁচকায় পরক্ষণে । বিড়বিড় করে….
” ইডিয়ট ।
উঠে দাঁড়িয়ে রিমোট হাতে তুলে এসির পাওয়ার কমিয়ে দেয় । কাবাড খুলে টাওয়েল নিয়ে দৃঢ় পায়ে এগোয় ওয়াশ রুমের দিকে ।

বেরোয় ঠিক ত্রিশ মিনিটের মাথায় । ভেজা শরীরে ধুসর একখানা টিশার্ট জড়ায় । গলায় টাওয়েল ঝুলিয়ে আধো আধো করে মুছে নেয় চুলগুলো । আসতে লেইট হয়ে গেছে একটু । ঐ মেয়ে তো না খেয়েই ঘুমিয়ে গেছে । এখন এই ঘুম গভীর থেকে জাগাবে কি করে ওকে ? ঘুম গভীরে তলিয়েছে । রৌদ্র জাগানোর চিন্তাও করলো না । ফোনের স্ক্রিনে তাকাতেই দেখতে পেলো সময় একটা বেজে বিশ মিনিট । রাত হয়েছে অনেক ।
ঘুরে এসে খাটের পাশে দাঁড়ালো সে । চাদর সরিয়ে ঘুমন্ত রমনীকে অতি আলগোছে কোলে নিলো । ঘুমের ঘোরে শূন্যে ভাসতেই আপনা আপনি রৌদ্রের গলা জড়িয়ে ধরলো মেঘা । নিমিত্তে মাথাটা এলিয়ে গলার নিকট রাখলো । ঘর ছাড়ার আগে কিছুক্ষণ ওকে এভাবে নিজের মাঝে অনুভব করলো রৌদ্র । মিষ্টি একটা আধো পরিচিত ঘ্রাণ পেতেই চোখ বুজে শ্বাস টানলো । সেই একটা অল্প পরিচিত ঘ্রাণ । রৌদ্র খানিক মাথা নামিয়ে মেঘার সিঁথি বরাবর ঝুঁকে আসে । চুলের কাছে নাক ডুবিয়ে লম্বা শ্বাস টানে । এভাবে পরপর কয়েকটা । অতঃপর চোখ খুলে নেয় । মৃদু ঠোঁট ফাঁক করে উচ্চারণ করে মেয়েটাকে জড়ানোর গভীরতা বাড়িয়ে….
” মাই সানি….
পরমুহূর্তে দ্রুত পায়ে নিজ ঘর হতে বেরিয়ে আসে মেঘাকে সেভাবে আগলে নিয়েই ।

আজ বিয়ে ।
বাজে সবে সকাল আটটা । নিচ হতে মৃদু কোলাহল কানে পৌঁছাতেই ঘুম হালকা হয় মেঘার । চোখ বুজেই কপাল কুঁচকে নড়েচড়ে ওঠে । পাশ ফিরে ঘুমে তলিয়ে যেতে চায় আবার । তবে বিরক্তি লাগে , ঘুমের মাঝে প্রচন্ড খিদে অনুভব করে সে । ডিস্টার্ব পেয়ে গা মুড়িয়ে উঠে বসে মেঘা । চোখ ডলে বিরক্তি নিয়ে উচ্চারণ করে ঘুম কাতর স্বরে…
” ডিজাগাস্টিং…..
নিভু চোখ মেলতেই নজরে আসে আশপাশ । এক মুহুর্ত পর ছ্যাঁত করে ওঠে । ভড়কে এদিক ওদিক তাকায় । এটা তো ওদের ঘর । ও এখানে এলো কি করে ?
কাল তো , ও সেই লোকটার ঘরে ছিলো ! এখন এখানে কি করে এলো ?
ছলকে এপাশ ওপাশ চাওয়া করে মেঘা । চোখ ডলে আবার তাকায় সন্দিহান হয়ে । নিজের দিকে তাকায়‌, এখনো সেই শাড়ি পড়নে । কাল যেভাবে ছিলো সেভাবেই । পাশে তাকাতেই ঘুমন্ত শাফাহ্ কে নজরে পড়লো এবার । মেঘা হুড়মুড়িয়ে ওকে ঝাঁকিয়ে ডাকলো সবটা পরিষ্কার ভাবে বোঝার জন্য….

” টুকটুকি , এই , ওঠ না । এই কুম্ভকর্ন ওঠ । আমি এ ঘরে কি করে এলাম ?
ঘুমের ঘোরে নড়েচড়ে জবাব দেয় শাফাহ্…..
” উফফফ মেঘা , প্লিজ ডিস্টার্ব করিস না । ঘুমোতে দে একটু । ভীষণ ঘুম পাচ্ছে…
” আমি এ ঘরে কি করে এলাম , সেটা তো বল আগে ।
” জানি না ।
মেঘা ধড়ফড়িয়ে বিছানা ছাড়ে । মিররের সামনে দাঁড়ায় । মুখে হাত বুলিয়ে নিজেকে দেখে , সব ঠিকঠাক আছে । কিন্তু মাথার এলোমেলো চুল গুলো আর এলোমেলো নেই । শিরদাঁড়া বরাবর লম্বা একটা বেনি ঝুলছে । ও তো বেনি করে ঘুমোয় নি । বেনিটা সামনে নিলো মেঘা । বেনি তো নয় ,‌কোনো রকমে চুল গুলো পেঁচিয়ে বেনি পাকানোর বড়জোর চেষ্টা করা হয়েছে । ফলাফল যা হয়েছে , সেটাকে বিনুনি বলা যায় না । বিননুনির অনুরূপ করে কোনো রকমে চুল গুলো আটকানো হয়েছে , যাতে এলোমেলো হয়ে ঘুমে ব্যাঘাত না ঘটে ।
মেঘা তাজ্জব বনে চেয়ে রইলো । সদ্য ঘুম ভাঙা এলোমেলো মাথায় কিছুই ডুকছে না । সেভাবেই ইনোসেন্ট ফেসে দ্রুত ঘর ছাড়লো মেঘা । দরজা মারাতেই মুখোমুখি আদ্র । মেঘা কে এ ঘর হতে বেরোতে দেখে সেও প্রথমত অবাক হলো । তবে বুঝতে না দিয়ে চোখ সরু করে তাকিয়ে স্বাভাবিক ভাবে বললো….

” গুড মর্নিং মেঘ !
মেঘা জিভে অধর ভিজিয়ে নেয়…
” গু… গুড মর্নিং ভাইয়া ।
” কি হয়েছে ? এখনো এভাবে আছিস ? সেই কাল থেকে ? এখনো চেঞ্জ করিস নি কেনো ?
মেঘার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে সবটা । তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে । অবুঝের মতো বুলি ফুটালো কোনো রকমে থেমে থেমে…
” না , মানে , আমি এই রুমে ? কি করে ? আমি তো কাল ঐ রাইনো মুখোর রুমেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম…..
তাহলে এই রুমে কখন এলাম ?

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১৪

” হ্যাঁ ?
মেঘা থতমত খায় ‌। সবটা উড়িয়ে প্রসঙ্গ ঘাঁটতে বলে চটপট….
” না , কিছু না ভাইয়া । আমি চেঞ্জ করে আসছি । খিদে পেয়েছে ভীষণ ।
মেঘা উল্টো ফিরে রুমে ঢুকতেই ফিক করে হেসে উঠলো আদ্র । দুদিকে মাথা নাড়িয়ে নিচে নামলো অতঃপর ।

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১৫ (২)