Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৮

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৮

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৮
সুহাসিনী

বেচারী মেয়েটাকে এবারের মত ছেড়ে দে বোন আমার। ওরে জান নিয়ে অন্তত বাসায় ফিরতে দে।”
করুণ সুরে বলল শান্ত। রাহি মুনমুনকে ছেড়ে প্রেমকে শাসিয়ে বললো,
“আজকে শুধু বাসায় আসুন, আপনার হচ্ছে।”
রাখি গটগট পায়ে বেরিয়ে চলে গেল। প্রেম ও রাহির পিছনে গেলো।
শান্ত মুনমুনকে রাগে ফুঁসতে দেখে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো করে বললো,

“আজকের দিনটাকে একটা দুঃস্বপ্ন ভেবে ভুলে যাও। আর যে মেয়েটা নিজেকে প্রেমের বউ বলে দাবি করছিল তার মাথায় আসলে সমস্যা আছে। প্রেম তো এখনো বিয়েই করেনি, সেটা তুমিও জানো আমিও জানি এবং কি সবাই জানে। আচ্ছা ভালো থেকো।আমিও যাই ,আর রুম থেকে বের হওয়ার আগে চেহারা ছবিটা ঠিক করে বের হয়ো।এভাবে মানচিত্র বানিয়ে বের হয়ো না।”
শান্ত চলে গেলো। মুনমুন রাগে দুঃখে চিৎকার করে বলল,
“তুই যেই হোস না কেনো আমি তোকে ছাড়বো না।তুই আমার গায়ে হাত তুলেছিস,আমার প্রেমকে তুই নিজের স্বামী বলে দাবি করছিস।এর ফল তোকে ভোগ করতেই হবে।”

রাহি না খেয়েই গাড়িতে এসে বসে আছে। প্রেমও কিছু না বলে গাড়িতে উঠে গাড়ি স্টার্ট দিল।সাথে সাথে উড়ন্ত পাখির মতো উড়ে এসে শান্ত গাড়িতে উঠলো।প্রেম ভ্রু কুঁচকে তাকালে বোকা বোকা হেসে বলল,
“আমিও যায় তোদের সাথে।আমার পাতানো বোনের মাথা এখন গরম হয়ে আছে।বলা তো যায় না কখন আবার ওইদিনের মতো রাস্তায় তোর চুল টেনে ধরে।”
প্রেম গম্ভীর গলায় বলল,
“তোর এতো চিন্তার দরকার নেই।আগে নিজের চরকায় তেল দে।এখন গাড়ি থেকে নাম । আমি কিন্তু এক কথা দুইবার বলব না।”
“ঠিক আছে নেমে যাচ্ছি।তার আগে এই ছবিটা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে নেয়।”
ছবিটা প্রেমের সমানে ধরলো।রাহি খাটের উপর উঠে প্রেমের চুল টেনে ধরে আছে সেই ছবি এটা।প্রেম কিছু বলল না ।গাড়ি স্টার্ট দিল।

“সকালের জন্য সরি রাজকুমারী। আসলে সকালে একটু সমস্যায় পরে গিয়েছিলাম।”
আয়েশা কোনো কথা বলছে না।অন্যদিক মুখ করে বসে আছে।
“কি সমস্যা তোমার। যাও এখান থেকে।”
“বললাম তো সকালের জন্য সরি।”
“তোমার সরি দিয়ে ব্যথার বড়ি কিনে খাও। আমার এত কারী কারী সরি চাই না।”
“রাগ করে না রাজকুমারী। শুনো আজকে রাহি কি করেছে পার্টিতে গিয়ে সেটা বলি।তাহলেই তোমার মন ভালো হয়ে যাবে।”
এবার আয়েশা শান্তর দিকে ঘুরলো। শান্তও সময় নিয়ে সব বললো।সব শুনে আয়েশা হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থা।

সকাল সাতটা,
রাহি রেডি হচ্ছে স্কুলে যাওয়ার জন্য।আজকে তাদের স্কুলে এসএসসি বিদায় অনুষ্ঠান।সে আগে স্কুল ড্রেস পরেই রেডী হলো।স্কুলে গিয়ে বান্ধবীদের সাথে সাজবে।আজকে তার নাচের প্রোগ্রাম আছে।
একেবারে রেডী হয়েই নিচে খেতে গেলো রাহি। সবাই খেতে বসেছে। আমজাদ খান প্রেমকে বললো,
“রাহিকে স্কুলে নামিয়ে দিও।”
খাবারের প্লেট থেকে চোখ না তুলেই গম্ভীর স্বরে উত্তর করলো প্রেম,
“পারবো না।আজকে তুমি নামিয়ে দিও।আমার একটা জরুরি কাজ আছে।”
প্রেমের বাবা আর কথা বাড়ালেন না।রাহি শুধু প্রেমের দিকে তাকিয়ে মুখ ভেঙচালো।
কাল পার্টি থেকে ফেরার পর থেকে এখন পর্যন্ত রাহি বা প্রেম কেউ কারো সাথে কোনো কথা বলেনি।শুধু সকালে রাহি একটা অকাজ করেছে প্রেমের সাথে।

প্রেম ঘুমাচ্ছিল।রাহির সেটা সহ্য হচ্ছিল না তাই সে এক মগ পানি প্রেমের মুখে ঢেলে দিয়েছিল।প্রেম প্রথমে ভয় পেয়ে ঘুম থেকে হকচকিয়ে উঠলেও রাহিকে কিছু না বলে ওয়াসরুমে চলে গিয়েছিল।
রাহি শুধু অবাক চোখে দেখছিল প্রেমকে। ভেবেছিল সকাল সকাল ওই কুত্তীকে নিয়ে জামাই এর সাথে একটু ঝগড়া করে মুড টা ঠিক করে স্কুলে যাবে।কিন্তু তা আর হলো না।
সবাই খাওয়া শেষ করে যে যার কাজে চলে গেলো।রাহি আমজাদ খান এর সাথেই স্কুলে গিয়েছে।আয়েশা কে নিয়ে আফরোজা খান গিয়েছে ডাক্তারের কাছে।এখন বাড়িতে শুধু ফিরোজা বেগম আর আশা রয়েছে।
ফিরোজা বেগম সকালের নাস্তা করে নিজের পছন্দের সিরিয়াল দেখতে বসে গেছে।এই সুযোগে আশা চলে গেলো প্রেমের রুমে।

রাহি বারান্দায় অনেক যত্ন করে বাহারি রকমের ফুলের গাছ লাগিয়েছে।বারান্দাটা দেখতে অনেক সুন্দর লাগে,যেনো এক টুকরো বাগান।বারান্দায় রাহির সবচেয়ে প্রিয় গাছ হলো এলোভেরা।সে এখান থেকেই এলোভেরা তার চুলে লাগায়। সবগুলি গাছের চেয়ে এটায় সব চেয়ে সুস্থ গাছ।
আশা প্রথমে সেই এলোভেরা গাছের দিকেই নজর দিলো। গাছ গুলোকে প্রথমে উপড়ে ফেলে তারপর পা দিয়ে পিষে ফেললো।এরকম করে সব গাছের একই দশা করলো সে।সে জানে এই গাছ গুলো রাহি লাগিয়েছে। কারণ আগে প্রেমের রুমে কোনো গাছ ছিল না। আর প্রতিদিন সকালে রাহিকে সে গাছে পানি দিতে দেখেছে।গাছের সাথে কথা বলতে দেখেছে।
নিরপরাধ গাছ গুলোকে ধ্বংস করে আশা এবার রাহির মেকআপ বক্স আছাড় মেরে ভেঙে ফেলল।
রাহি হাতের কাজ খুব সুন্দর সে পাটের দড়ি দিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর ওয়ালমেট বানিয়েছিল এক এক করে এগুলো আশা ভেঙ্গে ফেলল।

নিজের কাজ শেষ করে সে বিশ্ব জয়ের হাসি দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল।কিন্তু বেরোনোর সময় তার চোখ আটকে যায় একটা কাচের চুড়ির বক্সে।সেই বক্সে মিনিমাম বিশ জোড়া কাঁচের চুড়ি ছিল।আশা এগিয়ে এসে এক এক করে সবগুলি ভাঙ্গে।
সে ওইদিন রাহিকে আয়েশার সাথে বলতে শুনেছে রাহির কাচের চুড়ি খুবই পছন্দ।তাই সে যেখানেই ঘুরতে যায় সেখান থেকেই কাচের চুড়ি কিনে।
নিজের কাজ শেষ করে আশা বেরিয়ে যায়। মনে মনে ঠিক করে এবার সে শান্তির একটা ঘুম দিবে।

রাহি অনুষ্ঠানে নাচ করবে গাউন পরে কিন্তু তার ক্লাস টিচার মেম শাড়ি ছাড়া নাচতে দিবে না।
রাহির তো শাড়ি পড়া নিষেধ। তার এমপি সাহেব পছন্দ করে না শাড়ি পড়া। টিচার এমন ভাবে বলছে যে নাও করতে পারছে না।
শেষে জোরাজোরিতে রাজী হয়ে গেলো।রাহি, নিপা ও তাদের আরেক বান্ধবী মিলে নাচ করবে।তারা শাড়ি পড়লো। চুল খোলা রাখলো।রাহি মনে মনে ভাবলো এটা তো গার্লস স্কুলের অনুষ্ঠান। এখানে তো বাইরের কোন ছেলে থাকবে না প্লাস প্রেমও থাকবে না।প্রেম না থাকলে তাহলে জানবে কীভাবে রাহি শাড়ি পড়েছে।এই ভেবে নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে ফুরফুরে মনে রেডী হলো।

রেডি হয়ে স্টেজের পেছনে দাঁড়ালো তারা।কিছুক্ষণ পরই তাদের নাম ঘোষণা করা হলো মাইকে।রাহি আর নিপা ও তাদের আর একজন বান্ধবী স্টেজে উঠে গেলো।
রাহি সামনের দিকে এতো খেয়াল না করে নাচ করতে থাকলো।তারা “সারারা সারারা” গানে নাচ্ছে।
নাচতে থাকা অবস্থাতেই হঠাৎ রাহির চোখ পড়লো দর্শকের সারিতে সবার সামনের ভিআইপি চেয়ারে বসে থাকা এক জোড়া তীক্ষ্ণ চোখের মালিকের দিকে।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৭

যেই চোখ দুটো পলক বিহীন তার প্রতিটা পদক্ষেপ লক্ষ্য করছে মনোযোগ সহকারে।ভয়ে রাহির গলা শুকিয়ে আসছে। ভয় লজ্জা দুদিক থেকে আঁকড়ে ধরেছে তাকে।
এই অনুষ্ঠানে পাঁচ জন ছেলে উপস্থিত বাকি সব মেয়ে।পাঁচ জনের মধ্যে দু জন হলো তাদের টিচার আর একজন তাদের হেড টিচার। তাঁদের তিনজন এরই বয়স মুটামুটি পঞ্চাশ এর ঊর্ধ্বে।তাই রাহির নাচতে কোনো সমস্যা ছিল না।ছোট থেকে সে নাচতে খুব ভালোই পারে।সামনে থাকা মানুষটাকে দেখে সে এখন নাচের স্টেপ ভুলতে বসেছে।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৯