Home ইশকে এ নিকাহ ইশকে এ নিকাহ পর্ব ৯

ইশকে এ নিকাহ পর্ব ৯

ইশকে এ নিকাহ পর্ব ৯
লাইরা আয়নাত

ইনায়াতের ওই আনএক্সপেক্টেড স্ল্যাপ খেয়ে আয়াজ আজ সারাদিন রাগে ফাটছে। তার ফেসিয়াল এক্সপ্রেশনে একটা ডার্কনেস, চোখেমুখে প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে। ভেতরে ভেতরে একটা ঘুমন্ত ভলকানোর মতো ফুঁসছে সে। মনে হচ্ছে যেকোনো মুহূর্তে তার এই কন্ট্রোলড অ্যাঙ্গার একটা ম্যাসিভ এক্সপ্লোশনে রূপ নিতে পারে এবং তার আশপাশের সবকিছু ডেস্ট্রয় করে দিতে পারে।
অন্যদিকে, ইনায়াত ভার্সিটিতে যাওয়ার এক্সকিউজ দিয়ে তাদের আ্যাশদের গ্র্যান্ড এবং লাক্সারিয়াস ক্যাসেল থেকে বের হয়। মর্নিংয়ের ফ্রেশ ব্রিজের মাঝে বাইরে স্টেপ রেখেই সে প্রথমে তার মায়ের সাথে একটা ইমোশনাল মিট-আপ করে। মায়ের কেয়ারিং ফেসটা দেখে তার ভেতরে একটু গিল্ট ফিল হলেও, ডিউটির খাতিরে সে নিজের ট্রু আইডেন্টিটি আর ইমোশন পারফেক্টলি হাইড করে। এরপর আর কোনো ডিলে না করে সে ডিরেক্টলি তার MI6 এর অফিসের দিকে রওনা দেয়।

অফিসে এন্টার করতেই সে একটা হেভি, স্ট্রিক্ট আর হাই-টেক এনভায়রনমেন্ট ফিল করে। এখানকার সিনিয়রদের ডিমান্ড এবং এক্সপেক্টেশন স্কাই-হাই লেভেলের। তাদের প্রতিটা ওয়ার্ড, প্রতিটা অথরিটেটিভ অর্ডার এত সহজে ডাইজেস্ট করা যায় না। স্পেশালি যখন সামান্য মিস্টেকের জন্য সিভিয়ার পানিশমেন্ট ফেস করতে হয়, তখন ইনায়াতের ভেতরেও একটা সাইলেন্ট অ্যাঙ্গার বার্থ নেয়। কিন্তু এই রিস্কি প্রফেশনে এসে এসব নিয়ে কমপ্লেইন করার বা ইমোশনালি রিঅ্যাক্ট করার কোনো স্কোপ নেই।আজকে তাকে তার সিনিয়র অফিসার লিওনার্দোর সাথে মিলে একজন স্পেশাল টার্গেটকে স্টক করার ক্রিটিক্যাল অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়েছে।

লিওনার্দো তাদের ডিপার্টমেন্টের মোস্ট স্মার্ট, চার্মিং এবং হ্যান্ডসাম অফিসারদের মধ্যে একজন। হিজ পারসোনালিটি ইজ টোটালি ম্যাগনেটিক। তার হাঁটাচলা, কথা বলার স্টাইল, সবকিছুতেই একটা ওভার-কনফিডেন্ট ভাইব। কিন্তু তার একটা বিগ নেগেটিভ সাইড আছে। সে একদম টিপিক্যাল প্লেবয় টাইপের। সিম্পল ল্যাঙ্গুয়েজে বলতে গেলে, সে এত হাই লেভেলের ফ্লার্ট যে কোনো ফিমেল ক্রিমিনালকে নিজের ওয়ার্ডসে ভুলিয়ে অ্যারেস্ট করার আগে সুযোগ পেলে তাকে বেড পর্যন্ত নিয়ে যেতেও হেজিটেট করে না। তার এই আনপ্রফেশনাল এবং ডিসগাস্টিং হ্যাবিটের জন্য তাকে ইতিমধ্যে দুবার সাসপেন্ডও হতে হয়েছে। কিন্তু লোকটার অ্যারোগ্যান্ট অ্যাটিটিউডে কোনো হেলদোলই নেই।
নাভিদ এইসব ভালো করেই জানে। সে অনেক ট্রাই করেছিল এই স্পেসিফিক মিশনে তাদের সাথে অ্যাটাচ হতে। সে ইনায়াতকে অন্য কোনো ছেলের সাথে এতটা ক্লোজ হতে দিতে চায় না, স্পেশালি নিজের বোন কে লিওনার্দোর মতো একটা টক্সিক পার্সনের সাথে তো একদমই না। কিন্তু ব্যাড লাক, সেন্ট্রাল কমান্ড থেকে নাভিদকে অন্য একটা আর্জেন্ট কেসে ডিপ্লয় করে দেওয়া হয়েছে।

ইনায়াত আর লিওনার্দো এখন একটা ক্যাফেতে বসে আছে। এই ক্যাফেরই অপজিট কর্নারে একটা ডার্ক বুথে বসে আছে একজন নটোরিয়াস গ্যাংস্টারের মোস্ট ট্রাস্টেড ম্যান। হিম-কেই স্টক করার জন্য তারা এখানে কাম করেছে। ইনায়াত একদম কুল এবং কম্পোজড হয়ে চুপচাপ মেনু কার্ডে চোখ বুলাচ্ছে। তার চোখ মেনুতে থাকলেও ফোকাস টোটালি টার্গেটের দিকে। কারণ আপাতত টার্গেটের মুভমেন্ট সাইলেন্টলি অবজার্ভ করা ছাড়া তাদের আর কোনো ওয়ার্ক নেই।
লিওনার্দো ইনায়াতের এই নিরাসক্ত আর আইসি ভাব দেখে মনে মনে অ্যামেইজড হয়ে যাচ্ছে। ডিপার্টমেন্টের প্রায় সব গার্লসই সাধারণত তাকে লাইন মারে, তার একটু অ্যাটেনশন পাওয়ার জন্য ক্রেজি হয়ে থাকে। বাট দিস গার্ল ইনায়াত তার দিকে প্রপারলি একবার তাকাচ্ছেও না। লিওনার্দো এবার একটু সিরিয়াস টোনে নিজের ভয়েস লো করে টেবিলের দিকে একটু ঝুঁকে বলে, “ইনায়াত, ফোকাস অন মি। টক টু মি। এমন রোবটের মতো বসে থাকলে তো হবে না।”

ইনায়াত একটু নড়েচড়ে বসে। মুখে একটা পারফেক্ট ফেক স্মাইল ফুটিয়ে সে লিওনার্দোর চোখে সরাসরি দৃষ্টি রেখে নিচু গলায় উত্তর দেয়, “সরি স্যার।”
লিওনার্দো তার দিকে কেয়ারফুলি একদৃষ্টে অবজার্ভ করতে করতে বলে, “একটু ফ্রেন্ডলি-ভাবে কথা বলার ট্রাই করো। যেকোনো একটা র‍্যান্ডম টপিক তোলো। সে কন্টিনিউয়াসলি চারপাশে তাকাচ্ছে। তার মনে এক বিন্দু সাসপিশন তৈরি হলেই সাথে সাথে কেটে পড়বে। উই কান্ট লুজ হিম।”
এটা শুনে ইনায়াত খুব কেয়ারফুলি একটা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে। নিজেকে রিল্যাক্সড দেখানোর অ্যাক্টিং করে সামনের কফি মগে সফট একটা চুমুক দিতে দিতে মুচকি হেসে ক্যাজুয়াল সুরে বলে, “ইয়েস স্যার। আমি সবকিছু নরমাল রাখার ট্রাই করছি।”

এই ক্যাজুয়াল কথার মাঝখানে লিওনার্দো হঠাৎ করেই তার আসল প্লেবয় চেহারা প্রকাশ করে একটা ইনঅ্যাপ্রোপ্রিয়েট কোয়েশ্চেন করে বসে, “বাই দ্য ওয়ে, তুমি কি সিঙ্গেল?”
ইনায়াত বিন্দুমাত্র অভিভূত না হয়ে, একদম কোল্ড এবং ডিরেক্ট সুরে উত্তর দেয়, “নিজের পারসোনাল লাইফ নিয়ে অন-ডিউটি ডিসকাস করাটা আমার অপছন্দ। আশা করি আপনি বিষয়টা বুঝবেন।”
ইনায়াতের এই আইস-কোল্ড এবং ডিরেক্ট রিজেকশন দেখে লিওনার্দো এবার পুরোপুরি কনফার্ম হয়ে যাচ্ছে যে এই গার্লের সাথে লাইন মারা তার পক্ষে অন্তত পসিবল না। ইনায়াতের চোখেমুখে একটা ইম্পেনিট্রেবল ওয়াল। তাই সেও সঙ্গে সঙ্গে নিজের ইগো একপাশে রেখে প্রফেশনাল মুডে ফিরে এসে বলে, “ওকে, কোনো প্রবলেম নেই। বুঝে গেছি। কিন্তু আমাদের এখন একদম কুল মাথায় থাকতে হবে। কাল পর্যন্ত আমাদের ওকে কন্টিনিউয়াসলি ট্র্যাক করে যেতে হবে।”

ইনায়াত এবার একটা ডিপ ব্রেথ ছেড়ে বলে, “ইয়েস স্যার, আমি বুঝতে পেরেছি। কালই তো ওদের ডিল করার কথা কেয়সের সাথে। আচ্ছা স্যার তাকে ধরার সত্যিই কি কোনো চান্স আমাদের আছে?”
লিওনার্দো কফি মগটা খুব আস্তে আস্তে টেবিলে রাখে, “আমার মনে হয় না এটা ইজিলি পসিবল। আমি পারসোনালি গত চার বছর ধরে তার পেছনে প্রচুর হার্ড ওয়ার্ক করে যাচ্ছি। কিন্তু এখনো আমি বা আর কেউ, আজ পর্যন্ত তার ফেস তো দূরের কথা, তার বডির গড়ন পর্যন্ত দেখতে পারিনি। তাকে কী ধরব? আমি ঠিক জানি না কাল কী ঘটতে যাচ্ছে। কিন্তু তুমি একটা কথা মাথায় রেখো, ফ্যান্টম মাস্টারকে ধরা কোনো মুখের কথা নয়।”
লিওনার্দোর কথাগুলো শোনার পর ইনায়াতের বুঝতে আর বাকি রইল না কেওসকে ধরার জন্য তারা কোনো এফোর্টের কমতি রাখেনি, কিন্তু রেজাল্ট প্রতিবারই জিরো। আর এই রিপিটেড ফেইলিয়ারের পেছনের আসল কারণটা লুকিয়ে আছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের আরও গভীর অন্ধকারে।

মূলত, পুরো ডার্ক ওয়ার্ল্ডের পর্দার আড়ালের আসল টেরর হলো ‘কেওস সিন্ডিকেট’, আর সেই সিন্ডিকেটের শীর্ষে বসে আছে এক ভয়ংকর নাম ‘কেওস টাইরেন্ট।’ নামের মতোই সে লিটারেল অর্থেই কেওসের রক্তপিপাসু শাসক। বর্তমান আন্ডারওয়ার্ল্ডের বড় বড় মাফিয়া, কার্টেল আর গ্যাং লিডাররা তার কাছে মিয়ার পাপেট ছাড়া কিছুই না। টাইরেন্টের সামান্য এক সিগন্যালেই তারা বিনা দ্বিধায় যেকোনো ব্লাডশেড ঘটাতে প্রস্তুত। কারণ, তার পজেশনে আছে এমন এক সিক্রেট কেমিক্যাল ফর্মুলা, যা ভুল হাতে পড়লে এই পৃথিবী মানুষের মুখোশ পরা ডেভিলদের দখলে চলে যাবে। সেই লিমিটলেস পাওয়ারের লোভেই পুরো আন্ডারওয়ার্ল্ড আজ তার সামনে মাথা নত করে আছে। তবে কেওস টাইরেন্টকে শুধু মানুষ ভাবাটা হবে সবচেয়ে বড় মিস্টেক। সে মানুষের ছদ্মবেশে থাকা এক টুইস্টেড প্রিডেটর বিকৃত মানসিকতার শিকারি। তার ব্রুটালিটি হিংস্র পশুকেও হার মানায়। মানুষের জীবন তার কাছে ডাস্টের চেয়েও তুচ্ছ। শত্রুকে দ্রুত মৃত্যু দেওয়া তার স্টাইল না বরং স্লো টর্চার, আনবিয়ারেবল পেইন আর শিকারের ডেসপারেট স্ক্রিমই তার বিকৃত অ্যামিউজমেন্টের প্রধান সোর্স।

ইনায়াত বেশ কিছুক্ষণ ধরে একদম পিন-ড্রপ সাইলেন্স থেকে বলে ওঠে, “স্যার, একটা কথা বলি?”
লিওনার্দো ইনায়াতের এই হঠাৎ অরা চেঞ্জ আর আনইউজুয়াল কনফিডেন্স দেখে একটু আনপ্রিপেয়ার্ড হয়ে যায়। একটা ব্রাও সামান্য উঁচিয়ে একদম শর্ট আর কোল্ড সুরে সে জানতে চায়, “কী?”
ইনায়াত এবার আর কোনো ঘুরিয়ে কথা বলা বা সুইট র‍্যাপিংয়ে রাখার রাস্তায় হাঁটে না। কোনো আননেসেসারি ইন্ট্রো ছাড়াই একদম ডিরেক্ট অ্যাটাকে চলে যায়। সে কাম গলায় বলে, “স্যার, আমি আপনাদের সাথে মেইন মিশনে জয়েন করতে চাই। আমি জানি আমি এখানে অনেক বেশি জুনিয়র আর ফিল্ড এক্সপেরিয়েন্সও তেমন একটা নেই। কিন্তু তবুও আমাকে যদি নিজেকে প্রুভ করার একটা ফেয়ার চান্স দেওয়া হতো।”
কথাটা হিট করতেই লিওনার্দোর ঠোঁটের কোণে একটা সারকাস্টিক স্মাইল ফুটে ওঠে। তার চোখে ইনায়াত এখনো সেই ইনোসেন্ট আর ফ্র্যাজাইল ফেসের গার্লটা, যে সবেমাত্র ট্রেনিং একাডেমির সেফ আঙিনা পার হয়ে এসেছে। মাথা নেড়ে একটা রাফ আর ডিসমিসিভ সুরে সে বলে, “এটা কোনো জোক না ইনায়াত। ওসব তোমার দ্বারা পসিবল না। এগুলো কোনো থিওরেটিক্যাল ক্লাস না, এখানে সারভাইভ করতে হলে একদম পাকা প্লেয়ার হতে হয়। তোমার মতো সফট-হার্টেড আর ইমোশনাল গার্লদের জন্য এই ডার্ক ওয়ার্ল্ড একদমই না।”
ইনায়াত এবার শুধু মুচকি একটা কোল্ড স্মাইল দিয়ে টেবিলের ওপর দিয়ে একটু সামনের দিকে ঝুঁকে লিওনার্দোর চোখের একদম গভীরে দৃষ্টি স্থির করে ফিসফিসিয়ে বলে, “আমি কিন্তু কাচা প্লেয়ার নই স্যার। আন্ডারএস্টিমেট না করে আমার ওপর একটু ট্রাস্ট করে দেখতেই পারেন।”

লিওনার্দো এই কোল্ড অ্যাটিটিউডেও বিন্দুমাত্র গলে না। বরং তাচ্ছিল্যের মাত্রাটা আরেকটু বাড়িয়ে ফুল চ্যালেঞ্জিং সুরে বলে ওঠে, “ওহ রিয়েলি? শিওর? তাহলে এমন কিছু দেখিয়ে দাও যাতে তোমার এই ওভারকনফিডেন্সটা আমি নিজের চোখে দেখতে পারি। জাস্ট ইম্প্রেস মি উইথ ইওর স্কিলস।”
ইনায়াত তার ঠোঁটে সেই মিস্টেরিয়াস স্মাইলটা ধরে রাখে। এবার তার শার্প আর ক্যালকুলেটিভ ব্রেইন পুরো সিচুয়েশনটাকে টুকরো টুকরো করে অ্যানালাইজ করতে শুরু করে। সে একদম লো ভয়েসে বলে, “এই যে আপনি আমাকে এখানে নিয়ে এসেছেন একজনের ওপর নজর রাখতে, যে একটা গ্যাংস্টারের লোক হওয়ার ড্রামা করছে, সে আসলে ওই সিন্ডিকেটের কেউই না। আর মজার ব্যাপার হলো, এই ক্যাফেতে এই মুহূর্তে আমরা দু’জন ছাড়াও এমআই সিক্সের আরও চারজন অফিসার পুরোপুরি ডিসগাইজে বসে আছে।”
লিওনার্দো এবার তো শকড, “হাউ? কীভাবে পসিবল? এক্সপ্লেইন করো!”

ইনায়াত তার কোল্ড আর প্রফেশনাল অ্যানালাইসিস শুরু করে। চোখের মণি সামান্য সরিয়ে বলে, “আমাদের রাইট সাইডে থ্রি নাম্বার টেবিলে ওই যে দু’জন বসে আছে, যারা ইয়াং ভার্সিটি স্টুডেন্ট হওয়ার অ্যাক্টিং করছে। তারা খুব রিল্যাক্সড ভঙ্গিতে আড্ডা দিচ্ছে আর মাঝে মাঝে বুকের পেজ উল্টাচ্ছে। কিন্তু কথা হলো স্যার, এত লাউড মিউজিক আর ক্রাউডের শোরগোলের ভেতর কে পড়তে আসে? নোটিস করেছেন, তারা আমাদের টেবিলের দিকে ডিরেক্টলি দু’বার আর আড়চোখে প্রায় বারোবারের মতো তাকিয়েছে? এমনকি এই ক্যাফের ডিউটিতে থাকা ম্যানেজারও আমাদের দিকে এতবার লুক দেননি। এর ক্লিয়ার মিনিং তারা আমাদের ট্র্যাক করছে।”

ইনায়াত এক সেকেন্ডের একটা ব্রেক নেয়। এরপর লেফট দিকে মাথা না ঘুরিয়েই সাটল বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বজায় রেখে বলে চলে, “আমাদের লেফট সাইডে ফোর নাম্বার টেবিলে ওই যে একজন সিরিয়াস চেহারার লোক বসে আছেন, নোটিস করুন উনি একদৃষ্টে প্রায় থার্টি-থ্রি মিনিট ধরে মেনু কার্ড দেখছেন। উনার চেয়ারের পাশে একটা আমব্রেলাও রাখা। অথচ ওয়েদার ফোরকাস্টে আজ পুরো সানি ডে এবং রেইনের জিরো পারসেন্ট চান্স। মেনু কার্ড দেখা শেষ করে উনি বারবার চারপাশে দৃষ্টি বুলাচ্ছেন। এটা শো করার জন্য যে উনি কারো জন্য ওয়েট করছেন। কিন্তু স্যার সাইকোলজি বলে, কেউ যদি সত্যি হাফ অ্যান আওয়ার ধরে কারো ওয়েট করে তবে তার মুখে ফ্রাস্ট্রেশন অথবা ইম্পেশেন্স ফুটে উঠবেই। যা উনার মুখে হান্ড্রেড পারসেন্ট অ্যাবসেন্ট। উনি নিজেকে এক্সট্রা কুল দেখানোর ট্রাই করছেন, কিন্তু এর মাঝেই উনি আমাদের দিকে এইট বার অবজারভেশন-মোডে দৃষ্টি ছুঁড়েছেন।”

লিওনার্দো এখন কমপ্লিটলি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনছে। তার চোখের আগের অ্যারোগ্যান্স পুরোপুরি উবে গিয়ে একটা সফট সারপ্রাইজ জায়গা করে নিয়েছে। ইনায়াত এবার তাদের মেইন টার্গেটের দিকে ফোকাস দিয়ে ব্লেডের মতো শার্প সুরে বলে, “আর কর্নারে বসা ওই লোকটা, যাকে আপনি বলেছিলেন আমরা ফলো করব, সে মোটেও ওই গ্যাংয়ের মেম্বার না। রিজনটা সিম্পল। অফিসার রেক্স গতকালের রিপোর্টে ক্লিয়ারলি মেনশন করেছিলেন চেজ করার সময় তিনি ক্রিমিনালের রাইট আর্মের বাইসেপসে একটা ডিপ নাইফের কোপ বসিয়ে দিয়েছিলেন। লজিক্যালি তার রাইট হ্যান্ড এখন সিভিয়ার পেইনে স্টিফ অথবা হেভি ব্যান্ডেজ করা থাকার কথা। অথচ এই লোকটাকে দেখুন খুব স্মুথলি রাইট হ্যান্ড দিয়ে কাউন্টার থেকে কফি ট্রে তুলে আনল, আর এখন সেই হ্যান্ড দিব্যি বাঁকিয়ে নিউজপেপার পড়ছে। উনিও আমাদের দিকে মোট নাইন বার সাসপিশাস দৃষ্টি দিয়েছেন। এই পুরো ক্যাফের মধ্যে এই স্পেসিফিক কয়েকজনের বিহেভিয়ারাল প্যাটার্ন আমার কাছে চরম অ্যাবনরমাল লেগেছে। আর আমি একদম শিওর আমি রং নই।”

ইনায়াতের এই আনবিলিভেবল অবজারভেশন পাওয়ার আর এক্সট্রাঅর্ডিনারি লেভেলের ইন্টেলিজেন্স দেখে লিওনার্দো নিজের সিট থেকে অর্ধেক উঠে দাঁড়ায়। দু’হাত সামান্য ছড়িয়ে দিয়ে ড্রামাটিক অ্যাপ্রিসিয়েশনের ভঙ্গিতে সে বলে ওঠে, “আই অ্যাম স্পিচলেস! আমি সত্যিকার অর্থেই ইম্প্রেসড!”
ঠিক ওই মুহূর্তেই ক্যাফের ভেতরে ছড়িয়ে থাকা সেই অফিসাররা একে একে নিজেদের কভার ভেঙে তাদের টেবিলের দিকে এগিয়ে আসে। তাদের মধ্যে একজন ইনায়াতের দিকে তাকিয়ে ফুল অ্যাপ্রিসিয়েশনের সুরে বলে, “এই স্পেশাল ফিল্ড টেস্টে জুনিয়রদের মধ্যে কদাচিৎ কেউ টিকতে পারে। কিন্তু তোমার অবজারভেশন পাওয়ার আর ইন্টেলিজেন্স তো জাস্ট অসাধারণ!”

ইনায়াত শুধু একটা গ্রেটফুল স্মাইল দিয়ে আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ায়। কিন্তু খেলা এখনো শেষ হয়নি। আসল ক্লাইম্যাক্স তো সবেমাত্র শুরু হতে যাচ্ছে। হঠাৎ লাইটনিং স্পিডে ইনায়াতের রাইট হ্যান্ড তার জ্যাকেটের পকেটে চলে যায়। চোখের পলকে একটা হাই-ভোল্টেজ ইলেকট্রিক শক নাইফ বের করে এনে ডিরেক্টলি লিওনার্দোর মুখ বরাবর ছুঁড়ে দেয় সে! এই আনএক্সপেক্টেড এবং ডেডলি অ্যাটাকে লিওনার্দো হেল্পলেস হয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে। কিন্তু নাইফটা তার কানের একদম মিলিমিটার পাশ ঘেঁষে বাতাসে একটা শার্প শোঁ সাউন্ড তুলে পেছনে ছুটে যায়। ঠিক লিওনার্দোর পেছনে ট্রে হাতে এগিয়ে আসতে থাকা একজন স্টাফের রাইট হ্যান্ডের রিস্টে গিয়ে নিখুঁতভাবে গেঁথে যায় সেটা।
সাথে সাথে একটা ইলেকট্রিক স্পার্কের সাউন্ড হয়। সেই স্টাফের অবশ হয়ে আসা হ্যান্ড থেকে মেটালিক ট্রে ঝনঝন করে ফ্লোরে আছড়ে পড়ে। আর সেই ট্রে-র ঠিক নিচেই এতক্ষণ লুকিয়ে রাখা একটা সাইলেন্সার লাগানো গ্লক গান ছিটকে গিয়ে মার্বেল ফ্লোরে পড়ে।

ইনায়াত লিওনার্দোর শকে বড় হয়ে যাওয়া চোখের দিকে স্থির আর আইস-কোল্ড দৃষ্টিতে তাকায়। কোল্ড গলায় সে বলে, “পুরো কথাটা তো শেষ করতেই দিলেন না স্যার। আপনারা আমাকে টেস্ট করার জন্য যাদের বসিয়েছিলেন তাদের বাইরেও এই ব্লাইন্ড কর্নারে একজন আসল কিলার ওয়েটারের ডিসগাইজে কাজ করছিল। যে যেকোনো মুহূর্তে আমাদের ওপর ডেডলি অ্যাটাক চালাতে পারত। আপনাদের ফেক সেটআপ আমি ধরতে পেরেছি ঠিকই, কিন্তু আমার চোখ এই আসল ব্লাডথার্স্টি আর কনফার্ম মার্ডারের আভাকে এত সহজে মিস করতে পারে না।”
লিওনার্দো এক সেকেন্ডও ওয়েস্ট না করে ছুটে গিয়ে সেই ডিসগাইজড ওয়েটারকে কলার চেপে ফ্লোরে চেপে ধরে। এই মুহূর্তে সেখানে প্রেজেন্ট প্রত্যেকটা অফিসারের ব্রেইনে একটা মেসেজ ক্লিয়ারলি গেঁথে যায়। এই ইনায়াত বাইরে থেকে যতই শান্ত দেখাক না কেন, ব্রেইনের রিঅ্যাকশন আর ট্যাকটিক্যাল স্কিলের দিক থেকে সে কারো চেয়ে এক মিলিমিটারও পিছিয়ে নেই। তার মতো একজন শার্প আর রেজার-এজড মাইন্ডের অফিসারকে রেকগনিশন দিতে তাদের আর কোনো ডাউট থাকে না। ইনায়াতের ভেতরে যে একটা ফ্যান্টম লেভেলের ইন্টেলিজেন্স আর রুথলেস সাইলেন্ট কিলারের সহজাত ইনস্টিংক্ট ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল তা আজ এই এমআই সিক্স টিমের সামনে একটা মাস্টারপিসের মতো রিভিল হয়ে যায়।

ইনায়াত অ্যাশ ফ্যামিলির রয়্যাল লিভিং রুমের এক কোণায় চুপচাপ বসে আছে। আজ বাড়ির সব এল্ডার্স একসাথে প্রেজেন্ট। পুরো রুমটাই ওয়ার্ম ভাইব আর পজিটিভ এনার্জিতে ভরে আছে। কেউ চা-কফির কাপ হাতে পুরোনো দিনের মেমোরিজ শেয়ার করছে, কেউ আবার চুটিয়ে গসিপ করছে, কেউবা ছোটদের লেগ-পুলিং করে হেসে গড়িয়ে পড়ছে। এই ফ্যামিলিটা এমনই, যত বিজি লাইফই হোক না কেন, ফ্যামিলি বন্ডিং আর রিলেশনশিপগুলোকে এরা সবসময় টপ প্রায়োরিটি দেয়। এদের ভেতরের স্ট্রং কানেকশন বাইরে থেকে দেখলে যে কারো হার্ট মেল্ট করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
ইনায়াত একটু আড়ালে, ঠিক আয়াজের মম এর পেছনের সোফাটায় বসে আছে। কাঙ্গালের মতো চোখে সে তাদের কে দেখছে। সে কারো সাথে কথা বলছে না, জাস্ট সাইলেন্টলি চারপাশের মানুষগুলোকে অবজার্ভ করছে। এই বাড়ির ম্যাসিভ চ্যান্ডেলিয়ারের আলো, গোল্ডেন ইন্টেরিয়রের রয়্যালটি, এই গ্ল্যামারাস পরিবেশের কিছুই তাকে এক ফোঁটাও অ্যাট্রাক্ট করেনি। তবে আজ তার পুরো অ্যাটেনশন একদম ম্যাগনেটের মতো আটকে আছে এই পরিবারের ফাদার ফিগারদের দিকে, তাদের সেলফলেস আর পিওর অ্যাফেকশনের দিকে।

বাবারা তাদের ছেলেমেয়েদের সাথে কতটা ফ্রেন্ডলি, কতটা ওপেন আর ইজি হতে পারে তা এখানে না এলে হয়তো সে জানতোই না। তাদের মাঝে কোনো ইনভিজিবল ওয়াল নেই, কোনো ডিস্ট্যান্স নেই, নেই কোনো ফিয়ার। থিয়া কী বিশাল একটা ব্লান্ডার করে নিজের পুরো ক্যারিয়ারটাকে প্রায় ধ্বংসের মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে, অথচ তার ড্যাড একটাও হার্শ ওয়ার্ড উচ্চারণ করেননি।
সবাই নিজের বাবার সাথে হাসিমুখে এতটাই ক্যাজুয়াল ওয়েতে গল্প করছে মনে হচ্ছে তারা বাবা নয়, বরং ক্লোজেস্ট বেস্ট ফ্রেন্ড। কেউ বাবার কাঁধে মাথা রেখে রিল্যাক্স করছে, কেউ নির্ভরতায় বাবার হাত ধরে আছে, কেউ আবার বাবার সাথে কোনো ইনসাইড জোক শেয়ার করে দম ফাটিয়ে হাসছে। আর এই পুরো বিউটিফুল সিনারিও দূর থেকে শুধু দেখছে ইনায়াত। নিস্পলক দৃষ্টিতে। তার ভেতরে ভেতরে একটা সাইলেন্ট স্টর্ম সবকিছু তছনছ করে দিচ্ছে তাকে।

বুকভরা আক্ষেপ নিয়ে তার সাবকনশাস মাইন্ডে একটাই কোশ্চেন বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে, “আমার কেন এমন একজন বাবা নেই? আমার আর আমার ভাইয়ের ডেস্টিনিতে কেন এমন একজন ড্যাড জুটলো না? আমাদের বাবা কি অন্তত একটু, জাস্ট একটুখানি এভাবে আমাদের ভালোবাসতে পারতো না? একটাবার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে পারতো না? একবার বুকে জড়িয়ে ধরে বলতে পারতো না, মাই প্রিন্সেস, ড্যাড ইজ প্রাউড অফ ইউ?”
ইনায়াতের বুকের ভেতরটা চাপা অভিমান আর ইমোশনাল পেইনে ফেটে যাচ্ছে। এই সাফোকেটিং সাইলেন্ট পেইনটা শুধু একটা মেয়েই ডিপলি ফিল করতে পারে, যখন তার বাবা এই পৃথিবীতে অ্যালাইভ অ্যান্ড ব্রিদিং থেকেও তার নিজের জীবনে পুরোপুরি অ্যাবসেন্ট থাকে। যখন বাবা থাকা আর না থাকার মাঝে কোনো ডিফারেন্সই এক্সিস্ট করে না। এই দমবন্ধ করা ট্রমাটিক কষ্টটা সে কাউকে মুখ ফুটে এক্সপ্লেইন করতে পারবে না, আর কেউ কখনো সেটা বুঝতেও পারবে না।

আয়াজকে তার ড্যাডের সাথে এতটা চিয়ারফুল, হ্যাপি আর কেয়ারফ্রি দেখে ইনায়াতের আজ বারবার মন চাইছে একবার উঠে গিয়ে চুপচাপ ওই মানুষটার কাছে বসতে। তার ভেতরের ইমোশনাল লিটল গার্লটা আর্তনাদ করে বলতে চাইছে, “আংকেল, না না, ড্যাড, আমার না বাবা থেকেও নেই। আপনি তো রিলেশনে আমার ফাদার-ইন-ল, বাবারই সমান। আমাকে কি একটু নিজের মেয়ে ভেবে আপনার পাশে বসতে দেবেন? বেশিক্ষণ না, জাস্ট একটুখানি বসবো। শুধু একবার মাথায় হাতটা রাখবেন? শুধু একবার বলবেন, মাই চাইল্ড, আই অ্যাম হিয়ার ফর ইউ? ”
কিন্তু রিয়েলিটি বড়ই হার্শ বড়ই ক্রুয়েল। এই ইমোশনাল কথাগুলো সে কখনোই কারো সামনে মুখ ফুটে বলতে পারবে না। যেখানে নিজের বায়োলজিক্যাল ফাদারই তাকে ভালোবাসলো না, এক্সেপ্ট করলো না, সেখানে অন্যের বাবা কেন তাকে নিজের মেয়ের মতো লাভ আর কেয়ার দেবে? ঠিক কোন রাইটে সে এই এক্সপেক্টেশন রাখবে? ইনায়াত একটা ফিকে, বিটার আর পেইনফুল স্মাইল দিয়ে অবশেষে নিজের চোখ ফিরিয়ে নেয়। থাক, মিছেমিছি ফলস হোপ আর এক্সপেক্টেশন বাড়িয়ে নিজেকে আরো হার্ট করে কোনো লাভ নেই। এই ওয়ার্ল্ডে কিছু পেইন এমন হয় যেগুলো শুধু নিজের ভেতরেই জমিয়ে করে রাখতে হয়, কাউকে দেখানো যায় না।

ইনায়াত আর এই লিভিং রুমে এক সেকেন্ডও বসে থাকতে পারবে না। এই পারফেক্ট ফ্যামিলির ড্রিম-লাইক সিনারিও যত দেখবে, তার ভেতরের পেইন তত মাল্টিপ্লাই হবে, তত ডিপ আর আনবিয়ারেবল হয়ে উঠবে। দম আটকে আসছে তার। গলার কাছে একটা শক্ত দলা পাকিয়ে উঠেছে। তাই সবার অগোচরে, একদম সাইলেন্টলি নিজের ভারী হয়ে আসা পা দুটোকে টেনে সে নিজের রুমের দিকে এগোতে থাকে। পেছনে রেখে যায় হাসির শব্দ, ওয়ার্ম কনভারসেশন আর একটা পারফেক্ট ফ্যামিলির ছবি, যেটাতে সে কখনোই বিলং করতে পারবে না।
কিন্তু আয়াজের শার্প, ঈগল-লাইক আইজ এই ব্যাপারটা একদমই এড়াতে পারে না। ইনায়াতের ওই কাঙাল চাহনি, তার চোখে জমে থাকা আনস্পোকেন পেইন আর এই সাইলেন্ট, আনঅ্যানাউন্সড প্রস্থান সবকিছুই আয়াজ পারফেক্টলি নোটিশ করেছে। জাস্ট নোটিশই করেনি, এর পেছনের ডিপ, হিডেন মিনিংটাও সে এক্সাক্টলি রিড করতে পেরেছে।

ইনায়াতের ওপর সে যতই স্ট্রিক্ট থাকুক, যতই কোল্ড বিহেভ করুক, যতই অ্যাঙ্গরি পিসড অফ থাকুক না কেন, মেয়েটাকে এতটা ব্রোকেন, এতটা ডিপ্রেসড আর শ্যাটারড দেখে আয়াজের ভেতরের কোথাও একটা নাম অজানা ব্যাথা মোচড় দিয়ে ওঠে। কোনো এক আননোন কর্নারে একটা চিনচিনে ব্যথা শুরু হয়, যেটাকে সে অ্যাকনলেজ করতে চায় না, কিন্তু অ্যাভয়েডও করতে পারে না। তার কনফিউজড মাইন্ডে শুধু একটাই কথা ঘুরছে, “এই মেয়েটার চোখে আজ এত পেইন কেন? এর সাইলেন্স এত হেভি কেন?”

রাত এখন নটা। ইনায়াত নিজের রুমের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আছে। তার দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে দূরের ওই ডার্ক স্কাইয়ের দিকে। রাতের এই নিস্তব্ধতার মাঝেও তার মাইন্ডে এখন শুধু একটাই নাম কনস্ট্যান্টলি ঘুরপাক খাচ্ছে, কেয়স টাইরেন্ট। সে খুব ভালো করেই জানে ব্যাপারটা নেক্সট টু ইমপসিবল। কিন্তু তারপরও যদি কোনোভাবে সে ওই মিস্ট্রিয়াস লোকটার ট্রেস বের করে ফেলতে পারে, তাহলে এম আই সিক্সে তার পজিশন একদম সলিড হয়ে যাবে।

কেয়স টাইরেন্টকে নিয়ে ল্যাপটপে আরও কিছু ইনফরমেশন সার্চ করার জন্য ইনায়াত পেছনের দিকে ঘুরে রুমে পা বাড়ায়। কিন্তু দরজার কাছে যেতেই সে হঠাৎ থমকে দাঁড়াতে বাধ্য হয়। ঠিক সেই মুহূর্তেই আয়াজ ব্যালকনিতে এন্টার করছে। আয়াজ ধীর পায়ে ভেতরে এসেই তার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। একটু আগের লিভিং রুমের ঘটনা আয়াজের মাইন্ডে বারবার ঘুরপাক করছে, বিশেষ করে ইনায়াতের ওই চাহনি আর রিঅ্যাকশন। তবে আপাতত সেই টপিকে না গিয়ে সে স্ট্রেটকাট ওয়েতে বলে ওঠে, “আজ তুমি এখানে এই ব্যালকনিতেই থাকবে। আমার রুমে তোমার জন্য কোনো স্পেস নেই।”
ইনায়াতের মাঝে কোনো হেলদোল দেখা যায় না। সে একদম রিল্যাক্সড ওয়েতে আয়াজের ফেসের দিকে তাকায়। তার ভয়েসে বিন্দুমাত্র কোনো প্যানিক নেই, বরং একটা কামনেস কাজ করছে সেখানে। সে বেশ শান্ত গলায় রিপ্লাই দেয়, “ওই মারটা আপনি আপনার চিপ বিহেভিয়ারের জন্য খেয়েছিলেন। তাই আমি এক্সপেক্ট করবো, অন্তত এই লেইম এক্সকিউজ দেখিয়ে আপনি আমাকে রুম থেকে আউট করবেন না।”
ইনায়াতের এই নির্বিকার কথা শুনে আয়াজের ভেতরের চাপা অ্যাঙ্গার তো ব্লাস্ট করতে শুরু করে। সে রাগে দাঁত চেপে তীক্ষ্ণ স্বরে বলে, “আমি জাস্ট একটু টাচ করেছি, আর তার জন্য আমাকে এভাবে মারতে হবে? আমি তোমার টিচার হই সম্পর্কে। অন্তত একটু রেসপেক্ট তো শো করবে, বেয়াদব মেয়ে!”

কথাগুলো শুনে ইনায়াতের ঠোঁটের কোণে একটা বাঁকা, সারকাস্টিক স্মাইল ফুটে ওঠে সে নিজের ট্রাউজারের পকেটে দুই হাত একদম রিল্যাক্সড ম্যানারে গুঁজে দিয়ে চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ করে বলে, “তা শুনি স্যার, এক্সাক্টলি কোন টিচার নিজের স্টুডেন্টকে এভাবে ব্যাডলি টাচ করে?”
ইনায়াতের এই সাহসী প্রশ্নের জবাবে আয়াজের চোখে একটা ডেভিলিশ গ্লিটার খেলে যায়। ঠোঁটের কোণে একটা শয়তানি স্মাইল ঝুলিয়ে সে পালটা প্রশ্ন করে, “তুমি রিয়েলি জানতে চাও, কোন টিচার?”
ইনায়াত সামান্য ভ্রু কুঁচকে বিরক্তির সাথে বলে, “হ্যাঁ?”
এটা শুনে আয়াজ ইনায়াতের দিকে একটু ঝুঁকে আসে। একদম তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে, “যে টিচার একইসাথে হাসবেন্ড হয়, সেই টিচার। আসো, তুমি তো আবার এভাবে থিওরিটিক্যালি কিছু বুঝতে পারবে না। তোমায় বরং প্র্যাকটিক্যালি ধরে বুঝাই।”
এই কথা বলেই আয়াজ ধীর হাতে সামনে এগিয়ে ইনায়াতের ওয়েস্ট জড়িয়ে ধরতে উদ্যত হয়। কিন্তু আয়াজ তাকে টাচ করার আগেই ইনায়াত অত্যন্ত কুইকলি এক স্টেপ পেছনে সরে গিয়ে কঠিন স্বরে বলে, “ফার্স্ট অফ অল, আপনি আমার হাসবেন্ড নন। আর সেকেন্ডলি, আপনার শেখানো এই চিপ লেসনের বিন্দুমাত্র কোনো রিকোয়ারমেন্ট আমার নেই।”

আয়াজ কথাগুলো শুনে ভেতরে ভেতরে ফিউরিয়াস হয়ে ওঠে। তার পুরুষালি ইগোতে খুব জোরে একটা ধাক্কা লাগে। তবে নিজের ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন যথেষ্ট নরমাল রাখার চেষ্টা করে সে তাচ্ছিল্যের সুরে বলে, “তোমার মতো একটা মেয়েকে আমি ক্রাউন নিজে থেকে একটু এটেনশন দিচ্ছি দেখেই এত ডিমান্ড দেখাচ্ছো, তাই না? সব বুঝতে পারছি আমি।”
ইনায়াত ডিসগাস্ট আর বিরক্তি নিয়ে আয়াজের দিকে তাকায়। সে ঝাঁঝালো গলায় বলে, “আপনাকে কে বলেছে রে ভাই আমাকে এটেনশন দিতে? আমি তো আপনাকে আর রিকোয়েস্ট করিনি।”

আয়াজ এই কথার কাউন্টারে কিছু একটা শার্প রিপ্লাই দিতে যাবে, ঠিক সেই মুহূর্তেই এভা এখানে চলে আসে। সে সরাসরি তাদের দুজনের মাঝখানে এসে দাঁড়ায় আর বেশ ওভার-সুইট টোনে বলে, “আরে, আমি অনেকবার নক করলাম। কোনো রেসপন্স না পেয়ে শেষে ভেতরেই চলে এলাম। আসলে একটা ইম্পর্টেন্ট দরকার ছিল।”
আয়াজ মনে মনে বেশ ফ্রাস্ট্রেটেড হয়ে ভাবে, এই আরেক ড্রামা কুইন এখন ঠিক সময়ে উদয় হয়েছে। এমনিতেই বউ দুই টাকার ভ্যালু দিল না, তার ওপর এখন এই ন্যাকার ঝুড়ির বাড়াবাড়ি নাটক সহ্য করতে হবে।
এভাকে দেখেই ইনায়াত ইরিটেশনে নিজের কপালে হাত রাখে। সে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে বিরক্তিতে রোল আইজ করে বলে, “ভেতরে চলে যখন এসেছোই, তখন তোমার স্পেশাল ফ্রেন্ডের সাথে কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ড করো। আমি বরং এখান থেকে মুভ করি।”

ইনায়াতের এই কথায় এভা একটু বেশিই এক্সাইটেড হয়ে পড়ে। সে খুশিতে গদগদ হয়ে আয়াজের একদম ক্লোজ এসে দাঁড়ায় আর আদুরে গলায় বলে, “আরে না না! আসলে আমরা সব কাজিনরা মিলে আজ একটা ডিনার পার্টিতে যাচ্ছি। তাই ভাবলাম, আয়াজকেও আমার পার্টি পার্টনার হিসেবে নিয়ে যাই। তোমার নিশ্চয়ই এই ব্যাপারে কোনো প্রবলেম হবে না? আর তোমায় অফার করছি না, কারণ তুমি তো কনকিউবাইন……..
এভা তার ওয়ার্ডটা কমপ্লিট করার সুযোগ পায় না। তার আগেই ইনায়াত একদম আইস-কোল্ড টোনে তার চোখের দিকে তাকিয়ে তাকে ইন্টারাপ্ট করে বলে, “কারণ আমি একজন কনকিউবাইনের মেয়ে। আমাকে সাথে নিলে তোমাদের ক্লাস ডাউন হয়ে যাবে, রাইট? চিল। আমি এমনিতেও তোমাদের ওই হাই-ক্লাস সোসাইটিতে বিন্দুমাত্র ইন্টারেস্ট রাখি না। আমার নিজের বাউন্ডারি আমি খুব ভালো করেই জানি। আর তাকে নিয়ে তুমি পার্টি পার্টনার কেন, বেড পার্টনার বানালেও আমার যায় আসে না। কারণ আমরা জাস্ট নামমাত্র একটা রিলেশনে আছি। আই হোপ, এই ম্যাটারটা এখন তোমাদের কাছে একদম ক্রিস্টাল ক্লিয়ার।”

আয়াজ রাগে দাঁত কটমট করে ইনায়াতের দিকে তাকায়। তার ম্যাসকুলিন ইগো এবার পুরোপুরি হার্ট হচ্ছে। সে পাশে দাঁড়ানো এভাকে পুরোপুরি ইগনোর করে রাফ টোনে বলে, “তুই এরিককে নিয়ে যা। আমি ইনায়াতকে নিয়েই পার্টিতে যাব। ও যখন এত করে না বলছে, তখন ওকে আজ আমার সাথেই যেতে হবে। শুধু পার্টি পার্টনার না, ওর সাথে যত ধরনের পার্টনারশিপ পসিবল তার সব পার্টনারই বানাবো ওকে।”
ইনায়াতের মাইন্ড এমনিতেই কেয়স টাইরেন্টকে নিয়ে ওভারথিঙ্কিংয়ে ব্লাস্ট হওয়ার জোগাড়। তার ওপর এই দুজনের স্টুপিড ড্রামা তার টলারেন্স লেভেল ক্রস করে যাচ্ছে। সে একদম স্ট্রেটকাট ওয়েতে ডিনাই করে ওঠে, “আমি কোথাও যাচ্ছি না আপনার সাথে, মিস্টার ক্রাউন।”

ইশকে এ নিকাহ পর্ব ৮

আয়াজ আরও এক স্টেপ সামনে এগিয়ে আসে। ইনায়াতের চোখের দিকে ডিরেক্টলি তাকিয়ে একপ্রকার ডমিনেটিং টোনে বলে, “তুমি যাবে। তুমি অবশ্যই আমার সাথে যাবে। একটা ক্লাসহীন মেয়ে তুমি, তাও আজ আমি তোমাকেই আমার সাথে নিয়ে যাব।”
ইনায়াত এক সেকেন্ডও টাইম নষ্ট না করে সোজা মুখের ওপর ফায়ার ব্যাক করে, “কিন্তু আমি আপনার মতো একজন থার্ডক্লাস মাইন্ডের লোকের সাথে পার্টিতে যাচ্ছি না তো!”

ইশকে এ নিকাহ পর্ব ১০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here