Home আসবো ফিরে আবারো আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৩

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৩

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৩
সুরভী আক্তার

সকালের মিষ্টি রোদ বারান্দার ফাঁক গলিয়ে ঘরে প্রবেশ করা মাত্রই চোখ মুখ কুঁচকে আসে রৌদ্রের । রোদের তীর্যক রশ্মি সোজাসুজি আছড়ে পড়েছে উজ্জ্বল শ্যামলা শক্ত চোয়ালে মুখের উপর । রৌদ্র চোখ বুজেই বিরক্তিতে মুখ খিচে নিলো । দীর্ঘ পাঁচ বছর পর এভাবে রোদের ঝলকানিতে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটলো ওর । নতুবা যেখানে থাকতো , সেখানে রোদের তীব্রতার লেশমাত্র ছিলো না । একেই কাল দেশে ল্যান্ড করার পর থেকেই তপ্ত আবহাওয়ায় মানিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে । দীর্ঘ পাঁচ বছর এক স্থানে থেকে সেখানকার ওয়েদারের সাথে মিশে গেছে রৌদ্র । শুষ্ক পরিবেশ সয়ে গেছে গায়ে ।

রৌদ্র বেশিক্ষণ চোখ বুজে থাকতে পারলো না । চরম বিরক্তি নিয়ে ঘুমে ভার অক্ষি যুগল‌‌‌ তড়াক করে খুললো । বিরক্তিতে অস্ফুটে গালি সুচক শব্দ উচ্চারণ করলো মুখে । চোখ মেলা মাত্রই রোদের সোনালী আলোর ঝলকানিতে চিকচিক করে উঠলো রৌদ্রের অসিত মনি যুক্ত অক্ষি যুগল‌‌‌ । মুখ বিভৎস নিরেট । বারান্দার দিকে তাকাতেই বিরক্তির মাত্রা বাড়লো । পর্দা সরিয়ে রেখেছে কে ? এই সকাল সকাল ঘুম ছুটে গেলো ওর । যদিও সকালের রোদের তীব্রতা নেই বিন্দুমাত্র । তবুও ক্ষুব্ধ হলো রৌদ্র ।
মাথা চেপে ধরে দাঁত কিড়মিড়িয়ে উঠে বসলো সে । ঘরে পুরো দমে এসি চলছে । পেটানো শরীর উন্মুক্ত । আগের তুলনায় শরীরের শক্ত মাংসপেশী বাহু ঠিকড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে যেনো , আগে এর তুলনায় রোগা পাতলা ছিলো একটু ।
রৌদ্র মাথার এলোমেলো চুল গুলো দুহাতে খামচে ধরে বসে রইলো কিছুক্ষণ । অতঃপর ছেড়ে দিয়ে এক হাতে ব্যাক ব্লাশ করে চুল গুলো ঠেলে দিলো পিছনের দিকে । নামলো বিছানা ছেড়ে । পড়নের মোটা ট্রাউজার টা নাভি ছাড়িয়েছে ।

সোজা ওয়াশ রুমের দিকে এগোলো রৌদ্র । লম্বা শাওয়ার নিলো এই সকালেই । অতঃপর বেরোলো ।
আটটা বাজে । নিচে বাড়ির সবাই ব্রেকফাস্ট টেবিলে বসেছে । শাওয়ার নিয়ে গলায় টাওয়েল ঝুলিয়েই নিচে নামলো রৌদ্র । সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে দেখলো ব্রেকফাস্ট করতে বসেছে বাড়ির সবাই ।
সবাইকে একসাথে দেখে ঠোঁট বাঁকিয়ে তাচ্ছিল্য হাসলো রৌদ্র । আজও ওর কদর নেই । কেউ একটা বারও ডাকলো না । ও নিজেই নামলো । সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছিলো শাফাহ্ । হাতের একটা ট্রেতে নাস্তা সাজানো । রৌদ্র থামলো , শাফাহ্ রৌদ্রকে দেখে থম মেরে দাঁড়িয়ে গেলো সিঁড়ির একপাশে । ফের বৃহৎ নয়নে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইল রৌদ্রের দিকে ।
রৌদ্র কপাল গুটিয়ে শুধালো পুরু কন্ঠে…..
” খাবার সাজিয়ে উপরে উঠছিস কেনো ? এখানে কি হয়েছে ?
ঢোক গিললো শাফাহ্ , দৃষ্টি নত করে মিনমিনে গলায় উত্তর করলো….
” না মানে, ভাইয়া । আমি খেয়েছি । এগুলো মেঘা…..
কথা শেষ করতে পারলো না । এর আগেই নিচ থেকে রুবিনা কাবিরের উচ্ছাস ভরা কন্ঠ ভেসে আসলো…..
” রৌদ্র , উঠেছিস ? আয় বাবা । নিচে আয়….

বাকি কথা টুকু শোনা হলো না আর । মায়ের ডাকে শাফাহ্ কে পাশ কাটিয়ে দৃঢ় পায়ে নিচে নামলো রৌদ্র । শুভ্র আর আদ্র, ভাইকে দেখে মুচকি হাসলো । রৌদ্র সোজাসুজি শুভ্রের পাশের চেয়ারটা টেনে বসলো । রুবিনা কাবির আলোড়িত । কাল থেকে খুশির মাত্রা হাজার গুণ বেড়ে গেছে তার । মন হালকা হয়ে গেছে ছেলে কে কাছে পেয়ে ।
তিনি চটজলদি ছেলের পাতে স্যান্ডউইচ তুলে দিলেন । সিদ্ধ ডিম দিলেন দুটো । অথচ ছেলে এ জীবনে ডিম পছন্দ করে না । তবুও দিলেন তিনি । বললেন ব্যাকুল হয়ে…
” আর কি নিবি ? কি খাবি বল ? আমি সব বানিয়ে দিচ্ছি তোকে ? কি প্রয়োজন , শুধু আমাকে একটা বার মুখ খুলে বল…..
” কিচ্ছু প্রয়োজন নেই মম ।
রৌদ্র কোনো দিকে তাকালো না ।
হাতে স্যান্ডউইচ তুলে খেতে লাগলো তাড়াহুড়ো করে । ছেলে নিচে নেমেছে থেকেই হাত থমকে গেছে তোফায়েল কাবিরের । তিনি চুপচাপ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন ছেলের দিকে । তৌসিফ কাবিরের সাথে রৌদ্রের কথা হতো , এটা তার জানা । ছেলের সাথে তার উহ্য বিবাদ ‌।
ছেলেকে গপাগপ খেতে দেখে তোফায়েল কাবির খানিক চুপ থেকে মুখ খুললেন অকস্মাৎ নরম কন্ঠে…..
” ধীরে খাও , গলায় আটকাবে খাবার ।
সবাই ঝট করে অবিশ্বাসে চকিতে তাকালো তোফায়েল কাবিরের দিকে । তার কন্ঠে এই সতর্কতা টা অবিশ্বাস্য বটে । কিন্তু রৌদ্রের কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা গেলো না । ওর কানে বোধহয় কথাটা পৌঁছালোই না । আপন মনে খেতে ব্যস্ত ও , বরং বাবার কথায় খাওয়ার স্পিড বাড়লো আরো । বেশি বেশি তাড়াহুড়ো করে খেতে লাগলো । রুবিনা কাবির ছলছল চোখে তাকিয়ে রইলেন স্বামীর দিকে । তৌসিফ কাবির ডাকলেন….

” রৌদ্র ?
” হ্যাঁ , বাবাই !
” ফিরবে আবার ?
” হুম , দু সপ্তাহ পর !
আঁতকে ওঠে সকলে । রুবিনা কাবির ছেলের কাঁধ খামচে ধরেন….
” না , ও আর ফিরবে না ! কোনো দিন ফিরবে না । ওখানে কেনো ফিরবে ও ? কে আছে ওর ওখানে ?
” এখানেও আমার কেউ নেই মম । ভুলে যেও না আমি তোমাদের কাছে মৃত । আমি জাস্ট আপুর জন্য এসেছি । আপুর কথা রাখতে এসেছি । এর বেশি আর কিচ্ছু নয় ।
” মম বলছিস , আবার বলছিস এখানে তোর কেউ নেই ? কি এক জেদ ধরে বসে আছিস পাঁচ বছর ধরে ? তুই আমাদের ছেলে , এটা ভুলে যাস না ।
রৌদ্র আর কথা বলে না ।
সিরাত মুখ খোলে…

” শান্ত হও মা । রৌদ্র কোত্থাও যাবে না । তুমি চুপ করো । নিশ্চিন্তে থাকো…
আদ্রের খাওয়া শেষ । উঠে দাঁড়ালো ও । এখন বেরোবে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে । ভার্সিটির ইংরেজি বিষয়ক লেকচারার আদ্রিয়ান কাবির আদ্র । পারিবারিক বিজনেসে সে নিজেও যোগ দেয় নি । সে নিজের পথ নিজে বেছে নিয়েছে । পারিবারিক বিজনেস সম্পুর্নটা সামলায় শুভ্র । রৌদ্রের কথা তো বাদ । সে একপ্রকার হাঘরে ।
আদ্র উঠে দাঁড়াতেই শাহিনা কাবির প্রশ্ন ছুঁড়লেন….
” ওরা দুটোতে আজকেও ভার্সিটিতে যাবে না ?
” না মনি , ও এখনো সুস্থ হয় নি পুরোপুরি ‌। কাল রাতে আবার জ্বর এসেছিল । টুকটুকিও যাবে না ‌। সুস্থ হোক , তার পর দুজনে একসাথে যাবে । আমি যাচ্ছি ….
কথা শেষ করে আদ্র বেরোলো বাড়ি থেকে ।
সকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা । রৌদ্র সেই যে সকালে ব্রেকফাস্টের পর বাড়ি থেকে বেরিয়েছে , ফেরেনি এখনো । রাতের রান্নার তোড়জোড় চলছে কিচেনে । তোফায়েল কাবির ও নামছেন না নিচে । অফিসেও যাননি আজ । রুবিনা কাবির দু কাপ চা করলেন । ড্রইং রুমে এক কাপ চা দিলেন তৌসিফ কাবির কে । আবার কিচেনে ঢুকে আরেক কাপ চা হাতে নিয়ে শাহিনা কাবিরের উদ্দেশ্যে বললেন…

” আমি একটু উপরে যাচ্ছি আপা ! চা টা গিয়ে দিয়ে আসি ওনাকে । উনি তো নামছেন না ‌।
শাহিনা কাবিরের নির্মল উত্তর…
” আচ্ছা যা ‌।
উপরে উঠলেন রুবিনা কাবির ।
ঘরে ঢুকে চোখ ঘুরিয়ে এদিক ওদিক তাকালেন । তোফায়েল কাবির ঘরে নেই । বারান্দায় পা বাড়ালেন তিনি । খোলা বারান্দায় ইজি চেয়ারে বসে আছেন তোফায়েল কাবির । পিছনের দিকে শরীর হেলিয়ে চুপটি করে চেয়ে আছেন সন্ধ্যার আকাশের পানে । রুবিনা কাবির নিজের উপস্থিতি জানান দিতে গলা খাঁকারি দিলেন । নড়েচড়ে উঠলেন তোফায়েল কাবির ।
রুবিনা কাবির চায়ের কাপ এগিয়ে দিয়ে বললেন….
” ভাইজান একা একা বসে আছেন নিচে । আর আপনিও এখানে চুপচাপ বসে আছেন । নিচে চলুন !
চায়ের কাপ হাতে নিয়ে উত্তর করলেন তোফায়েল কাবির…

” তুমি যাও ।
” এখানে বসে থেকে কি করবেন ?
” কিছু না , একা থাকতে দাও আমায় । যাও এখান থেকে ।
” এতো অনুশোচনায় দগ্ধ করবেন না নিজেকে !
” মোটেও আমি অনুশোচনায় নেই ।
” দেখতেই পারছি । আর দেখেই আসছি গত পাঁচ বছর ধরে । রাগের মাথায় ছেলেকে খুঁচিয়ে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন , বারবার বলেছি ঠান্ডা মাথায় ছেলেকে দমন করুন । ছেলে এক রগচটা , তার থেকেও বড় রগচটা আপনি । বাপ ছেলের ক্ষুব্ধ অভিমানের যাঁতাকলে মাঝ থেকে আমি পিষে মরছি শুধু ।
থামলেন রুবিনা কাবির । গলা ভেজা । আর কিছু বলতে গেলে কেঁদে ফেলবেন । তোফায়েল কাবির নির্বিকার । শুনেও কিছু বললেন না । রুবিনা কাবির চুপ থেকে নিজেকে সামলে নিয়ে আবার বললেন….
” এবার যদি আমার ছেলে আমার থেকে দূরে যায় , তাহলে কিন্তু ভালো হবে না । খারাপ কিছু ঘটিয়ে ফেলবো আমি । বলে রাখলাম । রৌদ্রকে আর হারাতে পারবো না আমি । যে করেই হোক আমার ছেলেকে আমার কাছে বেঁধে দিন । ও বেপরোয়া পনা করুন , মাতলামো করুক , মারপিট করুক , যা খুশি তাই করুক । ও আমার ছেলে । আর আমার ছেলেকে আমি আর দূরে যেতে দেবোনা । পাঁচ বছর সহ্য করেছি , আর করবো না । কথাটা শুনে রাখুন ।
কথা শেষ করেই বারান্দা , ঘর ছাড়লেন তিনি । প্রস্থান করে
নিচে নামলেন । আদ্র ভার্সিটি থেকে ফিরে বেরিয়েছে আবার । শুভ্র ও বাড়িতে নেই ।
সিরাত ঘরে বাচ্চা কে সামলাতে ব্যস্ত । আহিয়ান শশুর বাড়িতে থাকলেও বড়লোক শশুর দের ঘাড়ের উপর চেপে খায় না । নিজে একটা ভালো জব করে ও । বেতন ও ভালো । তিন বছর আগে যখন নিজের বাড়ি থেকে সিরাত কে নিয়ে বেরিয়ে আসলো , তখন আলাদা করে একটা বাসা ভাড়া নিয়ে সেই বাসায় উঠেছিলো । পারিবারিক বিজনেস থেকেও নিজেকে চ্যুত করে নিয়েছিল আহিয়ান । যেখানে সিরাতের কোনো স্থান নেই , সেখানে ও নিজেও থাকবে না ।

কিন্তু পরবর্তীতে তোফায়েল কাবিরের জোরাজুরিতে এ বাড়িতে আসতে বাধ্য হয়েছে ওরা ।
সিরাত কে নিয়ে হসপিটালের চক্করে আহিয়ান চারদিন অফিস থেকে ছুটি কাটিয়েছে । আজ অফিসে গেছে । ফেরেনি এখনো । বাচ্চা কে ঘুম পাড়াচ্ছে সিরাত । অমনি হুড়মুড়িয়ে ঘরে ঢুকলো শাফাহ্ । সিরাত চমকে ঠোঁটে আঙ্গুল চেপে ইঙ্গিতে শব্দ করতে বারন করলো ওকে । অমনি চুপটি মেরে গেলো শাফাহ্ । পা টিপে টিপে এগোতেই সিরাত ধীর কন্ঠে বলল…..
” ও কোথায় ? ওকে একবার আমার ঘরে পাঠা তো ।
শাফাহ্ ফিসফিস করে বললো…..
” ও তো ছাদে ।
একটু সেরেছে কি সারেনি , অমনি নাচতে উঠেছে মেয়ে । আমার ফোনটা এ ঘরে ফেলে গেছি । ওর ফোনে চার্জ নেই । আমারটা নিতে আসলাম আমি ।

শাফাহ্ এদিক ওদিক তাকালো । ফোনটা খুঁজলো চঞ্চল চোখে । বেড সাইড টেবিলের উপর ওর ফোনটা পেয়েই, সেটা নিয়ে আবার ছুটতে উদ্যত হতেই সিরাত ভরাট কন্ঠে আদেশের সুরে বলল….
” ওকে আমার ঘরে পাঠা । বলবি , সিরাত আপু এক্ষুনি ডাকছে । না আসলে ওর খবর পরে করছি আমি ।
শাফাহ্ কোনো রকমে শুনে ছুটলো ছাদের দিকে ।
ছাদের দুই দিকে দুটো বাল্ব জ্বলছে । আঁধার নেমেছে । এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে মেঘা । পড়নে একটা ঢিলেঢালা ফ্রক আর স্কার্ট । হাঁটু ছড়ানো লম্বা কেশরাশী এলোমেলো করে খুলে রাখা এই ভর সন্ধ্যায় । মৃদু মন্দ হাওয়া চুল গুলোকে এলোমেলো করে দিচ্ছে আরো ।
ওরনাটা পেঁচিয়ে বাঁধা কোমরে । আজ আর জ্বর নেই । লাস্ট চারদিন থেকে জ্বরে ভুগছে মেয়েটা । আজ আনেকটা সুস্থ । ছাদে উঠলো চারদিন বাদ । এতো দিন ঘরবন্দি লাগছিলো নিজেকে । দুই বাল্বের আলোয় ঝকঝক করছে মেয়েটার সুশ্রী সুন্দর চেহারা খানা । হাত নাড়িয়ে নাড়িয়ে গুনগুন করছে রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে । অমনি হুটোপাটি করে ছাদে উঠলো শাফাহ্ । এক নিঃশ্বাসে ছুটে এসেছে , হাঁপিয়ে গেছে পুরো । শাফাহ্ এগিয়ে গিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগলো । মেঘা পিছু ফিরে চাইলো । শাফাহ্ কে দেখে দুদিকে মাথা নাড়ালো । বললো…..

” ছুটে আসতে কে বলেছে তোকে ?
” তুই তো বললি , যেনো তাড়াতাড়ি আসি । তোর কথায় নিচে নেমেছি । তুই যে সবসময় আমাকে কুড়ে বলিস , কুড়ে হলে তোর কথা শুনতাম আমি ?
বাই দ্যা ওয়ে, সিরাত আপু ডাকছে তোকে । কাল থেকে আপুর কাছে যাস নি । আপু কিন্তু ভীষণ রেগে আছে ।
” একটু পর যাচ্ছি ।
” আজ কোন গানটা চালাবো ? সহজ গান বলবি , আর নাচের স্টেপ ও যেনো সহজ হয় । কঠিন স্টেপ ভুলে যাই আমি ।
মেঘা হেসে ফেললো ।
ফোন টা হাতে নিয়ে খুঁজে খুঁজে একটা গান বের করলো । সেটা চালিয়ে বললো …

” এটা সোজা আছে ।
” আগে তুই একবার পুরো নাচের স্টেপ গুলো দেখিয়ে দে । আমি ভালো করে দেখে নেই একবার । তারপর আমি শুরু করবো ।
মেঘা তাই করলো । শাফাহ্ ফোন হাতে নিয়ে গানটা ফের শুরু থেকে চালালো । পিছিয়ে আসলো মেঘা কে জায়গা ছেড়ে দিয়ে । মেঘা নাচে পারদর্শী । খুব সুন্দর নাচে ও । ছোট বেলা থেকেই নাচ একটা সখ ছিলো ওর । খুব সহজেই আয়ত্ত করতে পারে সবটা । শুভ্রর বিয়ের জন্য এখন থেকেই নাচ শেখাচ্ছে শাফাহ্ কে । কিন্তু এই ভেবলি ভুলে যায় সবটা । মেঘা ওকে যতো শেখায় , ততই ভুলে যায় এই মেয়ে । শুভ্রর বিয়ে হবে , অলরেডি এনগেজড সে । সেই বিয়ের জন্যই নাচ শেখার তোড়জোড় চলছে এই দুজনের মধ্যে । বিয়ের ডেটের কোনো হোদিস নেই । আর এরা নাচ তুলতে ব্যস্ত । এমনিতেও শাফাহ্ কে নাচ না শেখালেও নিজে নিজে নৃত্য অনুশীলন করে মেঘা । এটা ওর আলাদা একটা সখ ।
শাফাহ্’র হাতের ফোনটায় নির্মল সাউন্ডে গান বাজছে…..

“ Teri Meri gallan ho geyi mashhoor
Karna kabhi tu mujhe nazroon se door
kithe chaliye tu kithe chaliye..(2)
Jaanda yee Dil ye toh jandi ye tu
tere bina meina Rahu ,mere bina tu
kithe chaliye tu kithe chaliye..(2)
katun kaise raatan ooh saawre ?
গানের তালে তালে মুদ্রা মেলাচ্ছে মেঘা । এক পায়ে রিনিঝিনি একটা নুপুর । অন্য পায়ের টা নেই । হারিয়েছে কোথাও । আলতো করে নড়েচড়ে পা নাচানোর সাথে সাথে অতি ক্ষিণ ঝংকারে বাজছে নুপুর খানা ।
শাফাহ্ মূক বনে এক দৃষ্টে তাকিয়ে দেখছে ওর নাচের তাল । পাতলা চিকন কোমরের দুপাশে হাঁটু ছড়ানো লম্বা চুল গুলো ঢেউ খাচ্ছে ।

গানের সাথে মিলিয়ে আপন ধ্যান মনে নৃত্য পরিবেশনে ব্যস্ত একবিংশী রমনী ‌। আর শাফাহ্ ব্যাস্ত দুচোখ ভরে নৃত্যরত রমনীকে দেখতে । এই মেয়েটা আসলেই সুন্দর নাচে । দেখতে তো মাশাআল্লাহ । সন্ধ্যা রাতের আলো আঁধারির মাঝে ফর্সা চেহারা চিকচিক করছে । মুখের উপর ঈষৎ কালো চুল আছড়ে পড়ে ঝিলিক দিচ্ছে , আবার হাওয়ার বেগে নিজেরাই ছুটে ছুটে উড়ছে ।
শাফাহ্ মূক বনে তাকিয়ে রয় । এই মেয়েটাকে দেখতেও ভালো লাগে । গত পাঁচ বছরে শাফাহ্’র সবথেকে কাছের মানুষের মধ্যে অন্যতম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে এই মেয়ে । দেখতে দেখতে মুচকি হাসে শাফাহ্ ।
আচমকা দেখার মাঝেই শাফাহ্ কেশে উঠলো খুকখুক করে । কাশতে কাশতে ফোন রেখে দুহাতের তালুতে নাক আর মুখ চেপে ধরলো ‌। অমনি থমকালো নৃত্যরত রমনীর পায়ের তাল । চকিতে থামলো ও । নাচ বন্ধ করে সম্পুর্ন ধ্যান বসালো কাঁশতে থাকা মেয়েটার দিকে ।
তড়িতে এগিয়ে বিচলিত হয়ে বললো….

” টুকটুকি , কি হলো তোর ? কাশছিস কেনো হঠাৎ ? পানি খাবি ?
শাফাহ্ নিমিষেই লাল হয়ে গেছে কাশতে কাশতে । মুখ চেপে শ্বাস আটকালো ও । রেলিংয়ের উপর পানির বোতল । মেঘা তড়িতে বোতলের ছিপি খুলে এগিয়ে দিলো টুকটুকির দিকে । বোতলের মুখে মুখ বসিয়ে তড়িঘড়ি করে পানি খেলো মেয়েটা । ঘনঘন শ্বাস ফেলতে লাগলো । মেঘা তটস্থ হয়ে ওর পিঠে হাত বোলাতে ব্যস্ত । আচমকা ওর নিজের নাকেও সিগারেটের বিদঘুটে গন্ধ বিধলো । অমনি নিজেও মুখ কুঁচকে ফেললো মেঘা ।
সিগারেটের গন্ধে এলার্জি আছে টুকটুকির । ও সিগারেটের ধোঁয়া সহ্য করতে পারে না । এর গন্ধে শ্বাসনালি সংকুচিত হয়ে শ্বাস কষ্ট শুরু হয় ওর । অ্যাজমা জনিত সমস্যা এটা । সিগারেটের গন্ধে এই সমস্যা বেড়ে যায় ।
গন্ধ পেয়ে নাক সিঁটকে অস্ফুটে উচ্চারণ করলো মেঘা….
” সিগারেট ? সিগারেটের স্মেল কোথা থেকে আসছে ?
বলতে বলতে এদিক ওদিক চোখ বোলালো । ছাদে কেউ নেই । আর এ বাড়িতে এই মেয়ের জন্য সিগারেট এক আঙ্গুলেও ছুঁয়ে দেখে না কেউ ।
বাড়ির নিচে তাকালো মেঘা । তিন তলায় ছাদ । নিচে কেউ খেলেও এতো দূর অবধি গন্ধ আসার কথা নয় । আর কেই বা খাবে এ বাড়িতে ?

গন্ধ টা বাড়ছে ধীরে ধীরে । শাফাহ্ শ্বাস আটকে ওরনা দিয়ে নাক মুখ চেপে ধরেছে । এদিক ওদিক চঞ্চল চোখে তাকানোর মাঝেই ছাদের দরজার কাছে চোখ নিবদ্ধ হলো মেঘার । এক নিমিষেই সেখানটায় থমকালো দৃষ্টি ।
ঠিক দরজায় টানটান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সুঠাম দেহি রৌদ্র । নিরেট মুখশ্রী , সুক্ষ্ম খাদযুক্ত দৃষ্টি স্থির সোজাসুজি মেঘার দিকে । মেঘার দৃষ্টি সেদিকে পড়তেই দৃষ্টিতে দৃষ্টি মিললো দুজনের । রৌদ্রের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ । বাড়ি ফিরেই শাওয়ার নিয়েছে আবার । ভেজা শরীরে একখানা শর্ট হাতা টিশার্ট । শক্ত পোক্ত বাহু উন্মুক্ত । উজ্জ্বল শ্যামলা শরীরে বিন্দু বিন্দু পানি কনা চিকচিক করছে আঁধারের মাঝে হলদে বাল্বের আলোয় ।
এলোমেলো ভেজা চুল কপালে আঁচড়ে লেপ্টে আছে । টুপটাপ পানি গড়াচ্ছে চুল থেকে ।
ঝাঁপসা অন্ধকারে ঢেকে গেছে আশপাশ ।
রৌদ্রের নিরেট তীক্ষ্ণ চাহনি থেকে মুহুর্ত কয়েক বাদ দৃষ্টি সরালো মেঘা । হাবভাবে এক বিন্দু পরিবর্তন আসলো না মেয়েটার । ও আগের ন্যায় উদ্বিগ্ন স্বরে শুধালো…..

” টুকটুকি , ঠিক আছিস ? নিচে চল এখন । এখানে থাকতে হবে না ।
এতক্ষণে টুকটুকিও তাকালো দরজার দিকে । রৌদ্র কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আঁতকে উঠলো ও । পরমুহূর্তে তড়াত দৃষ্টিতে মেঘার দিকে তাকালো । মেঘার মাঝে ন্যূনতম পরিবর্তন না দেখে ফের ভয়ার্ত দৃষ্টিপাত করলো রৌদ্রের দিকে । রৌদ্রের কম্পন হীন চাহনি এখনো মেঘার পানে আবদ্ধ । দুই আঙ্গুলের ভাঁজে সিগারেটটা ক্ষয়ে ক্ষয়ে পুড়লো । আঙুলের ডগায় এসে জ্বলন থামতেই আগুনের ঝিলিকে ছিটকে ওটাকে ফেলে দিলো রৌদ্র । স্ফুলিঙ্গে পুড়লো আঙ্গুলের ডগা । হাত ঝেড়ে মুখে বিরক্তি সূচক শব্দ উচ্চারণ করে দাঁত পিষলো চরম ক্ষুব্ধতায় । হাতটা ঝাড়া মারলো বেশ কবার ।
পুনরায় দৃষ্টি তোলার আগেই মেঘা টুকটুকির হাত টেনে দপাদপ পা ফেলে এগিয়ে আসলো দরজার দিকে । রৌদ্র ঠায় দাঁড়িয়ে । ওর ভাবগতীক দূর্বোধ্য । এই মেয়ে টাকে হয়তো চিনতে পারলো না , আবার হয়তো চিনলো ।
মেঘা টুকটুকির হাত টেনে সোজা দরজার কাছে পাশ কাটালো রৌদ্র কে । দু কদম এগোতেই রৌদ্রের ভরাট কন্ঠ ভেসে আসলো…..

” টুকটুকি ?
থামলো শাফাহ্ ।
” হ্যাঁ ভাইয়া ।
মেঘা ওর হাত ছাড়লো । শক্ত কন্ঠে বলল….
” আমি গেলাম । চলে আসিস ।
গটগট করে সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় নামলো মেঘা ।
রৌদ্র ফিরে তাকায় নি । ঘাড় বাঁকিয়ে দাঁত চিবিয়ে বাঁকা চোখে দেখলো শুধু ।
নিচে ফেলা সিগারেটের খন্ড থেকে ধোঁয়া ছাড়াচ্ছে । শাফাহ্ শ্বাস বন্ধ করে খিচে রেখেছে দম । দম হারিয়ে অধৈর্য হয়ে পিছু ফিরে দাঁড়িয়ে থাকা রৌদ্রের উদ্দেশ্যে বললো ও…
” ভাইয়া , কিছু বলবে ?
কি বলবে রৌদ্র ? জানা নেই ? কেনো আটকালো শাফাহ্ কে ? মুহুর্ত কয়েক বাদ ঘাড় ঝাঁকিয়ে বললো রৌদ্র…
” কিছু না , যা এখান থেকে ।
কথা শেষ হতে না হতেই দম টেনে নিচে ছুটলো শাফাহ্ ।
মেঘা দোতলায় নেমে সোজা সিরাতের ঘরের দিকে পা বাড়িয়েছে । দরজা থেকে বলতে বলতে ঢুকলো….
” আপু , ডাকছিলে আমায় ?

বাচ্চার ছোট ছোট ড্রেস কেনা হয়েছে অনেক । এগুলো স্যানিটাইজ করে রোদে শোকানো হয়েছে আজ সারাদিন । সিরাত গোছাচ্ছিলো ড্রেস গুলো । মেঘার উপস্থিতিতে চোখ তুলে তাকালো ও । এর মধ্যেই মেঘা ওর পাশে বসেছে । ঘুমিয়ে থাকা বাবুর পানে তাকিয়ে আবার বললো মেঘা….
” বাবু কে কোলে নেই নি আমি । মুখটাও দেখিনি ভালো করে । টুকটুকির ফোনে পিকচার দেখেছি । এতে মন ভরে নি, বিশ্বাস করো । বাবু তো খুব সেনসিটিভ , আমার সংস্পর্শে যদি কিছু হয়ে যায় ? তবে এখন জ্বর কমেছে আমার । কাল হতে হতেই আরো কমে যাবে । কাল কোলে নেবো ওকে । তুমি রাগ করেছো আমার উপর ?
সিরাত শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলল ।
মেঘা কে সরু চোখে আগা গোড়া পরখ করলো । গুছিয়ে রাখা কাপড় গুলো একপাশ করলো । বললো…
” আমি কে তোর উপর রাগ করার ?
” সরি আপুই , আই নো তুমি রাগ করে আছো ।
আচ্ছা রাগ ঝেড়ে ফেলো এখন । বলতো বাবুর নাম কি রেখেছো ? টুকটুকি বললো কাল , ভুলে গেছি ?

” রামিশা ।
” সুন্দর নাম । কিন্তু তোমার বা জিজুর ,কারোর সাথেই তো মেলেনি !
” রৌদ্রের সাথে মিলেছে । ও নিজের নামের সাথে মিলিয়ে বাবুর নাম রেখেছে ।
কথাটা বলেই সিরাত চোখের তীক্ষ্ণতা বাড়ালো । দেখার চেষ্টা করলো মেঘার প্রতিক্রিয়া । মেঘা নির্বিকার , প্রতিক্রিয়া হীন । ও কথাটা শুনে আর কিছু বললো না ।
বাচ্চার দিকে একটু ঝুঁকে অনুমতি নেওয়ার স্বরে বলল….
” বাবুকে একটা চুমু খাই , আপু ?
” খা । পারমিশন নিচ্ছিস কেনো ?
মেঘা টুপ করে চুমু খেলো রামিশার কপালে ।
অতঃপর উঠে দাঁড়ালো । বেরোতে বেরোতে বললো….
” আমি নিচে যাচ্ছি । খিদে পেয়েছে ভীষণ ।
সিরাত বাঁধা দিলো না । বেরিয়ে গেলো মেঘা ।

রাতে খাবার টেবিলে বসেছে কাবির পরিবারের সব সদস্য । রুবিনা কাবির আর শাহিনা কাবির খাবার বেড়ে দিতে ব্যস্ত । শাফাহ্ খাওয়ার মাঝে বকবক করার জন্য ঝাড়ি খেয়েছে শাহিনা কাবিরের কাছে । অমনি চুপসে গেছে মেয়েটা । মুখ কালো করে খাচ্ছে ।
রৌদ্র নেই । সে বেরিয়েছে আবার । বাড়ি ফিরেও বাড়িতে আবদ্ধ হয় নি এখনো । হয়েছিলোই বা কবে ?
রুবিনা কাবির বারবার সদর দরজার দিকে তাকাচ্ছেন । কখন তার ছেলে কড়া নাড়বে দরজায় ? এতো বছর পর বাড়ি ফিরেও আগের স্বভাব বদলালো না । ফের , কোথায় গেছে কে জানে ?
তোফায়েল কাবির খেতে খেতে মুখ খুললেন….
” মেঘা মামনি , জ্বর কমেছে ? শরীর কেমন এখন ?
খেতে খেতে উত্তর করলো মেঘা….
” কমেছে বাবা , এখন পুরোপুরি সুস্থ ।
” সুস্থ হয়েছিস , এখন আর ফাঁকিবাজি চলবে না । কাল থেকে দুটোতে ক্লাসে না গেলে পানিশমেন্ট পাবি বলে রাখলাম ।
আদ্র একটু থামলো । শাফাহ্ কে দেখে বললো আবার..
” আর এই ফাঁকিবাজ , এ তো সুযোগ পেয়েছে কি পায় নি , মেঘের বাহানায় ও নিজেও ক্লাসে যাচ্ছে না । পড়াশোনায় তো ডাব্বা মারে ।
শাফাহ্ খাওয়া থামিয়ে মুখ ভেংচালো..

” মোটেই না । আমি মোটেও ডাব্বা মারি না ।
” এহহ্ , ডাব্বা মারে না ! ফেল্টুস কোথাকার !
শুভ্র খোঁচলো ওকে । অমনি তেঁতে উঠলো শাফাহ্ ।
” ভাইয়া , ভালো হবে না বলে রাখলাম । আমাকে ফেল্টুস বলছো কেনো তুমি ? কবে ফেল করেছি আমি ?
” নার্সারি তে পড়াকালীন ফেইল করেছিলি , মনে নেই ? আমার তো মনে আছে দিব্যি । আম্মু কে জিজ্ঞেস করে দেখ । আম্মু বলো তো , টুকটুকি নার্সারি তে থাকা কালীন ফেইল করেছিলো কি না ?
অমনি ক্ষেপে গেলো শাফাহ্ ।
” খবরদার আমাকে টুকটুকি বলবে না । আমার নাম শাফাহ্ । নাম বলতে পারো না ? আমার বাপ মা সুন্দর একটা নাম রেখেছে আমার ।
” বলতে পারি না বলেই টুকটুকি বলি ! টুকটুকি টুকটুকি টুকটুকি…..
বোনকে ক্ষেপাচ্ছে শুভ্র । শাফাহ্ গাল ফুলিয়ে বললো….
” আম্মু , তোমার ছেলেকে ভালো হতে বলো ।
” উফফফ , খাওয়ার মাঝে কি শুরু করলি আবার ? তোরা এই রোজ রোজ ঝগড়া করে একটুও ক্লান্ত হোস না ? আর তুই , ভাইয়া তো তোকে আদর করে টুকটুকি বলে , কতবার বলবো ?
নাক টেনে খাওয়ায় মনযোগ দিলো শাফাহ্ ।
তোফায়েল কাবির আর তৌসিফ কাবির ছেলে মেয়েদের খুনসুটি দেখে নীরবে হাসলেন ! রুবিনা কাবির আর চুপ থাকতে পারলেন না । উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন…..

” আদ্র , ভাইকে একটা কল করে দেখনা । কোথায় আছে ও ? এখনও ফিরছে না কেনো ? দশটা বাজতে চললো ! এতো দিন পর কোথায় গেছে , একটু খোঁজ নিয়ে দেখ না !
তার কথা শেষ হতেই মেঘা চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো । আদ্র তড়িতে তাকালো ওর দিকে । মায়ের কথা উপেক্ষা করে মেঘা কে বললো….
” খাবি না আর ?
” খাওয়া শেষ ভাইয়া । আর খেতে ইচ্ছে করছে না ।
বলেই হাত ধুয়ে নিলো বেসিনে । রুবিনা কাবির উপর উপর বিরক্তি প্রকাশ করলেন ।
খাওয়া দাওয়ার পাট চুকিয়ে যে যার ঘরে ।
বেশ কদিন ধরে ভার্সিটি যাওয়া হয় নি । কাল যেতে হবে । এই কদিনের সব পড়া জমে আছে । অনেক লেকচার মিস গেছে । আদ্র দু’টোকেই ডেকেছে নিজের ঘরে । গত‌ দিন গুলোর লেকচার নিয়ে টুকটাক বুঝিয়েছে ওদের । ভার্সিটির প্রথম বর্ষের শেষ সময় । এই সময়টাতেই ক্লাস মিস গেছে । আদ্র ওদের ডিপার্টমেন্টের ইংলিশ লেকচারার । নিজের ক্লাস টুকু নিয়ে যথাসম্ভব তৎপর সে ।
রাত এগারোটা গড়িয়ে বারোটার কোঠায় । ঘুমে টলছে শাফাহ্ । হাই তুলছে বারবার । আদ্র দু’টোকেই দেখলো । অতঃপর ছাড় দিলো ওদের । ছাড় পাওয়া মাত্রই বই টই সব রেখে নিজের ঘরে ছুটলো শাফাহ্ । মেঘা আর আদ্র হেসে ফেললো । খাটে বসে ফোন ঘাটছে আদ্র । মেঘা ওর টেবিলটা গুছিয়ে নিজেদের বই পত্র হাতে তুলে বললো….

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২

” গুড নাইট, ভাইয়া ।
” হুম , গুড নাইট । যা গিয়ে ঘুমা এখন । আমিও ঘুমাবো ।গত দু’দিন আমাকে শান্তিতে ঘুমাতে দিস নি ।
” সরি ভাইয়া , এন্ড থ্যাঙ্ক ইউ । আমার এতো টেক কেয়ার করার জন্য । এখন যাই ….
আদ্রের ঘর থেকে বেরিয়ে দরজা চাপিয়ে দিলো মেঘা ।
আদ্রের ঘরের পাশেই ওর আর টুকটুকির ঘর । ওটা এতক্ষণে ঘরে গিয়ে চিৎপটাং হয়েছে হয়তো । ভেবেই ফিক করে হাসলো মেঘা । এক হাতে দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকলো ।
এদিকে সিঁড়ির উপর ঠিক করিডোরের পাশে সরু ধারালো দৃষ্টিতে মেঘার কার্যকলাপ পরখ করলো রৌদ্র । আদ্রের ঘর হতে বের হওয়া থেকে শুরু করে পাশের ঘরে ঢোকা পর্যন্ত , সবটা ।

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪