Home ইশকে দে ফানিয়ার ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৪৯ (২)

ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৪৯ (২)

ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৪৯ (২)
মেহজাবিন নাদিয়া

_”আমার পক্ষে এভাবে থেকে লকেটের খোঁজ করা একদম অসম্ভব। সারিম আর আরিশান ইতিমধ্যে আমাকে সন্দেহ করতে শুরু করেছে! তার ওপর ওই মেয়েটা আরিশানের মন পুরোপুরি আমার উপর থেকে বিষিয়ে দিয়েছে।”
আনতারা মৃধার রাগী কথা শুনে ওপাশ থেকে দেলোয়ার বলল,
_”তুমি ভুলে যাচ্ছ আনতারা, আমাদের হাতে একদম সময় নেই। কাজ না হলে লুকা আমাদের ছাড়বে না।”
_”তাহলে এখন আমি কী করব?”
_”তোমাকে এখন সবার সামনে কিছুদিন ভালো মানুষের অভিনয় করতে হবে, যাতে আরিশান আর সারিম কিছু টের না পায়। আর এর মাঝেই তোমাকে লকেটটা খুঁজে বের করতে হবে। ভুলে যেও না, সোলেমানের মৃত্যুর পেছনে তোমার হাত ছিল। সে বেঁচে থাকলে আজ আমাদের এতটা কষ্ট করতে হতো না।”
আনতারা মৃধা বলল,

_”ঠিক আছে, বুঝেছি আমাকে এখন কী করতে হবে।”
ঠিক তখনই একটা শব্দ আনতারা মৃধার কানে এল। দেলোয়ারকে দ্রুত ফোন রাখতে বলে তিনি শব্দটার উৎস দেখতে এগিয়ে গেলেন। দেখা গেল, একজন মহিলা দ্রুত ভেতরে ঢুকছেন। আনতারা মৃধা তার পথ আটকে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
_”কে আপনি? এত রাতে মন্ত্রীর বাড়িতে কেন এসেছেন?”
মহিলা ডাক্তার ব্যস্ত হয়ে বললেন,
“আমি একজন গাইনোলজিস্ট। আমাকে জরুরি ভিত্তিতে ডাকা হয়েছে। সারিম মৃধার রুম কোনটা, দয়া করে বলবেন?”
আনতারা মৃধা ইশারায় সারিমের ঘর দেখিয়ে দিলেন। ডাক্তার দ্রুত সেদিকে চলে গেলেন। আনতারা মৃধার মনে খটকা লাগল-এত রাতে সারিম কেন গাইনোলজিস্ট ডাকবে? কৌতুহল সামলাতে না পেরে তিনি সারিমের ঘরে গিয়ে ঢুকলেন। ভেতরে গিয়ে দেখলেন অরি পেটে হাত দিয়ে যন্ত্রণায় চিৎকার করছে। সারিমের চোখ-মুখ লাল, মনে হচ্ছে ছেলেটা কেঁদেছে। ডাক্তার অরিকে শান্ত করার জন্য একটি ঘুমের ইনজেকশন দিলেন। অরি আস্তে আস্তে শান্ত হয়ে এল। এরপর ডাক্তার কিছুক্ষন অরিকে ভালোভাবে পরীক্ষা করে সারিমকে বললেন,
_”উনাকে নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। গর্ভাবস্থার এই শুরুতেই সাধারণত এ ধরনের যন্ত্রণা হয়ে থাকে। আমি আপাতত ঘুমের ওষুধ দিয়ে উনাকে শান্ত রেখেছি। আগামীকাল উনাকে নিয়ে আমার চেম্বারে আসবেন, কিছু পরীক্ষা করানো দরকার।”

সারিম মাথা নেড়ে বলল, _”ধন্যবাদ ডাক্তার।”
_”ইটস ওকে। ওনার ঠিকঠাক ভাবে যন্ত নিবেন।”
সারিম মাথা নাড়লো। ডাক্তার ব্যাগ গুছিয়ে চলে গেলেন। আনতারা মৃধা অরির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর শুনে বেশ অবাক হলেন। ডাক্তার চলে যেতেই তিনি বললেন,
_”নিজেকে শক্ত রাখো সারিম। তুমি ভেঙে পড়লে মেয়েটা আরও ভয় পেয়ে যাবে।”
সারিম দুহাতে চোখ মুছে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আনতারা মৃধা টেবিল থেকে এক গ্লাস জল এনে ছেলেকে দিয়ে বললেন,
_”এটা খাও।”
সারিম জলটুকু খেয়ে নিল। আনতারা মৃধা গ্লাসটা টেবিলে রেখে সারিমের পাশে বসে তার হাত দুটো ধরে বললেন,
_”মন শান্ত করো। কোনো দরকার হলে আমাকে বলো। জানি তোমার চোখে আমি ভালো মা হতে পারিনি, তবে একজন ডাক্তার হিসেবে তো ডাকতেই পারো। আমি তোমার পাশেই আছি।”
আনতারা মৃধার এই দরদি কথায় সারিম কিছু বলল না। সে খুব ভালো করেই বোঝে, অরির জন্য এখন বিপদ আরও বেড়ে গেল। আনতারা মৃধার আচমকা ফিরে আসার পেছনে নিশ্চই কোনো গভীর উদ্দেশ্য আছে। তাই তাকে আরও সতর্ক হতে হবে। আনতারা মৃধা যাওয়ার আগে সারিমের কপালে একটি চুমু দিয়ে নিজের ঘরে চলে গেলেন।

তিনি চলে যেতেই সারিম উঠে গিয়ে ভেতরের দিক থেকে দরজা বন্ধ করে দিল। তারপর এসে অরির পাশে বসল। অরি শান্তভাবে ঘুমাচ্ছে। সারিম তাকে আলতো করে নিজের বুকের কাছে টেনে নিল। অরির উষ্ণ শ্বাস সারিমের বুকে আছড়ে পড়ছে। সারিম গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে অরির চুলে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। সেই রাতে সারিমের আর এক ফোঁটাও ঘুম হলো না; অরিকে পাহারা দিয়েই পুরো রাত কেটে গেল।
পরদিন সকালের তপ্ত আলো জানালার পর্দা ঘেঁষে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করতেই জেবার ঘুম ভাঙল। পিটপিট করে চোখ মেলল সে। চারপাশে তাকিয়ে অরির দেখা পেল না। ভাবল অরি হয়তো আগেই চলে গেছে। আলসেমি ভেঙে গা মোড়ামোড়ি দিয়ে উঠে দাঁড়াল জেবা, তারপর ফ্রেশ হওয়ার জন্য ওয়াশরুমে ঢুকে গেল।
এদিকে সারিমের ঘরে বসে ছিলেন আরিশান মৃধা। অরি তাঁর বাহুতে মাথা রেখে শান্ত হয়ে বসে আছে। সারিম এই মুহূর্তে বাড়িতে নেই; সকালেই জরুরি একটা কাজ পড়ে যাওয়ায় তাকে বের হতে হয়েছে। অবশ্য অরিকে একা রেখে যেতে একদমই মন চাইছিল না তার, কিন্তু অরিই জোর করে পাঠাল-বলল সে একাই সামলে নিতে পারবে। এর মধ্যেই আরিশান মৃধার কানে গতকাল রাতের ঘটনার খবর পৌঁছায়। তিনি সকালে জগিংয়ে না গিয়ে সোজা সারিমের ঘরে ছুটে এসেছেন। এসে দেখেন অরি আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ।
এরপর সারিমকে কাজের জায়গায় পাঠিয়ে দিয়ে তিনি নিজেই অরির পাশে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন; আজ কিছুটা দেরিতে অফিসে যাবেন বলে ঠিক করেছেন। বাবার কথায় রাজি হয়ে সারিম অনিচ্ছাসত্ত্বেও চলে যায়, যদিও তার মনটা অরির কাছেই পড়ে রইল। আরিশান মৃধা অরির পাশে বসে তাকে পরম স্নেহে আপেল কেটে খাওয়াচ্ছিলেন। কিন্তু অরির একদমই খেতে ইচ্ছে করছিল না, সে কেবল চিবিয়ে রসটুকু খেয়ে বাকিটা ফেলে দিচ্ছিল। আরিশান মৃধা তা দেখে কিছুটা কড়া সুরেই বলে উঠলেন,

_”অদ্রিজা, খাবার নষ্ট করছ কেন? পুরোটা খাও।”
বাবার ধমক শুনে অরির মুখটা সাথে সাথে ভার হয়ে গেল। সকাল থেকে যেন সবাই তাকে পেয়ে বসেছে! প্রথমে সারিম জোর করে খাওয়ানোর নামে অত্যাচার চালাল, এখন আবার আরিশান মৃধা। অতিষ্ঠ হয়ে উঠল অরি-যেন দুনিয়াতে আর কারও বাচ্চা হয় না, শুধু তারই হতে চলেছে! অরির এমন গোমরা মুখ দেখে আরিশান মৃধা এবার কিছুটা নরম গলায় দৃঢ়ভাবে বললেন,
_”ঢং করে লাভ নেই, সবটুকু ফিনিশ করো।”
অরি তাঁর দিকে আকুতিভরা চোখে তাকাল। কিন্তু আরিশান মৃধা গললেন না, তিনি একইভাবে আপেল খাইয়ে যেতে লাগলেন। অরি কোনোমতে আরও দুটো টুকরো মুখে পুরে নিল। আর এক ফোটাও গিলতে ইচ্ছে করছে না তার, তাই অনুনয় করে বলল,
_”বাবা, আমি আর খেতে পারছি না। প্লিজ!”
মেয়ের কাতর আর্জি শুনে আরিশান মৃধা আর জোর করলেন না। তিনি আপেলের প্লেটটা সরিয়ে রেখে উঠে দাঁড়ালেন। অরি তাঁকে বলল,

_”বাবা, তুমি এবার জেবার কাছে যাও। আমার ভীষণ ঘুম পাচ্ছে।”
আরিশান মৃধা পরম মমতায় অরির গায়ের ব্ল্যাংকেট ভালো করে গায়ে জড়িয়ে দিলেন। তারপর মেয়ের কপালে আলতো করে চুমু এঁকে দিয়ে বললেন,
_”কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে আমাকে কল দেবে। এখন একদম রিল্যাক্স হয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।”
অরি মিষ্টি হেসে মাথা নাড়ল। আরিশান মৃধাও হালকা হেসে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
অন্যদিকের ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে জেবা অলস ভঙ্গিতে বিছানায় শুয়ে রইল। কিছুক্ষণ পর পর পা দুলিয়ে মনের সুখে কী যেন ভেবে চলেছে। আজ আর অন্যদিনের মতো থ্রি-পিস পরেনি মেয়েটা; অরির রুমে গিয়ে সেখান থেকে একটা ওভারসাইজড শার্ট আর প্লাজো জড়িয়ে নিয়েছে। ভারী পোশাক পরে সে ক্লান্ত, কোনো হারামি লোকের জন্য নিজেকে বদলানোর ইচ্ছা আর তার নেই। সে আবার আগের সেই চঞ্চল জেবা হয়ে যাবে; এসব জটিল জীবন আর সম্পর্কের টানাপোড়েনে সে চরম বিরক্ত। এবার নিজের মতো করে মন খুলে বাঁচতে চায়।
ঠিক তখনই ঘরে প্রবেশ করলেন আরিশান মৃধা। জেবাকে এভাবে বিশৃঙ্খল ভঙ্গিতে শুয়ে থাকতে দেখে তিনি এগিয়ে এলেন এবং মৃদু কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,

_”তোমার কি শরীর খারাপ লাগছে?”
জেবা আরিশান মৃধাকে দেখেও যেন না দেখার ভান করল। একদম সংক্ষিপ্ত জবাব দিল,
_”না।”
আরিশান মৃধা জেবাকে ভালো করে খুঁটিয়ে দেখলেন। মেয়েটাকে আজ একটু বেশিই ছোট দেখাচ্ছে-ঠিক যেমনটা ছিল আগে, যখন তিনি জেবাকে স্রেফ মেয়ের বয়সী ভাবতেন। হঠাৎ করে মেয়েটা আবার পুরনো রূপ কেন ধারণ করল, তা তিনি ঠিক বুঝে উঠতে পারলেন না। তিনি জেবার পাশে এসে শুয়ে পড়লেন।
আকস্মিক আরিশান মৃধাকে এভাবে পাশে শুতে দেখে শিউরে উঠল জেবা। নিজেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেই আরিশান মৃধা শক্ত হাতে হেঁচকা টান মেরে তাকে কাছে টেনে নিলেন। জেবা এবার স্পষ্ট বিরক্ত হয়ে বলল,
_”কী সমস্যা আপনার? বুড়ো বয়সে ভীমরতি ধরেছে নাকি?”
আরিশান মৃধা শুধু মুচকি হাসলেন। লোকটার এমন অদ্ভুত ও অচেনা ব্যবহারে জেবার মন সায় দিল না। সে বিছানা ছেড়ে উঠে বসতে চাইল, কিন্তু তার আগেই আরিশান মৃধা দুদিকে হাত রেখে তাকে বিছানার সাথে লক করে দিলেন।আকষ্মিক কান্ডে জেবা বুকচাপা ভয় পেল। এবার আরিশান মৃধা নিচু কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,

_”বললে না তো ওই ছেলেটার কথা?”
জেবা না বোঝার ভান করে বলল,
_”কোন ছেলে?”
আরিশান মৃধা আচমকা জেবার পেটের ওপর হাত রাখলেন। গম্ভীর গলায় বললেন,
_”যে কাল তোমাকে আর ওকে বাঁচাল।”
স্পর্শ পেতেই শিহরণ খেলে গেল জেবার শরীরে। তড়িঘড়ি করে তাঁর হাত সরানোর চেষ্টা করতে করতে সে বলল,
_”ছাড়ুন বলছি! সব বলছি, আগে হাত সরান।”
আরিশান মৃধা বিরক্ত হলেন। সামান্য ছোঁয়াতেই মেয়েটার এই অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া তাঁর একদম পছন্দ হলো না।

_”না ছাড়লে কী করবে?”
জেবা জিদ ধরে মুখ ঘুরিয়ে বলল,
_”তাহলে আমিও কিচ্ছু বলব না।”
অগত্যা হাত সরাতে বাধ্য হলেন আরিশান মৃধা। তবে যাওয়ার আগে বলে গেলেন,
_”কতদিন দূরে সরিয়ে রাখতে পারো, আমিও দেখব।”
জেবা মুখ বিকৃত করে ভেঙচে উঠে বলল,
_”সারাজীবন!”
_”দেখা যাবে। এবার বলো, কাল কী হয়েছিল।”
জেবা এবার ধীরেসুস্থে আসল ঘটনা বলতে শুরু করল,

_”আসলে আমি ছেলেটাকে চিনিই না। দুপুরে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম টেস্টের রেজাল্ট জানতে। প্রেগন্যান্সি টেস্ট পজিটিভ এসেছিল; যদিও নিজে কিট দিয়ে চেক করেছিলাম, তাও নিশ্চিত হওয়ার জন্য গিয়েছিলাম। হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে রাস্তা পার হতে গেলে হঠাৎ একটা গাড়ি দ্রুতগতিতে আমার দিকে ধেয়ে আসে। ওই ছেলেটা ঠিক সময়ে আমাকে টেনে রাস্তার পাশে সরিয়ে আনে। হয়তো দূর থেকে দেখে আপনার মনে হয়েছিল আমি ওকে জড়িয়ে ধরে আছি, কিন্তু সত্যিটা হলো সে কেবল আমার আর বাচ্চার প্রাণ বাঁচিয়েছিল।আর আপনি আমাকে ভুল বুঝে কতো থাপ্পর…..”
কথাগুলো বলার মাঝেই জেবা নিজের পেটে ভিজা কিছুর অস্তিত্ব টের পেল। এক মুহূর্তের জন্য থমকে গিয়ে সে নিচের দিকে তাকাল, আর তার পর পরই আরিশান মৃধাকে সজোরে ঠেলে সরিয়ে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াল। তীব্র রাগে ফেটে পড়ে বলল,

_”হোয়াট দ্য ফাক! ছিঃ, আপনি এতটা নির্লজ্জ আর লুচু?”
আরিশান মৃধা বাঁকা হেসে শান্ত গলায় বললেন,
_”শুধু তোমার জন্য।”
_”আপনার লজ্জা করে না এসব বলতে আর করতে?”
_”আমার সব লজ্জা তো তুমিই কেড়ে নিয়েছ।”
_”ছিঃ! আমি এক সেকেন্ডও থাকব না এই ঘরে।”
জেবা গটগট করে চলে যেতে ধরলে আরিশান মৃধা তাকে থামানোর জন্য ডেকে উঠলেন,
“পুকি, যেও না!”
জেবা দরজার কাছে গিয়েও থমকে গেল। অবিশ্বাস্য চোখে পেছন ফিরে আরিশান মৃধার কাছাকাছি এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল,
_”পুকি কে?”
আরিশান মৃধা জেবার দুটো গাল টেনে ধরে বললেন,
_”তুমি।”
জেবার মনে হলো লোকটার মাথা নির্ঘাত খারাপ হয়েছে, তা না হলে এমন অদ্ভুত আর আবোলতাবোল বকার মানুষ আরিশান মৃধা নন। সে ঝটকা মেরে নিজের গাল ছাড়িয়ে নিলো।

_”আপনি কি কোনোভাবে উল্টা পাল্টা কিছু খেয়েছেন।”
_”হ্যাঁ! তোমাকে।”
জেবার লজ্জায় গাল দুটো লাল বর্ন ধারন করলো। লোকটা যে তাকে এসব ইচ্ছে করে বলছে। তা বুঝতে বেশি সময় লাগলো না জেবার। বলল।
_”বুড়ো বয়সে ভীমরতিটা একটু বেশিই চেপেছে দেখছি! আপনি যে এমন, তা আগে জানতাম না।”
_”আমি কেমন?”
_”একদম নির্লজ্জ!”
_”বললাম তো, শুধু তোমার ক্ষেত্রে।”
_”ছিঃ! আপনার মতো নির্লজ্জ স্বামী আমার দরকার নেই। আপনার এই আসল রূপ আমি বাইরে গিয়ে সবাইকে বলে দেব। সবাই তো ভাবে আপনি কত ভদ্র, অথচ এই ভদ্র চেহারার আড়ালে আপনি একটা মস্ত বড় ফাজিল লোক!”
আরিশান মৃধা বেশ উদাসীন ভঙ্গিতে বললেন,

_”যাও, গিয়ে সবাইকে বলো। কে বারণ করেছে?”
জেবা রাগে ফুসতে ফুসতে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। এই অসভ্য লোকটার সামনে সে আর এক মুহূর্তও কাটাবে না! লোকটাকে সত্যি ভূতে ধরেছে, নইলে এমন আচরণ করার মতো মানুষ উনি নন।
জেবা সোজা হেঁটে সারিমের ঘরের দিকে চলে এল।
ভেতরে ঢুকেই দেখে সেখানে আনতারা মৃধা আগে থেকেই বসে আছেন, আর অরি তাঁর পাশে বসে হাসিমুখে গল্প করছে। জেবাকে দেখে অরি খুশি হয়ে তাকে কাছে এসে বসতে বলল। আনতারা মৃধা জেবাকে দেখে মনে মনে বিরক্ত হলেও চেহারায় কৃত্রিম হাসি ফুটিয়ে তুললেন। নাটকটা তাঁকে চালিয়ে যেতেই হবে, তাই মধুর গলায় বললেন,
_”জেবা, এসো বসো আমাদের সাথে। আমি আর অরি গল্প করছিলাম, তুমিও যোগ দাও।”
আনতারা মৃধার এই উপচে পড়া ভালো ব্যবহার দেখে জেবার চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। এই মহিলাকেও ভূতে ধরল নাকি! সে অরির দিকে তাকালে অরি চোখের ইশারায় বোঝাল সে-ও কিছুই বুঝতে পারছে না। জেবা তাদের মাঝে গিয়ে বসল।
আনতারা মৃধা তাদের দুজনের সাথে গল্পের ঝুড়ি খুলে বসলেন। কিন্তু তাঁর এই হঠাৎ পরিবর্তনের পেছনে যে বড় কোনো ঘাপলা আছে, জেবা তা চোখের ইশারায় অরিকে বুঝিয়ে দিল। অরিও অনুমানে তা বুঝতে পারল।
আনতারা মৃধা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,

_”অবসর সময়ে একা একা বোর হচ্ছিলাম, তাই ভাবলাম তোমাদের সাথে এসে একটু গল্প করি।”
অরি চারপাশটা একবার দেখে নিয়ে জিজ্ঞেস করল,
_”আন্টি, ফুলকে তো দেখছি না। ও কোথায়?”
_”বোধহয় নিজের ঘরেই আছে,” আনতারা মৃধা উত্তর দিলেন।
জেবা তখন সুযোগ পেয়ে বলে উঠল,
_”আমরা বয়সে আপনার অনেক ছোট আন্টি, আমাদের সাথে গল্প করলে আপনার বোরিং লাগতে পারে।”
আনতারা মৃধা হাত নেড়ে বাধা দিয়ে বললেন,
_”আরে না, কী যে বলো! আমাকে ফ্রেন্ড মনে করে, যা খুশি বলতে পারো।”
কথাটা শুনতেই জেবার মাথায় এক দুষ্টু বুদ্ধি চেপে বসল। সে বাঁকা হেসে আনতারা মৃধাকে বলল,
_”ফ্রেন্ড হিসেবেই বলব তো? আবার রাগ করবেন না তো?”
আনতারা মৃধা হেসে মাথা নাড়লেন,
_”একদম না, বলো।”
জেবা এবার সোজা তাঁর চোখের দিকে তাকিয়ে সটান প্রশ্ন করল,

_”আন্টি, আপনার আর হানির বাসররাতে আপনাদের মধ্যে কী কী হয়েছিল? বলুন, বলুন!”
এমন চরম অপ্রত্যাশিত খোলামেলা প্রশ্নে আনতারা মৃধা মুহূর্তের জন্য থতমত খেয়ে গেলেন।মেয়েটা বেয়াদব আর নির্লজ্জ ভাবলেন তিনি! কনিষ্ঠ কারো সামনে এমন প্রশ্ন করার কোনো শালীনতা নেই এই মেয়ের?
অরি পরিস্থিতি সামাল দিতে হেসে উঠে বলল,
_”জেবা, তুইও না! আজব, কী আর হবে? তোর আর বাবার মধ্যে যা হয়েছিল, ওনার আর বাবার মধ্যেও তাই হয়েছিল। কী আন্টি, আমি ঠিক বলিনি?”
আনতারা মৃধা মনে মনে নিজের রাগ চেপে বিড়বিড় করলেন_’বেয়াদবের সবকটা!’ তবে মুখে বানানো হাসি বজায় রেখে বললেন,

ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৪৯

_”হ্যাঁ… কিছুটা তো সেই রকমই।”

অরি আবার হেসে উঠে বলল,
_”দেখলি জেবা? আমি একদম সঠিক উত্তর দিয়েছি!আন্টি হ্যাঁ বলেছে।”

ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৫০