ইশকে এ নিকাহ পর্ব ১৬
লাইরা আয়নাত
শপিং মলের শ্যান্ডেলিয়ারের সোনালি আলো মার্বেল ফ্লোরে ঠিকরে পড়ছে। গ্লাস শোরুমগুলোর ভেতরের কালারফুল ব্যাগ আর মানুষের হাসিমুখগুলো সেই লাইটিংয়ে দারুণ মায়াময় লাগছে। সফট ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের সাথে ব্লেন্ড হয়ে যাচ্ছে বাচ্চাদের কোলাহল আর টিনেজারদের খিলখিল হাসি। লাইফ এখানে একটা অনগোয়িং ফেস্টিভ্যাল।
কিন্তু চাকচিক্যময় এই ভিড়ের মাঝে হেঁটে চলা ইনায়াতের জগৎ একদমই আলাদা। তার চোখে শপিংয়ের কোনো এক্সাইটমেন্ট নেই, ঠোঁটে হাসির লেশমাত্র নেই। একদম উদ্দেশ্যহীনভাবে এক শপ থেকে অন্য শপে ঘুরছে সে। ফিজিক্যালি এখানে থাকলেও মেন্টালি সে অন্য কোথাও। চারপাশের এই ব্যস্ততা আর উৎসবমুখর পরিবেশ তার কাছে বিরক্তিকর ঠেকছে। হঠাৎ করেই একটা অদেখা ঝড় এসে আঘাত হানে ইনায়াতের ভেতর। তার কানের ভেতর তীক্ষ্ণ রিংগিং সাউন্ড হতে থাকে তার দৃষ্টি ঘোলাটে হয়ে চারপাশের সবকিছু কাঁপতে শুরু করেছে। তার পা দুটো সীসার মতো ভারী হয়ে আসছে। ইনায়াত এই সিম্পটমগুলো খুব ভালো করেই চেনে। এটা তার সেই ভয়ংকর, অতি পরিচিত ওয়ার্নিং সাইন।
“নো… নট হিয়ার… এখন একদমই না…” নিজের মনেই বিড়বিড় করে ওঠে সে। কিন্তু তার শরীর কোনো রিকোয়েস্টই শোনে না। ইনায়াত জানে, জাস্ট কয়েক মুহূর্তের অপেক্ষা। এরপরই শুরু হবে তার সেই নারকীয় যন্ত্রণা। কাঁপতে থাকা পায়ে ভিড় ঠেলে মলের ওয়াশরুমের দিকে ছুটে যায় ইনায়াত। ভেতরে ঢুকেই ডোরটা শক্ত করে লক করে দেয়। বেসিনের আয়নায় দাড়িয়ে নিজেকে দেখে সে, চোখের কোণে পানি, ঠোঁট শুষ্ক, মুখটা ফ্যাকাসে আর ছাইরঙা হয়ে গেছে। ঠিক তখনই শুরু হয় সেই বিস্ফোরণ।তার মাথার ভেতর মনে হচ্ছে কেউ ভারী হাতুড়ি দিয়ে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে সবকিছু। এক, দুই, তিন থামার কোনো লক্ষণ নেই। অসহ্য যন্ত্রণায় দুহাতে মাথা চেপে ধরে ওয়ালে হেলান দিয়ে ফ্লোরে স্লাইড করে বসে পড়ে ইনায়াত। মনে হচ্ছে তার স্কালটা এই মুহূর্তেই ফেটে যাবে।আর তখনই তার নাক দিয়ে ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে আসে ডার্ক, কালচে রক্ত। এটা কোনো নরমাল রেড ব্লাড নয়, বরং এক অস্বাভাবিক কালচে তরল। মনে হচ্ছে ইনায়াতের শরীরের ভেতরের অভিশাপটাই গলে বেরিয়ে আসছে। এই রক্তের ফোঁটা ঝরে পড়ছে তার ঠোঁটে, চিবুকে আর পরনের হোয়াইট আউটফিটে। তার পাকস্থলীর ভেতর শুরু হয় সিভিয়ার ক্র্যাম্প। মনে হচ্ছে কেউ তার ভেতরটা একদম দুমড়ে মুচড়ে দিচ্ছে। ইনায়াত দাঁতে দাঁত চেপে নিজের চিৎকার আটকে রাখে। বাইরে মানুষ, বাইরে আস্ত একটা রিয়েল ওয়ার্ল্ড। কেউ যাতে এই ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ক্লু না পায়।
টানা পাঁচটা নারকীয় মিনিট এই হররের ভেতর দিয়ে পার করে ইনায়াত। তার চোখ দিয়ে কন্টিনিউয়াস পানি ঝরছে, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। এরপর খুব ধীরে ধীরে ঝড়টা শান্ত হতে শুরু করে। শরীর তাট এখনো কাঁপছে, তবে পেইনের তীব্রতা কিছুটা কমেছে।
এই সাফারিং ইনায়াতের কাছে নতুন কিছু নয়। এই কার্স জন্ম থেকেই তার সঙ্গী। ইনায়াত এবং তার ভাই নাভিদ কোনো অর্ডিনারি হিউম্যান নয়। তাদের রক্তে এমন এক পাওয়ার ফ্লো করছে যা সাধারণ মানুষের কল্পনারও বাইরে। কিন্তু প্রতিটা পাওয়ারেরই একটা চড়া মূল্য চোকাতে হয়। আর ইনায়াত এবং নাভিদ সেই প্রাইস দিয়ে যাচ্ছে তাদের প্রতিটা নিঃশ্বাসে, প্রতিটা হার্টবিটে। তারা তাদের বাবার এক্সপেরিমেন্টের ফলাফল।
কাঁপা হাতে পকেট থেকে একটা ছোট্ট ভায়াল বের করে আনে ইনায়াত। এটাই তার লাইফ-সেভিং মেডিসিন। বাইরের পৃথিবীর কেউ দেখলে হয়তো একে কোনো ইলিগ্যাল ড্রাগ বলে ভাববে। কিন্তু ইনায়াত জানে, এই মেডিসিনটাই প্রতিবার তাকে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে আনে।
ড্রাগের লাস্ট ডোজটা নেওয়ার পর টিস্যু পেপারে নাকের কালচে রক্ত মুছে আবারও আয়নার সামনে দাঁড়ায় ইনায়াত। নিজেকেই বড্ড অচেনা লাগছে তার। ফ্যাকাসে মুখ, ক্লান্ত দৃষ্টি আর শুষ্ক ঠোঁট। এই কি সেই ইনায়াত যাকে পুরো আন্ডারওয়ার্ল্ড চেনে? আউটফিটের রক্তের দাগগুলো ঘষে পরিষ্কার করে, হেয়ারস্টাইল ঠিকঠাক করে নিজেকে ম্যাক্সিমাম লেভেলে নরমাল প্রেজেন্ট করার ট্রাই করে সে। তারপর একটা ডিপ ব্রেথ নিয়ে ডোর আনলক করে দেয়। ওয়াশরুম থেকে স্টেপ আউট করতেই ইনায়াতের হার্টবিট এক মোমেন্টের জন্য ফ্রিজ হয়ে যায়। ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে আছে আয়াজ। ওয়ালে হেলান দেওয়া, হাত দুটো বুকে ফোল্ড করা আর চোখে সেই চেনা কোল্ড গ্লেয়ার। ইনায়াতের বের হওয়ার অপেক্ষাতেই সে দীর্ঘক্ষণ ধরে এখানে দাঁড়িয়ে আছে। আয়াজের ঠোঁটের কোণে একটা তীক্ষ্ণ, মকিং স্মাইল। ওকে এখানে দেখে ইনায়াতের ভেতরটা প্যানিকে কাঁপতে থাকে। আয়াজ কি সব নোটিশ করেছে? সব কি ধরে ফেলেছে? ইনায়াত ফোর্সফুলি নিজের ফেসে একটা ফেক নরমাল এক্সপ্রেশন সেট করে নেয়। একদম স্বাভাবিক থাকার নিখুঁত অভিনয়। কিন্তু আয়াজ কোনো অর্ডিনারি শিকারি নয়। আয়াজের শার্প ভিশন মানুষের ভেতরের সূক্ষ্ম অনুভূতিও রিড করে ফেলতে পারে। ইনায়াত চলে যেতে চাইলে আয়াজ তার হাত চেপে ধরে নিজের দিকে টেনে নেয়। মকিং টোনে বলে, “কী হলো, শপিং করবে না? আমি বিয়ে করছি, তুমি হ্যাপি নও? জাস্ট স্মাইল।”
আয়াজের প্রতিটা শব্দ ছুরির মতো বিদ্ধ হয় ইনায়াতের বুকে। ইনায়াত খুব ভালো করেই জানে আয়াজ ইনটেনশনালি কথাগুলো বলছে, ইনায়াত ভীষণ বিরক্ত হয়ে বলে, “প্লিজ, লেট মি গো। আমার পুরো শরীর কাঁপছে, নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছি না। আমি এক্সট্রিমলি টায়ার্ড, কথা কন্টিনিউ করার মতো সিচুয়েশনে নেই আমি।”
আয়াজের ভ্রু কুঁচকে যায়। ইনায়াতের কাঁপতে থাকা কণ্ঠ, চোখের অস্বাভাবিক পানি আর শরীরের হাই টেম্পারেচার দেখে তার মনে হলো সামথিং ইজ রং। এক হাতে আয়াজ ইনায়াতের কপাল টাচ করে, তারপর গলা। এক সেকেন্ডের মাঝেই তার ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন চেঞ্জ হয়ে যায়। বার্নিং ফিভার। ইনায়াতের শরীর ভেতর থেকে পুড়ছে। আয়াজ কিছু একটা জিজ্ঞেস করতে যায়, কিন্তু তার আগেই ইনায়াত এক ঝটকায় নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়। কারণ ততক্ষণে তার নাক দিয়ে আবারও ব্লিডিং স্টার্ট হয়েছে। কাউকে দেখানো যাবে না, স্পেশালি আয়াজকে তো কোনোভাবেই না। ইনায়াত পাগলের মতো দৌড়ে পার্কিং লটের দিকে চলে যায়। পেছনে দাঁড়িয়ে আয়াজ শুধু একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে। তার চোখে এক রহস্যময় সন্দেহ, ঠোঁটে ডার্ক স্মাইল। “ইনায়াত কিছু একটা হাইড করছে, বড় কোনো সত্যি,” মনে মনেই বলে আয়াজ।
পার্কিং লটের ঠান্ডা কংক্রিটে টলতে টলতে হাঁটে ইনায়াত। মনে হচ্ছে এই বুঝি সে সেন্সলেস হয়ে পড়ে যাবে। কোনোমতে নিজেদের গাড়িটা খুঁজে বের করে, আনলক করে কার সিটের ওপর নিজেকে এলিয়ে দেয় সে। ঠিক এক ভাঙা পুতুলের মতো। তার চোখ বন্ধ, হেভি ব্রিদিং, হাত আর পা অবশ হয়ে আসছে। তার শরীর এমন এক অস্থিরতায় সাফার করছে যা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। ইনায়াত খেয়ালই করেনি, গাড়ির ভেতরে আগে থেকেই ফেলিক্স অপেক্ষা করছে। কিছুক্ষণ পর চোখ খুলেই ফেলিক্সকে দেখতে পায় সে। আর ফেলিক্সও ইনায়াতকে দেখে পাথরের মতো ফ্রিজ হয়ে যায়।
কী টেরিফাইং লুক! ফ্যাকাসে সাদা মুখ, শরীরে এক ফোঁটা রক্তও অবশিষ্ট নেই বলে মনে হচ্ছে। ঠোঁট এতই ড্রাই যে ফেটে গেছে মনে হচ্ছে। চোখের কোণ বেয়ে অনবরত পানি ঝরছে, যদিও ইনায়াত কাঁদছে না। এটা নিতান্তই যন্ত্রণার একটা ফিজিক্যাল রিঅ্যাকশন। সে নিজের আঙুল পর্যন্ত মুভ করতে পারছে না। প্যানিকড ফেলিক্স দ্রুত পানির বোতল হাতে নিয়ে এগিয়ে আসে। ভয়ে কোনো প্রশ্ন করার সাহসও সে পায় না। ঠিক সেই মুহূর্তে ক্লিক সাউন্ড করে গাড়ির দরজা ওপেন হয়ে যায়। দরজাটা খুলেছে আয়াজ ওর হাতে বড় ব্যাগ ভর্তি ফুড আইটেম, কোল্ড ড্রিংকস, কেক, চকলেট আর স্যান্ডউইচ। আয়াজ ফেলিক্সের দিকে তাকায়। সেই অতি পরিচিত কোল্ড আর ক্রুয়েল দৃষ্টি নিয়ে বলে,
“তুমি যাও, আমি হ্যান্ডেল করছি।”
কোনো প্রশ্ন কোনো আর্গুমেন্ট না করো ফেলিক্স তৎক্ষণাৎ গাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। আয়াজ ভেতরে ঢুকে ভেতর থেকে ডোর লক করে দেয়। এবার গাড়ির ভেতর জাস্ট দুজন। আয়াজ আর ইনায়াত। আয়াজ খুব সাবধানে ইনায়াতের ঘাড়ে হাত রেখে তাকে সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দেয়। এক লিটারের আইস-কোল্ড ওয়াটার বোটলের ক্যাপ ওপেন করে সে সেটা ধরে ইনায়াতের ঠোঁটে। আর ঠিক তখনই এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য তৈরি হয়। ইনায়াত এক ঢোকে পুরো এক লিটার পানি ফিনিশ করে ফেলে। এক ফোঁটাও বাইরে পড়ে না, এক সেকেন্ডের জন্যও সে থামে না। তার ভেতরে এমন এক আগুন জ্বলছে যা পুরো সমুদ্রের পানিতেও শান্ত হওয়ার মতো নয়। আয়াজের চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে যায়। একজন নরমাল হিউম্যানের জন্য যেটা পুরোপুরি অসম্ভব, সেটা খুব ইজিলি করে ফেলে ইনায়াত। ঠিক যেমনটা আয়াজ ডাউট আর গেস করেছিল।
শরীরে সামান্য এনার্জি ফিরে আসতেই ইনায়াত হাঁপাতে হাঁপাতে হুইসপার করে বলে, “নাভিদকে ইনফর্ম করতে পারবেন? আমাকে কিছু খেতে দিন।”
আয়াজ চুপচাপ একটা প্যাকেট থেকে কেক বের করে এগিয়ে দেয়। এবার চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই দৃশ্য যা আয়াজের মেমোরিতে আজীবন গেঁথে থাকবে। ইনায়াত নিজেকে পুরোপুরি কন্ট্রোল করার ট্রাই করে। কিন্তু তার ভেতরের সেই দানবীয় ক্ষুধা কোনো বাধাই মানে না। এক বন্য জন্তুর মতো অ্যাগ্রেসিভ হয়ে সে কেকটা ছিঁড়ে খায়। তারপর চোখের পলকে একের পর এক চকলেট, স্যান্ডউইচ, বার্গার, বেভারেজ আর জাঙ্ক ফুড গোগ্রাসে গিলে ফেলে ইনায়াত।
আয়াজ স্পিচলেস হয়ে জাস্ট তাকিয়ে থাকে। তার দৃষ্টি এক মিলিমিটারের জন্যও সরে না। ড্রাগ নেওয়ার পর ইনায়াতের ভেতরের এই মনস্টারাস ক্ষুধা স্পেসিফিক টাইম পরপর এভাবেই জেগে ওঠে। এটাই ইনায়াতের অভিশাপের সবচেয়ে ডার্ক সাইড। খাবার ফিনিশ হতেই ইনায়াত সিটে মাথা এলিয়ে দেয়। তার বুক দ্রুত ওঠানামা করছে। আর ঠিক তখনই ইনায়াতের সেন্স ফিরে আসে।
এতক্ষণ ধরে ঘটে যাওয়া এই ইনহিউম্যান, ভয়ংকর আর লজ্জাজনক দৃশ্যটা আয়াজের সামনেই ঘটেছে। আয়াজ, যে ইনায়াতের সবচেয়ে বড় শত্রু। যে ইনায়াতের প্রতিটা উইকনেস তন্ন তন্ন করে খোঁজে। সেই আয়াজ এখন সবকিছু জেনে গেছে। প্যানিকে ইনায়াতের বুক সংকুচিত হয়ে আসে।
ইনায়াত কিছুটা শান্ত হতেই আয়াজ স্লো মোশনে তার দিকে ঝুঁকে আসে। এতই ক্লোজ যে ইনায়াত আয়াজের নিঃশ্বাসের উষ্ণতা পর্যন্ত ফিল করতে পারে। আয়াজের কণ্ঠে নেমে আসে বিষাক্ত এক হুইসপার, যা ছুরির চেয়েও শার্প সেই কন্ঠে সে বলে,
“তার মানে তুমি অর্ডিনারি কেউ নও। আমি শুনেছি তোমার ড্যাড মিস্টার ইভান একটা এক্সপেরিমেন্ট চালিয়েছিলেন। আর সেই এক্সপেরিমেন্টের ভিকটিম তার নিজের সন্তানেরাই। তুমি আর তোমার ব্রাদার। তোমাদের ডিএনএ মডিফাই করা হয়েছিল, যার কারণে তোমার ড্যাডকে অ্যারেস্টও হতে হয়েছিল। অ্যাম আই রাইট?”
ইনায়াতের হার্টবিটের ভেতর কেউ একটা বরফের ছুরি গেঁথে দিয়েছে বলে ফিল হলো। তার বিগেস্ট আর ডার্কেস্ট সিক্রেট। যে গোপনীয়তার জন্য তার বাবা জেল খেটেছেন, তার ফ্যামিলি বছরের পর বছর লুকিয়ে সারভাইভ করছে, সেই হিডেন ট্রুথ আয়াজ ফাইন্ড আউট করে ফেলেছে। কিন্তু ইনায়াত ইজিলি গিভ আপ করার মতো পারসন নয়। শেষবারের মতো না জানার ভান করে সে বলে, “আমি জানি না আপনি এসব কী রাবিশ বকছেন।”
কিন্তু আয়াজের দৃষ্টি স্থির। ঠোঁটে সেই একই কোল্ড আর ক্রুয়েল স্মাইল। সে আরও একটু সামনের দিকে ঝুঁকে আসে আর বলে,
“ডোন্ট লাই টু মি ইনায়াত। তুমি আজ ড্রাগস নিয়েছ। ওয়াশরুমে গিয়ে তুমি ওটা নিয়েছো। তোমার ক্লোজ আসার পরই স্মেল থেকে আমি সেটা ক্যাচ করে ফেলেছি।”
পুরোপুরি কর্নারড হয়ে যায় ইনায়াত। মাথা নুয়ে আসে তার। সব প্রতিরোধ এক মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে। দৃষ্টি ঘোলাটে হয়ে আসে আর কণ্ঠে জড়িয়ে থাকে এক্সট্রিম ক্লান্তি,
“যখন নোটিশ করেছেনই, তখন বারবার কোয়েশ্চেন করছেন কেন? ইয়েস, আই এম লাইক দিস। আমি বিস্ট এবং হিউম্যান, ভালো এবং মন্দ দুটোই। তাতে আপনার প্রবলেম কী?”
ইনায়াতের টোনে ফুটে ওঠে বছরের পর বছর জমে থাকা যন্ত্রণা, রাগ আর গিল্ট। আয়াজ এবার সোজা হয়ে বসে। আয়াজের চোখে কোনো মকিং নেই, আছে নিছক আইস-কোল্ড টেরর। ফ্রিজিং ভয়েসে সে বলে, “আমি যদি তোমার ড্যাডের কোম্পানির কাছে পুরো ট্রুথ রিভিল করে দিই? যাদের আন্ডারে এই এক্সপেরিমেন্ট চালানো হয়েছিল। তোমার ড্যাড তো তোমাদের লুকিয়ে সারভাইভ করতে হেল্প করেছিল। আমি যদি সবাইকে ইনফর্ম করে দিই, তবে রিয়ালাইজ করতে পারছ তোমাদের দুই ভাইবোনের কী অবস্থা হবে?”
ইনায়াতের চোখ ভয়ে বড় হয়ে যায়। হার্টবিট এক মুহূর্তের জন্য থেমে যাওয়ার উপক্রম হয়। নাভিদ! তার অনলি ব্রাদার। যে তার সাথে এই কার্স শেয়ার করে নিয়েছে। যাকে সে নিজের লাইফের চেয়েও বেশি ভালোবাসে। আয়াজ ঠিক সেই উইক পয়েন্টেই স্ট্রাইক করেছে যেখানে ইনায়াত সবচেয়ে বেশি হেল্পলেস। তার ঠোঁটের কোণে এক সারকাস্টিক স্মাইল ফুটে ওঠে। এমন এক স্মাইল যার প্রতিটা ভাঁজে কান্না মিশে আছে সে বলে,
“আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছেন?”
আয়াজ একদম ক্যাজুয়াল ম্যানারে কাঁধ ঝাঁকায়। তার মাঝে জিরো পারসেন্ট শেম আর রিগ্রেট। বরং এক আনবিলিভেবল অ্যারোগেন্স নিয়ে সে বলে, “অফকোর্স। নিজের বেনিফিট ছাড়া আমি এক স্টেপও ফেলি না।”
ঘৃণায় ইনায়াতের চোখ ছোট হয়ে আসে। এই মানুষটিকে সে চেনে। কিন্তু আজ আয়াজের আরও টেরিফাইং, আরও ডার্ক একটা ভার্সন ডিসকভার করছে সে। ফার্ম ভয়েসে ইনায়াত বলে, “হোয়াট ডু ইউ ওয়ান্ট? আমি আপনার সব কন্ডিশনে রাজি আছি। আমার জন্য আমি আমার ভাইয়ের লাইফ রিস্কে ফেলতে চাই না।”
এটাই ছিল সেই ট্র্যাপ, যার জন্য আয়াজ এতক্ষণ অপেক্ষা করছিল। আয়াজের ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠা ডার্ক, কুটিল স্মার্কটা ইনায়াতের শিরদাঁড়া দিয়ে এক হিমশীতল স্রোত বইয়ে দেয়। সে ফিসফিস করে বলে, “তোমাকে। আই ওয়ান্ট ইউ। তুমি আর দশটা সাধারণ মেয়ের মতো আমার ওয়াইফ হবে, আমার সংসার সামলাবে আমার সন্তানের মা হবে।”
ইনায়াতের পুরো শরীর একটা তীব্র শকে কেঁপে ওঠে। এসব কী শুনছে সে! এ কেমন ইনস্যানিটি! হতাশায় চিৎকার করে ওঠে সে, “আপনি বুঝতে পারছেন না, আয়াজ! ল্যাবের ওই এক্সপেরিমেন্টগুলো আমার ইউটেরাসের ডিএনএ পুরোপুরি মিউটেট করে দিয়েছে। এই অবস্থায় প্রেগন্যান্সি মানে একসাথে তিন থেকে পাঁচটা ভ্রূণের জন্ম দেওয়া। আমার ফিজিক্যাল কন্ডিশন এমনিতেই ক্রিটিক্যাল কনসিভ করলে আমি কোনোভাবেই সারভাইভ করব না! ফর গডস্ সেক, অরুকে বিয়ে করুন আপনি। আমাকে এভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবেন না।”
কিন্তু আয়াজ মনে হচ্ছে এক কোল্ড-ব্লাডেড স্ট্যাচু। মানুষের চোখের জল আর ইমোশনাল ব্রেকডাউন তাকে একটুও স্পর্শ করে না। তার চোখে কোনো এমপ্যাথেটিক দৃষ্টি নেই, আছে শুধু পিওর, সেলফিশ এক অবসেশন।
ফ্ল্যাট টোনে আয়াজ বলে, “অরুর প্রতি আমার কোনো স্পেশাল ফেসিনেশন নেই, বাট তোমার প্রতি আছে। চার-পাঁচ মাস পর তুমি মা হবে, হোয়াটস দ্য বিগ ডিল? তবে তোমাকে আমার হয়েই থাকতে হবে। তুমি যদি নিজেকে পুরোপুরি আমার কাছে সারেন্ডার করতে পারো, তবেই তুমি আমার স্ত্রীর স্ট্যাটাস পাবে। আর আমার স্ত্রীর পজিশন সোসাইটিতে কতটা পাওয়ারফুল, সেটা তো তুমি বোঝোই। আগে তোমার সোশ্যাল ব্যাকগ্রাউন্ডের কারণে তোমাকে একসেপ্ট করিনি, কিন্তু রাইট নাউ, অনলি ইউ ম্যাটার টু মি। থিঙ্ক অ্যাবাউট ইট।”
কথাগুলো ইনায়াতের বুকে শার্প ব্লেডের মতো বিঁধে যায়। অন্য কারও কণ্ঠে হয়তো কথাগুলো রোমান্টিক শোনাতো, কিন্তু আয়াজের এই প্রোপোজালের পরতে পরতে মিশে আছে নিছকই টক্সিক অ্যারোগেন্স আর ডার্ক ফেসিনেশন। তীব্র ডিসগাস্ট নিয়ে জানালার বাইরে মুখ ঘুরিয়ে নেয় ইনায়াত। বাইরের পৃথিবীটা একদম নরমাল, অথচ এই লাক্সারি কারের ভেতর একটা মেয়ের জীবন কাঁচের মতো টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। দাঁতে দাঁত চেপে সে শুধু উচ্চারণ করে, “ইউ সেলফিশ মনস্টার।”
আয়াজ কথাটায় পাত্তাই দেয় না। সে গাড়ি থেকে বেরিয়ে ইনায়াতের খেয়ে ফেলে দেওয়া প্যাকেটগুলো ডাস্টবিনে ডিসপোজ করে আসে, যাতে এই সিনের কোনো এভিডেন্স না থাকে। গার্ডকে গাড়িটা পরিষ্কার করার ইন্সট্রাকশন দিয়ে আয়াজ ইনায়াতের পাশের দরজাটা খুলে দেয়।
রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বেরিয়ে আসে ইনায়াত। তার চোখে আগুন, বুকে জ্বলছে তীব্র ঘৃণার লেলিহান শিখা। কিন্তু আয়াজ সম্ভবত এই হেট্রেডটুকুও এনজয় করছে। ইনায়াতের হাতটা নিজের শক্ত গ্রিপে আটকে সুইট অথচ শার্প টোনে আয়াজ বলে, “লেটস গো, ডার্লিং। টু আওয়ার নিউ ডেস্টিনেশন।”
শব্দটা শুনেই ইনায়াতের গা গুলিয়ে আসে। সে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিতে চায়, কিন্তু আয়াজের গ্রিপ স্টিলের মতো। আয়াজ তাকে টেনে নিয়ে যায় তার কালো, চকচকে আল্ট্রা-লাক্সারিয়াস গাড়িটার দিকে। আয়াজের এই গাড়ির একটা রুলস আছে জুতো খুলে ভেতরে ঢুকতে হয়। এক ফোঁটা ডাস্টও তার পারফেকশনিজমের বাইরে নয়। জুতো খুলে সিটে বসে ইনায়াত। ডোর লক হয়। ইঞ্জিন স্টার্ট নেয়।
সিটে মাথা এলিয়ে চোখ বন্ধ করে নেয় সে। এত সযত্নে লুকিয়ে রাখা সিক্রেট আয়াজ আনকভার হলো এরচেয়ে আফসোস আর কি হতে পারে? ওর এই ভাবনার মাঝেই আয়াজ ওর দিকে ঝুকে আসে। খুব কেয়ারফুলি সিটবেল্ট আটকে দিয়ে, অত্যন্ত ধীরেসুস্থে সে ইনায়াতের গালে আর কপালে এক গভীর, পজেসিভ কিস করে।ইনায়াতের সারা শরীর ঘেন্নায় রি রি করে ওঠে এতে। তীব্র বিরক্তিতে আয়াজের কাঁধে পুশ করে সে বলে, “আমার এসব একদম টলারেট হচ্ছে না। জাস্ট নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য আপনি আমাকে এভাবে ইউজ করছেন!”
আয়াজ সোজা হয়ে বসে স্টিয়ারিং হুইলে হাত রাখে। গাড়ি চলতে শুরু করে। আর ঠিক তখনই আয়াজের কণ্ঠ থেকে ড্রপ হয় সেই ক্রুয়েল ট্রুথ, যা ইনায়াতের ব্রেনে চিরতরে খোদাই হয়ে যাবে।
“কারণ আমি সেলফিশ। আর নিজের চোখের শান্তির জন্য হলেও তোমাকে আমার প্রয়োজন। আই অ্যাম অ্যাডিক্টেড টু ইউ, আর এ জন্যই তোমাকে আমার চাই। ভালোবাসি, রিজনটা মোটেও তা নয়।”
ভালোবাসি, রিজনটা মোটেও তা নয়।
এই ছোট্ট স্টেটমেন্টটা ইনায়াতের বেঁচে থাকার শেষ আশাটুকুও ডাস্টে পরিণত করে দেয়। সে জানত আয়াজ তাকে ভালোবাসে না, কিন্তু এত নির্লজ্জভাবে আয়াজ যখন সেটা কনফেস করে, তখন ইনায়াতের ভেতরটা এক শূন্যতায় হাহাকার করে ওঠে। এখানে কোনো লাভ, রেসপেক্ট বা কেয়ার নেই। আছে শুধুই টক্সিক পজেসিভনেস আর মোহ।
একদিকে ইনায়াত, যে নিজের ভেতরে লুকিয়ে রাখা এক কার্সড অ্যাবিলিটির ট্রমা ফেস করছে। যে নিজের ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে নিজের লাইফ স্যাক্রিফাইস করতেও প্রস্তুত। অন্যদিকে আয়াজ, যার সাইকোলজিতে প্রেমের বদলে আছে শুধুই ডার্ক ডিজায়ার আর স্বার্থপরতা। এই দুই পোলার অপোজিট মেরুর মাঝে শুরু হচ্ছে এক নতুন চ্যাপ্টার, যেখানে ট্রু লাভের কোনো এক্সিস্টেন্স নেই।
কালো গাড়িটা শপিংমলের পার্কিং লট পেরিয়ে হাইওয়েতে এন্টার করে। স্পিডের কারণে বাইরের জগতটা উল্টোদিকে ব্লার হয়ে ছুটছে। ইনায়াত জানালার বাইরে ব্লাংক লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে। সে জানে না এই রাইডের শেষে তার জন্য কী ওয়েট করছে। ডেথ, নাকি অন্য কিছু। সে জানে না আয়াজের এই অবসেশন কোনোদিন ট্রু লাভে টার্ন নেবে কি না।
কিছুক্ষন পর,,,
ইনায়াত ক্লান্ত পায়ে বাড়িতে ফেরে। তার প্রতিটা পদক্ষেপে এক অচেনা ভার, ভেতরটা পুরোপুরি ব্ল্যাঙ্ক হয়ে গেছে। সে সোজা নিজের রুমে ঢুকে হাতের ফোনটা বিছানার একপাশে ছুড়ে ফেলে দেয়। তার মাথাটা ভীষণ ভারী, চোখ দুটো জ্বলছে। শরীরের প্রতিটা কোষ বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে। এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে থেকে সে একটা সাদা টিশার্ট আর কালো টাউজার নিয়ে সোজা ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ায়। এখন একটু ফ্রেশ হওয়াটা খুব জরুরি, শরীরটা অন্তত কিছুটা রিলাক্স হলে ভালো হতো।
ওয়াশরুমের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সে নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে থাকে। চোখের নিচে কালচে দাগ, ঠোঁট একদম ড্রাই, মুখটা ফ্যাকাসে। ট্যাপটা ছেড়ে সে মুখে অনবরত ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিতে থাকে। ধীরে ধীরে নিজের মাথায় পানি ঢালে। কিছুটা স্বস্তি লাগে, কিন্তু ভেতরের যন্ত্রণা কমার বদলে আরো গভীর হতে থাকে।
কিছুক্ষণ পর সে ওয়াশরুম থেকে বের হতেই দরজার দিকে চোখ পড়ে তার। আয়াজ ফোনের স্ক্রিনে চোখ রেখে স্ক্রল করতে করতে রুমে ঢুকছে। পরনে তার কালো শর্টস আর সাদা টিশার্ট। এলোমেলো চুলগুলো কপালে এসে পড়েছে। চেহারায় একটা সিরিয়াস এক্সপ্রেশন। সে ফোন স্ক্রিনে ফোকাসড থাকলেও প্রতিটা মুভমেন্টে স্পষ্ট একটা নিখুঁত হিসাব আছে।
ইনায়াত একবার তার দিকে তাকিয়েই দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। সে হাতের তোয়ালে দিয়ে ধীরে ধীরে ভেজা চুল মুছতে মুছতে বেডের কিনারে এসে বসে। তার ভঙ্গিতে স্পষ্ট ক্লান্তি। কাঁধ সামান্য ঝুঁকে আছে, পিঠটা আর সোজা থাকতে চাইছে না।
আয়াজ রুমে ঢুকেই ঘুরে দাঁড়িয়ে ডোরটা ভেতর থেকে লক করে দেয়। লকের খট করে শব্দটা রুমের নীরবতা ভেঙে দেয়। ইনায়াত একবার শব্দটার দিকে কান দিলেও কোনো রিঅ্যাক্ট করে না। আয়াজ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফোনটা পকেটে রেখে দেয়। তারপর ধীর পায়ে এগিয়ে এসে সে ইনায়াতের পাশে বসে। বেডটা তার ভারে সামান্য দেবে যায়। কিছুক্ষণ সব নিশ্চুপ থাকে। রুমের ভেতর শুধু ইনায়াতের চুল থেকে পানি ঝরার শব্দ।
আয়াজ ঘাড় ঘুরিয়ে ইনায়াতের দিকে তাকায়। ভেজা চুল, ফ্যাকাসে মুখ, ক্লান্ত চোখ, আয়াজ এসব খুব তীক্ষ্ণভাবে খেয়াল করে। তারপর সে যতটা সম্ভব সফট কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে, “হাউ আর ইউ ফিলিং নাও? ডক্টরের কাছে যাবে?”
ইনায়াত একবারও তার দিকে তাকায় না। তার দৃষ্টি জানালার বাইরে স্থির। সে মুখ ঘুরিয়ে রেখেই শীতল কণ্ঠে বলে, “আমার ভালো মন্দ আমি নিজেই ডিল করব, এসব নিয়ে আপনার হেডেক নেওয়ার কোনো নিড নেই।”
কথাটা কানে যেতেই আয়াজের চোয়াল শক্ত হয়ে যায়। তার মেজাজ মুহূর্তেই খারাপ হয়ে ওঠে। সে কপালে ভাঁজ ফেলে রুক্ষ দৃষ্টিতে তাকায়, “তোমার কি অলওয়েজ আমার সাথে ত্যারামি করতে মন চায়?”
ইনায়াত সেভাবেই ঠোঁট বাঁকিয়ে জবাব দেয়, “আমার তো আপনার সাথে কনভারসেশন করতেই ইচ্ছে হয় না।”
এই কথা বলেই ইনায়াত বেড থেকে উঠে যেতে চায়। সে আর এক মুহূর্তও আয়াজের পাশে থাকতে চায় না। কিন্তু আয়াজ তাকে উঠতে দেয় না। সে এক টানে ইনায়াতের হাত ধরে নিজের কোলের ওপর বসিয়ে ফেলে। ইনায়াত পুরোপুরি শকড! তার শরীর একদম শক্ত হয়ে যায়। আয়াজ তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে, “তোমার কি আমায় কাঁচা প্লেয়ার মনে হয়?”
আয়াজের কণ্ঠে এমন একটা শীতল হুমকি আছে যা ইনায়াতের মেরুদণ্ড দিয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত বইয়ে দেয়। আয়াজের রূপ হঠাৎ করেই বদলে যায়। মুখের কোমলতা গায়েব হয়ে যায় চোখে অন্য এক ভয়ংকর আয়াজ ফিরে আসো। সে ইনায়াতকে এক ধাক্কায় বেডের ওপর ফেলে দেয়। পিঠ ঠেকিয়ে পড়ার আগেই আয়াজ তাকে পেছন থেকে চেপে ধরে।
আয়াজ ধীরে ধীরে ইনায়াতের কাঁধের ওপর মুখ নামিয়ে আনে। তার গরম নিঃশ্বাস ইনায়াতের ঘাড়ে আছড়ে পড়ছে। সে নিজের দুই হাতে ইনায়াতের কোমর এমনভাবে আঁকড়ে ধরে যে টিশার্টের সেলাই ছিঁড়ে যায়। কাপড় ছেঁড়ার শব্দটা রুমের ভেতর প্রতিধ্বনিত হয়। ইনায়াত তার নিঃশ্বাস আটকে ফেলে, তার পেশি একদম টানটান হয়ে যায়।
আয়াজ তার কানের একদম কাছে মুখ রেখে চাপা স্বরে বলে, “তোমার কি মনে হয় এসব ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে আমি কিছু জানি না? তুমি এম আই সিক্সের জুনিয়র অফিসার, এটা আমার আননোন নয় সুইটহার্ট। তুমি তোমার ড্যাডের এক্সপেরিমেন্টের সাকসেসফুল কিডসদের একজন। তোমার ক্যাপাসিটি আছে একসাথে না হলেও ছয় থেকে সাতটা বেবি কনসিভ করার, আর এসব ওই এক্সপেরিমেন্টেরই রেজাল্ট। তুমি যতই নিজেকে আড়ালে হাইড করে রাখো না কেন, আই নো এভরিথিং।তোমার সিস্টার ফ্রেয়াও তোমার মতো ছিল, আর সে জন্যই আমি তাকে ম্যারি করতে চেয়েছিলাম। তোমার ড্যাড তাকে আমার কাছে সেল করে দিয়েছিল। বাট সে স্মার্ট গার্ল, এসব জেনে ফেলায় সে পালিয়ে যায়। তবে এনাফ স্মার্ট নয়। আমাদের ম্যারেজ নিয়ে শুরুতে আমি হ্যাপি ছিলাম না। ভেবেছিলাম তুমি তেমন পাওয়ারফুল নও। বাট পরে জানলাম, তুমি তো আরো বেশি ক্যাপেবল। আর তোমায় আমার ড্যাম পছন্দ। তোমার অ্যাটিটিউড, ইগো, এসব আমার লেভেলের। সো আই নিড ইউ, ডার্লিং। কি মনে হয়, আমি অন্য কাউকে বিয়ে করব? এসব এই লাইফে পসিবল না। তুমি যে গেম আমার সাথে প্লে করতে চাও, তার চেয়ে বিগেস্ট গোল আমি তোমাকে দেবো সুইটহার্ট। আর সেটা ডেফিনেটলি তোমার ওম্বেই থাকবে।”
শেষ কথাটা শুনে ইনায়াতের গোটা শরীর জমে যায়। তার মাথা টোটালি ব্ল্যাঙ্ক। এসব ভয়ংকর প্ল্যান সে কল্পনাও করতে পারেনি! বাবার এক্সপেরিমেন্ট, ফ্রেয়ার পালানো, নিজের বিক্রি হয়ে যাওয়া, এসব এক ডার্ক লুপের মতো তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। সে নিশ্চল হয়ে শুয়ে থাকে। নড়াচড়া করার শক্তিটুকুও নেই। আয়াজ তার ঘাড়ে নাক ডুবিয়ে রেখেছে। ইনায়াতের চোখ বেয়ে নিঃশব্দে জল গড়াচ্ছে। বালিশের কভারটা ভিজে যাচ্ছে। শব্দ করে কাঁদার মতো শক্তিও অবশিষ্ট নেই।
সে কি এসবের জন্যই জন্মেছে? আয়াজ তাকে কিনে নিয়েছে। যে বাবা তাকে জন্ম দিয়েছে, সে নিজেই তাকে পণ্যের মতো হাতবদল করেছে।
ইনায়াত একই পজিশনে থেকে নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলে ওঠে, “তার মানে, আমি জাস্ট ইউজ হওয়ার জন্য বর্ন হয়েছি? আই অ্যাম জাস্ট অ্যান এক্সপেরিমেন্ট, নট আ হিউম্যান?”
কণ্ঠে কোনো আবেগ নেই, শুধুই শূন্যতা। কথাটা আয়াজের বুকে সরাসরি আঘাত করে। তার ভেতর একটা আকস্মিক ইমোশন নাড়া দিলেও সে সেটাকে দমিয়ে নেয়। নিজেকে সামলে নিয়ে খুব জলদিই সে সেই দুর্বল মুহূর্তটাকে এড়িয়ে যায়।
ইনায়াতকে ছেড়ে সে ধীরে ধীরে উঠে বসে। সে তাকে আলতো করে টেনে বসায়। এলোমেলো চুল, ভেজা চোখ। আয়াজ সরাসরি তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে, “ইউ আর হিউম্যান, বাট নট ফুল্লি। তুমি যখন আউট অফ কন্ট্রোল হও, ইউ বিকাম আ মনস্টার, ডেথের ফ্লাড বইয়ে দাও। গেটিং মাই পয়েন্ট?”
ইনায়াতের চোখে অশ্রু আর ঠোঁটে তাচ্ছিল্যের হাসি। সে ভাঙা গলায় বলে, “জাস্ট একটা বেবির জন্য আপনি আমার সাথে এসব গেম প্লে করলেন? আপনাকে হেট করাটা আমার লাইফের বেস্ট ডিসিশন ছিল।”
আয়াজের চেহারায় কোনো ভাবান্তর নেই। সে শীতল কণ্ঠে বলে, “হোয়াট শুড আই ডু? তোমার ড্যাডই তো তোমাকে হ্যান্ডওভার করেছে। আর বেবি তো আমার লাগবেই। যার মিসেসের যত বেবি, তার তত পাওয়ার। অ্যান্ড ইউ আর মাই মিসেস।”
সে এক্সপ্লেইন করতে থাকে, “ফার্স্ট ফর্মুলা অনুযায়ী তুমি পাঁচটা বেবি দিতে পারবে। সেকেন্ড স্টেপে নাম্বারস ইনক্রিজ হবে। তুমি টোটাল দশবার কনসিভ করতে পারবে। যারা বর্ন হবে, দে উইল বি জিনিয়াস। আর এসবের জন্যই তো এই এক্সপেরিমেন্ট। দে উইল বি মাই কিডস, আওয়ার কিডস।”
ইনায়াত কোনো রেসপন্স করে না। সে পাথরের মতো স্থির বসে থাকে। তার দৃষ্টি ফ্লোরে আটকে আছে। মাথায় হাজারটা চিন্তা। নাভিদের কথা ভেবে তার ভেতরে ভয় কাজ করছে, তবে আয়াজের কাছে সে নিজো অন্তত সেফ আছে এটা সে নিশ্চিত। কিন্তু এসব বেবি নেওয়ার কাজ শেষ হলেই তো তাকে ব্যবহৃত জিনিসের মতো ছুড়ে ফেলে দেওয়া হবে!তখনি হঠাৎ আয়াজ হাঁটু গেড়ে তার সামনে বসে পড়ে। এই দ্বৈত আচরণ ইনায়াতকে চমকে দেয়। সে ইনায়াতের ঠান্ডা হাত দুটো নিজের গরম হাতে মুঠো করে ধরে নরম কণ্ঠে বলে, “ইনায়াত, জাস্ট স্টে অ্যাজ মাই ওয়াইফ। তোমাকে আমি প্রিন্সেসের মতো রাখব।”
এসব শুনে ইনায়াত একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে, “আই অ্যাম দ্যা কুইন ইন মাই ইউনিভার্স। আর আপনি একজন কুইনকে প্রিন্সেসের মতো কি করে ট্রিট করতে চান?”
আয়াজ বিরক্ত হয়ে হাত ছেড়ে দিয়ে বলে, “এসবের পরও তোমার ইগো আর অ্যাটিটিউড একটুও ড্রপ করল না।”
ইনায়াত মুখ বাঁকিয়ে জবাব দেয়, “কেন ড্রপ করবে? ওটা কি আপনার পারচেজ করা?”
আয়াজের চোয়াল আবার শক্ত হয়। ইনায়াত এবার তার সব রাগ উগরে দেয়। সে আয়াজের কাঁধে ধাক্কা দিয়ে বলে, “আপনি কি আমায় এতই চিপ ভেবেছেন যে নিজের আইডেন্টিটি হাইড করতে আপনার সাথে শুইয়ে পড়? নিড হলে সুইসাইড করব, স্টিল আপনার সাথে এসব রিলেশনে জড়াব না। ফরগেট অ্যাবাউট দ্য বেবি। সেঞ্চুরি হাঁকানোর এতই শখ থাকলে একশোটা ম্যারেজ করুন, একেকজনের থেকে একটা করে বেবি কালেক্ট করুন!”
আয়াজ রাগে কাঁপতে কাঁপতে উঠে দাঁড়ায়। চোখ লাল হয়ে উঠেছে, কপালে রগ ফুলে আছে। ঘন ঘন নিঃশ্বাস পড়ছে। প্রচণ্ড রাগে সে বেডসাইড টেবিলে সজোরে লাথি মারে। টেবিলটা ফ্লোরে আছড়ে পড়ে। গ্লাস, ফুলদানি সব ভেঙে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পানি আর ফুলগুলো ফ্লোরে ভাসছে।
ইনায়াত এসব একদমই গায়ে মাখে না। সে কড়া বিরক্তি নিয়ে বলে, “আপনার প্রপার্টি আপনি ডেস্ট্রয় করুন, বাট মেক শিওর আমার রুমটা ক্লিন করে দিয়ে যাবেন।”
এ কথা বলেই সে ভাঙা কাচ এড়িয়ে সোজা ওয়াশরুমের দিকে হাঁটে। সে ভেতর থেকে ডোর লক করে দিয়ে কিছুক্ষণ দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
হঠাৎ সে মুখ চেপে ধরে। আবার নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হয়েছে। সাদা টাইলসের ওপর টকটকে লাল রক্তের ফোঁটা। সে দ্রুত সাদা শার্টের হাতা দিয়ে নাক চেপে ধরে। মুহূর্তেই শার্টের কাপড় রক্তে ভিজে লাল হয়ে যায়। রক্তের গন্ধটা নাকে এসে লাগে। ইনায়াত আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না। ঠান্ডা ফ্লোরে হাঁটু ভাঁজ করে বসে সে নিঃশব্দে কাঁদতে থাকে। শব্দ যাতে বাইরে না যায় তাই সে মুখ চেপে ধরে রাখে। সে এক তীব্র মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
এসব পুরনো স্মৃতি মাথায় ভাসতে থাকে। বাবা তাদের জন্মই দিয়েছে জাস্ট ল্যাব এক্সপেরিমেন্টের জন্য। ছোট ছোট বাচ্চাদের চেয়ারে বেঁধে রেখে চামড়া ফুটো করা হতো পেইন টলারেন্স বাড়ানোর জন্য। বরফের পানিতে ডোবানো, কন্টিনিউয়াস ইনজেকশন, দিনের পর দিন না খাইয়ে রাখা, এসব কী সহ্য করেনি তারা! যখন সে ভেবেছিল একটা নরমাল লাইফ পেয়েছে, ঠিক তখনই বাবা তাকে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিল!
রক্ত পড়া কন্টিনিউ হচ্ছে, সে সেটা মুছে ফেলার শক্তিটুকুও পাচ্ছে না। সব অন্ধকার লাগছে তার। মনে হচ্ছে মৃত্যুই একমাত্র এস্কেপ রুট।
অনেকক্ষণ পর।
ইনায়াত কাঁপা হাতে ট্যাপ ছাড়ে। ঠান্ডা পানিতে রক্তের দাগ ধুয়ে ফেলে। আয়নায় তাকায়, ফোলা চোখ, নাকের ডগা লাল। শার্টের রক্তের দাগ ইগনোর করেই সে নিজেকে নরমাল দেখানোর চেষ্টা করে বাইরে আসে।
ইতিমধ্যে আয়াজ কাজের লোক দিয়ে এসব ভাঙা জিনিস একদম নিখুঁতভাবে পরিষ্কার করিয়ে নিয়েছে। সে বেডের কিনারে অপেক্ষা করছিল, হাতে একটা ছোট প্যাকেট।
ইনায়াত বের হতেই সে সামনে এসে দাঁড়ায়। তার চোখ সরাসরি ইনায়াতের শার্টের ভেজা হাতার দিকে। ইনায়াতের শরীরের প্রতিটা মেকানিজম তার নখদর্পণে।
আয়াজ আলতো করে ইনায়াতের দুই গালে হাত রাখে, “তোমার কি ব্লিডিং হচ্ছে?”
ইনায়াত নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চায়, বাট আয়াজ তাকে আরো কাছে টেনে নেয়। একদম নিজের মুখোমুখি করে টেনে ধরে। ইনায়াত ব্যালকনির ডোরের দিকে তাকিয়ে ছোট করে জবাব দেয়, “হ্যাঁ, হচ্ছে।”
আয়াজ জিজ্ঞেস করে, “মেডিসিন নিয়েছো?”
সে জবাব দেয়, “ফার্স্ট ডোজ নিয়েছি। সেকেন্ডটা এখন আউট অফ স্টক।”
আয়াজ পকেট থেকে একটা ছোট্ট কাচের শিশি বের করে আনে, ভেতরে স্বচ্ছ তরল। সে বলে, “টেক দিস। এটা নিলে হেডেকও থাকবে না, এসব ব্লিডিংও স্টপ হবে।”
ইনায়াতের বুকে কষ্ট হয়। এসব মেডিসিনের জন্যই সে প্রতি মাসে টাকা জমায়, বাট ব্ল্যাক মার্কেটের চড়া দামের জন্য এটা কিনতে বড় একটা অ্যামাউন্ট লাগে। বাবা আগে দিতেন, কাল কল করায় তিনি স্ট্রিক্টলি মানা করে দিয়েছেন, বলেছেন,তোরা মরলে মর, আই ডোন্ট কেয়ার।
প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও ইনায়াত আয়াজের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে শীতল কণ্ঠে বলে, “আপনার থেকে এসব নেব, এতটা ওর্স্ট সিচুয়েশন আসেনি আমার।”
সে সরে যেতে গেলেই আয়াজ শক্তভাবে তাকে আটকে ধরে। শিশির মুখ খুলে সে পুরো মেডিসিনটা নিজের মুখে ঢেলে নেয়, এক ফোঁটাও নষ্ট না করে।
ইনায়াত কিছু বুঝে ওঠার আগেই আয়াজ এক হাতে কোমর আর অন্য হাতে চুলের পেছনের অংশ ধরে তাকে নিজের সাথে আটকে ফেলে। সে সরাসরি তার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট চেপে পুরো মেডিসিনটা ইনায়াতের মুখে ট্রান্সফার করে দেয়।
ইনায়াত ছটফট করে, আয়াজের বুকে ধাক্কা দেয়। বাট আয়াজের হাতের বাঁধন এতই শক্ত যে সে নড়তে পারে না। আয়াজ তাকে জোরপূর্বক কিস করতে থাকে, যতক্ষণ না ইনায়াত পুরো মেডিসিনটা সোয়ালো করে। গলায় আটকে আসা কান্না আর মেডিসিনের তরল এসব একসাথে গিলে নিতে বাধ্য হয় সে।
গিলে ফেলার শব্দ পেতেই আয়াজ ধীরে ধীরে ঠোঁট সরিয়ে নেয়। বাট চুলের বাঁধন ছাড়ে না। ইনায়াতের কপালে নিজের কপাল ঠেকিয়ে সে দাঁড়িয়ে থাকে। দুজনের ঘন নিঃশ্বাস মিলেমিশে এক হয়ে যায় রুমের শান্ত পরিবেশে। আয়াজ ফিসফিস করে বলে, ” “আই অ্যাম গোয়িং কমপ্লিটলি ফাকিং সাইকোটিক ফর ইউ! দুনিয়ার যাবতীয় রুলস আর তোমার এই ফিউটাইল রেজিস্ট্যান্সকে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে আমি তোমাকে ছিনিয়ে নেবো। একটা সাইকোপ্যাথ যেভাবে তার অবসেশনকে খাঁচায় বন্দি করে রাখে, আমি ঠিক সেভাবেই তোমাকে আমার ডার্কনেসে আটকে রাখবো।
ইশকে এ নিকাহ পর্ব ১৫
ইউ আর ফাকিং মাইন! তোমার শরীর, তোমার ওই কাঁপতে থাকা ঠোঁট আর তোমার স্কিনের প্রতিটা ইঞ্চিতে শুধু আমার স্ট্যাম্প থাকবে। মাইন টু ডমিনেট, মাইন টু রুইন, মাইন টু ব্রেক ইনটু পিসেস! শুধুমাত্র আমার। এই জন্মে, পরের জন্মে, আর এক্সিস্টেন্সের প্রতিটা প্যারালাল ইউনিভার্সে!
মাথায় ঢুকেছে কথাটা, মাই লিটল প্রিজনার? তুমি এক্সক্লুসিভলি এই লর্ড আয়াজ অ্যাশের প্রপার্টি। তুমি এই ক্রাউন প্রিন্সের মোস্ট ডার্টি ফ্যান্টাসি, ডেডলিয়েস্ট এডিকশন, আর সবচেয়ে ভয়ংকর ম্যাডনেস। দেয়ার ইজ জিরো ফাকিং এস্কেপ। নট ফ্রম মাই গ্রিপ। নেভার ফ্রম মি।”
