Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৪

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৪

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৪
সুহাসিনী

রাহি স্কুলে ঢোকার পর প্রেমের গাড়ি রাহির স্কুলের গেটের সামনে দিয়ে চলা শুরু কর ।
প্রেম গাড়ির গ্লাস হালকা নামিয়ে গেটের দিকে চোখ বোলাচ্ছে।হঠাৎ তার চোখ আটকে যায় একটা দৃশ্য দেখে।
রাহি গেটের কাছে দাঁড়িয়ে একটা ছেলের সাথে হেসে হেসে কথা বলছে। দেখে মনে হচ্ছে সে খুবই খুশি। রাহির হাসি মুখ দেখে রাগে মুহূর্তে ই প্রেমের চোয়াল শক্ত হয়ে যায়।
গাড়ি থামাতে বলে লিয়নকে গাড়িতে রেখে মুখে মাস্ক পরে গাড়ি থেকে বেরিয়ে স্কুলে ঢুকতে চায়। কিন্তু দারোয়ান তাকে আটকে দেয় দারোয়ান বলে,
“এইডা গার্লস স্কুল স্যার। এইহানে ছাত্রীর গার্ডিয়ান এবং শিক্ষক ছাড়া বাইরের কোনো পুরুষ ঢোকার অনুমতি নাই ।”
প্রেম রাগে গজগজ করতে করতে বলল,

“তাহলে ওইটা কি মেয়ে নাকি? ওকে কার পারমিশন এ ঢুকতে দিয়েছেন?”
দারোয়ান কিছু বলতে যাবে তখনই রাহি প্রেমকে দেখে এগিয়ে আসে।
“কি হয়েছে চাচা?”
“কিছু হয় নাই মা,এই লোকটা ভেতরে যাইতে চাইতাছিল আর ওর কথা জিজ্ঞেস করতাছিল।”
রাহির সাথে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটাকে দেখিয়ে বললো।
প্রেম রাহির দিকে এমন ভাবে তাকাচ্ছে দেখে মনে হচ্ছে চোখ দিয়েই গিলে খাবে। রাহি সে দিকে লক্ষ্য করলো ঠিকই কিন্তু পাত্তা দিলো না।
রাহি দারোয়ানকে বললো,
“একে তো এই লোক মাস্ক পরে আছে।নিজের মুখ পর্যন্ত দেখাচ্ছে না,তার উপর আবার স্কুলের ভেতরে ঢুকতে চাইছে।এই লোকের মতলব কিন্তু ভালো ঠেকছে না কি বলো চাচা।”
“ঠিক কইছো মা।”
প্রেম দাঁতে দাঁত চেপে বললো,

“এই বেয়াদবের বাচ্চা এই ছেলে কে? ওর সাথে এতো দাঁত কেলাচ্ছিলি কেনো?”
“দেখেছেন চাচা মুখের কি ভাষা।এসব বখাটেদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিন। হেড স্যার যদি দেখে তাহলে কিন্তু আপনার উপর চিৎকার করবে।”
প্রেম রাগে রাহিকে ধরতে যায় কিন্তু রাহি বুঝতে পেরে পিছনে সরে যায়। দারোয়ান প্রেমের ব্যবহার দেখে তাকে সত্যিই বখাটে মনে করে রাগে বলে,
“এই ছেলে, যাও কইতাছি এহান থাইক্কা।তোমার তো সাহস কম না,আমাগোর স্কুলের মাইয়ার দিকে হাত বাড়াও। অহনি না বাইর হইলে আমি কিন্তু লোক জড়ো করমু।”
প্রেম রাগে গজগজ করতে করতে বলল,
“ভদ্র হয়ে আছি ভদ্র থাকতে দেন।নয়তো ভুলে যাবো আপনি বয়সে বড় আমার। আর সবচেয়ে বড় কথা ও আমার বউ।ওর দিকে আমি হাত বাড়াবো নাতো কি আপনার ছেলে হাত বাড়াবে”
দারোয়ান একবার রাহির দিকে তাকাচ্ছে তো আরেকবার প্রেমের দিকে।রাহি দারোয়ানের মনের ভাব বুঝতে পেরে বললো,

“এই বখাটে লোক আপনি আমাকে আপনার বউ বলছেন কেনো।আমাকে দেখে কি আপনার বউ এর মতো লাগে।আমি এখনো বাচ্চা।”
“এই মেয়ে তুই কিন্তু আবার আমার অবাধ্য হচ্ছিস
এর ফল কিন্তু ভালো হবে না।”
“আমি ফল পছন্দ করি না ভাইয়া।”
“এখনো সময় আছে মুখে লাগাম দে। কলিজায় ভয় আন।”
বলেই রাহিকে গিয়ে চেপে ধরলো প্রেম। দারোয়ান এবার চিৎকার করে লোক ডাকতে লাগলো।লিয়ন তাড়াতাড়ি এসে প্রেমকে ছাড়িয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
পেছন থেকে রাহি বললো,
“নিয়ে যান আপনার এই অভদ্র বখাটে ভাই কে।যাকে না তাকেই রাস্তাঘাটে নিজের বউ বলে দাবি করে। পাগল লোক।”
প্রেম এবার তেড়ে আসতে নেয়।লিয়ন আরও শক্ত করে ধরে ফিসফিস করে বলে,

“শান্ত হোন ভাই। রাস্তায় ঝামেলা করলে সমস্যা আমাদেরই।লোকজন জড়ো হতে কিন্তু আর বেশি সময় লাগবে না।তারপর কিন্তু আপনার মুখ দেখে নিলে বুঝতেই পারছেন কি হতে পারে।তাই বলছি এখন নিজেকে সামলান।পড়ে না হয় ভাবির সাথে বুঝাপড়া করে নিবেন।
প্রেম কিছু বলল না।লিয়নের সাথে চলে গেলো।যাওয়ার আগে চোখ দিয়ে রাহিকে শাসিয়ে গেলো।
রাহিও ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে মুখ ভেংচালো।মনে মনে বললো,
“এই রাহিকে বউ বলে অস্বীকার করেছিলেন না এখন মজা বুঝুন।আমার সাথে টক্কর নেয়া এতো সহজ না স্বামীজান।”
প্রেম চলে গেলে। রাহির সাথে থাকা ছেলেটাকে তাকে বললো,
“আপু তোমার সাথে ওই লোকটা এমন করলো আর তুমি ছেড়ে দিলে।”
“আমি এত সহজে ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী না রে।”
ছেলেটা আসলে রাহির বেস্ট ফ্রেন্ড নিপার ছোট ভাই।
নিপার দুই বছরের ছোট।কিন্তু দেখে বুঝা যায় না।গায়ে গতরে বড়ো হয়ে গেছে।রাহির সাথে দাঁড়ানোতে রাহিকে ওর ছোটই লাগছিল।
রাহি ছেলেটার থেকে বিদায় নিয়ে স্কুলের ভেতরে চলে গেলো।

শান্ত রেডি হচ্ছে অফিস যাওয়ার জন্য।রুমের দরজা খোলাই আছে।
সে পেন্টের চেইন লাগাতে যাবে অমন সময় আয়েশা দরজা খুলে রুমে ঢুকে বলে,
“কি করছো শান্ত ভাই? অফিসে যাবে না?”
আয়েশাকে দেখে তাড়াহুড়ো করে চেইন লাগাতে গিয়ে শান্তর সাথে ঘটে গেলো মস্ত বড় অকাজ। বেচারা নিজের গোপন জায়গার চামড়া সহ চেইন আটকে ফেলেছে।
আয়েশাকে দেখে তাড়াতাড়ি পেছনে ঘোরে গেলো। ব্যথায় ঠোঁট কামড়ে দাঁড়িয়ে আছে।মুখে কিছু বলতেও পারছে না।
আয়েশা শান্তর এমন ব্যবহারের কারণ ধরতে পারল না।সে শান্তর মুখ দেখতে শান্তর সামনে গেলো।শান্ত আবার নিজের তলদেশ হাত দিয়ে ধরে বেকে আবার আয়েশার বিপরীতে ঘুরে গেলো।
আয়েশা তার সাথে এমনিই বেশি কথা বলে না।আজকে যাও নিজে থেকে এসেছে কিন্তু বেচারা ফেঁসে গেছে আর আরেক ভেজালে।
শান্তর হাত পা ছুঁড়ে কান্না করতে ইচ্ছে করছে।ব্যথার তীব্রতাও ধীরে ধীরে বাড়ছে।দাঁতে দাঁত চেপে ধরে ঠোঁট কামড়ে কাঁদো কাঁদো গলায় খুব কষ্ট করে শান্ত বললো,

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৩

“আয়েশা জান আমার,এখন তুমি প্লীজ যাও।আমি মাইনকার চিপায় ফেঁসে গেছি।বেরিয়ে তোমার সাথে কথা বলছি।”
আয়েশা বুঝতে না পেরে বোকার মতো প্রশ্ন করলো,
“কি হয়েছে তোমার এমন করছ কেন? কোনো হেল্প লাগবে?এভাবে বেঁকে আছো কেনো? তাকাও আমার দিকে।”
“আমি কথা বলার অবস্থাতে নেই ,প্লীজ যদি আমার ভালো চাও তাহলে এখন যাও।”

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৫